অধ্যায় পনেরো
সময়: ১৫৯৬ খ্রিস্টাব্দ
জল-জঙ্গল এলাকার শুরুর অংশ
.
তীব্র বিপদ কিংবা ঝামলোর সময়ে কখনও কখনও মাসুমের মাথা কাজ করে খুবই ভিন্নভাবে। কোনো এক অদ্ভুত উপায়ে মূল যে বিপদের বিষয়টা, সেটাকে নিজের মস্তিষ্কের একপাশে সরিয়ে রেখে বরং চারপাশে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে ও। দেখার এবং বোঝার চেষ্টা করে কী ঘটছে আশপাশে। যেমন এই মুহূর্তে সে নৌকার দুলুনির ভেতরে বসে আশপাশে মনোযোগ দিয়ে দেখার এবং বোঝার চেষ্টা করছে।
গেড়ুয়ারা ওদেরকে বন্দি করার পর আরও বেশ কিছু সময় নৌকা চালিয়ে এই জংলা দ্বীপের প্রান্তে সরু খালের মতো একটা জায়গায় এনে নৌকার নোঙর ফেলেছে। মাসুম এর আগেও জল-জঙ্গল এলাকায় এসেছে, কাজেই এই জায়গার বিচিত্র আর অদ্ভুত প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের সাথে সে পরিচিত। এই জংলার জল এবং জঙ্গলের অবস্থান খুবই অদ্ভুত আর আজব। বড়ো নদী খাল আর মূল জলধারাগুলোকে বাদ দিলে অনেক জায়গাতেই পানির ভেতর থেকে গাছ উঠে গেছে ওপরের দিকে। সেই সাথে পানির ওপরে ছড়িয়ে পড়েছে জঙ্গলের মতো আকৃতি। ওরা এই মুহূর্তেও এরকম একটা স্যাঁতসেঁতে জঙ্গুলে জলা এলাকায় অবস্থান করছে।
মাসুমের নিজের হাত-পা দুটোই বাঁধা। তবে এরচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো ওরা শুধু আলাদাভাবে মাসুমের হাত-পা বাঁধেনি, ওরা খুবই বিচিত্র এক উপায়ে ওদের তিনজনকেই এমনভাবে বেঁধে রেখেছে একজনের হাতে টান পড়লে আরেকজনের ঘাড় ঘুরে যায়। ফলে ওরা তিনজনেই বসে আছে খুবই কষ্টকরভাবে একেবারে সটান সোজা হয়ে তিনজনেরই পরস্পরের পিঠ লেগে আছে একে- অপরের সাথে। ওদেরকে রাখা হয়েছে নৌকার একপাশে, আর ওদের জন্যে পাহারায় রাখা হয়েছে দুপাশে দুজনকে। একজনের হাতে তেল চকচকে বাঁশের লাঠি, আর অপরজনের হাতে কুঠার। দুজনেই এমন অদ্ভুত নিস্পৃহভাবে তাকিয়ে আছে দেখলেই ভয় লাগে। আর ওদেরকে বেঁধে রেখে যাবার সময় গেড়ুয়া বলে গেছে: ওরা যদি উলটাপালটা কিছু করে তবে ওদেরকে হত্য করা হবে না, কারণ ওদেরকে ওরা এনেছেই দেবীর উদ্দেশ্যে বলি দেবার জন্যে। কাজেই ওদেরকে হত্যা করে এত কষ্ট করে করা আয়োজন নষ্ট করা হবে না। এমনকি ওরা যদি উলটাপালটা কিছু করে তবে পাহারাদারেরা ওদেরকে সরাসরি মারবে না। বরং এমনভাবে আঘাত করবে যাতে ওদের রক্তপাত না হয় কিন্তু শরীরের ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হয়। সে উদাহরণও বলে গেছে। যেমন প্রথমেই ওদেরকে লাঠির ডগা বা কুঠারের উলটোপিঠ দিয়ে মারা হবে হাতের কবজি কনুই কিংবা ঘাড়ের সংযোগস্থলে। মারগুলো এমনভাবে মারা হবে যাতে হাড় ভেঙে ওই নির্দিষ্ট অংশগুলো অকেজো হয়ে পড়ে, কিন্তু ওরা মারা না পড়ে। খুবই শান্ত স্বরে ভয়ঙ্কর কথাগুলো বলে গেড়ুয়া চলে গেল নৌকার মাঝামাঝি জায়গায় যেখানে ওরা সবাই গোল হয়ে বসতেই কেউ একজন বিড়বিড় করে মন্ত্রগোছের কিছু একটা পড়তে শুরু করেছে। আর বাকিরা থেকে থেকে একটু পরপর কাররা কাররা বলে রব তুলছে, সেই সাথে ওদের মাঝে হাত বদল হচ্ছে সিদ্ধি ভরা বাঁশি, মানে নলের মতো জিনিসটা।
আলগোছে নিজের বাঁধন থেকে শুরু করে সব পরীক্ষা করে মাসুম আফসোসের সাথে মাথা নাড়ল, ‘আমার আসলে আগেই বোঝা উচিত ছিল, এমন বোকামি জীবনেও হয় নাই।’
‘তুমি হুদাই নিজেরে দুষতেছ,’ মাসুম মাথা নাড়তেই টান পড়ল ধোবলের বাঁধনে। ‘এখানে তোমার কোনো দোষই নাই,’ মাসুম অবাক হয়ে খেয়াল করল ধোবলের গলার স্বর একেবারে শান্ত হয়ে গেছে। সে ভেবেছিল ধোবল সবচেয়ে বেশি অবাক হবে কিংবা অস্থির হয়ে উঠবে কিন্তু আদতে সেটা হয়নি। কিন্তু আমার কথা অইল এরা কারা? আর এমন করতাছে ক্যান?’
‘এরা হইল পাঙ্গু,’ ওদের আরেকপাশ থেকে বরখা বলে উঠল। ‘তোমরা ঠগীগো নাম শুনছো না? এরাও এক রঙ্গের ঠগী, এরা অইল পানির ঠগী।’
‘ঠগীর নাম তো শুনছি কিন্তু এইটা আবার কী?’
ঠগী বা ঠগের আসলে নানা রকমফের আছে,’ বলে আফসোসের সাথে মাথা নাড়ল মাসুম, ‘গেড়ুয়া যখন আমার কাছে আসল প্রথমবার, আমি তখনই পিতরাজের তেলের গন্ধ পাইছিলাম,’ মাসুমের ভেতরে ভেতরে রাগ উঠতে শুরু করেছে এখন। তখনই আমার বোঝা উচিত ছিল, এমনকি ওগো তো বটেই, আমগোরে যে পোশাক দিছে ওইটাতেও পিতরাজের তেলের গন্ধ ছিল, পিতরাজের তেল শুধুমাত্র একটা কামেই ব্যবহার করা অয়—’
‘পানির দেবীর পূজা করতে, ওদের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে গেড়ুয়া বলে উঠল। তার চোখজোড়া টকটকে লাল হয়ে উঠেছে কিন্তু তার মুখে বেশ একটা প্রসন্নতার হাসি। ‘জি হুজুর, আপনে ঠিকই বলছেন, পিতরাজের তেলের একটাই সমস্যা। গন্ধটা কোনোমতেই দূর অয় না। তয়, এই গন্ধটা আমরা পছন্দ করি,’ বলে সে বুক ভরে বাতাস টেনে নিলো। তারপর তার রক্তচক্ষু মাসুমের দিকে তাক করে বলে উঠল, ‘এই গন্ধটা পাইলে মনে অয় বাঁইচা আছি আমি, দেবী সবসময় আমগো লগে আছে। তার নিগ্রহের তলেই আছি সবসময়। হুজুর, আপনেরা—’
‘আমি একটা জিনিস বুঝলাম না,’ মাসুমও গেড়ুয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে ঠিক একই দৃষ্টিতে। ‘তোমরা অইলা পাঙ্গু, আমি যতদূর জানি তোমরা মানুষ শিকার করো টাকা-পয়সার লাইগা আর তাগোরে শিকার কাইরা মাইরা পানিতে ফালায় দাও, তাইলে আমগোরে ক্যান? আমগো লগে তো কিছুই নাই।
মাসুমের কথা শুনে মৃদু হেসে উঠল গেড়ুয়া। ‘হুজুর, একটা কথা কই, আপনে অনেক বুদ্ধিামান মানুষ। লগে সাহসীও, আপনেরা তিনজনেই,’ বলে সে নৌকার পাটাতনে দুই পা জুড়ে বসে গেল। ‘আমার এই জীবনে বহু মানুষ মারছি, কত মারছি তার হিসাবও নাই, সে তার পাকানো দড়ির মতো পেশীবহুল হাত দুটো তুলে মুখের সামনে দেখছে। ‘হিসাবের দরকারও নাই, দেবীর লাইগা সবই করা সম্ভব,’ বলে সে মাথা নাড়ল। ‘কথা সেইটা নয়, মূলকথা অইল আমার অভিজ্ঞতা কয় যহন কাউরে এমনে ধইরা এমনে বাইন্ধা রাইখা আমি তাগো চোহের দিকে চাই, অনেকে ভয়ে মুইতা তো দিছেই, অনেকে তো হাইগাও দিছে ডরে। আর আপনে হুজুর, সুজা আমার চোহের দিকে চাইয়া কথা কইতাছেন এবং স্বীকার করতে দ্বিধা নাই আপনের চোক্ষে আমি কোনো ডর দেখতাছি না,’ বলে সে নিজের সঙ্গীদের দিকে দেখল। তার একেকজন একেক কাজে ব্যস্ত। মাসুম অনুমান করল ওদেরকে নিয়ে যাই করতে যাচ্ছে, সেটার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে এবং সেটার জন্যেই এই আয়োজন চলছে। ‘আর এইজন্যেই আপনেগো ধইরা আনা হইছে এত ঝামেলা কইরা।’
‘মানে বুঝলাম না,’ মাসুম বলার আগেই বরখা বলে উঠল
‘গোস্তাকি, হুজুর,’ বলে সে মাথা নিচু করে নাড়তে লাগল। ছেলেটার একটা বিষয়ে মাসুম খুব অবাক হচ্ছে। সে তাদেরকে ধরে এনেছে বিচিত্র এক উপায়ে ঠগবাজি করে, তাদেরকে সম্ভবত দেবীর উদ্দেশ্যে হত্যা করা হবে বা এরকম কিছু; কিন্তু তাদের সাথে কথা বলার সময়ে একবিন্দু অসম্মান দেখিয়ে কথা বলছে না সে। ‘হুজুর, আমি বুঝায়া বলতে পারি নাই। আপনে ঠিকই কইছেন আমরা পাঙ্গু, যদি ঠগীগো নাম শুইনা থাকেন তয় আমরা অইলাম পানির ঠগী। যদিও ঠগীগো লগে আমগো অনেক তফাৎ। ওরা করে কালী মাতা মানে মা ভবানীর পূজা আর আমরা করি জলদেবীর পূজা। আমগো হিসাব খুব সহজ, আমরা নিয়মিত দেবীর পূজা করি, তার নামেই হোমের যজ্ঞ কইরা বৈঠা পবিত্র করি,’ বলে সে নৌকার পাটাতনের ওপরে একটা বেদির মতো জায়গায় রাখা গেড়ুয়া কাপড় দিয়ে মোড়ানো একটা বৈঠা দেখাল। ‘ওইটাকে যজ্ঞ কইরা পবিত্র করার পরে গেড়য়া কাপড় দিয়া আলগাইয়া রাখা অয়, এই গেড়ুয়া কাপড় আইল তার রক্ষক। আমার নামও ওইখান থেইকাই রাখা। আমিও যেমন এই দলের নেতা এবং রক্ষক। এরপর আমরা শিকারে নামি, অনেকটা ঠগীগো মতোই। ঠগীরা পথে নামে। আমরা পানিতে নামি। নানা জায়গায় নানা লোকালয়ে লোকজনের লগে মিশা যাই, কখনও যাত্রী সাইজা, কখনও জেলে সাইজা। তারপর সুযোগ বুইঝা জায়গামতো আইলে দেবীর ইশারা পাইলেই পবিত্র বৈঠা দিয়া তিনবার ঠুকনা দেওয়া অয় নৌকার পাটাতনে এইটা অইল আমগো ইশারা।’
‘এরপরে মানুষ খুন করে পানিত ফালাইয়া দাও, আর হেগো জিনিসপত্র রাইখা দাও,’ অনেকক্ষণ পর বরখা কথা বলে উঠল তার গলায় রাগ
আপনাতেই জিভ কাটলো গেড়ুয়া, ‘ছি ছি হুজুর! কী বলেন, আমরা মানুষ মারবো ক্যান। দেবী নিজে আমগোরে ইশারা করছে তার শিকাররে পরিণাম দেওনের লাইগা। আমরা স্রেফ তার ইশারা পালন করতাছি। দেবী যারে ইশারা করছে হেরে ফাঁস দিয়া সামনে থেইকা আটকায় ফালানি হয় বুকে পা রাইখা। এইখানেও আমরা ঠগীগো থেইকা আলদা। ওরা ফাঁস পরায় পিছন থেইকা। ওরা মারে গলায় দম বন্ধ কইরা আমরা মারি ঘাড় ভাইঙা। তয় একটা মিল আছে, ওগোরও রক্তপাত নিষেদ, আমগোরও। এরপর মানুষ মাইরা তার পিঠের হাড্ডি বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভাইঙা তারে দেবীর উদ্দেশ্যে জলে বিসর্জন দেওয়া হয়, আর দেবী আমগোরে উপহারস্বরূপ তাগোর সব জিনিস ভোগ করার অনুমতি দেয়।’
‘দেবী দেয়! শালা চোরের দল-’
‘ছি ছি, হুজুর, আমরা চোর না,’ মাসুমের মনে হলো ধোবলের কথা শুনে গেডু য়ার চোখ মুহূর্তের জন্যে জ্বলে উঠল কিন্তু বলতে গেলে সে প্রায় সাথে সাথেই নিজেকে সামলে নিলো। ‘আমরা স্রেফ দেবীর আদেশ পালন করি।’
‘ঠিক আছে বুঝছি, তুমি কিন্তু এহনো আমার প্রশ্নের উত্তর দেও নাই–’
‘জি, আজ্ঞে, আসল ঘটনা অইতাছে আমরা অনেকটা বাইদাগো মতন, আমগোর কোনো স্থায়ী ঠিকানা নাই। জলে জলেই আমগো জীবন। এই কারণেই জলের অনেক তর-তরিকা আমগো মাইনা চলতে অয়। গত কিছুদিন যাবৎ আমরা না পাইতেছি কোনো শিকার, না পাইতেছি দেবীর তরফ থেইকা কোনো ইশারা, এমন সময় আমগো মাঝে-মধ্যে আহে, এই সময়ে একটাই করার থাহে। দেবীর লাইগা বড়ো কিছু উৎসর্গ করা।’
‘আর এইবার তোমরা পাইছ আমগোরে—’
‘জি হুজুর, বাঘে বা কুমিরে যেমন বড়ো শিকার পাইলে খুশি অয়, দেবীরে সন্তুষ্ট করার লাইগা কখনও কখনও অনেক বড়ো কিছু উৎসর্গ করতে অয়। এমন কিছু করতে গেলে অনেক কষ্ট অয়, অনেক ঝামেলা অয় কিন্তু ফল অয় বড়ো, দেবী খুশি অয়। এর আগেরবার যেমন এক ঝালাইকাররে ধইরা আইনা উৎসর্গ করছিলাম। হেরে উৎসর্গ করার পর এক বছর আমগো শিকার পাইতে কুনো সমস্যা অয় নাই। আমরা গত কিছুদিন ধইরাই তক্কে তক্কে ছিলাম বিশেষ শিকারের লাইগা। তাই গতকাইল যখন শুনলাম হুজুর রসুল খাঁর লোকেরা কাঠুরিয়া আর নাইলে জেলে খুঁজতাছে। পুরাটা শুইনাই বুঝছি এইবার দেবী যোদ্ধা রক্ত চায়।’
‘এইজন্যেই বারবার তুমি জিগাইতাছিলা আমরা যোদ্ধা কি না, মাসুম রাগের সাথে বলে উঠল।
‘জি হুজুর, আমরাই কৌশলে শেরুর পরিচিত কাঠুরিয়ারে মাইরা তারে লুকাইয়া আমরা গিয়া তার লগে দেহা করছি। হেরাও কিছু ধরতে পারে নাই। আমি জানতাম ঝুঁকি আছিল কিন্তু উপায় কি, দেবীর ইশারা বইলা কথা,’ বলে সে ওপরের দিকে দেখাল। ‘যাক গা, এরপরে আপনেগো লগে দেখা অওয়াতে বহুত খুশি হইয়া গেছি যা ভাবছিলাম আপনেরা তারেচেয়েও বড়ো যোদ্ধা। দেবী এইবার অনেক খুশি অইব,’ বলে সে আনমনেই ভক্তিভরে দেবীর উদ্দেশ্যে নত করে মাথা নাড়ল।
‘কিন্তু রসুল খাঁরে সামলাবা কেমনে?’
গেড়ুয়া হেসে উঠল। ‘হেরা জানলে তো। আপনেগো কী অইছে, কে জানব, আর আমগোরেই বা পাইলে তো। আমরা অইলাম বাইদাগো মতন। আপনেগো উৎসর্গ করনের পরে আমরা এই এলাকায় আর পাই রাখুম না কয়েক বছর।’
‘তা বইসা আছ ক্যানো?’ যা করার করো।
‘ছি হুজুর,’ বলে সে আফসোসের সাথে মাথা নাড়ল। ‘আমগোরে কি এত কাঁচা মনে অয়? আয়োজন আছে না? আরেকটা কথা অইল আমগো আরও কিছু লোক আইব এইখানে। ওগো লাইগা অপেক্ষা করতাছি,’ বলে সে উঠে দাঁড়াল। ‘হুজুর, আসলে কিছু মনে কইরেন না আপনেগো আমার অনেক ভালো লাইগা গেছিল, কিন্তু আমি অক্ষেম,’ বলে সে মৃদু হেসে উঠল।
মাসুম তার সাথে কথা বলতে বলতে কঠিন ফাঁসের ভেতরেও নিজের হাতটাকে আলগা করে ফেলেছে অনেকটাই। কিন্তু এখনও সেটাকে নিজের লুকানো ছুরি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেনি। গেড়ুয়া উঠে দাঁড়াতেই নৌকাটা সামান্য দুলে উঠল, এই সুযোগে সে চুরির হাতলটা চেপে ধরল নিজের মতো করে। ধরেই বরখার দিকে তাকাতে বরখা ভ্রু নাচিয়ে বিশেষ একটা ইশারা করল। মাসুম বুঝতে
পারল বরখাও প্রস্তুত আছে। এবার সবধান করতে হবে ধোবলকে। ধোবলকে উদ্দেশ্যে করে কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই ওদের চোখের কোণে আরেকটা নৌকা দৃশ্যমান হলো। মাসুম দেখতে পেল সেটার অগ্রভাগে মাথায় মাথলা পরা একজন হ্যাংলা পাতলা মানুষ লম্বা লাঠির মতো একটা বৈঠা দিয়ে ঠেলে ঠেলে নৌকাটাকে এগিয়ে নিয়ে আসছে।
‘হুজুর, আপনেগো অপেক্ষার আর বেশি সময় নাই, আমগো লোকেরা চইলা আসছে,’ গেড়ুয়ার গলায় আনন্দ।
মাসুম ড্যাগারের হাতলটা আরও শক্ত করে চেপে ধরল। আরও লোক চলে আসার আগেই যা করার করতে হবে। কারণ আরও লোক চলে এলে পালাবার সম্ভাবনা আরও কমে যাবে। মাসুম ছুরি পর্যন্ত ধরতে পারলেও এখনও আসলে জানে না কতটা কী করতে পারবে। কারণ এরা দক্ষহাতে ওদেরকে যেভাবে বেঁধেছে সেটা আসলে কতটা কার্যকরী হবে কে জানে। তবে এমনিতেই মরতে হবে, অমনিতেও কিছু করার নেই। ‘ধোবল, বরখা, খুব মৃদুস্বরে প্রায় শোনা যায় না এমনভাবে বলে উঠল মাসুম, ‘প্রস্তুত।’ প্রথম দুটো শব্দ পাহারাদারদের কানে না গেলেও সে তৃতীয় শব্দটা ঠিকই শুনতে পেল। চট করে মাসুমের দিকে ফিরে ধমকে উঠল। সাথে সাথে ঘটে গেল বেশ কয়েকটা ঘটনা।
মাসুম যে হাতে ছুরি ধরেছে সেটার ফাঁস আটকানো ধোবলের গলার সাথে, সেটা আবার সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে বরখার অন্য হাতের সাথে। ফলে মাসুম চট করে ছুরিটা বের করে আনতেই টান লেগে ধোবলের দম বন্ধ হয়ে এলো। সেই সাথে বরখার হাত ছুটে গেল ছুরির হাতল থেকে। সে টান দিতেই মাসুমের হাত সরে গেল, কিন্তু মাঝখানে ধোবলের অবস্থা হলো মরার মতো। আর টানাটানিতে তিনজনেই কাত হয়ে পড়ল একদিকে। টের পেয়ে গেল ওদের পাহারায় থাকা দুই পাঙ্গু। দুজনের একজন লাঠি তুলল আঘাত করার জন্যে, আর অন্যজন বরখার গলার পেছনের মেরুদণ্ডের গোড়ায় কুঠারের মাথা ঠেকাল। মাসুম মরিয়া হয়ে টানাটানি শুরু করল কিন্তু কিছু হলো না। সে বুঝতে পারল হিসেবে ভুল হয়ে গেছে ওর। আর এক মুহূর্তের ভেতরেই লাঠি আর কুঠারের বাড়িতে ফেটে যাবে ওদের হাড়গুলো। আনমনেই চোখ বন্ধ করে ফেলল মাসুম, কিন্তু ঠিক সেই সময়েই ভীষণভাবে দুলে উঠল ওদের নৌকা। ওরা তো বটেই এমনকি নৌকায় উপস্থিত প্রতিটা লোক গড়িয়ে পড়ে গেল পাটাতনে। একাধিক ঝপ ঝপ শব্দের সাথে মাসুম অনুমান করল পাঙ্গুদের অন্তত দুজন পানিতে পড়ে গেছে। ওরা ফাঁসের কবল থেকে খানিকটা মুক্ত হয়েছিল আপনাতেই। ঘ্যাচ ঘ্যাচ ছুরির টানে বাকি গুলো মুক্ত করেই ছুরিটা ধোবলের হাতে ধরিয়ে দিয়েই সোজা হয়ে দাঁড়াল মাসুম এবং অবাক হয়ে দেখল যে নৌকাটা এগিয়ে আসছিল সেটা এগিয়ে এসে সোজা বাড়ি মেরেছে ওদের নৌকাটাকে। মুহূর্তের ভেতরে সব এলো মেলো হয়ে গেছে এই নৌকায়। পাঙ্গুদের চেঁচামেচি আর পাহারাদরদের চিৎকারে মাসুম ফিরে দেখল ও যেমন উঠে দাঁড়িয়েছে ঠিক তেমনি নৌকার মাঝামাঝি উঠে দাঁড়িয়েছে গেড়ুয়াও সে একবার আগুয়ান নৌকাটার দিকে দেখে নিয়ে চট করে ফিরে তাকাল মাসুমের দিকে। দুজনেই দুজনার দিকে আগুন চোখে তাকিয়ে রইল মুহূর্তের জন্যে। গলা আর কাঁধ থেকে আলগা ফাঁসের কাপড় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পাটাতন থেকে একটা লাঠি তুলে নিলো মাসুম, সেটাকে পাটাতনের ওপরে ঠেকিয়ে এক লাফে এগিয়ে গেল গেড়ুয়ার দিকে, গেড়ুয়াও ছুটে আসছে ওদের দিকে। দুজনেই প্রায় ধরে ফেলবে দুজনকে এমন সময় কিছু একটা এসে বাড়ি মারল গেড়ুয়ার পায়ে, উড়ে গিয়ে পানিতে পড়ে গেল সে। মাসুম অবাক হয়ে দেখল অন্য নৌকাটাতে যে মানুষটা ছিল সে তার হাতে থাকা লম্বা বৈঠাটা দিয়ে বাড়ি মেরেছে গেড়ুয়াকে। সে আরও অবাক হয়ে দেখল মানুষটা আর কেউ না, নুক্কুন নামের সেই লোকটা যাকে ওরা সাথে আনতে অস্বীকার করেছিল!
‘হুজুর, জলদি জলদি,’ লাঠির মতো বৈঠাটাকে টেনে নিতে নিতে সে চিৎকার করে ওদেরকে ওই নৌকায় যাবার জন্যে ইশারা করছে। মাসুম তাকিয়ে দেখল ধোবল আর বরখা এখনও দুই পাহারাদের সাথে লড়ছে। ‘জলদি জলদি,’ চিৎকার করে উঠল ও। হাতের লাঠি চালাল সামনের দিকে। এক পাঙ্গু দৌড়ে আসছিল, বাড়ি খেয়ে ফাটা মাথা নিয়ে পটাতনের ওপরে পড়ে গেল সে। আরেক পাঙ্গু হাতে কুঠার নিয়ে এগিয়ে আসছিল একটা লাঠি উড়ে এসে বাড়ি মারল তার মুখে। এই লোকটাও পড়ে যেতেই মাসুম দেখল ধোবল লাঠিটা ছুড়েছে। ‘জলদি,’ বলেই সে পা বাড়লো অন্য নৌকাটার দিকে। ওর ঠিক পেছনেই ধোবল আর বরখা। তিনজনেই সেই নৌকাটায় লাফিয়ে নামল। উঠে দাঁড়াল মাসুম, ‘জলদি নৌকা ঘুরাও,’ বলে নুক্কুনকে নির্দেশ দিয়ে সে আবারও উঠে দাঁড়িয়ে লাফিয়ে ফিরে এলো আগের নৌকায়। নুক্কুন ধোবল আর বরখা অবাক হয়ে দেখতে লাগল করছে কী মাসুম।
মাসুম পাঙ্গু নৌকায় লাফিয়ে পড়েই এক লাফে উঠে এলো যেখানে মাঝি বসে ছিল সেখানে। মাঝি লোকটা হাল ছেড়ে ওকে ধরতে যাবে এক লাথিতে তাকে পানিতে ফেলে ছুরি বের করে কেটে দিলো নোঙরের দড়িটা, তারপর হাতের লাঠিটা হালের নিচে ঠেকিয়ে প্রাণপণে টানতে লাগল। এমনিতেই নোঙর কাটতেই নৌকাটা টালমাটালের মতো করতে শুরু করেছিল হালে চাপ পড়তেই সেটা ঘুরে যেতে শুরু করল। নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হতেই লাফিয়ে উঠে আগের নৌকায় ফিরে আসতে গিয়ে শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারল না মাসুম। নৌকাটাও ঘুরে গেল, মাসুমও পড়ে গেল পানিতে। দুই ডুব দিয়ে যেদিকে নুক্কুনের নৌকা সেদিকে আন্দাজ করে ডুব সাঁতার দিয়ে খানিকটা সরে আসতেই পানির ওপরে মাথা তুলে দেখল ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বরখা। ওকে টেনে ধরতেই ধোবল আর নুক্কুন প্রাণপণে বৈঠা আর দাঁড় চালাতে লাগল। প্রথমত কয়েক মুহূর্ত দম নিলো মাসুম তারপর চোখ তুলে দেখতে পেল পাঙ্গু নৌকাটা পুরোপুরি উলটে গেছে। ওটার আশপাশে কিছু মানুষের হাত পা নাড়ানাড়ি দেখে বুঝলো পাঙ্গুরা চেষ্টা করছে ওটাকে সোজা করতে। কয়েকজনকে দেখতে পেল সাঁতার কেটে সবচেয়ে কাছের ডাঙার দিকে যাবার চেষ্টা করছে। মাসুম জোরে নাও বাইতে নির্দেশ দিলো। অল্প সময়ের ভেতরেই ওরা সরে এলো বড়ো একটা নদীর মতো মূল জলধারায়। যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্রাম নেওয়া হতেই প্রথমে মাসুম নিজের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখল। বেশ কয়েক জায়গায় কেটে-ছড়ে গেলেও সে ঠিক আছে। হাড়-টাড় ভেঙেনি।
ওদের নৌকা কেবল নদীতে পড়েছে, তাতেই খোলা হাওয়া আর বাতাসে মন জুড়িয়ে গেল ওর। যদিও আগের চেয়ে অনেক বাজে অবস্থায় পড়েছে কিন্তু বেঁচে তো আছে। মনে মনে আরেকবার অনুভব করল আসলে বেঁচে থাকার চেয়ে বড়ো নিয়ামত আর কিছু হতেই পারে না। মনে মনে স্রষ্টাকে ধন্যবাদ দিয়ে সে সরে এলো নৌকার যেদিকে বাকিরা আছে।
‘তোরা ঠিক আছস?’ প্রশ্নটা করেছে সে বরখা আর ধোবলের দিকে তাকিয়ে। দুজনেই মাথা নেড়ে সায় জানাতেই সে ফিরে তাকাল নুক্কুনের দিকে। মাসুম ফিরে তাকাতেই সে নিজে দাড়ির জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে পবিত্র একটা হাসি দিলো। ‘অনেক ধন্যবাদ নুক্কুন, আজ তুমি না থাকলে—’
হুজুর, আপনেরা মা-বাপ এমনে শরম দিয়েন না,’ বলে সে এককার ধোবল আর বরখার দিকে দেখে নিলো।
‘কিন্তু আমার বেশ কিছু জিনিস জানবার আছে,’ মাসুম বলে উঠল।
‘আজ্ঞে হুজুর,’ সে হাল ধরে রেখে ওর দিকে ফিরে জবাব দিলো।
‘প্রথমেই আমি দুঃখ প্রকাশ করছি তোমারে না নিয়া আসার জন্যে–’
হুজুর, এইখানে আপনের দোষ নাই, ওরা কোনোরহমেই আমারে আনতে দিত না, কারণ শুরু থাইকাই ওগো নিয়ত আছিল খারাপ। হেরা আপনেগো কী কইছে জানি না কিন্তু হেগোর কতাবার্তা উলটা-পালটা আছিল শুরু থেইকাই।’
‘আমি একটা জিনিস বুঝতে পারলাম না। শেরু বা বাসিমের অন্য লোকেরা কেউই ব্যাপারটা বুঝতে পারল না,’ বরখা বলে উঠল। সে আর ধোবল দুজনেই বৈঠা চালাচ্ছে বেশ মনোযোগের সাথে।
‘হুজুর, গোস্তাকি না নিলে একটা কথা কই,’ নৌকার হাল চেপে ধরে নুকুন তাকিয়ে অছে অন্যদিকে। ‘এই সমাজের উপরের তলার মাইনষেরা নিচের তলার মানুষগোরে যদি বুঝতেই পারত তাইলে তো সমস্যাই থাকত না। হুজুর, রসুল খাঁর লোকেরা যা ভাবছিল হেরা ডাকলেই দশ জনে পায়ের উপরে ঝাঁপায়া পড়ব সাহাইয্য করার লাইগা, কারণ হেগোর একটা ধারণাই অইল হেরাই খালি গরিবগোরে কামড় দিতে পারে, কিন্তু সময়ে যে গরিবগোর ভিতরেও ভয়ঙ্কর মানুষ থাকতে পারে। হেরাও ক্ষতির কারণ হয়া উঠতে পারে, সেইটা হেরা বুঝতে পারে নাই।’
‘তুমি আসলা ক্যামনে?’ নুক্কুন দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাসুম তাকিয়ে আছে নুক্কুনের দিকে। ‘তুমি তো এইটা পার হওয়ার লাইগা কোনো রাস্তাই পাইতেছিলা না, সেইজন্যেই তো আমগো লগে আইতে চাইছিলা। এত সহজে পাইলা ক্যামনে?’
‘হুজুর, কপাল জোরে পাইয়া গেছি। আসলে কপাল জোরে না। প্রথমে আপনেরা যেমনে লুকায় এইহানে ঢোকার বুদ্ধি করছিলেন এইটা আপনেগো দেইখাই মাথায় আসছে, আগে এই বুদ্ধি আহে নাই,’ বলে সে মাথা চুলকালো দুবার। ‘এরপরে কাইল আপনেরা বাইর হইতেই পিছে পিছে গেলাম, আপনেরা রওনা দিতে চইলা গেলাম আরেক ঘাটে। ওইখানে গিয়া দেখি কাঠুরিয়াগোর আরেক দল রওনা দিতাছে। হেগোরে হাতে পায়ে ধইরা বহুত কান্দাকাটি কইরা রওনা দিলাম হেগো লগে। হেগো লগে কথা কইতে কইতে যখন কইলাম আরও একদল কাঠুরিয়া গেছে আগে, হেরা খুব অবাক অইছে কারণ হেরা নাকি এমন কারও কথা শুনে নাই। এগো সমাজের কেউই জানে না। আমি ভাবছিলাম হয়তো হেরা জানে না। কিন্তু ঘাটে আপনেগো নৌকার ঠিক দুই নৌকা পরের নৌকাতেই আমরা ছিলাম। ওইখানে বইসা যখন দেখাইলাম তখন হেরা কইল এই কাঠুরিয়ার দল হেরা জীবনেও দেহে নাই এই মুলুকে। সন্দেহ অইল, কালীঘাটে নাইমা গেলাম। ওইখান থেইকা দেখলাম আরেকটা নৌকা যাইতাছে আপনেরা যেদিক গেছেন হেদিকে। কালীঘাট থেইকা একটা নৌকা চুরি কইরা আগাইতে লাগলাম। এরপরে ওইদিকে যাইতে আপনেগো যেই জলার ওইখানে নিয়া আটকাইয়া রাখছিল ওইটার উলটাদিকে দেখলাম হেগো মতন পোশাক পরা আরও একদল লোক আছে। ওইখানে নাইমা দ্বীপের উলটাপাশে গিয়া হেগো নৌকা চুরি করলাম তারপর তো আপনেরা জানেনই।’
তুমি এখন তো এইখানে আসতে পারছ, তাহলে তোমার পরিবার—’
মাসুম, বাদ দে তো ওর আলাপ,’ এই প্রথমবারের মতো বরখা বেশ অস্থির হয়ে বলে উঠল। যা পরিকল্পনা করা আছিল সব তো বরবাদ হয়া গেল। এখন আমরা করব কি, খালি কয়ডা ছুরি আর এই নৌকাড়া বাদে তো আর কিছু নাই। এই এলাকাও ঠিকমতো চিনি না আমরা। যে বিরাট দায়িত্ব নিয়া আসছি সেইটার কী করব কিছুই তো বুঝতাছি না।’
ধোবল আর বরখা দুজনেই তাকিয়ে আছে মাসুমের দিকে।
মাসুমকে দেখে অবশ্য খুব বেশি বিচলিত বলে মনে হচ্ছে না। সে দাড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নুক্কুনের দিকে। ‘নুক্কুন, তুমি এই এলাকা কেমন চিন?’
‘হুজুর, আমি মোডামুডি সবই চিনি,’ কোনোরকম দ্বিধা ছাড়াই নুকুন এক বাক্যে বলে উঠল।
মাসুম, কোমরে হাত দিয়ে ওর ধূতির কোচর থেকে ভেজা একটা কাপড়ের মানচিত্র বের করে আনল। ‘নৌকাটা কোনো এক জায়গায় ভিড়াও তোমার সাথে আলাপ আছে।’
তুই এইটা কখন আনলি?’
‘গেড়ুয়ারা যতই মানা করুক শরীরের ভেতরে যা কিছু সম্ভব টুকটাক কয়টা জিনিস আমি নিছিলাম কারণ এইটা জানতাম একবকার এইখানে আসলে এইগুলা লাগবই। যাক গা, এই মানচিত্র দেইখা একটা বিশেষ জায়গায় যাইতে হবে আমগো।’
‘সেইটা কোনো জায়গায়?’
‘কোনো জায়গায়, তারচায়া বড়ো কথা সেইখানে কী আছে,’ মাসুম রহস্যের মতো ভ্রু নাচিয়ে বলে উঠল।
‘কী আছে?’ ধোবলও আগ্রহের সাথে তাকিয়ে আছে মাসুমের দিকে
‘ওইখানে মোঘলগোর একটা বাহিনী আছে, বলে সে মৃদু হেসে উঠল। ‘সবচেয়ে বাজে অবস্থাতেই সবচায়া ভয়ঙ্কর কাজ করতে হয়। আমরা যে অবস্থায় আছি তাতে বাঘের গুহাতে ঢুইকাই বাঘের খাবার ছিনায়া আনতে অইব।’
বরখা আর ধোবল তো বটেই এমনকি নুক্কুনও তাকিয়ে আছে মাসুমের দিকে।
‘আমগোরে মোঘলগোর আস্তানায় ঢুকতে অইব। মোঘলগোর আস্তনায় ডাকাতি করব আমরা,’ খুব তরল গলায় বলে উঠল মাসুম।
