৪. প্রেতসংকাশ
(প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়ের ডায়রি থেকে)
অদ্য যাহা লিখিতে আরম্ভ করিয়াছি, জানি না তাহা লিখিবার এক্তিয়ার আমার আদৌ আছে কি না। জীবিত এবং মৃতের জগৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিলাতে মাদাম রাভাতস্কি হইতে ডয়েল সাহেব, সকলেই উহা বলিয়া গিয়াছেন। কিন্তু খোদ কলিকাতায় বসিয়া ইহা শুনিয়া যে আমোদ পাওয়া যায়, নাগরিক সভ্যতা হইতে মাইল মাইল দূরে এই ঘন বনানীর মাঝে, এই অশিক্ষিত সাঁওতাল বেদিয়াদের গ্রাম্য দেবতার থানে, চারিদিকের এই বৃহৎ কাচমুলা আর রক্তচিহ্নে খোদিত শ্যাওড়া গাছের মাঝে গড়িয়া ওঠা কাঁচা ঘরগুলির মধ্যে যে আদিম বাতাস বহিয়া চলে, তাহার স্পর্শে বহু অসম্ভবও সম্ভব হইয়া ওঠে। হৃদয় নরম হয়। কিংবদন্তিরা জীবন পায়।
বেদিয়াদের গ্রামে গমনকালেই আমাদের সঙ্গী পাইকটি জানাইল, গত দুইদিনে তামাটুলিতে তিনখানি রহস্যজনক মৃত্যু হইয়াছে। এই স্থানের ইতিহাসে এমনটি পূর্বে কখনও হয় নাই। সকলে কহিতেছে, কোনও অশরীরীর উৎপাতেই এমনটা সম্ভব। আমি প্রথমে ইহার কথায় কর্ণপাত করি নাই। কিন্তু তারিণী দেখিলাম উৎসুক হইয়া জিজ্ঞেস করিল, “এমন বলছ কেন?”
“আজ্ঞে, কী আর বলি? তামাটুলিতে প্রেতের নজর লেগেছে।”
“সে কেমন?”
“এই সমস্ত কিছুর পিছনে আছে ওই জাদুকর। গণপতি না কী যেন নাম। প্রেতকে বশ করা কি সবার আয়ত্তে থাকে? তেনাদের ডেকে আনা সহজ, একবার চলে এলে ফেরত পাঠানো অসম্ভব। সেই অশরীরী এখন গোটা তামাটুলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর মানুষের আত্মা চুষে খাচ্ছে”, বলিয়া পাইক মহাশয় নিজেই কেমন শিহরিয়া উঠিলেন।
আমরা বেদিয়া পাড়ায় চলিয়া আসিয়াছিলাম। ঘন অন্ধকার চারিদিকে ঘিরিয়া ধরিয়াছে। পাইকের হাতে মশাল ছিল। সে তাহা জ্বালিয়াই পথ দেখাইয়া নানা কথা বলিতে বলিতে চলিল। বেদিয়া পাড়া অন্য সাঁওতাল পাড়াগুলো হইতে খুব বেশি আলাদা নয়। একেবারে মধ্যস্থলে বড়ো সর্দার বা মাঝি হানানের গৃহখানি অন্যদের অপেক্ষা আকারে বৃহৎ এবং নানা পত্র পুষ্প দ্বারা অঙ্কিত। একপ্রান্তে মারাং বুরুর থান। এই মারাং বুরু সাঁওতালি গ্রামকে অপদেবতা হইতে রক্ষা করেন। প্রায় প্রতিটি গৃহের সম্মুখেই বড়ো দাওয়া, যেখানে জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সকল অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হইয়া থাকে। তবে শুনিলাম অপরিচিত লোকজনকে ইহারা বিশেষ পছন্দ করে না, যদিও আসিয়া পড়িলে সম্মান জানাইয়া আপ্যায়ন করে। মূল গ্রামটির ঘর কয়খানি ঘনসন্নিবিষ্ট। তাহা পার হইয়া আমরা একটি সরু পায়ে হাঁটা মাটির পথ ধরিলাম। সেই পথে খানিক অগ্রসর হইতেই মানুষজনের কণ্ঠস্বর শোনা গেল। দেখি প্রায় জনা কুড়ি সাঁওতাল পুরুষ ও রমণী, তাহাদের অনেকেই কোলে শিশুকে লইয়া স্থির দাঁড়াইয়া আছে। ইহাদের ভাষা আমার অজ্ঞাত। কিন্তু চাপা কণ্ঠে উত্তেজিতভাবে তাহারা যে কিছু আলোচনায় মত্ত, তাহা অনায়াসে বোঝা যায়।
পাইক উহাদের ভাষায় কিছু প্রশ্ন করিল। একজন সুঠাম দেহের সাঁওতাল হাত পা নাড়িয়া কী বলিল বুঝিলাম না, তবে সে যে ভয় পাইয়াছে তা স্পষ্টই প্রতীয়মান। পাইক আমাদের দিকে ফিরিয়া কহিল, “বাবু, আমি আর এগোতে পারব না। দুই পা দূরেই ওই বেদিয়া মেয়েটার ঘর। যা দেখার এখান থেকে দেখে নিন।”
“কেন, সমস্যা কী?”
“না বাবু। আমার সংসার আছে। পরিবার আছে। এখনও ওই বাড়িতে প্রেত ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরাও তাই বলল। আমি আর যেতে পারব না। আপনি ক্ষমা করবেন।”
ইহার পরে আর কথা হয় না। তারিণী”ঠিক আছে, আমায় মশালটা দাও”, বলে মশাল লইয়া আগাইল। আমিও পশ্চাদানুগমন করিলাম। পাইক ভুল বলে নাই। দুই পা যাইতে না যাইতে মাঠের ধারে একটেরে একটি সুন্দর সাজানো কুটির নজরে আসিল। আশেপাশে অন্য কোনও কুটির নাই। সম্মুখে লাঠিপারী দুই নেটিভ কনস্টেবল দাঁড়াইয়া খইনি ডলিতেছে। আমাদের দেখিয়া আগাইয়া আসিল। আমি নিজের পরিচয় দিলাম। উহারা স্যালুট জানাইয়া পথ ছাড়িয়া দিল।
তামাটুলি থানার ওসির দায়িত্বে বর্তমানে আছেন অলিভার হার্পার পাতেন। বয়সে ছোকরা। ইহার পূর্বে বেশ কিছুদিন সাহেব লালবাজারে থাকাকালীন আনার সঙ্গে তাহার ঘনিষ্ঠতা ছিল। আমি তাহাকে ডিটেকটিভগিরির নানা কলাকৌশল শিখাইতাম। ভিতরে আলো দেখিয়া বুঝিলাম মশাল জ্বলিতেছে। আমি নিজের নাম বলিয়া হাঁক পাড়িতেই সাহেব ‘কাম ইন’ বলিয়া স্বাগত জানাইলেন। আমার আসার খবরে তিনি যারপরনাই খুশি হইয়াছেন বলাই বাহুল্য। ছোটো ঘর। আসবাব বলিতে ঘরের এক কোণে একখানি ছোট খাট। উপরের চাদরটি গুটাইয়া মাটিতে লুটাইতেছে। তারিণীকে দেখিয়া সাহেব যারপরনাই বিস্মিত হইলেন। ফ্রিম্যাসনদের লইয়া কয়েক বৎসর পূর্বে কলিকাতায় যে ভয়ানক গোলযোগ বাধিয়াছিল, তাহার কথা অত্যন্ত গোপন রাখার কারণে সাহেবের কর্ণগোচর হয় নাই। আমি তাহাকে ‘ভেরি ব্রাইট অ্যান্ড ব্রিলিয়ান্ট প্রাইভেট ডিটেকটিভ’ বলিয়া পরিচয় দিলেও সাহেবের মুখভঙ্গিই বলিয়া দিল, তিনি খুব একটা প্রীত হন নাই। পুলিশ প্রসিডিওরালে বাহিরের মানুষ অবাঞ্ছনীয়ই বটে।
“এখানে কী হয়েছে?” আমার প্রশ্নের জবাবে সাহেব হতাশায় মাথার টুপিখানা খুলিয়া মাটিতে ছুড়িয়া ফেলিলেন।
“মিস্টার মুখার্জি, এত বছর এই ডিপার্টমেন্টে কাজ করছি, এত কেস হ্যান্ডল করেছি, কিন্তু এ যেন আমার চিন্তার বাইরে। গত তিনদিনে একের পর এক যা হয়ে চলেছে, তাকে ভূতুড়ে কাণ্ড বাদে আর কী-ই বা বলব? আমি এর মাথামুণ্ডু কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না।”
তারিণী ঘরে প্রবেশ মাত্র শিকারি বিড়ালের ন্যায় এদিক ওদিক ঘুরিতেছিল। সাহেব কিছু বলিবার আগেই সে ঘরের একমাত্র জানলার নিকট গিয়া ডাক দিল, “দারোগাবাবু এইদিকে দেখুন।” তাহার দিকে ফিরিতেই প্রথমবার সেই মেয়েটির মৃতদেহ আমার দৃষ্টিগোচর হইল। মশালের আলো সেই দিকটায় সহজে যাইতে পারে নাই। খাটের আড়াল রহিয়াছে। জানালার ঠিক নিচে অদ্ভুত ভঙ্গিমায় পড়িয়া আছে এক সাঁওতালি যুবতি। তার দুই চোখ বিস্ফারিত। যেন মৃত্যুর ঠিক আগে নিদারুণ কোনও আতঙ্ক তাহার হৃদযন্ত্রকে চিরকালের মতো বিকল করিয়া দিয়াছে। গোটা দেহ মুচড়াইয়া এমন হইয়াছে যেন কোনও প্রচণ্ড শক্তিধর মুষ্টি এই সুন্দর তনুটির রস নিংড়াইয়া লহিয়াছে। মুখ হাঁ। পাশেই একটি মাটির কলসি ভাঙিয়া ছত্রাখান হইয়া সারা ঘরে জল ছড়াইয়াছে। মাটির মেঝেতে দাগ দেখিয়া বোঝা যায় মরিবার আগে প্রাণপণে ছটফট করিয়াছিল মেয়েটি। বড়ো কষ্টের মৃত্যু!
“আপনাকে এটার খবর দিল কে?” হার্পার সাহেবকে প্রশ্ন করিলাম।
“আজ বিকেলে গ্রামের সর্দার মাঝি হানানের লোক থানায় গিয়ে জানাল, বুধনীকে নাকি ভূতে ধরেছে। ভূতের ব্যাপারে আমাদের কী করার থাকতে পারে? এসব গাঁয়ের ওঝাই দেখাশোনা করে। তাকেই জানাতে বললাম। সে বলল, গাঁয়ের কেউ নাকি বুধনীর ঘরে যাবে না। ওঝাও না। আমাদের থানায় লোকজন কম। তাও এক সিপাইকে পাঠালাম। সে-ই এসে খবর দিল বন্ধ ঘরে বুধনী মরে পড়ে আছে। কী জ্বালা বলুন দেখি। এমনিতেই পরপর দুটো খুন। এর মধ্যে এই আর-এক…”
“দরজা কি ভিতর থেকে বন্ধ ছিল?” আচমকা তারিণীর এমনতর প্রশ্নে হার্পার সাহেব যে বিলক্ষণ বিরক্ত হইলেন, তা তাঁহার মুখমণ্ডলেই প্রকাশ পাইল। উনি ভুরু কুঁচকাইয়া আমার দিকে চাহিতেই আমি সাহেবকে আশ্বস্ত করিলাম, এ ব্যক্তি যথেষ্ট বিবেচক ও বিশ্বাসযোগ্য। কাঁধ ঝাঁকাইয়া সাহেব তারিণীর প্রতি চাহিয়া বলিলেন, “হ্যাঁ। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। ছিটকিনি দেওয়া। আমাদের দরজা ভেঙে ঢুকতে হয়েছে।”
“বুধনীকে বাইরে শেষ কখন দেখা গেছে?”
“সেসব জিজ্ঞাসা করা হয়নি। তবে এর চিৎকার শুনে গাঁয়ের মেয়ে বউরা বাড়ির কাছে চলে আসে। প্রথমে বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিল। তারপর জানলার কাছে এসে তারস্বরে চিৎকার করে বলতে থাকে তাকে ভূতে ধরেছে। এই শুনে যারা সাহায্য করতে এসেছিল তারাও দূরে চলে যায়। খানিক বাদে পুলিশে খবর দেওয়াই দস্তুর মনে করে। তারপর তো এই অবস্থা।”
“ডাক্তার ডাকা হয়েছে?” তারিণী শুধাইল।
“তামাটুলির একমাত্র ডাক্তার পিয়ার্সন সাহেব নিজেই অসুস্থ হয়ে মাসখানেকের উপরে কলকাতায় প্রেসিডেন্সি জেনারেল হসপিটালে ভরতি। পাশ করা ডাক্তার বলতে এখন কেউ নেই। শুধু সিস্টার এলা আছেন। এখানের মিশনের দেখাশোনা করেন। ওঁর স্বামীর নাম শুনে থাকবেন। উইলিয়াম ওয়ার্ড। কলকাতার নামকরা চিকিৎসক ছিলেন।
ডাক্তার ওয়ার্ডের নাম শুনিয়াছিলাম। শুধু শুনি নাই, একবার এক কেসের উপলক্ষ্যে সামান্য আলাপের সুযোগও ঘটিয়াছিল। তবে তিনি যে গত হইয়াছেন সে খবর আমার নিকট ছিল না।
“ওঁর মৃত্যুর পর এলা মিশনে যোগদান করে আদিবাসী মেয়েদের উন্নতির জন্য এখানে চলে আসেন। সেই থেকে এখানেই আছেন। পাশ করা ডাক্তার না হলেও কাজ চালিয়ে দেন। বিশেষ করে মহিলাদের নানা সমস্যায় … বোঝেনই তো”, বলিয়া হার্পার সাহেব নিশ্চুপ হইলেন।
তারিণী কিন্তু বসিয়া নাই। কোথা হইতে একখানি মোমবাতি লইয়া নশালের আগুনে ধরাইয়া মৃতার একেবারে সম্মুখে গিয়া প্রায় আর্তনাদ করিয়া বলিল, “দারোগাবাবু এর চোখের মণি দুটো দেখেছেন? একেবারে কালির মতো কালো!” আমি কিছু বলিতে যাইব, তাহার পূর্বেই দরজার সামনে হইতে দৃঢ় কিন্তু সুললিত এক মহিলা কণ্ঠ শোনা গেল—
“প্লিজ, ও প্লিজ! ফর গডস সেক, ডোন্ট টাচ হার!”
চমকাইয়া দরজার সম্মুখে যাঁহাকে দেখিলাম, তিনি মাদাম এলা ব্যতীত কেহ হইতেই পারেন না। দীর্ঘ শুভ্রবর্ণ গাউন পরিহিত রক্তবর্ণ কেশের এই মহিলা বয়সে পঞ্চবিংশ বৎসর অতিক্রম করেন নাই বলিয়াই মনে হয়। কিন্তু তাঁহার চেহারায় এমন এক সৌম্য ভাব রহিয়াছে যে দেখিলেই সম্ভ্রম জাগে। এলার এক হস্তে একখানি ডাক্তারি ব্যাগ, অন্য হস্তে বেতের টুকরি। গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিতেছে। তারিণী তাঁহাকে দেখিয়াই শশব্যস্তে উঠিয়া পড়িল।
মৃতাকে পরীক্ষার কিছু নাই। তবু যতটা যা দেখার দেখিয়া মাথা নাড়িয়া এলা কহিলেন, “এর চিরবিদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সাঁওতালদের বিশ্বাস একে ভূতে ধরেছিল। কেউ এর দেহ ছোঁবে না। আপনারা পুরুষমানুষ, আপনারা ছুঁলে এরা ভালোভাবে নেবে না। আজ মিশনে মেয়েও বেশি নেই। রাতের ব্যবস্থাটা করি আগে। কাল ভোরে দেহ পোড়ানোর কথা ভাবা যাবে।”
মাদাম এলার কথায় জানিতে পারিলাম, কাহারও প্রাণবায়ু নির্গত হইলেই বেদিয়াদের শবদেহ একখানি লাল ঔষধিযুক্ত তেলে চর্চিত করিয়া নূতন সাদা কাপড়ে মাটিতে শোয়াইয়া রাখা হয়। মস্তকের নিকট একটি জল ও একটি চালপূর্ণ পাত্র এবং কয়েকটি টাকা রাখিয়া দেওয়া হয়। নিকটের এক গাছে এক মোরগকে কণ্ঠে কাঠের গজাল দিয়া মারিয়া আটকাইয়া রাখা হয়, যাহাতে মৃতদেহ ডাইন-এ পরিণত না হইতে পারে। পরদিন পাঁচজন মিলিয়া সেই শবদেহ বাহির করিয়া চিতায় রাখিয়া তিনবার প্রদক্ষিণ করে। অন্তে মৃতের নিকটতম আত্মীয় দক্ষিণমুখী হইয়া ঘাসের মশাল দিয়া চিতায় অগ্নিসংযোগ করে।
“কিন্তু পোস্টমর্টেম?” বলিতেই হার্পার সাহেব এবং মাদাম এলা যে দৃষ্টি দিলেন তাহাতেই বুঝিলাম ভুল কিছু বলিয়াছি।
থামিয়া থামিয়া যেন প্রতি কথা ভাবিয়া বলিতেছেন, এমনভাবে মাদাম কহিলেন, “এ আপনার কলকাতা শহর না দারোগাবাবু। এখানে অরণ্যের আইন চলে। এখানের লোকেরা কী বিশ্বাস করছে জানেন? কিছুদিন আগেই কলকাতার যে জাদুকর প্রেতাত্মা ছেড়ে দিয়েছিল, সে প্রেত এখনও ফিরে যায়নি। এত সব সেই কারণেই ঘটছে। সাঁওতালরা স্বভাবে শান্ত। কারও ক্ষতি চায় না। তাই সে জাদুকর বেঁচে আছে। নইলে এতদিনে… যা হোক, এরপর এদের মেয়েদের মৃতদেহ নিয়ে পরপুরুষ কাটাছেঁড়া করবে, সেটা এরা মেনে নেরে ভাবলেন কী করে?”
এই কথার উত্তর হয় না। চুপ করিয়া রহিলাম। এলা আগ বাড়িলেন না। শুধু বলিলেন, “মৃতদেহকে সারারাত পাহারা দিতে হয়। আমি নিজে জেগে থেকে পাহারা দেব। কাল সকালে দেখা হবে।”
হার্পার সাহেব কিছু কহিলেন না দেখিয়া আমরাও নিরুত্তরে জমিদারের ভবনে ফিরিয়া আসিলাম। এদিকে থানাও শূন্য রাখা যায় না। তাই কনস্টেবলরাও ফিরিয়া আসিল।
.
পুনশ্চ: ভাবিয়াছিলাম এইভাবেই এই অভিশপ্ত দিনের সমাপন হইল। কিন্তু হইল না। মধ্যরাতে দরজায় প্রবল কড়া নাড়ায় আমাদের নিদ্রাভঙ্গ হইতেই জমিদারের পাইক খবর দিল, বুধনীর কুটির কে যেন জ্বালাইয়া দিয়াছে। মাদাম এলা কোনওক্রমে বাঁচিয়াছেন। তাঁহার দেহের বহুস্থান হুতাশনে দগ্ধ হইয়াছে।
.
