পাঁচ
দেখতে দেখতে যাত্রার দিন এসে গেল।
চন্দনা গ্রাম উত্তেজনায় থরথর।
বাইরের শিল্পীদের নিয়ে আসতে দুপক্ষেরই লোক বেরিয়ে পড়ল ভোরবেলা।
ভুতো আনতে গেল কীর্ণাহার থেকে বিবেক গুরুদাস হাজরাকে। এই দায়িত্বটা সে যেচেই নিয়েছে। বায়না করার সময় সে গোলকপতির জ্যাঠতুতো ভাই যদুপতির সঙ্গে গিয়েছিল গুরুদাসের কাছে। তাই গুরুদাস ভুতোকে চিনতে পারলেন।
বেরুবার মুখে গুরুদাস জিজ্ঞেস করলেন ভুতোকে, —আচ্ছা তোমাদের গ্রামে কি আর একটা পালা হচ্ছে আজ?
—হ্যাঁ। চন্দনা স্পোর্টিং ক্লাবও করছে।
—দু’দলে কি তেমন? মানে রেষারেষি আছে?
তা আছে।—স্বীকার করে ভুতো।
—কোনো গোলমালের সম্ভাবনা আছে নাকি?
হুঁ।—ভুতোকে কিঞ্চিৎ চিন্তিত দেখায় : ওরা হয়তো কিছু হ্যাঙ্গামা বাধাতে পারে। তা আপনি ভাববেন না। ঠেকাবার ব্যবস্থা আমরা করব। ওরা গুন্ডামি করলে আমরাও ছেড়ে দেব না।
সুধাকণ্ঠ বললেন,—তোমাদের কথা দেবার পর একটি ছেলে এসেছিল তোমাদের গাঁয়ের ওই অন্য ক্লাবের। আমায় বায়না করতে। তোমাদের দিনেই তাদের পালা। কী রকম জানি রকমসকম। খুব জোরাজুরি করছিল। আমি গাইতে রাজি না হতে বেশ চটে গেল।
—হ্যাঁ। আমরা ভালো ভালো শিল্পী আনছি, এটাই ওদের বেশি রাগ। বিশেষত আপনার নাম রটেছে খুব। ভয় নেই কিছু। তবে একটু সাবধান হতে হবে।
সুধাকণ্ঠ গুরুদাস মনে মনে ভড়কে গেলেন। এখন আর না যাওয়ারও উপায় নেই। কিন্তু হ্যাঙ্গামার ভয় থাকলে কি প্রাণ খুলে গাওয়া যায়? এসব তাঁর পোষায় না।
বেচুদাকে চন্দনা স্পোর্টিংয়ের অনেকে পরামর্শ দিয়েছিল যে তোমাদের সময়টা পাল্টাও। হয় আগে শুরু কর অথবা একই সময়ে শুরু হোক। নইলে নিউ চন্দনা বেশিরভাগ দর্শক টেনে নেবে। বেচুদা কিন্তু গোঁ ধরে রইল। না। আমরা আগে স্থির করেছি সময়। ওদের ভয়ে পিছোব না। তাতে যা হয় হবে।
শিব জানে যে এই জেদটা বেচুদার মাথায় ঢুকিয়েছে দেবু। কিন্তু দেবু কেন এমন বোকামি করল? আশ্চর্য!
সন্ধে হতে না হতেই যাত্রার আসরে লোক জমতে শুরু করল। শুধু চন্দনা নয়, আশেপাশের গ্রাম থেকেও লোক আসছে। দর্শকের স্রোতটা নিউ চন্দনার দিকেই বেশি। অনেকে আবার ঠিক করেছে যে নিউ চন্দনার পালা খানিকক্ষণ দেখে না হয় যাওয়া যাবে চন্দনা স্পোর্টিংয়ের আসরে।
পুবপাড়ায় তাদের পুরনো জায়গায় বসছে চন্দনা স্পোর্টিংয়ের আসর। আর দক্ষিণ পাড়ায় নিউ চন্দনার।
নিউ চন্দনার পালা শুরু হবে রাত আটটায়।
আর আধঘণ্টাটাক বাকি। প্রথম দিককার সিনে যারা আছে তাদের সবারই সাজপোশাক মেকআপ রেডি। পরের দিকে যারা নামবে, তারা মুখে গায়ে রং মেখে, মানানসই চুল দাড়ি গোঁফ ইত্যাদি লাগিয়ে ফেলেছে। তবে পুরোদস্তুর ড্রেস তখনো চড়ায়নি। গেঞ্জি লুঙ্গি পাজামা ইত্যাদি পরে ঘোরাঘুরি করছে পরের দিকের সিনের শিল্পীরা।
ভুতোর কর্মদক্ষতায় গোলকপতি মুগ্ধ। ভুতো যেন একাই একশো। বিকেল থেকে সে চরকির মতো পাক খাচ্ছে। তার প্রথম আবির্ভাব পালার মাঝামাঝি সময়ে, তাই পুরো মেক আপ নেয়নি মুখে, রং মেখেছে শুধু। চুল গোঁফ লাগায়নি। সব দিকে তার নজর। মাইক সেটিংয়ে হাত লাগাচ্ছে। লাইট ঠিকঠাক করছে। মেকআপম্যানকে সাহায্য করছে। কারও কোমরবন্ধ এঁটে দিচ্ছে। কারোর জামার বোতাম আটকাচ্ছে। তার বিশেষ নজর বাইরের নামী শিল্পীদের যত্নের প্রতি। তাদের বারেবারে অনুরোধ করছে
—চা খাবেন স্যার?
—এই যে সিগারেট।
—দিদি পান চাই?
ঢাল তরোয়াল গদা বর্শা তির ধনুক মুকুট দণ্ড ইত্যাদি অভিনয়ের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি ভুতো যত্ন করে গুছিয়ে রেখেছে পুরুষদের গ্রিনরুমে অর্থাৎ সাজঘরে। যখন যার যেটা দরকার পেয়ে যাবে এলেই। নইলে সব সময় হাতে বড় বড় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা অভিনেতার পক্ষে মুশকিল। ঠোক্কর খাবে। ভুলে কোথায় যে রাখবে? সিনে আবির্ভাবের সময় হয়তো খুঁজেই পাবে না।
মহাভারত অবলম্বনে পালা। জনে জনে রকমারি সাজ-পোশাক হাতিয়ার। ভুতো সবাইকে ডেকে ডেকে দেখিয়ে দেয়, এই যে এখানে রইল সব। নিজের নিজেরটা চিনতে পারবেন তো?
গোলকপতি সমানে খবর আনাচ্ছেন যে পুবপাড়ায় চন্দনা স্পোর্টিংয়ের অবস্থাটা কী! খবর এল যে ওই আসরে মোটেই ভিড় হয়নি। নেহাতই টিমটিম করছে। শুনে গোলক সাহা আহ্লাদে আটখানা।
নিউ চন্দনার আসর কানায় কানায় ভরে গেছে। ছড়িয়ে পড়ছে দর্শকের ভিড়। বাচ্চারা গাদাগাদি করে বসেছে একেবারে সামনে। অনেকগুলো তক্তপোশ পেতে বানানো হয়েছে উঁচু মঞ্চ। মঞ্চ ঘিরে খুঁটি পুঁতে গণ্ডি। স্টেজের মাথার ওপর চাঁদোয়া। তিনপাশে খোলা মঞ্চ একধারে সাজঘর। ওইদিক থেকে স্টেজে উঠে আসবে অভিনেতা অভিনেত্রীরা।
দড়ির গণ্ডির কাছাকাছি বসেছে রতিয়া, একপাল দশ থেকে বছর ষোলোর ছেলে নিয়ে। দেখেই বোঝা যায় যে ওই দলের সবকটি মহা বিচ্ছু। তারা সমানে নিজেদের ভিতর ঠেলাঠেলি মারামারি করছে থেকে থেকেই। লিডার রতিয়া মাঝে মাঝে এক একটা ছেলের মাথায় চাঁটি বা গাঁট্টা কষিয়ে তাদের ঠান্ডা রাখছে।
ঢং!
নিউ চন্দনার আসরে ফার্স্ট বেল পড়ল। ঠিক আটটায়।
আসরে ঢুকল কনসার্ট পার্টি। যন্ত্রগুলি আগে থেকেই রাখা ছিল মঞ্চে। যন্ত্রীরা বসে পড়ে যে যার বাজনা নিয়ে।
ঠুং ঠাং। প্যাঁ পোঁ। ঠং ঠং। ঠুক্ ঠুাক্—হারমোনিয়াম বাঁশি ফুলুট ক্ল্যারিওনেট তবলা পাখোয়াজ এস্রাজ ইত্যাদি হরেক বাদ্যযন্ত্রে সুর বাঁধা চলে।
পাঁচ মিনিট পর আবার—ঢং!
সেকেন্ড বেল পড়ে। অমনি ওস্তাদ তানসেন আলির ফুলুট অপূর্ব তান ধরে উচ্চরবে। দর্শক কথা ভুলে সচকিত হয়।
অমনি রতিয়ার দলের ভিতর গুজগুজ চলে। তারপরই চেঁচায় রতিয়া, —লজেন্স! লজেন্স।
তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে চিৎকার জুড়ে দেয় ওখানকার ছোটদের গোটা দল, —লজেন্স। লজেন্স! লজেন্স কই?
চমকে থমকে গেল সুর। তারপরই শুরু হয় হট্টগোল। লজেন্সের কথা মনে পড়ে যেতে আসরের অধিকাংশ বাকি ছোটরা রতিয়াদের সঙ্গে চিৎকার জুড়ে দেয়, —লজেন্স লজেন্স।
এই চোপ। আস্তে।—বড়রা ধমকায়।
চিৎকার কমে না!
দেখা গেল, কিছু বয়স্ক তরুণ যুবাও গলা মিলিয়ে হাঁক পাড়ছে লজেন্সের দাবিতে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই রগড় করতে চেঁচায়।
লজেন্স প্রার্থী —এই দলে কিছু চন্দনা স্পোর্টিংয়ের সাপোর্টারকেও দেখা গেল। ঝঞ্ঝাট পাকানোর এমন মওকা কি তারা ছাড়ে!
মঞ্চে হাতজোড় করে এসে দাঁড়ায় গোলকপতি। মুকুটহীন যুধিষ্ঠিরের বেশে। ঘামতে ঘামতে কাতর কণ্ঠে আবেদন জানান,
—ছোট ভাইবোনেরা। লজেন্স নিশ্চয় পাবে। তবে—
তার বাকি কথাগুলি ডুবে যায় বহুকণ্ঠের অট্টরোলে, —ঢোলক ঢোলক। লজেন্স লজেন্স। রতিয়ার কাছ থেকে শুরু হয়ে স্লোগানগুলি ছড়িয়ে পড়ে।
নটসূর্য নবকুমার মেকআপ নিয়ে, ড্রেস পরে, সাজঘরের পিছনে একটা কাঠের চেয়ারে বসে চা খেতে খেতে সিগারেট টানছিলেন। তার কাছেই মাটিতে বসেছিল বছর চোদ্দোর একটি রোগা ময়লা ছেলে। হাফপ্যান্ট ও শার্ট পরা। ওর নাম পটল। নটসূর্যের পার্সোনাল অ্যাটেনডেন্ট। অর্থাৎ ব্যক্তিগত কাজের লোক। নবকুমার যেখানে যান পটল সঙ্গে যায় তাঁর সেবা করতে। নবঠাকুরের (এই নামেই তাকে ডাকে পটল) কাছে সর্বদা হাজির থাকে। হুকুম তামিল করে। সিনে ঢোকার আগে সে জুগিয়ে দেয় প্রয়োজনীয় জিনিস—হাতিয়ার। দেখে নেয়, ড্রেস ঠিক আছে কিনা। এমনকী কোন্ বইয়ে, কোন্ সিনে কী ডায়ালগ দিয়ে শুরু করবেন নটসূর্য তাও পটলের মুখস্থ। মঞ্চে প্রবেশের মুহূর্তে সে তা ধরিয়ে দেয় প্রখ্যাত অভিনেতাকে। আবার সিনশেষে সজোর করতালির মধ্যে নটসূর্য সবেগে মঞ্চ ছেড়ে এসে গ্রিনরুমে প্রবেশ করা মাত্র তাঁর হাত থেকে নিয়ে নেয় পটল অস্ত্র ইত্যাদি ভারগুলি, তখন নটসূর্য চেয়ারে বসে গা এলিয়ে নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নেন।
নটসূর্য নবকুমারকে আনতে হলে পটলের খরচ বাবদ যাওয়া-আসার ভাড়া, খাওয়া, থাকার ব্যবস্থা ছাড়াও দৈনিক নগদ পাঁচ টাকা দিতে হয় উদ্যোক্তাদের। এটা চুক্তির অঙ্গ। পটলের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা সে ভবিষ্যতে যাত্রা করবে। নামকরা অ্যাক্টর হবে। নবঠাকুরের হাঁটাচলা বলার কায়দাগুলো সে তাই প্রাণপ্রণে রপ্ত করছে।
আসরে হট্টগোলের আওয়াজ শুনে পটল ও নবকুমার ঘাড় ঘুরিয়ে শোনে। যাই দেখে আসি।—বলে পটল উধাও হয়।
নবকুমার খুব একটা বিচলিত হন না। নানান জায়গায় যাত্রা করে করে এমন মাঝে মাঝে হট্টগোল তার গা সওয়া হয়ে গেছে। তবে কারণটা জানা দরকার। কারণ বেগতিক দেখলে গা ঢাকা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আবার সব শান্ত হলে ফিরে এসো।
এই যে আপনি এখানে—কোত্থেকে আবির্ভূত হয়ে বলল ভুতো।
হ্যাঁ ভাই। হইচই কীসের—জানতে চান নবকুমার।
—লজেন্স হাসি মুখে জানায় ভুতো।
—মানে?
—মানে লজেন্স চাইছে বাচ্চারা।
—কেন?
—নিউ চন্দনা যে প্রমিস করেছিল বাচ্চাদের লজেন্স দেওয়া হবে আসরে। বিনি পয়সায়। তাই চাইছে এখন।
এ আবার কোনদিশি ব্যাপার!—গজগজ করেন নটসূর্য।
ততক্ষণে আসরে এসে হাতজোড় করে বলছেন অনঙ্গ ঘোষ। গোলকপতি পালিয়েছেন নেমে।
—অবশ্যই লজেন্স দেওয়া হবে ছোটদের। সে ব্যবস্থা আমরা করেই রেখেছি। তবে ঠিক ছিল যে লজেন্স বিলানো হবে ইন্টারভেলে। থার্ড সিনের পর পনেরো মিনিট বিরতির সময়।
না না। এখনই চাই। লজেন্স। লবেঞ্চুস।—বহু কণ্ঠে দাবি ওঠে।
অগত্যা রাজি হন অনঙ্গবাবু, বেশ তাই দেওয়া হবে। তোমরা বসো চুপ করে।
এরপর ঝাড়া আধঘণ্টা লাগল লজেন্স বিলোনোর হ্যাপা সামলাতে। ভুতোসহ চার পাঁচজন ভলান্টিয়ার কয়েকটা লজেন্স ভরা শিশি নিয়ে নেমে পড়ল আসরে, এই বাচ্চারা হাত বাড়াও। উঠো না। বসে বসে। প্রত্যেকে একটা করে।
ছোটরা কলরব করে,—এদিকে এদিকে।
—ও দুটো নিয়েছে। হাত বাড়িয়েছিল। তবেরে নালশুটে?
—লেগে যায় ঝুটোপাটি লড়াই।
কেবল ছোটরা কেন, অনেক বড়রাও হাত বাড়ায় লজেন্সের আশায়। লজেন্সের শিশিগুলো খালি হতে ভলান্টিয়াররা রেহাই পায়।
শ্রীমান পটল লজেন্স চুষতে চুষতে ফিরল হাসি মুখে।
এই ঘটনায় শুধু নবকুমার বা গুরুদাস নয়, প্রায় সব শিল্পীরই মুড নষ্ট হয়ে গেল। গোমড়া মুখে বসে থাকে তারা।
বিব্রত নিউ চন্দনার কর্মকর্তারা শিল্পীদের কাছে মাপ চায়। বিশেষত ভুতো। সে জনে জনে বাইরের শিল্পীদের কাছে গিয়ে বলে, ইস্ কী সব হ্যাংলার দল। আগে দিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকে যেত। ভাবতেই পারিনি, এমন কাণ্ড হবে।
আবার নতুন করে সুর বাঁধা হয় বাজনায়।
কনসার্ট বেজে ওঠে। জমে ওঠে আসর। দর্শকরা উদ্গ্রীব। খানিকক্ষণ কনসার্ট বেজে থামলেই থার্ড বেল পড়বে। শুরু হবে অভিনয়।
কিন্তু তার আগেই শোনা গেল চিৎকার। বহু কণ্ঠে! আগুন আগুন।
সচকিত দর্শকরা ঘাড় ফিরিয়ে দেখে যে খানিক দূরে লাল হয়ে উঠেছে গাঢ় কালো আকাশ। ধোঁয়া উঠছে প্রবল বেগে। ব্যস! হুলুস্থুল লেগে যায়।
প্রথমেই রতিয়ার দল চিৎকার ছাড়ল,—আগুন। দক্ষিণপাড়ায় আগুন লেগেছে। চল্চল। রতিয়ার নেতৃত্বে বায়েন পাড়ার নানান বয়সি মানুষ হুড়মুড় করে বেরুতে লাগল। অন্য দর্শকদের মাথা ডিঙিয়ে, লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে, হাত পা মাড়িয়ে।
অন্য আরেক কোণ থেকে আর্ত চিৎকার উঠল—আগুন আগুন। চল্ চল্। সে দলটাও ছুটল। ওরা চন্দনা স্পোর্টিংয়ের সাপোর্টার।
ব্যস! এই দুটো দলের পিছু পিছু বাকি পুরুষরাও দৌড়ল আগুন লক্ষ্য করে। ছোট ছেলেগুলোয় ছুটল হুজুগ দেখতে। মিনিট দশেকের মধ্যেই নিউ চন্দনার আসর প্রায় খালি হয়ে গেল। পড়ে থাকে শুধু মেয়েরা আর শিশুরা। তারা কান্না জুড়ে দিল। আর্তস্বরে ডাকাডাকি করে আত্মীয়স্বজনদের। অনেক বউ শিশু কোলে করে দৌড়ল নিজেদের বাড়ি অথবা কাছাকাছি পরিচিত কারও বাড়ি আশ্রয় নিতে। দক্ষিণ পাড়ার একধার থেকে তখন ভেসে আসছে তুমুল হট্টগোল। ওদিকে আকাশ ধোঁয়াটে রাঙা। পোড়া গন্ধ আর ছাই ভাসছে বাতাসে।
মঞ্চ ফাঁকা। বাজনদার সরে পড়েছে যে যার যন্ত্র নিয়ে।
