অধ্যায় ত্রিশ
‘জলদি করো সবাই!’ হাঁক দিল রাইম। ‘মেয়েটাকে পরের সিনে নিয়ে যাওয়ার আগেই ধরতে হবে আমাদের। চালু হও!’
স্টর্ম অ্যারো থেকে রাইমকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল টম, স্লাইডিং বোর্ডের সাহায্যে সাবধানে ক্লিনিট্রনে তুলে দিল।
শোবার ঘরের একটা আলমারির দিকে তাকাল স্যাক্স। ওটায় হুইলচেয়ার এলিভেটর বা লিফট বসানো আছে। সিডি আর স্টেরিও দেখানোর সময় ওটাই খুলতে বারণ করেছিল সে।
মিনিটখানেক শুয়ে রইল রাইম, পরিশ্রমের পর দম নিচ্ছে।
‘কুগুলো সব শেষ,’ মনে করিয়ে দিল সে। ‘পরের সিন কোথায় হতে পারে তা জানার আর কোনো উপায় নেই। তাই এবার আসল লক্ষ্যে এগোতে হবে—তার সেফ হাউজ।’
‘খুঁজে বের করতে পারবে মনে হয়?’ জানতে চাইল সেলিট্টো।
আমাদের হাতে কি আর কোনো উপায় আছে? ভাবল রাইম, কিন্তু মুখে কিছু বলল না।
সিঁড়ি দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে উঠে এল ব্যাংকস। বেডরুমে ঢোকার আগেই রাইম চেঁচিয়ে উঠল, ‘কী বলল ওরা? বলো, বলো।’
স্যাক্স যে সোনার টুকরোটা পেয়েছিল তা মেল কুপারের কাজ چلا গোছের ল্যাবে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, জানত রাইম। তাই এফবিআই-এর রিজিওনাল পিইআরটি অফিসে পাঠিয়েছিল ওটা বিশ্লেষণ করার জন্য।
‘আধঘণ্টার মধ্যে ফোন করবে ওরা।’
‘আধঘণ্টা?’ বিড়বিড় করল রাইম। ‘ওরা কি এই কাজকে গুরুত্ব দেয়নি?’
‘অবশ্যই দিয়েছে। ডেলরে ছিল ওখানে। যদি দেখতেন ওকে! অন্য সব কেস হোল্ডে রাখার অর্ডার দিয়েছে সে আর বলেছে মেটালার্জি রিপোর্ট যদি আপনার হাতে এক্ষুনি না পৌঁছায়, তবে খবর আছে—বুঝতেই পারছেন কী বলেছে।’
‘রাইম,’ স্যাক্স বলল, ‘ক্যারল গ্যানজ আরেকটা কথা বলেছে যা জরুরি হতে পারে। লোকটা ওকে বলেছিল, ও যদি তাকে পায়ের চামড়া ছিলাতে দেয়, তবে eloquence ছেড়ে দেবে।’
‘ছিলাতে?’
‘মানে চামড়া কেটে নিতে আর কি…’
‘ছিলতে,’ শুধরে দিল রাইম।
‘ওহ। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত সে কিছুই করেনি। ক্যারল বলল, শেষমেশ যেন লোকটা ঠিক সাহস করে উঠতে পারেনি।’
‘ঠিক প্রথম সিনের মতো… রেললাইনের ধারের লোকটা,’ মত দিল সেলিট্টো।
‘ইন্টারেস্টিং…’ বলল রাইম। ‘ভেবেছিলাম আংটিটা যাতে কেউ চুরি করতে না পারে সেজন্য আঙুলের চামড়া চেঁছে ফেলেছিল সে। কিন্তু হয়তো তা নয়। ওর আচরণের দিকে তাকাও: ক্যাব ড্রাইভারের আঙুল কেটে সাথে নিয়ে ঘুরছে। জার্মান মেয়েটার হাত আর পা কেটেছে। হাড় আর সাপের কঙ্কাল চুরি করেছে। এভারেটের আঙুল ভাঙার শব্দ শুনেছে কান পেতে… ভিকটিমদের সে যেভাবে দেখে তার মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। একটা কিছু…’
‘অ্যানাটমি?’
‘ঠিক ধরেছ, স্যাক্স।’
‘ক্যারল গ্যানজ ছাড়া,’ বলল সেলিটো।
‘সেটাই তো আমার পয়েন্ট,’ বলল রাইম। ‘ওকে কেটেকুটেও তো আমাদের জন্য জিইয়ে রাখতে পারত সে। কিন্তু কিছু একটা তাকে থামিয়েছে। কী সেটা?’
সেলিট্টো বলল, ‘ওর মধ্যে আলাদা কী আছে? মহিলা বলে তো নয়। বা শহরের বাইরের লোক বলে। জার্মান মেয়েটাও তো তাই ছিল।’
‘হয়তো মেয়ের সামনে মাকে কষ্ট দিতে চায়নি,’ বলল ব্যাংকস।
‘না।’ শুকনো হাসি হাসল রাইম। ‘দয়া-মায়া ওর ধাতে নেই।’
হঠাৎ বলে উঠল স্যাক্স, ‘কিন্তু একটা ব্যাপারে ক্যারল আলাদা…ও একজন মা।’
চিন্তা করল রাইম। ‘হতে পারে। মা আর মেয়ে। হয়তো ওদের ছেড়ে দেওয়ার মতো যথেষ্ট ছিল না ব্যাপারটা। কিন্তু নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। টম, লিখে রাখো ওটা। একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে।’
তারপর স্যাক্সকে জিজ্ঞেস করল, ‘চেহারার ব্যাপারে আর কিছু বলেছে?’
নোটবুকের পাতা উল্টাল স্যাক্স। ‘আগের মতোই।’ পড়ল সে। ‘স্কি মাস্ক, হালকা গড়ন, কালো গ্লাভস, সে…’
‘কালো গ্লাভস?’ দেয়ালের চার্টের দিকে তাকাল রাইম। ‘লাল নয়?’
‘কালোই বলেছে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম নিশ্চিত কি না।’
‘আর অন্য চামড়ার টুকরোটাও কালো ছিল, তাই না, মেল? হয়তো ওটা গ্লাভসেরই ছিল। তাহলে লাল চামড়াটা কীসের?’
কাঁধ ঝাঁকাল কুপার। ‘জানি না, তবে দু-তিন টুকরো পেয়েছি আমরা। তার মানে জিনিসটা ওর খুব কাছের।’
এভিডেন্স ব্যাগগুলোর উপর চোখ বোলাল রাইম। ‘আর কী পেয়েছি?’
‘গলি আর দরজার কাছ থেকে যা ভ্যাকুয়াম করেছিলাম।’
ফিল্টারটা খবরের কাগজের উপর ঝেড়ে আতশ কাচ দিয়ে দেখল কুপার।
‘তেমন কিছু নেই,’ ঘোষণা করল সে। ‘মূলত মাটি। খনিজ কণা। ম্যানহাটন মাইকা শিস্ট। ফেল্ডস্পার।’
যা পুরো শহরেই পাওয়া যায়।
‘চালিয়ে যাও।’
‘আর পচা পাতা। এই তো।’
‘ক্যারল গ্যানজের জামাকাপড়?’
খবরের কাগজ খুলে ট্রেসগুলো পরীক্ষা করল কুপার আর স্যাক্স।
‘বেশিরভাগই মাটি,’ কুপার বলল।
‘আর পাথরের মতো দেখতে কিছু টুকরো।’
‘সেফ হাউজে ওকে কোথায় রেখেছিল? ঠিক কোথায়?’
‘বেসমেন্টের মেঝেতে। ও বলেছে মাটির মেঝে ছিল।’
‘এক্সিলেন্ট!’ চেঁচিয়ে উঠল রাইম। কুপারকে বলল, ‘পোড়াও ওটা। মাটিটা।’
জিসি-এমএস-এ স্যাম্পল দিল কুপার। অধৈর্য হয়ে ফলাফলের অপেক্ষা করতে লাগল তারা। অবশেষে ব্লিংক করল কম্পিউটার স্ক্রিন। গ্রাফটা চাঁদের পাহাড়ের মতো এবড়োথেবড়ো।
‘অল রাইট, লিংকন। ইন্টারেস্টিং। কষের মাত্রা আকাশছোঁয়া, আর-‘
‘সোডিয়াম কার্বোনেট?’
‘লোকটা সত্যিই বিস্ময়কর, তাই না?’ হাসল কুপার। ‘কিন্তু তুমি জানলে কী করে?’
‘আঠারো আর উনিশ শতকে ট্যানারি কারখানায় ওগুলো ব্যবহার করা হতো। ট্যানিক অ্যাসিড চামড়া পাকা করে আর অ্যালকালাইন সেটা স্থায়ী করে। তার মানে তার সেফ হাউজ কোনো পুরোনো ট্যানারির জায়গায়।’
হাসল রাইম। নিজেকে আটকাতে পারল না। ভাবল: পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছ, ৮২৩? ওটা আমরা, তোমার ঘাড়ে শ্বাস ফেলছি।
র্যান্ডেল সার্ভে ম্যাপের দিকে চোখ চলে গেল তার। ‘তীব্র কটু গন্ধের কারণে কেউ তাদের পাড়ায় ট্যানারি চাইত না, তাই কমিশনাররা ওগুলোর এলাকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। আমি জানি লোয়ার ইস্ট সাইডে কিছু ছিল। আর ওয়েস্ট গ্রিনউইচ ভিলেজে—যখন ওটা সত্যিই একটা গ্রাম ছিল, উপশহর। তারপর ফিফটিইথ স্ট্রিটের দিকে ফার ওয়েস্ট সাইডে—স্টকইয়ার্ডের যে টানেলে আমরা জার্মান মেয়েটাকে পেয়েছিলাম তার কাছেই। ওহ, আর ১৯০০ সালের শুরুর দিকে হার্লেমে।’
মুদি দোকানের লিস্টটায় চোখ বোলাল রাইম।
‘চেলসি বাদ। ওখানে কোনো ট্যানারি ছিল না। হার্লেমও… কারণ ওখানে শপরাইট নেই। তার মানে, ওয়েস্ট ভিলেজ, লোয়ার ইস্ট সাইড কিংবা মিডটাউন ওয়েস্ট সাইড—আবার সেই হেলস কিচেন। যেটা সে পছন্দ করে বলে মনে হচ্ছে।’
বড়জোর দশ বর্গমাইল এলাকা হবে, হিসাব কষল রাইম। চাকরির প্রথম দিনেই সে বুঝেছিল, বনের চেয়ে ম্যানহাটনে পালানো অনেক সহজ।
‘চালিয়ে যাওয়া যাক। ক্যারলের পোশাকে যে পাথর পাওয়া গেছে তার কী খবর?’
মাইক্রোস্কোপের উপর ঝুঁকে আছে কুপার। ‘ওকে। পেয়েছি।’
‘প্যাচ করে দাও আমাকে, মেল।’
রাইমের কম্পিউটার স্ক্রিন জ্বলে উঠল আর পাথর ও ক্রিস্টালের কণাগুলো দেখতে পেল সে। ওগুলোকে দেখাচ্ছে উজ্জ্বল গ্রহাণুর মতো।
‘ঘোরাও!’ নির্দেশ দিল রাইম। তিনটা পদার্থ একসাথে লেগে আছে।
‘বাঁ দিকেরটা মার্বেল, গোলাপি,’ কুপার বলল।
‘আগে যা পেয়েছিলাম তেমন। আর মাঝখানের ধূসর জিনিসটা…’
‘ওটা চুন-সুড়কি। আর অন্যটা ব্রাউনস্টোন,’ ঘোষণা করল রাইম। ‘ফেডারেল স্টাইল দালান থেকে এসেছে, ১৮১২ সালের সিটি হলের মতো। কেবল সামনের দিকটা মার্বেল; বাকিটা ব্রাউনস্টোন। টাকা বাঁচানোর জন্য অমন করত। মানে, যাতে মার্বেলের জন্য বরাদ্দ টাকাটা পকেটে ভরা যায় আর কি। এখন, আর কী আছে? ছাই। এক্সিলারেন্টটা খুঁজে বের করা যাক।’
জিসি-এমএস দিয়ে ছাই পরীক্ষা করল কুপার। স্ক্রিনে ফুটে ওঠা রেখাটার দিকে তাকিয়ে রইল সে।
নতুন রিফাইন করা গ্যাসোলিনে ম্যানুফ্যাকচারারের দেওয়া বিশেষ রং আর অ্যাডিটিভ থাকে, যা অদ্বিতীয় এবং উৎসের সন্ধান দিতে পারে, যদি-না সার্ভিস স্টেশনে বিভিন্ন ব্যাচের তেল মিশিয়ে ফেলা হয়।
কুপার ঘোষণা করল যে গ্যাসোলিনটা গ্যাস এক্সচেঞ্জ সার্ভিস স্টেশনের ব্র্যান্ডের সাথে হুবহু মিলে গেছে।
ইয়েলো পেজেস খুলে পাতা উল্টাল ব্যাংকস। ‘ম্যানহাটনে ছয়টা স্টেশন আছে ওদের। তিনটা ডাউনটাউনে। একটা সিক্সথ অ্যাভিনিউ আর হিউস্টনে। একটা ডেলান্সিতে, ৫০৩ ইস্ট। আর একটা নাইনটিনথ আর এইটথ-এ।’
‘নাইনটিনথ বড্ড উত্তরে,’ বলল রাইম। প্রোফাইল চার্টের দিকে তাকিয়ে আছে সে। ‘ইস্ট সাইড না ওয়েস্ট। কোনটা?’
মুদি দোকান, গ্যাসোলিন…
হঠাৎ দরজায় এক দীর্ঘকায় মূর্তির আবির্ভাব হলো।
‘এই পার্টিতে আমার দাওয়াত আছে তো?’ ফ্রেডরিক ডেলরে জানতে চাইল।
‘সেটা নির্ভর করছে,’ পাল্টা জবাব দিল রাইম, ‘কী উপহার এনেছ তার উপর।’
‘উপহারের অভাব নেই,’ এফবিআই-এর লোগো আঁকা একটা ফোল্ডার নেড়ে বলল এজেন্ট।
‘ডেলরে, আদৌ কি নক করো কখনো?’ জানতে চাইল সেলিট্টো।
‘অভ্যাসটা চলে গেছে, জানোই তো।’
‘এসো ভেতরে,’ বলল রাইম। ‘কী পেয়েছ?’
‘নিশ্চিত জানি না। আমার মাথায় তো কিছু ঢুকছে না। তবে আমি আর কী জানি বলো?’
রিপোর্ট থেকে কিছুক্ষণ পড়ল ডেলরে, তারপর বলল, ‘پیইআরটি-র টনি ফারকোকে দিয়ে—তোমাকে হ্যালো বলেছে সে, লিংকন—তোমার পাওয়া ঐ পি-ই টুকরোটা অ্যানালাইজ করিয়েছি। দেখা যাচ্ছে, ওটা সোনার পাত। সম্ভবত ষাট থেকে আশি বছরের পুরোনো। সাথে কিছু সেলুলোজ ফাইবার লেগে আছে, তাই ওর ধারণা এটা কোনো বই থেকে এসেছে।’
‘অবশ্যই! পাতার উপরের দিকের সোনালি প্রলেপ,’ বলল রাইম।
‘সে কিছু কালির কণাও পেয়েছে ওতে। ওর কথা থেকেই আমি উদ্ধৃতি দিচ্ছি: “নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি তাদের বইয়ের প্রান্তে যে ধরনের কালি দিয়ে স্ট্যাম্প মারে, তার সাথে এর অমিল নেই।” ব্যাটা কেমন অদ্ভুতভাবে কথা বলে, না?’
‘লাইব্রেরির বই,’ বিড়বিড় করল রাইম।
‘অ্যামেলিয়া স্যাক্স বলল, ‘লাল চামড়ায় বাঁধানো লাইব্রেরি বই।’
ওর দিকে তাকাল রাইম। ‘ঠিক!’ চেঁচিয়ে উঠল সে। ‘লাল চামড়ার টুকরোগুলো ওখান থেকেই এসেছে। গ্লাভস থেকে নয়। এটা এমন একটা বই যা সে সব সময় সাথে রাখে। ওর বাইবেল হতে পারে।’
‘বাইবেল?’ ডেলরে জানতে চাইল। ‘তুমি কি ভাবছ ও কোনো ধর্মপাগল?’
‘আরে, সত্যিকার বাইবেল নয়, ফ্রেড। আবার লাইব্রেরিতে ফোন করো, ব্যাংকস। হয়তো রিডিং রুমে বসেই জুতোর তলা ক্ষয়ে ফেলেছে সে। খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মতোই কিছুটা। কিন্তু আমাদের হাতে খুব বেশি অপশন নেই। গত এক বছরে ম্যানহাটনের ব্রাঞ্চগুলো থেকে চুরি যাওয়া সব এন্টিক বইয়ের তালিকা চাই।’
‘করছি।’ শেভ করার সময় গাল কেটে গেছে তার। সেই দাগে হাত বোলাতে বোলাতে মেয়রের বাসায় ফোন করল সে। সোজাসাপটা হিজ অনারকে অনুরোধ করল পাবলিক লাইব্রেরির ডিরেক্টরের সাথে যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োজনের কথাটা জানাতে।
আধঘণ্টা পর ফ্যাক্স মেশিন বেজে উঠে দুটো পাতা বেরিয়ে এল। মেশিন থেকে কাগজটা ছিঁড়ে নিল টম।
‘বাপরে, এই শহরের পাঠকদের হাত তো বেশ লম্বা,’ রাইমের কাছে কাগজটা আনতে আনতে বলল সে।
গত বারো মাসে পাবলিক লাইব্রেরির বিভিন্ন শাখা থেকে পঞ্চাশ বছরের বেশি পুরোনো চুরাশিটা বই গায়েব হয়েছে, তার মধ্যে পঁয়ত্রিশটা ম্যানহাটনে।
লিস্টে চোখ বোলাল রাইম। ডিকেন্স, অস্টেন, হেমিংওয়ে, ড্রেইজার…গান, দর্শন, ওয়াইন, সাহিত্য সমালোচনা, রূপকথা—সব বিষয়ের বই। দাম অবাক করার মতো কম। কুড়ি থেকে ত্রিশ ডলার। তার ধারণা এগুলোর কোনোটাই প্রথম সংস্করণ ছিল না, কিন্তু হয়তো চোররা তা জানত না।
লিস্ট দেখতে লাগল সে। কিছুই না, কিছুই না। হয়তো…
আর তারপর ওটা দেখতে পেল সে।
ক্রাইম ইন ওল্ড নিউ ইয়র্ক, রিচার্ড উইলি স্টিফেনসের লেখা, ১৯১৯ সালে বাউন্টিফুল প্রেস থেকে প্রকাশিত। দাম পঁয়ষট্টি ডলার, এবং নয় মাস আগে নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির ডেলান্সি স্ট্রিট শাখা থেকে চুরি গেছে। বিবরণে লেখা আছে ওটা পাঁচ বাই সাত ইঞ্চি সাইজের, লাল কিডস্কিনে বাঁধানো, মার্বেল পেপার দেওয়া, আর পাতার কিনারায় সোনালি প্রলেপ আছে।
‘বইটার একটা কপি চাই আমার। যেভাবেই হোক। দরকার হলে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে লোক পাঠাও।’
ডেলরে বলল, ‘ওটা আমি দেখছি।’
মুদি দোকান, gasোলিন, লাইব্রেরি…
নির্ণয় নিতে হবে রাইমকে।
তিনশো সার্চার আছে—পুলিশ, স্টেট ট্রুপার আর ফেডারেল এজেন্ট—কিন্তু ডাউনটাউন নিউ ইয়র্কের ওয়েস্ট এবং ইস্ট সাইড দুটোই খুঁজতে গেলে হিমশিম খেয়ে যাবে তারা।
প্রোফাইল চার্টের দিকে তাকিয়ে আছে সে।
তোমার বাড়ি কি ওয়েস্ট ভিলেজে? মনে মনে ৮২৩-কে জিজ্ঞেস করল রাইম। আমাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্যই কি ইস্ট সাইড থেকে তেল কিনেছ আর বই চুরি করেছ? নাকি ওটাই তোমার আসল এলাকা? কতটা চালাক তুমি?
না, না, প্রশ্নটা এটা নয় যে তুমি কতটা চালাক, বরং তুমি নিজেকে কতটা চালাক মনে করো। কতটা নিশ্চিত ছিলে যে মসিয়ে লোকার্ডের কথামতো ফেলে যাওয়া তোমার শরীরের ঐ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশগুলো আমরা কখনোই খুঁজে পাব না?
অবশেষে রাইম নির্দেশ দিল, ‘লোয়ার ইস্ট সাইডেই চলো। ভিলেজ বাদ। সবাইকে ওদিকে পাঠাও। বোর লোকজন, তোমার লোকজন, সবাই, ফ্রেড। যা খুঁজবে তা হলো: বড় ফেডারেল স্টাইল দালান, প্রায় দুশো বছরের পুরোনো, সামনে গোলাপি মার্বেল, বাকিটা ব্রাউনস্টোন। একসময় হয়তো কোনো ম্যানশন বা সরকারি দালান ছিল। সাথে গ্যারেজ বা ক্যারেজ হাউজ আছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটা টরাস সেডান আর ইয়েলো ক্যাব আসা-যাওয়া করছে। শেষ কয়েক দিনে বেশি।’
স্যাক্সের দিকে তাকাল রাইম।
মৃতদের মায়া ত্যাগ করা…
ফোন করল সেলিট্টো আর ডেলরে।
রাইমকে বলল স্যাক্স, ‘আমিও যাচ্ছি।’
‘আমিও এটাই আশা করেছি।’
নিচতলায় দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পেতেই ফিসফিস করে বলল সে, ‘স্যাক্স, ঈশ্বর তোমার সহায় হোন।’
