১৫. চন্দন
শেয়ালদা কোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে ঘড়ি দেখল চন্দন। সকাল দশটা বাজে। এতক্ষণে নন্দনের চলে আসা উচিত। হাওড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে ফোন করেছিল সাড়ে ন’টার সময়। রোববার সকালে মহাত্মা গাঁধী রোড শুনশান থাকে। হাওড়া–শেয়ালদা সরকারি বাসের এখানে চলে আসার কথা মিনিট কুড়ির মধ্যে। এখনো এল না তো!
মিনিট দশেক কেটে যাওয়ার পরে চিন্তায় পড়ল চন্দন। ডানকুনি লোকাল ছাড়বে দশটা কুড়িতে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে নন্দন না এলে টিকিট কেটে ট্রেন ধরা যাবে না। পরের ট্রেন দেড়ঘণ্টা বাদে।
সরকারি বাস এসেছে একটা। জনাবিশেক প্যাসেঞ্জারের মধ্যে নন্দনকে দেখে এগিয়ে গেল চন্দন। দাদাকে বাস থেকে নামতে সাহায্য করে বলল, ‘তাড়াতাড়ি চলো। টিকিট কাটতে হবে।’
‘রিটার্ন টিকিটও কেটে রাখিস।’ ছোট্ট ছোট্ট পায়ে ছুটতে ছুটতে বলল নন্দন।
‘না।’ চেঁচায় চন্দন। ‘আমরা হাওড়া হয়ে ফিরব। তোমাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে আমি হোস্টেলে ফিরব।’
চন্দন আজ বেলুড়ে অভিজ্ঞানের বাড়ি যাচ্ছে। যাওয়ার কারণ, বিলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা। নন্দনের যাওয়াটা হঠাৎই ঠিক হয়েছে। চন্দন যে কায়দা করে নন্দনের সঙ্গে কলেজের বাইরে দেখা করল, এবং পরে হাওড়া থেকেই নন্দনকে ট্রেনে তুলে দেওয়ার প্ল্যান করল, তার পিছনে কারণ আছে।
সেকেন্ড এমবিবিএস-এর ফার্মাকোলজির থিয়োরি পরীক্ষা যেদিন হয়েছিল, সেই রাতে বৃন্দা সাড়ে আটটা নাগাদ চন্দনকে ফোন করে। বৃন্দার ফোন পেয়ে চন্দন বলল, ‘কী ব্যাপার? পড়ায় মন বসছে না?’
‘আমাদের নার্সিংহোমে একটা গন্ডগোল হয়েছে।’ ইতস্তত করে বলে বৃন্দা। ‘তোকে এই ব্যাপারটা নিয়ে কিছু বলা উচিত না। কিন্তু আমি এত ডিসটার্বড যে ফোন না করে পারলাম না। প্লিজ, তুই কিছু মনে করিস না।’
‘এত ভ্যানতাড়া? তার মানে বড় গন্ডগোল! কেসটা কী বলতো!’ ইয়ার্কি মারে চন্দন।
বৃন্দা ফোনে চন্দনকে পুরো ঘটনাটা জানায়। চন্দ্রিমার ওটিতে মৃত্যু, স্যামির মাতাল অবস্থায় ওটি করতে গিয়ে বিশাল আর ভিকির হাতে ধরা পড়া, শান্তিধামে ভাঙচুর, সুলতানের হাতে ভিকির মার খাওয়া—সব।
শুনতে শুনতে চন্দন নিজের প্ল্যান ছকে নেয়। বাংলা প্রবাদ আছে, বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। স্যামির কাছাকাছি আসার জন্য এর থেকে বড় সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। আগামিকাল পরীক্ষা থাকলে চন্দন স্টাডি টেবল ছেড়ে উঠত না। কিন্তু পরের পরীক্ষা পরশু। মাঝখানে আস্ত একটা দিন। আজ রাতটা লং টার্ম বেনিফিটের জন্য স্যাক্রিফাইস করাই যায়। বৃন্দার কথা বলা শেষ হতে চন্দন বলে, ‘তোকে কিছু ভাবতে হবে না। আমি সামলাচ্ছি।’
‘তোকে পাকামো করতে হবে না। আমি হালকা হওয়ার জন্য কথাগুলো বলেছি। তোকে ইনভল্ভ করার জন্য নয়।’
‘আমি অলরেডি ইনভলভ্ড। রাখছি।’ ফোন কাটে চন্দন। অধীরকে ফোন করে। কলেজ ইলেকশানে গন্ডগোলের পর থেকে লোকটা একটু ডাউন আছে। এত বড় কেস হ্যান্ডেল করার সুযোগ পেলে জেলা কমিটির কাছে একটু কল্কে পাবে। ওদিকে স্যামি দেখবেন চন্দন আর অধীর মিলে কেসটা ম্যানেজ করল। চন্দনেরও ইজ্জত বাড়বে।
ফোনে সবটা শুনে অধীর বললেন, ‘ডাক্তার, তুমি ভদ্রস্থ জামাপ্যান্ট পরে কলেজের গেটে দাঁড়াও। আমি একটা গাড়ি নিয়ে আসছি। লেক থানা পশ এলাকায়। ওখানে দামি, বিদেশি গাড়ি না নিয়ে গেলে পুলিশ পাত্তা দেবে না।’
‘বিশাল কপুর কলকাতায় থাকার সময় ভাড়া করা গাড়িতে ঘোরে। গাড়িটা ইস্যু না। বিশাল যাতে এফআইআর করতে না পারে— সেইটা ইস্যু।’
‘বেশি কথা বোলোনা। যা বলছি শোনো। পাঁচ মিনিটের মধ্যে কলেজ গেটে এসো।’
পাঁচ মিনিট না হলেও দশ মিনিটের মধ্যে কলেজ গেটে পৌঁছেছিল চন্দন। তার মিনিট দশেকের মধ্যে বাজারে সদ্য লঞ্চ হওয়া জাপানি এসইউভির মাথায় লাল বিকন লাগিয়ে, হুটারের ট্যাঁওট্যাঁও আওয়াজ তুলে হাজির হয়েছিল অধীর। পিছনের দরজা খুলে বলেছিল, ‘উঠে পড়ো!’
গাড়ির ভিতরটা মর্গের মতো ঠান্ডা। জুন মাসে যা তাপমাত্রা, তার থেকে ন্যূনতম দশ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা গাড়ির ভেতরে। ঢোকা মাত্র ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে হাঁচতে লাগল চন্দন। হাঁচির ফাঁকে খেয়াল করল, বসার আসন রসগোল্লার মতো নরম। এই গাড়ির সাসপেনসান এত ভালো যে রাস্তার খানাখন্দ গাড়ির ভিতরে বসে বোঝা যাচ্ছে না। দুসধসাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরা অধীর চন্দনকে বললেন, ‘গাড়িটা কেমন, ডাক্তার?’
‘কার গাড়ি এটা? লাল বিকন লাগিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। যদি পুলিশ ধরে? যে সব ভিআইপি লালবাতি জ্বালানোর অধিকারী, তার মধ্যে আপনি পড়েন না।’
‘যার গাড়ি, সে এই এলাকার মন্ত্রী। মেলা ফ্যাচরফ্যাচর কোরো না। রিপুর কী খবর? সে তো সিন থেকে পুরো আউট।’
‘সামনে ফাইনাল এমবিবিএস। গাঁতিয়ে পড়ছে।’
‘তোমারও তো পরীক্ষা চলছে। তুমি কেন এলে? পার্টির প্রতি কমিটমেন্ট আছে বলেই তো! ওরা সব ধান্দাবাজ। এরপর গরমেন্ট সার্ভিসের জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দেবে। চাকরি পাওয়ার পরে ভালো জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার জন্য এই অধীরদাকে মনে পড়বে। ক’দিন আমার সঙ্গে ধান্দাবাজি করে আবার ঝাঁকের কই ঝাঁকে মিশে যাবে।’
‘পড়াশুনা করতেই মেডিকাল কলেজে ভরতি হয়েছি অধীরদা। সেটা করা যাবে না, এটা পার্টির কর্মসূচি ও কর্মনীতিতে বলা নেই।’
হাহা করে হাসতে হাসতে অধীর বললেন, ‘ক্লাসের সব থেকে ইনটেলিজেন্ট ছেলেগুলো ডাক্তারিতে চান্স পায়। মাঝারি মানের ছেলেরা জেনারেল লাইনে পাশ করে, ডাবলিউ-বি-সি-এস দিয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে চলে আসে। তারা ডাক্তারদের মাথায় বসে ছড়ি ঘোরায়। আর ক্লাসের মধ্যে যারা ব্যাক বেঞ্চার, যারা লাথখোর, যারা ফেকলু মাল, তারা পলিটিক্স করে। ভোটে দাঁড়িয়ে জিতে মন্ত্রী হয়। মন্ত্রী হয়ে আমলাদের মাথায় ছড়ি ঘোরায়। তাহলে লাইফে ফার্স্ট কে হল ডাক্তারবাবু?’
‘এটা একটা পুরোনো, ছেঁদো জোক। এর মধ্যে একগাদা ‘যদি’ আর ‘কিন্তু’ আছে। ও সব বাদ দিন। আপনি বলুন স্যামি ব্যানার্জির কেসটা কীভাবে ম্যানেজ করবেন?’
‘স্যামির জন্য আমি কেন কিছু করব? উনি আমাদের ডাক্তার সংগঠনের সদস্য নন। আমাদের এক নয়া পয়সা চাঁদা দেন না। সন্দীপ সামন্তর সঙ্গে ব্যক্তিগত খাতিরের কারণে আজীবন কলকাতায় পোস্টেড রয়ে গেলেন। বাঁকুড়া, বর্ধমান, নর্থ বেঙ্গল মেডিকাল কলেজ কেমন দেখতে সেটা জানতেও হল না। যদি এই ক্যাচালটা সরকারি হাসপাতাল, মানে ইন্ডিয়ান মেডিকাল কলেজে হত, তাহলে নাক গলানোর জাস্টিফিকেশান থাকত। সরকারি হাসপাতালে গন্ডগোল হলে মিডিয়া বড্ড নাচানাচি করে। সেটা আটকাতে আমি ইন্টারভেন করতাম। কিন্তু এই ঘটনা ঘটেছে নার্সিংহোমে। এখানে কেন নাক গলাব? আমাকে বোঝাও।’
এসিউভি যাচ্ছে সাঁসাঁ করে। সুপ্রিয়া সিনেমা হল পেরিয়ে গেল। আর এক মিনিটের মধ্যেই লেক থানা। অধীর তার কাছে একটা জুতসই উত্তর আশা করছেন। কালো কাচে নাক ঠেকিয়ে বাইরে তাকায় চন্দন। লেকের গাছগুলো নাচতে নাচতে পিছন দিকে চলে যাচ্ছে। নিজেকে প্রশ্ন করে চন্দন। পরীক্ষার প্রিপারেশান ফেলে রেখে তার মতো কেরিয়ারিস্ট ছেলে কেন স্যামিকে বাঁচাতে যাচ্ছে? ভিতর থেকে উত্তর ভেসে আসে, ‘নিজের স্বার্থে।’
‘আপনার নিজের স্বার্থে।’ অধীরকে বলে চন্দন। ‘বিপদের সময় স্যামি ব্যানার্জিকে সাহায্য করলে স্যামি আপনার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন। ডাক্তার ইউনিয়নের সদস্য হবেন না, মিটিং-এ যাবেন না, মিছিলে হাঁটবেন না। অন্যভাবে পুষিয়ে দেবেন।’
‘এক্সেলেন্ট অ্যানালিসিস। তোমার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার পোটেনিশিয়ালিটি আছে। এসো, লেক থানা এসে গেছে। আমরা বড়বাবুর সঙ্গে কথা বলি।’
থানার সামনে বড়সড় জটলা। জনাপঞ্চাশ কম বয়সি ছোকরা আর গোটা কুড়ি মাঝবয়সি লোক চন্দ্রিমার ছবির প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। বিশাল কপুর হাত নেড়ে কাঁদতে কাঁদতে টিভি চ্যানেলকে বাইট দিচ্ছেন।
এইসবের মধ্যে অধীর কাজ সারলেন নিপুণ হাতে। সবার আগে লেক থানার বড়বাবুর সঙ্গে কথা বললেন। বড়বাবু বললেন, তিনি বিশাল ও ভিকি কপুরের এফআইআর নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিশালের উকিল এফআইআর-এ স্যামির বিরুদ্ধে একগাদা নন-বেলেব্ল আইপিসি দিয়েছেন। বড়বাবু যখন কেস সাজাবেন, তখন বেলেব্ল আইপিসি দেবেন। থানা থেকে কেসটা কোর্টে পৌঁছলে স্যামির প্রফেশনাল ইন্সিয়োরেন্স কোম্পানির উকিল বাকিটা সামলে দেবেন। স্যামির গ্রেফতার আটকানো আসল কাজ। সেটা হয়ে গেল।
এবার দ্বিতীয় কাজ। মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট। এই কাজেও অধীর দারুণ সফল। চন্দ্রিমার মৃত্যুতে বাংলা ছবির কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল, টলিউডের দায়িত্ব ওঁর কাঁধে কতটা ছিল—এই সব বলার ফাঁকে এটাও বলে দিলেন যে, শিল্পীরা সমাজের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না বলেই তাঁরা জাত শিল্পী। টিভি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে শোকাহত মুখে অধীর বললেন, ‘সার্থক শিল্পী মাত্রেই বোহেমিয়ান। তা না হলে, সামাজিকতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে চন্দ্রিমা তাঁর থেকে কুড়ি বছরের বড় এক বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করেন? হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী চন্দ্রিমার ম্যারাইটাল স্ট্যাটাস কী? শি ইজ ম্যারিড টু বিশাল কপুর। বিশালের এক স্ত্রী ও এক পুত্র আছে। অর্থাৎ চন্দ্রিমার বিবাহ আইনসিদ্ধ নয়। চন্দ্রিমা ইজ আ কেপ্ট অব বিশাল কাপুর। ভিকি কপুর এফআইআর-এ লিখেছে, হি ইজ সন অব লেট চন্দ্রিমা কপুর। দ্যাট্স আ লাই। ওর বায়োলজিকাল মাদার মুম্বইতে থাকেন। এর ফলে বিশাল ও ভিকি কপুরের অভিযোগের ক্রেডিবিলিটি কমে গেল। আর, চন্দ্রিমা আবার কপুর হল কবে থেকে? আমরা ওঁকে চন্দ্রিমা সেন হিসেবে চিনি। বিশাল কপুর ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেখাতে পারবেন তো?’
টিভি সাংবাদিকরা কেচ্ছার গন্ধ পেয়ে বিশাল আর ভিকিকে ছেঁকে ধরল। সেই ফাঁকে অধীর আর চন্দন আবার গাড়িতে। তাদের গন্তব্য রাসবিহারী অ্যাভিনিউ-এর ‘কেয়ার অ্যান্ড কিওর নার্সিং হোম’।
.
শেয়ালদা স্টেশানের টিকিট কাউন্টার অপেক্ষাকৃত ফাঁকা। বালিঘাট স্টেশনের দুটো টিকিট কেটে তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে দৌড় লাগাল চন্দন আর নন্দন। ট্রেন ছাড়তে দু’মিনিট বাকি আছে।
আজ সাতাশে জুন। গতকাল থিয়োরি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এই সপ্তাহটা ছুটি। সোমবার থেকে প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা শুরু। ট্রেনে উঠে সিটে বসে চন্দন ভাবল, থিয়োরি পরীক্ষাটা মনোমত হয়েছে। প্র্যাকটিকাল নিয়ে আগামিকাল থেকে জোরদার প্রিপারেশান নিতে হবে। আজকের দিনটা বিনা চিন্তায় উপভোগ করা যাক।
চন্দ্রিমার মৃত্যু নিয়ে কাগজে লেখালিখি এবং টিভিতে ক্লিপিংস দেখানোর পর্ব এখনও চলছে। পপুলার হিরোইন বলে কথা। যদিও মৃত্যুর কারণ নিয়ে হইচই দ্বিতীয় দিন থেকেই ধামাচাপা পড়ে গেছে। প্রথমে চন্দন ভেবেছিল এটা অধীরের কৃতিত্ব। পরে জেনেছে, তা নয়। স্যামি ব্যানার্জি এবং বিশাল কপুর মিলে আউট অব দ্য কোর্ট সেটলমেন্ট করেছেন। বাজারে উড়ো খবর, স্যামিকে পঁচিশ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। কলকাতায় রক্ষিতা রাখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যথেষ্ট ঝামেলা হত বিশালের। আপদ বিদেয় হওয়ায় সবাই খুশি। থানা থেকে বিশাল আর ভিকি এফআইআর প্রত্যাহার করেছে। পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশান কেউ করেনি। ভিকি মেডিকাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়াকে একটা ফরমাল কমপ্লেন লেটার লিখেছিল। সেটা প্রত্যাহার করা যায়নি। ওটা নিজের নিয়মে গড়াচ্ছে।
ট্রেন ছাড়ল। নন্দন বাদামওয়ালার কাছ থেকে দু’প্যাকেট বাদামভাজা কিনে চন্দনকে দিয়ে বলল, ‘কলকাতার এই দিকটায় আমি এসেছি। সিঁথির মোড়ে সার্কাসের তাঁবু পড়ে। সিঁথি থেকে বাসে চেপে শেয়ালদা ঘুরে গেছি।।’
‘ও।’ প্যাকেট ছিঁড়ে মুখে বাদামভাজা ফেলে চন্দন। সেকেন্ড এমবিবিএস থিয়োরি পরীক্ষার মধ্যে একটা বড় ঘটনা যদি হয় স্যামি ব্যানার্জি, অন্যটা তাহলে গত শুক্রবার রাত্রে হোস্টেলে পুলিশ আসা।
চন্দন খুব মন দিয়ে ফরেনসিক মেডিসিন পড়ছিল। এমন সময় ক্যান্টিন থেকে কাঁপাকাঁপা গলায় উৎপলের ফোন, ‘দাদা, পুলিশ বিলুদাকে খুঁজছে।’
পুলিশ? ভুরু কুঁচকোয় চন্দন। তপন চৌধুরী মারা যাওয়ার পরে এন্টালি থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ এসেছেন। তিনি দেখা করতে এলেন নাকি? আর কোনও পুলিশকে চন্দন চেনে না।
পড়াশুনো ফেলে নীচে নামে সে। বয়েজ হোস্টেলের মেন গেটের বাইরে খাকি উর্দি পরা একটা লোক দাঁড়িয়ে। সাড়ে ছ’ফুট লম্বা, কুচকুচে কালো চেহারা, মাথার চুল কোঁকড়া। উৎপল মেসের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে চন্দনকে হাতের ইশারায় ডাকল। দানবের মতো লোকটাকে এক পলক দেখে সুট করে মেসে ঢুকে চন্দন বলল, ‘কী ব্যাপার?’
‘এই মালটা স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসার। নাম বাদশা ঘোষ। বাড়ি আনন্দ পালিত রোডে। আমি ওখানে থাকি, তাই জানি।’ ফিশফিশ করে বলে উৎপল, ‘বাদশা লালবাজারে পোস্টেড। ব্যান হয়ে যাওয়া পার্টিগুলোকে নজরে রাখার জন্য যে সেল আছে, সেইটার মাথা। নকশাল, মাওবাদী এইসব। দোতলা বাড়িতে একা থাকে। বিয়ে-থা করেনি। বাড়িটা গাছ, পাখি, মাছ আর কুকুরে ভর্তি। শুনেছি একটা অজগর সাপ আছে। সেটাকে ডাম্বেল হিসেবে ব্যবহার করে এক্সারসাইজ করে।’
এমন লোককে ভয় পাওয়ারই কথা। হোস্টেলের মেন গেট থেকে বেরিয়ে চন্দন দেখে পাহাড়প্রমাণ মানুষটা জিপের চাকার ওপরে এক পা তুলে সিগারেট খাচ্ছেন। চন্দনকে দেখে বললেন, ‘তুমি অনাবিল লাহিড়ীকে চেনো?’
‘তুমি’ সম্বোধন কানে লাগল চন্দনের। আগে এই বাতিক ছিল না। নতুনগ্রামে ‘তুই’ শুনেই বড় হয়েছে। কলেজে ঢুকে ‘তুমি’, ‘আপনি’—এইসবের সঙ্গে আলাপ। ডাক্তারি ছাত্রর গন্ধটা গায়ে জাঁকিয়ে বসার পরে ‘তুমি’ শুনলে গায়ে লাগে। মনে হয়, ইচ্ছে করে অপমান করছে।
ঠান্ডা গলায় চন্দন পাল্টা অপমান করল। বলল, ‘চিনি। কেন, তোমার কী দরকার?’
সরু চোখে বাদশা চন্দনকে মাপলেন। সিগারেট ছুড়ে ফেলে ডান হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘আমার নাম বাদশা ঘোষ। লালবাজার থেকে আসছি। আপনি চন্দন সরকার? ইউনিয়নের জেনেরাল সেক্রেটারি?’
করমর্দন করে চন্দন বলল, ‘হ্যাঁ। আপনার কী দরকার বলুন।’
প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য বেশিক্ষণ করমর্দন চলল। লোহার মতো হাতের মুঠোয় চন্দনের চাষাড়ে হাত নিয়ে বাজিয়ে দেখছেন বাদশা। চন্দন ছেড়ে কথা বলার ছেলে নয়। সেও পালটা চাপ দিচ্ছে। হ্যান্ডশেক এক ধরনের পাওয়ার গেম। কথা না বলে অপরকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা। চন্দনকে বুঝে নিয়ে হাত ছেড়ে বাদশা বললেন, ‘অনাবিল লাহিড়ী এখন কোথায়?’
‘হোস্টেলে নেই এইটুকু জানি। ওঁর সঙ্গে কী দরকার জানতে পারি কি?’
‘পারেন। কলেজে স্টুডেন্ট পলিটিক্স করা এক জিনিস আর ব্যান্ড পলিটিকাল পার্টির মেম্বারশিপ গ্রহণ করা অন্য জিনিস।’
‘বিলুদা কোন পলিটিক্যাল পার্টির মেম্বারশিপ নিয়েছে?’ সব জেনেও জানতে চায় চন্দন।
‘উনি প্রগ্রেসিভ মেডিকাল ফোরামের সঙ্গে যুক্ত।’
‘পিএমএফ কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন নয়।’
‘আমার কথা এখনও শেষ হয়নি চন্দনবাবু। পিএমএফ যে পার্টির ছাতার তলায় কাজ করে, তার নাম ইন্ডিয়ান পিপ্লস পার্টি বা আইপিপি।’
‘আইপিপির নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আছে।’ স্বীকার করে চন্দন, ‘কিন্তু বিলুদা কি আইপিপি-র সদস্য? মানে, আমি বলতে চাইছি, নৈতিক সমর্থন এক জিনিস আর পার্টির ব্যানারে কাজ করা…’
‘অন্য জিনিস।’ চন্দনের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বাদশা বলেন, ‘ঠিক যেমন আপনি একই সাথে জনমোর্চার ছাত্র সংগঠন ছাত্রমোর্চার হয়ে কাজ করেন। সেটা এক জিনিস। আবার আপনি জনমোর্চা পার্টির কার্ড হোল্ডার। সেটা অন্য জিনিস। লোকে জানে না। আমরা জানি।’
চন্দন চুপ। বাদশা বলেন, ‘আইপিপি ভারত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অনাবিল সেই যুদ্ধের সৈনিক। রাষ্ট্র বনাম ব্যক্তির এই লড়াইতে আমি রাষ্ট্রের সৈনিক। রাষ্ট্র আমায় দায়িত্ব দিয়েছে অনাবিল লাহিড়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। সেই কাজের জন্যই আমি এসেছি।’
রাজনীতিতে সিকি-পোক্ত চন্দনের বুক ধড়ফড় করতে থাকে। বাদশা এত খবর রাখেন? অবশ্য পুলিশের কাজই হল ইনফর্মেশান গ্যাদার করা। বাদশা বিলুকে ইন্টারোগেট করার কথা বলছেন। অ্যারেস্ট করে জেলে ভরবেন নাকি? তা হলে তো বিলুর ডাক্তারি কেরিয়ারের শেষ। সব্যসাচীরই বা কী হবে? তো-তো করে চন্দন বলে, ‘আমার আগামিকাল প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা। আপনি যদি আমায় তিন-চার দিন সময় দেন, তাহলে আমি পরীক্ষার পরে বিলুদার বাড়ি গিয়ে ওকে বোঝাবো।’
‘লক্ষ্মী নিবাস। বেলুড়। বাবা মনোজ লাহিড়ী। রাইটার্স বিল্ডিংসে পোস্টিং। তিনি জনমোর্চা করেন। ছোট ভাই অভিজ্ঞান লাহিড়ী আপনার ব্যাচমেট। ভোটে হেরে আপাতত পড়াশুনো করছে। তাই তো?’
‘হ্যাঁ।’ এ লোক তো নাড়িনক্ষত্র জানে!
‘পরীক্ষার হয়ে গেলে আপনি অনাবিল লাহিড়ীর সঙ্গে কথা বলুন। ওঁকে থানায় আসতে বলুন। ভয় নেই। অ্যারেস্ট করব না। প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে ছেড়ে দেব। ক্লিয়ার?’
‘হ্যাঁ। আপনি আমার ফোন নম্বরটা নিয়ে রাখুন।’ ঢোক গিলছে চন্দন।
‘পুলিশকে ফোন নম্বর দিতে অসুবিধে নেই তো?’ পাতলা হাসছেন বাদশা।
‘না। আপনিও আপনার নম্বরটা দিন। বিলুদার সঙ্গে কথা বলে আমি ফোন করব।’ সামান্য হেসে চন্দন বলে, ‘আচ্ছা, আপনারা কি আর কারও খোঁজ করছেন।’
‘করছি। এই তো, এক্ষুনি দময়ন্তী সেনগুপ্ত আর্চারের সঙ্গে কথা বললাম। শি ওয়াজ নেভার আ পার্টি মেম্বার। জাস্ট আ সিমপ্যাথাইজার। তাও মাত্র কয়েকদিনের জন্য।’
‘আর সব্যসাচীদা?’
‘এই প্রশ্নের উত্তর আপনাকে দেওয়া যাবে না চন্দনবাবু। আর আমি চাইব, আপনি কারও সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। ওরা আর্মস প্র্যাকটিস করতে আপনার লোকালিটিতে যেত। বাঁজাপলাশ গ্রাম। তাই না?’ আস্তিন থেকে তুরুপের টেক্কা বার করে ছোড়েন বাদশা। চন্দন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলে, ‘আম… আমি জানি না।’
‘আপনার বাবা পবন সরকারের বন্ধু গোপাল নস্করের বাড়িতে আইপিপির ছেলেমেয়েদের কমিউন আছে। ওরা রিয়াল অ্যামো নিয়ে আর্মস প্র্যাকটিস করে।’
চন্দন আর পারল না। ভেতরে ভেতরে একদম ভেঙেচুরে গিয়ে বলল, ‘আমি এসবের সঙ্গে যুক্ত নই। আপনি যা বলবেন আমি শুনব।’
‘গুড। অনাবিলের বাড়ি যান। ওর সঙ্গে কথা বলুন। ওকে বলুন আমার সঙ্গে দেখা করতে। বাই।’ আবার একটা পুরুষালি হ্যান্ডশেক। আবার লোহার মতো শক্ত মুঠোয় বাঁধা পড়েছে চন্দনের চাষাড়ে হাত। কিন্তু চন্দন আর জোর খাটাচ্ছে না। প্যাসিভ ভাবে হাত ধরে রয়েছে।
‘চলি ভাই। পরে তোমার সঙ্গে আবার কথা হবে।’ তড়াক করে জিপে উঠে বসেছেন বাদশা। জিপ দৌড়চ্ছে মেন গেটের দিকে। চন্দন খেয়াল করল, বাদশা ‘তুমি’তে ফেরত গেছেন!
পরীক্ষার মধ্যে এইসব ঝামেলা। গতকাল ফরেনসিক মেডিসিনের পরীক্ষা দিয়ে সবে হোস্টেলে ফিরেছে, এমন সময় নন্দনের মোবাইল থেকে পারুলের ফোন, ‘হ্যাঁ রে, তুই কবে বাড়ি আসবি?’
‘দেখি।’ চন্দন মনে মনে হিসেব কষছে। আগামিকাল সে অভির বাড়ি যাবে। সেখান থেকে হোস্টেলে ফিরবে, না বাড়ি ফিরবে?
‘দেখি আবার কী? প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলে আবার দু’সপ্তাহের মামলা। আজই চলে আয়। গয়নাবড়ি ভাজব।’ চন্দনকে লোভ দেখান পারুল।
চন্দন হাসতে হাসতে বলে ‘আজ হবে না। কাল রাতে বা পরশু সকালে এক বেলার জন্য যাব। কাল একবার বেলুড়ে অভির বাড়ি যেতে হবে।’
‘বেলুড়? মানে যেখানে বেলুড় মঠ?’ জানতে চান পারুল।
‘বেলুড় মঠ’ শব্দটা ফোনের ওপারে নন্দনকে উৎসাহিত করে তোলে। পারুলের মুখ থেকে সে শোনে যে আগামিকাল চন্দন বেলুড় যাচ্ছে। ও প্রান্তে ফোনের হাতবদল হয়। উৎসাহিত নন্দন বলে, ‘কাল সক্কাল সক্কাল তোর হোস্টেলে চলে যাচ্ছি। দু’জনে একসঙ্গে বেলুড় মঠ যাব। দক্ষিণেশ্বরটাও দেখা হয়নি।’
এ প্রান্তে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চন্দন। অভির সঙ্গে কথাবার্তার সূত্রে সে জানে যে ওদের বাড়ি থেকে বেলুড় মঠ হাঁটাপথ। কিন্তু এইভাবে হুটহাট করে কারও বাড়ি বামন দাদাকে নিয়ে যাওয়া যায় নাকি? এ কি নতুনগ্রাম, যে বিনে নেমন্তন্নয় যেচে গিয়ে বিয়ে খাওয়া যায়? তা ছাড়া, চন্দন যাচ্ছে সিরিয়াস দরকারে। তার মধ্যে সে কী করে অভিকে বলে, ‘আমার বামন দাদাটাকে একটু বেলুড়মঠ ঘুরিয়ে দে না অভি!’
আর একটা কথা হল, নন্দন বলছে, সে সকালবেলা হোস্টেলে আসবে। তা হলে কেলেঙ্কারি হবে। বোর্ডাররা জেনে যাবে যে তার দাদা বামন। ওদের থেকে বৃন্দা যদি জেনে যায়, তাহলে বিপদ। বামনত্ব জিনঘটিত রোগ। চন্দনকে বিয়ে করলে বামন বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। নন্দনকে কলেজ চত্বরে দেখা গেলে চন্দনের পাকা ঘুঁটি কেঁচে যাবে। তাই তাকে কলেজ চত্বরে আসতে দেওয়া যাবে না। নানা কুযুক্তি সাজিয়ে চন্দন অবশেষে নন্দনকে শেয়ালদা বাস স্ট্যান্ডে আসতে রাজি করিয়েছে। ফেরার সময়েও নন্দনকে হোস্টেলে নিয়ে যাবে না। অভির বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাওড়া স্টেশান হয়ে ফিরবে। স্টেশান থেকে নন্দনকে মেচেদাগামী ট্রেনে তুলে দেবে।
.
অভির বাড়ি খুঁজে পেতে অসুবিধে হল না। হইহই করে অভ্যর্থনা করল অভি। চন্দন ঠিক করে এসেছে অভিকে বলবে, তার দাদা বামন, এটা যেন কলেজে কেউ না জানে। বিলু সম্পর্কে যে বিস্ফোরক তথ্য চন্দন জানে, সেটা অভিকে বললে ও কথা রাখবে। চন্দন আর নন্দনকে অভি ওপরে নিয়ে যাচ্ছে, এমন সময় সিঁড়ির পাশের ঘর থেকে রাধার গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। ‘তিনি এসেছেন! তিনি এসেছেন!। ওরে তোরা শঙ্খ বাজা, লাজাঞ্জলি দে, নৃত্যগীত পরিবেশন কর। তিনি এসেছেন!’
চন্দন আঁতকে উঠে বলল, ‘কী ব্যাপার রে অভি?’
‘আয় আলাপ করিয়ে দিই।’ চন্দনের হাত ধরে রাধার ঘরে ঢোকে অভি। ‘বলে, রাধাদি, মানদা পিসি—এ হল আমার বন্ধু চন্দন। এরা হল রাধাদি আর মানদা পিসি। আমার দুই গার্জেন।’
রাধা ধড়মড় করে উঠে বলল, ‘তোমরা সরো। ওঁকে আসতে দাও।’
চন্দন বোকাবোকা মুখে সরে দাঁড়ায়। ছোট ছোট পদক্ষেপে ঘরে ঢোকে নন্দন। পরনে নীল জিন্স আর সাদা টি-শার্ট, মাথায় বেরে টুপি, পায়ে স্নিকার। লজ্জা লজ্জা মুখে বলে, ‘নমস্কার। আমার নাম নন্দন সরকার।’
মানদার কালো গাল বেগুনি হয়ে গেছে। সে একটা কাঠের পিঁড়ি পেতে বলল, ‘আপনি বসুন।’
নন্দন টুকটুক করে পিঁড়িতে বসল। রাধা চোখ পাকিয়ে কঠোর গলায় অভি আর চন্দনকে বলল, ‘তোমরা এবার ওপরে যাও। আমাদের পারসোনাল কথাবার্তা আছে।’
চন্দন বাক্যব্যয় না করে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। রাধার দরজা ভিতর থেকে বন্ধ হয়ে গেল। মাঝ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে চন্দন অভিকে ফিশফিশ করে বলল, ‘ওপরে যাওয়ার আগে একটা কথা শুনে রাখ। বিলুদা আইপিপি-র মেম্বার। এই পার্টিকে গভর্নমেন্ট ব্যান করেছে। বিলুদাকে রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপের জন্য পুলিশ খুঁজছে।’
‘তোকে কে বলল?’ অভি অবাক হয়ে বলে।
এই প্রশ্নের উত্তর চন্দন ভেবে এসেছে। নিজেকে এর মধ্যে জড়ানো যাবে না। অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখেই এই সব বন্দুকবাজদের শায়েস্তা করতে হবে। কলেজ থেকে পিএমএফকে উপড়ে ফেলতে হবে! ফিসফিস করে চন্দন বলে, ‘দময়ন্তীর সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে। বিলুদা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পুলিশকে ও-ই দিয়েছে।’
.
