অধ্যায় তেইশ
সময়: ১৫৯৬ খ্রিস্টাব্দ
জল-জঙ্গল এলাকা
‘হুম, তোমাদের কথা ঠিকই ওরা আসলেই আক্রমণের প্রস্তুতি নিতেছে,’ মাথা নেড়ে মাসুম বলে উঠল। আপনাতেই একবার আকাশের দিকে তাকাল। ঘন কালো রাতের আকাশ, তবে বৃষ্টির বেগ অনেকটাই কমেছে সেই সাথে কমেছে ঝড়ের বেগও। আকাশের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে সামনের পানির দিকে তাকাল। যদিও বেশ অন্ধকার, কিন্তু অন্ধকারের ভেতরেও পানির ওপরে অন্তত দুটো জাহাজের মতো নৌকার আকৃতি বেশ পরিষ্কারভাবেই চোখে পড়ছে। মাসুম ভালোভাবে খেয়াল করে দেখল একটা জালিয়া হবে, আরেকটা সম্ভবত সওদাগরি নৌকা দুটোই আকৃতিতে বিশাল এবং মাসুম প্রায় নিশ্চিত সওদাগরী নৌকাটার ওপর অনেক কাজ করা হয়েছে, ওটার গতি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে অন্যান্য অনেক দিক থেকে ওটাকে চৌকস করার জন্যে। দুটো নৌকার ওপরেই লোকজন ছুটাছুটি করছে এবং দীর্ঘদিন এরকম নৌকায় কাজ করার সুবাদে এবং সেনাবাহিনীতে থাকার কারণে কাজের ধরনটাও মোটামুটি ও আন্দাজ করতে পারে। ওরা নৌকা দুটো থেকে চরে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর সেটা যে চরটা আক্রমণ করার জন্যে—এটা বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। সম্ভবত বৃষ্টির বেগ খানিকটা কমলেই ওরা আক্রমণ চালাবে। এমন অবস্থায় যেকোনো স্বাভাবিক বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের জন্যে ভোরের আলো ফোঁটার অপেক্ষায় থেকে এবং তারপরে আক্রমণ চালানোই বুদ্ধিমানের মতো কাজ বলে প্রতীয়মান হবে কিন্তু বিশা ডাকাত কেন আক্রমণ চালাতে যাচ্ছে সেটাও মাসুম আন্দাজ করতে পারে।
বিশা আসলে পুরোপুরি আন্দাজ করতে পারছে না দ্বীপে যারা আছে তারা কী করছে, তাদের কাছে কী ধরনের রসদ আছে এবং দ্বীপ থেকে পালানোর জন্যে ওরা কতটা প্রস্তুত। এটা আন্দাজ করতে না পারার কারণে সে ধরেই নিয়েছে ভোরের জন্যে অপেক্ষা করাটা দেরি হয়ে যেতে পারে। আরেকটা বিষয় হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। সম্ভবত বিশার লোকেরা বরকতের জাহাজটাকে দেখেছে। ঝড়ের ভেতরে হয়তো ওদেরকে দ্বীপে নামতে দেখেনি কিন্তু জোরদার সম্ভাবনা আছে তারা জাহাজটাকে দেখেছে। এমনিতে পরিস্থিতি হয়ে আছে টান টান। তার ওপরে আবার এলাকায় একটা মোঘল জাহাজের উপস্থিতি, সেটা যে কারণেই হোক, বিশাকে অস্থির করে তোলার জন্যে যথেষ্ট। কাজেই সে আর কোনো ঝুঁকিতে যেতে চাইছে না। কিন্তু একটা প্রশ্ন মাসুমের মাথায় উঁকি দিচ্ছে। প্রশ্নটা সে জিজ্ঞেস করেই ফেলল।
‘শুনছিলাম বিশার তিনটা জাহাজ আছে। আরেকটা কই?’ মাসুম সুলতান আর রায়েলির দিকে একবার দেখে নিলো। ‘তুমগো কারও চোখে পড়ছে?’
‘হুম,’ সুলতানই বলে উঠল। ‘ওইটা অন্যদিকে আছে,’ ওইটাতে অবশ্য তেমন কোনো নড়াচড়া চোখে পড়ে নাই।’
কেন ওটাতে কোনো নড়াচড়া চোখে পড়ে নাই-মাসুম সেটা ভালোভাবেই আন্দাজ করতে পারে। ‘ওইদিকেই কি তুমগো নাওটা রাখা আছে, যেইটা দিয়া তুমরা এইখানে আসছিলা?’
যদিও মাসুম জানে উত্তরটা কী হতে পারে, তবুও নিশ্চিত হবার জন্যেই এই প্রশ্ন করা। সুলতান মাথা নেড়ে বলে উঠল, ‘হ, ওইদিকেই রাখা, আপনে বুঝলেন ক্যামনে?’ মাসুম কোনো জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না। মনে মনে সে বলে উঠল: বালক, এইটাকে বলে অভিজ্ঞতা।
বিশার পরিকল্পনাটা মাসুম ধরতে পারছে। তার জালিয়া কিংবা সওদাগরি থেকে ছিপ নৌকায় করে দলে দলে লোক এসে আক্রমণ চালাবে দ্বীপে, ওদেরকে ধরার জন্যে। আরেকটা জালিয়া পাহারায় থাকবে। আর তৃতীয় জাহাজটা নজর রাখছে অন্যদিকে। এতে দুটো কাজ হচ্ছে। প্রথমত, ওরা নৌকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তৃতীয় নৌকা থেকে দেখা যাবে, দ্বিতীয়ত দ্বীপের পেছন দিকেও নজর রাখছে ওটা। যাতে ওরা ওদিক দিয়ে সরে পড়তে চাইলে বা অন্য কোনো উপায়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করতে পারে। মাসুম অনুধাবন করল বিশা ডাকাতের কুখ্যাতি পুরো এলাকাতে এমনি এমনি হয়নি, লোকটা ডাকাত হতে পারে কিন্তু তার ঘটে বুদ্ধি আছে। ‘চলো, সবাই জলদি চলো, জরুরি আলোচনা আছে।’
ওরা ফেরার জন্যে ঘুরে হাঁটতে শুরু করতেই রায়েলি ওর পাশে চলে এলো। তারপর নিজের সেই বিচিত্র টানে সে জানতে চাইল, ‘আপনে কী করার কথা ভাবতাছেন? পালানির উপায় কী?’ মাসুম মেয়েটার চোখের দিকে তাকাল হাঁটতে হাঁটতেই। যদিও অন্ধকারের কারণে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। তবুও সে মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে বেশ খানিকটা অবাকই হলো। এই প্রথমবারের মতো আধো অন্ধকারের ভেতরেও মেয়েটাকে ভালোভাবে খেয়াল করল। তার পরনের পোশাক অনেকটা ছেলেদের মতোই। লম্বা শক্তিশালী গড়ন অনেকটাই পুরুষালি। আর যেভাবে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করছে তাতে এটাও বেশ পরিষ্কার যে, এগুলো চালানোর এবং সামলানোর মতো ক্ষমতা তার বেশ ভালোই আছে। মাসুম তার জীবনে এমন মেয়ে কোনোদিন দেখেনি। রাজপরিবার বাদে সাধারণ মেয়েমানুষ মাত্রই ভঙ্গুর এবং অসহায় হিসেবেই দেখে এসেছে সে সবসময়। কিন্তু এই মেয়ের আবয়ব থেকে শুরু করে সবকিছুই তার জন্যে একেবারেই নতুন এবং একেবারেই ভিন্ন কিছু। কিন্তু তারপরও এগুলোর কোনোটাই তাকে অবাক করেনি, অবাক করেছে মেয়েটার শান্ত চোখের ভাষা, যদিও সে মাসুমের কাছে অনেকগুলো প্রশ্ন করেছে, কিন্তু তার চোখের তারা একেবারেই শান্ত। আর এই শান্ত চোখের তারা ওকে জানান দিচ্ছে-ওর মতোই এরকম বিপজ্জনক অভিজ্ঞতা মেয়েটার জন্যেও নতুন কিছু নয়।
মেয়েটার প্রশ্ন শুনে মাসুম মৃদু হেসে উঠল, ‘প্রথম কথা অইল পলানির উপায় নাই। কাজেই ভিন্ন কিছু করতে অইব,’ বলে সে সামনের দিকে দেখাল। ‘আমরা প্রায় চইলা আসছি, আপনেগো বেগম সাহেবার সামনে গিয়া সবাইরে একসাথে কইরাই আলোচনা করতে হবে,’ মাসুম জবাব দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল তার আগেই সে থেমে গেল মেয়েটার কাজ দেখে। মেয়েটা চট করে দুই কদম এগিয়ে ওর পথ রোধ করে দাঁড়াল। দলের সবাই খানিকটা চমকে গিয়ে তাকিয়ে আছে ওদের দুজনার দিকে। রায়েলি বাকিদেরকে এগোনোর জন্যে ইশারা করল। তারা খানিকটা এগোতেই সে সরাসরি মাসুমের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘বাঙালি, যে-মানুষগুলারে দেখতাছ এই পৃথিবীতে এরাই আমার সব, এগো দায়িত্ব আমার উপরে, কাজেই এগো বাঁচানির লাইগা আমি সব করতে পারি। কিন্তু এরচেয়েও বড়ো দায়িত্ব আমগো উপরে আছে, কাজেই তুমি হয়তো জানো–’
‘আমি খুব ভালো কইরাই জানি, কাজেই ভরসা রাখতে পার আমার উপরে,’ মেয়েটাকে হঠাৎ এভাবে তুমি করে কেন বলে উঠল মাসুম নিজেও জানে না। কিন্তু অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করছে এই ভিনদেশি মেয়েটার প্রতি, তবে ও পরিস্থিতি খুব ভালো বুঝতে পারছে। ‘চলো দেখি, কী করা যায়।’
ওরা দুজনে যখন সেই ঝুপড়ির ভেতরে ঢুকল, দেখল সবাই বাতির আলোয় তাকিয়ে আছে ওদের দিকে।
মাসুম ভেতরে ঢুকে একটা পাটির ওপরে বসে পড়ল। সে কিছু বলার আগেই ঘোমটায় মুখ ঢাকা মেহের কথা বলে উঠল, ‘বাঙালি, যা শুনলাম তা কি সত্যি, ওরা নাকি—’
‘হুম,’ মাসুম মাথা নেড়ে সায় জানাল। ওর ভীষণ তামাকের তৃষ্ণা পেয়েছে। অন্তত খানিকটা সুপুরি চিবাতে পারলেও মুখটা শান্তি পেত কিন্তু এই অবস্থায় এরকম কিছু বলার মতো স্পৃহা হলো না ওর। ‘আমি কোনোকিছু লুকাব না, বরং সব খুইলা বলব আপনেগো,’ মাসুম একে একে সবার দিকে দেখে নিলো। সবশেষে তার দৃষ্টি এসে স্থির হলো ঠিক ওর সামনে বসে থাকা মুখ ঢাকা মহিলার ওপরে। তারদিকে একবার দেখে নিয়ে রায়েলির দিকে তাকিয়ে, আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে আনল বেগম সাহেবার ওপরে।
‘বেগম সাহেবা-’
‘আমারে মেহের বলতে পারেন।’
চট করে মহিলার কথাটা শুনে মাসুম একটু থতমত খেয়ে গেল। ‘মেহের, শোনেন, ওরা বিশা ডাকাইত। আপনেগো এবং মোঘলগোর তথ্য মতে যদি ওইটা বিশাই হয়া থাকে, ওরা আক্রমণ করতে যাইতাছে এইটা নিশ্চিত। তবে এইটা বড়ো খারাপ খবর না। খারাপ খবর অন্য জায়গায়। প্রথম খারাপ খবর ওরা সম্ভবত আক্রমণের জন্যে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো না, বাইরে বৃষ্টির বেগ কইমা আসছে, আরেকটু কমলেই ছিপ নাওগুলা পানিতে নামানির মতন অবস্থায় আসব, আর সাথে সাথে ওরা আক্রমণ চালাবো। ওগো তিনটা বড়ো নাও, একটা থেইকা লোক আইসা ছিপ নৌকা দিয়া আক্রমণ চালাবো, আরেকটা ওইটার সাথে থাকবো। আর ওগো আরেকটা নাও সম্ভবত দ্বীপের পিছের দিকে নজর রাখতাছে কেউ পলানির চেষ্টা করলে ওরা ঠেকাইবো। মানে পলানির কোনো উপায় নাই। আক্রমণ অইব যেকোনো সময়। এইটা হইল বর্তমান বাস্তব অবস্থা। সবার আগে এইটা বুঝতে অইব।’
‘এখন তাইলে করণীয় কী?’ মেহের তাকিয়ে আছে ওর দিকে। প্রশ্নটা করল রায়েলি।
‘আমার কিছু জিজ্ঞাসা আছে,’ মাসুম তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল। ‘প্ৰথম কথা, আমগো লোক আছে মোট কয়জন?’
রায়েলি সুলতানের দিকে দেখে বলে উঠল, ‘আমরা নয়জন আর তোমরা চাইরজন।’
‘মোট তেরো জন,’ বলে আনমনে মাসুম মাথা নাড়ল। ‘যারা আছে সবাই কি যুদ্ধ করার মতন?’ রায়েলি উত্তর দিতে যাচ্ছিল তার আগেই মাসুম আবারও বলে উঠল। ‘এর সাথে জানা দরকার আমগো অস্ত্র কী কী আছে?’
‘সবাই যুদ্ধ করার মতন,’ এবার জবাব দিলো সুলতান। ‘অস্ত্র আছে, সবার সাথে ছুরি আর লাঠি আছে, যথেষ্ট পরিমাণ বর্শা আর তির-ধনুক আছে। নাওয়ে কয়টা কোঁচও থাকতে পারে।’
‘জাল আছে?’ মাসুম ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে।
‘জাল!’ সুলতান অবাক হয়ে রায়েলির দিকে তাকাল।
‘জাল আমগো নাই, তয়ে একটা ঝুপড়ি আছে। ওইখানে অনেকগুলা দেখছি,’ সুলাতানের পাশে থেকে ওদের নারী যোদ্ধাদের আরেকজন বলে উঠল।’
‘বুঝতে পারছি, মাসুম মাথা নাড়ল। এইবার আমাকে পুরা দ্বীপটার বিস্তারিত বুঝায়া দেন কেউ একজন, যেহেতু আমি দিনের বেলা আসি নাই কাজেই আমার আপনেগো মাধ্যমেই বুঝতে অইব।’
সুলতান ওদের সামনে এসে একটা কাঠি নিয়ে মেঝেতে পুরো দ্বীপের মতো আকৃতি বানিয়ে বলতে লাগল। ‘পুরা জায়গাটা অনেকটা মোচার মতন। এইখানে এখন আমরা আছি, যেখানে অনেকগুলা ঝুপড়ি আছে, এইদিকে একটা আর ওইদিকে আরেকটা, দুইটা ঘাট আছে মোট। এইখানে জেলেরা শুঁটকি বানায়, ওইখানে বাঁশের মাচা বানানি আছে অনেকগুলা। এইখানে ছোটো একটা জঙ্গল আছে।’
‘এইখানে কী?’ জঙ্গলের মতো জায়গাটার সামনে একটা জায়গা দেখিয়ে বলে উঠল।
‘এইখানে ছোটো ছোটো পানির চৌবাচ্চার মতন আছে অনেকগুলা।’
সুলতানের কথাটা শুনে মাসুম মনে মনে খুশি হয়ে উঠল, ও মনে মনে এরকম কিছু একটাই খুঁজছিল। আর জানত জেলেদের গ্রাম যেহেতু অবশ্যই এরকম কিছু একটা থাকবে এখানে। মাছ ধরার সময়ে জেলেরা মাছ জিয়ানোর জন্যে এইগুলা ব্যবহার করে। ‘বুঝতে পারছি, আমার একটা পরিকল্পনা আছে। আমি একটা একটা কইরা বলবো, সবাই মন দিয়া শুনবা। প্রথমেই আমি বইলা রাখি আমার কী কী লাগবো। প্রথমে তুমগো ভিতরে সবচেয় দক্ষ তিরন্দাজ কারা আছ, হেগোরো লাগবো আমার। সবার কাছে যা যা অস্ত্র আছে সেইগুলা তো লাগবই, সেই সাথে প্রচুর জাল লাগবো আমার, লাগবো বাঁশের লগি, যেইটা অবশ্যই দ্বীপে আছে। আর আমি যা যা বলবো, সেইমতো প্রত্যেকটা কাম করতে অইব সবার।’
‘বাঙালি, তুমি কি করতে চাইতেছ কও তো ঠিক কইরা?’ রায়েলি তো বটেই সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
মাসুম ওর দিকে তাকাল না, সে চোখ তুলে তাকাল ধোবল আর বরখার দিকে। সে ওদের দিকে তাকিয়েই আছে, ধীরে ধীরে ওর মুখে ফুটে উঠল মৃদু হাসি। তারপর সে চোখ তুলে তাকিয়ে বেগম মেহেরকে দেখল, সবশেষে সে ফিরে তাকাল রায়েলি আর সুলতানের দিকে। ‘ওরা আক্রমণ করবই নিশ্চিত। বিশেষ অবস্থায় বিশেষ ব্যবস্থা। প্রথমে আমরা ওগোর আক্রমণ ঠেকাব, তারপর উলটা ওগোরে আক্রমণ করব।’
সবাই হাঁ করে তাকিয়ে আছে মাসুমের দিকে, সবার মাথায় একটাই ধারণা-বাঙালি পাগল হয়ে গেছে। শুধু ধোবল আর বরখার মুখে মৃদু হাসি, উত্তেজনার গন্ধ পেতে শুরু করেছে ওরা, সেই সাথে ওরা কিছুটা অনুধাবন করতে পারছে, মাসুম আসলে কী করতে চলেছে।
