১৪. গ্রেপ্তার
বিপিনকে খুঁজে পেতে বিশেষ কষ্ট হল না। এই কদিনেই সে জমিদারবাড়ির চাকরবাকরদের সঙ্গে জমিয়ে ফেলেছে। প্রায় সবাই তাকে একডাকে চেনে। থানায় হার্পার সাহেবের কী যেন কাজ ছিল। তিনি আর এলেন না। জমিদারবাড়িতে এসে পাইককে জিজ্ঞেস করতেই সে আঙুল দিয়ে বিপিনকে দেখিয়ে দিল। বাগানের এক কোণে বুড়ো মালি জমিতে নিড়েন দিচ্ছে। বিপিন তার পাশে খালি গায়ে গামছা পরে উবু হয়ে বসে হাসি হাসি মুখে গপ্পো জুড়েছিল। প্রিয়নাথদের এদিকপানে আসতে দেখেই শশব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল।
“তুমিই তো বিপিন?” প্রিয়নাথ প্রশ্ন করলেন।
হাত জোড় করে মাথায় ঠেকিয়ে বিপিন উত্তর দিল, “এজ্ঞে হ্যাঁ দারোগা সাহেব। মুই সেই অধম।”
“পুরো নাম কী?”
“এজ্ঞে, বিপিন কুমার পাত্র আছে।”
“দেশের বাড়ি কোথায়?”
“পাত্রসায়র। বাঁকড়ো।”
বিপিনের কথায় এখনও সেই টান একেবারে যায়নি বোঝা গেল। কলকাত্তাইয়া বাংলার মধ্যে এদিক ওদিক গলে বেরিয়ে পড়ে।
“তোমায় কিছু প্রশ্ন করার ছিল। একটু ওদিকে চলো”, বলে প্রিয়নাথ বাগানের ধারে একটা বেঞ্চে বসে পকেট থেকে নোটবুক আর পেনসিল বার করলেন। তারিণী বসল না। সে বিপিনের পাশেই দাঁড়িয়ে রইল। বিপিনের চেহারাটা ছোটোখাটো হলেও বাঁধুনি চমৎকার। দেখলেই মনে হয় যেন সার্কাসে অ্যাথলিট হবার জন্যেই জন্মেছে। হাতেপায়ে অজস্র পেশি সামান্য নড়াচড়াতেই অদ্ভুত বিভঙ্গ তুলছে।
“তুমি কতদিন ধরে বোসের সার্কাসে আছ?”
“তা প্রায় শুরুর দিন থেইক্যে।”
“প্রিয়নাথ বোস তোমায় আগে চিনতেন?”
“এজ্ঞে না। মুই তো দেশের ঘর থেকে কলকাতা আসচু চাকরির খোঁজে। চাকরি মিলল নাই। তো সিমলেতে খুদিবাবুর আখড়ায় নাম লিখালুম। সেখানে লাঠি খেলা, ব্যায়াম, প্যারালাল বারে খুব নাম হল। একদিন বোস সায়েব এলেন। খুদিবাবু আমাকে দেকিয়ে বললেন, ‘এটিকে তোমার সার্কাসে নাও। দুটি খেয়ে পরে বাঁচুক।’ বোস বললেন, ‘যা বলব তা শুনবে?’ বললুম আপনি মালিক। আপনার পাছুতে পাছুতে ঘুরবক। বোস হেসে কইলেন, উয়ার দরকার নাই। কথা ভালেই চলবো। সেই থেকে সার্কাসে আছি।”
“সার্কাসে কী খেলা দেখাও?”
“ট্র্যাপিজের খেলা, প্যারালাল বারের খেলা, ব্যালেন্সিং, হাই জাম্প, গোল ভল্ট। এখন কিছুদিন বন্ধ আছে।”
“কেন?”
“চোট লাগল যে। বারের খেলা দেখাচ্ছিলাম। জয়েন্টের ক্রুপ ঢিলা হয়েছিল। আগে দেখি নাই। বার নিয়ে মাটিতে পড়লাম। বোস সাহেব বললেন, তুই মাস তিনেক বিশ্রাম লে ছোঁড়া। ইদিকে গণপতির হেল্পারের দরকার ছিল। আমি বস্যে থাকতে লারব। তাই জুতে গেলাম। তিন মাস পরে আবার খেলা দিখাব।”
“এখন তুমি উঁচু পাঁচিল বাইতে পারবে? কিংবা বাঁশ দিয়ে টপকাতে?”
“এজ্ঞে তা পারব। কেনে?”
“এমনি জিজ্ঞেস করলাম। এখানে তোমার কাজ কী?”
“সেকেন্ড হেল্পার। ম্যাজিশিয়ানের যতটা ম্যাজিক মঞ্চে দেখেন, উটা চার আনা বট্যে। বাকি বারো আনা হয় স্টেজের পিছনে। উয়াতে হেল্পার লাগে। আমি ছিলাম সেকেন্ড হেল্পার।”
“আর ফার্স্ট?”
“উ যে ছোঁড়াটা সাহেবের হাতে মরল। নন্তু। উ ছাওয়াল ছিল ফার্স্ট হেল্পার।”
“ও কবে আসে সার্কাসে? মনে আছে?”
“খুব আছে। আমরা বরোদার রাজবাড়িতে সার্কাস দেখিয়ে আশেপাশে কিছু খেলা দেখাচ্ছি, একদিন বোস উয়াকে নিয়ে তাঁবুতে এলেন। বললেন, শুনে রাখ, এর নাম ভূপেন। আজ থেকে সার্কাসে হেল্পারের কাজ করবে। সার্কাসে হেল্পারের কাজ করে নদে আর বলাই। তারা বললে, তবে কি আমাদের ছুটি? বোস বললেন, তোরাও থাকবি। এ শুধু গণপতিকে হেল্প করবে।”
“এই ভূপেন, মানে নস্তু কেমন মানুষ ছিল?”
“এজ্ঞে, কী আর বলি, মরা মানুষের নামে খারাপ কইতে লারব, কিন্তু ছোঁড়া চালাক ছিল খুব।”
“কেমন?”
“গণপতির সামনে, প্রোফেসর বোসের সামনে মাথা নিচু করে থাকত, যেন বোঝেই না কিছু। তারা সরে যেতেই তাদের পাছতে যা-তা নিন্দেমন্দ করত। আর সব বিষয়ে পোচ্চুর কৌতূহল।”
“কেমন?”
“এই সার্কাসের ট্যাকা আসে কোথা থেকে? কে কে বোসবাবুর সঙ্গে দেখ্যা করতে আসে? আশেপাশে কোনও স্বদেশিদের উৎপাত আছে কি না। স্বদেশিদের বেশ ভয় পেত ছোঁড়া। একবার, আমরা সেবার পাটনায়, শোনা গেল স্বদেশিরা কোন কাপড়ের দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেদিন যদি দেখতেন! সারাদিন তাঁর বাইরে বেরোল না। খেলার সময় হিপোড্রোমের পাশেই থাকে। সেদিন মাথা ধরেচে বলে তাঁবুতে শুয়ে রইল। পরে যখন জানা গেল ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়ায় এমনটা হয়েছে, তখন ছোঁড়া শাস্ত হল।”
“তুমি নাকি পুলিশকে বলেছ, এখানে আসার পর নস্তুর ব্যবহার বদলে গেছিল?”
“তা বদলে গেসল এজ্ঞে। যেদিন এখানে এলুম, বিকেলে আমি, গণপতি আর নন্তু, ডাঁড়িয়ে ডাঁড়িয়ে পুলিশ আপিসের দালান বানানো দেখছিলাম। পাঠশালার মাস্টারবাবু আমাদের পানে আসছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটা সাঁওতাল মেয়েছেলে মাথার ইট নিয়ে নিচে পড়ে গেল। আমরা দৌড়ালাম। আমি আর গণপতি। বাকি কুলি কামিনরাও দৌড়ে এল। মাস্টারও এলেন। নন্তু এল না। মেয়েছেলেটার তেমন কিছু হয় নাই। আমি ফিরে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুই এলিনে কেন?” নন্তু আমায় যেন দেখতেই পেলে না। গণপতিকে বললে, ‘আমার সঙ্গে তাঁবুতে চলো। কথা আছে।”
“তারপর তোমরা তাঁবুতে গেলে?”
“আমায় ও ঢুকতে দ্যায় নাই। ভিতরে ফিসফিসিয়ে কী কথা হল জানতে পারি নাই। শুধু একবার শুনলাম গণপতি বললে, ‘তোর পায়ে ধরি। শো-টা হয়ে যাক। তারপর তোর যা মনে হয় কর।”
“নন্তু কী বলল?”
“তখন কিছু বলেনি। আর একদিন শুনলাম তাঁবুর ভিতরে নন্তু জোরেই বলছে, ‘বোস তোমাকে কুকুরের মতো রেখেছে। আমি যা বলছি শোনো। নিজের মালিক নিজে হবে। লাখ টাকার বিছানায় শুয়ে থাকবে’, জবাবে গণপতিও কিছু একটা বলে। বেরোবার সময় নন্তু বলে বেরোয়, ‘চাকর চিরকাল চাকরই থাকে। মালিক হবার সুযোগ পেলেও হয় না।”
“এই ঘটনার পর তুমি গণপতির তাঁবুতে গেছিলে?”
“এজ্ঞে। আমি আর হরিমতী। আমরা জিজ্ঞেস করি, কী হয়াছে? গণপতি আমারে বলে, কিছু হয় নাই। হরিকে থেকে যেতে বলে। আর বলে সবাইকে বলে দিতে, তাঁবুর ভিতরে কেউ যেন না আসে। আসলে উয়াদের মধ্যে… আপনারা জানেন তো…”
“এবার বলো ম্যাজিকের দিন কী হয়েছিল? সকাল থেকে বলবে।”
“বিশেষ কিছু হয় নাই। অন্য শো-র দিন যেমন হয়। তবে সেদিন কোনও কারণে নন্তুর কাজে মন ছিল না। তাসের ম্যাজিকের কার্ড বাঁটতে তিনবার ভুল করল। আমি বললেম, ছাড় ক্যালা, আমি করো দিচ্ছি। তো বলল, আজকের দিনটা দেখে দে। এর পুরস্কার পাবি। সেদিন সব কিছু আমিই সাজালাম। সন্ধ্যা হবার কিছু আগে নস্তু বলল, শুরুতে একটু দেরি হতে পারে। বাজনদারদের জোর জোর বাজাইতে বল। বললাম, কেনে দেরি হবে। বললে, গণপতি এখন নাই। একটু কাজে গেছে। কী কাজ বলাতে বলল, ‘তুর এত কথা কীসের?’ আমিও আর কিছু জিজ্ঞেস করি নাই।”
“আচ্ছা, এই যে ভূত নামানোর খেলা, এতে সত্যিই ভূত নামে?” এতক্ষণে প্রথমবার তারিণী প্রশ্ন করল।
বিপিন উত্তর দিল না।
“নামে কি?”
“এজ্ঞে, ম্যাজিকের কৌশল বলতে নেই। রাজা ভোজ আর রানি ভানুমতী পাপ দেন। গণপতি বলেছে।”
“তাহলে আমি বলি। বাংলায় একে বলে স্বরক্ষেপণ, মানে ইংরিজিতে ভেন্ট্রিলোকুইজম। এতে ঠোঁট না নাড়িয়ে এমনভাবে কথা বলা যায়, যেন মনে হয় অনেক দূর থেকে কেউ কথা বলছে। গণপতি এ জিনিস পারে। আমি আগে দেখেছি।”
প্রিয়নাথ মাথা নেড়ে সায় দিলেন। সেই সেবার ম্যাসনদের কীর্তিকলাপের সময় তিনিও গণপতির এই ক্ষমতা দেখেছেন।
“কিন্তু আসল প্রশ্ন অন্য জায়গায়। বন্দুকের কৌশলটা ঠিক কী? এটা বলো দেখি।”
“বলা বারণ। গণপতি আমায় পোড়ামাতার দিব্যি দিয়েছে।”
“খুব ভালো। তবে শুনে রাখো বিপিন, নন্তু আর টেলর সাহেবের মৃত্যুর যোগ প্রায় স্পষ্ট। তাতে যদি গণপতির দোষ প্রমাণিত হয়, তবে তোমাকেও যেন ষড়যন্ত্রে সাহায্যকারী হিসেবে ফাঁসি দেওয়া হয়, সেটা আমি নিশ্চিত করব। সুতরাং শেষবারের মতো বলছি, তারিণীবাবু যা প্রশ্ন করছেন, তার জবাব দাও। আর হ্যাঁ, মিথ্যে বলার চেষ্টাও করবে না।”
মৃত্যুভয় এমন জিনিস যা পোড়ামাতার দিব্যিকে বিলকুল ভুলিয়ে দিতে পারে। হাউমাউ করে কেঁদে প্রিয়নাথের পায়ে ধরল বিপিন।
“এজ্ঞে, আমি কিছু করি নাই। আমারে ফাঁসি দিবেন না এজ্ঞে। আমি যা জানি সব বইলব। গুলির খেলা এমন কিছু লয়। গণপতি কলকেতার দাঁ অ্যান্ড সম থেইক্যে অর্ডার দিয়ে কিছু নকল গুলি বানাইছে। তিন-চার রকমের ধাতু দিয়ো বানানো এই গুলি এমনিতে গোল গোল সিসার গুলির মতোই। কিন্তু চাপ লাইগলে কালো গুঁড়া গুঁড়া হয়ো যায়। দুইঘরা রিভলবারে একটা ঘরে থাকে আসল গুলি আর একটায় এই নকল গুলি। খেলা দেখানোর সময় যাকে গুলি মারা হয়, সে আগে থেকেই মুখে আসল সিসার গুলি পুরে রাখে। জাদুকর সিলিন্ডারে আসল গুলি দেখাইয়ে গুলি ছুড়তে দিবার আগে কায়দা করে সিলিন্ডার ঘুরায়ে দেয়। বন্দুকের ঘোড়া টিপলে আওয়াজ হয়, ধোঁয়া হয়, গুলি ছোটে না। আসল গুলি পার হয় মুখের ভিতর থেকো।”
“সেদিন তবে কী হয়েছিল? গণপতি বন্দুকের সিলিন্ডার ঘোরাতে ভুলে গেছিল?”
“না দারোগাসাহেব। যাতে ভুল না হয়, তাই গণপতি সিলিন্ডার ঘোরানোর পর উইংসে আমার দিকে চেয়ে একবার হাত ওঠায়। আমি সেদিন দেখেছি। গণপতি সিলিন্ডার ঘুরিয়েছে। হাতও দেখিয়েছে।”
“মানে যে গুলিটা পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছিল, সেটাই মেকি গুলি?” প্রিয়নাথ প্রশ্ন করলেন।
“ভুল করছেন দারোগাবাবু”, তারিণী বলল।”মেকি গুলিটা ছিল নন্তুর মুখে। আর্থার গুলি ছোড়ার মুহূর্তে চোয়ালের চাপে সেটা গুঁড়ো হয়ে যায়। নস্তু বোঝে, সে ভুল গুলি মুখে পুরেছে। কিন্তু তার আগেই যা হবার হয়ে যায়। আর্থার এই কালো গুঁড়োই দেখেছিলেন নন্তুর মুখে।”
“এই গুলি নন্তুর মুখে কে পুরে দিয়েছিল?” তারিণী বিপিনকে জিজ্ঞেস করল।
“আজ্ঞে নন্তু নিজেই। এই খেলা দেখানোর কথা তো ছিল গণপতির। কিন্তু স্টেজে ওঠার আগেই নস্তু বলে, গুলির খেলা সে দেখাবে। গণপতি রাগ করে। শেষে মেনে নেয়। এটাও বলে, আজই তুর শেষ খেল্যা। কিন্তু গুলি নস্তু নিজেই নিজের মুখে ঢুকাইছে।”
“তুমি দেখেছ ঢুকাতে?”
“এজ্ঞে, আমি তখন খেলার দিকে ব্যস্ত ছিলাম। খেলা শুরু হলে অন্যদিকে দেখা যায় না।”
“ম্মুখে পোরার আসল গুলিটা কোথায় থাকে?”
“গণপতির কাছে।”
.
জমিদারমশাই কোনও কাজে জিরনিয়া গেছেন। কখন আসবেন কেউ জানে না।”আমি একটু পুলিশ স্টেশন থেকে ঘুরে আসি”, বলে প্রিয়নাথও চলে গেলেন। ঝিরনি নদীর তীরে খানিক বসে তারিণী ভাবতে লাগল। একটা জটিল জাল যেন চোখের সামনে ফুটে উঠেই মিলিয়ে যাচ্ছে। সবকটা চরিত্র যেন পারদের মতো। পিচ্ছিল। কাউকে ধরা যাচ্ছে না। চেনা যাচ্ছে না। এমনকী যে প্রিয়নাথ কিংবা গণপতিকে সে চেনে বলে ভাবত, তারাও কেমন অদ্ভুত অচেনা হয়ে যাচ্ছে।
সন্ধ্যা নামল। ঝোপের ঝিঁঝিপোকাদের ডানায় কিরকির শব্দে যেন গোটা নদীর পার মুখর হয়ে উঠেছে। জমে থাকা অন্ধকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে একদল জোনাকি। আরও খানিক বসে থাকত হয়তো, কিন্তু বড়ো বড়ো ভীশ মশার কামড়ে পা ফুলিয়ে দেয়। ঘরে ফিরে তারিণী দেখল, মাখন এক কিশোরীর সঙ্গে আন্তরিক আলাপে মগ্ন। একে তারিণী আগে কোথাও দেখেনি। কিন্তু মাখন গল্প করছে যেন কতদিনের চেনা। কিশোরীর পরনে লম্বা সাদা গাউন, গলায় প্রভু যিশুর লকেট ঝুলছে। তারিণীকে ঘরে ঢুকতে দেখে মেয়েটি থতোমতো খেয়ে উঠে দাঁড়াল। মাখন বললে, “আরে উঠলে কেন? উনিই তো আমার তিনি। আর এই যে মিষ্টি মেয়েটিকে দেখছ, এর নাম খুকি। থুড়ি উত্তমা। আর একটা দাঁতভাঙা ইংরাজি নাম আচে, সেটা আমি বলতে পারছি না। এই তামাটুলিতে আসার সময় ট্রেনে আলাপ। তোমার সঙ্গে ওর যেন কী দরকার আছে।”
তারিণী কিছু বলার আগেই মেয়েটি তার পায়ে কেঁদে পড়ে বলল, “আপনি মাস্টারমশাইকে বাঁচান তারিণীবাবু। পুলিশ একটু আগে মিথ্যে মামলায় ওঁকে গ্রেপ্তার করেছে।”
“মাস্টারমশাই মানে এখানের প্রাথমিক স্কুলের মাস্টার? হঠাৎ করে কী এমন হল? তুমি আমায় সবটা খুলে বলো উত্তমা।”
.
