অধ্যায় ছাব্বিশ
বর্তমান সময়
মোড়ার পাড়া চৌরাস্তা, নারায়ণগঞ্জ জেলা
বাশার ভেবেছিল পৃথা মেয়েটা ওর বাড়িয়ে দেওয়া রুটি-কলার প্যাকেটটা এক ঝটকা দিয়ে ফেলে দিবে, কিন্তু সেটা করল না দেখে খানিকটা অবাকই হলো ও। তবে মেয়েটা প্যাকেটটা নিলোও না। একবার ওর দিকে দেখে নিয়ে রাগের সাথে ফিরে তাকাল অন্যদিকে। বাশার বাকিদের দিকে তাকিয়ে একবার অসহায়ভাবে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বসে পড়ল পৃথার সামনে, ‘বাশার কখন থেকে পৃথাকে তুমি করে বলতে শুরু করেছে টের পায়নি।’ পৃথা, আমি সরি,’ বাশার তাকিয়ে আছে পৃথার দিকে তার দৃষ্টি নিচের দিকে। ‘আমি বুঝতে পারছি লকেটটার সাথে তোমার পারিবারিক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কিন্তু আমার আসলে কিছু করার ছিল না। পরিস্থিতি এমনভাবে মোড় নিলো। ওই মুহূর্তে সবার প্রাণ বাঁচানোটাই প্রায়োরিটি মনে হচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওটাই মাথায় এলো। তাই আর কিছু ভাবতেও পারিনি।’
‘পারিবারিক স্মৃতি!’ পৃথা যখন চোখ তুলল বাশার দেখল মেয়েটার চোখে পানি না থাকলেও তার চোখ একেবারে ছলছল। ‘ওটা বলতে গেলে আমার মায়ের শেষ স্মৃতি ছিল। আপনার কাছের কোনো মানুষের শেষ স্মৃতি যদি এভাবে হারিয়ে যায় আপনার কেমন লাগবে?’
পৃথার শেষ কথাটা একেবারে বাশারের বুকের ভেতরে গিয়ে লাগল। আপনাতেই হাতের জিনিসগুলো ও বাঁশের বেঞ্চটার ওপরে রেখে ডান হাত দিয়ে নিজের বাঁহাতের মধ্যমায় পরা আংটিটা চেপে ধরল। কয়েক মুহূর্ত কোনো কথাই বলতে পারল না। ক্ষণিকের জন্যে ওর মনে হতে লাগল নিজেকে সামলাতে পারছে না, ভয় হলো সবার সামনে কোনো সিন ক্রিয়েট করে ফেলে কি না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর অনেকটাই স্বাভাবিক বোধ করতে লাগল ও। পৃথার দিকে ফিরে তাকিয়ে দেখল মেয়েটা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
‘আপনি ঠিক আছেন?’ সে খানিকটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে বাশারের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল। ‘আম অল রাইট,’ বাশার কয়েকবার ঢোক গিললো। ‘আমি আসলে মন থেকে সরি। আর যদি আমার আয়ত্তের মধ্যে বিন্দুমাত্র সুযোগও আমি পাই, জিনিসটা অবশ্যই তোমার কাছে আমি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো। আই প্রমিজ,’ বাশার দেখল পৃথা মেয়েটা এখনও তাকিয়ে আছে ওর দিকে। ‘এখন আমাদেরকে কাজে নামতে হবে, কাজেই প্লিজ,’ বলে সে হালকা খবারগুলো পৃথার দিকে এগিয়ে দিলো। ‘খেয়ে নাও,’ জিনিসগুলো মেয়েটার হাতে ধরিয়ে দিয়েই ও পলকের জন্যে সোহেলের দিকে তাকিয়ে ইশারা করল। সোহেলের সাথে ওর কথা আছে। কাল রাতে যা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত যা ঘটলো এবং সামনে ওরা যা করতে যাচ্ছে, সেই বিষয়ে সোহেলের সাথে কথা বলতে হবে ওকে। কিন্তু তার আগে জরুরি আরেকটা কাজ আছে, যেটা সবার সাথে আলোচনা করতে হবে, বিশেষ করে চৌধুরী আর পৃথার সাথে কথা বলতে হবে ওর এটা নিয়ে। বাশার সামনের রাস্তার দিকে তাকাল একবার, কেন জানি কাল রাতে পরপর দুইবার আক্রমণের পর ওর ভেতরেও অদ্ভুত এক ভয় ঢুকে গেছে ওর। যে-কারণে মূল বাজার এলাকায় না থেকে ওরা এখন অবস্থান করছে সোনারগাঁও যাবার পথে মোড়ার পাড়া চৌরাস্তা থেকে খানিকটা ভেতরের দিকে মূল রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকানে। গতকাল রাতে ওই গাড়িটা ওদের পিছু নেওয়ার পর, যখন ওটাকে পেছন থেকে খসাতে পারল আরও অনেকদূর গিয়ে হিসেব করে দেখে ওরা বুড়িগঙ্গার পাড় ধরে অনেকদূরে এগিয়ে এসেছে, তারপর মূল হাইওয়েতে উঠে বেশ অনেকটা সরে এসেছে যেদিক যাবার কথা সেদিক থেকে। কিন্তু ওরা নিজেরা আলোচনা করে আরও বেশ অনেকটা দূরে সরে, তারপর নারায়ণগঞ্জ যাবার জন্যে মূল রাস্তাটা অ্যাভয়েড করে অনেক পথ ঘুরে তারপর সোনারগাঁওয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এর মাঝে আরও কিছু কাজ সেরেছে। হাইওয়েতে দূরে সরে রাতের শেষ প্রহরে রাস্তার পাশে একটা ভালো জায়গা দেখে গাড়ি পার্ক করে বিশ্রাম নিয়েছে সবাই মিলে। তারপর ভোরের আলো ফুটে ওঠার পর আবার যাত্রা শুরু করেছে। রাস্তায় একটা ওয়ার্কশপে গাড়ির কিছু মেরামতির কাজও করিয়েছে। বিশেষ করে পেছনের জানালাটা লাগানোসহ বেশ কিছু জরুরি কাজ সেরেছে। গাড়ির কাজ করার সময়ে, ওরা রাস্তার পাশের এক হোটেলে নাশতা করে নিয়েছে ফ্রেশ হয়ে, সাথে মোবাইলও চার্জ করে নিয়েছে সবাই। এরপর আবারও চলতে শুরু করেছে। সবাই বেশ ক্লান্ত আর টেনশনে থাকার কারণে এসব বিষয় নিয়ে আর আলোচনা তেমন আগায়নি। তবে বাশার নিজের ভেতরে অনেক পরিকল্পনা ঠিক করে ফেলেছে। এরপরে ওরা গুগল ম্যাপ ধরে সোনারগাঁওয়ে যাবার পথে মোড়ার পাড়াতে পৌঁছালে বাশার মূল চৌরাস্তা থেকে সরে পাশের একটা হাইওয়েতে রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে চা খাবার জন্যে থামতে বলে। এখানে থামার পেছনে দুটো কারণ। একে তো অনেক আগে নাশতা করার কারণে সামান্য ক্ষুধাও লেগেছে সেই সাথে বাশারের জরুরি কিছু আলোচনা করার আছে বাকিদের সাথে। সেইজন্যেই এখানে থামা।
নিজের চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে সেটাকে নামিয়ে রেখে একটা সিগারেট ধরাল বাশার। ‘বস, কিছু বলবা নাকি?’ ওর পাশ থেকে সোহেল বলে উঠল।
‘বলব,’ সিগারেটে কষে একটা টান দিয়ে ওটাকে নিচে ফেলে পিষে দিয়ে সোহেলের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল বাশার, সোহেলের ক্লান্ত চেহারা দেখে খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছে ওর চেহারার কী অবস্থা। সবার ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বয়ে গেছে কাল রাতে। তবে বাশার জানে ঝড় সবেমাত্র শুরু হয়েছে। যাত্রা এখনও অনেক বাকি। ‘তবে বাকিদের সাথে কিছু আলোচনা আছে সেগুলো সেরে নেই আগে। কথা শেষ করে তোরে ইশারা করলে চইলা আসিস, ‘ বলেই সবার দিকে ফিরে বলে উঠল, ‘সবাই একটু শুনবেন, কিছু জরুরি কথা বলার অছে।’
ওরা চায়ের টংয়ে যে বাঁশের বেঞ্চে বসে ছিল সবাই ফিরে তাকাল ওর দিকে, একটা আলগা কাঠের বেঞ্চের মতো টেনে নিয়ে সবার মুখোমুখি বসে পড়ল বাশার। ‘প্রথমেই একটা কথা জানতে চাই আমি, এটা খুবই স্বভাবিক যে গতবার রাতে যা ঘটেছে এরপরে ভয় পাওয়া বা দ্বিধা করাটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার, কিন্তু কেউ কি কেসটা থেকে সরে পড়তে চান?’ বাশার সবার দিকে দেখল একে একে, সবাই চুপ। ‘গুড, এবার তাহলে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো। কাল রাতে আমাদের ওপরে যে আক্রমণ হলো এটা নিয়ে কারও কোনো প্রশ্ন মন্তব্য বা সাজেশন আছে?’
‘আছে,’ চৌধুরীর আরেকপাশে বেঞ্চের এক কোনায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল সে ওটাকে ফেলে দিয়ে বলে উঠল, ‘আমি জানি না কেউ খেয়াল করেছেন কি না, তবে আমার কাছে মনে হয়েছে কাল রাতে আমাদের ওপরে দুটো আলাদা আলাদা গ্রুপ আক্রমণ করেছে।।’
বাশার খুশি হয়ে মাথা নাড়ল, ‘আমারও তাই মনে হয়েছে। আমরা চার্চ থেকে বের হবার পর প্রথম যে-গ্রুপটা আমাদের ওপরে হামলা চালাল মানে গলির ভেতরে-’
‘ওটা ছিল মোহাম্মদপুরের সেই গ্রুপ,’ চৌধুরী যোগ করল। ‘আমি শেষবার গাড়ি দিয়ে আঘাত করার সময়ে ওই কালো কোট লোকটাকে পরিষ্কার দেখেছি গাড়ির ভেতরে। কিন্তু গলি থেকে বের হবার পর আমাদেরকে অনুসরণ করল এবং গুলি করল যারা, ওরা আলাদা গ্রুপ। আমার কাছে অন্তত এরকমই মনে হয়েছে।’
‘এরকম মনে হবার কারণ কী?’ পৃথা ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইল।
নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই,’ চৌধুরী বলে উঠল। ‘প্রথম গ্রুপ যারা আমাদেরকে মোহাম্মদপুরে এবং গলির ভেতরে আটকে ফেলেছিল, ওরা অনেক কম অ্যাগ্রেসিভ ছিল। আমার মনে হয়েছে ওরা স্রেফ আমাদের থেকে আমাদের জিনিসগুলো নিতে চেয়েছে। কিন্তু পরের গ্রুপটা অনেক বেশি অ্যাগ্রেসিভ ছিল। ওরা যেভাবে গুলি করেছে তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে এরা প্রয়োজনে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করবে না,’ বলে সে ঠোঁট উলটে বলে উঠল। ‘এছাড়া আসলে বিশেষ তেমন কোনো কারণ অমি বলতে পারবো না।’
‘এমনকি হতে পারে না, গলিতে আমাদের কাছে ধরা খেয়ে ওরা খেপে গেছিল, বা আমরা ফসকাতে পারি ভেবে অ্যাগ্রেসিভ হয়ে ওদেরই আরও কোনো ব্যাকআপ আমাদের ওপরে অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠেছিল।’
‘পারে, আমরা এখনও আসলে হাওয়ার ওপরেই লড়ছি, আমাদের শত্রুরা জানে আমরা কারা কিন্তু আমরা কিছুই জানি না,’ বলে বাশার বড়ো করে দম নিলো। ‘আমার দুয়েকটা অভিয়াস প্রশ্ন আছে,’ কথাটা বলে পৃথা তিনজনকে দেখল। ‘একটা ব্যাপার আমি বুঝতে পারছি না, আমরা ঠিক যেই মুহূর্তে লকেট এবং সোনারগাঁওয়ের ব্যাপারটা আবিষ্কার করলাম ঠিক সেই সময়েই আমাদের ওপরে হামলাটা হলো কীভাবে? এটা আমার কাছে ঠিক পরিষ্কার না,’ সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাশারের দিকে। বাশারও তাকিয়ে আছে তার দিকে।
‘তারচেয়েও আরও অভিয়াস একটা ব্যাপার আমি বুঝতে পারছি না,’ সোহেল বলে উঠল, ‘আমরা এখানে এসেছি কেন? আমাদের কাছে যা ছিল সেটা তো গেছেই, তাহলে এখানে এসে ফায়দাটা হবে কী?’
সে দুই হাত নেড়ে এমনভাবে প্রশ্নটা করল বাশার হেসে উঠল। ‘তোর কি মনে হয় না, এই প্রশ্নটা তোর এখানে আসার আগে করা উচিত ছিল?’ বলে সে সোহেলের দিকে তাকিয়ে আছে, সোহেল আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই বাশার বলে উঠল, ‘এখানে আমরা যে-কাজে অসতাম সেটাই করবো।’
‘কিন্তু কীভাবে, লকেটটা তো গেছে—’
বাশার আবারও হেসে উঠল, ‘লকেটটা গেছে কিন্তু লকেটের ভেতরে যে- ম্যাপটা ছিল সেটা গেছে, কে বলল,’ বলে বাশার সেই পাতলা মসলিন কাপড়ের ম্যাপটা পকেট থেকে বের করে সবার সামনে মেলে ধরল। ‘আমি লকেটটা ছুড়ে দিয়েছিলাম যাতে ওরা ডিট্র্যাকটেড হয় এবং আমরা সরে পড়তে পারি। কিন্তু সেই গলিতে যখন আক্রমণ হলো তখনই আমি দুটোকে আলাদা করে ফেলেছিলাম।’
‘তুমি একটা মাল, বস,’ খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠল সোহেল। ‘এখন আমার প্রশ্ন হলো,’ বাশার ম্যাপটা দেখিয়ে পৃথা আর চৌধুরীর কাছে প্রশ্ন করল, ‘আমরা সোনারগাঁওয়ে হয়তো এসে পড়েছি কিন্তু এখানে এখন কীভাবে কী করব? আমার মনে হয় আপনারা দুজনে এটা নিয়ে বসে আলোচনা করুন, আমি সোহেলের সাথে একটু একান্তে কথা বলবো,’ বলে বাশার উঠে দাঁড়িয়ে ম্যাপটা পৃথা আর চৌধুরীকে দিয়ে সোহেলের দিকে ফিরে ইশারা করল। ওরা রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটা গাছের গুঁড়িতে বসে, বাশার একটা সিগারেট ধরিয়ে সোহেলের কাছ জানতে চাইল, ‘তুই কি সিগারেট খাস?’
‘না, বস,’ সোহেল মৃদু হেসে মানা করল। ‘এখন বলো।’
‘প্রথম প্রশ্ন তোর কাছে, কেসটা আমি যেভাবে হ্যান্ডেল করছি তাতে তোর কোনো কনফিউশন বা প্ৰশ্ন নেই?
‘অবশ্যই আছে, প্রথম কথা যেটা হলো তুমি বা আমরা কেন—’
‘অথরিটিকে ইনভলভড করছি না?’ বাশার টোকা দিয়ে ছাই ফেরলো। ‘হ্যাঁ, এটা আমি খানিকটা আন্দাজ করতে পারি, তবে-’
ট্রাস্ট মি, কারণ আছে এর পেছনে, একটা কথা আপাতত বলি—চৌধুরী। তাকে আমাদের প্রয়োজন, কিন্তু তাকে নিয়ে কাজ করতে গেলে অথরিটিকে জানাতে গেলে তারও আপত্তি, আবার অথরিটিকে এটার জন্যে কনভিন্স করতে অনেক হ্যাপা পোহাতে হবে। আমাদের হাতে সময় নেই। আগে কাজটা করা জরুরি। প্রফেসর ইফতেখারকে বের করা জরুরি। আর না হয় অন্তত তার রেখে যাওয়া ব্লু গুলো বের করতেই হবে, আমাদেরকে জানতে হবে রাজদ্রোহীর রহস্য আসলে কী—’
‘বুঝতে পেরেছি, আর দ্বিতীয় ইস্যু?’ সোহেলও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাশারের দিকে।
বাশার কথা না বলে ওর দিকে তাকিয়ে সিগারেট টানতে লাগল। ‘সেইম, ট্রাস্ট ইস্যু। আমি কারও বিরুদ্ধে আঙুল তুলছি না কিন্তু এই মুহূর্তে ফোর্সে আমরা সবে গতকাল জয়েন করেছি, কাজেই এখনও অনেক কিছুই জানি না। তার ওপরে যা ঘটছে যেভাবে ঘটছে ঘটনা ভেতরেও অনেক ঘটনা আছে। এগুলো একেবারেই স্বাভাবিক না।’
‘তারমানে আমাদেরকে আরও অপেক্ষা করতে হবে-’
‘অপেক্ষা করতে হবে, ভরসা রাখতে হবে পরস্পরের ওপরে এবং,’ বলে ও একটু থামল। ‘নজর রাখতে হবে, মনে আছে পাটোয়ারি স্যার কী বলেছিল—’
ট্রাস্ট নো ওয়ান, সোহেল বলে উঠল।
বাশার উঠে দাঁড়াল। ‘ডোন্ট ওরি ব্রো, কেসটা এনজয় কর, দারুণ অ্যাডভেঞ্চারের ভেতরে আছি আমরা,’ বলে ঘড়ি দেখল ও। ‘তবে আরেকটু বেলা বাড়লেই অফিস আওয়ার শুরু হলে আমি মৌসুমি আপার সাথে কথা বলবো। লেটস গো।’
ওরা দুজনে এগিয়ে এসে দেখল চৌধুরী আর পৃথা মহা মনোযোগের সাথে আলোচনা করছে। ‘এনি প্রোগ্রেস?’
‘অবশ্যই, ম্যাপটা যে সোনারগাঁওয়ের এটা তো গতকালই মোটামুটি কনফার্ম হয়েছিলাম আজ কনফার্মেশনটা পোক্ত হয়েছে। সব সাইন, লোগো, প্যাটার্ন মিলে যায়।’
‘তারমানে কি সোনারগাঁওতে গেলে আমরা সরাসরি কাজ শুরু করতে পারব?’ বাশার জানতে চাইল।
‘না, এখানে একটা সমস্যা আছে, এই ম্যাপ বহু আগের, এটা ধরতে হলে এই এলাকার ব্যাপারে অভিজ্ঞ কাউকে দেখাতে হবে, এটা করা আমাদের সামর্থ্যের ভেতরের কাজ নয়,’ পৃথার কথা শুনে বাশার কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই সে যোগ করল, ‘এটারও সলুশান বের করা হয়েছে। সোনারগাঁওতে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করেন, এই এলাকা নিয়েই গবেষণা করছেন এবং মাম্মি এবং পাপার সাথেও কাজ করেছেন এরকম একজন আর্কিয়োলজিস্টকে আমি চিনি, চৌধুরীও চেনেন। প্রফেসর হামিদুর রহমান। খুবই মাই ডিয়ার এবং সজ্জন টাইপের মানুষ। এখানকার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের হর্তাকর্তা। উনার কাছ থেকে হেল্প নিতে পারবো আমরা। আরও একটা কারণে উনাকে প্রয়োজন, এখানে কাজ করতে গেলে পারমিশন ইত্যাদির ঝামেলা হতে পারে, উনি থাকলে আর কোনো হাঙ্গামাই থাকবে না।’
‘উনাকে পাবো কোথায়?’ বাশার জানতে চাইল
‘মোবাইলে কল দেওয়া যায়,’ পৃথার বাক্যটা শেষ হতেই বাশার মানা করল।
যদি উনি এখানেই থাকেন, তবে তার সাথে সরাসরি কথা বলাই বেটার।
‘আচ্ছা আমার একটা কথা ছিল,’ পৃথা বলল। সবাই ফিরে তাকিয়েছে তার দিকে। ‘গতকাল রাতে লোকগুলো একেবারে সময়মতো আমাদের ওপরে আক্রমণ করল-বিষয়টা আমি মাথা থেকে বের করতে পারছি না। তারা কি কোনোভাবে ট্র্যাক করেছে আমাদের? আমাদের গাড়িটা চেক করা উচিত না একবার?’
বাশার হেসে উঠল, ‘তোমার কি মনে হয় না, এই কথাটা আমার মাথায় আরও অনেক আগে আসতে পারে। আমি আজ সকালে গাড়ি সার্ভিসিং করানোর সময়ে মেশিন দিয়ে চেক করিয়েছি। গাড়িতে কিছু নেই। চলো সবাই।’
***
বাশারের উচ্চারণ করা শেষ কথাটা শুনে কফিতে চুমু দিতে থাকা কালো কোট আনমনেই একবার হেসে উঠল। ইন্সপেক্টরের মাথা বুদ্ধি আছে কিন্তু তার মতো বিচিত্র যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা তো আর তার নেই, সে কফি শেষ করে নিজের লোকদেরকে ইশারা করল প্রস্তুত হতে। ওরা সবাই সকালের খাবার খেয়ে নিয়েছে। ওদের খাওয়া শেষ হয়েছে কি না জেনে নিয়ে সে ওয়েটারকে বিল দিতে বলল। যদিও তাড়াহুড়ো নেই, মোড়ার পাড়া চৌরাস্তায় আছে এখন ওরা। ওরা গিয়ে কাজ করুক, তারপর সময়মতো হানা দিবে সে। শুধু একটা ব্যাপারই বুঝতে পারছে না সে, গতকাল এদের ওপরে অন্য কারা আক্রমণ করল?
