১৯ অগাস্ট
অবস্থা একই রকম ভয়াবহ। দাঙ্গার উন্মত্ততা ক্রমে বেড়েই চলেছে। অসহায় সাধারণ মানুষ ঘরের দরজা বন্ধ করে কাঁপছে আতঙ্কে । রজনী ভাবে— তারা তো না হয় পাকা বাড়ির চারদেওয়ালে নিরাপদ; কিন্তু বস্তির গরিব মানুষগুলো? তারা তো সব দলেরই দাঙ্গাবাজদের কাছে সফট-টার্গেট। আকাশজুড়ে ওই যে কালো ধোঁওয়া উড়ছে, ওই ধোঁওয়ায় হয়তো কত জ্বলন্ত বস্তির ধোঁওয়াও মিশে আছে। কলকাতা শহরে তো বস্তির অভাব নেই। এই গণহত্যার উৎসবের কাছে তো জাপানি-বোমার তাণ্ডবও শিশু।
না, আর তার ভালো লাগছে না এসব। সে আবারও চাইছে আকাশ থেকে নামুক প্রবল বৃষ্টি, ধুয়ে যাক রাস্তা থেকে শবদেহগুলোর রক্ত আর দেহরস, নিভে যাক শহরজোড়া দাঙ্গার আগ্রাসী আগুনের আকাশছোঁয়া শিখা। মাথার ওপরে আকাশের দিকে তাকায় সে।
কিন্তু প্রকৃতি কি আর মানুষের কথা শোনে? কবেই বা শুনেছে সে পৃথিবীর মুমূর্ষু জীবজগতের আর্তনাদ? সে চলে আপন মর্জিতে, আপন ছন্দে।
তবে সেদিন বিকেল নাগাদ ড্যানীবাবুর ফোন যেন কিছুটা স্বস্তি দিল। সেইসঙ্গে রেডিয়োর খবরও বয়ে আনল সুখবরের আভাষ।
কলকাতার সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে ভাইসরয় লর্ড ওয়েভেল নাকি কলকাতায় গোরা আর গোর্খা সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু কবে নামবে তারা, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। দাঙ্গা তো এখন সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছেছে। কলকাতা থেকে আশেপাশের জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে তা।
এদিকে ঘরের ভাঁড়ারও ক্রমে কমতে শুরু করেছে। দাঙ্গা আরও কিছুদিন চললে ঘরের ভাঁড়ারও শেষ হয়ে যাবে। হয়তো একবেলা খেয়ে কিংবা হয়তো বা না খেয়েই থাকতে হবে সাধারণ গৃহী মানুষদের।
তবে সুদিনের মতো দুর্দিনও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সব কিছুরই যেমন শুরু থাকে, তেমনই শেষও থাকে। আর তেমনভাবেই এসে পড়ল একুশে অগস্ট।
