রাজদ্রোহী – রবিন জামান খান
প্রকাশকাল: মার্চ ২০২২
প্রচ্ছদ – আশরাফ ফুয়াদ
.
উৎসর্গ
এই বইটার উৎসর্গের দাবিদার শুধুমাত্র একজন মানুষই হতে পারে।
আর সেটা আমি নিজে, রবিন জামান খান।
এই বইটা যখন আমি লিখছি, পড়ালেখা, সার্বিক জীবন-যাপন, পারিবারিক বিষয়াদি, প্রবাস জীবন, অ্যাকাডেমিক কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দিক থেকে আমাকে এত বেশি চাপ সামলাতে হয়েছে যে, একটা পর্যায়ে আমার মনে হচ্ছিল আমি হয়তো লিখতেই পারব না। কিন্তু সব সামলে শতভাগ প্যাশনের সাথে বইটা শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে লিখতে পেরেছি এটা আমার নিজের জন্যে রীতিমতো উৎসবের মতো একটা বিষয়। আর সেজন্যেই নিজেকে নিজেই উৎসর্গ করলাম রাজদ্রোহী।
ভালো থাকো রবিন জামান খান, আরও ভালো লেখার চেষ্টা করে যাও।
.
ফ্ল্যাপের লেখা
খুব সাধারণ একটা মিসিং পারসোনের কেস। চট্টগ্রামে অ্যাক্সিডেন্টে মৃত প্রফেসর আবদেলের পার্টনার এবং বন্ধু প্রফেসর ইফতেখার মাহমুদ নামে এক আর্কিওলজিস্টকে খুঁজে বের করতে হবে। কাজে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশার বুঝতে পারল কাজটা সহজ তো নয়ই বরং সাধারণ কিছুও নয়। খড়ের গাদা থেকে তাকে সুচ খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে একদিকে সুচটা অত্যন্ত বুদ্ধিমান, তার ওপরে আবার সুচটাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে একাধিক মানুষ। কেসে নামার সঙ্গে সঙ্গেই সে এমন এক ঝুঁকি নিয়ে নিলো যা তাকে নিয়ে যেতে পারে লক্ষ্যের খুব কাছে অথবা পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারে সদ্য ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে নিয়ে আসা পুলিশি ক্যারিয়ারকে। কিন্তু ঝুঁকি নিয়েই সে বুঝতে পারল বিরাট ভুল হয়ে গেছে।
সময় : ১৫৯৬ খ্রিস্টাব্দ। বাঙাল মুলুকে যুদ্ধের ঘনঘটা। একের পর এক বারোভূঁইয়াদের হাতে নাস্তানাবুদ হয়ে মোঘল সম্রাট বাংলাকে বিদ্ৰোহী প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাপতিদের একজন মানসিংহকে বিশাল বাহিনীসহ বাংলায় পাঠাল বারোভূঁইয়াদের প্রধান ঈশা খাঁকে যুদ্ধে পরাজিত করে বন্দি হিসেবে আগ্রা নিয়ে যাওয়ার জন্য। বীর ঈশা খাঁ রুখে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করল। কিন্তু সৈন্য সংখ্যা থেকে শুরু করে সবকিছুই মোঘলদের প্রতিহত করার জন্যে অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে সে নিজের বীর সেনাদের একজন মাসুম কাবুলী, যাকে পাঠান সেনাপতি শহবাজ খাঁ রাজদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করেছে, তাকে ভাওয়ালের জমিদার ফজল গাজীর আশ্রয় থেকে ডেকে পাঠাল বিশেষ এক উদ্দেশ্য নিয়ে। মাসুম কবুলীকে পানি-জঙ্গল আর হাওর- বিধৌত এলাকা থেকে খুঁজে বের করতে হবে সদ্য বিধবা হওয়া এক সুবাদারের স্ত্রীকে। এই সুবাদারের স্ত্রীর কাছে আছে এমন কিছু যা বদলে দিতে পারে মোঘলদের সঙ্গে বারোভূঁইয়াদের যুদ্ধের গতিপথ। কাজে নেমেই মাসুম বুঝতে পারল এই বিশেষ মানুষটিকে খুঁজে বের করে ঈশা খাঁর নিকটে পৌঁছাতে হলে তাকে মোকাবেলা করতে হবে মোঘলদের শক্তিশালী বাহিনী, স্থানীয় বিদ্রোহী ডাকাত এবং ভয়ংকর জল ঠগী হিসেবে পরিচিত পাঙ্গুদের।
অতীত ও বর্তমানের মেলবন্ধন হিসেবে সুপরিচিত রবিন জামান খানের ইতিহাসআশ্রিত থ্রিলার সিরিজের বই সপ্তরিপু-ব্ল্যাক বুদ্ধা মগরাজের ব্যাপক সাফলের পর এবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সময় উপাখ্যান সিরিজের চতুর্থ বই রাজদ্রোহী, যেখানে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে বাংলার বুকে রাজত্ব করা বীর সেনানি বারোভূঁইয়াদের বীরগাথা।
.
ভূমিকা
সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে যখন সম্পূর্ণ সময় উপাখ্যান সিরিজের পরিকল্পনা করি, যার সাথেই শেয়ার করেছিলাম কেউই বিশ্বাস করেনি, অনেকে হাসাহাসিও করেছে। এমনকি শুরুর দিকে আমার নিজের কাছেও মনে হয়েছে চাকরি করে পরিবার সামলে এরকম বৃহৎ একটা পরিকল্পনা আসলে আমার দ্বারা বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না। ঠিক যেভাবে সিরিজের প্রথম দুটো বইয়ের সাফল্য এই সিরিজ বাস্তবায়ন করতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে, তেমনি প্রকাশনী সংক্রান্ত ঝামেলা, দেশ ছেড়ে বিদেশে আসা, নতুন জীবন শুরু করা ইত্যাদি আবার অনেক প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও কাজ করেছে। সত্যি কথা হলো মগরাজ লিখে শেষ করার আগ পর্যন্ত আমি ভাবতেও পারিনি সিরিজটাকে সত্যিকার অর্থেই পরিণাম দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু রাজদ্রোহীর কাজ সম্পন্ন করার পর বইটার ভূমিকা লেখার সময়ে যখন অতীত এবং ভবিষ্যতের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে নিজের জায়গা থেকে পুরো পরিকল্পনাটা দেখার চেষ্টা করছি তখন খানিকটা দুঃসাহসীর মতোই মনে হচ্ছে: সময় উপাখ্যান সিরিজটা হয়তো একদিন লিখে শেষ করে ফেলব।
এই সিরিজ এবং সিরিজের বইগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের আলোচনার ভেতরে অন্যতম একটা আলোচনা হলো ইতিহাসের বাস্তবতা এবং কল্পনার সাথে তার মিশেল। এখানে একটা ব্যাপার আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি ইতিহাসের বই লিখতে বসিনি। আমি ইতিহাসের সময়কে আশ্রয় করে গল্প লিখছি। কাজেই শতভাগ বা বাস্তবে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ মিল আশা না করাই শ্রেয়। সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা, মগরাজ এবং এবারের রাজদ্রোহীতে ইতিহাসের অনেক বাস্তব চরিত্রই স্থান পেয়েছে গল্পের প্রয়োজনে। একেবারে শতভাগ সত্যিকারের ঘটনার সাথে হয়তো বা কিছুটা কল্পনার আশ্রয় রয়েছে তাদের আচার-আচরণ কিংবা তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রবাহে। পৃথিবীর সব ভাষা কিংবা সাহিত্যেই ইতিহাস নিয়ে লিখতে গেলে এই ছাড়টুকু লেখকেরা পায়। ‘শার্লকিয়ানে’ বর্ণিত স্যার ডয়েল আর বাস্তবের স্যার ডয়েলের জীবনের ভেতরে পার্থক্য ছিল। ‘আ টেল অব টু সিটিজ’ বা ‘দ্য এইটে’ যেভাবে ফরাসি বিপ্লবকে দেখান হয়েছে তা নিয়ে
নানা মতামত নানা বিতর্ক রয়েছে। এমনকি শেক্সপিয়রের বর্ণিত অনেক ঐতিহাসিক চরিত্ররাও বাস্তব থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করার ঘটনাও বিরল নয়। মোদ্দাকথা আমি যা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো: ইতিহাসকে ইতিহাসের মতোই থাকতে দিন। যদি সত্যিকারের ইতিহাস জানতে এবং পড়তে চান, তাহলে হাজারো নন ফিকশন বই আছে, রিসার্চ পেপার আছে; সেগুলো বাস্তবের ইতিহাস জানার সেরা আশ্রয়স্থল হবে। আর যদি ইতিহাসের আবরণে গা ভাসিয়ে খানিকটা রোমাঞ্চযাত্রার সঙ্গী হতে চান তাহলে সময় উপাখ্যান সিরিজ আপনার জন্য। রাজদ্রোহী উপন্যাসে এই সিরিজের পূর্বের বইগুলোর মতো গল্পের বুননে কিছু সামঞ্জস্য যেমন আছে, তেমনি আমি কিছু নতুনত্বও আনার চেষ্টা করেছি। সেই সাথে এই বইটাতেই মূলত সিরিজের বাকি অংশের ভিত্তি রচনা করা হয়েছে।
সবশেষে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার পাঠকদেরকে এবং আমার প্রকাশককে। পাঠক যদি একজন লেখককের প্রকৃত আশ্রয় হয় তবে প্রকাশক সেই আশ্রয়স্থলে লেখককে পৌঁছে দেবার অন্যতম মাধ্যম। আমি সবসময় বলি আমি পাঠকের লেখক, পাঠকের জন্যেই লিখি। পাঠক ভালো না বাসলে সময় উপাখ্যান আমি লিখতে পারতাম না। চারপাশের সাজানো কৃত্রিমতা আর ফেইক সফলতা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে ক্ষান্ত দিতাম হয়তো বা। প্রকৃত পাঠকের ভালোবাসাই অনেকটা শক্ত শেকড়ের মতো আটকে রেখেছে আমাকে লেখার জগতের সাথে। তারা যেভাবে আমাকে এবং সিরিজটাকে ভালোবেসেছে এই মূল্য অপরিসীম। এই ভালোবাসা জারি থাকুক। সবশেষে আমার প্রকাশককে ধন্যবাদ অপরিসীম ধৈর্য ধরে আমার সাথে কাজ করার জন্যে। সবাই ভালো থাকবেন, আমার ও আমার পরিবারের জন্যে দোয়া রাখবেন।
রবিন জামান খান
স্টিলওয়াটার,
ওকলাহোমা,
যুক্তরাষ্ট্র
.
রবিন জামান খানের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়াতে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষাতত্ত্বে দ্বিতীয়বার মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। পড়া-পড়ানো, শেখা-শেখানোর চর্চা থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা ও লেখালেখিকে নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বেশ কিছু মৌলিক গল্প লেখার পাশাপাশি লিখেছেন একাধিক টিভি নাটক। তাঁর মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস বিখণ্ডিত, মগরাজ, শব্দজাল, ব্ল্যাক বুদ্ধা, সপ্তরিপু ও ২৫ শে মার্চ এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পাঠকমহলে অর্জন করেছে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা। ভারতবর্ষের ইতিহাসের রহস্যময় ঘটনাবলি, সেইসঙ্গে মানব মনের জটিল মনোস্তত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহ থেকে উনি বর্তমানে কাজ করে চলেছেন একাধিক ইতিহাসনির্ভর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস নিয়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খুব শিগগির প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তাঁর মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস ধুম্রজাল, সিপাহী, স্বপ্নজাল, অশ্বারোহী ও মুক্তি। রবিন জামান খান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন। ইতিহাসআশ্রিত উপন্যাস ‘রাজদ্রোহী’ তাঁর ‘সময় উপাখ্যান’ সিরিজের চতুর্থ বই। এই সিরিজের প্রকাশিত তিনটি বই- ‘সপ্তরিপু’, ‘ব্ল্যাক বুদ্ধা’ ও ‘মগরাজ’। সিরিজের প্রকাশিতব্য উপন্যাসগুলো যথাক্রমে ‘সিপাহী’, ‘অশ্বারোহী’ এবং ‘মুক্তি’।






Leave a Reply