শ্যামাদাসের ইন্টারভিউ, প্ল্যানিং, ব্ল্যাক টিউলিপ আর হরিশরণ

শ্যামাদাসের ইন্টারভিউ, প্ল্যানিং, ব্ল্যাক টিউলিপ আর হরিশরণ

আজ আঙ থিহার সাথে দেখা করার দিন। সে তো কখনো ভাবতেই পারেনি যে ডন তাকে পাত্তা দেবে। তার মতো একজন হরিদাসকে যে ডন ডেকেছেন, এতেই কৃতার্থ সে। ডন ডেকেছেন; তার মানে নিশ্চয়ই তাকে একটু হলেও গুরুত্ব দিচ্ছেন ডন। কে জানে, ডন তাকে কী বলবেন। তাই প্রবল একটা টেনশন কাজ করছে তার মধ্যে। হোটেল থেকে ‘দ্য ভিন্টেজ’ মিনিট দশেকের হাঁটা পথ। তবু এই পথটুকুই তার কাছে অন্তহীন বলে মনে হচ্ছে। কী যে হবে আজ সেখানে কে জানে?

হঠাৎ বিকট গোঁ গোঁ শব্দ। বসন্ত-বিকেলের নীল আকাশে দূর থেকে অ্যারো-হেড ফর্মেশনে উড়ে আসছে তিনটে ‘বেটি’ ফাইটার আর তার পেছনে একটা ‘টপসি’ ক্যারিয়ার প্লেন। খবরের কাগজেই তাদের ছবি আর নাম দেখেছে সে। প্লেনগুলো উড়ে যাচ্ছে পশ্চিম দিকে। বেশি দ্রুত নয় তাদের গতি। হয়তো কাছাকাছি কোথাও রসদ পৌঁছতে যাচ্ছে তারা। যতক্ষণ না প্লেনগুলো তার মাথার ওপর দিয়ে পশ্চিমদিকে হেলে পড়া সূর্যের দিকে মিলিয়ে গেল, ততক্ষণ তাদের দেখতে থাকল সে। তারপর এগিয়ে চলল গন্তব্যে।

‘দ্য ভিন্টেজ’ এর ভেতরে বাঘছালের নীচে আজ অন্য একজন বসে। গতদিনের লোকটার তুলনায় একটু বয়স্ক। সৌম্যদর্শন। গায়ের রং ফর্সা আর তাতে গোলাপি আভা। আকাশি রঙের স্যুটের সঙ্গে সাদা শার্ট আর নীলের ওপরে সোনালি কাজ করা টাই। ইনি নিশ্চয়ই ডন হবেন— ভাবল শ্যামাদাস। হাতের ঘড়ি দেখল। পাঁচটা পাঁচ। ঠিক সময়েই পৌঁছেছে সে। সোজা ভদ্রলোকের দিকে এগিয়ে যেতেই তাঁর পাশের কার্পেটে ঢাকা দেওয়ালের অংশটা ঘুরে গেল। বেরিয়ে এল আগের দিনের সেই বর্মি পোশাক পরা লোকটাই। আবার আগের দিনের মতো তল্লাশি।

তার কাজ মিটতেই সেই লোকটা বর্মি ভাষায় সৌম্যদর্শন ভদ্রলোককে কিছু বলল। সুবেশ ভদ্রলোক তখন উঠে দাঁড়িয়ে আধা স্বচ্ছ বাংলায় বললেন— ‘আসুন, ভেতরে আসুন, মিস্টার শ্যামাদাস।’

বর্মা মুলুকে এসে এইভাবে বাংলা শুনে ভারি অবাক লাগল তার। কাউন্টারের ভেতরে তাকে নিয়ে গিয়ে বর্মি লোকটা খুলে দিল কার্পেট ঢাকা দরজা। সৌম্যদর্শন ভদ্রলোক শ্যামাদাসকে নিয়ে তার ভেতরে ঢুকতেই দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল পেছনে। বর্মি লোকটা রয়ে গেল বাইরে, দোকান পাহারায়।

ভেতরের সরু বাঁধানো পথ ধরে আগে আগে চললেন ভদ্রলোক আর তাঁর পেছনে পেছনে চলল শ্যামাদাস। একসময়ে কৌতূহল চাপতে না পেরে সে ভদ্রলোককে বলল— ‘আপনি বাংলা জানেন?’

জবাব এল— ‘আমি ছোটোবেলা থেকে টোয়েন্টি ইয়ার্স ক্যালক্যাটায় ছিলাম। ওখানের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করি। মাই ফাদার ওয়জ বর্ন অ্যান্ড ব্রট আপ দেয়ার। আমার মাদারও একজন বেঙ্গলি লেডি; অ্যান্ড দ্যাটস হোয়াই আই ক্যান স্পিক বেঙ্গলি।’ শুনে তাজ্জব হয়ে গেল শ্যামাদাস।

একটুখানিই পথ। পথের শেষে একটা সুন্দর শ্বেত পাথরে বাঁধানো ঘরে পৌঁছে যায় তারা। বিরাট টেবিলের সামনে একটা চেয়ার দেখিয়ে ভদ্রলোক বললেন— ‘বসুন। আমি ড্যাডিকে খবর দিচ্ছি।’ বলে ঘরের অন্য একটা দরজা দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যান। শ্যামাদাস এবারে বুঝতে পারে যে এই ভদ্রলোকের বাবাই হলেন আঙ থিহা। যার দেখা পিটার পর্যন্ত কখনো পায়নি, আজ তার দেখা পাবে ভেবে সে বেশ উত্তেজিত।

এই অবসরে শ্যামাদাস দেখতে থাকে ঘরটা। তাকে যে মেহগনি কাঠের টেবিলটার সামনে বসানো হয়েছে তার ওপরে সবুজ মখমলের টেবিলক্লথ টানটান করে বিছানো। রয়েছে একটা ফুল দিয়ে সাজানো সুন্দর ফুলদানি। একটা টেলিফোন। ওপারে একটা গদিমোড়া সুইং চেয়ার। তারও পিছনের দেওয়ালে শ্বেতপাথরের সুন্দর সূক্ষ্ম জাফরি। বাকি দু-পাশের দেওয়ালে ছোট্ট ছোট্ট র

াকের ওপরে রাখা সুন্দর সুন্দর বিভিন্ন ভঙ্গিমার ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি।

মিনিট পাঁচেক পরে বর্মি পোশাক পরা একজন এসে তাকে একটা সাদা পাথরের গেলাসে গোলাপি রঙের শরবত দিয়ে গেল। একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে শ্যামাদাস একটা আলতো চুমুক দিল তাতে। কয়েকমিনিট অপেক্ষা করল। নাঃ, মুখের ভেতরটা গোলাপের স্বাদে ভরে গেল একেবারে। তাই সে নিশ্চিন্ত হয়ে ধীরে ধীরে চুমুক দিতে লাগল ঠান্ডা শরবতে।

এমনসময় টেবিলের পেছনের দরজাটা খুলে গেল। আগের দেখা ভদ্রলোকই এসে বসলেন টেবিলের ওপারে তাঁর গদিমোড়া চেয়ারে শ্যামাদাসের ঠিক বিপরীতে। তারপর টেলিফোনের একটা বোতাম টিপে দিয়ে বললেন— ‘তারপর বলুন মিস্টার রয়, আপনি এখন আমাদের কাছে কী আশা করেন?’

একটু গলাখাঁকারি দিয়ে নিজের নার্ভাস ভাবটা কাটিয়ে শ্যামাদাস বললে— ‘আমি আবার আপনাদের সাথে নতুনভাবে বিজনেস শুরু করতে চাই।’

—‘আচ্ছা মিস্টার রয়, আগে আপনি বলুন তো, আপনি কি অক্টোপাস দেখেছেন?’ এমন প্রশ্ন শুনে শ্যামাদাস থতমত খেয়ে যায়। চুপ করে ভাবতে থাকে কী উত্তর দেবে সে। এমন সময় তার নাকে ভেসে আসে বার্মা চুরুটের গন্ধ। কিন্তু সামনে বসা ভদ্রলোক তো চুরুট খাচ্ছেন না। তাহলে?

—‘কী হল মিস্টার রয়, আপনি অক্টোপাস দেখেছেন?’ ভাবনায় ছেদ পড়ে শ্যামাদাসের।

—‘না। মানে ছবিতে দেখেছি।’

—‘ও। তা অক্টোপাসের একটা হাত কাটলে কি হয় আপনি জানেন?’

চুপ করে থাকে শ্যামাদাস। কোন বিষয়ে, কি কারণে এই প্রশ্নটা করা হয়েছে তা সে বুঝে উঠতে পারে না। চুপ করে থেকে সে ভদ্রলোককেই কথা বলার সুযোগ করে দেয়।

—‘অক্টোপাসের একটা হাত কাটলে সে বাকি সেভেন আর্মস দিয়ে এনিমিকে অ্যাটাক করে। পিটার ওয়জ সাচ এ্যান আর্ম ইন ক্যালকাটা।’

কথাটায় বিপদের আভাষ পায় শ্যামাদাস। পিঠ বাঁচাতে সে তাই বলে— ‘পিটারের মৃত্যুর জন্যে আমি তো দায়ী নই স্যার, বলুন?’

—‘ইয়েস, আপনি ডাইরেক্টলি রেসপনসিবল না হলেও ইনডাইরেক্টলি রেসপনসিবল।’

শ্যামাদাস চুপ করে থাকে। সে শরবতে চুমুক দিতেও ভুলে গেছে।

ভদ্রলোক আবার বলতে শুরু করেন— ‘আর্মস আর বম্বের মশলার বিজনেস আমরা করি না। ইউ নিউ দ্যাট ভেরি ওয়েল। ইন স্পাইট অফ দ্যাট আপনি আদার র

াকেটের সঙ্গে ওই বিজনেসে ইনভলভড্ হয়ে যান। অ্যান্ড বিকজ অফ দ্যাট আ ফিউ মার্ডার টুক প্লেস, ইভন পিটার হ্যাড টু সুইসাইড। আর সেটার জন্যেই রজনীকান্ত অ্যালোন আমাদের ক্যালকাটা বেসের নেটওয়ার্কটা ব্রড ডে লাইটে নিয়ে আসে। নাউ হি ইজ আওয়ার গ্রেটেস্ট এনিমি ইন ক্যালকাটা।’

ভদ্রলোকের গলার স্বরে উত্তেজনার আভাষ। শ্যামাদাস টের পায় সেটা আর তাই সে চুপ করে থাকে।

একটু থেমে ভদ্রলোক আবার বলতে শুরু করেন— ‘ইন ফ্যাক্ট আপনার গ্রীড আমাদের ক্যালকাটার বিজনেসকে অলমোস্ট কোলাপ্স করে দিয়েছে। পারবেন আপনি পিটারের মতো ক্যালকাটার র

াকেটকে কন্ডাক্ট করতে? আই নো, আই নো, আপনি পারবেন না। ক্যালকাটায় আপনার পিটারের মতো ইনফ্লুয়েন্স নেই। দেন?’

ভদ্রলোকের মুখটা উত্তেজনায় লাল হয়ে গেছে। এইরকম একটা ধমকানি যে নিশ্চিত ছিল তা শ্যামাদাস জানত। এর কোনো জবাব নেই তার কাছে। তাই সে চুপ করে থাকে। এইসব ক্ষেত্রে চুপ করে থাকলে অনেক সময় ফল পাওয়া যায়।

—‘নিন শরবতটা খেয়ে নিন।’ এবারে কথাটা ভেসে আসে ইন্টারকমের স্পিকার থেকে। একজন বয়স্ক পুরুষের শান্ত কণ্ঠস্বর সেটা। তার মানে ডন আঙ থিহা অলক্ষ্যে থেকে তাদের ওপরে নজর রাখছেন, ইন্টারকমে তাদের কথাবার্তা শুনছেন।

তাই শ্যামাদাস শরবতের গেলাসটা তুলে এক চুমুকে সেটা শেষ করে নামিয়ে রাখে টেবিলে। শরবতের গোলাপি স্বাদের সঙ্গে মিশে যায় ঘরময় ভেসে থাকা চুরুটের গন্ধ।

ইন্টারকম থেকে ভেসে আসে ডনের গম্ভীর অবিচল কণ্ঠস্বর— ‘আমরা আপনার সঙ্গে ডিল করতে পারি, বাট ইন ওয়ান কন্ডিশন।’

—‘কী স্যার বলুন?’

—‘ইউ হ্যাভ টু এলিমিনেট রজনীকান্ত এনিওয়ে।’

—‘আচ্ছা স্যার। আমি চেষ্টা করব।’

শ্যামাদাস বেশ বুঝতে পারে ডন তাকে কী কঠিন কাজ দিয়েছেন। এই কাজটা তার একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আর এটা না করতে পারলে তার ভাগ্যে কিছুই জুটবে না। যে দায়িত্বটা তাকে দেওয়া হয়েছে সেটার জন্যে চাই লোকবল, যেটা কলকাতায় তার নেই। এখন দেখতে হবে ডনের কাছ থেকে কিছু সাহায্য পাওয়া যায় কি না।’

তাই সে সামনে বসা ভদ্রলোককে বলল— ‘রজনী এখন কলকাতায় থাকে। সে মিউজিয়মে কাজ করে, কিন্তু কলকাতায় তো আমার লোকজন নেই। তাই আপনারা যদি…।’

হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে ভদ্রলোক বললেন— ‘আমরা রজনীকান্তর সবকিছু জানি। নাউ টেল মি ইফ ইউ হ্যাভ এনি স্পেসিফিক প্ল্যান।’

—‘স্যার, রজনী যখন মিউজিয়ম থেকে বাড়ি ফেরে তখন যদি ওকে শুট করা যায়?’

—‘হোয়াট? ইউ হ্যাভ লস্ট ইয়োর উইপন। দেন হু উইল শুট হিম? আই সাপোজ ইউ আর নট।’ বিদ্রূপ ঝরে পড়ে ভদ্রলোকের গলায়।

শ্যামাদাস বুঝতে পারে সে ভুল বলে ফেলেছে। তাই নিজের ভুল শুধরে নিতে সে বলে— ‘স্যার, আপনার লোক যদি…।’

উত্তেজিত জবাব আসে— ‘হ্যাভ ইউ গন ম্যাড? মিউজিয়মের সামনের মার্ডারের পর থেকে ওখানে পুলিশের নজর আছে। একটা ভ্যানও লাগানো থাকে। যদিও আমরা জানি যে ওই মার্ডারের মোডাস অপারেন্ডি রজনীকান্তর মতো নয়, স্টিল ব্রড ডে লাইটে অ্যাকশন করতে গেলে আমাদের কেউ যদি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে, তাহলে…? নো, নো, দ্যাট ডাস নট ফিট ওয়েল। অন্য কিছু ভাবুন, মিস্টার রয়, অন্য কিছু ভাবুন।’ ভদ্রলোক বুঝি কিছুটা অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। তাই তাঁকে সামাল দিতে একটু চিন্তা করে শ্যামাদাস। তার মাথায় অন্য একটা প্ল্যান এসেছে।

সে বলে— ‘আচ্ছা, আমি যদি ওর ডিয়ার কিড কানাইকে কিডন্যাপ করি তাহলে রজনী সেখানে আসতে বাধ্য। আর সেখানেই…’

ভদ্রলোক একটুখানি ভাবেন। তারপরে বলেন— ‘ওয়েল, দ্যাটস এ গুড আইডিয়া। কিন্তু তাকে রাখবেন কোথায়?’

—‘স্যার, বাগবাজারে গঙ্গার ঘাট থেকে খানিকটা দূরে নদীর একেবারে পাশে পিটারের একটা বাংলো আছে। কেউ থাকে না সেখানে। কাছাকাছি তেমন লোকবসতিও নেই। ওখানেই আমরা রাখতে পারি রজনীর কিডকে।’

উলটোদিকের ভদ্রলোক চোখ বুজে কী যেন ভাবছেন। ভুরু দুটো কুঁচকে গেছে তাঁর। ডান হাতের বুড়ো আঙুল আর মধ্যমা দিয়ে কপালের রগ থেকে ভুরুর মাঝখান অবধি রগড়াচ্ছেন ধীরে ধীরে। মনে হচ্ছে শ্যামাদসের কথা মনে ধরেছে তাঁর। আশায় বুক বেঁধে শ্যামাদাস বসে থাকে তাঁর উত্তরের আশায়।

সামান্য পরেই প্রশ্ন আসে— ‘বাট ব্রড ডে লাইটে আপনি তাকে কিডন্যাপ করবেন কীভাবে? তাকে গাড়িতে তুলবেন…পাবলিকে গাড়ির নম্বর নোট করবে…আর সেই গাড়ির নম্বর চেজ করে পুলিশ পৌঁছে যাবে ডেস্টিনেশনে। দেন?’

কথাটায় যুক্তি আছে যথেষ্ট। আসলে ডনের ঘরে বসে নার্ভাস হয়ে গিয়ে শ্যামাদাস এতটা তলিয়ে ভেবে দেখেনি। সত্যি নিজেকে কেমন বোকা বলে মনে হয় তার। তাই সে সারেন্ডার করে।

—‘দেন ইউ প্লিজ সাজেস্ট এ প্ল্যান স্যার।’

—‘ওয়েল, আপনার প্ল্যান পার্টলি রাইট, অ্যান্ড উই উইল ডু দ্য রেস্ট। এমনিতে আমরা বাচ্চা আর মহিলাদের এসব ব্যাপারে জড়াতে চাই না, বিকজ দে আর ইনোসেন্ট। তা ছাড়া ড্যাডিও এসব পছন্দ করেন না। স্টিল, রজনীকে ট্র্যাপ করার জন্যে আর কোনো সেফ ওয়ে-আউট দেখছি না। শুনুন মিস্টার রয়, গাড়ির নম্বর প্লেট ডুপ্লিকেট হবে। সেটা আমরা করে দেব, বাট কিডন্যাপিং এর কাজটা আপনাকেই করতে হবে। মাই মেন উইল জাস্ট গিভ ইউ প্রোটেকশন। বাট রিমেমবার, বাচ্চাটার যেন কোনো হার্ম না হয়। আদারওয়াইজ…। আর হ্যাঁ, এটা একটু টাফ জব। অ্যাটলিস্ট ফর ইউ।… আর ক্যালকাটায় কোনো হেল্প লাগলে আপনি একজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ইনফ্যাক্ট, তার হেল্প আপনার লাগবেও।’

—‘তাহলে স্যার, আপনি যদি কাইন্ডলি তাঁর নাম আর ঠিকানাটা একটু দেন…।’ আগ্রহের সঙ্গে বলে শ্যামাদাস।

—‘ইউ মিট মিস্টার হরিশরণ ভাটিয়া। ক্যামাক স্ট্রিটে ওর জুয়েলারি শপ আছে। নাম ‘‘গোল্ডেন গ্যালারি’’। বাট আনলেস উই গিভ ইউ আ পাসওয়ার্ড, হি উইল নট টক টু ইউ।’

—‘দেন স্যার, প্লিজ গিভ মি দ্যাট পাসওয়ার্ড।’ নিজের অতীব আগ্রহকে দমন করেই কথাটা বলে সে।

—‘ওয়েল। পাসওয়ার্ড ইজ ‘‘ব্ল্যাক টিউলিপ’’। ওক্কে। রিমেম্বার ইট ওয়েল। ডোন্ট ফরগেট।’

শ্যামাদাস বিড়বিড় করে মনে গেঁথে নিতে চায় সেটা। তারপর বলে— ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার, থ্যাঙ্ক ইউ।’

—‘ওয়েলকাম। আপনি তাহলে এখন আসতে পারেন।’ বলে ভদ্রলোক টেবিলের আড়ালে রাখা একটা সুইচ টেপেন। একটুপরেই যে লোকটা শরবত এনেছিল সে পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢোকে। ভদ্রলোক তাকে বর্মি ভাষায় কিছু একটা বলতেই সে পথ দেখিয়ে শ্যামাদাসকে নিয়ে আসে ‘দ্য ভিন্টেজ’ এর বাইরে।

শ্যামাদাস বেরিয়ে যেতেই পেছনের দরজা ঠেলে অফিস ঘরে ঢোকেন একমাথা সাদা চুলের ফর্সা সৌমদর্শন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ আঙ থিহা। পরনে সাদা লুঙ্গি বর্মি ধাঁচে পরা। তার ওপরে ঢোলাহাতা কুর্তার ওপরে বাদামি রঙের মখমলের হাতাকাটা কোট। হাতে আধা জ্বলন্ত চুরুট। বৃদ্ধ, তবু টানটান শরীর। উনি ঘরে ঢুকতেই তাঁর ছেলে ইন্টারকম বন্ধ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। বৃদ্ধ এসে বসেন সেই চেয়ারে। মৃদু মৃদু দোল খেতে থাকেন। তাঁর ছেলে এসে বসে উলটোদিকের চেয়ারে।

—‘তুমি কি রয়কে আবার বিজনেসে নামাতে চাইছ?’

—‘এখনও সেটা ডিসাইড করিনি। আগে ও রজনীর চ্যাপটার ক্লোজ করুক।’

—‘ইয়েস, দ্যাটস রাইট। তবে আমি যতদূর বুঝলাম, রয় ইজ ক্লেভার বাট নট কানিং। সো মেক আ ফুলপ্রুফ প্ল্যান, বাট রিমেমবার আমাদের গ্যাংয়ের কোনো লোক যেন পুলিশের হাতে না পড়ে। নাউ দ্য গেম ইজ ইন ইয়োর হ্যান্ড অ্যান্ড প্লে ইট ওয়েল মাই বয়। উইশ ইউ বেস্ট অফ লাক।’

চুরুটের ছাইটা অ্যাশট্রেতে ঝেড়ে ফেলে মৃদু মৃদু হাসতে থাকেন ডন আঙ থিহা। চশমার ভেতর দিয়ে তাকিয়ে থাকেন বড়োছেলের দিকে। তারপর উঠে পড়েন চেয়ার থেকে। পেছনের দরজার আড়ালে মিলিয়ে যাবার আগে একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে ছেলেকে শুধু বলেন— ‘ট্রাস্ট ইস লাইক আ গ্লাস হাউস, মাই সন।’ তাঁর সে হাসি আর দৃষ্টির অর্থ বুঝতে পারে শুধু তাঁর ছেলে আর্নল্ড থিহা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *