লোকার্ডের নীতি
‘বাস্তব জীবনে হোমিসাইড ক্রাইম সিনে আপনি কেবল একটিই সুযোগ পাবেন।’
-ভার্নন জে. গেবার্থ, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অবসরপ্রাপ্ত), নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।
অধ্যায় নয়
শনিবার, বিকেল ৪:০০টা থেকে রাত ১০:১৫ পর্যন্ত
‘একটা ঝামেলায় ফেঁসে গেছি আমি, স্যার।’
টেবিলের ওপাশের লোকটাকে দেখে মনে হলো যেন টিভি শো থেকে উঠে আসা কোনো বড় শহরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার তিনি। পদমর্যাদা অবশ্য তাই তার। সাদা চুল, ভারী চোয়াল, সোনার ফ্রেমের চশমা, আর সেই সঙ্গে আভিজাত্যপূর্ণ বসার ভঙ্গি।
‘সমস্যাটা কী বলো তো, অফিসার?’
ডেপুটি কমিশনার র্যান্ডলফ সি. একার্ট তার লম্বা নাকের উপর দিয়ে এমন দৃষ্টিতে তাকালেন যা খুব চেনা স্যাক্সের; মহিলা অফিসারদের সাথেও পুরুষদের মতোই কড়া আচরণ করে সমঅধিকার বজায় রাখেন তিনি।
‘আমার একটা অভিযোগ আছে, স্যার,’ আড়ষ্ট গলায় বলল স্যাক্স। ‘ট্যাক্সি কিডন্যাপ কেসটার কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন আপনি।’
মাথা নাড়লেন তিনি। ‘আহ, ওটা তো পুরো শহরটাকে একেবারে নাকানিচুবানি খাইয়ে ছাড়ছে। ঐ ঘোড়ার ডিমের জাতিসংঘ সম্মেলনের কারণে পুরো দুনিয়া তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। ব্যাপারটা ঠিক না। ওয়াশিংটন বা ডেট্রয়েটের অপরাধ নিয়ে কেউ কথা বলে না। ডেট্রয়েট নিয়ে যাও বা বলে। কিন্তু শিকাগো? কক্ষনো না। না, সবার যত রাগ এই নিউ ইয়র্কের উপর। গত বছর আমাদের চেয়ে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে মাথাপিছু খুনের হার বেশি ছিল। আমি চেক করে দেখেছি। অথচ বিশ্বাস করো, সাউথ ইস্ট ডিসি-তে গাড়ির কাচ তুলে ড্রাইভ করার চেয়ে সেন্ট্রাল হার্লেমে খালি হাতে প্যারাশুট নিয়ে নামা অনেক বেশি নিরাপদ মনে করি আমি।’
‘ইয়েস, স্যার।’
‘শুনলাম মেয়েটাকে মৃত পাওয়া গেছে। সব কটা চ্যানেলে দেখাচ্ছে। যত্তসব রিপোর্টার…’
‘ডাউনটাউনে। এই তো কিছুক্ষণ আগে।’
‘বড্ড আফসোসের ব্যাপার।’
‘ইয়েস, স্যার।’
‘ওরা মেরে ফেলল মেয়েটাকে? ওভাবে? কোনো মুক্তিপণ বা অমন কিছু চায়নি?’
‘মুক্তিপণের কথা কিছু শুনিনি আমি।’
‘তোমার অভিযোগটা কী?’
‘আজ সকালে এই কেসের সাথে জড়িত একটা খুনের ঘটনায় ফার্স্ট অফিসার ছিলাম আমি।’
‘তুমি পেট্রোলে আছ?’ জানতে চাইলেন একার্ট।
‘পেট্রোলে ছিলাম। আজ দুপুর বারোটায় পাবলিক অ্যাফেয়ার্সে আমার বদলি হওয়ার কথা ছিল। ট্রেনিং সেশনের জন্য।’
ব্যান্ড-এইড লাগানো হাতদুটো কোলের উপর ফেলল স্যাক্স। ‘কিন্তু ওরা আমাকে জোর করে আটকে রেখেছে।’
‘কে?’
‘ডিটেকটিভ লন সেলিট্টো, স্যার। আর ক্যাপ্টেন হাউম্যান। এবং লিংকন রাইম।’
‘রাইম?’
‘ইয়েস, স্যার।’
‘বছর কয়েক আগে আইআরডি-র দায়িত্বে ছিল যে লোকটা, সে না?’
‘ইয়েস, স্যার। তিনিই।’
‘আমি তো ভাবলাম মরে গেছে সে।’
অহংবোধ কখনো মরে না।
‘ভালোভাবেই বেঁচে আছেন, স্যার।’
জানালার বাইরে তাকালেন ডেপুটি কমিশনার। ‘ও তো আর ফোর্সে নেই। এর মধ্যে নাক গলাচ্ছে কেন?’
‘কনসালট্যান্ট হিসেবে, আমার ধারণা। এটা লন সেলিট্টোর কেস। ক্যাপ্টেন পোলিং দেখাশোনা করছেন। গত আট মাস ধরে এই বদলিটার অপেক্ষায় ছিলাম আমি। অথচ ওরা আমাকে দিয়ে ক্রাইম সিনের কাজ করাচ্ছে। আমি কখনো ক্রাইম সিনের কাজ করিনি। এর কোনো মানে হয় না। আর সত্যি বলতে, যে কাজের কোনো ট্রেনিং নেই আমার, সেখানে অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়াটা অপমানজনক মনে হচ্ছে আমার।’
‘ক্রাইম সিন?’
‘রাইম আমাকে পুরো সিনটা প্রসেস করার অর্ডার দিয়েছিল। একা।’
কথাটা হজম করতে পারলেন না একার্ট। মাথায় ঢুকল না যেন। ‘ইউনিফর্ম-পরা অফিসারকে হুকুম দেওয়ার ক্ষমতা একজন সিভিলিয়ান পায় কী করে?’
‘সেটাই তো আমার কথা, স্যার।’ বড়শিটা গেঁথে দিল সে। ‘মানে, একটা পর্যায় পর্যন্ত সাহায্য করতে রাজি আছি আমি। কিন্তু ভিকটিমের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে আলাদা করার জন্য তো আর প্রস্তুত নই…’
‘কী?’
চোখ পিটপিট করল স্যাক্স, যেন তিনি শুনতে পাননি বলে অবাক হয়েছে সে। হাতকড়ার ব্যাপারটা খুলে বলল তাকে।
‘ওরে খোদা! ভাবছেটা কী ওরা? মাফ করবেন আমার ভাষা খারাপ করার জন্য। ওরা কি জানে না পুরো দেশ তাকিয়ে আছে? সারা দিন সিএনএন-এ দেখাচ্ছে এই কিডন্যাপিংয়ের খবর। আর এর মধ্যে হাত কেটে নেওয়া? আচ্ছা, তুমি হারম্যান স্যাক্সের মেয়ে না?’
‘ঠিক তাই।’
‘ভালো অফিসার ছিল। দুর্দান্ত। আমিই ওকে একটা সাইটেশন দিয়েছিলাম। বিট পুলিশ কেমন হওয়া উচিত, তার আদর্শ উদাহরণ ছিল লোকটা। মিডটাউন সাউথ, তাই না?’
‘হেলস কিচেন। আমার বিট।’
আমার সাবেক বিট।
‘গোয়েন্দা বিভাগ বছরে যত কেস সলভ করে, হারম্যান স্যাক্স বোধহয় তার চেয়ে বেশি অপরাধ ঠেকিয়ে দিত। শুধু পরিস্থিতি ঠান্ডা রেখে, বুঝলে?’
‘হাত কেটে নেওয়া?’ নাক দিয়ে শব্দ করলেন একার্ট। ‘মেয়েটার পরিবার মামলা ঠুকে দেবে। যেই জানবে, অমনি দেবে। সবকিছুর জন্যই আমাদের নামে মামলা করে পাবলিক। এক ধর্ষণকারী তো এই সেদিন মামলা করল, ছুরি নিয়ে অফিসারের দিকে তেড়ে এসেছিল বলে পায়ে গুলি খেয়েছিল সে। তার উকিলের মতে, সবচেয়ে কম প্রাণঘাতী উপায় বেছে নেওয়া উচিত ছিল পুলিশের। গুলি না করে আমাদের নাকি টেজার বা মেস স্প্রে ব্যবহার করা উচিত ছিল। কিংবা ভদ্রভাবে অনুরোধ করা, কে জানে বাবা! চিফ আর মেয়রকে ব্যাপারটা এখনই জানানো দরকার। আমি কয়েকটা ফোন করছি, অফিসার।’
দেয়ালঘড়ির দিকে তাকালেন তিনি। চারটা বেজে গেছে। ‘আজকের মতো তোমার ডিউটি শেষ?’
‘আমাকে লিংকন রাইমের বাড়িতে রিপোর্ট করতে হবে। ওখান থেকেই কাজ করছি আমরা।’ হ্যাক স বা করাতটার কথা মনে પડল তার। শীতল গলায় বলল সে, ‘আসলে ওর শোবার ঘরটাই আমাদের সিপি বা কমান্ড পোস্ট।’
‘একজন সিভিলিয়ানের শোবার ঘর তোমাদের কমান্ড পোস্ট?’
‘আপনি যদি কিছু করতে পারেন, তবে খুব উপকার হয়, স্যার। এই ট্রান্সফারটার জন্য অনেক দিন অপেক্ষা করে আছি আমি।’
‘হাত কেটে নেওয়া! ওহ, মাই লর্ড।’
উঠে দাঁড়াল সে, দরজার দিকে এগিয়ে করিডরে বেরিয়ে এল। শীঘ্রই তার নতুন কর্মস্থল হতে যাচ্ছে এটা।
স্বস্তির নিঃশ্বাসটা ফেলতে একটু যেন বেশিই সময় লাগল তার।
বোতলের তলার মতো পুরু কাচের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে। রাস্তার ওপাশের খালি প্লটে একদল বুনো কুকুরের ঘোরাঘুরি দেখছে। পুরোনো দালানটার একতলায় রয়েছে এই মুহূর্তে, মার্বেল পাথরে মোড়ানো দালানটা সেই ১৮০০ সালের শুরুর দিকের। চারপাশে ফাঁকা জমি আর বস্তি-কিছু পরিত্যক্ত, কিছু ভাড়াটিয়ায় ভরতি, তবে বেশিরভাগই জবরদখলকারীদের আস্তানা। এই পুরোনো ম্যানশনটা বহু বছর ধরেই খালি পড়ে আছে।
এমেরি পেপারের টুকরোটা হাতে নিয়ে আবারো ঘষতে শুরু করল বোন কালেক্টর। নিজের হাতের কাজের দিকে তাকাল। তারপর আবার জানালার বাইরে। বৃত্তাকার গতিতে নড়ছে তার হাত, একেবারে নিখুঁত। শিরিষ কাগজের ছোট্ট টুকরোটা ফিসফিস করে উঠল, শশশশ, শশশশ…কোনো মা তার শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছে যেন।
দশকখানেক আগে, নিউ ইয়র্কের সুদিনের সময়, এক পাগল আর্টিস্ট আস্তানা গেড়েছিল এখানে। স্যাঁতসেঁতে দোতলা বাড়িটা ভাঙাচোরা আর মরচেধরা এন্টিক দিয়ে ভরিয়ে তুলেছিল লোকটা। রট আয়রনের গ্রিল, ক্রাউন মোল্ডিংয়ের চাঙড়, ফ্রেমবাঁধানো মাকড়সার জালের মতো ফাটা স্টেইনড গ্লাস, ছাল-ওঠা থাম। আর্টিস্টের কিছু কাজ এখনো রয়ে গেছে দেয়ালে। পুরোনো পলেস্তারার উপর ফ্রেসকো: অসমাপ্ত ম্যুরাল-শ্রমিক, শিশু আর বিষণ্ণ প্রেমিক-প্রেমিকা। গোলগাল, ভাবলেশহীন মুখ-লোকটার আঁকার বৈশিষ্ট্য ছিল ওটাই-ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে, যেন মসৃণ শরীর থেকে খুবলে নেওয়া হয়েছে আত্মাটাকে। পেইন্টার হিসেবে খুব একটা সফল হতে পারেনি লোকটা, এমনকি মার্কেটিং-এর সবচেয়ে অব্যর্থ টোটকা-নিজের আত্মহত্যা-কাজে লাগানোর পরেও না। বছর কয়েক আগে ব্যাংক বাড়িটা বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছিল।
শশশশ…
গত বছর ঘুরতে ঘুরতে জায়গাটা আবিষ্কার করেছিল বোন কালেক্টর। দেখেই বুঝেছিল এটাই হবে তার ঘর। এলাকাটার নির্জনতা অবশ্যই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল-ব্যবহারিক দিক থেকে তো বটেই। কিন্তু আরেকটা আকর্ষণও ছিল। আর তা ছিল অনেক বেশি ব্যক্তিগত। রাস্তার উল্টো দিকের ঐ খালি প্লটটা। বছর কয়েক আগে মাটি খোঁড়ার সময় একগাদা মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পেয়েছিল এক ব্যাক-হো মেশিন। জানা গেল, ওটা ছিল শহরের এক পুরোনো কবরস্থান। খবরের কাগজ বলেছিল, ফেডারেল আর কলোনিয়াল যুগের নিউ ইয়র্কবাসীদের কবর ওগুলো। সাথে মানাতে আর লিনাপি ইন্ডিয়ানদের দেহাবশেষও থাকতে পারে ঐ কবরে।
এমেরি পেপার দিয়ে যেটা মসৃণ করছিল, সেটা একপাশে রাখল সে-একটা কার্পাল বা করতলাস্থি, হাতের তালুর সেই নাজুক হাড়। এরপর তুলে নিল কবজিটা। রেডিয়াস আর আলনা হাড় থেকে সাবধানে আলাদা করেছিল সে এটাকে; গত রাতে কেনেডি এয়ারপোর্টে প্রথম শিকার ধরতে যাওয়ার ঠিক আগে। সপ্তাহখানেক ধরে শুকাচ্ছে ওটাকে সে। মাংসের বেশিরভাগই খসে গেছে, কিন্তু হাড়ের জটিল জটলাটা ছাড়াতে বেশ কসরত করতে হলো তাকে। মৃদু শব্দ তুলে আলাদা হয়ে গেল হাড়গুলো, যেন দিঘির শান্ত পানিতে মাছের ঘাই মারার শব্দ।
ওহ, কনস্টেবলগুলো…যা ভেবেছিল তার চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ ওরা। পার্ল স্ট্রিট ধরে ওদের তল্লাশি চালাতে দেখেছে সে, ভেবেছিল এয়ারপোর্টের মেয়েটাকে কোথায় রেখেছে সেটা ওরা আদৌ বের করতে পারবে না। তাই ওদেরকে দৌড়ে সঠিক দালানটার দিকে যেতে দেখে অবাকই হয়েছে। ভেবেছিল সূত্রগুলো বুঝতে অন্তত দুই-তিনজন ভিকটিম খরচ হবে ওদের। মেয়েটাকে অবশ্য বাঁচাতে পারেনি ওরা। তবে পারত। আর এক বা দুই মিনিট আগে পৌঁছালেই হয়তো অন্য রকম হতো ফলাফলটা। জীবনের অনেক কিছুর মতোই।
নেভিকুলার, লুনেট, হ্যামেট, ক্যাপিটেট… হাড়গুলো গ্রিক পাজল রিং-এর মতো একে অপরের সাথে পেঁচিয়ে আছে। তার শক্ত আঙুলের চাপে খুলে এল অবশ্য। লেগে থাকা মাংস আর টেন্ডনের টুকরোগুলো খুঁটে তুলে ফেলল সে। গ্রেটার মাল্টিঅ্যাঙ্গুলাম হাড়টা বেছে নিল-যেখানে একসময় বুড়ো আঙুলটা ছিল তার গোড়ায় থাকে এটা-তারপর আবারো শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষতে শুরু করল।
শশশশ, শশশশশশ।
চোখ কুঁচকে বাইরে তাকাল বোন কালেক্টর, কল্পনায় দেখল পুরোনো কবরের একটার পাশে দাঁড়িয়ে আছে এক লোক। কল্পনা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না, কারণ লোকটার মাথায় বাউলার হ্যাট আর পরনে সরিষা রঙের গ্যাবার্ডিন পোশাক। সমাধিপাথরের পাশে কিছু গাঢ় রঙের গোলাপ রাখল লোকটা, তারপর ঘুরে ক্যানেল স্ট্রিটের দিকে হাঁটা দিল। এইমাত্র পাশ কাটাল ঘোড়া আর জুড়িগাড়িগুলোকে, যাচ্ছে কালেক্ট পন্ডের উপরের সেই চমৎকার খিলানযুক্ত ব্রিজের দিকে।
কার কবর দেখতে এসেছিল লোকটা? বাবা-মা? ভাই? যক্ষ্মা কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারিতে মারা যাওয়া কোনো আত্মীয়। ইদানীং তো শহরে মড়ক লেগে গেছে ওসবের কারণে।
না, ইদানীং নয় অবশ্যই। একশো বছর আগে-ওটাই বোঝাতে চেয়েছে সে।
চোখ পিটপিট করে আবার তাকাল সে। জুড়িগাড়ি বা ঘোড়ার কোনো চিহ্ন নেই। নেই বাউলার হ্যাট পরা লোকটাও। যদিও রক্তমাংসের মানুষের মতোই বাস্তব মনে হয়েছিল ওদের। ওরা যতটা বাস্তবই হোক না কেন।
শশশশ, শশশশশশ।
অতীতটা আবার হানা দিচ্ছে। আগে যা যা ঘটেছিল সব চোখের সামনে ভেসে উঠছে ওর। জানে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে সে। জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সে বুঝতে পারল, আসলে আগে বা পরে বলে কিছু নেই। অন্তত তার কাছে নেই। সময়ের এপার থেকে ওপারে ভেসে বেড়ায় সে-এক দিন, দুই দিন, পাঁচ বছর, একশো বা দুশো বছর। ঠিক ঝোড়ো হাওয়ায় শুকনো পাতার মতো।
ঘড়ির দিকে তাকাল সে। বেরোনোর সময় হয়েছে। ম্যানটেলপিসের উপর হাড়টা রেখে যত্ন করে হাত ধুলো সে, একদম সার্জনের মতো। তারপর মিনিট পাঁচেক ধরে জামাকাপড়ের উপর পেট-হেয়ার রোলার চালাল, যাতে হাড়ের গুঁড়ো, ধুলো বা শরীরের লোম কনস্টেবলদের তার কাছে নিয়ে আসতে না পারে।
ক্যারেজ হাউজ বা আস্তাবলের দিকে হাঁটা দিল সে। রক্তমাখা সাদা অ্যাপ্রন পরা কসাইয়ের সেই অসমাপ্ত ছবিটাকে পাশ কাটাল। ট্যাক্সিটা নিতে গিয়েও মত পাল্টাল সে। অনিশ্চয়তাই হলো সেরা প্রতিরক্ষা। এবার সে জুড়িগাড়িটা নেবে… মানে সেডান, ফোর্ড গাড়িটা। ওটা স্টার্ট দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এল গাড়ি নিয়ে, রিমোট টিপে গ্যারেজের দরজা বন্ধ করে দিল পেছনে।
কোনো আগে বা পরে নেই…
কবরস্থানটা পার হওয়ার সময় কুকুরের দলটা একবার মুখ তুলে ফোর্ড গাড়িটার দিকে তাকাল, তারপর আবার ঝোপঝাড়ের ভেতর ইঁদুর খোঁজা আর গরমে পাগলের মতো পানির সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
কোনো তখন বা এখন নেই…
পকেট থেকে স্কি-মাস্ক আর গ্লাভস বের করল সে, পাশের সিটে রাখল ওগুলো, তারপর পুরোনো পাড়া ছেড়ে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে গেল। শিকারের সন্ধানে বেরোচ্ছে বোন কালেক্টর।
