কেউ কেউ কথা রাখে – ১৩

অধ্যায় ১৩

মানুষ অভ্যাসের দাস

এভাবে আরো কিছুদিন চলে গেলো কিন্তু কেসটার কোনো অগ্রগতি হলো না। ঐ এক ইমতিয়াজেই সব থমকে রইলো। দিন যেতে লাগলো আর হায়দারভাইও হতাশ হতে শুরু করলেন। একটু ফুরসত পেলেই তিনি আমার সাথে এই কেসটা নিয়ে আলাপ করতেন। আমি তাকে বোঝাতাম, ইমতিয়াজ সম্ভবত ঢাকায় নেই, থাকলে এতোদিনে আমরা তাকে ধরতে পারতাম। এই সম্ভাবনাটি যে হায়দারভাইও খতিয়ে দেখেননি তা নয়, তিনিও ভালো করে জানতেন ঢাকা শহরে থাকলে খুনি ধরা পড়তোই। ধানমিণ্ডর ঐ বাড়ি থেকে পালানোর পর ইমতিয়াজ সম্ভবত ঢাকায় থাকার ঝুঁকি নেয়নি। আর ঢাকার বাইরে যদি সে গিয়ে থাকে তাহলে একটা জায়গায় যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তাই হায়দারভাই আবারো গেলেন ইমতিয়াজদের কাঠালবাগানের বাড়িতে। ওর মায়ের কাছ থেকে জেনে নিলেন ওদের দেশের বাড়ি কোথায়।

হায়দারভায়ের জন্য এটা বিরল ব্যাপারই বটে। উনি কখনও কারোর দেশের বাড়ি কোথায় জানতে চাইতেন না। আমার স্পষ্ট মনে আছে তার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের সেই ঘটনাটার কথা। টুকটাক কথা হবার পর আমি জানতে চেয়েছিলাম উনার দেশের বাড়ি কোথায়। আমার প্রশ্নটা শুনে কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে তিনি যা বলেছিলেন তা আমি জীবনেও ভুলিনি।

“বাংলাদেশ।”

প্রথমে আমি ভেবেছিলাম উনি আমার সাথে মজা করছেন। আমি হেসে আবারো জানতে চাইলাম উনার গ্রামের বাড়ি কোন্ জেলায়।

“এটা কেন জানতে চাইছেন?”

পরিচয়ের প্রথমদিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত উনি আমাকে ‘আপনি’ করে সম্বোধন করতেন।

“না, মানে এমনি,” কাচুমাচু খেয়ে বলেছিলাম ঐদিন এসএম হায়দার মাথা দুলিয়ে গম্ভীর মুখে বলেছিলেন, “শোনেন ছোটোভাই, আমাদের দেশটা অনেক ছোটো। এই ছোটো দেশটাকে আমরা আর ছোটো না করি, কি বলেন?”

আমি লজ্জায় কুকড়ে গিয়েছিলাম কথাটা শুনে। এ দেশে শিক্ষা-দীক্ষা পাওয়া লোকজনের মধ্যেও আঞ্চলিকতার নোংরা রোগটি বিরাজমান। আমিও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না।

“আমি যদি আপনার জেলার লোক না হই তাহলে কি আপনার সাথে আমার খাতির হবে না?” একটু থেমে আবার বলেছিলেন তিনি, “আর আপনার জেলার লোক হলে কি বেশি খাতির হয়ে যাবে?”

লজ্জায় দু-কান গরম হয়ে গেছিলো আমার।

“এইসব নোংরা আঞ্চলিকতা আমার ঘেন্না লাগে। আমার দেশ একটাই-বাংলাদেশ। এটাই আমার জন্মস্থান। এটাকে টুকরো টুকরো করে নিজের পরিচয় বানানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই।”

এই ঘটনার পর আমি আর এ জীবনে কাউকে তার দেশের বাড়ি কোথায় জানতে চাইনি।

যাই হোক, ইমতিয়াজের পৈতৃকবাড়ি কোথায় সেটা জানার পরও কোনো লাভ হলো না। ওখানকার থানায় তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলা হলেও সপ্তাহখানেক পর জানানো হলো অনেক বছর ধরে ইমতিয়াজ গ্রামের বাড়িতে যাওয়া-আসা করে না। যুদ্ধের পর নাকি মাত্র একবার গিয়েছিলো ওখানে।

মিলির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এভাবে থমকে থাকে কিছুদিন। হায়দারভাই অন্য অনেক কেস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও আমি বুঝতে পারতাম তার মাথা থেকে এই কেসটা একদিনের জন্যেও তিরোহিত হয়নি। মিলির মতো একটি মেয়ে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে ওভাবে খুন হবে এটা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। যে করেই হোক, খুনিকে ধরে উপযুক্ত শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন।

আমার দিক থেকেও এই কেসটি ছিলো বেশ হতাশাজনক। কারণ কেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আমিই বের করেছিলাম। মনে মনে আশা করেছিলাম খুব সহজেই আসামিকে ধরতে পারবো, কেসটার সাফল্যে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারবো। সেটা তো হলোই না, বরং মিলির স্বামি মিনহাজ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে থানায় চলে এলে যারপরনাই বিব্রত বোধ করতে শুরু করে দিয়েছিলাম।

তো, একদিন আমি থানায় বসে অলস সময় পার করছিলাম। হাতে তেমন কোনো কাজ না থাকায় অতুল সুরের একটি নন-ফিকশন পড়তে শুরু করি। থানায় হায়দারভাই উপস্থি থাকলে আমার বইপড়া নিয়ে কেউ টিটকারি মারার সাহস দেখাতো না। সবাই জানতো, তিনি আমাকে কেমন স্নেহ করতেন।

তো, বইটাতে খুব একটা মনোযোগ ছিলো না, শুধু সময় পার করার জন্যই পড়ছিলাম বলা চলে। এমন সময় হায়দারভাই আমার টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

“বুঝলে, তোমাকে এখানে বসে বই পড়তে দেখে হঠাৎ করে একটা জিনিস আমার মাথায় এলো।”

“কি?” বাধ্য হয়ে বইটা নামিয়ে রাখলাম আমি।

“ইমতিয়াজ সবকিছু বদলে ফেলেছে।”

আমি বুঝতে পারলাম না। “মানে?”

“এই যে, থাকার জায়গা, পরিচিত লোকজন, এমন কি শহরটাও।”

“ও।” এ আর এমন কি! মনে মনে বললাম। এটা তো নতুন কোনো কথা নয়। আমিও ঠিক তাই মনে করি।

এসএম হায়দার আমার টেবিলের উপর বাম ঊরু তুলে দিয়ে ডান পা-টা মাটিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। “কিন্তু মানুষ সবকিছু বদলাতে পারলেও অভ্যাস বদলাতে পারে না। মানুষ হলো অভ্যাসের দাস!”

আমি হায়দারভায়ের দিকে তাকালাম। যেন একটা ঘোরের মধ্যে ডুবে আছেন তিনি। নিজের মনেই কথা বলে যাচ্ছেন।

“অভ্যাস বদলানো খুব কঠিন, ব্রাদার।”

আমি মাথা নেড়ে সায় দিলেও হায়দারভাই সেটা দেখলেন না। তিনি গাল চুলকাতে চুলকাতে ফাঁকা দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে আছেন।

“এই যে ধরো আমি,” এবার আমার দিকে নজর দিলেন, “কতো চেষ্টাই না করলাম, বউয়ের কাছে প্রতি সপ্তাহে প্রতীজ্ঞাও করি, মদ আর ছাড়তে পারি না।”

মুচকি হাসি দিলাম। এভাবে অকপটে নিজের বদঅভ্যাসের কথা বলাতে মজাই পেলাম আমি। “আপনি কিন্তু সত্যি সত্যি চেষ্টা করলে অবশ্যই পারবেন।”

আমার দিকে স্থিরচোখে চেয়ে রইলেন তিনি। “সত্যি সত্যি চেষ্টা?”

এই সেরেছে! মনে মনে প্রমাদ গুণলাম। এখন আবার এটা নিয়ে শুরু হয়ে যাবে।

“বিশ্বাস করো, সত্যি সত্যি চেষ্টা করেও আমি পারি না। অভ্যাস বদলানো আসলেই কঠিন।” তার চোখমুখ বেশ গুরুগম্ভীর।

আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক, আজকে তর্ক করার মতো মেজাজে নেই এসএম হায়দার।

“এই যে তুমি আদারে পাদারে বই নিয়ে বসে পড়ো, এটা কি তুমি সহজে ছাড়তে পারবে?”

“আমি আদারে-পাদারে বই নিয়ে বসে পড়ি?” তার শব্দচয়নে একটু কষ্ট পেলাম।

“অবশ্যই। নইলে কেউ থানায় বসে বই পড়ে,” বলেই তিনি আসল প্রসঙ্গে চলে গেলেন, “যেটা বলছিলাম, অভ্যাস এতো সহজে ছাড়া যায় না।” “বুঝলাম এবং মানলান,” তাকে আশ্বস্ত করে বললাম আমি। “তো, আপনি কি বলতে চাচ্ছেন?”

“ইমতিয়াজও তার অভ্যাস বদলাতে পারেনি। আমি নিশ্চিত। ওর মতো ছেলের পক্ষে অভ্যাস বদলানো আরো কঠিন।”

আমি শেষ কথাটা বুঝতে পারলাম না। “ওর পক্ষে কঠিন হবে কেন?”

“আ-হা,” একটু বিরক্ত হলেন। “বুঝতে পারছো না কেন, একটা মেয়েকে একা পেয়ে যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি তার চরিত্র আর যাই হোক শক্ত বলা যাবে না।”

“হুম, তা ঠিক।”

“ওরকম একজনের পক্ষে অভ্যাস বদলানো খুব কঠিন।”

এবার বুঝলাম। মাথা নেড়ে সায়ও দিলাম। “ঠিক আছে, ইমতিয়াজ তার অভ্যাস বদলাতে পারেনি। তো? আমরা কি ওর কোনো অভ্যাসের কথা জানি?”

আমার দিকে স্থিরচোখে তাকিয়ে বললেন তিনি, “অবশ্যই জানি।”

“কি?”

“ফুটবল।”

“ফুটবল?” আমার মাথায় কিছুই ঢুকলো না।

“ইমতিয়াজ ফুটবল খেলা দেখে। নতুন টিম আবাহনীর কট্টর সাপোর্টার, মনে আছে?”

“হুম।” মাথা নেড়ে সায় দিলাম। এটা ঐ দখল করা বাড়িতে যাবার পর আমরা জেনেছিলাম।

“ও যেখানেই থাকুক, যেভাবেই থাকুক, খেলা দেখতে আসবেই। ঢাকার বাইরে থেকে হলেও আসবে।”

আচ্ছা! কথাটা শোনামাত্র আমারও মনে ধরলো। আমি দেখতে পেলাম হায়দারভায়ের মুখে হাসি

“আগামিকাল ঢাকা ওয়ান্ডারাসের সাথে আবাহনীর খেলা।” আমার দিকে চেয়ে রইলেন প্রতিক্রিয়া জানার জন্য।

“হুম। আবাহনী নতুন টিম হলেও বেশ ভালো করছে।”

“দু-দলের জন্যই খেলাটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

মাথা নেড়ে সায় দিতেই হলো।

“সুতরাং আমাদের আসামি আগামিকাল খেলা দেখতে ঢাকা স্টেডিয়ামে যাবে। আমি একদম নিশ্চিত।”

আমিও অনেকটা নিশ্চিত কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়, আর সেটা না করে পারলাম না। “আপনি কি তাকে স্টেডিয়ামে গিয়ে খোঁজার কথা ভাবছেন?”

“অবশ্যই।” বেশ জোর দিয়ে বললেন হায়দারভাই। “এরকম সুযোগ হাতছাড়া করার কোনো মানেই হয় না।”

আমি না হেসে পারলাম না। “ভাই, আপনি কি আজ সকালেও ওসব খেয়ে থানায় এসেছেন?”

ভুরু কুচকে তাকালেন তিনি।

“আমি তো জানি আপনি সব সময় সন্ধ্যার পরই ওসব জিনিস খান। “আরে, ফাইজলামি রাখো তো, ব্যাপারটা খুবই ইম্পর্টেন্ট।”

“ওকে,” আমিও সিরিয়াস হয়ে উঠলাম। “আপনি স্টেডিয়ামে গিয়ে ওকে কিভাবে খুঁজে বের করবেন? বড় দুটো দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলা, কম করে হলেও পনেরো-বিশ হাজার দর্শক থাকবে গ্যালারিতে।”

“তা থাকবে। তাতে কি?”

“বাহ্,” আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। “আপনি পনেরো-বিশ হাজার দর্শকের মধ্য থেকে ইমতিয়াজকে খুঁজে বের করবেন?” যাকে আপনি সামনাসামনি কখনও দেখেননি?”

“আজব কথা বললে তো! আমি একা খুঁজবো নাকি, তুমিও আমার সাথে থাকবে।”

“দারুণ আইডিয়া!” অবিশ্বাসে মাথা দোলালাম আমি। “তাহলে আমার ভাগে পড়বে সাড়ে সাত থেকে দশ হাজার দর্শক, তাই না?”

মুচকি হাসলেন হায়দারভাই। “ব্রাদার, তুমি মনে হয় কখনও ঢাকা স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখোনি।”

কথাটা সত্যি, আমি কখনও স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখিনি। আমি হলাম বইয়ের মানুষ। খেলাধূলার খবর পত্রিকার খেলার পাতা দেখেই সেরে নেই। মাঠে গিয়ে খেলা দেখার মতো ক্রীড়ামোদি আমি ছিলাম না কোনকালেই। “দেখিনি তো কি হয়েছে?”

“এজন্যেই তুমি জানো না, দু-দলের সাপোর্টাররা দুই গ্যালারিতে বসে। ভুল গ্যালারিতে বসলে ওই সাপোর্টারের খবর হয়ে যায়। একেবারে মগা না হলে কেউই ভুল গ্যালারিতে বসবে না। বুঝলে?” কথাটা বলেই মিটি মিটি হাসলেন হায়দারভাই।

ও, মনে মনে বললাম আমি। “তার মানে আমরা শুধু আবাহনীর গ্যালারিতে খোঁজ করবো?”

মাথা নেড়ে সায় দিলেন এসএম হায়দার।

“তাহলে আমার ভাগে পড়বে তিন থেকে পাঁচ হাজার?”

“অতো হবে না।”

“কেন?”

“আবাহনী নতুন টিম, তাদের সাপোর্টার আস্তে আস্তে বাড়ছে। কিন্তু ওয়ান্ডারাস পুরনো টিম। ওদের প্রচুর সাপোর্টার।”

“আচ্ছা, ধরে নিলাম আবাহনীর সাপোর্টার পাঁচ হাজার… তাহলে আমাদের এক একজনের ভাগে কতোজন দর্শক পড়লো?”

আবারো মাথা দোলালেন হায়দারভাই। “শোনো, গ্যালারিতে সাপোর্টারদের কিন্তু রকমফের আছে। কট্টর সাপোর্টাররা একদিকে, আলাদা জায়গায় বসে। বাকি জায়গায় বসে সাধারণ সাপোর্টাররা। ইমতিয়াজ হলো কট্টর সাপোর্টার, বুঝলে?”

মাথা নেড়ে সায় দিলাম।

“তাছাড়া, নব্বই মিনিটের খেলায় আমরা দু-জনে মিলে কয়েক হাজার দর্শকের মধ্য থেকে একজনকে বের করতে পারবো না?”

আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না হায়দারভায়ের কথাটা তাই চুপ মেরে রইলাম। এটা যে সাগর সেচার মতো কঠিন কিছু নয় তা জানতাম, তবে পুকুর সেচাও তো সহজ কাজ নয়!

“দর্শকরা সবাই একদম নিজের জায়গায় চুপ মেরে বসে খেলা দেখছে; তাদের সবার মনোযোগ মাঠের দিকে। আর তুমি-আমি চুপচাপ ওদের দেখে যাবো। আমাদের মনোযোগ থাকবে ওদের দিকে।”

বুঝতে পারলাম, একেবারে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার চেয়ে এটা অনেক ভালো। একটা চেষ্টা করে দেখা যেতেই পারে।

“আমাদের যে সব দর্শক দেখতে হবে তা নয়, ভাগ্য ভালো থাকলে খুব সহজেই ও চোখে পড়ে যেতে পারে।”

এটাও আমার কাছে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হলো। “ওর একটা ছবি আমাদের হাতে থাকলে ভালো হয়। কিছু দর্শককে দেখিয়ে জানতে চাইলাম…কি বলেন?”

একটু ভেবে নিলেন হায়দারভাই। “গুড। আইডিয়াটা আমার পছন্দ হয়েছে। ঝালমুড়ি আর সিগারেট বিক্রি করে যারা তারা নিয়মিত সাপোর্টারদের চিনতে পারে। কিছু দর্শককেও দেখানো যেতে পারে।”

কথাটা শুনে খুব ভালো লাগলো। আমার প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে।

“তাহলে আগামিকাল বিকেলে আমরা ওয়ান্ডারাস আর আবাহনীর খেলা দেখতে যাচ্ছি।”

“ওকে, বস্।” হেসে বললাম আমি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *