৬. তিরস্করণী

৬. তিরস্করণী

“আপনি একে একে সবটা বলুন মিস্টার হার্পার। সুপারিনটেন্ডেন্ট টেলর আসার দিন থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত কবে কী ঘটেছিল সেটা জানা প্রয়োজন।” পকেট থেকে ছোটো একটা নোটবুক আর পেনসিল বার করে লিখতে উদ্যত হলেন প্রিয়নাথ।

“বলছি তবে। লিখে নিন। একেবারে শুরু থেকেই বলি। গত ১২ জুন, ১৮৯৯, কলকাতা থেকে চিঠি এল, তামাটুলির আশেপাশের জঙ্গলে আর ছোটো গ্রামগুলোতে বেনামে প্রচুর সন্ত্রাসবাদী এসে জমা হচ্ছে। আমরা যেন নিয়মিত মনিটারিং করে লালবাজারকে রিপোর্ট করি। আমরা জানালাম এই ছোটো থানার পক্ষে কম লোকবল নিয়ে এত কিছু করা অসম্ভব। এক মাসও গেল না, জুলাইয়ের সাত তারিখ জেলা সদরের অর্ডার হয়ে গেল। আগস্ট পড়তে না পড়তে একগাদা লোকজন এসে দালান তৈরি শুরু করে দিলে। সেপ্টেম্বরের নয় তারিখ জানতে পারলাম সুপারিনটেন্ডেন্ট হিসেবে এখানে আসছেন রিচার্ড টেলর। তখনই তাঁর থাকার জন্য বাংলোর খোঁজ হয়। সেপ্টেম্বরের মাঝে এই বাংলো হাতে পেয়ে সারাই করে সাহেবের থাকার যোগ্য করা হল। যদিও ভিতরের গোছগাছ কিছু হয়নি। তেরোই অক্টোবর খবর পেলাম, সাহেবের এসে পৌঁছোতে এখনও মাসখানেক বাকি। জাহাজে নাকি কী সব গণ্ডগোল হয়েছে। আমরা তো সেই অনুযায়ী কাজ করছি। ঠিক তিনদিন বাদেই জরুরি তার আসে। সাহেব তামাটুলিতে পরের দিনই পৌঁছোচ্ছেন। আমরা যেন তৈরি থাকি। এদিকে এখানে পুজোর ধুম, নেটিভরা কেউ কাজ করতেই চাইছে না, তার মধ্যে এত কিছু ব্যবস্থা করা… বুঝতেই তো পারছেন…”

“জাহাজে কী সমস্যা হয়েছিল?” তারিণীর প্রশ্ন।

“তা ঠিক জানি না। তবে টেলরের তাড়া ছিল। তিনি জাহাজ থেকে তার করে একটা ছোটো বোট আনিয়ে মালপত্রসমেত একা ডাঙায় চলে আসেন। বললাম না, কাজপাগল মানুষ!”

“বেশ। এবারে আসল অংশ। টেলর সাহেব সতেরো তারিখ তামাটুলিতে এসে পৌঁছোলেন। তারপর কী কী হল?”

“সুপারিনটেন্ডেন্ট টেলরকে স্বাগত জানাতে জমিদারমশাই নিজের বাড়িতে বিরাট আয়োজন করেছিলেন। তামাটুলির যত গণ্যমান্য মানুষজন, সবাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভালো কথা, সেইদিনই গণপতি তার দলবল নিয়ে উপস্থিত হওয়ায় তাদেরও সেই অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ ছিল।

“অনুষ্ঠান কখন শুরু হল আর শেষ হল কখন?”

“এতটা পথ যাত্রা করে সাহেব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তামাটুলির এই পাথুরে ঠান্ডায় সর্দিগর্মি মতো হয়ে গেছিল। তাই তিনি ভোজ পর্যন্ত ছিলেন না। সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ জমিদারের পাঠানো পালকি চেপে তিনি এলেন, ছোট্ট একটা বক্তৃতা দিলেন, উপস্থিত বিশিষ্টজনদের সঙ্গে খানিক কথাবার্তা বললেন, তারপরেই বাংলোয় ফিরে যাবার জন্য তাড়া লাগালেন। ও হ্যাঁ, তার আগে খোঁজ নিচ্ছিলেন এখানে কোনও ডাক্তার আছে কি না। ডাক্তার পিয়ার্সন তো এখন নেই, তাই মাদাম এলা-ই ওঁর সঙ্গে কথা বলেন। জমিদারমশাই নিজের এক পাইককে ওঁর সর্বক্ষণের দেখাশোনার কাজে লাগিয়েছেন। সে ওঁকে বাংলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।”

“সেই অনুষ্ঠানে গণ্যমান্য বলতে কারা ছিলেন?” তারিণী শুধাল।

“পুলিশের সবার কথা বাদ দিলে চার্চের পাদরি, জিরনিয়ার জমিদার, হোমের মাদাম এলা, এখানের প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার খগেন্দ্রনাথ আর আমাদের জমিদারের কিছু চ্যালাচামুন্ডা। জমিদারমশাই নিজে স্যারের হাতে ছোটো একটা দুর্গামূর্তি তুলে দেন, সঙ্গে আরও নানারকম উপহার। পাদরি দেন একটা ক্রুশকাঠ আর মাদাম কিছু শুকনো ফল আর রেশমের কাপড়।”

“আর খগেন্দ্রনাথ কী দিলেন?”

“উনি লাজুক মানুষ। স্যারের মুখোমুখি হতে লজ্জা পাচ্ছিলেন। কিছুতেই সামনে যেতে রাজি হলেন না।”

“আর কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা?”

“ঘটনা বলতে একটাই। সেটাও বেরোনোর সময়। সুপারিনটেন্ডেন্ট তখন প্রায় গেটের সামনে। একধারে বসে থাকা গণপতি আর তার দলবলের দিকে তাঁর চোখ পড়ে। তিনি গণপতিকে ‘হে, ইউ, দ্য ম্যাজিশিয়ান’ বলে ডেকে নেন।”

“সাহেব গণপতিকে চিনতেন?”

“তাই তো দেখলাম। উনি যখন বম্বে প্রেসিডেন্সিতে ছিলেন, তখন একবার বড়োলাট ওখানে যাওয়ায় সার্কাসের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই নাকি গণপতি ম্যাজিক দেখিয়েছিল।

“এটা উনিই বললেন?”

“হ্যাঁ।”

“তারপর?”

“তারপর গণপতিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন কবে তার শো আছে। গণপতি জানাল পরের দিন। টেলর জিজ্ঞাসা করলেন সে সিংহের ম্যাজিকটা দেখাবে কি না। গণপতি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। তারপর চটজলদি সেখানেই কিছু জাদু দেখাবে কি না জিজ্ঞাসা করল।”

“সাহেব দেখলেন?”

“দেখেননি। উত্তুরে কনকনে হাওয়াতে টেলরের গলা ধরে গেছিল। কাশিও হচ্ছিল। তিনি আর বাইরে থাকলেন না। সাততাড়াতাড়ি বাংলোর দিকে গেলেন। বলে গেলেন পরের দিন ম্যাজিক দেখবেন।”

“কিন্তু দেখতে এলেন না।”

“না। পরদিন সন্ধে থেকেই সুপারিনটেন্ডেন্টের বাংলোতে বারতিনেক পাইক পাঠিয়েছেন জমিদার। প্রতিবারই সে ফিরে এসেছে। আসলে টেলর কারও জনো

অপেক্ষায় ছিলেন।

“অপেক্ষায়? কার জন্য?”

“সেটা জানা যায়নি। তার গেটের যে সিপাইকে দেখলেন, সে-ই আমাদের জানিয়েছে। বিকেলে সুপারিনটেন্ডেন্ট তাকে ভিতরে ডেকে পাঠান। বলেন, আজ ম্যাজিক দেখতে যেতে দেরি হবে। কেউ ডাকতে এলে যেন বলে সাহেব ব্যস্ত। আর তখনই তিনি এক অদ্ভুত নির্দেশ দেন। বলেন, টপ হ্যাট পরা এক সাহেব সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ দেখা করতে আসবেন। খুব সম্ভব তিনি মুখে মুখোশ পরে থাকবেন। তাঁকে যেন সিপাই না আটকায়। অত্যন্ত জরুরি কাজে আসছেন তিনি। আর এই কথা যেন ঘুণাক্ষরে বাইরে প্রকাশ না পায়।”

“এই সাহেব এসেছিলেন?”

“এসেছিলেন। ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ছটা বাজার আগেই সিপাই দেখতে পায় তালঢ্যাঙা এক সাহেব যেন অন্ধকার ফুঁড়ে উদয় হলেন। মাথায় টপ হ্যাট। মুখে হাসি হাসি একটা মুখোশ। সাহেব কিছু বলার আগেই সিপাই তাঁকে জানায়, সুপারিনটেন্ডেন্ট তাঁর অপেক্ষায় আছেন। সিপাই পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে চায়। সেই সাহেব বারণ করেন। সিপাই পোর্টিকোর গ্যাসবাতিতে স্পষ্ট দেখেছে, টেলর নিজেই হাসিমুখে দরজা খুলে দিলেন।”

“তারপর?”

“তারপর আর কী? জমিদারের লোকজন বারকয়েক ডাকতে পাঠালেও তাদের সে জানায় সাহেব ব্যস্ত। এদিকে ম্যাজিকের মঞ্চে একজন মারা যায়। দ্যাট ব্লাডি ম্যাজিশিয়ান…”

“আমরা সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি। আগে টেলরের কথাটা বলুন।” প্রিয়নাথ মাঝখান থেকে বাধা দিয়ে বলে উঠলেন।

“ইয়েস। ওয়ান অ্যাট এ টাইম। ভূপেন খুন হবার পর আমি নিজে দুজন সিপাই নিয়ে এই বাংলোতে আসি। হাজার হোক, উনি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওঁকে না জানিয়ে কিছু করা ঠিক না। গেটের সিপাই বলে, সেই ঢ্যাঙা সাহেব এখনও বেরিয়ে আসেননি। আমি তবু ভিতরে যাই। মূল দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বেশ কয়েকবার ডাকাডাকির পরেও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকি। এসে দেখি এই ঘরেও দরজা বন্ধ। ভিতরে সুপারিনটেন্ডেন্ট মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন। বোঝাই যাচ্ছে দেহে প্রাণ নেই। তারপর ঘরে ঢুকে বুঝতে পারলাম ঘরের জানলাও বন্ধ একেবারে আবদ্ধ ঘরে কেউ টেলরকে ছুরি মেরে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। এ জাদু ছাড়া কী বলুন দেখি?”

“তিরস্করণী”, প্রায় ফিসফিস করে বলল তারিণী।

“হোয়াট?”

“অদৃশ্য হবার বিদ্যা। আপনি বলুন যা বলছিলেন।”

“ঘরের অবস্থা যেমন দেখছেন ঠিক তেমন ছিল। এই যে গোল টেবিলটা, এখানে দুটো মদের গেলাস। খেয়াল করলেই দেখতে পারেন একদিকেরটা প্রায় খালি, অন্যদিকেরটা প্রায় ভর্তি। দুজনের একজন, খুব সম্ভবত টেলরই বসেছিলেন দরজার দিকে মুখ করে, জানলার দিকে পিঠ দিয়ে। অন্যজন তাঁর মুখোমুখি, মানে দরজার দিকে পিঠ দিয়ে।”

“এটা কী করে আন্দাজ করলেন?” আবার তারিণীর প্রশ্ন।

“প্রথমত বডিটা পড়েছিল দরজার দিকে মুখ করে, দ্বিতীয়ত ওদিকের মদের গেলাসের পাশে যে আধখাওয়া চুরুটটা দেখছেন সেটা সবসময় টেলরের ঠোঁটেই ঝুলতে দেখেছি, তৃতীয়ত মেঝেতে একটু খেয়াল করলেই রক্তের দাগ আর ঘষার চিহ্ন চোখে পড়বে। ছোরাবিদ্ধ হবার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মারা যাননি। খানিকটা, মানে চেয়ার থেকে এইটুকু তিনি মেঝে ঘষে ঘষে এই বুককেস পর্যন্ত আসেন।”

প্রিয়নাথরা আগেই এই ছোটো বুককেসটা দেখেছিল। খোলা বুককেস। কাচ নেই। তাতে কিছু বই সাজানো। একটা বই ডানা মেলা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে।

“এটা কি?”

“সুপারিনটেন্ডেন্ট যখন বুঝতে পারলেন তিনি আর বাঁচবেন না, তখন অপরাধীকে ধরিয়ে দিতে তিনি দুটো চিহ্ন রেখে গেলেন। এই বই সবার চেনা। চার্লস আর মেরি ল্যাম্বের ‘টেলস ফ্রম শেক্সপিয়র’। সঙ্গে পাতায় পাতায় ওয়াল্টার ক্রেনের আঁকা উডকাট। টেলর বুককেস অবধি এলেন, নিচের থাক থেকে বইটা বার করলেন, তারপর একেবারে শুরুতেই ফ্রন্টিসপিসের এই ছবিটায় লাল রক্ত দিয়ে একটা নিশান দিয়ে দিলেন।”

প্রিয়নাথ দেখলেন ছবিতে মোট চারটি চরিত্র। বাঁদিকে এক যুবক, ডানদিকে এক সুন্দরী যুবতি আর তার পাশে লাঠি হাতে এক বৃদ্ধ। ঠিক মাঝে এক পরি ডানা মেলে রয়েছে। রক্তের দাগ বৃদ্ধের গায়ে।

“ইনি কে?” প্রিয়নাথ প্রশ্ন করায় হার্পারের আগেই তারিণী বলে উঠল, “প্রসপেরো। জাদুকর প্রসপেরো। মিরান্ডার বাবা।” আশুবাবুর লাইব্রেরিতে সে এই বই পড়েছিল।

“একদম ঠিক”, হার্পারের মুখে প্রশংসার হাসি।”এবার বলুন, একজন মরণাপন্ন মানুষ এতটা ছেঁচড়ে এসে এই ছবিতেই বা কেন রক্তের দাগ লাগাবে? আর যদি তাতেও সন্দেহ থাকে, তবে এইটা দেখুন। এই সেই দুর্গামূর্তি, যা জমিদার [-ছাপার অস্পষ্টতার জন্য বোধগম্য হয়নি-]

প্রিয়নাথ দেখলেন বুককেসের একধারে মাটির তৈরি ছোটো এক দুর্গামূর্তি। দেখলেই বোঝা যায় পাকা কারিগরের কাজ। দুর্গার মুখটি বড্ড মায়া জড়ানো। আর তখনই প্রিয়নাথের চোখ পড়ল দুর্গার পায়ের কাছে সিংহের মুখের দিকে। লাল রক্ত শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে। সুপারিনটেন্ডেন্ট টেলর মরার ঠিক আগে নিজের দেহের চুঁইয়ে পড়া রক্ত মাখিয়ে দিয়েছেন সিংহের সারা মুখে। শুধু ছোটো ছোটো ধারালো দাঁতগুলো সাদা। সেই সিংহ যেন তাঁদের দিকে তাকিয়ে অট্টহাসি হাসছে।

“গণপতিকে একভাবেই চিনতেন টেলর। সেই জাদুকর, যে সিংহের খেলা দেখায়। মরার আগে তাই নিশ্চিতভাবে নিজের খুনিকেই চিহ্নিত করে গেছেন তিনি।” গম্ভীর গলায় বললেন হার্পার।

“কিন্তু যদি গণপতি খুনও করে, তবে এই চারদিক বন্ধ ঘর থেকে সে পালাল কেমন করে?” তারিণী জিজ্ঞাসা করল।

“ম্যাজিক। ম্যাজিশিয়ানরা সব পারে। কী, তাই তো?” বলে হার্পার প্রিয়নাথের দিকে চেয়ে কাষ্ঠহাসি হাসলেন।

“কিন্তু এই জানলার স্প্রিং লাগানো ছিটকিনিগুলো অন্য কথা বলছে। কী জানি, আমিই হয়তো ভুল।”

হার্পার কিছু জবাব দেওয়ার আগেই প্রিয়নাথ পালটা জিজ্ঞেস করলেন, “টেলরের বডিটার কী হল?”

“দেখুন, সত্যি কথা বলি। জিরনিয়াতে আমরা বেশ কয়েকবার খবর পাঠিয়েছিলাম যাতে ইমিডিয়েট পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করা যায়। এখনও সে বিষয়ে অর্ডার আসেনি। এদিকে বড়ি দ্রুত পচে গন্ধ বেরোচ্ছিল। তাই গতকাল সকালেই পাদরি এখানের চার্চের সামনে টেলরকে কবর দিয়ে দেন। তা ছাড়া এই গড ফরসেকেন জায়গায় করবেনই বা কী?”

“আর ওঁর পোশাকগুলো?” তারিণীর প্রশ্ন।

“সেটা অবশ্য আলাদা করে থানায় রাখা আছে। দেখতে চাইলে দেখাতে পারি। কিন্তু আমি অবাক হচ্ছি, ডোন্ট মাইন্ড, সুপারিনটেন্ডেন্ট টেলরের মতো একজন মানুষ খুন হলেন, আর লালবাজার থেকে আপনি একা?”

সশব্দে নোটবুকটা বন্ধ করলেন প্রিয়নাথ।

“তবে শুনুন মিস্টার হার্পার, একটা বিশেষ কাজে আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে। যদি জানা যায় রিচার্ড টেলর খুন হয়েছেন আর এখন অবধি খুনিকে প্রমাণ সহ ধরে তার চার্জশিট অবধি করা হয়নি, তবে আপনার কিংবা আমার কারও চাকরি থাকবে না।”

“কিন্তু ওই ম্যাজিশিয়ান…”

“তার মোটিভ? এভিডেন্স? আপনি যা যা বললেন সবকটাই সারকামস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স। কোর্টে প্রমাণ করতে পারবেন না। কী বলবেন, খুন করে খুনি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল? কোর্ট সেটা মানবে? লালবাজার থেকে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব আমাকে এক হপ্তার সময় দিয়েছেন। তার মধ্যে প্রমাণ সহ খুনিকে ধরতে হবে, যাতে বিচার করে তাকে ফাঁসিতে লটকানো যায়। তারিণীকে ইন ফ্যাক্ট আমাদের সাহায্য করার জন্যেই সঙ্গে নিয়ে এসেছি। আর এই এক সপ্তাহ টেলর হত্যার খবর চাপা দিয়ে রাখার দায়িত্ব ম্যাজিস্ট্রেটের।”

“আর এক হপ্তার মধ্যে যদি খুনি ধরা না পড়ে?” হার্পারের গলা যেন একটু কেঁপে গেল।

“দেন গড সেভ আস”, গম্ভীর মুখে বললেন প্রিয়নাথ।

.