সপ্তদশ অধ্যায়—উপসংহার
মাননীয় শ্রীযুক্ত তারিণীচরণ রায় সমীপেষু,
দাদা,
এই নামে সম্মোধন করিবার জন্য প্রথমেই মাফ চাহিয়া লইতেছি। সামনাসামনি বেশি কথা বলিবার সাহস হয় নাই। কিন্তু আমার যে উপকার আপনি করিয়াছেন, তাহা বহু সহোদর ভ্রাতা আপনার ভগিনীর জন্য করে না। আপনারা দার্জিলিং হইতে কলিকাতা ফিরিয়া গিয়াছেন, প্রায় ছয় মাসাধিক হইতে চলিল। এই সময়ে এই শহরে বহু পরিবর্তন ঘটিয়া গিয়াছে। গ্লেনডেল চা বাগান এক বাঙালি ব্যবসায়ী ক্রয় করিয়া লহিয়াছেন। এই প্রথম প্ল্যান্টার্স ক্লাবে কোনও নেটিভ সদস্যপদ পাইবেন। তবে ইহা লইয়া বিস্তর বাগবিতণ্ডা চলিতেছে। ডাক্তার হান্টার নিজের একখানি ছোটো হাসপাতাল খুলিয়া বিনামূল্যে দরিদ্র নেপালি, ভুটিয়া আর কামিদের চিকিৎসা করেন। বাবার সেই আগের রোখ নাই। তিনিও দারোগাগিরিতে অবসর লইয়া গৃহেই কালাতিপাত করিয়া থাকেন। কুমুদবাবুর কোনও খবর নাই। সম্ভবত তিনি চিরকালের মতো দার্জিলিং ছাড়িয়াছেন।
যে কারণে এই পত্র। আগামী মাঘে আমার বিবাহ স্থির হইয়াছে। পাত্র আমারই এককালের সহপাঠী প্রেমেন্দ্র। পাত্র নির্বাচনের ভার বাবা আমার উপরেই নাস্ত করিয়াছিলেন। আর বিস্তারিত কীই বা বলি? আপনি মাখনকে লইয়া অতি অবশ্য বিবাহে আসিবেন। সাত দিন পূর্ব হইতে আপনাদের আসা চাই। মনে রাখিবেন আমাদের আত্মীয় বন্ধু বলিতে আপনারাই।
মাখনকে আমার আদর দিবেন। খোকা হইবার সম্ভাবনা কিছু আছে কি? বড্ড প্রগলভ হইয়া যাইতেছি। ক্ষমা করিবেন।
আপনি আমার শত কোটি প্রণাম নিবেন।
ইতি,
আপনার ভগিনীসমা,
কল্যাণী
স্টেপ অ্যাসাইড, দার্জিলিং
.
তথ্যসূত্র:
১। দারজিলিঙ্গের ইতিহাস — শ্রী হরিমোহন শান্যাল (১৮৮০)
২। সচিত্র দার্জ্জিলিংএর পার্ব্বত্যজাতি — শ্রী নলিনীকান্ত মজুমদার (১৯২৬)
৩। দার্জিলিঙ্গ প্রবাসীর পত্র — শ্রী তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫)
৪। মেঘের মুলুক — উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
৫। দার্জিলিং যাত্রা — জলধর সেন (১৮৯৫)
৬। দার্জিলিঙ্গের পত্র — হরিহর শেঠ (১৯২৮)
৭। চা: ইতিবৃত্ত, আবাদ, প্রস্তুতপ্রণালী — শচীন্দ্ৰনাথ ঘোষ
