পঞ্চদশ অধ্যায়—শিখা জ্বলে ওঠে

পঞ্চদশ অধ্যায়—শিখা জ্বলে ওঠে

২ এপ্রিল, শুক্রবার। আজ প্রভাত হইতেই এখানে ভয়ানক বাদলা। অবিশ্রান্ত জল জল জল। এরূপ মেঘলা বাদল যে কতদিন চলিবে তার ঠিক নাই। শুনিয়াছি পাহাড়ে একবার বৃষ্টি হইতে আরম্ভ হইলে সহজে ছাড়ে না। তবে এসময়টা ঠিক বর্ষাকাল নয় এই যা আশা ভরসা। দিনকতক এইরূপ বৃষ্টি চলিলেই আমাদের পালাইতে হইবে। বাদলায় এত শীত বাড়িয়াছে যে না বেড়াইলে গরম হওয়া যায় না, একটুখানি চুপ করিয়া বসিয়া থাকিলেই শীতে সব কনকন করিতে থাকে ! ইংরাজদের ঘরে এখন সারাদিনই আগুন। একটু সারসি খুলিলেই দেখা যায়-আকাশ হইতে নিচে ঝুপ ঝুপ করিয়া জল পড়িতেছে, আর দার্জিলিঙের বাড়িগুলির চিমনি হইতে হুস হুস করিয়া উপরে ধোঁয়া উঠিতেছে। দূরের পাহাড় পর্বতের দৃশ্য একেবারেই অদৃশ্য, সমস্তই মেঘাচ্ছন্ন, নিকটের পাহাড়ম্ভর, গাছপালাও মেঘ বৃষ্টিতে একাকার হইয়া কেমন আবছায়া, অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে। এই অস্পষ্ট আঁধার দৃশ্যের মধ্যে যে গাম্ভীর্যের ভাব তাহা বড়োই উপভোগ্য। ইহার দিকে চাহিয়া বেশ ভুলিয়া থাকা যায়, দার্জিলিঙের রৌদ্রময় মূর্তির জন্য আর প্রাণ ছটফট করে না। তবে সারসি খুলিতে না খুলিতে এত জলের ছাঁট আসে যে বেশিক্ষণ সারসি খুলিয়া এই দৃশ্য ভোগ করা যায় না এই দুঃখ। একটা ভারি আশ্চর্য, এখানে এতটা বাদল চলিতেছে কিন্তু মেঘ বজ্রের গর্জন নাই। আগে শুনিয়াছিলাম পাহাড় প্রদেশের নিচের পাহাড়ে বজ্রবৃষ্টি বিদ্যুৎ হয়—উঁচু পাহাড়ে বসিয়া তাহা দেখা যায়। কিন্তু তাহা দূরে যাক, এখানে বৃষ্টি বাদলের মধ্যে বসিয়া মেঘের ডাক শুনিতে পাই না, কিমাশ্চর্যমতঃ পরং। আমাদের দেশে বৃষ্টিতে ভিজিলে যেমন অসুখ করে এখানে কিন্তু তা হয় না। এ দেশের লোকের তো কথাই নাই—ইংরাজেরাও ‘ওয়াটারপ্রুফ’ কাপড় পরিয়া রাস্তায় দিব্য যাওয়া আসা করেন।

আজ মনে বড়ো দোলাচল। যে কারণে আর কিয়ৎক্ষণ বাদেই সকলকে সম্মিলিত হইতে বলিয়াছি, জানি না, আমার সেই শো-ডাউন সফল হইবে কি না পাহাড়ে ঘুরিতে আসিয়াছিলাম। কিন্তু রহস্যের যে জটিল ঘূর্ণাবর্ত এই ক’টি মানুষকে ঘিরিয়া উদ্দাম নৃত্য করিতেছে, তাহার তুলনা বুঝি আজ অবধি পাই নাই। কিছুকাল পূর্বে এক ভূতকে জব্দ করিয়াছিলাম। কিন্তু এই শৈলশিখরে যে ভূত নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালাইতেছে, তাহার প্রকৃতি বুঝি আরও নির্মম। পরমেশ্বরকে ধন্যবাদ উনি আমায় এই অন্ধকার পথযাত্রায় আলোক প্রদান করিয়াছেন। সব পরিকল্পনামতো চলিলে আজই সকল রহস্যের সমাধান হইবে। হেপিরমকারুণিক পিতা, হে ঈশ্বর, আমায় শক্তি দাও। ওই বুঝি বসার ঘরে সকলে আসিল।

তারিণীর অনুরোধে নলিনীবাবুর বসার ঘরে আজ অনেকেই একত্র হয়েছেন। নলিনীবাবুর জ্বর কমেছে। তবে জ্বরের ধকল কমেনি। তিনি একটা আরামকেদারায় গা এলিয়ে বসে আছেন। কল্যাণীও তাঁর পাশে বসে। তার একপাশে একটা বেতের আসনে মাখনলতা। প্রথমে সে এই সভায় থাকতে চায়নি। পরে তারিণীর পীড়াপীড়িতে একরকম অনিচ্ছায় রাজি হয়েছে। বর্ষাতি খুলে ডাক্তার হান্টার “অসময়ে কী ভয়ানক বৃষ্টি। ওহফফ”, বলে একদিকের সোফায় বসে তারিণীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন “কী ব্যাপার? এমন জরুরি তলব?”

তারিণী শুধু একটাই প্রশ্ন করল, “আচ্ছা ডাক্তারবাবু, জর্জকে যে ছুরি দিয়ে খুন করা হয়েছে, তাতে কোনও হাতের ছাপ পাওয়া যায়নি। তাই তো?”

একটু যেন চমকেই উঠলেন ডাক্তার।”এ কথা তো তোমার জানার কথা না। জানলে কীভাবে?”

মুচকি হেসে তারিণী বললে, “অনুমান। সাইগারসন সাহেব শিখিয়েছিলেন।”

“আর কে কে আসবে? নাকি সবাই আমরা এসে গেছি? আর রহস্য কোরো না তারিণী। যা বলার বলে ফেলো।” নলিনীবাবু তাগাদা দিলেন। তারিণীর চোখ হাতের ট্যাঁকঘড়িতে।”দয়া করে আর-একটু অপেক্ষা করুন। চাকরটা খানিক আগে ফিরেছে। এবার পিছন পিছন অন্যজনও আসবেন। উনি এলেই সব খুলে বলব।”

পাঁচ মিনিটও লাগল না। প্রায় ভিজে হস্তদন্ত হয়ে ঘরে প্রবেশ করল কুমুদরঞ্জন ভট্টাচার্য। বোঝা গেল সে এতজনকে বসার ঘরে দেখবে বলে আশা করেনি। বিশেষত নলিনীকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখে যেন বেশ থতোমতো খেয়ে গেল সে। কী যেন একটা বলবে বলেও ঢোঁক গিলে নিল।

“আসুন আসুন কুমুদবাবু। আপনার অপেক্ষাতেই ছিলাম।” একগাল হেসে কুমুদকে আপ্যায়ন করল তারিণী।

“কিন্তু, আমাকে তো আপনি চিঠিতে লিখেছিলেন…”

“কী লিখেছিলাম?”

“এই চিঠি আপনার নয়?” বলে কোট থেকে আধভেজা একটা চিঠি বার করে বাড়িয়ে ধরল কুমুদ।

“কীসের চিঠি? দেখি?” হাত বাড়িয়ে দিলেন নলিনী। জোরে জোরে পড়তে লাগলেন-

কুমুদবাবু,

বিশেষ প্রয়োজনে এই চিঠি লিখিতে বাধ্য হইতেছি। কাল গভীর রাত হইতে নলিনীবাবুর অবস্থা অতি সংকটজনক। জ্বর কিছুতেই কমিতেছে না। উনি বুঝিয়াছেন শেষ সময় উপস্থিত। আজ খানিক বাদেই উকিলকে ডাকিতে বলিয়াছেন। সম্ভবতঃ সকলের সম্মুখেই তিনি নিজের অস্তিম ইচ্ছা ব্যাক্ত করিবেন। আপনি পারিবারিক বন্ধু এবং ভবিষ্যৎ আত্মীয়। আমি অজ্ঞাতকুলশীল হইলেও আমার ধারণা, আপনার উপস্থিত থাকা বিশেষ প্রয়োজন। মৃত্যুর পূর্বে আপনার বিবাহের ঘোষণাও হইতে পারে। উত্তরের প্রয়োজন নাই। আপনি অতি অবশ্য আসিয়া হাজির হউন।

ইতি

শ্রী তারিণীচরণ রায়

.

চিঠি পড়ে নলিনী স্তম্ভিত।”এ চিঠি তুমি লিখেছ?”

“আজ্ঞে হ্যাঁ।”

“কিন্তু কেন?”

“কুমুদবাবু ব্যস্ত মানুষ। নিজের ব্যাগ নিতে আসার সময় তাঁর হয় না। তাঁকে ডেকে আনতে গেলে এই চিঠি ছাড়া গতি ছিল না।”

“আমার এসব ঠাট্টা ইয়ার্কির সময় নেই। অনেক কাজ ফেলে এসেছি। আমায় যেতে হবে।”

“আহা… যাবেন তো বটেই। একটু জলখাবার না খেয়ে গেলে গৃহস্থের অকল্যাণ হবে যে। আর আজ আমি সবাইকে ডেকেছি একটা গল্প শোনানোর জন্য। আপনিও নাহয় শুনে যান। জানি আজই আপনি কলকাতায় যাবেন। কিন্তু সে ট্রেনের তো ঢের দেরি আছে।”

“একটু বসে যাও কুমুদ। দেখাই যাক না, কলকাতার এই ফেমাস ডিটেকটিভ কী বলতে চায়।” মুখে বললেও নলিনীর গলায় বিরক্তির সুর স্পষ্ট। এই ছেলেটি বড্ড বাড়াবাড়ি শুরু করেছে।

কুমুদ মুখে কিছু বললে না। একটা কাঠের চেয়ারে গুম হয়ে বসে হাত বাড়িয়ে চায়ের পেয়ালা উঠিয়ে নিল।

তারিণী বসল না। ঘরের এমন জায়গায় সে দাঁড়িয়ে আছে, যেখান থেকে সবাইকে দেখা যায়। ঘড়িটা আবার ট্যাঁকে গুঁজে কথা শুরু করল তারিণীচরণ।

“যদিও এখন চৈত্রমাস, তবু আজ পাহাড়ে বর্ষা নেমেছে। তাই সত্যি না, নেহাত আষাঢ়ে গল্প হিসেবেই আমি যা বলব শুনে যান। আমি গল্পটা বলতাম না। বলতাম না, তার একটাই কারণ। যা বলব, তার পাথুরে প্রমাণ আমার হাতে নেই। অনেক কিছু জানি না, জানার উপায় নেই, কেস করলে সে কেস আদালতে টিকবেও না। কিন্তু ডাক্তার হান্টারকে আমি কথা দিয়েছি, গোটা গল্প না বলে পাহাড় ত্যাগ করব না। তাই এই গল্প আসলে তাঁর জন্যেই। এটা একটা থিয়োরি হিসেবে ধরে নিন। কিন্তু এটাই একমাত্র থিয়োরি, যাতে বিগত কিছুদিন ধরে ঘটে চলা সব ঘটনার ব্যাখ্যা সম্ভব। ডাক্তার হান্টারের জন্য আমি ইংরাজিতেই বলছি, ভুলভ্রান্তি মাফ করে দেবেন। মাখন সমস্তটা জানে। ওকে কাল রাতেই সব খুলে বলেছি।”

এইটুকু বলে একটু থামল তারিণী। ঘরে সবাই নিশ্চুপ। বাইরে শুধু অঝোর বর্ষার শব্দ। কুমুদ সশব্দে চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিল।

“যার খুন দিয়ে গোটা কাহিনির শুরু, সেই কার্মি বউটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। এতদিনে তার নাম জানতে পারিনি। প্রয়োজন নেই। কারণ নামের সঙ্গে একটা চেহারা চলে আসে। আর চেহারার সঙ্গে স্মৃতি। মেয়েটির সঙ্গে যা ঘটেছে, তাতে এই স্মৃতি বড্ড কষ্টের। এই বউটিকেই অতিক্রম করতে গিয়ে বাধা পেয়েছিলেন জর্জ উইলিয়ামসন। এই বউটিকেই ধর্ষণ করে খুন করা হয়। সবাই জর্জকেই সন্দেহ করে। কিন্তু সন্দেহ থাকলেও প্রমাণ নেই। জর্জ ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইন তাঁর পক্ষে। গোটা ব্যাপারটাই ধামাচাপা পড়ে যেত, যেমন যায়, যদি না তার স্বামী লোবসাং সেখানে উপস্থিত তিনজনকে অভিশাপ দিয়ে বলত তিনজনের কাছের কেউ মারা যাবে। বাকি দুইজন ব্যাপারটা কীভাবে নিয়েছিল জানি না, কিন্তু এই অভিশাপ সত্যিই যাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, তার নাম দারোগা নলিনীকান্ত চক্রবর্তী।

মাখন কল্যাণীর থেকে জানতে পেরেছে, শুরু থেকেই তিনি এসবে বিশ্বাস করেন। নিজে বলেছেন প্রেতযোনিতে তাঁর অগাধ আস্থা, আর এই পাহাড়ে এসে সেই সংস্কারের পালে হাওয়া দিল আরও একজন। ফুলি। সে হয়তো নলিনীবাবুকে বোঝাতে শুরু করল সর্দারের অভিশাপ ব্যর্থ হবার না। যতদিন সর্দার বেঁচে থাকবে, অভিশাপ ফলবেই। অভিশাপের ভয় ক্রমাগত গ্রাস করতে লাগল নলিনীবাবুকে। তিনি তুকতাক, ওঝা, সব করলেন। তবু তাঁর মন মানল না। এর ঠিক পরেই লোবসাং খুন হল এবং থানায় কোনও অভিযোগ রুজু হল না। রাতারাতি লোবসাং-এর ভাই সর্দার হয়ে বসল। গোটা ঘটনা ধামাচাপা পড়ে গেল। হতে পারে গোটাটাই কাকতালীয়, কিন্তু কল্যাণী ভেবে বসে তার বাবা কোনও এক পাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।”

“চুপ করো। একদম চুপ করে থাকো। কী প্রমাণ আছে তোমার কাছে?” চেঁচিয়ে উঠলেন নলিনীকান্ত।

“নেই। আমার কাছে কোনও প্রমাণ নেই। তবে এই ঘরেই এমন একজন আছে, যার কাছে হয়তো কোনও প্রমাণ আছে। আর আছে বলেই… আপনি শান্ত হয়ে বসুন নলিনীবাবু। শুরুতেই তো বললাম। আষাঢ়ে গল্প শুনতে ডেকেছি। আদালতে কিচ্ছু প্রমাণ করতে পারব না। আপনি এত উত্তেজিত হবেন না। তবে একটা কথা, যদি গোটাটা শোনেন, তবে যে ভয় আজ আপনাকে গ্রাস করেছে, তা থেকে হয়তো মুক্তি পাবেন।”

নলিনীবাবু উঠে চলে যাবেন বলে দাঁড়িয়েছিলেন। কী ভেবে আবার বসে পড়লেন।

“যা বলছিলাম। এই ঘটনার এক বছর তিন মাসের মাথায় এক রাত্রির অসুস্থতায় নলিনীবাবুর স্ত্রী মারা গেলেন। নলিনীবাবু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে শুরু করলেন সর্দার মরলেও অভিশাপ রয়ে গেছে আর এই সব কিছু সেই অভিশাপের ফল। তিনি নিজেই বিশ্বাস করলেন, নাকি কাজের মেয়ে ফুলি তাঁকে বিশ্বাস করাল কে জানে? হয়তো দ্বিতীয়টাই সত্যি। না হলে কল্যাণী তাকে বিদায়ই বা করবে কেন? সে বুঝেছিল এই মেয়ে অনর্থক বিপদ ডেকে আনছে। ফুলিকে নলিনীবাবু স্নেহ করতেন। তিনি ওফেলিয়া উইলিয়ামসনের বাড়িতে তাকে কাজে ঢুকিয়ে দিলেন। ঠিক সাত মাস বাদে আরও একটা মৃত্যু ঘটে যার সঙ্গে এই গোটা গল্পের কোনও সম্পর্ক নেই। সাত মাস বাদে ডাক্তার হান্টারের স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হল। নলিনীবাবুর মন একটার পর একটা মিথ বানিয়েই চলছিল। তিনি এই মৃত্যুকেও জুড়ে দিলেন সেই অভিশাপের সঙ্গে।”

“কী ভুলভাল বকছ তুমি? ডাক্তার হান্টারকে জিজ্ঞাসা করে দ্যাখো, সেই সর্দার ওকেও অভিশাপ দিয়েছিল কি না!” গর্জে উঠলেন নলিনী।

“ডাক্তার হান্টার আপনার সুহৃদ। খুব কাছের বন্ধু। তিনি আপনাকে আঘাত দিতে চান না বলে এত বড়ো মিথ্যেটা মেনে নিয়েছেন। ভাববেন না আমাকে তিনি কিছু বলেছেন। কিন্তু মন দিয়ে চিন্তা করে দেখুন দেখি, যে মানুষ সেই খুনের সময় অকুস্থলে থাকা দূরস্থান, হাজার হাজার মাইল দূরে লন্ডনে বসে সম্পত্তি বিক্রি করছিলেন, তাঁকে অভিশাপ দেওয়া কি আদৌ সম্ভব? আপনি নিজেই বলেছেন ঘটনাটা যখন ঘটে, তখন ছোটোলাটের কলকাতায় থাকার সময়। তাই আপনি ফোর্স পাচ্ছিলেন না। ছোটোলাট গোটা শীত কলকাতায় কাটিয়ে মার্চে দার্জিলিং আসেন। যেমন এখন এসেছেন। কল্যাণী মাখনকে জানিয়েছে ওই ঘটনার এক বছর তিন মাস বাদে তার মা মারা যায়। ফলে আমি নিশ্চিত, ঘটনাটা ঘটেছে ১৮৯৪-র জানুয়ারি মাসের গোড়ায়। এদিকে ১৮৯৩-র ডিসেম্বরে ডাক্তার হান্টার গেলেন লন্ডনে, ছয় মাসের জন্য। হিসেব মিলল? মিলল না। ফলে এখানে আর-একটা প্রশ্ন আসে। তবে সেদিন আপনি আর জর্জের সঙ্গে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে কি কেউ ছিল? থাকলে কে? আমি সে বিষয়ে আসছি। কিন্তু তার আগে অন্য একটা ভয়ানক সমস্যার সমাধান করি। ওফেলিয়া উইলিয়ামসনের খুন। এখন আমি প্রমাণ করব কীভাবে জর্জ উইলিয়ামসন নিজে একটা অসম্ভব খুন সম্পাদন করলেন।”