১. এক দিনের রাজা
২. লোকার্ডের নীতি
৩. দ্য পোর্টেবলস ডটার
8. ডাউন টু দ্য বোন
৫. নড়াচড়ার উপর থাকলে ওরা তোমায় ধরতে পারবে না

দ্য বোন কালেক্টর – ৩২

অধ্যায় বত্রিশ

টিম টু-এর অন্য পাঁচজন অফিসারের সাথে একটা তপ্ত গলিতে দৌড়ে ঢুকল স্যাক্স। ইএসইউ ট্রাক দিয়ে ওটা আগেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কোবলস্টোন আর ফাটল ধরা ভিত্তির ফাঁক দিয়ে আগাছা গজিয়েছে প্রচুর। জায়গাটার নিস্তব্ধতা স্যাক্সকে মনে করিয়ে দিল গতকাল সকালের রেললাইনের ধারের সেই কবরের কথা। রাইম আশা করছে ভিকটিম যেন মরে গিয়ে থাকে। তার ভালোর জন্যই…

ট্রুপারদের আশেপাশের দালানের ছাদে পজিশন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাউম্যান, কালো কোল্ট রাইফেলের নলগুলো অ্যান্টেনার মতো উঁচিয়ে থাকতে দেখল সে।

পেছনের দরজায় থমকে দাঁড়াল টিম। স্যাক্স যখন জুতোর উপর রাবার ব্যান্ডগুলো চেক করছিল, তখন তার দিকে তাকাল সতীর্থ পুলিশরা। শুনতে পেল একজন ফিসফিস করে কুসংস্কার নিয়ে কিছু একটা বলছে আরেকজনকে।

তারপর ইয়ারফোনে শুনতে পেল সে:

‘টিম ওয়ান লিডার ফ্রন্ট ডোরে, চার্জ বসানো হয়েছে এবং আর্মড। আমরা রেডি।’

‘রজার, টিম ওয়ান লিডার। টিম টু?’

‘টিম টু, পজিশনে আছে।’

‘রজার, টিম টু লিডার। বোথ টিমস, ডায়নামিক এন্ট্রি। আমার তিন গোনার সাথে সাথে।’

অস্ত্রটা শেষবারের মতো চেক করে নিল সে।

‘এক…’

ফোলা ঠোঁটের উপর এক ফোঁটা ঘাম অনুভব করল সে।

‘দুই…’

ওকে, রাইম, শুরু হলো…

‘তিন!’

বিস্ফোরণটা হলো খুব নিচু স্বরে, দূরে একটা পটকা ফাটার মতো, আর তারপরই মুভ করল টিমগুলো। দ্রুত। ইএসইউ ট্রুপারদের পিছু পিছু দৌড় দিল সে। ভেতরে ঢুকেই ছড়িয়ে পড়ল ওরা, জানালায় দিয়ে আসা চড়া রোদের মধ্যে ওদের রাইফেলের ফ্ল্যাশলাইটের আলো কাটাকুটি খেলছে। বাকিরা ছড়িয়ে পড়তেই নিজেকে একা আবিষ্কার করল স্যাক্স, আলমারি, ক্লোজেট আর অদ্ভুত সব মূর্তির পেছনের ছায়ায় খুঁজছে সে।

বাঁক নিল রাইম। আবছা একটা মুখ ভেসে উঠল। একটা ছুরি…

ধক করে উঠল বুকটা। কমব্যাট স্ট্যান্সে গান তুলল সে। পিচ্ছিল ট্রিগারে পাঁচ পাউন্ড চাপ দিয়েই ফেলেছিল প্রায়, তখনই বুঝতে পারল ওটা আসলে দেয়ালের একটা পেইন্টিং। ভূতুড়ে, গোলগাল মুখের এক কসাই, এক হাতে ছুরি, অন্য হাতে এক টুকরো মাংস।

ভাই…

বসবাসের জন্য দারুণ জায়গাই বেছে নিয়েছে সে।

ইএসইউ ট্রপাররা দুপদাপ করে দোতলায় উঠে গেল। এক আর দুই নম্বর ফ্লোর সার্চ করছে তারা।

কিন্তু স্যাক্স তো খুঁজছে অন্য কিছু।

বেসমেন্টে নামার দরজাটা খুঁজে পেল সে। আধখোলা। ওকে।

হ্যালোজেন অফ। আগে দেখে নিতে হবে। কিন্তু নিকের কথা মনে পড়ল তার: কখনো কোনায় উঁকি দেওয়ার সময় মাথা বা বুক সোজাসুজি রাখবে না। কারণ ওখানেই ওরা নিশানা করে।

এক হাঁতু গেড়ে বসল সে। বুকভরে শ্বাস নিল। গো!

কিছু নেই। অন্ধকার।

আবার আড়ালে সরে এল।

শোনো…

নষ্ট প্রথমে কিছুই শুনতে পেল না সে।

তারপর স্পষ্ট একটা খসখসে শব্দ। খটখট আওয়াজ। দ্রুত শ্বাস ফেলা আর গোঙানির শব্দ।

সে ওখানেই আছে এবং মাটি খুঁড়ে পালানোর চেষ্টা করছে!

মাইকে বলল সে, ‘বেসমেন্টে নড়াচড়া টের পাচ্ছি। ব্যাকআপ।’

‘রজার।’

কিন্তু অপেক্ষা করতে পারল না সে। বাচ্চা মেয়েটার কথা মনে হচ্ছে বারবার। সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল সে। একবার থেমে কান পাতল। তারপর খেয়াল করল কোমরের নিচ থেকে পুরো শরীরটা উন্মুক্ত হয়ে আছে তার। প্রায় লাফিয়েই মেঝের উপর নামল সে, অন্ধকারের মধ্যে উবু হয়ে বসল।

শ্বাস নাও।

এবার লাইট মারো!

বাঁ হাতে ধরা হ্যালোজেন বাতিটা তীব্র সাদা আলোর ফলা ছুঁড়ে দিল ঘরের ভেতর। আলোটা বাম থেকে ডানে ঘোরার সাথে সাথে সেদিকেই তাক করল সে বন্দুকের নল। আলো নিচু করে রাখল। সে-ও নিশ্চয়ই কুঁচকি লেভেলে থাকবে। নিকের কথা মনে পড়ল তার: আসামিরা তো আর ওড়ে না।

কিছু নেই। তার কোনো চিহ্নই নেই।

‘অফিসার স্যাক্স?’

সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে আছে এক ইএসইউ ট্রুপার।

‘ওহ নো!’ প্যামি গ্যানজের উপর আলো গিয়ে পড়তেই চমকে উঠল সে। বেসমেন্টের কোনায় জমে আছে মেয়েটা।

‘নড়বেন না,’ ট্রুপারকে বলল স্যাক্স।

মেয়েটার থেকে ইঞ্চি কয়েক দূরে দাঁড়িয়ে আছে একদল হাড়জিরজিরে বুনো কুকুর, ওর মুখ, আঙুল আর পা শুঁকছে। মেয়েটার বড় বড় চোখ এক পশু থেকে আরেক পশুর দিকে ঘুরছে। ছোট্ট বুকটা ওঠানামা করছে আর গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি। মুখটা হাঁ করা আর গোলাপি জিভটা ডান ঠোঁটের কোনায় আটকে আছে যেন।

‘ওখানেই থাকুন,’ ইএসইউ ট্রুপারকে বলল সে। ‘ওদের ভড়কে দেবেন না।’ টার্গেট ঠিক করল স্যাক্স কিন্তু গুলি করল না। দুই-তিরিশটাকে হয়তো মারতে পারবে, কিন্তু বাকিরা ভয় পেয়ে মেয়েটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। একটার সাইজ তো এমন যে এক কামড়েই ঘাড় মটকে দিতে পারবে ওর।

‘লোকটা আছে নিচে?’ জিজ্ঞেস করল ইএসইউ পুলিশ।

‘জানি না। একজন মেডিককে ডাকুন। সিঁড়ির মাথায়। কেউ নিচে নামবেন না।’

‘ঠিক আছে।’

অস্ত্রের নিশানা এক পশু থেকে আরেক পশুর দিকে ঘোরাতে ঘোরাতে ধীরে ধীরে এগোল স্যাক্স। একে একে কুকুরগুলোর চোখ পড়ল তার উপর, প্যামির দিক থেকে ঘুরে তাকাল ওগুলো। বাচ্চা মেয়েটা ছিল নিছক খাবার; স্যাক্স হলো শিকারি। গরগর আর ঘেউঘেউ করে উঠল ওরা, সামনের পা কাঁপছে, পেছনের পা টানটান, লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘আমার ভয় করছে,’ চিকন গলায় বলল প্যামি, আবারো ওদের মনোযোগ আকর্ষণ করল।

‘শশশশ, সোনা,’ আদর করে বলল স্যাক্স। ‘কিছু বোলো না। চুপ করে থাকো।’

‘মাম্মি। আমি আমার মাম্মিকে চাই!’

তার জোরালো আর্তনাদে খেপে গেল কুকুরগুলো। একই জায়গায় লাফাতে লাগল। থ্যাবড়া নাকগুলো ডানে-বাঁয়ে ঘোরাচ্ছে, গরগর করছে।

‘ইজি, ইজি…’

বাঁয়ে সরলো স্যাক্স। কুকুরগুলো এখন তার মুখোমুখি, তার চোখ আর বাড়িয়ে দেওয়া হাত এবং বন্দুকের দিকে তাকাচ্ছে। দুটো দলে ভাগ হয়ে গেল ওরা। একটা দল প্যামির কাছেই রইল। অন্যটা স্যাক্সের চারপাশে ঘুরতে লাগল, তাকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে।

বাচ্চা মেয়েটা আর তার সবচেয়ে কাছের তিনটা কুকুরের মাঝখানে সরে এল সে। পেন্ডুলামের মতো দুলছে গ্লকটা। ওদের কালো চোখগুলো এখন কালো বন্দুকের উপর। হলদে লোমশ একটা কুকুর গরগর করে উঠল, স্যাক্সের ডান দিকে এগিয়ে এল।

ফুঁপিয়ে চলেছে মেয়েটা, ‘মাম্মি…’

ধীরে নড়ল স্যাক্স। নিচু হয়ে বাচ্চাটার সোয়েটশার্ট খামচে ধরে ওকে নিজের পেছনে টেনে নিল। হলদে কুকুরটা আরো কাছে এল।

‘যাহ,’ বলল স্যাক্স।

আরো কাছে।

‘দূর হ!’

হলদেটার পেছনের কুকুরগুলো টানটান হলো। ফাটা বাদামি দাঁত বের করল হলদেটা।

‘ভাগ এখান থেকে!’ গর্জে উঠল স্যাক্স। গ্লকের নল দিয়ে সজোরে বাড়ি মারল ওটার নাকে। বিস্ময়ে চোখ পিটপিট করল কুকুরটা, কেঁউ করে উঠল, তারপর ছিটকে পালাল সিঁড়ির দিকে।

চিৎকার করে উঠল প্যামি, বাকিগুলো উন্মাদ হয়ে গেল তাতে। নিজেদের মধ্যেই কামড়াকামড়ি শুরু করে দিল ওরা, দাঁত আর লালার এক ঘূর্ণি যেন। গায়ে দাগওয়ালা রটওয়েলারটা একটা ন্যাড়া কুকুরকে ছুঁড়ে ফেলে দিল স্যাক্সের পায়ের কাছে। হাড়গিলে বাদামি জীবটার পাশে সজোরে পা ঠুকল ও। কুকুরটা তড়িঘড়ি উঠে দৌড় দিল সিঁড়ির দিকে। বাকিগুলোও ছুটল ওটার পিছু পিছু, খরগোশের পেছনে গ্রেহাউন্ড যেভাবে ছোটে।

ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল প্যামি। ওর পাশে বসে আলো দিয়ে আবার বেসমেন্টটা দেখল স্যাক্স। আনসাবের কোনো চিহ্ন নেই।

‘সব ঠিক হয়ে যাবে, সোনা। শিগগিরই বাড়ি নিয়ে যাব তোমাকে। ঐ লোকটা ছিল এখানে? মনে আছে তাকে?’

মাথা নাড়ল সে।

‘চলে গেছে ও?’

‘জানি না। আমি আমার মাম্মিকে চাই।’

অন্য অফিসারদের কল ইন করতে শুনল সে। দোতলা আর নিচতলা সিকিউরড।

‘গাড়ি আর ট্যাক্সি?’

‘কোনো চিহ্ন?’ জানতে চাইল স্যাক্স।

এক ট্রুপার জানাল, ‘নেই। সম্ভবত ভেগেছে।’

অ্যামেলিয়া, ও এখানে নেই। যুক্তিতে খাটে না।

সিঁড়ির উপর থেকে এক অফিসার ডাকল, ‘বেসমেন্ট কি সিকিউর?’

‘চেক করছি। দাঁড়ান।’

‘নামছি আমরা।’

‘না,’ বলল সে। ‘ক্রাইম সিনটা বেশ পরিষ্কার আছে এবং আমি ওভাবেই রাখতে চাই। শুধু একজন মেডিককে পাঠান বাচ্চাটাকে দেখার জন্য।’

বালুরঙা চুলের এক তরুণ মেডিক সিঁড়ি দিয়ে নেমে প্যামির পাশে বসল।

ঠিক তখনই বেসমেন্টের পেছনের দিকে চলে যাওয়া একটা দাগ দেখতে পেল স্যাক্স—নিচু, কালো রঙের একটা মেটাল দরজার দিকে গেছে ওটা। ওটার দিকে এগিয়ে গেল সে, পায়ের ছাপ বাঁচানোর জন্য ট্রেইলটা এড়িয়ে চলল, তারপর উবু হয়ে বসল। দরজাটা আংশিক খোলা এবং মনে হলো ওপাশে একটা সুড়ঙ্গ আছে। অন্ধকার কিন্তু মিশমিশে কালো নয়, পাশের আরেকটা দালানের দিকে গেছে। পালানোর রাস্তা। শয়তানের বাচ্চা।

বাঁ হাতের গাঁট দিয়ে দরজাটা আরো একটু ঠেলল সে। ক্যাঁচক্যাঁচ করল না ওটা। সুড়ঙ্গের ভেতর উঁকি দিল সে। আবছা আলো, কুড়ি-তিরিশ ফুট দূরে। কোনো ছায়া নড়ছে না।

আবছা আলো শেষ কী দেখেছে, মনে পড়ল তার।

কালো পাইপ থেকে ঝুলতে থাকা টি.জে.-র দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া শরীর। মনেল গ্যারগারের থলথলে শিথিল দেহ, যার গলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কালো ইঁদুরটা।

‘পোর্টেবল ৫৮৮৫ বলছি,’ মাইকে বলল স্যাক্স।

‘বলো,’ হাউম্যানের যান্ত্রিক গলা জবাব দিল।

‘আনসাবের পাশের বিল্ডিংয়ের দিকে যাওয়ার একটা সুড়ঙ্গ পেয়েছি। কাউকে বলুন দরজা-জানালাগুলো কাভার করতে।’

‘ঠিক আছে।’

‘আমি ভেতরে যাচ্ছি,’ তাকে জানাল সে।

‘সুড়ঙ্গে? ব্যাকআপ পাঠাচ্ছি।’

‘না। সিন নষ্ট করতে চাই না। শুধু কাউকে বলুন বাচ্চাটার দিকে নজর রাখতে।’

‘কী বললে আবার বলো।’

‘কোনো ব্যাকআপ লাগবে না।’

আলো নিভিয়ে হামাগুড়ি দিতে শুরু করল সে। অ্যাকাডেমিতে সুড়ঙ্গের ইঁদুর হওয়ার কোনো কোর্স ছিল না অবশ্যই। কিন্তু প্রতিকূল সিন আয়ত্তে আনার ব্যাপারে নিক যা বলেছিল তা মনে পড়ে গেল তার। অস্ত্র শরীরের কাছে রাখতে হবে। বেশি দূরে নয়, কেউ বাড়ি মেরে ফেলে দিতে পারে। তিন কদম আগানো, মানে হেঁচড়ানো। তারপর থামা। শোনা। আরো দুই কদম। থামা। শোনা। পরের বার চার কদম। এমন কিছু করবে না যা আগে থেকে বোঝা যায়।

উফ, কী অন্ধকার। আর গন্ধটা কীসের? উৎকট গরম আর পচা গন্ধে গা গুলিয়ে এল ওর। তেলতেলে ধোঁয়ার মতো বদ্ধ স্থানের ভয় ছেঁকে ধরল ওকে। মুহূর্তের জন্য থামা লাগল। দেয়াল বাদে অন্য কিছুতে মন দিতে হবে। আতঙ্কটা কেটে গেল আস্তে আস্তে। কিন্তু গন্ধটা আরো তীব্র হলো। ওয়াক করে উঠল স্যাক্স।

শান্ত হও, মেয়ে। শান্ত!

বমি সামলে এগিয়ে চলল সে। আর ওটা কীসের শব্দ? ইলেকট্রিক কিছু। একটা ভোঁ-ভোঁ শব্দ। বাড়ছে আর কমছে।

সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত থেকে দশ ফুট দূরে। দরজার ভেতর দিয়ে আরেকটা বড় বেসমেন্ট দেখতে পেল সে। ধোঁয়াশাচ্ছন্ন, তবে প্যামি যেখানে ছিল অতটা অন্ধকার নয়। তেল চিটচিটে জানালা দিয়ে আলো চুইয়ে পড়ছে। অন্ধকারে ধূলিকণা উড়তে দেখল সে।

না, না, বন্দুকটা বেশি সামনে চলে গেছে। এক লাথিতেই হাতছাড়া হবে। মুখের কাছে রাখো। শরীরের ভার নিচে আর পেছনে রাখো!

নিশানা করার জন্য হাত ব্যবহার করো, সাপোর্টের জন্য পশ্চাদ্দেশ। દરজার কাছে পৌঁছে গেল সে। ওয়াক করে উঠল আরেকবার, শব্দটা চাপার চেষ্টা করল। সে কি অপেক্ষা করছে আমার জন্য?

মাথা বের করো, চটজলদি দেখে নাও। হেলমেট আছে তোমার। ফুল-মেটাল বা টেফলন ছাড়া যেকোনো গুলি ঠেকিয়ে দেবে। আর সে পয়েন্ট থ্রি-টু চালাচ্ছে। মেয়েলি বন্দুক।

ঠিক আছে। ভাবো। কোন দিকে তাকাবে আগে? পেট্রোলম্যানস গাইডে এর কোনো সমাধান নেই, আর নিকও এই মুহূর্তে কোনো পরামর্শ দিচ্ছে না। টস করো।

বাম।

চট করে মাথা বের করল সে, বাঁ দিকে তাকাল। সুড়ঙ্গের দিকেই। কিছু দেখল না সে। ফাঁকা দেয়াল, ছায়া। যদি অন্য দিকে থাকে, তবে আমাকে দেখে ফেলেছে আর ভালো পজিশনে আছে। ধুর বাল। যাও তো। দ্রুত। নড়াচড়ার উপর থাকলে…

লাফ দিল স্যাক্স।

…ওরা তোমায় ধরতে পারবে না। ও গড়াতে গড়াতে আছড়ে পড়ল মাটিতে। ঘুরে তাকাল।

ডান দিকের দেয়াল ঘেঁষে ছায়ার মধ্যে জানালার নিচে লুকিয়ে আছে মূর্তিটা। টার্গেট ঠিক করে গুলি করতে যাচ্ছিল সে। কিন্তু জায়গায় জমে গেল। আঁতকে উঠল অ্যামেলিয়া স্যাক্স।

হায় খোদা…

তার চোখদুটো আঠার মতো আটকে রইল মহিলার শরীরের উপর। দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে রাখা আছে দেহটা। কোমর থেকে উপরের অংশটা রোগা, গাঢ় বাদামি চুল, ভেঙে পড়া গাল, ছোট স্তন, হাড্ডিসার হাত। মাছি ভনভন করছে চামড়ার উপর-এই শব্দটাই শুনেছিল স্যাক্স। কোমরের নিচে… আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তার। রক্তাক্ত হিপ বোন, ফিমার, মেরুদণ্ডের চাবুক, পায়ের পাতা…সব মাংস গলে মিশে গেছে সেই জঘন্য তরলে। ওটার ঠিক পাশেই বসে আছে সে—গভীর বাদামি রঙের ঘন একটা ঝোল, তাতে মাংসের টুকরো ভাসছে। লাই বা কোনো অ্যাসিড। ঝাঁঝালো গন্ধে চোখ জ্বালা করে উঠল স্যাক্সের। আতঙ্ক জাগল মনে—আর সেই সাথে প্রবল রাগ—টগবগ করে ফুটতে শুরু করল বুকে।

আহারে বেচারি…

নতুন করে হানা দেওয়া মাছিগুলোকে অকারণেই তাড়ানোর চেষ্টা করল সে। মহিলার হাতদুটো শিথিল, তালু উপরের দিকে। গভীর ধ্যানে মগ্ন যেন। চোখ বন্ধ। পাশে পড়ে আছে একটা বেগুনি জগার্স আউটফিট।

একমাত্র ভিকটিম নয় সে। আরেকটা কঙ্কাল দেখা যাচ্ছে। পুরোপুরি মাংসহীন। আরেকটা একই রকম গামলার পাশে পড়ে আছে। ওটা পুরোনো, অ্যাসিড নেই ওতে, কিন্তু রক্ত আর গলে যাওয়া পেশির কালো কাদায় মাখামাখি। কঙ্কালটার সামনের হাত আর পাঞ্জা নেই।

তার ওপাশে আরেকটা লাশ। এই ভিকটিমকে আলাদা করা হয়েছে, হাড়গুলো সযত্নে ঘষে মাংস তোলা হয়েছে, তারপর পরিষ্কার করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মেঝের উপর। খুলির পাশে রাখা একগাদা ট্রিপল-অট শিরিষ কাগজ। মাথার মার্জিত বাঁকটা ট্রফির মতো চকচক করছে।

আর তখনই নিজের পেছনে শব্দটা শুনতে পেল সে। একটা নিঃশ্বাস। ক্ষীণ কিন্তু স্পষ্ট। গলার গভীরে বাতাস চলার শব্দ।

ঘুরে দাঁড়াল সে, নিজের অসাবধানতার জন্য নিজের উপরই ক্ষিপ্ত। কিন্তু বেসমেন্টের শূন্যতা হাঁ করে তাকিয়ে রইল তার দিকে। মেঝের উপর আলো ফেলল সে, পাথরের মেঝে হওয়ায় পাশের বাড়ির মাটির মেঝের মতো পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে না।

আবার শ্বাস নেওয়ার শব্দ। কোথায় সে? কোথায়?

আরো নিচু হলো স্যাক্স, আলোটা ফেলল ডানে-বাঁয়ে, উপরে-নিচে…কিছু নেই। কোথায় শয়তানটা? অন্য কোনো সুড়ঙ্গে? রাস্তায় যাওয়ার পথ আছে নাকি?

আবার মেঝের দিকে তাকিয়ে আবছা একটা দাগ দেখতে পেল সে, ঘরের অন্ধকারের দিকে গেছে। পাশাপাশি এগোতে লাগল সে। থামছে। শুনছে। শ্বাস নিচ্ছে কেউ? হ্যাঁ। না।

বোকামি করে আবার ঘুরে মৃত মহিলাটার দিকে তাকাল সে। কী করো এগুলো! নিজেকেই ধমক দিয়ে আবার চোখ ফেরাল। মেঝের উপর দিয়ে এগোচ্ছে। কিছু নেই। দেখছি না, অথচ শুনছি কেন? হয়।

সামনের দেয়ালটা নিরেট। দরজা-জানালা নেই। পেছাল সে, কঙ্কালগুলোর দিকে। কোথাও থেকে যেন লিংকন রাইমের কথাগুলো ফিরে এল। ক্রাইম সিন ত্রিমাত্রিক।

হঠাৎ উপরে তাকাল স্যাক্স, আলো ফেলল সামনে। বিশাল ডোবারম্যানের দাঁতগুলো ঝিলিক দিয়ে উঠল, ধূসর মাংসের টুকরো লেগে আছে ওতে। দুই ফুট দূরে এক উঁচু কার্নিশের উপর আছে জন্তুটা। বনবিড়ালের মতো অপেক্ষা করছিল সে তার জন্য।

মুহূর্তের জন্য নড়ল না কেউই। একদম জমে গেছে।

তারপর নিজের অজান্তেই মাথা নামিয়ে নিল স্যাক্স এবং অস্ত্র তোলার আগেই তার মুখের দিকে ঝাঁপ দিল কুকুরটা। হেলমেটে গিয়ে লাগল দাঁত। ওটা স্ট্র্যাপ কামড়ে ধরে ঝাঁকাতে লাগল পাগলের মতো, ঘাড় মটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দুজনেই পড়ে গেল পেছনে, অ্যাসিডভরা বোলের কিনারায়। হাত থেকে ছিটকে গেল পিস্তলটা। হেলমেট কামড়ে ধরে রাখল কুকুরটা, পেছনের পা দিয়ে আঁচড়াচ্ছে, নখগুলো বিধছে স্যাক্সের ভেস্ট, পেট আর উরুতে। घुসি মারল সে। মনে হলো কাঠে মারছে; আঘাতে পাত্তাই দিল না ওটা।

হেলমেট ছেড়ে দিয়ে পিছিয়ে গেল ওটা, তারপর আবার ঝাঁপ দিল মুখের দিকে। বাঁ হাতটা চোখের সামনে তুলে ধরল সে। ওটা হাতের উপর কামড় বসাতেই চামড়া ভেদ করে দাঁত বসে যাওয়ার ব্যথাটা টের পেল। মুহূর্তের মধ্যেই পকেট থেকে সুইচব্লেডটা বের করে ওটার পাঁজরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল সে।

কুঁইক করে একটা শব্দ হলো। গড়িয়ে সরে গেল ওটা, সোজা দরজার দিকে ছুটল।

পিস্তলটা কুড়িয়ে নিয়ে নিমেষেই ওটার পিছু নিল স্যাক্স, হামাগুড়ি দিয়ে টানেল পার হলো। বাইরে বেরিয়েই দেখল জখম পশুটা সোজা প্যামি আর সেই মেডিকের দিকে ছুটছে, যারা ডোবারম্যানটাকে শূন্যে লাফাতে দেখে জমে গেছে।

উবু হয়ে বসে দুটো গুলি করল স্যাক্স। একটা লাগল পশুর মাথার পেছনে, অন্যটা ইটের দেয়ালে গিয়ে বিঁধল। মেডিকের পায়ের কাছে কাঁপতে কাঁপতে লুটিয়ে পড়ল কুকুরটা।

‘শটস ফায়ারড!’ রেডিওতে শুনতে পেল সে। আর জনা ছয়েক ট্রুপার সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল, কুকুরটাকে সরিয়ে দিয়ে পজিশন নিল মেয়েটাকে ঘিরে।

‘সব ঠিক আছে!’ চিৎকার করে বলল স্যাক্স। ‘আমি ছিলাম!’

ডিফেন্সিভ পজিশন থেকে উঠে দাঁড়াল টিম।

প্যামি চিৎকার করছে, ‘কুকুরটা মরে গেছে…ও কুকুরটাকে মেরে ফেলেছে!’

অস্ত্র হোলস্টারে রেখে মেয়েটাকে কোলে তুলে নিল স্যাক্স।

‘মাম্মি!’

‘শিগগিরই মাম্মিকে দেখতে পাবে,’ স্যাক্স বলল। ‘আমরা এখনই ফোন করছি।’

উপরে প্যামিকে মেঝেতে নামিয়ে দিয়ে কাছেই দাঁড়ানো এক তরুণ ইএসইউ অফিসারকে বলল, ‘আমার হ্যান্ডকাফের চাবিটা হারিয়ে গেছে। ওগুলো একটু খুলে দেবেন, প্লিজ? একটা পরিষ্কার খবরের কাগজের উপর খুলবেন, তারপর কাগজে মুড়িয়ে পুরোটা একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখবেন।’

চোখ পাকিয়ে তাকাল অফিসার। ‘শোনো, সুন্দরী, হুকুম করার জন্য অন্য কোনো নবিশকে খুঁজে নাও।’ চলে যেতে উদ্যত হলো সে।

‘ট্রুপার!’ ধমকে উঠলেন বো হাউম্যান। ‘উনি যা বলছেন তাই করো।’

‘স্যার,’ প্রতিবাদ করল সে, ‘আমি ইএসইউ।’

‘এখন তুমি ক্রাইম সিনে আছ,’ বিড়বিড় করল স্যাক্স। ‘আর আমার অধীনে।’

বেইজ রঙের এক শোবার ঘরে চিত হয়ে শুয়ে আছে ক্যারল গ্যানজ, সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছে কয়েক সপ্তাহ আগের কথা। যখন ও, প্যামি আর একগাদা বন্ধু মিলে উইসকনসিনে কেট আর এডির বাড়িতে ক্যাম্পফায়ারের চারপাশে বসে ছিল, গল্প করছিল, গান গাইছিল। কেটের গলা খুব একটা ভালো না হলেও এডি গাইতে পারত। বারে কর্ডও বাজাতে পারত গিটারে। ও শুধু তার জন্যই ক্যারল কিংয়ের ‘ট্যাপেস্ট্রি’ গেয়েছিল। চোখের পানি লুকাতে লুকাতে সাথে গেয়েছিল ক্যারল। ভেবেছিল হয়তো, সত্যিই হয়তো, রনের মৃত্যুকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছে সে।

সেদিনের রাতে কেটের বলা কথাটা মনে পড়ে গেল: ‘যখন রাগ হবে, তখন সেটা সামলানোর একটাই উপায়, রাগটাকে প্যাকেট করে অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া। বুঝেছ? ভেতরে চেপে রাখবে না। কাউকে দিয়ে দেবে।’

এখন খুব রাগ হচ্ছে তার। প্রচণ্ড রাগ। কোনো এক অল্পবয়সি ছেলে—মগজহীন এক বিচ্ছু—তার স্বামীকে কেড়ে নিয়েছে, পিঠে গুলি করে। আর এখন এক পাগল তার মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে। ফেটে পড়তে ইচ্ছা করছে তার। দেয়ালের দিকে জিনিসপত্র ছুঁড়ে মারা আর নেকড়ের মতো চিৎকার করা থেকে নিজেকে আটকাতে সমস্ত ইচ্ছাশক্তি খরচ করতে হচ্ছে তাকে।

বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে সাবধানে ভাঙা কবজিটা পেটের উপর রাখল সে। ডেমেরল নিয়েছে, ব্যথাটা কমেছে, কিন্তু ঘুমাতে পারছে না। সারা দিন ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। কেট আর এডির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে আর প্যামির খবরের জন্য অপেক্ষা করেছে। বারবার রনের কথা ভাবছে, রাগের কথা ভাবছে। সত্যিই কল্পনা করছে যে ওটাকে একটা বাক্সে ভরছে, যত্ন করে মুড়ছে, সিল করছে…

হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। মুহূর্তের জন্য তাকিয়ে রইল সে, তারপর ছোঁ মেরে তুলে নিল রিসিভার। ‘হ্যালো?’

পুলিশের মেয়েটা যখন বলল ওরা প্যামিকে খুঁজে পেয়েছে, ও হাসপাতালে আছে কিন্তু ঠিক আছে, সব চুপ করে শুনল ক্যারল। একটু পরে প্যামি নিজেই ফোনে করল যখন, আর সামলাতে পারল না। দুজনেই একসাথে হাসতে আর কাঁদতে লাগল ওরা।

দশ মিনিট পরে কালো এক পুলিশ সেডানের পেছনের সিটে বসে ম্যানহাটন হাসপাতালের দিকে ছুটল সে। করিডর দিয়ে প্রায় দৌড়ে প্যামির রুমের দিকে গেল ক্যারল, পুলিশ গার্ড তাকে থামানোয় অবাক হলো।

তার মানে হারামিটাকে এখনো ধরেনি ওরা? মেয়েকে দেখার সাথে সাথেই অবশ্য ভুলে গেল তার কথা, ভুলে গেল ট্যাক্সির সেই আতঙ্ক আর আগুনতপ্ত বেসমেন্ট। মেয়েকে জড়িয়ে ধরল সে।

‘মা আমার, কত মিস করেছি তোমাকে! ঠিক আছ তো? সত্যিই ঠিক আছ?’

‘ঐ মহিলা, ও কুকুরটাকে মেরে ফেলেছে-‘

ঘুরে তাকিয়ে লম্বা, লালচুলো পুলিশ মেয়েটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল ক্যারল। ও-ই চার্চের বেসমেন্ট থেকে বাঁচিয়েছিল তাকে।

‘-কিন্তু ঠিকই আছে কারণ ওটা আমাকে খেয়ে ফেলত।’

স্যাক্সকে জড়িয়ে ধরল ক্যারল। ‘কী বলব জানি না… আমি শুধু…ধন্যবাদ, ধন্যবাদ!’

‘প্যামি ভালো আছে,’ আশ্বস্ত করল স্যাক্স। ‘কিছু আঁচড় লেগেছে—সিরিয়াস কিছু না। আর একটু কাশি আছে।’

‘মিসেস গ্যানজ?’

এক যুবক ঘরে ঢুকল, হাতে তার স্যুটকেস আর হলুদ ন্যাপস্যাক। ‘আমি ডিটেকティブ ব্যাংকস। আপনার জিনিসপত্র নিয়ে এসেছি।’

‘ওহ, থ্যাংক গড।’

‘কিছু কি খোয়া গেছে?’ জানতে চাইল সে।

ন্যাপস্যাকটা ভালো করে দেখল সে। সব আছে। টাকা, প্যামির পুতুল, মাটির প্যাকেট, মিস্টার পটেটো হেড, সিডিগুলো, ক্লক রেডিও… কিছুই নেয়নি সে।

‘দাঁড়ান…মনে হচ্ছে একটা ছবি নেই। নিশ্চিত নই। মনে হয়েছিল এর চেয়ে বেশি ছবি ছিল। তবে দরকারি সবকিছুই আছে।’

সই করার জন্য একটা রসিদ দিল ডিটেকটিভ।

এক তরুণ ডাক্তার ঘরে ঢুকল। প্যামির প্রেসার মাপার সময় ওর পুহ বিয়ার নিয়ে রসিকতা করল সে।

ক্যারল জিজ্ঞেস করল, ‘কবে ছাড়া পাবে ও?’

‘আসলে, আমরা দিন দুয়েক রাখতে চাইছি। নিশ্চিত হওয়ার জন্য-‘

‘দিন দুয়েক? কিন্তু ও তো ভালোই আছে।’

‘ব্রংকাইটিসের ভাব আছে একটু, নজরে রাখতে চাই। আর…’ গলা নামাল সে। ‘একজন অ্যাবিউজ স্পেশালিস্টকেও ডাকব আমরা। শুধু নিশ্চিত হওয়ার জন্য।’

‘কিন্তু কাল ও আমার সাথে যেত। ইউএন-এর অনুষ্ঠানে। কথা দিয়েছিলাম।’

পুলিশের মেয়েটা যোগ করল, ‘এখানে ও পাহারায় থাকবে, সেটাই ভালো। আমরা জানি না আনসাব, মানে কিডন্যাপার কোথায় আছে। আপনার জন্যও পাহারার ব্যবস্থা থাকবে।’

‘আচ্ছা, তাই হবে। ওর সাথে কি কিছুক্ষণ থাকতে পারি?’

‘নিশ্চয়ই। রাতটা থাকতে পারেন। একটা খাটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’

মেয়ের সাথে আবার একা হলো ক্যারল। বিছানায় বসে বাচ্চার সরু কাঁধে হাত রাখল সে।

বাজে একটা মুহূর্ত মনে পড়ল। ঐ পাগল লোকটা কী জঘন্য ভঙ্গীতে ছুঁয়ে দেখছিল প্যামিকে। ক্যারলের চামড়া কেটে ফেলার অনুমতি চাওয়ার সময়ে পিশাচটার চোখের দৃষ্টি… শিউরে উঠে কাঁদতে শুরু করল ক্যারল।

প্যামিই তাকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনল। ‘মাম্মি, একটা গল্প বলো…না, না, গান শোনাও। “বন্ধু” গানটা। প্লিজ?’

শান্ত হয়ে ক্যারল জিজ্ঞেস করল, ‘ওটা গাইব?’

‘হ্যাঁ!’

মেয়েকে কোলে তুলে নিল ক্যারল, আর সরু গলায় গাইতে শুরু করল ‘ইউ হ্যাভ গট আ ফ্রেন্ড’। ওর সাথে সাথে গাইল প্যামি। রনের খুব প্রিয় গান ছিল এটা। গত দুবছরে, সে চলে যাওয়ার পর, কান্নায় ভেঙে না পড়ে কয়েক লাইনের বেশি শুনতে পারত না সে। আজ প্যামির সাথে পুরোটা শেষ করল সে, সুর ঠিক রেখেই, শুকনো চোখে আর হাসতে হাসতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *