কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
বাতিঘর প্রকাশনী
Keu Keu Katha Rakhe
প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০১৫
প্রচ্ছদ : ডিলান
উৎসর্গ :
এসএম হায়দারকে …
সত্যিকারের একজন যোদ্ধা। একজন সংশপ্তক।
আমৃত্যু যুদ্ধ করে গেছেন।
এবং
প্রয়াত মিনহাজ আহমেদকে…
সে তার কথা রেখেছিলো!
.
ফ্ল্যাপের লেখা
অস্থির আর ঝঞ্ছাবিক্ষুদ্ধ সময়ে ঘটে যাওয়া একটি খুনের রহস্য উদঘাটনে মরিয়া ভিন্ন মত আর স্বভাবের দু-জন মানুষ। অভিনবভাবে এক সন্দেহভাজনের সন্ধান পেলো তারা, অনেক কষ্টে তাকে ধরাও হলো কিন্তু হত্যারহস্য আর মিমাংসা করা গেলো না। এ ঘটনা বদলে দিলো তদন্তকারি দু-জনসহ আরো কিছু মানুষের জীবন।
দুই যুগ পর স্মৃতিভারাক্রান্ত এক লেখক ব্যস্ত হয়ে পড়লো সেই হত্যারহস্য নিয়ে। চমকে যাবার মতো একটি ঘটনার মুখোমুখি হতে হলো তাকে। বিস্ময়কর সত্যটা জেনে যাবার পর নতুন এক সঙ্কটে নিপতিত হলো সে- সত্যটা প্রকাশ করার জন্য নির্ভর করতে হবে প্রকৃতির উপরে!
‘কেউ কথা রাখেনি’ একটি কাব্যিক অভিব্যক্তি। ঢালাও অভিযোগও বলা চলে। কিন্তু সত্যিটা হলো, কেউ কেউ কথা রাখে।
মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের নিরীক্ষাধর্মী একটি কাজ। তার আগের কাজগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন।
বইয়ের আলোয় আলোকিত হোন…
.
লেখকের কথা :
দীর্ঘদিন ধরে অনুবাদ করলেও বিগত পাঁচ-ছয় বছর ধরে মূলত মৌলিক গল্প- উপন্যাসই লিখে যাচ্ছি, যদিও পাঠক নিয়মিত তাগাদা দিয়ে থাকে অনুবাদের জন্য। তারা যে আমার অনুবাদের অভাব বোধ করে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাই গত বছর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ভিন্নধর্মি কিছু অনুবাদ করবো।
অনেক আগেই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান আর স্প্যানিশ থুলার অনুবাদ করেছি, অন্যকে দিয়ে করিয়েওছি। আমার নিজের কাছে গল্পের গভীরতা আর ভিন্নধর্মি কনটেক্সটের কারণে নন-ইংলিশ ক্রাইম-থূলারগুলো বেশি ভালো লাগে। ছাত্রজীবন থেকে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের খোঁজ-খবর রাখলেও ওখানকার ক্রাইম-থূলারগুলো খুব একটা পড়া ছিলো না। কয়েক বছর আগে কিছু লাতিন ক্রাইম-থূলার পড়তে শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক এদুয়ার্দো সাচেরির লা প্রেহুন্তা দে সুস ওহোস-এর (La pregunta de sus ojos) ইংরেজি অনুবাদটি পড়ে ফেলি।
এ বইটি আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করে। সিদ্ধান্ত নেই অনুবাদ করার জন্য, কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে! মৌলিক লিখতে লিখতে অনুবাদ করা ভুলে গেছি। মূল কাহিনী আর চরিত্রগুলো পাশ কাটিয়ে নিজের মতো করে চরিত্র আর কাহিনী লিখতে শুরু করে দিয়েছি! সম্ভবত এর কারণ, ঐ সময় আমার মাথায় সাচেরির গল্পটির মতোই একটি পিরিওডিক্যাল মার্ডার মিস্ট্রি ঘুরপাক খাচ্ছিলো। অন্যদিকে, মূল উপন্যাসের সময়কাল আর রাজনৈতিক আবহের সাথে আমাদের দেশের একটি সময়ের আশ্চর্য রকমের সাযুজ্যও খুঁজে পেয়েছিলাম।
যাই হোক, লেখাটা যখন শেষ করলাম তখন সেটা আর অনুবাদ রইলো না, আবার পুরোপুরি মৌলিক বললেও এদুয়ার্দো সাচেরির প্রতি অবিচার করা হবে।
পাঠককে বলবো, ‘কেউ কেউ কথা রাখে পুরোপুরি নিরীক্ষাধর্মি একটি কাজ। গল্পটি আমার যেমন ভালো লেগেছে তেমনি তদেরও যদি ভালো লাগে তবে সার্থক মনে করবো।
— মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
ঢাকা, ২৬/১২/২০১৫ ইং
.
মুখবন্ধ
প্রকাশকের কথা
এটি একটি অদ্ভুত বই। অদ্ভুত বলার কারণ বইটি অনেক আগে লেখা হলেও লেখক আমাকে অনুরোধের ছদ্মবেশে অনেকটা হুকুমই দিয়েছিলেন, আমি যেন নির্দিষ্ট একটি সময়ের পর এটি প্রকাশ করি, কোনোভাবেই তার আগে নয়। সাধারণত লেখকেরা চান তাদের লেখা দ্রুত প্রকাশ হোক-সেদিক থেকে দেখলে অনুরোধটি খুবই অদ্ভুত ছিলো। আবার প্রকাশ করার জন্য লেখক যে নির্দিষ্ট সময়ের কথা বলেছিলেন সেটাকেও ঠিক ‘নির্দিষ্ট’ বলা যায় না; সেই ক্ষণটি কখন আসবে তা কেউ জানতো না। এরজন্যে পুরোপুরি প্রকৃতির উপরেই নির্ভর করতে হয়েছে! ভাগ্যবিধাতার সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া সেই সময়ের আগমণও ঘটেনি!
লেখকেরা সাধারণত খামখেয়ালি স্বভাবের হয়ে থাকেন কিন্তু তারচেয়েও বেশি হয়ে থাকেন সুক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন আর সংবেদনশীল। সেই অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা না-রেখে আমার কোনো উপায় ছিলো না।
দীর্ঘদিন ধরে বইটির পাণ্ডুলিপি সযত্নে রাখা ছিলো। ভেবেছিলাম জীবদ্দশায় হয়তো এটি প্রকাশ করতে পারবো না। তাতে আমার কোনো আক্ষেপ ছিলো না-বইটির পাণ্ডুলিপি হাতে আসামাত্র পড়ে ফেলেছিলাম। মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম পাঠক যেন কোনোভাবেই এই গল্পটি পড়া থেকে বঞ্চিত না-হয়। সে-উদ্দেশ্যে লেখকের অনুমতি নিয়ে আমার অবর্তমানেও যেন বইটি প্রকাশে বিঘ্ন না ঘটে তার জন্যে একটি বিকল্প ব্যবস্থাও করে রেখেছিলাম। তবে ২০০৮ সালের মে মাসে ভাগ্যবিধাতার সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে বইটি প্রকাশ করার সুবর্ণ সুযোগ এসে পড়ে।
এই বইয়ের গল্পটি সত্যি। আর ঘটনাটি লেখকসহ কিছু মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিলো। তাদের জীবনটাই পাল্টে দিয়েছিলো চিরতরের জন্যে। তাই ঘটনার অনেক বছর পরও লেখক এটা লেখার তাড়না বোধ করেছেন। তিনি চেয়েছেন অসাধারণ গল্পটি বেঁচে থাকুক।
আগেই বলেছি, এটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা। এই কাহিনী অতীতের এমন একটি সময়ে যখন অনেক কিছুই ছিলো না, ছিলো শুধু স্বপ্ন ভঙ্গের হাহাকার। অস্থির এক সময়ের কাহিনী এটি। বর্তমানে বাস করে ঐ সময়ের যন্ত্রণা, সত্যিকারের মর্মযাতনা আর সামাজিক চিত্র অনুধাবন করা একটু কষ্টসাধ্য হতে পারে। হয়তো অনেকে অনেক বিষয় সঠিকভাবে বুঝতেও পারবেন না। রাজনৈতিকভাবে ভুল বোঝার অবকাশও রয়েছে। এ সমস্ত ঝুঁকি নিয়েও লেখক বইটি লিখেছেন। আশা করি পাঠক নির্মোহচিত্তে বিষয়টি উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন।
— সালসাবিল আমেদ
প্রকাশক, অবয়ব প্রকাশনী
ঢাকা






মিলাডা গঙ্গোপাধ্যায় রচিত “বারো মাসের বারো রাজা” – বইটা আপলোড করার অনুরোধ রইল