উপন্যাস
গল্প
ছোটো গল্প

ফ্যাসাদ – ৫

পাঁচ

দেবুরা ভেবেছিল নানুর ছাড়িয়ে অনেক এগিয়ে যাবে। কিন্তু তা সম্ভব হল না। গৌড়হরির বাড়িতে গুরুভোজন এবং বেরুতে বেরুতে দেরি হল। পথে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ায় দাঁড়াতে হল রাস্তার ধারে এক বাড়ির দাওয়ায়। আবার আকাশে মেঘ ঘনাচ্ছে দেখে তারা সামনের গ্রামে ঢুকল রাতের আশ্রয়ের সন্ধানে।

গ্রামের ভিতরের এক জায়গায় আড্ডা হচ্ছে। বছর পঞ্চাশ বয়সি ফতুয়া ও ধুতি পরা ছোটখাটো ফর্সা এক ভদ্রলোক হাতমুখ এবং ছাতা নেড়ে কিছু বলছেন উচ্চৈঃস্বরে। দেবু শিব গুটিগুটি কাছে হাজির হতে গোটা জমায়েত জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল তাদের পানে।

দেবুরা নমস্কার করে নিজের পরিচয় আর আগমনের উদ্দেশ্য বলল। বক্তৃতাবাজ ভদ্রলোক গ্রামের এক যুবককে প্রশ্ন করলেন, –আসরফ এরা কোত্থেকে আসছে?

ভদ্রলোক তার কথা ঠিক বুঝতে পারেননি ভেবে দেবু ফের জানাল—আজ্ঞে আমরা আসছি লাভপুরের কাছে চন্দনা গ্রাম থেকে

অ্যাঁ, ভাগলপুর! এখানে কেন—ভদ্রলোক কিঞ্চিৎ বিস্মিত।

দেবু শুনে হকচকিয়ে গিয়ে কী বলবে ভাবতে ভাবতে আসরফ বেশ জোরে চেঁচিয়ে বলল,—ভাগলপুর নয় ঘোষদা, লাভপুর। লাভপুরের কাছে চন্দনাগ্রাম। এরা পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণে বেরিয়েছে। আজ রাতে এখানে আশ্রয় চায়।

ঘাড় কাত করে আসরফের কথা শুনে ঘোষদা বললেন,—অ্যাঁ পায়ে হেঁটে! কদ্দুর যাবে?

দেবু বুঝে গিছল যে ঘোষদা কানে খাটো তাইসে গলা চড়িয়ে জানাল,—আজ্ঞে দিল্লি।

দিল্লি! বাঃ বাঃ। দারুণ এমনি ছেলেই তো চাই দেশে। এই বয়সে কী সাহস! কী উৎসাহ!—উৎসাহিত ঘোষদা দেবুদের সাথে হ্যান্ডসেক করে, পিঠ চাপড়ে জানতে চাইলেন : কী কর? মানে স্টুডেন্ট?

সপ্তমস্বরে দেবু জবাব দিল,—আজ্ঞে হ্যাঁ। উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছি এই বছর।

বেশ বেশ।—ঘোষদা বললেন : এখানে আশ্রয় মিলবে বৈকি। আলবাত মিলবে। এ আমাদের কর্তব্য। আমাদের সবুজ সংঘের পক্ষ থেকে তোমাদের যতটা সম্ভব সাহায্য করা হবে। এই মুখুজ্যেমশাই হচ্ছেন সবুজ সংঘের ট্রেজারার। আর এই আসরফ হচ্ছে মধ্যমণি। সবচেয়ে উৎসাহী মেম্বার। আমিও আছি-

আসরফ যোগ করে দিল—উনি শ্রীমদন ঘোষ আমাদের ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ঘোষদা বললেন—আসরফ ব্যবস্থা করে ফেল। দেখ যেন কোনো ত্রুটি না হয়। হয়তো এরা একদিন বিখ্যাত হবে। ভ্রমণকাহিনি লিখবে। তখন আমাদের হলুদভাঙা আর সবুজ সংঘ সম্পর্কে যেন দুটো ভালো েকথা থাকে।

ঘোষদার লেকচার থামতে চায় না। আসরফ দেবুদের মৃদু ঠেলা দিয়ে বলল—চলুন আমার সঙ্গে। রেস্ট নেবেন আমাদের ক্লাব ঘরে।

সবুজ সংঘের ক্লাব ঘরটি পাকা। উঁচু বারান্দায় দেবু শিব বসল। দেখতে দেখতে সামনে বাচ্চাদের ভিড় জমে গেল। অনেক যুবক ও বয়স্কলোক এসে আলাপ করে গেল দেবুদের সঙ্গে। চা-বিস্কুট এল। এমন খাতির যত্নে দুই পর্যটকের মন হয়ে উঠল প্রফুল্ল, একটু গর্বও হল। সব জায়গায় যদি এমন ব্যবহার পাওয়া যায় ভ্রমণটা মন্দ হবে না। ওদের বসিয়ে রেখে আসরফ উধাও হয়েছিল। সন্ধ্যা নামল। ছোটদের ভিড় সরলেও বড়দের আসার কমতি নেই। বকে বকে মুখ ব্যথা হয়ে গেল দেবুদের। শেষে বাধ্য হয়ে তারা ঘুমের ভান করে শুয়ে চোখ বোজে।

আসরফ ফিরল ঘণ্টাখানেক বাদে। দেবু শিবকে বলল,—তোমাদের রাতের খাওয়ার ব্যবস্থা করে এলেম।

তারপর কিঞ্চিৎ কাঁচুমাচু ভাবে জানাল, দু’জনকে দু’জায়গায় খেতে হবে কিন্তু। মানে তোমাদের কে আতিথ্য করবে তাই নিয়ে গ্রামে কম্পিটিশন লেগে গেছে। রীতিমতো রেষারেষি। মানে প্রেস্টিজের ব্যাপার আর কী। অনেক বোঝানোর পর আজ এই ব্যবস্থা সাব্যস্ত হয়েছে। তোমাদের খুব অসুবিধে হবে কি?

নাঃ। অসুবিধের কী আছে।—জানায় পর্যটকরা।

ঘোষদা এলেন তড়তড়িয়ে,—আসরফ খবর কী? এদের এখনও খেতে নিয়ে যাওনি?

ব্যবস্থা হচ্ছে।—জানায় আসরফ। ঠিক সময়ে ডাকতে আসবে।

এ্যাঁ,ব্যস্ত হচ্ছে কেন?—ঘোষদা উদ্বিগ্ন।

আজ্ঞে, ব্যস্ত নয় ব্যবস্থা হচ্ছে খাবার।—গলা চড়িয়ে জানাল আসরফ।

উত্তম উত্তম। তোমায় যখন ভার দিয়েছি আমি নিশ্চিন্ত। এইরে! আচ্ছা ভাই এখন আমি যাচ্ছি। কাল আবার দেখা হবে। বুঝলে কিনা বাড়িতে কুটুম এসেছে। তাই আলুপেঁয়াজ কিনতে দিয়েছিল। স্রেফ ভুলে গেছলাম এতক্ষণ। দেখি দাসুর দোকান খোলা আছে কিনা? নইলে কেলেঙ্কারি।—ঘোষদার দ্রুত প্রস্থান।

একটি ছেলে এসে দাঁড়াল সামনে। আসরফ বলল, মুখুজ্যে বাড়ি থেকে ডাক এসেছে। কে যাবেন?

শিব উঠল।

খেতে বসে শিবের চক্ষু স্থির।

প্রকাণ্ড এক কাঁসার থালার মাঝে মিহি চালের ভাতের ঢিবি। এবং থালা ঘিরে নানান আকারের বাটি ও প্লেট সাজানো। শিব গুণে দেখল—আটটা। ডাল তরকারি মাছ টক মিষ্টি কী নেই! শিব কাতর ভাবে জানাল,– এত না, কমিয়ে দিন। কাল আবার আমাদের অনেক পথ চলতে হবে। ভোরেই বেরুব। এত খেলে কি আর?

গৃহস্বামী সস্নেহে বললেন,– এ আর এমন কি? ইয়াংম্যান। তোমার বয়েসে আমি এর দ্বিগুণ খেতুম।

শিব তবু—মাথা নাড়ে। মুখুজ্যেমশাই বললেন,—বেশ যা পার খাও। অন্তত প্রত্যেকটি আইটেম একবার টেস্ট করে দেখ।

শিবের খাওয়া মাঝামাঝি এগিয়েছে। হঠাৎ এক ছোকরা হস্তদন্ত হয়ে এসে মুখুজ্যেমশাইকে খানিক দূরে নিয়ে গিয়ে কী জানি বলল ফিসফিসিয়ে। অমনি মুখুজ্যে দৌড়ে গেলেন দরজায় দাঁড়ানো তাঁর গিন্নির কাছে। আবার ফিসফাস। এবং মুখুজ্যে গৃহিণীর অন্তর্ধান।

মিনিট দশেক বাদে মুখুজ্যে গিন্নি দুটি বেগুন ভাজা এনে ঢেলে দিলেন শিবের পাতে। শিব আঁতকে ওঠে—এ কী আবার কেন? ভাজা তো দিয়েছেন।

মুখুজ্যেমশাই হেসে বললেন,—একটু চাখ। বুঝলে কিনা, এক্ষুণি জানলেম বাঁড়ুজ্যে বাড়িতে তোমার বন্ধুকে আটটা আইটেম সার্ভ করেছে। আমার খবর ছিল ওরা সাতটা পদ বানাবে। তা বাঁড়ুজ্যেদের কাছে হেরে যাব তা কি হয় ভাই? হেঃ হেঃ—

ফেলে ছড়িয়ে প্রাণপণে আহার শেষ করল শিব। মনে ভয় আবার কী খবর আসে।

হাঁসফাস করতে করতে ক্লাব ঘরে পৌঁছে শিব দেখল দেবু বারান্দায় শুয়ে, কাছে বসে আসরফ। শিব সটান গড়িয়ে পড়ল পাশে।

দেবু বলল,—কেমন খেলি?

শিব শুধু বলল, বাপস্।

দেবু বলল,—আমার খাওয়া শেষ, তখন বলে কিনা আরও দুটো পদ খেয়ে যেতে হবে, রান্না হচ্ছে। জোর করে পালিয়ে এসেছি।

আসরফ কাঁচুমাচু ভাবে বলল,—শোবেন কোথায়? অনেক বাড়ি থেকেই আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে।

দেবু হাত জোড় করে,—দাদা আর কোথাও নয়। এই ক্লাব ঘরে শোব আমরা।

আসরফ মাথা চুলকে বলল,—সেই ভালো। নইলে এই নিয়ে একটা কাজিয়া না বেধে যায়। বুঝছেন না প্রেস্টিজের ব্যাপার। তাছাড়া দু’জনকে আলাদা আলাদা শুতে হবে।

সকালে শিবরা তোড়জোড় করছে বেরুনোর। ঘোষদা হাজির হয়ে বললেন,–না ভাই, এখন তো তোমাদের যাওয়া হবে না। অসম্ভব। সবুজ সংঘের পক্ষ থেকে তোমাদের একটা সংবর্ধনা দেবে। আসরফ ব্যবস্থা করছে।

শিবের অনুরোধে কানই দিলেন না ঘোষদা,—এক বেলা বেশি থাকলে কী এমন ক্ষতি! আমাদের মেম্বাররা, গাঁয়ের ছেলেরা তোমাদের দেখে উদ্বুদ্ধ হবে, একটু ত্যাগ স্বীকার করবে না?

অগত্যা সকালের যাত্রা পণ্ড হল।

বেশ ভিড় হল সংবর্ধনা সভায়। শুরু হতে দশটা বাজল। প্রোগ্রাম—সবুজ সংঘের পক্ষ থেকে তরুণ পর্যটকদের প্রশংসায় মুখর চারটি দীপ্ত ভাষণ। ফাঁকে ফাঁকে তিনটি গান পর্যটকদের আহ্বান জানানো হল কিছু বলতে। নিমরাজি দেবু উঠল। শ্রোতাদের দাবি,—অভিজ্ঞতা শুনতে চাই।

দেবু বলল, গৌড়হরির কথা।

শ্রোতারা সন্তুষ্ট নয়, রোমাঞ্চকর কিছু বলুন। কারণ এর আগে ঘোষদা জানিয়েছেন যে এরা ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছে।

দেবু বাধ্য হয়ে সিধু খুড়োর মুখে শোনা ভূতুড়ে সরাইখানায় রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতাটা নিজেদের নামে চালালো। তবে ঘটনাস্থল পালটে দিয়ে হল এই পথেই এক পরিত্যক্ত ভূতুড়ে বাড়ি। এবার শ্রোতারা ভারিখুশি।

সভা শেষ হতে দুপুর বারোটা বাজল। অতএব ভাত খেয়ে যেতে হবে। নেমন্তন্নর নামে শিবদের আতঙ্ক। আসরফ বলল,—বুঝিয়ে বলছি, খাওয়াটা যাতে লাইট হয়। তবে ভাই দুবাড়িতে দুজনকে আলাদা খেতে হবে। সবাই চাইছে। প্রেস্টিজের ব্যাপার।

দেড়টা নাগাদ শিব দেবু রওনা হওয়ার জন্য তৈরি হয়। ঘোষদা বললেন,—আকাশে মেঘ জমেছে, আজ বরং থেকে যাও।

শিবরা মরিয়া। তারা পালাবেই। দুজনে জোর কদমে পা চালাল বড় রাস্তা ধরে। পিছু পিছু অনুসরণ করল সবুজ সংঘের জনা কুড়ি সভ্য। তারা বিখ্যাত দুই পর্যটকদের মাইলখানেক এগিয়ে দেবে সম্মান জানাতে।

অতি অস্বস্তিকর অবস্থা। পাশ দিয়ে বাস যায়। যাত্রীরা মুখ বাড়িয়ে হাঁ করে দেখে। পথের লোক দাঁড়িয়ে যায় মজা দেখতে। দেবুদের একান্ত অনুরোধে অবশেষে বিদায়ী মিছিল থামল। ‘জয়হিন্দ, বন্দেমাতরম, ইনক্লাব জিন্দাবাদ, বাঙালী পর্যটক যুগযুগ জিও’—ইত্যাদি ধ্বনি দিয়ে মিছিল ফিরে চলল হলুদডাঙায়।

দেবুরা খানিক যেতে যেতে লক্ষ করল একটি বছর চোদ্দোর ছেলে তাদের পিছু পিছু আসছে। তার পরনে হাফপ্যান্ট হাফসার্ট। খালি পা। মিষ্টি মুখখানা। দেবুদের চলার তালে হাঁটছে।

হঠাৎ দেবু ফিরে জিজ্ঞেস করল,

এই ছেলে কোথায় যাচ্ছ?

ছেলেটি থমকে গিয়ে ইতঃস্তত করে বলল- তোমাদের সাথে।

সেকী! কদ্দুর যাবে?

দিল্লি। এ্যাঁ, সে যে ঢের দূর জান?

ছেলেটা ধবধবে সাদা দাঁতে ঝিলিক দেখিয়ে নিঃশব্দে হাসল।

ছেলেটার কি তাদের মতন দেশ ভ্রমণের নেশা চেপেছে?

তোমার বাড়িতে জানে?—জিজ্ঞেস করে দেবু।

ছেলেটা চুপ। অর্থাৎ জানে না। ও লুকিয়ে আসছে! সর্বনাশ!

তোমার নাম কী?—জানতে চায় শিব।

উত্তর হল,—বঙ্কু।

কোথায় বাড়ি?

হুই গাঁ।—ছেলেটা হলুদডাঙা দেখায়।

দেবু বোঝায়,—যাও যাও, বাড়ি ফিরে যাও। এই বয়সে কি দিল্লি যাওয়া যায়। না বলে এসেছ কেন? বাড়িতে ভাববে।

শিব দেখল ভাল কথায় কাজ হবে না। সে চড় তুলে তাড়া করে,—পালা বলছি।

বঙ্কু এক দৌড়ে অনেকখানি পিছিয়ে ফের অপেক্ষা করে।

ধুত্তেরি। আচ্ছা আপদ। ওর মাথায় ছিট আছে নাকি? বিরক্ত দেবু শিব ফের এগোতে লাগল। বঙ্কুও যথারীতি তাদের অনুসরণ করছে বেশ তফাতে থেকে।

দেবু থেমে বলল,—ছেলেটাকে বেশি দূর নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কোনো অ্যাকসিডেন্ট হলে আমাদের দায়ী করবে। না বলে পালিয়ে এসেছে। বাড়ির লোক যদিপুলিশে খবর দেয়? একে বরং কায়দা করে গ্রামে ফিরিয়ে দিয়ে আসি। অযথা দেরি হয়ে যাচ্ছে। কী করা?

দেবু বঙ্কুকে বলল,—আমরা হলুদডাঙায় ফিরব। একটা জিনিস ফেলে এসেছি।

বঙ্কু ঠিক মতলব বুঝে ফেলেছে। সে মাঠের ভিতর নেমে গিয়ে ব্যাপার দেখে। এবার আর তাদের পিছু নেয় না।

শিব রেখে বলল,- বেটা আস্ত শয়তান। ঠিক আছে চ এগোই। ও একটু কাছে আসুক। ছুটে গিয়ে ধরে ফেলে তখন নিয়ে যাব ওর বাড়িতে।

দেবু শিব নানুরের পথে রওনা দেয়। বঙ্কু ফের পিছু ধরে।

এক সাইকেলচালক ঊর্ধ্বশ্বাসে আসছিল পিছন থেকে। দেবু, শিব বা বঙ্কু নজর করেনি। সে বঙ্কুর ঘাড়ের কাছে এসে ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষে নেমেই সাইকেল মাটিতে ফেলে এক লাফে গিয়ে ধরে ফেলে বঙ্কুর হাত। সঙ্গে সঙ্গে হুঙ্কার ছাড়ে,—হতভাগা কোথায় যাচ্ছিস?

দেবু সাইকেলে আগন্তুক যুবককে বলল,—একে চেনেন?

চিনি বইকি। আমার গুণধর ভাইপো।—উত্তর হয়।

দেবু বলল, ও আমাদের সঙ্গ ধরেছিল দেশ ভ্রমণে যাবে বলে, কিছুতেই ফেরাতে পারছিলাম না।

যুবক এক হাতে বঙ্কুর হাত অন্য হাতে তার কান পাকড়ে গর্জন ছাড়ে,—দেশ ভ্রমণ না হাতি। বেটা রাগ করে বাড়ি থেকে পালাচ্ছিল। কেন?

কেন আবার, বেটা বজ্জাতের ধাড়ি। সকালে এক শিশি কুলের আচার খেয়ে নিয়েছে লুকিয়ে। তাই বউদি মানে ওর মা দু চারটে চড়চাপড় মেরেছিল। সেই রাগ। দুপুরে খাবার সময় খেয়াল হয়েছে বঙ্কা নেই। বাড়িতে হুলুস্থুল পড়ে গেছে। আমি সাইকেলে খুঁজতে বেরিয়ে দেখলাম ভাগ্যিস—। চ বাড়ি।—কাকা বঙ্কুকে তার সাইকেলের সামনের রডে চড়াল জোর করে।

কাঁদ কাঁদ বন্ধুর মুখ দেখে মায়া হল দেবুর। বলল,—ওকে বাড়িতে মারধর করবেন না। এখন একে ফেরত নিয়ে গেলে আমরা উদ্ধার হই।

কাকা ভাইপোসমেত জোর প্যাডল মারল হলুদডাঙার উদ্দেশে।