১৮৮৪, মার্চ – নরেন, বুকে হাতি তোলা আর নিশিকান্তের বুমেরাং

১৮৮৪, মার্চ – নরেন, বুকে হাতি তোলা আর নিশিকান্তের বুমেরাং

১৮৮৪ সালের এক বসন্ত-বিকেল। সদ্য গত গ্রীষ্মে প্রয়াত হয়েছেন বাবা বিশ্বনাথ দত্ত। বাড়িতে চরম অর্থসংকট। তাই বিএ পাশ করেও শান্তি নেই নরেনের মনে। দু-দিন আগেই সে গিয়েছিল প্রকাশকের কাছে। তার বাবার লেখা উপন্যাস ‘সুলোচনা’র বিক্রিবাটা থেকে যদি কিছু অর্থ পাওয়া যায়। কিন্তু বইটার তেমন বিক্রি নেই বলে তাকে খালিহাতেই ফিরতে হয়েছিল। তাই তার বিচলিত মন খুঁজছে সমাধান— একদিকে অর্থসংকটের মোকাবিলা করা আর অন্যদিকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে তার অন্তরের প্রশ্নের সমাধান। কোনদিকে যাবে সে? এদিকে কেশবচন্দ্র সেনও মারা গেলেন বাবার মৃত্যুর ক-দিন পরেই। অন্তরের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাই নরেন দেখা করে ব্রাহ্মসমাজের শিরোমণি দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে। তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করে— ‘আপনি ঈশ্বর দেখেছেন?’ কিন্তু সদুত্তর দিতে পারেন না স্বয়ং মহর্ষিও। একই প্রশ্ন সে আগেও করেছে অনেক বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ আর সাধু-সন্তদের কাছেও। কিন্তু সবাই তাকে হতাশ করেছে। তবু নরেনের যে তার প্রশ্নের উত্তর চাই। সংসারের দারিদ্র্যের ভাবনাকেও ছাপিয়ে তার অন্তর খুঁজে ফেরে ঈশ্বরের সত্ত্বা। সে দেখতে চায় ঈশ্বর কেমন। তাই সে সিমলে থেকে ছুটে যায় দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের পূজারি গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি তাকে বড়ো স্নেহ করেন। তাকে কাছে বসিয়ে ভালোমন্দ খাইয়ে বড়ো আনন্দ পান তিনি। নরেন ক-দিন না এলে তাঁর ভেতরটা কেমন যেন আনচান করে। একে ওকে জিজ্ঞেস করেন নরেনের কথা। অবশ্য নরেনেরও একই অবস্থা। ওই অক্ষরজ্ঞানহীন, সরল, গেঁয়ো পূজারির কাছে না গেলে তারও ভালো লাগে না।

অনেকবার সে তাঁকে প্রশ্ন করেছে যে উনি ঈশ্বরকে দেখেছেন কি না। তার উত্তরে ওই ব্রাহ্মণ স্নেহমাখা মিটিমিটি হেসে খাবারের থালা তার কোলের দিকে আরও ঠেলে দিয়ে বলেছেন— ‘ওরে, খা খা। ওসব ভারী ভারী কথা পরে হবে খন।’ তবুও উত্তর পায়নি সে।

গত পাঁচদিন নরেন দক্ষিণেশ্বরে যায়নি অভিমানে। বাড়ির বিশাল উঠোনের পাশে একটা ঘরে নিজেকে বন্দি রেখে একনাগাড়ে ধ্যান করেছে সে। খুঁজেছে ঈশ্বরকে। অবসন্ন হয়ে পড়েছে, তবু ঈশ্বর ধরা দেননি তাকে। বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত সে মনে। তাই সে ঠিক করেছে এখন মনটাকে একটু হালকা করতে হবে। অবসন্ন মন হদিশ দিতে পারে না সঠিক পথের। আনমনে তাই সে বিডন স্ট্রিটের দিকে হাঁটতে থাকে, যদি স্টার থিয়েটারে আসা রামকৃষ্ণের আরেক শিষ্য জিসির মানে গিরীশ চন্দ্র ঘোষের দেখা পাওয়া যায়। লোকটা মদ্যপ হলে কী হবে, বাংলা নাটকে তাঁর মতো প্রতিভা বিরল। একইসঙ্গে সুন্দর তাঁর রসবোধ। আর জিসির নাটক রচনা করার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করাও এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। উনি ঘরময় পায়চারি করতে করতে উদাত্ত স্বরে এক একটা চরিত্রের সংলাপ মুখে মুখে অভিনয় করার মতো করে বলে যান আর তাঁর সেক্রেটারি দেবেন মজুমদার পেন্সিলে লিখে যান সেই সংলাপ। নরেন দেখেছে সেসব। এখন যেমন জিসি ‘চৈতন্যলীলা’ লেখার কাজে ব্যস্ত। আর আড্ডায়? সেখানেই টের পাওয়া যায় বিশ্বসাহিত্যে তাঁর জ্ঞানের গভীরতা। নরেনের খুবই ভালো লাগে তা, তবে তার অপছন্দ শুধু জিসির ওই মদ খাওয়াটা।

কিন্তু হঠাৎই তার কানে ভেসে আসে চোঙা ফোঁকার আওয়াজ। আজ নাকি বিকেলবেলায় অম্বিকাচরণ গুহ তাঁর হাতিবাগানের আখড়ায় বুকের ওপর হাতি তুলবেন, দাঁত দিয়ে থামিয়ে রাখবেন মোটরগাড়ির গতি। একসময় এই অম্বুবাবুর আখড়ায় নিয়মিত কুস্তি আর বক্সিং করতে যেত নরেন। সেখানেই তার দেহচর্চার হাতেখড়ি। তাই গুরুর এহেন তাক লাগানো কাজকর্ম দেখতেই হবে তাকে। আর তাই সে এগিয়ে চলে হাতিবাগানের দিকে।

.

গ্রামে যাত্রা হবে। যদিও শীতকালে যাত্রা, তবুও এখন থেকে বায়না না করলে নিজেদের পছন্দমতো দিনে যাত্রাদলকে পাওয়া দুষ্কর। তাই তালুকের জমিদার মশাইয়ের প্রতিনিধি গোমস্তা সমররঞ্জনের সঙ্গী হয়ে নিশিকান্তর কলকাতার চিৎপুরের নট্টকোম্পানিতে আসা। সমরবাবুর কাছে বায়নার টাকা আছে যে। তা হাতে লাঠি নিয়ে তো আর কলকাতায় আসা যায় না। তাতে মান থাকে না। তাই নিশিকান্তর হাতে ঝোলানো চটের ব্যাগে রাখা আছে তার বুমেরাংটা।

এই নিশিকান্তকে জমিদার রণবিজয় বর্মণ ভালোবাসেন খুব, বিশ্বাসও করেন। সে এখন একত্রিশ বছরের জোয়ান। যদিও এখনও বিয়ে-থা করেনি। তবু তারই অনুরোধে তিনি তার গ্রামের জন্যে বেশ কয়েক বিঘা নিষ্কর জমি দিয়েছেন চাষবাস করে খাওয়ার জন্যে। শুধু জমিদারের বিপদে-আপদে লাঠি ধরতে হয় তাদের গ্রামের মরদদের। এই বড়োমনের মানুষটার জন্যেই নিশিকান্তর গ্রামের মানুষেরা এখন আর লুঠপাট করে না, নরহত্যাও করে না।

তা বায়নার টাকা মিটিয়ে রাস্তায় নামতেই কানে এল অম্বিকাচরণের আখড়ার চোঙা ফোঁকার আওয়াজ। সমরবাবু বললেন— ‘কি হে নিশিকান্ত, যাবে নাকি দেখতে? বায়না তো হয়েই গেল। শ্যালদা থেকে আটটার ট্রেনটা ধরলেই হবে।’

নিশিকান্তর মনেও কৌতূহল জমে উঠেছিল। বুকের ওপরে হাতি উঠলে যে পিষে মরে যাবে মানুষটা। এত শক্তপোক্ত শরীর কি মানুষের হয়? তাই সে বললে— ‘চলুন না কত্তা, দেকেই আসি কাণ্ডকারকানা।’

হাতিবাগানের দিকে যেতে যেতে সমরবাবু বললেন— ‘বুঝলে বাপু নিশিকান্ত, বড়ো আজব শহর এই কলকাতা। এখানে পথে পথে রঙ্গ তামাশা।’

—‘হ্যাঁ, তাই তো দেকচি কত্তা।’

.

হাতিবাগানের আখড়ার কাছে লোকে লোকারণ্য। পাশের রাস্তা ঠেলাগাড়ি, হাতেটানা রিকশা, মোটরগাড়ি আর জুড়িগাড়িতে ঠাসাঠাসি। তারই মধ্যে একপাশে রাখা একটা হাতি। মাঠে ব্যায়ামাগারের দিকটায় মঞ্চ বাঁধা হয়েছে। সেখানে বসে আছেন কলকাতা আর আশেপাশের জেলার মান্যিগণ্যি মানুষেরা। তাঁদের মধ্যমণি বর্ধমানের রাজা আফতাব চাঁদ মেহতাব। বক্তৃতা-টক্তৃতা মনে হয় আগেই হয়ে গেছে, কারণ পাশের টেবিলে ফুলের স্তবক আর মালার গোছা ডাঁই করে রাখা। মাঠের একধারে দাঁড়িয়ে একটা মোটরগাড়ি। আষ্ঠেপৃষ্ঠে ভালো করে মোটা কাছি দিয়ে বাঁধা। গাড়ির দু-পাশ দিয়ে টানা সেই দড়ি প্রায় বিশ-বাইশ হাত দূরে শেষ হয়েছে গাড়ির পিছনদিকে। সেখানে দুটো দড়ির সাথে একটা লোহার আংটা সাদা কাপড় দিয়ে ভালো করে জড়ানো।

ভিড় ঠেলেঠুলে সমররঞ্জন আর নিশিকান্ত সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ভালো করে দেখবে বলে।

মঞ্চ থেকে একজন চোঙা ফুঁকে বললে— ‘এবার আপনাদের সামনে দাঁত দিয়ে ওই মোটরগাড়ি থামিয়ে রাখার খেলা দেখাতে আসছেন এই আখড়ার প্রধান গুরু শ্রী অম্বিকাচরণ গুহ, যিনি আপনাদের কারোর কাছে অম্বুবাবু, আবার কারোর কাছে বা রাজাবাবু নামে পরিচিত। দর্শকদের বিশেষভাবে জানানো হচ্ছে যে, এই খেলার জন্যে শারীরিক শক্তির সঙ্গে সঙ্গে অত্যন্ত মনঃসংযোগের প্রয়োজন হয়। তাই এই ক্রীড়াকৌশল চলাকালীন তাঁদের শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।… আসুন, আমরা সবাই স্বাগত জানাই আমাদের আখড়ার প্রাণ, প্রধান পুরুষ শ্রী অম্বিকাচরণ গুহকে।’

সাদা হাফহাতা ফতুয়া আর সায়েবদের মতো সাদা হাফপ্যান্ট পরে অম্বিকাচরণ এলেন মঞ্চে। তাঁকে মালা পরিয়ে দিলেন বর্ধমানের মহারাজা বৃদ্ধ আফতাব চাঁদ মোহতাব। সবাই হাততালি দিয়ে উঠল। দু-হাত তুলে নমস্কার জানিয়ে অম্বিকাচরণ নেমে এলেন মাঠে। তাঁর খালি পা। দড়ির প্রান্তে এসে টানটান হয়ে দাঁড়ালেন। তাঁর ভাই ক্ষেত্রচরণ (নামটা অবশ্য দর্শকদের ফিসফিসানি থেকেই জানল নিশিকান্ত) দাদার হাতে তুলে দিলেন কাপড়ে মোড়া লোহার আংটাটা। গাড়িতে একজন ড্রাইভার চড়ে বসল। স্টার্ট দিল ইঞ্জিনে। সামনে একটুখানি ঝটকা মেরে সে বুঝিয়ে দিল যে গাড়িটা সচল। অম্বিকাচরণ চোখ বুজে আধমিনিট স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পরে দাঁতে কামড়ে ধরলেন কাপড়ে মোড়া আংটা। ক্ষেত্রচরণের ইশারায় ইঞ্জিনের গর্জন তুলে সামনে এগিয়ে যেতে চাইল গাড়ি আর অম্বিকাচরণ দু-দিকে হাত ছড়িয়ে পেছনে শরীরের ঊর্দ্ধাংশ হেলিয়ে বাধা দিতে লাগলেন গাড়িটাকে। খালি পা গেড়ে বসেছে মাটিতে। চোখদুটো যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসবে এখুনি। হাতের, পায়ের, গায়ের, গলার সমস্ত শিরা ফুলে উঠেছে। দর্শকরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছে তাদের রাজাবাবুর কীর্তি আর ভাবছে— কী অমানুষিক গায়ের জোর লোকটার। এইভাবে ঠিক এক মিনিট চলার পরেই ক্ষেত্রচরণের ইশারায় বন্ধ হল গাড়ির ইঞ্জিন। সেটা এগোয়নি একটুকুও। তারপরে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অম্বিকাচরণ দাঁত থেকে ছেড়ে দিলেন আংটাটা। টানটান উত্তেজনা থেকে রেহাই পেয়ে মুগ্ধ জনতা হাততালি দিয়ে উঠল। ‘সাবাশ, রাজাবাবু সাবাশ’, ‘ভারতমাতার মহান সন্তান রাজাবাবু কী জয়’ ধ্বনিতে ভরে গেল আখড়ার মাঠ। মঞ্চে বসা মান্যিগণ্যি মানুষেরা পর্যন্ত হাততালি দিয়ে উঠলেন। উদ্্বেলিত জনতার দিকে হাত নেড়ে অম্বুবাবু এক গ্লাস জল খেয়ে মঞ্চে গিয়ে বসলেন।

এবারে মঞ্চ থেকে ঘোষণা শুরু হল— ‘বাঙালি আজ শরীরচর্চা করে না, অথচ তারা রোয়াকে বসে হয় গুলতানি করে নয়তো তাস-পাশা খেলে সময় নষ্ট করে। বাঙালি ভুলে গেছে যে একজন সুস্থ-সবল নাগরিক দেশের সম্পদ, দেশের ভবিষ্যৎ। সাধারণ মাছ-ভাত খেয়েও যে কতখানি শক্তিশালী হওয়া যায় তা আজ দেখিয়ে দিলেন আমাদের পরমপূজ্য গুরুদেব শ্রী অম্বিকাচরণ গুহ। তাই সুস্থ-সবল নাগরিক গড়তে তিনি স্থাপন করেছেন এই আখড়া যাতে বাঙালি ছেলেরাও কালাপানির ওপারের দেশের মানুষজনের মতো শক্তিমান হয়ে ওঠে। যাইহোক, আর কথা বাড়াবো না। এবারে দেখুন গুরুদেবের আরও শক্তিমত্তার পরিচয়। যে হাতির ভারে মানুষ ছাতু হয়ে যায়, সেই হাতিকে উনি তুলবেন বুকের ওপরে।… হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। বুকে হাতি তুলবেন আমাদের গুরুদেব। আপনারা শুধু দেখুন, একজন বাঙালির অবিশ্বাস্য শক্তির প্রদর্শন।’

ইতিমধ্যে ক্ষেত্রচরণের তদারকিতে আখড়ার মাঠের মাঝখানে রাখা হয়েছে মোটা গদি। মঞ্চ থেকে নেমে তাতে শুয়ে পড়লেন অম্বিকাচরণ। বুকের ওপর আরেকটা গদি বিছিয়ে তার ওপরে রাখা হল একটা মোটা কাঠের পাটাতন। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় জনতা চুপ। একজন মাহুত নিয়ে এল হাতিটাকে। মাহুতের ইঙ্গিতে ধীরে ধীরে হাতিটা তার সামনের দু-পা রাখল তার সামনের পাটাতনের প্রান্তে। পাটাটার সেদিকটা স্পর্শ করল মাটি। তারপরে মাহুতের ইশারায় হাতি একটা পা রাখলে পাটাতনের অপর প্রান্তে। সামনের অপর পা-টাও তুলে নিয়ে রাখলে সেখানে। পাটাতনের সেদিকটা তখন মাটি ছুঁল। হাতি এবারে তার সামনের দু-পা ওদিকের মাটিতে নামিয়ে পেছনের দু-পা ধীরে ধীরে তুলে দিল পাটাতনের প্রথম প্রান্তে। একইভাবে এগিয়ে পেছনের একটা পা রাখলে দ্বিতীয় প্রান্তে আর পরক্ষণেই তার পেছনের অপর পা-টা রাখল সেখানে। তারপরে মাহুতের ইশারায় হাতি নেমে দাঁড়াল মাটিতে।

ক্ষেত্রচরণের দলবল তাড়াতাড়ি এসে সরিয়ে নিলো অম্বিকাচরণের বুকের ওপরে রাখা পাটাতন আর গদি। অম্বিকাচরণ উঠে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে চারপাশের দর্শকদের নমস্কার জানাতে লাগলেন। আর এহেন বিস্ময়দৃশ্য দেখে উদ্বেল জনতা হাততালি আর জয়ধ্বনিতে মাতিয়ে তুলল আখড়ার মাঠ। শুধু নিশিকান্তর মনে হতে লাগল যে, কোথায় যেন একটা কৌশল আছে এই খেলায়, যাতে নাকি হাতির পুরো ওজন কখনোই শরীরে না পড়ে। হাতি তোলার দৃশ্যটা একটু তলিয়ে ভাবতেই তার কাছে ধরা দিল কৌশলটা।

অম্বিকাচরণ উঠে গেলেন মঞ্চে। চোঙা হাতে নিয়ে বলতে শুরু করলেন— ‘আজ আপনারা যা দেখলেন তা আমার দীর্ঘদিনের শরীরচর্চার ফল। এর জন্যে বিশেষ খাবারের দরকার নেই। আপনারা রোজ যা খান, তাই দিয়েই গড়া যায় শরীর। আমাদের আখড়ার উদ্দেশ্যও তাই। সেজন্যেই আপনাদের সকলকে আহ্বান করছি শরীরচর্চা করতে। আমরা চাই একটা সর্ব অর্থে শক্তিশালী জাতি গড়ে উঠুক আমাদের বাংলায়। তাই আমাদের আখড়ায় শরীরচর্চার পাশাপাশি কুস্তি, বক্সিং, লাঠিখেলা আর তরোয়াল খেলাও শেখানো হয়। তারই একটা নমুনা এবারে দেখাবেন আমাদের আখড়ার সদস্য শ্রী বলরাম পাইন। আপনারা দেখুন তার ক্রীড়াকৌশল। ধন্যবাদ।’ চোঙাটা হস্তান্তর করে মঞ্চে রাখা একটা চেয়ারে বর্ধমানের মহারাজা আফতাব চাঁদ মেহতাবের পাশে বসে পড়েন অম্বিকাচরণ।

আখড়ার মাঠের মাঝখানে এবার লাঠিহাতে এসে দাঁড়ায় মালকোঁচা মেরে ধুতি পরা বলরাম। বয়স আঠাশ থেকে ত্রিশের মধ্যে। প্রথমেই দু-হাতে লাঠিটা আড়াআড়ি ধরে ঝুঁকে প্রণাম জানায় মঞ্চে আসীন মান্যিগণ্যি ব্যক্তিদের আর একই ভঙ্গিতে ঘুরে ঘুরে প্রণাম জানায় সমবেত দর্শকদের।

তারপর সোজা দাঁড়িয়ে লাঠির মাঝখানটা ধরে। বাতাসে সাঁই-সাঁই আওয়াজ তুলে তার শরীরের চারপাশে বনবন করে ঘুরতে থাকে তার লাঠি আর সেইসঙ্গে ছোটো ছোটো লাফে ঘোরাতে থাকে তার দেহও। মঞ্চ থেকে চোঙের আওয়াজ ভেসে আসে—‘শ্রী বলরাম পাইন আমাদের আখড়ার শ্রেষ্ঠ লাঠিয়াল। এর লাঠির বেগ দেখে বুঝতেই পারছেন যে এর লাঠি বন্দুকের গুলিও আটকে দিতে সক্ষম।’ সত্যিই বলরামের ঘোরানো লাঠির গতিপথ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। সামনে পেছনে চারপাশে ঘুরে ঘুরে বলরাম ঘোরাচ্ছে তার লাঠি। দর্শকদের মধ্যে গুঞ্জন ওঠে— ‘সত্যি, এইভাবে লাঠি ঘোরালে বন্দুকের গুলিও আটকে যাবে।’

খানিকক্ষণ লাঠির কসরত দেখিয়ে বলরাম থামে। তারপর দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলে ওঠে— ‘আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো লাঠি খেলেন। তেমন কেউ থাকলে আমার সাথে একহাত খেলতে পারেন।’ বলরামের কথা শুনে দর্শকরা সবাই এ ওর মুখের দিকে চাইছে। কিন্তু নিশিকান্তের শরীরে এই দ্বন্দযুদ্ধের আহ্বান শিহরণ তুলেছে। একহাত লড়াইয়ের অদম্য বাসনা জেগে উঠেছে তার মনে। সে সমরবাবুর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে— ‘যাব কত্তা?’ সমরবাবু রীতিমতো চেনেন নিশিকান্তকে। তার কাঁধে হাত রেখে বলেন— ‘যাও। আমাদের গাঁয়ের আর জমিদার মশায়ের নাম রেখো।’

ওদিকে বলরাম পাইন হেঁকে বলছে— ‘কই, কেউ কি নেই নাকি? নাকি লাঠি খেলা জানলেও ভয় পাচ্ছেন খেলতে?’

এই বিদ্রূপ আর সহ্য হয় না নিশিকান্তর। সে ততক্ষণে তার ফতুয়া খুলে ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলেছে। ধুতিটা মালকোঁচা মারতে মারতে আখড়ার আঙিনায় ঢুকে পড়ে সে। সোজা গিয়ে দাঁড়ায় বলরামের মুখোমুখি।

তারপর হেঁকে বলে— ‘আমি আড়ংঘাটার জমিদার রণবিজয় বর্মণের এক সামান্য লেটেল। নাম নিশিকান্ত রায়। যদি আজ্ঞা দ্যান আর একগাচা লাটি দ্যান তো আমি বলরামবাবুর সঙ্গে একহাত খেলতে পারি।’

মঞ্চ থেকে অম্বিকাচরণ চোঙা ফুঁকে বললেন— ‘অনুমতি দিলাম। এই কেউ একখানা লাঠি দাও তো ওকে।’

এদিকে বলরামের চোখে আগুন জ্বলছে। কোথাকার কোন এক গেঁয়ো লেঠেল তার মতো ঝানু লাঠিয়ালের সঙ্গে লড়ার স্পর্ধা দেখায়। আজ উচিত শিক্ষা দিতে হবে একে।

শুরু হল লড়াই। দুই লাঠিয়ালের লাঠিতে লাঠিতে ঠোকাঠুকি হচ্ছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। বলরাম রেগে যাচ্ছে ক্রমশ। ভাবছে— ‘কোথাকার এক অনামা লেঠেল তার দশ-বারো বছরের সাধনাকে এত লোকের সামনে হেয় করে দিচ্ছে।’ নিশিকান্ত এটাই চাইছিল। সে জানে যে রেগে গেলে মাথা ঠিকঠাক চলে না; তাই সে এতক্ষণ তাতিয়ে যাচ্ছিল বলরামকে। সুযোগ খুঁজছিল তার সামান্যতম ভুলচুকের। আর রেগে গিয়ে নিশিকান্তকে সেই সুযোগটাই দিয়ে ফেলল বলরাম। চকিতে নিশিকান্তের লাঠির আঘাতে তার হাতের লাঠি ছিটকে গেল। এইসময় ইচ্ছে করলেই সে বলরামের মাথা ফাটিয়ে দিতে পারত। কিন্তু খেলা খেলাই। এখানে শরীরে আঘাত করতে নেই। তাই একহাতে লাঠিটা ধরে আর একহাত কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে রইলো সে। এদিকে হতভম্ব বলরামকে দেখে নিশিকান্তর নামে জয়ধ্বনি দিয়ে উঠল জনতা। নিশিকান্ত দু-হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে মাথার ওপরে তুলে মঞ্চের দিকে তাকিয়ে বললে— ‘আমার একটা নতুন অস্তর আচে। এই দেড়হাত মতো লম্বা। শুনলাম বলরামবাবুর লাটি নাকি বন্দুকের গুলিও আটকে দিতে পারে। আমার এই অস্তর কিন্তু গুলির চে অনেক বড়ো। তা আপনাদের অনুমতি পেলে বলরামবাবু তেনার লাটি দে আমার এই অস্তরকে আটকে দেকান দিকি।’

মঞ্চে তখন ফিসফিসানি। এদিকে জনতার মধ্যে থেকে কলরব উঠল— ‘হয়ে যাক, হয়ে যাক।’ এই মোকাবিলার ডাকে সাড়া না দিলে আখড়ার মান থাকে না। তাই অম্বিকাচরণবাবু মহারাজ আফতাব চাঁদের সঙ্গে খানিক শলা করে চোঙা ফুঁকে হুকুম দিলেন— ‘নিশিকান্ত রায়, তোমায় অনুমতি দেওয়া হল। বলরাম দেখাক সে কেমনভাবে তোমার অস্ত্রকে আটকে দিতে পারে। তা তোমার তো খালিহাত বাপু। অস্ত্র কোথায়? দেখাও দেখি সেখানা।’

নিশিকান্ত তার হাতের লাঠি দূরে ছুঁড়ে ফেলে এগিয়ে যায় সমররঞ্জনের কাছে। তাঁর কাছে রাখা নিজের ব্যাগ থেকে বের করে তার বুমেরাং। আঙিনায় ঢুকতে ঢুকতে সে বুমেরাংটা মাথার ওপর তুলে বলে— ‘এই আমার অস্তর। আপনাদের মদ্দে কেউ কি জানেন এই অস্তরটার নাম কী?’

এই অস্ত্র শুধু দর্শক কেন, মঞ্চে বসা ভদ্রমণ্ডলীও কখনো দেখেননি। তারা চুপ করে থাকে। প্রায় ইংরাজি ভি এর মতো দেখতে কাঠের তৈরি এটা আবার কী অস্ত্র?

হঠাৎই ভিড়ের সামনে থেকে একজন চৌকোমুখের সুঠাম যুবক চেঁচিয়ে বলে— ‘এটা রিটার্নিং বুমেরাং। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা শিকার করতে বা ফল পাড়তে এটার ব্যবহার করে। লক্ষ্যবস্তুতে না লাগলে এটা ঘুরে এসে পড়ে যে ছুঁড়েছিল তারই কাছাকাছি।’

—‘বাঃ, একটা নতুন অস্ত্রের নাম জানলাম। তা এবারে নিশিকান্ত রায়, দেখাও তো তোমার অস্ত্রের কেরামতি।’ মঞ্চ থেকে চোঙা ফুঁকে কিঞ্চিৎ তাচ্ছিল্য মিশিয়ে কথাটা ছুঁড়ে দেন অম্বিকাচরণ।

লাঠি হাতে তুলে নিলো বলরাম। প্রায় ত্রিশহাত দূরে বুমেরাং হাতে স্থির দাঁড়িয়ে নিশিকান্ত। প্রথমবারের মতো এবারেও শরীরের চারিদিকে বনবন করে লাঠি ঘোরাতে লাগল বলরাম পাইন। তবে এবারে লক্ষ্য শুধু সামনের দিকে। নিশিকান্তর দিকে।

বুমেরাং এর একপ্রান্ত ধরে হাতে ঝুলিয়ে নিশিকান্ত লক্ষ্য রাখছে বলরামের ওপরে। অল্প অল্প দোল খাচ্ছে তার ঝুলিয়ে রাখা বুমেরাং ধরা হাত। খানিক ঠাহর করতেই সে বুঝতে পারে বলরামের লাঠি ঘুরলেও তার হাঁটুর ঠিক নীচে থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ফাঁকা থেকে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে একটা হাঁটু গেড়ে বসে সাঁ করে আড়াআড়ি ছুঁড়ে দেয় হাতের বুমেরাং। শেষ মুহূর্তে বলরাম লাফিয়ে সেটা এড়াতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু না, সে নড়ার আগেই বুমেরাং সজোরে আঘাত করেছে তার বাঁ-পায়ে। সেই আঘাতের অভিঘাত এতটাই যে বলরাম লাঠি ছেড়ে পা ধরে পড়ে যায় মাটিতে।

সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় নিশিকান্ত। একহাতে বুমেরাং তুলে, অন্যহাতে বলরামকে চাগিয়ে দাঁড় করাতে করাতে বলে— ‘লেগে থাকলে মাপ করবেন কত্তা। আমি কিন্তু জোরে ছুঁড়িনি।’

ততক্ষণে ছুটে এসেছে আখড়ার লোকজন। তারা ধরে নিয়েছে বলরামকে। আর থতমত খেয়ে যাওয়া দর্শকদের মধ্যে থেকে ছুটে এসেছে চুলের মাঝখানে সিঁথিকাটা চৌকোমুখের সেই সৌম্যদর্শন সুঠাম চেহারার যুবক। কোলে চাগিয়ে তুলে নিয়েছে নিশিকান্তকে।

সে যুবক আর কেউ নয়— সিমলেপাড়ার প্রয়াত উকিল বিশ্বনাথ দত্তের ছেলে নরেন্দ্রনাথ দত্ত।

এই আনন্দোৎসবের সোরগোলের মাঝেই সমররঞ্জন ছুটে এসে বললেন— ‘এই নিশিকান্ত, বর্ধমানের মহারাজা তোমায় ডাকছেন। ওই যে একজন মঞ্চ থেকে চোঙা ফুঁকে তোমাকে তাঁর কাছে যেতে বলছে। শুনতে পাচ্ছ না?’

নরেন্দ্রনাথের কোল থেকে নেমে নিশিকান্ত এগিয়ে যায় মঞ্চের দিকে।

.

দিন পনেরো পরে রণবিজয় বর্মণের কাছারিতে ডাক পড়ে নিশিকান্তর। তাঁর আদেশ মতো তার সঙ্গে রয়েছে বাবা, মা আর দাদু রতন কত্তাও। সবাই উৎকণ্ঠায়। না জানি কী জন্যে তাদের সক্কলকে ডেকে পাঠিয়েছেন জমিদারবাবু। ভয়ে ভয়ে তারা প্রণাম করে দাঁড়াতেই হিসেবের খাতা থেকে মুখ তুলে জমিদারবাবু বললেন— ‘তোমাদের মঙ্গল হোক। তা যে জন্যে তোমাদের ডেকে পাঠিয়েছিলাম সেটাকে তোমরা সুসংবাদও বলতে পার আবার দুঃসংবাদও বলতে পার।’

জমিদারবাবুর এইকথা শুনে কেঁপে ওঠে সবার বুক। তারা পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে থাকে।

রণবিজয় বলতে থাকেন— ‘নিশিকান্ত, বর্ধমানের রাজা পত্র পাঠিয়েছেন। তিনি কলকাতায় তোমার খেলা দেখে খুবই প্রীত হয়েছেন আর তাই বর্ধমানে ডেকে পাঠিয়েছেন তোমাকে। সেখানে তিনি তাঁর লেঠেল দলকে আরও শক্তিশালী করার ভার দিতে চান তোমার ওপরে। কী করব বল; রাজার হুকুম; তিনি তো আমার মাথার ওপরে। তাঁর ‘‘ইচ্ছে’’ আমার কাছে ‘‘আদেশ’’। আমি তা অমান্য করি, এমন সাধ্য আমার নেই। তাই নিশিকান্ত, তোমাকে কালই বর্ধমানে রওয়ানা দিতে হবে। আফতাব চাঁদ মেহতাব যে তোমাকে এতবড়ো একটা দায়িত্ব দিয়েছেন, তার জন্যে শুধু তুমি বা আমি কেন, তোমাদের গ্রামের আর আমার তালুকের সবার গর্বিত হওয়া উচিত। এটাকে তাই সুসংবাদ বলা যেতেই পারে। তোমার পরিবারের সবাইকে ডেকেছি এইজন্যেই। তোমার এই সম্মানের ব্যাপারটা তাদেরও জানা দরকার।’ একটু থামেন রণবিজয় বর্মণ। হিসেবের খাতাটা একপাশে সরিয়ে রেখে বলেন— ‘আর এটাকেই আমি দুঃসংবাদ বলছি এই কারণে যে, তোমার মতো একজন দক্ষ লাঠিয়ালকে আমায় হারাতে হবে আর তোমার গ্রামের মানুষ তোমার সঙ্গ হারাবে।’

জমিদারের মুখে এই কথা শুনে তারা স্তম্ভিত। এর উত্তরে কি বলবে ভেবে পায় না। তবু একটু পরে মুখ খুললে বৃদ্ধ রতন কত্তা। বললে— ‘এজ্ঞে হুজুর, পুরুষমানুষকে তার ভাগ্যি নিজেকেই গড়ে নিতে হয়। নিশিকান্ত আজ সেই সুযোগ পেয়েচে। ভাগ্যলক্কী তার সহায়। আমি চাই যে সে বদ্ধোমানে গে আপনার, আমাদের আর এই তালুকের সব্বার মুকুজ্জল করুক।’

জমিদার রণবিজয় পাশে রাখা একটা পত্রের নীচে দস্তখত করে সেটা নিশিকান্তর হাতে দিয়ে বললেন— ‘কাল সকাল সকাল রওয়ানা দিলে সন্ধের মধ্যেই পৌঁছে যাবে বর্ধমানে। আর তার পরের দিন দরবারে গিয়ে রাজামশায়ের হাতে তুলে দেবে এই পত্র।’

পত্রখানা নিয়ে জমিদারকে প্রণাম করে কাছারি ছাড়তে যায় নিশিকান্ত ও তার পরিবার।

—‘দাঁড়াও, একটু কথা আছে।’ জমিদার রণবিজয় বর্মণের গলা শুনে ঘুরে দাঁড়ায় সবাই। না জানি এরপরে আরও কি বলবেন জমিদারবাবু।

—‘আচ্ছা নিশিকান্ত, শোনো। আমি তোমায় একটা পুরস্কার দেব ভেবেছিলাম। এখন বল, তুমি কী চাও।’

অপ্রত্যাশিত এই অনুগ্রহে বিহ্বল হয়ে যায় সে। কি চাইবে তা ভেবে ঠিক করে উঠতে পারে না।

—‘কী হল? বল।’ জমিদারমশায় আবারও বলেন। সবাই সাগ্রহে চেয়ে আছে নিশিকান্তর মুখের দিকে— কী চাইবে সে। একটু অপেক্ষা।…হঠাৎই নিশিকান্তর মনে পড়ে যায় তার অনেকদিনের একটা ইচ্ছের কথা। বলি বলি করেও সে এতদিন জমিদারমশায়কে বলে উঠতে পারেনি সেটা। সে ঠিক করে ফেলে এটাই সুবর্ণ সুযোগ। এখনই কথাটা বলা যাক, যদি পূরণ হয়। তাই সে সাহসে ভর করে হাতজোড় করে বলেই ফেলে— ‘এজ্ঞে হুজুর, আপনি যদি চুন্নি নদী থেকে এই রাজসায়র পজ্জন্ত একটা খাল কাটার অনুমতি দ্যান, তাইলে শুকা মরসুমে গাঁয়ের জমি থেকে আরও একটা ফসল তোলা যায়।’

জমিদার রণবিজয় বর্মণ ভেবেছিলেন যে নিশিকান্ত আর সবার মতো নিজের জন্যে কিছু চাইবে। কিন্তু তা না করে…

এইসময় রতন কত্তা বলে ওঠে— ‘এজ্ঞে হুজুর, আপনি অনুমতি দিলে আমাদের গাঁয়ের সব্বাই মাগনায় জন খেটে দেব। আমি আপনাকে কতা দিলাম।’

রণবিজয় একটু ভাবলেন। তারপরে মৃদু হেসে বললেন— ‘বেশ, তাইই হবে। তোমরা একদিন সমরবাবুকে সঙ্গে নিয়ে সব দেখিয়ে বুঝিয়ে দেবে। আর নিশিকান্ত, তুমি যাবার আগে আমার আস্তাবল থেকে একটা ঘোড়া নিয়ে যেও। ওটাই হবে আমার তরফে তোমার পুরস্কার; অবশ্য আমার সাদা ঘোড়াটা বাদ দিয়ে কিন্তু।’

নিশিকান্তরা সবাই প্রণাম করে জমিদার রণবিজয় বর্মণকে। তিনি আশীর্বাদ করেন— ‘তোমাদের মঙ্গল হোক।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *