কেউ কেউ কথা রাখে – ৯

অধ্যায় ৯

সন্দেহ

“কি বলেন?!”

হায়দারভাই যখন কথাটা বললো তখন প্রচণ্ড বিস্ময় আর হতাশার সাথে আমি বলে উঠেছিলাম। নিশ্চয় কোনো ভুল আছে এর মধ্যে।

“ভাই, আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না। এটা সম্ভব না,” কথাটা আমি না-বলে থাকতে পারিনি।

ভেবেছিলাম হায়দারভাই রেগে যাবেন কিন্তু আমার কথা শুনে উনিও চুপসে গেলেন। দুই ভুরুর মাঝখানে তর্জনি দিয়ে ঘষতে লাগলেন চোখ বন্ধ করে। “এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যাবে না কিছু,” আস্তে করে বললেন তিনি। “কিন্তু ব্যাপারটা গুরুত্ব না দিয়েও পারছি না। এখন পর্যন্ত এই কেসে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্লু…তারচেয়েও বড় কথা, আই-উইটনেস পাওয়া গেছে।”

আমি চুপ মেরে রইলাম কয়েক মুহূর্ত। যে দুটো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জোগাড় করেছেন হায়দারভাই সেটা আমাকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলেছিলো সেদিন।

মিলিদের দোতলার ভাড়াটিয়া যতো লুকোছাপাই করুক না কেন, আমি ভালো করেই জানতাম হায়দারভায়ের হাত থেকে ওরা নিস্তার পাবে না। ভেবেছিলাম ঐ পরিবারটি অন্য সবার মতো খুনখারাবির ঘটনায় ভীষণ ভয় পেয়ে গেছে। তারা এসব ঘটনা থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখার চেষ্টা করবে সেটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া, এখনকার মতো তখনও পুলিশ জনগনের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি। বৃটিশ আমল থেকেই পুলিশবাহিনীকে ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়াল হিসেবেই দেখে আসছে সাধারণ মানুষ। নিরীহ জনগণকে হয়রানি করাই যেন তাদের কাজ।

কিন্তু হায়দারভাই যা জানতে পেরেছেন সেটা খুবই মারাত্মক। মিলিদের দোতলার ভাড়াটিয়া তাদের একমাত্র সন্তানকে নানা-নানির বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিলো ঘটনার পর পরই। ছেলেটার মা, স্কুল-শিক্ষিকা বলেছিলো সপ্তাহখানেক পর সে নানু বাড়ি থেকে ফিরে আসবে। কথাটা হায়দারভাই বিশ্বাস করেননি। তিনি সন্দেহ করেছিলেন, বাচ্চা ছেলেটা কিছু একটা দেখে ফেলেছে, সেজন্যেই ওর বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়ে ওকে আড়াল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা চাইছে না এইসব খুন-খারবির মতো ঘটনায় তাদের ছেলে জড়িয়ে পড়ুক। কিন্তু আগেই বলেছি, হায়দারভাই কেমন নাছোরবান্দা। তিনি সোজা ছেলেটার স্কুলে গিয়ে হাজির হোন। অল্পবয়সি ছেলেটাকে পটিয়ে- পাটিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিয়েছেন। চার আনা দামের একটা কুলফি-বরফ নাকি ছেলেটার মুখ খুলতে সাহায্য করেছিলো খুব সহজে। ঐ সময়কার বাচ্চাদের কাছে এই আইসক্রিমতুল্য দেশিয় খাবারটি ছিলো ভীষণ জনপ্ৰিয়।

যাই হোক, ছেলেটা বলেছে ঐদিন বিকেলে যখন বৃষ্টি নামতে শুরু করে তখন সে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে জমে থাকা পানিতে কাগজের নৌকা ভাসাতে গিয়ে মিলির হাজব্যান্ডকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলো

আমি হতভম্ব হয়ে পড়লাম। কথাটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছিলো। “কিন্তু ওরকম একটা বাচ্চা ছেলের সাক্ষি তো রিলায়েবল হতে পারে না…কোর্টও গ্রহণ করবে না, তাই না?”

আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন হায়দারভাই। “ছেলেটা আরো কি বলেছে জানো?” আমার জবাবের অপেক্ষা না করেই আবার বললেন, “3 যখন সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে এটা দেখছিলো তখন ওর মা এসে ওকে টেনে ঘরে নিয়ে যায়।”

“ওহ্!” চুপসে গেলাম আমি। “তার মানে, ছেলেটার মা-ও দেখেছে!” একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এলো আমার ভেতর থেকে। মিনহাজকে থ্রি- হত্যাকারি হিসেবে ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো।

“আমি ছেলেটার মায়ের সাথে কথা বলেছি আজ। মহিলা অবশ্য বলছে ওটা মিনহাজ ছিলো কি-না নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।”

“কেন?” নিজের চেয়ারে সোজা হয়ে বসলাম আমি।

“মাথার উপরে ছাতা থাকার দরুণ চেহারাটা সে দেখতে পায়নি। ছেলেটাও দেখতে পায়নি। তবে ভদ্রমহিলা বলেছে, ‘মিলির বাসায় মিনহাজ ছাড়া আর কে ঢুকবে অমন সময়।”

“তারপরও, ওটা যে মিনহাজ ছিলো সেটা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যায় না। আপনার সেই উটকো মেহমানও হতে পারে?” নিজের কাছেই কথাটা বড় বেশি আশাবাদি বলে মনে হলো।

“সেই সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু মিনহাজের ব্যাঙ্কে গিয়ে আরেকটা কথা জেনেছি আমি। সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।”

“কি জেনেছেন?” আমি উদগ্রিব হয়ে জানতে চাইলাম।

“মিলি যেদিন খুন হয় সেদিন মিনহাজ ক-টা বাজে ব্যাঙ্ক থেকে বের হয়েছিলো, জানো?”

আমার দম বন্ধ হয়ে গেলো। “ক-টায়?”

“চারটার একটু আগে।” বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এসএম হায়দার। “অন্যসব দিনের চেয়ে বেশ আগেভাগে বের হয়ে গেছিলো। তার এক কলিগ বলেছে, কী একটা দরকারের কথা বলে নাকি একটু আগেই বের হয়ে যায় সে।”

“ওর ব্যাঙ্ক থেকে বাসার দূরত্ব?”

“হেটে গেলে দশ মিনিট। রিক্সায় করে গেলে আরো কম সময় লাগবে। গম্ভীর হয়ে বললেন হায়দারভাই, “দুটো ইনফর্মেশন কিন্তু আমার কাছ খুব ভাইটাল মনে হচ্ছে।”

তার এ কথার সাথে আমি অবশ্য সায় দিতে বাধ্য হয়েছিলাম।

“এখন ইনফর্মেশন দুটো খতিয়ে দেখা দরকার।”

“কিন্তু এটা কিভাবে করবেন?”

“মিনহাজ ঐদিন ব্যাঙ্ক থেকে কেন তাড়াতাড়ি চলে গেছিলো আর সে ছাতা ব্যবহার করে কি-না সেটা জেনে নিতে হবে। আর এই কাজটা করবে তুমি।”

“আমি?!” কথাটা শুনে আঁতকেই উঠলাম।

“হুম। কারণ তোমার সাথে ও সহজে কথা বলে। আমাকে দেখলেই তো কেমনজানি করে। সহজই হতে পারে না।”

এটা আমিও বুঝি, কিন্তু অপ্রিয় কাজটা আমার ঘাড়ে এসে পড়ায় অস্বস্তি বোধ করলাম।

“মিনহাজের ছাতাটা কি রঙের সেটাও জেনে নিতে হবে।” হায়দারভাই বললেন।

“ওই মহিলা আর বাচ্চা ছেলেটা কি বলেছে, ছাতাটা কি রঙের ছিলো?” মাথা নেড়ে সায় দিলেন তিনি। “কালো।”

সমস্যা হলো, প্রায় নব্বইভাগ ছাতাই এ রঙের হয়ে থাকে। মিনহাজের যদি আদৌ কোনো ছাতা থেকে থাকে-একজন ব্যাঙ্ক অফিসার হিসেবে থাকাটাই স্বাভাবিক-তাহলে সেটার রঙ কালো হবার সম্ভাবনাই বেশি।

“ধরেন, খোঁজ নিয়ে দেখলাম মিনহাজের কাছে কালো রঙের ছাতা আছে, তাহলে কি প্রমাণ হয়ে যায় ঐদিন ভাড়াটিয়া মহিলা ওকেই দেখেছে?”

“প্রমাণ হবে আদালতে,” আস্তে করে বললেন হায়দারভাই, “আমাদের কাজ হলো সম্ভাব্য সব সাক্ষি-প্রমাণ জোগাড় করা,” একটু থেমে আবার বললেন, “আমাদের তদন্তে এই দুটো ইনফর্মেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।”

**

হায়দারভায়ের কথায় পরদিনই আমি আবারো মিনহাজের সাথে দেখা করতে গেলাম এক ধরণের অস্বস্তি নিয়ে। তার বাসার কাছে আসতেই পথে দেখা হয়ে গেলো আমাদের। জানতে পারলাম, অফিস থেকে ফেরার পথে পাশেই আজিমপুর কবরস্তানে গেছিলো মিলির কবরটা দেখতে।

মিনহাজের বাসায় গিয়ে ওর সাথে সাধারণ কিছু কথা বলার পরও সঙ্কোচের কারণে দরকারি প্রশ্নগুলো করতে পারছিলাম না। অবশেষে নিজের দুর্বল পুলিশ সত্তাকে জাগিয়ে তুললাম একটা ক্যাপস্টেন সিগারেটের বিনিময়ে। ভাগ্যভালো মিনহাজও সিগারেট খায়, তার ব্র্যান্ড অবশ্য ডানহিল। তো, দু-জনে সিগারেট ধরিয়ে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে অনেকটা কথারছলে জিজ্ঞেস করে বসলাম, “আপনি সব সময় কয়টার দিকে অফিস থেকে বাসায় ফেরেন?”

আমার দিকে স্থিরচোখে চেয়ে চেয়ে থেকে বললো সে, “ছ’টা-।…বড়জোর সাড়ে সাতটা,” একটু থেমে আবার বললো, “এটা কেন জানতে চাইছেন?”

তার কপালে হালকা ভাঁজ দেখতে পেলাম। “মনে হয় খুনি এটা জানতো। আমরা নিশ্চিত সে আপনাদের পরিচিত কেউই হবে,” বললাম তাকে।

আমার কথা শুনে মিনহাজের কপালের ভাঁজ মিহঁয়ে গেলো। মাথা নেড়ে সায় দিলো সে।

“কিন্তু ঘটনার দিন মনে হয় একটু আগেভাগে চলে এসেছিলেন, তাই না?” খুব সতর্কতার সাথে প্রশ্নটা করলাম, পাছে না আবার মনে করে বসে আমি তাকেই সন্দেহ করছি।

“হ্যা।”

“কেন?”

প্রশ্নটা শুনেই মিনহাজের চেহারায় এমন অভিব্যক্তি ফুটে উঠলো। বুঝতে পারলাম আমার সমস্ত সতর্কতা বিফলে গেছে। আবারো গুছিয়ে নিতে থাকলাম এরপর কি বলবো কিন্তু আমাকে রেহাই দিয়ে সে নিজে থেকেই বলতে লাগলো।

“ঐদিন অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি বের হয়েছিলাম নিউমার্কেটে যাবো বলে। টেইলর থেকে ওর একটা ড্রেস তুলে আনার কথা ছিলো, গিয়ে দেখি মার্কেট বন্ধ। ঐদিন যে মঙ্গলবার ছিলো সে-কথা মনেই ছিলো না।” একটু থেমে দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। “খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো বলে কিছু সময়ের জন্য মার্কেটে আটকা পড়ে গেছিলাম। বৃষ্টি কমতেই সোজা বাসায় চলে আসি।”

আমি আর কিছু জানতে চাইলাম না। বাসায় এসে স্ত্রির লাশটা যে আবিষ্কার করেছে সেটা আমরা জানি।

“বৃষ্টি না থাকলে আরেকটু আগেই চলে আসতাম,” দু-হাতে মুখ ঢেকে ফেললো চাপা কোনো আক্ষেপে। “হয়তো মিলিকে বাঁচাতে পারতাম। এবার বেশ শব্দ করে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো ভদ্রলোক।

শোকাতুর কাউকে সান্ত্বনা দেবার গুণাবলী নেই আমার। এ কাজটা আমি করতেও পারি না। জোর করে করতে গেলে ভালোর চেয়ে খারাপই হয় বেশি।

“আমার মনে হয়, আমি বাসায় ঢোকার কয়েক মিনিট আগে খুনি সটকে পড়েছিলো।”

এবার মুখ তুলে সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকালাম ভদ্রলোকের দিকে। আমাদের ঘরোয়া পরিবেশ থমথমে হয়ে গেলো। অনেকক্ষণ দু-জনের কেউ কোনো কথা বললাম না, চুপচাপ সিগারেট টেনে গেলাম। আমি পড়ে গেলাম মুশকিলে। ছাতার কথা জিজ্ঞেস করবো কিভাবে বুঝতে পারছিলাম না। খুবই অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গেছিলাম। কিন্তু পুলিশের চাকরি করি, এসেছি হত্যা- মামলার তদন্ত করতে, আমাকে তো সঙ্কোচের মধ্যে পড়ে গেলে হবে না। আমি কেন মিনহাজের কাছে এটা জিজ্ঞেস করতে এতো কুণ্ঠিত বোধ করছি? সত্যি বলতে, মিনহাজকে স্ত্রি-হত্যাকারী হিসেবে ভাবতেই পারিনি। কেন পারিনি তার হয়তো অনেক কারণ আছে। তবে একটা কারণ কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারিনি আমি। অনেক স্বামিই নিজের স্ত্রিকে খুন করে কিন্তু খুন করার আগে ধর্ষণ করেছে এমন কোন কথা আমার জানা ছিলো না। তাছাড়া, হায়দারভায়ের উটকো মেহমান’ তত্ত্বটাও আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়েছিলো। যদি তা-ই হয় তাহলে খুনি হিসেবে মিনহাজ কোনদিক থেকেই খাপ খায় না।

আমি যখন ভাবছি কিভাবে মিলির স্বামিকে ছাতার কথাটা বলবো তখনই ত্রাণকর্তা হয়ে হাজির হলো বৃষ্টি!

মিনহাজকে বললাম আমাকে এক্ষুণি থানায় ফিরে যেতে হবে কিন্তু যে বৃষ্টি নেমেছে, বাইরে বেরোলেই ভিজে একাকার হয়ে যাবো। এই গলিটার শেষ মাথায় মেইনরোডে না গেলে আবার রিক্সা পাওয়া যায় না। তার কাছে কি একটা ছাতা হবে? মেইনরোড পর্যন্ত এগিয়ে দিলেই হবে। ওখান থেকে রিক্সা নিয়ে চলে যেতে পারবো।

আমাকে হতাশ করে মিনহাজ জানালো তার কাছে ছাতা আছে। সেটা আনতে ভেতরের ঘরে চলে গেলো সে, আর আমি প্রচণ্ড টেনশন নিয়ে বসে রইলাম ছোট্ট ড্রইংরুমটায়। হায়দারভায়ের একটি কথা বার বার মাথায় উচ্চারিত হতে লাগলো : স্ত্রি খুন হলে প্রাইম-সাসপেক্ট হয় স্বামি!

ছাতা নিয়ে ঘরে ফিরে এলো মিনহাজ। সঙ্গে সঙ্গে আমার বুকের ভেতর থেকে একটা ভারি পাথর যেন সরে গেলো। মিনহাজের হাতের ছাতাটা কালো রঙের ছিলো না। লাল-সাদা-নীলের মিশ্রণে মেয়েলি ধরণের একটি ছাতা।

“এটা মিলির ছাতা। আমি তো ছাতা ব্যবহার করি না, কেমনজানি লাগে।”

মুচকি হেসে উঠে দাঁড়িয়েছিলাম আমি। নিজেকে খুব নির্ভার মনে হচ্ছিলো তখন। অপ্রীতিকর সন্দেহের ভার অনেক বেশি ওজনের হয়ে থাকে! সেটা থেকে মুক্তি পাওয়াটা স্বস্তিরই বটে। তবে সেই স্বস্তিটা শুধুমাত্র আমার নিজস্ব ছিলো।

তারপরও হায়দারভাই মিনহাজকে পুরোপুরি সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিলেন না। আমার কাছ থেকে সব শুনে অনেকক্ষণ চুপ মেরে রইলেন। তারপর ক্ষুরধার যুক্তি দিয়ে বিচার করলেন বিষয়টা।

“নিউ মার্কেটে যাবার কথাটা বিশ্বাস করা যায় না, এটা হতে পারে মিনহাজের…কী যেন, বলে?” আমার দিকে সপ্রশ্ন চেয়ে রইলেন সাহায্যের আশায়।

আমি বুঝতে পারলাম না প্রথমে। “কিসের কথা বলছেন?”

“ঐ যে, আসামি যখন ইয়ে তৈরি করে…উফ্!” বিরক্ত হয়ে বললেন তিনি। “তুমি যে-সব গোয়েন্দা কাহিনী পড়ো সেখানে এটাকে কী যেন বলে?”

সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম উনি কি বলতে চাচ্ছেন। “অ্যালিবাই?”

“হ্যা-হ্যা, অ্যালিবাই। মিনহাজ এটাকে অ্যালিবাই হিসেবে দাঁড় করাতে পারে।”

“আর ছাতার ব্যাপারটা? মিনহাজ কিন্তু ছাতা ব্যবহার করে না।” ঠোঁট ওল্টালেন এসএম হায়দার। “এটা তার টেস্টমেন্ট। কথাটা সত্যি কি-না খতিয়ে দেখতে হবে।”

একটু হতাশই হলাম আমি।

“মিনহাজ ছাতা ব্যবহার করতো কি-না ওর কলিগরা বলতে পারবে। পাড়ার লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেও জানা যাবে। ওর বাড়ির সামনে যে মুদি দোকানিটা আছে সে-ও বলতে পারবে।”

আমি চুপ মেরে রইলাম। হায়দারভায়ের কথায় যুক্তি আছে কিন্তু আমার মন সে-যুক্তি মানতে চাইছে না।

“মিনহাজ যদি খুনি হয়ে থাকে আর সে যদি বুঝে যায় দোতলার ভাড়াটিয়া ওকে ছাতাসহ দেখে ফেলেছে তাহলে ছাতাটা নিশ্চয় ভ্যানিশ করে দিয়েছে এতদিনে।”

“কিন্তু ভাই, মিনহাজ কেন তিনমাসের নতুন বউকে খুন করতে যাবে?” আমি আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলাম না। “নিজের বউকে খুন করার আগে ধর্ষণ করতে যাবে কোন্ দুঃখে? তার মোটিভটা কি?”

কাঁধ তুললেন হায়দারভাই। “মিনহাজ যদি খুনি হয়ে থাকে তাহলে একটা না একটা মোটিভ তো থাকবেই। হয়তো ঘরে ফিরে মিলিকে ইমতিয়াজের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে রাগের মাথায় খুন করে ফেলেছে?”

“কী যে বলেন না!” আমি কোনমতেই একমত হতে পারলাম না।

“আহা, সম্ভাবনার কথা বললাম। তুমি দেখি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছো না মিনহাজ খুনি হতে পারে!” বিরক্ত হলেন তিনি। “শোন, তদন্ত করার সময় একটা কথা মনে রাখবে-কেউই সন্দেহের বাইরে নয়।”

হায়দারভায়ের কথায় মাথা নেড়ে সায় দিলেও আমি কোনভাবেই মিনহাজকে সন্দেহের তালিকায় ঠাই দিতে পারিনি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *