দুই
নির্জন তালপুকুরের ধারে ঝাঁকড়া তেঁতুলগাছটার মোটা মোটা শিকড় মাটির ওপর ঠেলে উঠেছে। তারই ওপর বসে শিব ও দেবু। শিব ভোলা সাধুখাঁ এবং নিমাই মান্নার বিষয়ে সকালের সমস্ত ঘটনা বলেছে।
জ্যৈষ্ঠ মাস। সকাল দশটাও বাজেনি। এখনই রোদের তাত বেশ। দু-একজন বউ-ঝি বাসন নিয়ে যাওয়া আসা করছে পুকুরে। দূরে কয়েকটা গরু চরছে মাঠে। তেঁতুলতলার ছায়ায় কিছু শালিক আর ছাতারে পাখির কিচিমিচি। অনেক উঁচু থেকে ভেসে আসছে একটা চিলের উদাস ডাক। আর কোনো সাড়াশব্দ নেই।
দেবু পকেট থেকে একটা ছোট্ট কাগজের মোড়ক বের করল। তারপর মোড়ক খুলে তাই থেকে কটা হজমিগুলি নিয়ে নিজের মুখে ফেলে কটা শিবের হাতে দিয়ে বলল,– নে, মাথা সাফ হবে।
হজমিগুলি চুষতে চুষতে গম্ভীরমুখে খানিকক্ষণ বসে থেকে দেবু শিবকে বলল,–কী ভাবছিস তুই? কী হতে পারে।
আমি!–শিব মাথা চুলকোয় একটু। তারপর বলে ফেলে, ধুস্, আমি ঠিক কিছু বুঝতে পারছি না। তুই বল। তবে মনে হচ্ছে একটা গোপন ব্যাপার। তোর কী মনে হয়?
আমার মনে হচ্ছে গুপ্তধন।—চিন্তিত মুখে জানাল দেবু।
—অ্যাঁ বলিস কি?
—হ্যাঁ, হয়তো ওই নীলকুঠিতে গুপ্তধনের খোঁজ পেয়েছে নিমাই মান্না। মানে ওই হারুর কাছ থেকে। হারু তো নিমাইচরণের জমিতে চাষের কাজ করে। হারুকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে এখন ওরা দুজনে গুপ্তধনটা গাপ মারতে চায়। নীলকুঠির সাহেবরা প্রচুর ধন উপার্জন করেছিল। তখন তো ব্যাংক পোস্টাপিস ছিল না। বাড়ির মধ্যেই লুকিয়ে রাখত চোর ডাকাতের ভয়ে। তারপর যে লুকোল, সে যদি টপ করে মরে টরে যেত কোথায় লুকিয়েছে না বলে, ব্যস্ ওটা গুপ্তধন হয়ে যেত।
–ঠিক বলেছিস। তবে নীলকরদের গুপ্তধন, ডেন্জারাস্ হতে পারে। বাড়িটা শুনেছি ভূতুড়ে। আচ্ছা একটা কথা বুঝছি না, হারু নিমাইকে খোঁজটা বলল কেন? নিজেই তো নিতে পারত।
তা বটে।—দেবু ভুরু কুচকোয় : হয়তো বলে ফেলেছিল ভুলে। কিংবা গুপ্তধনটা উদ্ধার করা হারুর একার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই বাধ্য হয়ে নিমাইচরণের সাহায্য চেয়েছিল। আর সেইজন্যেই নিমাইচরণও ভোলাদার কাছে এসেছে। কারণ সেও একা পারবে না। বুঝলি শিব, ভোলাদা মোটেই সোজা লোক নয়, নিমাইচরণের সঙ্গে যখন ওর এত মাখামাখি।
শিব মাথা নেড়ে সায় দিল–হুঁ।
তারপর বলল,–হয়তো গুপ্তধন নয়। জঙ্গলে দুজনে কিছু লুকিয়ে রাখার মতলব করেছে। নিমাই মান্নার তো শুনেছি চোরাই মালের কারবার আছে। আর হারু জানে ব্যাপারটা। ওকে ভয় দেখিয়ে চুপ করাচ্ছে।
দেবু বলল,–হতে পারে, অসম্ভব নয়। যাকগে আগে থেকে এত মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। কাল আমাদের দুটো কাজ। এক নম্বর, হারুকে ধরতে হবে। দেখা যাক, ওর পেট থেকে কোনো কথা বের করা যায় কিনা? দুই-একবার নীলকুঠিটা ঘুরে আসব। যাকে বলে সরেজমিনে তদন্ত। যদি কোনো ক্লু পাই। এবং পরশুদিন ওদের ফলো করব।
মথুরাপুর গ্রামের সীমানায় হারু বায়েনের বাস। জীর্ণ খড়ের বাড়ি। সকাল দশটা নাগাদ। হারুর উঠোনে অনেকগুলো মুরগি চরছে। তিন চারটি ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে খেলে বেড়াচ্ছে। মাঝবয়সি হারু বসে বসে তালপাতার চাটাই বুনছে। হঠাৎ মুখ তুলে দেখে সামনে দেবু ও শিব।
দুজনকেই চেনে হারু, তাই ব্যস্ত হয়ে উঠে পড়। ‘বসেন বসেন’ বলতে বলতে, হারু একখানা চাটাই এনে পেতে দিল উঠোনে। শিব দেবু হারুর কাছে ঘন হয়ে বসল।
দেবু কথা শুরু করল। প্রথমে এটা-সেটা—এই এসেছিলাম এদিকে একটা কাজে।
তোমাকে দেখে ভাবলাম জিজ্ঞেস করে যাই। আমার দিদা বলছিল একটা চাটাই কিনবে। কত নেবে? কবে দিতে পারবে?…
মিনিট দশেক এমনি কথা চালাবার পর আচমকা দেবু বলল,–আচ্ছা হারুদা, একটা কথা শুনলাম। কী যেন দেখেছ তুমি, দারুণ জিনিস। কী ব্যাপার?
বলা মাত্র হারু চমকে উঠল। ফ্যাকাসে মুখে বলল,– কে বলল?
দুজন বলাবলি করছিল। আমরা চিনি না তাদের।
না না আমি কিছু দেখিনি। আমি কিছু জানি-টানি না–বলতে বলতে হারু সটান উঠে পড়ে তার ঘরে ঢুকে গেল।
দেবু শিব হতভম্ব।
ছোট ছেলে-মেয়েগুলো খেলা ফেলে ছুটে এসে দেবুদের ঘিরে প্যাট প্যাট করে চেয়ে রইল।
দেবু শিবের হাত ধরে টান মেরে বলল,—চ।
খানিক দূরে এসে দেবু বলল,—হারু ঠিকই কিছু জানে বা দেখেছে। কিন্তু বলবে না। হয়তো ভয়ে। যাকগে দুপুরে নীলকুঠিতে যাব। খেয়ে উঠে চলে আয়। অশথতলায় অপেক্ষা করব তোর জন্যে। ভাগ্যিস গরমের ছুটি পড়ে গেছে। নইলে এসব করার সময় পেতাম না।
গ্রীষ্মের দুপুর। চারদিক খাঁ খাঁ করছে। দিগন্তবিস্তৃত চাষের খেত এখন নেড়া। বৃষ্টি নামেনি তাই ধান পোঁতা শুরু হয়নি এখনও। সেই ধু ধু এবড়ো খেবড়ো হলুদ মাঠের মাঝে এক টুকরো ঘন সবুজ ছোপ—নীলকুঠির জঙ্গল। জঙ্গলে পৌঁছে, বড় বড় গাছ আর ঝোপ-ঝাড়ের ফাঁকে ফাঁকে পায়ে চলা সরু একটা আঁকাবাঁকা ছায়াঘেরা পথ বেয়ে ভিতরে ঢোকে দেবু আর শিব। শিব এখানে এসেছিল আগের বছর, মাত্র একবার। আর দেবু এসেছিল তিন বছর আগে। ওদের গা কেমন ছমছম করে। যখনই এই জঙ্গলে ঢোকে এমনি ভাব জাগে মনে।
এ যেন আলাদা এক জগৎ। কী নির্জন। তবে এখানে প্রাণীর অভাব নেই। কত রকম শব্দ আসে কানে। পাখির কুজন, নানান কীটপতঙ্গের ডাক। গাছের নিচে, ডালে ডালে পাতায় পাতায়, খরখর সরসর ধ্বনি। কত অদৃশ্য জীবের চলাফেরার আভাস। শুধু মানুষই নেই।
জঙ্গলের মধ্য দিয়ে নীলকুঠিতে পৌঁছল তারা। দোতলা কুঠিবাড়ির ইট বের হওয়া দেয়ালগুলো আজও খাড়া রয়েছে। বেশিরভাগ ঘরের ছাদ অবশ্য ভেঙে পড়েছে। কড়িবরগাগুলো খুলে নিয়ে গেছে লোকে।
প্রকাণ্ড বাড়ি ছিল এটা। ঘরের পর ঘর। দেবুরা নিঃশব্দে একটার পর একটা ঘরে ঢোকে। তীক্ষ্ণ চোখে লক্ষ করে ভিতরটা। পাকা মেঝে ফেটে আগাছা ও ঘাস জন্মেছে। কোথাও কোথাও ভাঙা ইটের স্তূপ। সাবধানে ঘোরে তারা। এই বাড়ি, এই জঙ্গল সাপের আড্ডা।
প্রত্যেক বছর সাপুড়েরা এখান থেকে বিষাক্ত সাপ ধরে নিয়ে যায়। গত বছরই তাদের গ্রামে সাপ খেলাতে এসেছিল একজন সাপুড়ে। দেখিয়েছিল নীলকুঠি থেকে সদ্য ধরা প্ৰকাণ্ড এক গোখরো। কী ভীষণ গজরাচ্ছিল বন্দি সাপটা, এখনো শিবের চোখে ভাসে। শুধু গোখরো নয়, আরও আছে কেউটে ও বড় বড় চন্দ্রবোড়া। কাঁকড়াবিছেরও ডিবো এ বাড়ি। সাধে কি আর এখানে আসা নিষেধ। অতি বিপজ্জনক জায়গা।
কোনো সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়ল না। যাতে গুপ্তধনের হদিশ মিলতে পারে। তেমন কোনো খোঁড়াখুঁড়ির চিহ্নও নেই। কোণের দিকে একটা ঘরে ঢুকে ওরা একটু অবাক হল। ঘরটা কিঞ্চিৎ সাফসুফ করা হয়েছে। মেঝেতে কয়েকটা পোড়া দেশলাইকাঠি এবং বিড়ির টুকরো ছড়ানো। কেউ বা কারা এখানে ছিল। হয়তো আসে এখানে মাঝে মাঝে। কিন্তু কেন?
বাড়ির সামনের দিকে উঁচু চওড়া বারান্দায় দেবুরা কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করল। সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠল। সিঁড়ির বাইরে অবশ্য পা বাড়াবার উপায় নেই কারণ মেঝে ভাঙা বা ধসে পড়েছে। ওরা ঘাড় বাড়িয়ে দেয়ালের ফোকরগুলোয় যথাসম্ভব দেখল। কিন্তু কিছু নজরে পড়ল না।
এরপর দেবু শিব ফের জঙ্গলে ঢুকল। অতীতের বাগান, এখনকার জঙ্গলে এক ধারে চারটে মস্ত মস্ত ইট বাঁধানো আগেকার নীল ভেজানোর চৌবাচ্চা। চৌবাচ্চার ভিতর কাঁটা ঝোপের বন। সাপখোপের ভয়ে দুজনের হাতেই মোটা লাঠি। লাঠি দিয়ে আগাছা সরিয়ে উঁকি দিল চৌবাচ্চার ভিতরে। নাঃ কিছু নেই। দুজনে ঘুরতে ঘুরতে হাজির হল পুকুর পাড়ে।
জঙ্গলের মাঝামাঝি জায়গায় পুকুরটা। মস্ত পুকুর, প্রায় দিঘি বলা যায়। গভীর খুব। সারা বছর জল থাকে। এই গ্রীষ্মকালেও বেশ জল। পুকুরের চারধারে চারটে বাঁধানো ঘাট। ঘাটের সিঁড়িগুলো আজও বেশ মজবুত। কালচে সবুজ নিথর জল। লম্বা লম্বা গাছের ছায়া পড়েছে জলে। জলে কয়েক জায়গায় শালুক লতার বন। গোল গোল পাতা ভাসছে। মাথা তুলে আছে শালুক কুঁড়ি এবং কয়েকটি পাপড়ি মেলা গাঢ় লাল ফুল। জল ঘেঁষে পাড়ের কিনারে কলমি শাকের ঝাড় এবং বড় বড় ঘাস।
পুব দিকের ঘাটে দাঁড়িয়ে দেবু শিব পুকুর দেখল খানিকক্ষণ। কয়েকটা ঢিল ছুড়ল জলে। হঠাৎ মুখ তুলে তাকিয়ে শিব ‘বাপরে’ বলে লাফিয়ে সরে গেল। ঘাটের গায়েই একটা বড় আম গাছ। তার একটা নিচু ডালে ঝুলছে বিড়াট এক মৌচাক। পাতার আড়ালে থাকায় চট করে নজর পড়ে না মৌচাকটা। গাছটায় আম ধরেছে। আম পাড়তে ঢিল চালালেই হয়েছিল আর কী
দুপুরে টঙে চড়া সূর্য পশ্চিমে হেলেছে। এবার জঙ্গল থেকে বেরোনো দরকার। এখানে বিকেল নামতে না নামতেই অন্ধকার হয়ে যায়। নানা দিক থেকে অনেক শুঁড়ি পথ ঝোপজঙ্গল ভেদ করে এসে পুকুর বা কুঠিবাড়ি ছুঁয়েছে। তারই একটা ধরে দুজনে ফিরে চলল।
একটা ঝমঝম আওয়াজ। থমকে দাঁড়ায় দেবুরা। দেখে, মস্ত এক শজারু ছুটে চলে গেল। এ বনে গোসাপও নাকি আছে। সাঁওতালরা শিকার করেছে কয়েকবার।
নীলকুঠির জঙ্গল থেকে বেরিয়ে দু’পা গিয়েছে, পিছনে সাইকেলের বেল-এর আওয়াজ। ফিরে ভূত দেখার মতন আঁতকে উঠল দেবু ও শিব। ভোলা সাধুখাঁ এবং নিমাই মান্না। বোধহয় গঞ্জের বাজার থেকে ফিরছে। দেবুদের দেখামাত্র তারা সাইকেল থেকে নেমে পড়ল।
ভোলানাথ শিবকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ করে ধমকে উঠলেন—অ্যাই, এই জঙ্গলে ঢুকেছিলি কেন?
—আজ্ঞে, গাব পাড়তে।
—বটে, বাড়িতে জানে?
শিব চুপ।
ভোলানাথ কড়া সুরে বললেন,—লেখাপড়া নেই, ভর দুপুরে টো টো হচ্ছে—এই সাপখোপের আড্ডায়। ফের যদি দেখি এখানে, তোর বাবাকে বলে দেব ঠিক।
নিমাই বলল,–ছেলেটা কে?
অভয় দত্তর ছেলে।—জবাব দেন ভোলানাথ।
মানে তারক দত্তর ভাইপো?–ভুরু কোঁচকায় নিমাই।
—হুঁ। মহা বদমাশ ছোকরা। ওর জ্বালায় গাছে ফল-পাকুড় রাখা দায়। আরে গত বছরের আগের বছর আমার গাছ থেকেই এক ঝুড়ি বোম্বাই আম সাফ করে দিয়েছিল। আমার ভাইপো নেলোটাও এর সঙ্গে মিশে নষ্ট হচ্ছে।
ভোলানাথ দেবুর দিকে তাকিয়ে বললেন,– তা তুমি আবার এর সঙ্গে জুটেছ কেন? তোমায় তো ভালো ছেলে বলে জানতাম।
নিমাই মান্না মুখ ভেটকে মন্তব্য ছাড়ল,—দাদা, আজকালকার ছেলেপেলেগুলো যা হয়েছে না। বাঁদর স্রেফ বাঁদর। বাড়িতে শাসন নেই যে। আরে বাবা, মাঝে মাঝে এক প্রস্থ ধোলাই না পড়লে কি আর ছেলে মানুষ হয়?
যা যা শিগগির বাড়ি যা।—বলে ভোলানাথ সাইকেলে উঠলেন, দেখাদেখি নিমাইচরণও। পথটা কিছু দূর গিয়ে দু-ভাগ হয়ে গেছে। ভোলানাথ চললেন দেবুদের গ্রাম ফুলডাঙার দিকে আর নিমাইচরণ ধরল মথুরাপুরের পথ।
শিব গোঁজ মেরে দাঁড়িয়েছিল। তার চোখ দুটো যেন জ্বলছে রাগে। দেবু ওর পিঠে হাত দিয়ে বলল,–কী রে, খুব চটেছিস?
শিব ফেটে পড়ল,–লোকটা কি মিথ্যুক দেখলি? মোটে দুটো আম পেড়েছিলাম ওর গাছ থেকে–ঢিল ছুঁড়ে, আর বলে কিনা এক ঝুড়ি। আর নেলোকে আমি নষ্ট করছি! ও বেটা শয়তানের ধাড়ী। আমায় তাতায় আর নিজে ভালো মানুষ সেজে থাকে। ওই আমাকে ওর জ্যাঠার গাছ থেকে আম পাড়তে বলেছিল। দিতাম ঠিক মুখের মতন জবাব, নেহাত বাবাকে বলে দেবে বলল এইখানে আসার কথা, তাই আর ঘাঁটালাম না। কিন্তু যা রাগ হচ্ছিল না, কী বলব! আবার জ্ঞান দেয়, পড়াশুনা নেই। তা তোমার কী? নিজে তো বিদ্যেদিগ্গজ।
আর নিমাই মান্নার কথাটা শুনলি? ছেলে মানুষ করার ফরমুলা আওড়ায়। ওই ধোলাই যেদিন নিজে খাবে পুলিশের কাছে, তখন বুঝবে ঠেলা।—শিব রাগে ফুলতে থাকে।
দেবু সান্ত্বনা দিল,—হ্যাঁ লোকদুটো বাজে। কিন্তু ওদের আসল মতলবটা বুঝলি? আমাদের ধমকে ভয় দেখাল, যাতে এই নীলকুঠিতে আর না আসি। এই জন্যেই এত চোটপাট ভেবেছ আমরা খুব ঘাবড়ে গেছি—আর এ পথ মাড়াব না! হুঁ হুঁ, অত সহজে ছাড়ছি না। ঠিক হ্যায় শিব, কাল ভোর থেকে তুই ভোলাদার বাড়ির ওপর নজর রাখবি। তোরই সুবিধে। তোর বাড়ি কাছে। ভোলাদা বেরুবার পরই আমায় খবর দিবি। ওরা কুঠির জঙ্গলে ঢুকলে পর আমরা ঢুকব লুকিয়ে লুকিয়ে।
