৩২. দময়ন্তী
দেড়মাস বাদে শান্তিধামে এসে হকচকিয়ে গেল দময়ন্তী। মাত্র এই ক’দিনে এত বদল? এ তো অকল্পনীয় ব্যাপার!
ড্যানিয়েল যখন অপারেশানের জন্য ভরতি হয়েছিলেন, তখন শান্তিধামে স্যামি একাই চেম্বার করতেন। অপু আর ফেলু—এই দুই মেডিকাল অফিসার আর সিস্টার সুজাতাকে নিয়ে ঢিকিয়ে ঢিকিয়ে চলছিল শান্তিধাম। মাত্র একটা ক্যানসার সার্জারি শান্তিধামের চেহারা বদলে দিয়েছে।
ভোলবদলের পিছনে শক্তিরূপার হাত আছে। বেঙ্গল নিউজ এবং আজ সকাল— দুটো খবরের কাগজেই চিত্রশিল্পী ড্যানিয়েল আর্চারের অপারেশানের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ড্যানিয়েল সেলিব্রিটি। তার চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য এমনিতেই নিউজ আইটেম। কিন্তু সেই খবরে শল্য চিকিৎসক হিসেবে সমীরণ ব্যানার্জির নাম এবং আরোগ্য নিকেতন হিসেবে শান্তিধামের উল্লেখ শক্তিরূপার কারণেই হয়েছে। ফলো আপ হিসেবে আজ সকাল-এর রবিবারের সাপ্লিমেন্টে প্রকাশিত হয়েছে ড্যানিয়েলের ইন্টারভিউ। অপারেশানের একমাস দশদিন বাদে তিনি জানিয়েছেন, ‘শল্য চিকিৎসক সমীরণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে দ্বিতীয় জীবন দিলেন।’
ইন্টারভিউয়ের মধ্যে রংচঙে ইনফো-গ্রাফিক্সে, পাঠকের সুবিধার জন্য অগ্ন্যাশয়ের কর্কট রোগ, তার শল্যচিকিৎসা, ক্যানসার সার্জন হিসেবে স্যামির অতীত ও বর্তমান দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তারপর থেকেই স্যামি এবং শান্তিধামের তুঙ্গে বৃহস্পতি।
পেশেন্টের ভিড় আবার আগের মতো। গোটা পূর্ব ভারত এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ক্যানসার পেশেন্টের অ্যাপয়েন্টমেন্টে স্যামির ডায়রি ঠাসা। সকালে ইন্ডিয়ান মেডিকাল কলেজের আউটডোর এবং দুপুরে ওটি, সন্ধে এবং রাতে শান্তিধামের চেম্বার এবং ওটি। জীবন চলেছে পুরোনো ছন্দে। ব্যাঙ্কের বকেয়া ঋণ শোধ হয়ে গেছে। অপু-ফেলু ছাড়া আরও দু’টি ছেলে আরএমও হিসেবে জয়েন করেছে। জয়েন করেছে দশজন সিস্টার, বেশ কয়েকজন ওয়ার্ডবয়। যে সব সার্জন শান্তিধামে অপারেশান করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তাঁরা আবার ফিরে এসেছেন।
বৃন্দার কাছ থেকে আর একটা খবর শুনে দময়ন্তী হেসে কুটিপাটি। ঘটনাটা খুব মজার।
শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পরে স্যামি ছোটখাটো সার্জারি করতেও ভয় পেতেন। এই সময় মন্দিরা একটা ফন্দি আঁটেন।
স্যামি কনট্রোল ফ্রিক এবং ডমিনেটিং। অভিনেত্রী বউকে বিয়ের পরে অভিনয় জগৎ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। বিধবাপুকুরে মন্দিরা অভিনয় করুক— এটা চাননি। বাড়ির বউ বাইরে বেরিয়ে রোজগার করবে, এ স্যামি ভাবতেও পারেন না।
এই সময়ে মন্দিরার কাছে চিৎপুরের মনোরমা কোম্পানি থেকে যাত্রা করার প্রস্তাব এসেছিল। মন্দিরা কোনও দিনই যাত্রা করতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে যাত্রার পেমেন্ট খুব ভালো। মনোরমা কোম্পানির মালিকের সঙ্গে দিন দুয়েক কথা বলেছিলেন মন্দিরা। একবার রবীন্দ্র সরণির গদিতেও গিয়েছিল। শেষমেশ ‘না’ বলে চলে আসেন।
যাত্রা করার প্রস্তাব যে নাকচ করে দিয়েছেন, এইটা স্যামিকে জানাননি মন্দিরা। বলেছিলেন, ব্যাঙ্কের লোন মেটানোর জন্য তিনি যাত্রা করবেন। দু’একবার অ্যাম্বাস্যাডার ভাড়া করে শান্তিধাম থেকে বেরিয়ে, এদিক ওদিক ঘুরে, মাটিপ্লেক্সে সিনেমা দেখে, বাড়ি ফিরে মহড়ার গপ্পো করেছিলেন। স্যামি গুম মেরে শুনেছিলেন। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী মন্দিরার অভিনয় স্যামির মেল-ইগোতে বেজায় আঘাত করেছিল।
পিতৃতান্ত্রিক, ঈর্ষাকাতর স্যামি মন্দিরার বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করার জন্যে আবার পুরোদমে সার্জারি শুরু করেন।
দময়ন্তী মন্দিরার কাছে কৃতজ্ঞ। মন্দিরা নিপুণ অভিনয় না করলে স্যামি আত্মবিশ্বাস ফেরত পেতেন না। ড্যানিয়েলের সার্জারিও হত না।
ড্যানিয়েল এখন অফিসিয়ালি ‘ক্যানসার ফ্রি’। সার্জারির পরে তিন সাইক্ল কেমোথেরাপি চলেছে। আজ চতুর্থ সাইক্ল। গত কেমোথেরাপির পরে নানা পরীক্ষা করে স্যামি জানিয়ে দিয়েছেন, ড্যানিয়েলের অগ্ন্যাশয় থেকে কর্কট রোগ ল্যাজ তুলে পালিয়েছে।
এত বড় সার্জারির পরে ড্যানিয়েলের মতো বলবান পুরুষও টসকে গেছে। শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। মাথার সব চুল উঠে গেছে, চামড়ায় র্যাশ বেরিয়েছে, ওজন আশি কিলো থেকে কমে ষাট কিলো হয়েছে। পুরোনো পাজামা-পাঞ্জাবি ঢলঢল করে। দময়ন্তী গতকাল ফ্যাব ইন্ডিয়া থেকে বাবার জন্য জলপাই সবুজ রঙের কুর্তা, সাদা চুড়িদার আর হালকা সবুজ রঙের ব্যান্ডানা কিনে এনেছে। নতুন পোশাকে ড্যানিয়েলের চেহারা খোলতাই হয়েছে। মনে হচ্ছে ভিনদেশি রাজপুত্তুর।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় স্যামির চেম্বারে ঢুকল দময়ন্তী। সঙ্গে ড্যানিয়েল। শক্তিরূপা আজ আসতে পারেননি। এডিটোরিয়াল মিটিং আছে।
‘নতুন কী আঁকলেন?’ ড্যানিয়েলকে প্রশ্ন করলেন স্যামি।
‘নতুন কাকে কাটলেন?’ পাল্টা প্রশ্ন ড্যানিয়েলের।
‘রোজই দশ বারোজনকে কাটছি। কিন্তু সেটা কোনও ইস্যু নয়। ডাক্তাররা মানুষের শুশ্রুষা করেন। শিল্পীদের কাজ অনেক বড়। তিনি সভ্যতার শুশ্রুষা করেন। আমি মারা যাওয়ার পরে আমার কাজ ইহজগতে থাকবে না। আপনার অবর্তমানে আপনার পেইন্টিং আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
‘আপনি কবে মারা যাবেন এই নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র কৌতূহল নেই। কিন্তু আমার বর্তমানের আগে কবে ‘অ’ বসবে এটা যদি জানান, তা হলে বাধিত হই।’
‘ঘটমান বর্তমান বা অদূর ভবিষ্যতে তার কোনও লক্ষণ দেখছি না। অন্তত অগ্ন্যাশয়ের কর্কট রোগ থেকে। তবে আপনি যদি গঙ্গায় ঝাঁপ দেন, অথবা মেট্রো রেলের থার্ড লাইনে মাথা ঠোকেন অথবা টাটা সেন্টারের ছাদ থেকে লাফ মারেন— তা হলে কী হবে বলতে পারছি না।’
‘যাক বাবা! নিশ্চিন্ত হওয়া গেল। এত তাড়াতাড়ি যখন মরছি না, তাহলে আপনার অভয় পেলে একটা বড় কাজে হাত দিই।’
দময়ন্তী চুপ করে বসে দুই বয়স্ক শিশুর কথোপকথন শুনছিল। এবার নড়েচড়ে বসল। গত দেড়মাসে ড্যানিয়েল ক্যানভাসে তুলি ছোঁয়াননি। শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনেছেন আর মহাভারত পড়েছেন। মনে মনে কোনও বড় কাজের পরিকল্পনা করেছেন কি? দময়ন্তীকে বলেননি তো!
‘কী জাতীয় কাজের পরিকল্পনা আছে আপনার?’ জানতে চায় স্যামি।
‘পাণ্ডবদের অন্তিম যাত্রা নিয়ে একাধিক তৈলচিত্র আঁকার ইচ্ছে আছে। পাঁচ ভাই এবং দ্রৌপদী। প্রত্যেককে নিয়ে একটি করে চিত্র। সারমেয়টি কোনও কোনও চিত্রে থাকবে। তৈলচিত্রগুলিতে চরিত্রের বহিরঙ্গ তো থাকবেই। কিন্তু আমার লক্ষ্য হবে প্রত্যেকের সারা জীবনের যাত্রাকে ওই ছবিগুলিতে ফুটিয়ে তোলা।’
ইন্টারকমে সুজাতাকে কেমোথেরাপির নির্দেশ দেওয়ার ফাঁকে স্যামি বললেন, ‘দ্যাট্স ফ্যাসিনেটিং।’
‘একটা কথা বলতে চাই। কিন্তু সঙ্কোচ হচ্ছে।’
‘সঙ্কোচ না করে বলে ফেলুন। লজ্জা কোনও দিনও পুরুষের ভূষণ ছিল না। আজকাল নারীরও নেই। কিন্তু সেটা অন্য প্রসঙ্গ।’
‘আপনি এত বড় শল্যচিকিৎসা করলেন। চিকিৎসকদের বড় দল উপস্থিত ছিলেন। আপনার আরোগ্য নিকেতনে আমি কুড়ি দিন থাকলাম। ওষুধ, কেমোচিকিৎসা, বিকিরণ চিকিৎসা, সব রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে কত খরচ হল কে জানে! শান্তিধামে ভরতির সময় আপনার অর্থ সংগ্রহ দফতর মাত্র পাঁচ হাজার টাকা গ্রহণ করেছিলেন। তারপর আর কিছুই নেননি।’
‘অর্থ সংগ্রহ দফতর বলতে কি আপনি ক্যাশ কাউন্টার মিন করতে চাইছেন?’
‘ভুল বললাম, না?’ লজ্জিত হয়ে বলেন ড্যানিয়েল।
‘আপনিই ঠিক বলছেন। এ আমার ব্যর্থতা, যে ইংরিজি না শুনলে মানে বুঝতে পারি না।’
‘সে যাই হোক। মোদ্দা কথাটি হল যে আপনি ও আপনার দল পারিশ্রমিক নেননি।’
‘বুঝতে পেরেছি। রাজা হর্ষবর্ধনের মতো আপনার দানধ্যানে মতি হয়েছে। বেশি টাকা হয়ে গেলে এই রকম হয়।’
‘না না। সে কথা নয়। ডাক্তারবাবুকে সম্মান দক্ষিণা না দিলে রোগ সারে না—এই রকমটাই জানি।’
‘দেখুন ড্যানিয়েল, আপনার ও আমার মেয়ে একসঙ্গে ডাক্তারি পড়ছে। হিপোক্রেটিক ওথ বলে, সমস্ত চিকিৎসক পরস্পরের ভাইবোন। চিকিৎসকের পরিবার মানে নিজের পরিবার। তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে নেই।’
‘আপনি শল্য চিকিৎসার সম্মান দক্ষিণা নেবেন না, মেনে নিলাম। আপনার চিকিৎসক দল সম্মান দক্ষিণা নেবেন না, সেটাও মেনে নিলাম। কিন্তু আরোগ্য নিকেতনের দৈনিক ভাড়া, শল্য চিকিৎসার প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া, পরীক্ষা নিরীক্ষার খরচ, ওষুধের খরচ, বিকিরণ চিকিৎসার খরচ—এগুলো অন্তত নিন। না হলে আমি ঋণী থেকে যাব।’
‘সত্যি কথাটা হল, আমিই আপনার কাছে ঋণী। কনফিডেন্সহীন এক সার্জনকে দিয়ে এতবড় অপারেশান করিয়ে আপনি আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন। আপনি জানেন না, আপনি আমার কত বড় উপকার করেছেন। তবু আপনার যদি মন চায়, তা হলে অনুরোধ করব, আপনার যে কোনও একটা ছোট পেইন্টিং তিনতলায় কুনালের ঘরে ঝুলিয়ে দেবেন। ওই ঘরটা কেউ ব্যবহার করে না। ওই ঘরে আমি একটা আর্ট গ্যালারি বানাতে চাই। আমার চিত্তশুদ্ধির প্রয়োজন। শিল্পই মানুষকে শুদ্ধ করতে পারে।’
‘তথাস্তু। মহাভারত চিত্রাবলীর প্রথম চিত্রটি আপনার জন্য রাখা রইল।’ বললেন ড্যানিয়েল।
স্যামি বললেন ‘দময়ন্তী, তুই বাবাকে ওপরে নিয়ে যা। বৃন্দা কলেজে গেছে। যতক্ষণ তোর বাবার ওষুধ চলবে, ততক্ষণ মন্দিরার সঙ্গে গপ্পো কর।’
দময়ন্তী নিঃশব্দে ঘাড় নেড়ে ড্যানিয়েলকে নিয়ে বেরোল। ওয়ার্ডবয় হুইলচেয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে। তাকে টপকে ড্যানিয়েল লিফ্টের দিকে এগোলেন।
.
ড্যানিয়েলের হাতে ফ্লুইড চালানো হয়েছে। স্যালাইনের পাউচে ওষুধ ইনজেক্ট করে, ড্রিপ রেট সেট করে অপু দময়ন্তীকে বলল, ‘ইন্টার্নশিপে কোন ডিপার্টমেন্ট চলছে?’
‘গাইনি।’ নাক সিঁটকে জবাব দেয় দময়ন্তী।
‘গাইনি ভালো লাগে না?’
‘একদম না। লেবার রুমে বমি পায়।’
‘তা হলে ওই সাবজেক্ট তোর জন্য নয়।’
‘একদমই নয়।’
জীবনদায়ী ওষুধের অ্যাম্পুল আর ভায়াল ট্রেতে রেখে অপু বলে, ‘কোন সাবজেক্টে হাউসস্টাফশিপ করবি?’
‘ওটা করব না ভাবছি।’
‘একদম পড়তে বসে যাবি? ভালো কথা। যত আর্লি পিজি পাবি, তত ভালো।’
‘পড়তেও বসব না।’
‘তা হলে? সরকারি চাকরি? না প্রাইভেট প্র্যাকটিস?’
‘কোনওটাই না। আমি ইংল্যান্ড যাব।’
‘ইংল্যান্ড যেতে গেলেও কিন্তু পরীক্ষা দিতে হয়। ইংরিজি জানার পরীক্ষা, ওদের দেশের অ্যাডমিশন টেস্ট, হাজার ফ্যাকড়া। ওদের এনএইচএস বা ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস ভারতীয় ছেলেমেয়েতে ভরতি। তা সত্ত্বেও ইন্ডিয়ান বা বাংলাদেশিরা ওদেশে নানা ডিসক্রিমিনেশানের শিকার হয়।’
দময়ন্তী ক্যাজুয়ালি বলে, ‘আমার জন্ম লন্ডনে। যদিও জন্মের পরপরই আমি ইন্ডিয়ায় চলে এসেছিলাম। পরে বহুবার গিয়েছি। বাবার আত্মীয়স্বজন এখনও ইস্ট লন্ডনে থাকেন। বাকি ইন্ডিয়ানদের তুলনায় আমাকে কম ভোগান্তি পোয়াতে হবে। আর, ডিসক্রিমিমেশান একটা সামাজিক সমস্যা। সেটা অ্যাকসেপ্ট করে নেব। কিন্তু বাঙালিদের এই কুচুটেপনা, আলসেমি, কাঁকড়া মনোবৃত্তি, কিছু না জেনে সবজান্তা ভাব দেখানো—এগুলো জাস্ট নিতে পারছি না।’
ড্যানিয়েল ধমক দিলেন, ‘দিঠি!’
‘বোকো না বাবা! তোমার রবীন্দ্রনাথ আছে, শান্তিনিকেতন আছে, স্টুডিও আছে। তুমি একটা ‘মেক বিলিভ বাংলা’-র মধ্যে বাস করো। আর্ট ফিল্মের বাংলা। যেখানে সব বাড়িই জমিদার বাড়ি। সব ফ্ল্যাটই সাউথ সিটির অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে। সব জানলায় লেস দেওয়া পর্দা ঝোলে, সব ঘরে জোনাল লাইটিং থাকে, সবাই ওয়াইন আর রিসোতো খায়, সবার এক্সট্রা-ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার আছে, সবাই সফ্ট ফোকাসে দুঃখদুঃখ মুখ করে বৃষ্টি দেখে আর রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনে। তোমার বানানো বাংলায় পুলিশি অভিযানে নিরীহ গ্রামবাসী খুন হয় না। তোমার বানানো বাংলায় কেউ জনমোর্চা পার্টি করলে তার বন্ধু, নবযুগ পার্টির নেতা তাকে গ্রামছাড়া করে না। তোমার বানানো বাংলায় জনমোর্চার ছাত্রনেতা এক সেকেন্ডে একশো আশি ডিগ্রি পালটি খেয়ে নবযুগ পার্টিতে নাম লেখায় না। গত পাঁচ বছর ধরে এইসব দেখে দেখে আমি সিক অ্যান্ড টায়ার্ড। আমি আর পারছি না। ইয়োর বেঙ্গল সাক্স।’
‘ইংরিজি নয় দিঠি, বাংলায় বলো। বলো যে, “তোমার বাংলা… তোমার বাংলা…” ’ ‘সাক্স’-এর অনুবাদ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে অবশেষে ড্যানিয়েল বলেন, ‘সব ইংরিজি অপশব্দের ঠিকঠাক বাংলা হয় না। অবশ্য বাংলা অপশব্দের ইংরিজি অনুবাদও অসম্ভব!’
ফেলু কেবিনে ঢুকেছে। ড্যানিয়েলের কথার মধ্যে সে অপুকে বলে, ‘এক্ষুনি কী দেখে এলাম জানিস?’
‘কী?’ স্যালাইনের পাউচে নতুন কেমো ইনজেক্ট করতে করতে প্রশ্ন করে অপু। ফেলু বলে, ‘ডক্টর রায় আর ডক্টর গণেশ আগরওয়াল স্যামির সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। ওঁরা পুরো সময়ের ভিজিটিং সার্জন হিসেবে শান্তিধামে জয়েন করতে চাইছেন।’
‘মিন্টো ক্লিনিক আর বিএমআরআই-এর কী হল?’
‘জানি না। স্যামি খুব কনফিউজ্ড। এতদিন অন্য ভিজিটিংরা এখানে কেস করে পেশেন্টদের থেকে পেমেন্ট নিয়ে চলে যেতেন। স্যামি ছিলেন শান্তিধামের একমাত্র মালিক। এঁরা পার্টনার হিসেবে জয়েন করলে বিজনেস মডেল বদলে যাবে। রেভিনিউ জেনারেটিং প্যাটার্ন বদলাবে। ম্যান পাওয়ার, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট— সব বাড়াতে হবে। স্যামি নতুন বিজনেস মডেলের ব্যাপারে কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে কথা বলছেন। হি লুক্স ভেরি হ্যাপি অ্যান্ড কনফিডেন্ট।’
‘শুনে খুব ভালো লাগছে। নিজেকে সেই কাঠবিড়ালিটার মতো মনে হচ্ছে, যে রামচন্দ্রের সেতুবন্ধনে সাহায্য করেছিল।’ মন্তব্য করেন ড্যানিয়েল।
ঘণ্টাখানেকের মধ্যে কেমো-পর্ব শেষ। ড্যানিয়েলের কোনও শারীরিক অসুবিধে হয়নি। অপু ডিসচার্জ সামারি লিখে দিল। পরবর্তী এবং অন্তিম কেমোথেরাপির তারিখ উল্লেখ করল। সেটা শুরু করার আগে কোন কোন পরীক্ষা করতে হবে, তার লিস্ট বানিয়ে দিল। শান্তিধাম থেকে বেরোনোর আগে ড্যানিয়েল ওটি কমপ্লেক্সে ঢুকলেন। সঙ্গে দময়ন্তী।
আজ থেকে দেড়মাস আগে ট্রলিতে শুয়ে ওটিতে ঢুকেছিলেন ড্যানিয়েল। আজ ঢুকলেন হেঁটে, মেয়ের কাঁধে হাত রেখে।
ডাক্তারদের রেস্টরুমে স্যামি কফি খাচ্ছেন। পাশে বসে অন্যান্য চিকিৎসক। তাদের মধ্যে থেকে একজন বলল, ‘ড্যানিয়েল আর্চার। আমার প্রণাম গ্রহণ করুন।’
‘চিকিৎসক আবার কোনও রোগীকে প্রণাম করে নাকি?’ ড্যানিয়েল অবাক।
‘যদি বলি শিল্পী ড্যানিয়েল আর্চারকে শিল্প-রসিক সুরেশ আগরওয়ালের ছেলের তরফ থেকে প্রণাম, তাহলে বুঝতে সুবিধে হবে কি?’ বললেন ডক্টর গণেশ আগরওয়াল।
‘আপনি সুরেশ আগরওয়ালের ছেলে?’ জানতে চাইলেন ড্যানিয়েল।
‘হ্যাঁ।’
‘আপনার বাবা আমার প্রায় সব ছবি কেনেন। সেই হিসেবে আপনি শুধু শিল্পরসিক নন। শিল্প সংগ্রাহক। আমার অন্নদাতা।’
‘ওভাবে বলবেন না প্লিজ।’ জিভ কেটে উঠে দাঁড়িয়েছেন গণেশ, ‘আপনি বাংলার গর্ব। ভারতের গর্ব। আপনার সার্জারি স্যামি ব্যানার্জি করেছেন শোনার পরই আমি সব ছেড়ে এখানে ছুটে এসেছি। এখন থেকে আমি এখানেই কাজ করব।’
দু’জনের কথোপকথনে দাঁড়ি টেনে স্যামি বললেন, ‘যদি কোনও অসুবিধে হয় আমাকে ফোন করবেন। আর দময়ন্তী, প্রেসক্রিপশানের ওষুধ যেন স্ট্রিক্টলি ফলো করা হয়। আগামী কয়েকদিন তোমার বাবা মুখে মাস্ক লাগিয়ে থাকবেন। ইনফেকশান হওয়ার হাই চান্স।’
‘আচ্ছা।’ ঘাড় নাড়ে দময়ন্তী।
‘আমার মাথাটা কি ন্যাড়াই থাকবে?’ অভিমান ভরে বলেন ড্যানিয়েল, ‘আগে আমার মাথায় কত চুল ছিল। এখন পুরো ন্যাড়ামুণ্ডি। ধুস!’
‘সৌন্দর্য চর্চা পরে করলেও চলবে।’ কড়া গলায় বলেন স্যামি। ‘আপাতত শরীর নিয়ে ভাবুন। সবুজ কুর্তা আর সবুজ ব্যান্ডানায় আপনাকে যথেষ্ট হট লাগছে।’
‘সে আপনার লাগছে। গিন্নি আমাকে পাত্তাই দেয় না।’ মন্তব্য করেন ড্যানিয়েল। রেস্ট রুমের সবাই হো হো করে হেসে ওঠে। দময়ন্তী বলে, ‘আসলে মা অফিস নিয়ে এত ব্যস্ত যে বাবার জন্য সময় দিতে পারছেন না।’
‘তোমার মা উইকেন্ডের এডিটর তো?’ গণেশ আগরওয়াল বলেন, ‘উইকেন্ডে কী একটা ঝামেলা হচ্ছে শুনলাম!’
‘জানি না।’ ঠান্ডা গলায় জবাব দেয় দময়ন্তী, ‘অফিসের বিষয় নিয়ে বাড়িতে আলোচনা হয় না। এসো বাবা।’
লিফ্টে একতলায় নামতে নামতে দময়ন্তী শক্তিরূপাকে এসএমএস করল। ‘কেমো শেষ। বাড়ি ফিরছি। তুমি কখন ফিরছ?’
.
‘আই উইল বি লেট।’ দময়ন্তীকে এসএমএস পাঠালেন শক্তিরূপা। সামনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমরা কি সবাই এসে গেছি? তাহলে মিটিং শুরু করা যাক।’
বিশাল টেবিলের অন্যপ্রান্ত থেকে ঘাড় নাড়লেন বিবস্বান। শক্তিরূপা দেখে নিলেন মিটিঙে কে কে আছেন।
সার্কুলেশানের মথুরেশ, ব্র্যান্ড প্রোমোশানের অনিল, অ্যাডের তানিয়া, আর অ্যান্ড ডি-র শুক্লা চলে এসেছেন।
মিটিং-এর কারণ হল, গত কোয়ার্টারে উইকেন্ডের বিক্রি পড়েছে। টিম উইকেন্ড তার টার্গেট অ্যাচিভ করতে পারেনি। রিডার বেস ফল করেছে। এই ব্যর্থতার সময় দায়ভার কে নেবে?
সহজ উত্তর, সম্পাদক।
গভীর শ্বাস নিয়ে সবার দিকে তাকালেন শক্তিরূপা। যুযুধান প্রতিপক্ষ। শান দেওয়া অস্ত্র। চোরাগোপ্তা মার। মুখে হাসি, হাতে ছুরি। এখন কঠিন লড়াইয়ের সময়।
‘এক্সপ্লেন।’ বিবস্বান বললেন শক্তিরূপাকে।
‘উইকেন্ড ইংরিজি ভাষায় প্রকাশিত সর্বভারতীয় উইকলি। মুখে যতই সর্বভারতীয় বলা হোক না কেন, এর বিক্রির সত্তর পার্সেন্ট কলকাতায়, পাঁচ পার্সেন্ট জেলাগুলোতে, কুড়ি পার্সেন্ট পূর্বভারতে, বাকি পাঁচ পার্সেন্ট ভারতের বাকি অংশে। কাজেই, টু বি ব্রুটালি অনেস্ট—একে কলকাতার ম্যাগাজিন বলাই ভালো। গত কোয়ার্টারে বিক্রি যা কমেছে, এই সত্তর পার্সেন্ট থেকে। অর্থাৎ আমাদের কোর রিডারশিপ, কলকাতার পাঠক, আমাদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। আমি মনে করি এর জন্য দায়ী এডিটোরিয়াল কনটেন্ট। আমি এবং আমার টিম এর জন্য রেসপন্সিবল।’
অনিল বললেন, ‘ইনট্রোস্পেকশান ভালো। কিন্তু ওয়ে আউট কী?’
শুক্লা বললেন, ‘আমি শক্তিরূপাকে সেকেন্ড করছি। ইলেকশানের আগে আমাদের কাগজ অ্যান্টি-সন্দীপ সামন্ত, অ্যান্টি-গভর্নমেন্ট, অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট রোল প্লে করেছে।’
‘আমি তো জানতাম খবর নিরপেক্ষ হয়।’ ফুট কাটেন মথুরেশ।
‘খবর নিরপেক্ষ হয়। তার অ্যানালিসিসের নিরপেক্ষ থাকার দায় নেই। উইকেন্ড একটা ম্যাগাজিন। এখানে হার্ড নিউজ থাকে না। তার বিশ্লেষণ থাকে। সব জেনে ন্যাকা সেজো না।’ দাবড়ানি দিলেন শুক্লা। ‘যা বলছিলাম, ইলেকশানে মৃন্ময় চ্যার্টার্জি জেতার পরে উইকেন্ড আবার অ্যান্টি-গর্ভনমেন্ট হয়ে গেল। মৃন্ময় বিপুল জনাদেশ নিয়ে এসেছেন। আমাদের রিডাররা এই সরকারকে চাইছে। আমাদের উচিত পাঠকের মন বুঝে চলা। উইকেন্ড তা করছে না। নতুন সরকারের ক্ষুদ্র ব্যর্থতাকে বড়ো করে দেখাচ্ছে। বৃহৎ সাফল্যকে অবজ্ঞা করছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ল্যাম্পুন করছে। রিডারশিপ কমবেই।’
‘আমাদের ম্যাগাজিন ঘোষিতভাবে অ্যান্টি-গর্ভনমেন্ট। এই পলিসি মেনটেইন করতে হবে জেনেই আমরা চাকরিতে ঢুকেছিলাম।’ বলেন শক্তিরূপা। তাঁর দৃষ্টি বিবস্বানের দিকে। তিনি বিবস্বানের মন পড়তে চাইছেন।
‘গৌরবে বহুবচন ব্যবহার কোরো না শক্তিরূপা। এডিটোরিয়াল পলিসি জেনে ‘তুমি’ এখানে জয়েন করেছে।’ মথুরেশ শ্লেষের সঙ্গে বলেন, ‘আমি জয়েন করেছি প্রোডাক্টের বিক্রি বাড়ানোর জন্য। তোমার আর আমার ইন্টারেস্টের মধ্যে কনফ্লিক্ট আছে।’
‘এক মিনিট… এক মিনিট…’ সবাইকে থামালেন অনিল। ‘উইকেন্ডের বাইলাইন হল, ‘রেবেল উইথ আ কজ’। আমি শক্তিরূপার সঙ্গে একমত। উইকেন্ডের ব্র্যান্ডিং আর অ্যান্টি-এসট্যাবলিশমেন্ট সমার্থক। এখন পলিসি বদলালে ব্র্যান্ড ইমেজের মস্ত ক্ষতি হবে।’
‘ঘণ্টা হবে।’ দাঁত খিঁচোলেন তানিয়া, ‘বেঙ্গলের সবকটা কর্পোরেট হাউজ ইলেকশানে মৃন্ময়কে ফাল্ডিং করেছে। সাবান-শ্যাম্পু থেকে জাঙিয়া-গেঞ্জি—সব্বাই। আমার কাছে রেগুলার বিভিন্ন কোম্পানির পি-আর ডিপার্টমেন্ট থেকে ফোন আসছে এই এডিটোরিয়াল কনটেন্ট বন্ধ করার জন্য। অডিট ব্যুরো অব সার্কুলেশান দেখাচ্ছে যে উইকেন্ডের বিক্রি কমেছে দশ হাজার। ওরা অ্যাডে সাবসিডি চাইছে। কে দেবে? শক্তিরূপা, আপনি?’
শক্তিরূপা আবার বিবস্বানের দিকে তাকালেন। যে কথা তিনি কাউকে বলতে পারবেন না, তা হল, খোদ বিবস্বান তাঁকে প্রতিটি ইস্যুতে সরকার বিরোধী কনটেন্ট রাখতে বলেছেন। শক্তিরূপার হাতে রাজনীতি ছাড়াও অজস্র বিষয় আছে। উইকলি ম্যাগাজিন চালাতে গেলে যা যা লাগে—ফিল্ম, থিয়েটার, ইকনমিক্স, এডুকেশান, হেল্থ, ন্যাশনাল গ্রোথ, ন্যাশনাল করাপশান, লিভিং লেজেন্ড, টেলিভিশান, সোশাল মিডিয়া, সেলিব্রিটি ইন্টারভিউ—বিষয়ের শেষ নেই। আগামী ছ’মাস মৃন্ময় বা সন্দীপকে না ছুঁয়েও তিনি পাতা ছাড়তে পারবেন। কিন্তু বোর্ডরুমে তাঁকে একা ডেকে বিবস্বান নির্দেশ দিয়েছেন যে নতুন সরকারকে ক্রমাগত অ্যাটাক করে যেতে হবে। কারণটাও আন্দাজ করতে পারে শক্তিরূপা।
বিবস্বানের উত্থান মাইক্রোফিনান্স কোম্পানির মাধ্যমে। মায়াকমের কোর বিজনেস এরিয়া হল মাইক্রো ফিনান্স বা চিট ফান্ড। ‘সি-এইচ-ই-এ-টি’ চিট নয়। ‘সি-এইচ-আই-টি’। লোক ঠকানো নয়। চিরকুট। মাইক্রোফিনান্স কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত একটি ব্যবসা।
ছোট্ট সংস্থাকে বড় করে তুলতে বিবস্বান জনমোর্চার সাহায্য নিয়েছিলেন। পার্টির শাখা সম্পাদক, জোনাল কমিটির মেম্বার, সাধারণ পার্টি সদস্য—সবাই এজেন্টের কাজ করেছেন। গত তিরিশ বছর ধরে মায়াকমের সাফল্যের মূলে আছে সন্দীপ সামন্তর পার্টি। বিবস্বান সেটা ভুলতে পারেন কী করে? গত নির্বাচনের আগে জনমোর্চার পার্টি ফান্ডে তিনি বিপুল অর্থব্যয় করেছিলেন। এখনও সন্দীপ সামন্তের অনুরোধে নতুন সরকারের বিরোধিতা করছেন।
সম্পাদক হিসেবে শক্তিরূপার কর্তব্য কাগজ মালিকের নির্দেশ পালন করা। সেটা তিনি করেছেন। এবং সেই কারণে সহকর্মীদের কাছে হেয় হচ্ছেন। বিবস্বান মুখ না খুললে এসব কথা শক্তিরূপা নিজের থেকে বলবেন না।
‘শক্তিরূপা, সে সামথিং!’ একসঙ্গে বলছেন তানিয়া আর মাথুর। শক্তিরূপা শেষবারের মতো বিবস্বানের দিকে তাকালেন। অভিব্যক্তিহীনভাবে বিবস্বান তাঁর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
এর মানে হল বিবস্বান এখন মুখ খুলবেন না। শক্তিরূপাকেই ডিসিশান নিতে হবে। তিনি বললেন, ‘আগামী এক মাস ম্যাগাজিন থেকে রাজনীতিকে আমরা দূরে সরিয়ে রাখি। বলিউড, স্পোর্টস, সোশাল নেটওয়ার্কিং আর ইন্ডিয়ান মিডল ক্লাসের সেক্সুয়ালিটি নিয়ে চারটে ইসু করে দেখা যাক, আমরা লস্ট গ্রাউন্ড রিগেন করতে পারি কি না।’
‘গুড আইডিয়া। সেক্স অলওয়েজ সেল্স।’ বললেন শুক্লা।
অনিল বললেন, ‘স্টার্ট উইথ বলিউড। ইটস ইজি টু সেল।’
তানিয়া ঠোঁট উল্টে বললেন, ‘শক্তিরূপার বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত নই। তবে আপাতত মেনে নিচ্ছি। বাট শক্তিরূপা হ্যাজ টু চেঞ্জ হার স্ট্যান্ড। দ্যাট উড বি দ্য লং টার্ম রেমিডি।’
সবাই চেয়ার ছেড়ে ওঠেন। শক্তিরূপা ঘড়ির দিকে তাকালেন। সাড়ে ন’টা বাজে। পৌনে দশটার মধ্যে গোলমহলে পৌঁছে যাওয়া যাবে। তিনি শেষবারের মতো বিবস্বানের দিকে তাকালেন।
সেই নির্লিপ্ত দৃষ্টি। সেই অভিব্যক্তিহীন মুখ। শক্তিরূপা ঠিক করলেন, তাঁকে খুব তাড়াতাড়ি বিবস্বান সান্যালের সঙ্গে কথা বলতে হবে। একা।
উইকেন্ডের স্বার্থে। নিজের স্বার্থে। বিবস্বানের স্বার্থে।
.
