অধ্যায় ষোলো
বর্তমান সময়
মোহাম্মদপুর, ঢাকা
যারা বলে কর্মব্যস্ত ঢাকা আসলে কখনও ঘুমায় না-ব্যাপারটা একেবারেই ঠিক নয়। হয় তারা জানে না অথবা তারা কখনও রাতের ঢাকাতে ঘুরে বেড়ায়নি। যদি তাই হতো তবে অবশ্যই জানত যে শহরে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লোক ঢোকে আর বের হয়, আর কোটির ওপরে মানুষ বসবাস করে সেই শহর রাত এগারোটার কোঠা পার হতেই ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসতে থাকে। আর রাত বারোটা পার হয়ে একটার দিকে রওনা দিলে ক্লান্ত শহরবাসীর মতো রাতও যেন ঘুমিয়ে পড়তে শুরু করে। রাতের এমনই এক প্রহরে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের মাঠের একপাশের রাস্তাতে অন্ধকারে দাঁড়ানো জিপের ভেতরে বসে আছে দুজন মানুষ।
‘বস, কী মনে হয় কাজ হবে?’ স্যান্ডুইচে কামড় বসাতে বসাতে সোহেল প্ৰশ্ন করল। স্যান্ডুইচে কামড় দিয়ে ঠান্ডা কোকের ক্যানে চুমুক দিলো একবার।
সোহেলের প্রশ্নের জবাবে বাশার কিছু বলল না। সে জিপের জানালা নামিয়ে দিয়ে একটা সিগারেট ধরাল। ‘মনে তো হচ্ছে, কিন্তু এখন বাকিটা দেখা যাক।
ওদের দুজনারই সারাদিন বেশ ব্যস্ততার ভেতরে কেটেছে। প্রফেসর ইফতেখারের মেয়ে পৃথার সাথে ব্যর্থ কথোপকথনের পর তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে প্রথমে পিবিআই অফিসে কথা বলে তারপর লোকাল থানায় কথা বলে পৃথার ওপরে নজরদারির ব্যবস্থা করে ওরা। তারপর অফিসে ফিরে গিয়ে এই কেসের সাথে সংযুক্ত সমস্ত ফাইল নিয়ে সোহেলের এবং মৌসুমির সাথে মিটিংয়ে বসে। সমস্ত ফাইল অ্যানালাইসিস করার পর বাশার ওর প্রস্তাবনাটা জানায় সোহেল আর মৌসুমিকে। ওর পরিকল্পনাটা ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু কাজ হবার সম্ভাবনা আছে। তবে পরিকল্পনাটাকে ওরা ইচ্ছে করেই পুরোপুরি অফিসিয়াল করেনি। কারণ এই পরিকল্পনায় কাজ হবার সম্ভাবনা যেমন আছে ঠিক তেমনি কাজ নাও হতে পারে। তাই এখনি বিষয়টাকে অফিসিয়াল করতে চায়নি ওরা।
বাশারের পরিকল্পনাটা খুবই সহজ। যেহেতু ওদের কেসের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রথম এক্সপ্লোরিং এরিয়া চৌধুরী ইতিমধ্যেই মিসিং এবং পৃথা হাসান ওদের সাথে কোনো ধরনের কো-অপারেট করতে নারাজ, কাজেই এই মুহূর্তে ওদেরকে রিস্ক ফ্যাক্টরে যেতেই হবে। বাশার পৃথা হাসানকে দিয়ে একটা ফাঁদ পাততে চাচ্ছে। ওর বক্তব্য হলো যেহেতু প্রফেসর আবদেলের ঘটনার পর প্রফেসর ইফতেখারকে নিয়ে একটা আলোড়ন তৈরি হয়েছে এবং নিশ্চিত একাধিক মহল তাকে খুঁজে বের করতে চাইছে, চৌধুরীর মিসিং এর ঘটনা এটা প্রমাণও করে। কাজেই জোরদার সম্ভাবনা আছে যে বা যারাই তার পেছনে লাগুক, তারা অবশ্যই পৃথার কাছ পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। আর সে কারণে তার ওপরে নজর রাখার সম্ভাবনাও আছে। কাজেই আজ সন্ধ্যার দিকে একটা আননোন নম্বর থেকে পৃথার মোবাইলে একটা টেক্সট পাঠানো হয়’আজ রাত বারোটার পর তার বাড়ির ঠিক সামনেই একটা স্কুলের গেটের পাশে মাঠে দেখা করার জন্যে। কোনো নাম লেখা হয়নি, বা অন্য কিছুও না।
টেক্সটের ভাষা থেকে শুরু করে, লোকেশন সবই চুজ করা হয়েছে খুব সাবধানে।
এর পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। কোনো নাম রাখা হয়নি যাতে যে-কেউ যাই খুশি ভেবে নিতে পারে। কিন্তু খুব সূক্ষ্ম একটা ইঙ্গিত দেওয়া আছে এটা প্রফেসর আবদেল হতে পারে। আবার লোকেশনটাও এমনভাবে চুজ করা হয়েছে যাতে সেখানে যাবার জন্যে পৃথা ঠিক আক্ষরিক অর্থে ঝুঁকিপূর্ণ ফিল না করে, কারণ বেশি ঝুঁকি ফিল করলে সে যাবে না। এই কারণেই এমন জায়গা বেছে নিয়েছে ওরা, যাতে নজরও রাখতে পারে, আবার রাস্তার পাশেও হয় আবার খানিকটা নির্জনও থাকে।
‘শোন, সোহেল, আসলে বিষয়টা একটা জুয়ার বাজি ছাড়া আর কিছুই না,’ বাশার ধীরে ধীরে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে উঠল। সারাদিন একসাথে কাজের পর ওর সাথে সোহেলের সম্পর্ক তুমি থেকে তুইতে নেমে এসেছে। ‘কারণ এখানে অনেকগুলো ফ্যাক্টও আছে। আমি আসলে আবেগ যুক্তি আর কৌতূহলের মাঝামাঝি একটা জায়গায় বাজি ধরতে চাইছি, যদিও কাজ হবার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলতে গেলে।’
‘কীভাবে, বস?’ সোহেল তার খাওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে।
‘প্রথমত, পৃথার সাথে বাপের সম্পর্ক খুবই খারাপ, কিন্তু বেলা শেষে সে তার বাপেরই মেয়ে তার বাপের প্রতি একটা টান অবশ্যই আছে, এটা হলো আবেগ পরিস্থিতি উত্তপ্ত, এমন অবস্থায় তাকে মেসেজ কে পাঠাবে এটা নিয়ে তার ভেতরে একটা অস্বস্তি কাজ করবেই, এটা কৌতূহল। একই কথা আমাদের সম্ভাব্য অদৃশ্য প্রতিপক্ষের জন্যেও প্রযোজ্য।’
‘আর যুক্তি?’ সোহলে খাওয়া শেষ করে প্যাকেট আর ক্যান দুটোই মুড়িয়ে রেখে দিলো নিচে।
দুঃখের বিষয় হলো আমাদের কাজের প্রসিজারে ওটাই সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল কিন্তু এখানে ওটাই সবচেয়ে দুর্বল। যুক্তি হলো, এই ক্রুশিয়াল অবস্থায় প্রফেসর ইফতেখার তার মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতেই পারেন তাকে সাবধান করে দেবার জন্যে হলেও। আবার অন্যদিকে প্রফেসরের সাহায্য প্ৰয়োজন হতে পারে। প্রথমটা অদৃশ্য শত্রুর জন্যে, আর পরেরটা পৃথার জন্যে। সব মিলিয়ে যে টেক্সটটা আমরা পাঠিয়েছি পৃথা কিংবা অন্য পক্ষের ওপরে এটার একটা প্রভাব হবার সম্ভাবনা আছে। অন্তত পক্ষে ঘটনাটা কী সেটা চেক করার একটা প্রচেষ্টা করে দেখতে পারে যে কেউ। অতীব দুর্বল, কিন্তু এটাই আপাতত আমার যুক্তি।’
‘কিন্তু কয়েকটা বিষয় মিলিয়ে আমার কাছে একেবারে খারাপ মনে হচ্ছে না। অন্তত কিছুই না করার চেয়ে কিছু করাটা অনেক বেটার,’ বলে সে বাশারের দিকে ফিরে একটা হাসি দিয়ে বলে উঠল। ‘বস, তোমার মাথায় কুবুদ্ধি একেবারে খারাপ না। মনে হচ্ছে তোমার সাথে থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবো।’
‘হুম, সেটা সময়ই বলে দিবে তুই কি আমার সাথে থেকে কিছু শিখবি নাকি মারা খাবি,’ কথাটা বলার সাথে সাথেই বাশারের মনের ভেতরে রাজুর স্মৃতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চাইছিল কিন্তু বাশার সেটাকে গলা চেপে দাবিয়ে দিয়ে বরং সম্প্রতি ওর সাথে কাজ করা টিমটার কথা মনে করার চেষ্টা করল। রমিজ দারোগা আর আবদুল্লার সাথে দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ওর। ওদের কী অবস্থা কে জানে। বাশার হাতের আংটিটা ধরে মোচড়াতে লাগল। আজ সারাদিন রিফাতের সাথেও কথা হয়নি।
বাশার জিপের বাইরে মাথা বাড়িয়ে একবার চারপাশটা দেখে নিলো। রাতের ঢাকায় রাস্তার পাশটা যেরকম হয় অনেকটা তেমনই আশপাশটা। ওর মনে হলো লোকেশনের সিদ্ধান্তটা একেবারে ঠিক আছে। রাস্তার একপাশে কয়েকজন মানুষ কম্বল বিছিয়ে রাতের শোয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফুটপাতের একটা ছাউনির নিচে। একটা ছোটো বিড়ির দোকানদার রাস্তার কুকুরকে বনরুটি খাওয়াচ্ছে। একপাশে একটা ফকির থালা নিয়ে বসে আছে, ব্যাটার বুদ্ধির বলিহারি। এই রাতের বেলা কে ভিক্ষা দিবে ওকে? চারপাশটা দেখে নিয়ে বাশার একবার ঘড়ি দেখল, নির্ধারিত সময়ের আর কয়েক মিনিট বাকি। ‘আর অল্প কিছুক্ষণের ভেতরেই প্রমাণ হয়ে যাবে বলদ আমরা, নাকি অন্যরা,’ বলে সে মৃদু হেসে উঠল।
‘বস,’ বলে খপ করে সোহেল একটা হাত চেপে ধরল বাশারের। সে এত জোরে চেপে ধরেছে যে প্রায় একটা নখ ঢুকে গেছে বাশারের হাতে। ‘আরে আস্তে, করিস কী?’
‘আরে ওইদিকে দেখ,’ বাশার দেখল টাইস, হুডি আর কেডস পরে দ্রুত পায়ে এদিকে এগিয়ে আসছে পৃথা। সে এমন পোশাক পরেছে এবং এমনভাবে হাঁটছে যে কেউ দেখে ভাববে সে আসলে ইভিনিং ওয়াকে বের হয়েছে, যেটা ঢাকা শহরে এখন খুব অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না। অনেক মহিলা তো বটেই এমনকি পুরুষরাও অনেকে এখন সন্ধেবেলা বা রাতের বেলা রাস্তাঘাটের ভিড় একটু কমলে হাঁটতে বের হন। খোঁজ নিলে দেখা যাবে স্কুলের মাঠের চারপাশে অনেকেই হাঁটছে। পৃথার কোনোদিকে মনোযোগ নেই, সে একমনে জোর কদমে পা চালিয়ে ওদের সামনে দিয়ে চলে গেল। জিপের ভেতরে বলতে গেল একরকম ঘ্যাট মেরে বসে রইল দুজনে। সোহেল টকিটা তুলে নিচ্ছিল, বাশার একটা হাত তুলে থামিয়ে দিলো। ‘এখন না, আরও পরে।’
পৃথা ওদেরকে পার হয়ে ফুটপাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে থাকা লোকগুলোকে ছাড়িয়ে সেই বিড়ির দোকানটার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। বাশার দেখল সে কিছু একটা কিনছে ওখান থেকে। কিছু একটা নিয়ে মুখে পুরে দোকানদারকে টাকা দিয়ে চারপাশে একবার নজর বোলাল। বাশার অনুমান করল মেয়েটা আসলে চারপাশে নজর বোলানোর জন্যেই দোকানটার সামনে থেমেছে। দোকানি থেকে টাকা নিয়ে সে আবারও সামনে হাঁটতে লাগল। ‘বেশি আগে চলে না গেলেই হয়,’ বিড়বিড় করে বলে উঠল বাশার। কিন্তু তার ভয় ভুল প্রমাণ করে পৃথা সামনের ছাউনির একপাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। সোহেল এবং বাশার দুজনেই মনোযোগের সাথে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। সোহেলের হাতে ওয়াকিটকি প্রস্তুত, যদি ব্যাকআপের প্রয়োজন হয় সেজন্য।
পৃথা দাঁড়িয়ে আছে, একবার সে সাইডব্যাগের মতো করে ঝোলানো ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে পরীক্ষা করে নিলো। সময় যেন খুব ধীরে প্রবাহিত হচ্ছে। পৃথা আরও দশ মিনিটের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার নড়াচড়া দেখে মনে হচ্ছে সেও ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে উঠেছে। আরেকবার মোবাইল বের করে দেখে নিয়ে সে চারপাশে তাকাল তারপর এগোনোর জন্যে পা বাড়াবে হঠাৎ অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা প্রেমিও গাড়ি বেরিয়ে আসতে দেখল ওরা। ‘সোহেল,’ সোহেলকে সাবধান করে দেবার আগেই ঘটনা ঘটতে শুরু করল। পৃথা হাঁটতে শুরু করবে গাড়িটা এসে ঠিক তার পাশে রাস্তায় থেমে গেল। বাশার দেখল ওটার সামনে একপাশের কাচ নেমে গেল। পৃথা সামান্য ঝুঁকে কথা বলছে। গাড়ির ড্রাইভার আর পৃথার ভেতরে কথোপকথন চলছে। হঠাৎ কিছু একটা হলো বলে মনে হলো। বাশার দেখল গাড়ির দরজাটা খুলে যাচ্ছে আর পৃথা দৌড়াতে শুরু করল, কিন্তু সে কয়েক পা এগিয়ে যাবার আগেই গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা এক লোক তারচেয়ে দ্রুত গতিতে এসে ধরে ফেলল তাকে। ‘জলদি চল, সোহেলকে সাবধান করে দিয়ে জিপের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো বাশার, পেছনে শুনতে পেল সোহেল বারবার টকিতে কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু যোগাযোগ করতে পারছে না। জিপ থেকে বেরিয়ে বাশার দৌড়াতে শুরু করেছে। ওর হাতে বেরিয়ে এসেছে পিস্তল।
ওদিকে ফুটপাথের ওপরে ধস্তাধস্তি আরও বেড়েছে। চারপাশে অল্প লোকজন যারা আছে তারা অবাক হয়ে বোঝার চেষ্টা করছে কী হচ্ছে। বাশার প্রাণপণে দৌড়াতে দৌড়াতে পিস্তলটা উঁচিয়ে ধরে চিৎকার করে উঠল। ‘হল্ট, পুলিশ, সে চিৎকার করে উঠতেই লোকটা পৃথাকে ছেড়ে দিয়ে ওর দিকে ফিরে তাকাল। পৃথা চূড়ান্ত বিহ্বল চোখে তাকিয়ে আছে, সে নিশ্চিত বুঝতে পারছে না আসলে হচ্ছেটা কী এবং বাশাররাই বা এলো কোথা থেকে। কিন্তু বাশারের মনোযোগ পৃথার দিকে নয়, অন্য লোকটার দিকে। পৃথাকে ছেড়ে দিয়ে সে সোজা হতে শুরু করেছে। ‘হাত ওপরে,’ বাশার ধমকে উঠে একটু অবাক হয়ে দেখল কালো প্যান্ট, কালো জুতা, কালো কোট পরা এক লোক। তাকে দেখে মনে হলো না সে বাশারকে দেখে খুব একটা অবাক হয়েছে, সে বরং হাসিমুখে তাকিয়ে আছে বাশারের দিকে বাশার হাত দিয়ে ইশারা করে সোহেলকে বলে উঠল, ‘তুই এই ব্যাটাকে আটকা, বলে সে লোকটার দিকে ফিরে দেখল সে এখনও হাসছে। কিন্তু তার অবাক হবার পালা বাকি ছিল। ভীষণ অবাক হয়ে সে শুনতে পেল লোকটা তার নাম ধরে ডেকে উঠল, ‘মিস্টার আহমেদ বাশার,’ সে এখনও ঠিক আগের মতোই হাসছে। ‘নাকি আমার বলা উচিত, ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশার?’
‘হচ্ছেটা কি, আপনারা এখানে কীভাবে?’ পৃথাকে চূড়ান্ত বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে।
মিস পৃথা, আপনি যে টেক্সট মেসেজ পেয়েছেন, ওরাই পাঠিয়েছেন আমাদেরকে ফাঁদে ফেলার জন্যে,’ বলে সে বাশারের দিকে ফিরে তাকাল, ‘তাই না, মিস্টার বাশার?’
‘এই চুপ,’ বাশার একটু অস্থির হয়ে উঠেছে একই অবস্থা সোহেলেরও। ‘সোহেল ব্যাকআপ কল করেছিস?’ সে জানতে চাইল।
‘বস-’
‘উনার টকিটা কাজ করছে না, সেই কালো কোট লোকটা শান্ত সুরে বলে উঠল। লোকটার কথা শুনে কেন জানি বাশারের মনে হলো লোকটা ভারতের, কথার ভেতরে ক্যালকেশিয়ান একটা টান আছে। ‘টকিটা কাজ করছে না কারণ এখানে কয়েকশো মিটার রেডিয়াসের ভেতরে জ্যামার লাগানো আছে। দেখুন আপনাদের কারও মোবাইলে টাওয়ার নেই,’ লোকটার গলা এখনও একেবারে শান্ত।
‘ব্যাপার না, কারণ পিস্তল আমার হাতে,’ বাশার পিস্তল উঁচিয়ে তার দিকে দুই কদম এগিয়ে গেল। চুপচাপ দুই হাত তুলে সারেন্ডার করো।’
‘তা না হয় করবো, কিন্তু তার আগে আপনাকে একবার চারপাশে তাকাতে হবে,’ বলে সে ওদের পেছনে ইশারা করল। সাধারণ যুক্তি বলে ওর এখন পেছনে তাকানো উচিত না কিন্তু নিজের কৌতূহল দমন করতে না পেরে বাশার পাশে এবং পেছনে তাকিয়ে ওর মুখ হাঁ হয়ে গেল। ফুটপাথের সেই ছিন্নমূল লোকগুলো, সেই বিড়ির দোকানদার, সেই ভিখিরি সবাই সটান সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওদেরকে ঘিরে, সবার হাতে আধুনিক অস্ত্র। আসলে ওরা লোকগুলোকে ফাঁদে ফেলেনি, ওদেরকেই ফাঁদে ফেলেছে ওরা।
‘এখন বুঝতে পেরেছেন মিস্টার বাশার, কে কাকে ফাঁদে ফেলেছে?’ কালো কোটের মুখে হাসি নেই তবে গলায় একটা তরল ভাব।
হাঁ করা মুখেই সোহেলের আর পৃথার দিকে তাকিয়ে দেখল ওদের দুজনার চেহারাও ওর মতোই সাদা হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি একেবারে টান টান কিন্তু লোকটাকে দেখে মনে হচ্ছে না সে খুব একটা ব্যস্ততার ভেতরে আছে। সে বরং বাশারকে দেখে হেসে বলে উঠল, ‘ইন্সপেক্টর, তুমি ভেবেছিলে তুমি ফাঁদ পাতছ। আসলে তোমার পাতা ফাঁদে তোমাদেরকে নিয়ে যাবার জন্যে আয়োজন করা ছিল আগে থেকেই। তোমার কি মনে হয় মানুষ এত বোকা, এই মেসেজ দেখে বুঝতে পারবে না এটা একটা ফালতু জিনিস? তবে ধন্যবাদ ম্যাডামকে, এরকম অরক্ষিত অবস্থায় আমাদের কাছ পর্যন্ত আসার জন্যে,’ বলে সে একটা হাত নাড়ল। ‘এদের ব্যবস্থা করো, আর উনাকে নিয়ে চলো,’ বলে সে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেই কালো গাড়িটাকে এগোনোর জন্যে ইশারা করল। গাড়িটা নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে মুহূর্তের জন্যে অত্যন্ত মরিয়া অনুভব করল বাশার। সে বুঝতে পেরেছে এরা যারাই হোক এই কালো কোট এদের নেতা এবং এরা অত্যন্ত শক্তিশালী। সম্ভবত এরা ওদের অনেক আগে থেকেই পুরো এলাকা অ্যাকোয়ার করে ফেলেছিল। বাশার ভরসায় ছিল নিজেদের ওপরে আর ব্যাকআপের ওপরে, কিন্তু ব্যাকআপ ডাকার ব্যবস্থাও যে এভাবে আটকে ফেলা হবে সেটা কে জানত। বাশার নিজের পিস্তল তুলতে গিয়েও নামিয়ে নিলো। এদের হাব- ভাব এতটাই প্রফেশনাল যে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে ওরা যে-কেউ উলটা-পালটা কিছু করলেই এরা অ্যাকশনে যাবে এবং এই মুহূর্তে ওদের কাছে পৃথা বাদে আর কেউই গুরুত্বপূর্ণ না। ‘শিট,’ রাগের সাথে নিজেকেই ধমকে উঠল বাশার।
‘বস, কিছু করো,’ সোহেল কথাটা বলে উঠতে ও আরেকবার চারপাশে তাকাল বাশার প্রতিটা লোক এমনভাবে অস্ত্র ধরে আছে যেন কিছুই হয়নি, ওরা এমনকি এমন ভাব করছে যে, কেউ পাশ দিয়ে গেলেও ঠিকমতো বুঝতে পারবে না এখানে কী হচ্ছে। চোখের কোনে বাশারের দুটো জিনিস ধরা পড়ল। প্রথমত, কালো গাড়িটা প্রায় চলে এসেছে এবং ওদের লোকদের ভেতরে অন্তত দুজন বাশারের পাশে একজন আর অন্যজন সোহেলের পাশে এসে দাঁড়িয়ে গেছে। দুজনের হাতেই বেরিয়ে এসেছে পিপার স্প্রের মতো দেখতে ছোটো দুটো ক্যান। বাশার বুঝতে পারল কী হতে যাচ্ছে, এরা ওদের গায়ে হাত তুলবে না, ওদেরকে অজ্ঞান করে জাস্ট পৃথাকে নিয়ে সরে পড়বে।
বাশার লোকদুটো থেকে এগিয়ে পৃথার দিকে তাকাল। মেয়েটা সোজা ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। তার চোখে যেন আগুন জ্বলছে, পারলে বাশার আর সোহেলকে ভস্ম করে দেয়। বাশার কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল তার আগেই পৃথার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা তাকে ধরে ফেলল। গাড়িটাও প্রায় চলে এসেছে, ওটা কাছে এসে থেমে যেতেই দরজাটা খুলে যেতে লাগল নিঃশব্দে। হঠাৎ জোরে কোথাও হর্ন বেজে উঠল সেই সাথে একজোড়া হেডলাইটের আলো যেন এসে বাড়ি মারল ওদের সবার চোখে। সাথে সাথে চোখ কুঁচকে ফেলল বাশার। কিন্তু ওরা কেউই সচেতন হবার আগেই ঝড়ের বেগে একটা জিপের মতো গাড়ি ধেয়ে এলো ওদের সবার দিকে।
জিপটা সোজা ধেয়ে এসে বাড়ি মারল কালো গাড়িটার পেছনে। ওটা ফুটপাথের কাছাকাছি থেমে যাচ্ছিল তার আগেই তীব্র বাড়ি খেয়ে গাড়িটার গতি বেড়ে গেল আচমকা, ওটার একটা পাশ উঠে পড়ল ফুটপাথের ওপরে, আর কোনাটা সোজা বাড়ি মারল সেই কালো কোটের গায়ে। কালো কোট দাঁড়িয়েছিল পৃথা আর তাকে ধরে থাকা লোকটার একেবারে সামনে। সে গিয়ে পড়ল ওদের দুজনার ওপরে। তিনজনেই গড়িয়ে পড়ে গেল ফুটপাথের ওপরে।
বাশার দেখল এই সুযোগ সে নিজের পিস্তল তুলে ওর পাশের লোকটার স্প্রে ধরা হাতে বাড়ি মারতেই লোকটার হাত থেকে স্প্রে ক্যানটা ছিটকে চলে গেল সোহেলের পায়ের কাছে, সোহেলের পেছনের লোকটা হতবিহ্বল হয়ে দেখছিল কী ঘটছে। সোহেল চট করে নিচু হয়ে ওর পাশের লোকটার মুখে স্প্রে করে দিলো আর বাশারের সাথে লোকটা হাতে বাড়ি খেয়ে একদিকে কাত হয়ে গেছিল, বাশার সোজা লাথি মেরে তাকে ফেলে দিয়ে ফুটপাথের দিকে ড্রাইভ দিলো। একটা গড়ান দিয়ে সোজা হয়েই সে মাটিতে পড়ে থাকা পৃথাকে সোজা করে ফেলল। ওরা জিপের দিকে এগোবে কিন্তু তার আগে সেই জিপটা তীব্র ব্রেকের সাথে থেমে গেল ওদের পাশে।
জিপের ভেতর থেকে কেউ একজন চেঁচিয়ে উঠল, ‘জলদি জলদি,’ বাশার দেখল এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সে প্রথমে পৃথাকে ঠেলে জিপের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো তারপর নিজেও লাফিয়ে পড়ল জিপের পেছনের সিটে। ‘আমার আরেক সঙ্গী,’ কথাটা বলেই সে জিপের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখল সোহেল দৌড়ে আসছে, কিন্তু তার ঠিক পেছনেই সোজা হতে শুরু করেছে একজন। বাশার সোহেলের পেছন দিকে ফাঁকা ফায়ার করল দুই রাউন্ড, সেই সাথে জিপটাও ঘুরতে শুরু করেছে ড্রাইভিং সিটের পাশের দরজাটা মেলে ধরতেই তাতে লাফিয় চড়ে বসল সোহেল। জিপওয়ালা সাঁই সাঁই করে স্টিয়ারিং হুইল ঘুরিয়ে উঠে এলো মূল রাস্তায়।
***
কালো কোট ফুটপাথ থেকে এমনভাবে উঠে দাঁড়াল যেন কোনো পার্টিতে প্রবেশ করতে গিয়ে হঠাৎ সামান্য হোঁচট খেয়েছে সে। উঠেই সে আগে ধুলো ঝাড়তে লাগল কোটের। তারপর সটান সোজা হয়ে গাড়িটাকে ঠিক অবস্থানে আনতে থাকা ড্রাইভারকে ইশারা করল। ড্রাইভার গাড়িটাকে স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করছে, সেসময় সে দরজা খুলে পাশের সিটে উঠে বসল। তারপর গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে গার্ডদের একজনকে বলে উঠল, ‘এক মিনিটের ভেতরে সবাই সরে পড়ো।’ ছদ্মবেশে থাকা বিড়িওয়ালা, ফকির আর বাকিরা মুহূর্তের ভেতরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেল। মনে মনে খুশি হয়ে উঠল সে, এই কারণেই সে নিজের প্রতিষ্ঠান এবং লোকদেরকে ভালোবাসে। এরা সেরাদের সেরা, সর্বোচ্চ লেভেলের প্রফেশনাল।
এখানে যা ঘটেছে তা কেউই টের পাবার আগেই ওরা সরে পড়তে পারবে।
‘কী ব্যাপার, স্টার্ট হচ্ছে না কেন?’ একটু বিরক্তই হলো সে ড্রাইভারের ওপরে।
তবে সে কথাটা বলে শেষ করার আগেই গাড়িটা স্টার্ট হয়ে গেল দেখে খুশি হয়ে উঠল। ড্রাইভার গাড়িটাকে ফুটপাথের ওপর থেকে নামিয়ে কোনোরকম তাড়াহুড়ো না করে স্বাভাবিক গতিতে এগোতে শুরু করতেই সে আরেকবার দেখে নিলো পুরো রাস্তা একেবারে স্বাভাবিক। স্প্রের শিকার অজ্ঞান লোকটাকে সরানো হয়েছে, বাকিরা যার যার জায়গাও মোটামুটি গুটিয়ে ফেলেছে। জ্যামারটাও ওরাই সরিয়ে ফেলবে।
সে পকেট থেকে মোবাইল বের করে দিয়ে রিপোর্ট করল সব বিস্তারিত। সব শেষে বলে উঠল, ‘আমাদের একজন আহত হলেও নাটকটা ঠিক যেভাবে সাজিয়েছিলাম এবং যে-উদ্দেশ্যে সাজিয়েছিলাম সেটা পুরোপুরি সফল হয়েছে, স্যার। সবকিছুই আমাদের মুঠোর ভেতরেই আছে, স্যার।’ বলে সে ওপাশের কথা শুনলো নীরবে তারপর ফোন রেখে দিলো।
‘স্যার, আপনি একটা জিনিয়াস,’ তার পাশের ড্রাইভার ছেলেটা বলে উঠল কথাটা শুনে কালো কোটের খুশি হবার কথা ছিল। কিন্তু সে হলো না। কারণ সে জানে সে প্রতিভাবান। তার কাজ এবং পরিকল্পনা কোনোটাই কখনোই ব্যর্থ হয় না। আজ রাতেও হয়নি, ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি, কিন্তু কাজ হয়েছে, বলে সে নিজের মোবাইলে একটা অ্যাপ ওপেন করল। সেটাতে ব্লিঙ্ক করতে থাকা বিন্দুটা পরিষ্কার জানান দিচ্ছে যার অবস্থান এবং উদ্দেশ্য সে জানতে চায়। প্রশংসায় খুশি না হলেও ডিভাইসটা ঠিকঠাক কাজ করছে দেখে সে খুশি হয়ে উঠল
***
‘উফফফ, কী বাঁচাটা বেঁচে গেলাম,’ সোহেল কথাটা বলে উঠলেও কেউ তার কথায় তেমন পাত্তা দিলো না। কিন্তু বাশার বলে উঠল। ‘সোহেল, আগে অফিসে রিপোর্ট করো, ফোর্স পাঠাতে বলো। এরপরে—’
‘এক মিনিট,’ বাশার কথা শেষ করার আগেই সামনের সিট থেকে ড্রাইভার প্রায় ধমকের সুরে কথা বলে উঠল। ‘কোনো রিপোর্ট করা যাবে না, তোমাদেরকে বাঁচানো হয়েছে বিশেষ প্রয়োজনে। সেটা যদি পূরণ করতে চাও তবে আমার সাথে আগে ডিলে আসতে হবে। আর আমি কোনো ধরনের পুলিশ বা এরকম কাউকে চাইনা এসবের ভেতরে। যদি কথা না শোনো তাহলে—’
‘আপনি কে আগে সেটা বলেন-’
‘শাট আপ,’ বাশার এটার জন্যেই অপেক্ষা করছিল এতক্ষণ ধরে। পৃথা চুপ করে আছে কেন এটা তার মাথায় ধরছিল না, মেয়েটার ধমক শুনে এখন সে নিশ্চিন্ত হলো সে ঠিক আছে। বাশারের একটা হাত ধরা ছিল তার কনুই। ঝটকা মেরে সেটা ছাড়িয়ে নিলো সে। ‘আগে আপনারা আমাকে কেউ বলবেন হচ্ছেটা কী?’ সে একবার বাশারের দিকে দেখছে তারপর সামনের সিটে বসা বাকি দুজনার দিকে। ‘ওইখানে আসলে হলোটা কি, আপনারাই বা ওখানে গেলেন কীভাবে আর আমাকে কেন ধরতে চাইছে লোকগুলো?’
সে একটানে কথাগুলো বলে গেল কিন্তু কেউই তার কথার জবাব দিলো না। সে একে একে সবাইকে দেখছে। বাশার তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘আমি সবই বলব আপনি আগে বলেন তো এই রাতের বেলা ওই যাত্রী ছাউনির নিচে কী করছিলেন?’
বাশার ভেবেছিল সে খানিকটা নরম হবে কিন্তু হলো উলটোটা, বাশারের কথা শুনে সে বরং আরও জোরে ঝটকা মেরে উঠল। ‘কেন, ওই যাত্রী ছাউনি কি কোনো নিষিদ্ধ জায়গা, ওখানে যাওয়াটা কি বেআইনি? আমি রাতে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম।’ বাশারের চেয়ে আরও দ্বিগুণ জোরে ধমকে বলে উঠল মেয়েটা।
‘ঠিক আছে আপনি যদি এটাই বলেন তাহলে আমি বলব, আমরা ওই এলাকাতে টহলে ছিলাম আপনাকে বিপদে পড়তে দেখে এগিয়ে গেছিলাম সাহায্য করার জন্যে। কেমন লাগছে শুনতে?’ বাশার ভ্রু নাচালো। ‘ব্যাখ্যা ঠিক আছে তো?’
পৃথা আবারও ফোলা মুরগির মতো ঝাপটা দিয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল তার আগেই সামনের সিট থেকে আবারও ড্রাইভার ঝামটা দিয়ে বলে উঠল, ‘শাট আপ, সবাই শাট আপ,’ বলে সে চট করে হার্ড ব্রেক করে নির্জন রাস্তার একপাশে গাড়ি থামিয়ে ফেলল। তারপর ওদের দিকে ঘুরে তাকাল।
‘কুত্তা-বিলাইয়ের মতো ঝগড়া বন্ধ করো,’ লোকটা কড়া সুরে ধমকে উঠল ওদেরকে। বাশার চট করে ফিরে তাকাল তার দিকে। লোকটার মাথায় হুডি তুলে দেওয়া, মুখে একটা পাতলা মাস্ক, চেহারা বোঝার কোনো উপায় নেই। ওর একটা হাত পিস্তলের ওপরে। খুব সূক্ষ্মভাবে একবার সোহেলের দিকে ইশারা করল, তারপর লোকটার দিকে ফিরে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘আপনি কিন্তু এখনও বলেননি আপনি কে? আর একেবারে ঠিক সময়ে জায়গামতো কীভাবে এলেন, আমাদেরকেই বা চেনেন কীভাবে? আর পুরো ঘটনায় আপনার ভূমিকা কী?’ ওপাশ থেকে সোহেল তাকিয়ে আছে তার দিকে, বাশার ধরেই নিলো সে-ও প্রস্তুত আছে পৃথার ওপরে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে লোকটার দিকে ফিরে তাকাল। মানুষটা কিছু বলতে যাচ্ছিল থামিয়ে দিলো বাশার। ‘আপনাকে শক্ত ব্যাখ্যা দিতে হবে, ভুগিচুগি কিছু বললে এখনই অ্যারেস্ট করা হবে, যতই আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করে থাকেন না কেন।’
‘আপনারা যা যা জানতে চাইলেন তার কোনো ব্যাখ্যাই আমার দিতে হবে না। আমার কোনো ব্যাখ্যাই দিতে হবে না, মাথা থেকে হুডির হুডটা নামিয়ে দিলো লোকটা। ‘আমার চেহারাটাই যথেষ্ঠ,’ বলে সে মুখ থেকে মাস্কটাও সরিয়ে ফেলল।
বাশার আর পৃথা তাকিয়ে রইল তার দিকে, ওপাশ থেকে সোহেল তাকিয়ে রইল ওদের দিকে। দুজনার কেউই কিছু বলছে না দেখে সে কাঁধ ঝাঁকিয়ে জানতে চাইল, ‘কে?’
বাশার চট করে জবাব দিলো না, বরং পিস্তলের হাতলে ওর হাতটা আরও শক্ত হলো। ‘চৌধুরী হাসান শেখ,’ বলে একটু থেমে একবার পৃথা আরেকবার সোহেলের দিকে দেখে নিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনল লোকটার মুখের ওপরে। প্রফেসর ইফতেখারের জেল পালানো সেক্রেটারি।
লোকটা মৃদু হেসে উঠল, ‘একদম ঠিক বলেছেন, ইন্সপেক্টর।’
