জুতোয় রক্তের দাগ – ৩

৩.

আচমকা কাউকে নিমন্ত্রণ করেও যে ভাল খাওয়ানো যায়, তা মিসেস গ্রান্টের বান্ধবী দেখালেন। ভদ্রমহিলা হাসিখুশি। মাসিমা-মাসিমা ভাব। খাওয়াদাওয়ার পর ওরা বসার ঘরে বসল। মেজর হোটেলের ঘটনাটা বললেন। মিসেস গ্রান্টের বান্ধবী বললেন, “এখানকার পুলিশ খুব কড়া। ঘটনাটা জানতে পারলে রিসেপশনিস্টটিকে ছাড়বে না।” যদি ওরা চায়, তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।”

মিসেস গ্রান্ট বললেন, “আর-একটা দিন অপেক্ষা করলে হয়।”

এইসময় অর্জুন জিজ্ঞেস করল মিসেস গ্রান্টের বান্ধবীকে, “আপনাদের এখানে আসবার সময় একটা বাড়ি দেখলাম। বাড়িটার নাম সি-ফেস। ওখানে কারা থাকেন?”

মিসেস গ্রান্টের বান্ধবী বললেন, “ওঃ, ওটা এখন প্রায় পরিত্যক্ত। গভর্নমেন্ট নিয়ে নিয়েছে। বাড়িটার মালিক সেই রকম উইল করেছিলেন।”

“উনি কবে মারা গিয়েছেন?”

“ওঁর মৃত্যুটা রহস্যজনক। উনি আপনার মতোই অভিযান পছন্দ করতেন, মেজর। শুনেছি, বছর তিনেক আগে কোনও একটা অভিযানে গিয়ে তিনি হারিয়ে যান। অনেক চেষ্টার পর তাঁর খোঁজ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।”

“ওঁর কোনও আত্মীয়স্বজন নেই?”

“না। কাউকে তো দেখিনি। বাড়িটা তালাবন্ধ রয়েছে সেই থেকে।” অর্জুন মেজরের দিকে তাকাল, “এখানে সূর্য ওঠে কখন?”

“তিনটে নাগাদ। কেন?”

“আমি তার আগে ওই বাড়িতে যেতে চাই।

“কেন? ওখানে কী দরকার?” মেজর অবাক।

“আমার বিশ্বাস, ওখানে গেলেই জুতো রহস্য এবং জুতোচোরদের মতলব বোঝা যাবে। আমরা যদি আজ রাতে হোটেলে ফিরে না গিয়ে এখানেই বিশ্রাম করি, তা হলে আপনাদের আপত্তি আছে?” অর্জুনের গলার স্বর পালটে গেল।

মিসেস গ্রান্টের বান্ধবী বললেন, “এখানে কেউ বসে থাকতে পারে? তা হলে শোবার ব্যবস্থা করতে হয়।”

“কোনও দরকার নেই”, অর্জুন বলল, “আপনারা শুয়ে পড়ুন মিসেস গ্রান্ট জোর করে তাঁর বন্ধুকে শুতে পাঠালেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার বলো তো? ওই বাড়িতে কী আছে?”

অর্জুন বলল, “জুতোটার মধ্যে চোরা কুঠুরিতে যে চিরকুট ছিল, তাতে জুতোর মালিক লিখেছিলেন বি. পি., এস. এফ.। জুতোটা অভিযাত্রীর, এবং বাড়িটাও। ব্ল্যাকপুল, সি-ফেস। তাই আমার মনে হচ্ছে, ওখানে না গেলে বুঝতে পারব না আমি ঠিক ভাবছি কি না!”