১৯৫৩

১৯৫৩

কানাই এখনও রজনীর সঙ্গে বউবাজারের বাড়িতেই থাকে। তবে আলাদা ঘরে এখন তার ঠাঁই। মাসিমাই সেই ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কারণ ছেলে বড়ো হয়েছে। তার কলেজের বন্ধুবান্ধব এই বাড়িতে আসে, গল্পগুজব করে। তাদের এই ইয়ং জেনারেশনের আড্ডা-ইয়ার্কির রকমটাই অন্য। রজনী তাতে অস্বস্তি বোধ করতে পারে। অস্বস্তি হবে কানাইয়েরও। তাই মাসিমার পাকা মাথার ভাবনায় আলাদা ঘরে ঠাঁই হয়েছে কানাইয়ের।

তবে বছর চারেক থেকেই রজনী দেখছে যে সকালে ছাদে তাইকোন্ডো প্র্যাকটিসের সময়টুকু বাদ দিলে কানাই তার সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। শুধু তার সঙ্গেই নয়, মেসোমশাই আর মাসিমার সঙ্গেও তার একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে ধীরে ধীরে। রজনী বোঝে যে এটাই জীবনের স্বাভাবিক ধর্ম। তাই সেটা সে মেনেই নিয়েছে। তবে তার নজর থাকে কানাইয়ের ওপর। সে লক্ষ্য করে দেখেছে যে পড়াশোনার বইয়ের বাইরেও কানাই অনেক ধরণের বই পড়ে। তা ছাড়া সে মেসোমশাইয়ের রাখা টাইমস অফ ইন্ডিয়াও পড়ে। তাই কখনো কোনো প্রসঙ্গে যদি কোনো কথা ওঠে তখন কানাই যেসব রেফারেন্স দেয় বা যেসব যুক্তি খাড়া করে, তাতে তার মেধা বা বিশ্লেষণ ক্ষমতা নিয়ে সংশয় থাকে না রজনীর। প্রেসিডেন্সির ছেলেরা বুঝি এমনই হয়। নিজের কলেজ জীবন থেকেই প্রেসিডেন্সির সুনামের কথা জানে সে। আজ কানাই তার মেধার জোরেই ঠাঁই করে নিয়েছে সেই সমাজে। কেমিস্ট্রিতে অনার্স নিয়ে পড়ে সে সেখানে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *