১. এক দিনের রাজা
২. লোকার্ডের নীতি
৩. দ্য পোর্টেবলস ডটার
8. ডাউন টু দ্য বোন
৫. নড়াচড়ার উপর থাকলে ওরা তোমায় ধরতে পারবে না

দ্য বোন কালেক্টর – ১৪

অধ্যায় চৌদ্দ

ডাউনটাউন ম্যানহাটননের অনেক উঁচু থেকে জার্সির উপর চোখ রাখলে অফিসটা নজরে পড়ে। বাতাসের নোংরা ধূলিকণার কারণেই বোধহয় এত অপূর্ব লাগে সূর্যাস্তটা।

‘আমাদের করতেই হবে।’

‘সেটা ঠিক হবে না।’

‘করতেই হবে।’ নিজের সিদ্ধান্তে অটল ফ্রেড ডেলরে। কফিতে চুমুক দিল সে। যে রেস্তোরাঁয় টিকটিকিটার সাথে বসে ছিল, তার চেয়েও জঘন্য স্বাদ কফিটার। ‘কেসটা ওদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে হবে। ওরা মেনে নেবে।’

‘এটা স্থানীয় কেস,’ জবাব দিল ম্যানহাটন অফিসের এফবিআই অ্যাসিস্ট্যান্ট স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ। খুব খুঁতখুঁতে স্বভাবের লোক এই এএসএসি, আন্ডারকাভার কাজ তার ধাতে সইবে না। ঠাঁটে-বাটে এমনিই বোঝা যায় যে সে এফবিআই এজেন্ট।

‘এটা স্থানীয় কেস নয়। ওরা তাই ভাবছে অবশ্য। কিন্তু এটা অনেক বড় কেস।’

‘ইউএন-এর ঝামেলার কারণে আমাদের আশিজন লোক কম আছে।’

‘আর এটার সাথে ঐ ঘটনার যোগসূত্র আছে,’ ডেলরে বলল। ‘আমি নিশ্চিত।’

‘তাহলে ইউএন সিকিউরিটিকে জানানো দরকার। সবাইকে…’

‘ইউএন সিকিউরিটি? ওতে আরো হিতে বিপরীত হবে না? বিলি, ছবিটা দেখেছ? আজ সকালের সিনের? মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে থাকা হাত, আর আঙুলের চামড়া চেঁছে ফেলা? ওটা একটা অসুস্থ জানোয়ারের কাজ।’

‘এনওয়াইপিডি আমাদের সব জানাচ্ছে,’ বুদ্ধিদীপ্ত ভঙ্গিতে বলল এএসএসি। ‘দরকার হলে বিহেভিওরাল ইউনিট তৈরি আছে।’

‘ওহ, জিসাস ক্রাইস্ট। বিহেভিওরাল তৈরি আছে? বিলি, আমাদের ঐ খুনিটাকে ধরতে হবে। ওর মগজের টিকটিক শব্দ শোনার সময় নেই।’

‘তোমার ইনফর্মার কী বলেছে বলো তো আরেকবার।’

পাথরে ফাটল দেখলে ডেলরে ঠিকই চিনে নিতে পারে। ফাটলটা আর জোড়া লাগতে দেবে না সে। গড়গড় করে বলে গেল এবার: নোংরা ইনফর্মার, জোহানেসবার্গ বা মনরোভিয়ায় থাকা জ্যাকি আর অবৈধ অস্ত্রের বাজারে ছড়িয়ে পড়া সেই ফিসফিসানির গল্প—এই সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক এয়ারপোর্টে বড় কোনো ঘটনা ঘটতে চলেছে, তাই সাবধানে থাকতে হবে।

‘এটা সেই লোক,’ ডেলরে বলল। ‘হতেই হবে।’

‘এনওয়াইপিডি একটা টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে।’

‘অ্যান্টি-টেরর নয়। আমি খোঁজ নিয়েছি। ওখানকার কেউ এ ব্যাপারে কিছু জানে না। এনওয়াইপিডি-র কাছে মৃত ট্যুরিস্ট মানেই “নাম খারাপ”। আমি এই কেসটা চাই, বিলি।’

এরপর ফ্রেড ডেলরে এমন একটা শব্দ উচ্চারণ করল যা তার আট বছরের আন্ডারকাভার জীবনে কখনো করেনি। ‘প্লিজ।’

‘কোন যুক্তিতে চাইছ?’

‘ফালতু প্রশ্ন করো কেন!’ তর্জনী উঁচিয়ে ধমকে দিল ডেলরে, যেন স্কুলের ছাত্রকে শাসন করছে। ‘আমাদের হাতে চকচকে নতুন অ্যান্টি-টেররিজম বিল আছে। তাতেও যদি না কুলোয়, জুরিসডিকশন চাইছ? দেবো জুরিসডিকশন। পোর্ট অথরিটি ফেলোনি। কিডন্যাপিং। আমি নিশ্চিত ঐ হারামি ট্যাক্সি চালাচ্ছে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে প্রভাব ফেলার জন্য। আমাদের এসব খেলায় নামা যাবে না, তাই না, বিলি?’

‘তুমি আমার কথা শুনছ না, ডেলরে। ইউ.এস. কোড আমি ঘুমের মধ্যেও গড়গড় করে বলে দিতে পারি। শুধু জানতে চাইছি আমরা যদি কেসটা নেই, তবে পাবলিককে কী বলব আর সবাইকে খুশি রাখব কীভাবে। কারণ মনে রেখো, এই আনসাবকে ধরার পরেও এনওয়াইপিডি-র সাথে আমাদের কাজ করতে হবে। ওদের লোকের সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য আমার লোককে পাঠাব না। লন সেলিট্টো কেসটা চালাচ্ছে, আর সে ভালো লোক।’

‘একজন লেফটেন্যান্ট?’ নাক সিটকাল ডেলরে। কানের আড়াল থেকে সিগারেটটা টেনে বের করে নাকের নিচে ধরল সে।

‘জিম পোলিং দায়িত্বে আছে।’

মেকি আঁতকে ওঠার ভান করল ডেলরে। ‘পোলিং? ছোটখাটো হিটলার? আসামিকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করতে চায় যেই লোক?’

এর কোনো জবাব নেই এএসএসির কাছে। সে বলল, ‘সেলিট্টো ভালো। কাজের লোক। দুটো অর্গানাইজড ক্রাইম টাস্ক ফোর্সে ওর সাথে কাজ করেছি আমি।’

‘ঐ আনসাব সমানে মানুষ তুলে নিয়ে যাচ্ছে আর এই বান্দা বাজি ধরে বলতে পারে যে সে হাত পাকাচ্ছে।’

‘মানে?’

‘শহরে সিনেটর আছে। কংগ্রেসম্যান আছে, রাষ্ট্রপ্রধানরা আছে। আমার মনে হয় এখনকার কিডন্যাপিংগুলো শুধুই প্র্যাকটিসের জন্য।’

‘তুমি কি বিহেভিওরাল ইউনিটের সাথে কথা বলেছ আর আমাকে জানাওনি?’

‘এটা আমার ধারণা।’ সরু নাকে হাত বোলাল ডেলরে।

গাল ফুলিয়ে শ্বাস ছাড়ল ক্লিন-শেভড ফেডারেল এজেন্ট। ‘ইনফর্মারটা কে?’

নোংরা লোকটাকে কনফিডেন্সিয়াল ইনফর্মার ভাবতে কষ্ট হলো ডেলরের, ড্যাশিয়েল হ্যামেটের উপন্যাসের চরিত্রের মতো শোনাল নামটা। বেশিরভাগ সিআই হলো কঙ্কালসার আর ধান্দাবাজ। নোংরা টিকটিকটাও তাই অবশ্য।

‘ও একটা নর্দমার কীট,’ স্বীকার করল ডেলরে। ‘কিন্তু জ্যাকি, মানে যার কাছ থেকে ও শুনেছে, সে সলিড মাল।’

‘আমি জানি তুমি এটা চাইছ, ফ্রেড। আমি বুঝি,’ সহানুভূতির সাথেই বলল এএসএসি। কারণ ডেলরের এই চাওয়ার পেছনের কারণটা তার জানা।

এমনকি ব্রুকলিনের সেই ছোটবেলায়ও পুলিশ হতে চেয়েছিল ডেলরে। কী ধরনের পুলিশ হবে তা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না তার, চব্বিশ ঘণ্টা ডিউটি করলেই হলো। কিন্তু ব্যুরোতে যোগ দেওয়ার পরপরই নিজের পথ খুঁজে পেয়েছিল সে—আন্ডারকাভার কাজ।

তার সোজাসাপটা পার্টনার আর অভিভাবক টবি ডুলিটলের সাথে মিলে প্রচুর আসামিকে দীর্ঘদিনের জন্য জেলে পাঠিয়েছিল ডেলরে—সাজার মেয়াদ যোগ করলে হাজার বছরের কাছাকাছি হবে। (‘ওরা আমাদের মিলেনিয়াম টিম ডাকতে পারে, টবি-ও,’ একবার পার্টনারকে বলেছিল সে।) ডেলরের সাফল্যের চাবিকাঠি ছিল তার ডাকনাম: ‘বহুরূপী’।

একবার হার্লেমের ক্র্যাক হাউজে এক মগজহীন নেশাখোর সেজেছিল সে, চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে বনে গিয়েছিল পানামা কনস্যুলেটের ডিনারের দুর্বোধ্য অ্যাকসেন্টওয়ালা হাইতিয়ান কূটনীতিক। মাঝেমধ্যেই ওদের এটিএফ বা ডিইএ এবং কখনো কখনো সিটি পুলিশের কাছে ধারে দেওয়া হতো। ড্রাগ আর বন্দুক ছিল ওদের বিশেষত্ব, সাথে চোরাই মালের কারবারেও হাত পাকিয়েছিল ওরা।

আন্ডারকাভার কাজের কালো দিক হলো, যত ভালো কাজ করবে, তত দ্রুত অবসর নিতে হবে। খবর ছড়িয়ে পড়ে আর বড় বড় রাঘববোয়ালদের বোকা বানানো কঠিন হয়ে পড়ে। ডুলিটল আর ডেলরে দেখল মাঠে কাজ করার চেয়ে ইনফর্মার আর অন্য আন্ডারকাভার এজেন্টদের হ্যান্ডলার হিসেবেই বেশি কাজ করছে তারা। এটা ডেলরের প্রথম পছন্দ ছিল না। রাস্তার উত্তেজনার মতো আর কিছুই টানত না তাকে। তবু ব্যুরোর বেশিরভাগ স্পেশাল এজেন্টের চেয়ে বেশিই অফিসের বাইরে থাকার সুযোগ পেত সে। বদলির কথা কখনো মাথায় আসেনি তার।

দুই বছর আগের সেই দিনটার আগ পর্যন্ত আর কি। নিউ ইয়র্কের এক উষ্ণ এপ্রিলের সকাল। লা গার্দিয়া থেকে প্লেন ধরার জন্য অফিস থেকে বেরোতে যাচ্ছিল ডেলরে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন থেকে ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ফোন করলেন। এফবিআই-তে পদমর্যাদার কড়াকড়ি খুব বেশি, তাই বড়কর্তা কেন ফোন করেছেন তা ভেবেই পেল না ডেলরে। অবশেষে এডির গম্ভীর গলা খবর দিল যে টবি ডুলিটল ম্যানহাটনের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউ.এস. অ্যাটর্নির সাথে ওকলাহোমা সিটি ফেডারেল বিল্ডিংয়ের নিচতলায় ছিল। জবানবন্দি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা, যার জন্য ডেলরেরও রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল।

পরদিন তাদের লাশ বিমানে করে নিউ ইয়র্কে ফিরিয়ে আনা হয়। আর সেদিনই ডেলরে তার প্রথম আরএফটি-২২৩০ ফর্ম জমা দিয়েছিল, ব্যুরোর অ্যান্টি-টেরর ডিভিশনে বদলি হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে।

ফ্রেড ডেলরের কাছে ঐ বোমা হামলা ছিল অপরাধের চূড়ান্ত সীমা; যে কিনা কেউ না দেখলে রাজনীতি আর দর্শনের বই গোগ্রাসে গিলত। সে বিশ্বাস করত লোভ বা কামনার মধ্যে অনামেরিকান কিছু নেই—আরে, ওয়াল স্ট্রিট থেকে ক্যাপিটল হিল পর্যন্ত সব জায়গাতেই ওসবকে উসকে দেওয়া হয়। আর যারা লোভের ব্যবসা করতে গিয়ে আইনের সীমা লঙ্ঘন করে, তাদের ধরপাকড় করতে ভালোই লাগত ডেলরের। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল না তাতে।

কিন্তু বিশ্বাসের কারণে মানুষ খুন করা…না, কী বিশ্বাস করে তা জানার আগেই শিশুদের খুন করা—মাই গড, ওটা তো রীতিমতো দেশের হৃৎপিণ্ডে ছুরিকাঘাত।

টবির শেষকৃত্যের পর ব্রুকলিনের দুই কামরার অনাড়ম্বর ফ্ল্যাটে বসে ডেলরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধেই লড়তে চায় সে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বহুরূপীর সুনাম তার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। ব্যুরোর সেরা আন্ডারকাভার এজেন্ট এখন তাদের সেরা হ্যান্ডলার, ইস্ট কোস্ট জুড়ে এজেন্ট আর ইনফর্মারদের চালাচ্ছে সে। এফবিআই-এর অপেক্ষাকৃত শান্ত কোনো বিভাগে তাকে যেতে দেওয়া বসদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ডেলরে ছিল এক জীবন্ত কিংবদন্তি, ব্যুরোর সাম্প্রতিক কিছু বড় সাফল্যের জন্য এককভাবে দায়ী সে। তাই গভীর দুঃখের সাথেই তার বারবার করা অনুরোধগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এএসএসি এই ইতিহাস ভালো করেই জানত, তাই সে আন্তরিকভাবে বলল, ‘আমি যদি সাহায্য করতে পারতাম, ফ্রেড। আই অ্যাম সরি।’

কিন্তু ডেলরের কানে কথাগুলো শোনাল পাথরের গায়ে ফাটলটা আরেকটু বড় হওয়ার মতো। তাই বহুরূপী তার ঝুড়ি থেকে একটা মুখোশ তুলে নিয়ে বসের দিকে তাকাল। ইশ, যদি তার সেই নকল সোনার দাঁতটা থাকত। স্ট্রিট ম্যান ডেলরে এক জাঁদরেল মাস্তান, যার চাহনি দেখলে পিলে চমকে যায়। তার চাহনিতে স্পষ্ট বার্তা দিল সে: আমি তোমার জন্য করেছি, এবার তুমি আমার জন্য করো।

অবশেষে তোষামুদে এএসএসি আমতা আমতা করে বলল, ‘ব্যাপারটা হলো, আমাদের কিছু একটা লাগবে।’

‘কিছু একটা?’

‘একটা অজুহাত আর কি,’ বলল এএসএসি। এনওয়াইপিডি-র কাছ থেকে কেসটা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো কোনো কারণ নেই, সেটাই বোঝাল সে।

রাজনীতি, রাজনীতি, বালের রাজনীতি সবখানে।

মাথা নামাল ডেলরে। কিন্তু তার পালিশ করা জুতোর মতো বাদামি চোখ এক মিলিমিটারও সরল না এএসএসির উপর থেকে।

‘সে আজ সকালে ঐ ভিকটিমের আঙুলের চামড়া চেঁছে ফেলেছে, বিলি। একদম হাড় পর্যন্ত। তারপর জ্যান্ত কবর দিয়েছে তাকে।’

ঝকঝকে চোয়ালের নিচে ফেডারেল এজেন্টের দুটো পরিচ্ছন্ন হাত একত্র হলো। ধীরে ধীরে বলল এএসএসি, ‘একটা বুদ্ধি আছে। এনওয়াইপিডি-তে এক ডেপুটি কমিশনার আছে। নাম একার্ট। চেনো ഓকে? আমার বন্ধু সে।’

***

স্ট্রেচারের উপর চিত হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা, চোখ বন্ধ, জ্ঞান আছে কিন্তু ঝিমুনি ভাব। এখনো ফ্যাকাশে। হাতে গ্লুকোজের স্যালাইন চলছে। শরীরে পানি ফিরে আসায় কথা বলতে পারছে সে। আশ্চর্যজনক যে শান্তও আছে বেশ।

নরকের দরজার কাছে ফিরে এল স্যাক্স, তাকিয়ে রইল কালো গহ্বরটার দিকে। রেডিও অন করে লিংকন রাইমকে কল দিল সে। এবার উত্তর দিল সে।

‘সন কেমন দেখলে?’ স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করল রাইম।

সংক্ষিপ্ত জবাব দিল সে, ‘ওকে বের করে এনেছি আমরা।’

‘আহ, ভালো। কেমন আছে ও?’

‘ভালো নয়।’

‘কিন্তু বেঁচে আছে, তাই তো?’

‘কোনোমতে।’

‘তুমি ইঁদুরের জন্য রেগে আছ, তাই না, অ্যামেলিয়া?’

কোনো উত্তর দিল না সে।

‘কারণ আমি বো-র লোকদের এখনই ওকে বের করতে দিইনি বলে। আছ তুমি, অ্যামেলিয়া?’

‘আছি।’

‘ক্রাইম সিনের পাঁচটা শত্রু আছে,’ ব্যাখ্যা দিল রাইম। আবারো সেই নিচু, আবেদনময় গলায় কথা বলছে। ‘আবহাওয়া, ভিকটিমের পরিবার, সন্দেহভাজন, আর স্যুভেনির শিকারি। শেষেরটা সবচেয়ে খারাপ। আন্দাজ করো তো সেটা কী?’

‘আপনিই বলুন।’

‘অন্যান্য পুলিশ। আমি যদি ইএসইউ-কে ঢুকতে দিতাম, তবে ওরা সব আলামত নষ্ট করে ফেলত। তুমি এখন জানো কীভাবে সিন সামলাতে হয়। আর বাজি ধরে বলতে পারি তুমি সবকিছু ঠিকঠাক রক্ষা করেছ।’

স্যাক্সের বলা উচিত ছিল, ‘আমার মনে হয় না ও আর কখনো আগের মতো হতে পারবে। ইঁদুরগুলো ওর গায়ের উপর ছিল।’

‘হ্যাঁ, আমি কল্পনা করতে পারছি। ওটাই ওদের স্বভাব।’

ওদের স্বভাব…

‘কিন্তু পাঁচ বা দশ মিনিটে কোনো তফাত হতো না। সে…’

ক্লিক।

রেডিও বন্ধ করে দিল সে, ওয়ালশ নামের মেডিকের দিকে এগিয়ে গেল। ‘আমি ওকে জেরা করতে চাই। বেশি ঝিমুচ্ছে নাকি?’

‘এখনো না। লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছি—কাটা আর কামড়ের দাগ সেলাই করার জন্য। আধঘণ্টা পর ডেমেরল চাইবে হয়তো।’

হেসে ওর পাশে হাঁটু গেড়ে বসল স্যাক্স। ‘হাই, কেমন লাগছে?’

মেয়েটা মোটা, কিন্তু খুব সুন্দরী। মাথা নাড়ল ওর কথা শুনে।

‘তোমাকে কিছু প্রশ্ন করতে পারি?’

‘হ্যাঁ, প্লিজ। আমি চাই আপনারা ওকে ধরুন।’

সেলিট্টো এসে পৌঁছাল, হেলেদুলে এগিয়ে এল ওদের দিকে। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে হাসল সে, মেয়েটা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। ব্যাজ দেখাল সে, যদিও মেয়েটার ওতে কোনো আগ্রহ নেই, পরিচয় দিল নিজের।

‘ঠিক আছেন, মিস?’

কাঁধ ঝাঁকাল মেয়েটা।

ভ্যাপসা গরমে ঘামতে থাকা সেলিটো একপাশে ডাকল স্যাক্সকে। ‘পোলিং এসেছিল?’

‘দেখিনি। হয়তো লিংকনের ওখানে আছে।’

‘না, এইমাত্র ফোন করলাম। ওকে এক্ষুনি সিটি হলে যেতে হবে।’

‘সমস্যাটা কী?’

গলা নামাল সেলিট্টো, তালুর মতো মুখটা কুঁচকে গেল। ‘একটা ঝামেলা হয়েছে। আমাদের ট্রান্সমিশন গোপন থাকার কথা। কিন্তু ঐ ফাজিল রিপোর্টারগুলো, ওদের কারো কাছে নিশ্চয়ই আনক্র্যাম্বলার বা অমন কিছু আছে। ওরা শুনেছে যে আমরা মেয়েটাকে বাঁচাতে সাথে সাথে ভেতরে যাইনি।’

মেয়েটার দিকে মাথা নাড়ল সে।

‘হ্যাঁ, যাইনি তো,’ কর্কশ গলায় বলল স্যাক্স। ‘আমি না পৌঁছানো পর্যন্ত ইএসইউ-কে অপেক্ষা করতে বলেছিল রাইম।’

মুখটা কেমন যেন করল ডিটেকটিভ। ‘ম্যান, আশা করি ওটা ওদের টেপে নেই। ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য পোলিংকে দরকার।’

মেয়েটার দিকে ইশারা করল সে। ‘জেরা করেছ?’

‘না। এই তো করতে যাচ্ছ।’

একটু অনিচ্ছাসত্ত্বেও রেডিও অন করল স্যাক্স, রাইমের জরুরি গলা শুনতে পেল।

‘…আছ তুমি? এই জঘন্য জিনিসটা…’

‘আছি আমি,’ শান্ত গলায় বলল স্যাক্স।

‘কী হয়েছিল?’

‘ইন্টারফিয়ারেন্স ছিল বোধহয়। ভিকটিমের সাথে আছি আমি।’

কথোপকথন শুনে চোখ পিটপিট করল মেয়েটা, হাসল স্যাক্স। ‘নিজের সাথে কথা বলছি না।’ মাইকটা দেখাল সে। ‘পুলিশ হেডকোয়ার্টার। নাম কী তোমার?’

‘মনেল। মনেল গ্যারগার।’ নিজের কামড়ানো হাতের দিকে তাকাল সে, ব্যান্ডেজ তুলে ক্ষতটা দেখল।

‘তাড়াতাড়ি জেরা করো!’ নির্দেশ দিল রাইম। ‘তারপর সিনটা প্রসেস করো।’

মাইক্রোফোনের বোঁটাটা হাত দিয়ে ঢেকে সেলিট্টোকে ফিসফিস করে বলল স্যাক্স, ‘লোকটার হয়ে কাজ করা যন্ত্রণাদায়ক। স্যার।’

‘ওকে একটু সহ্য করে নাও, অফিসার।’

‘অ্যামেলিয়া!’ ধমকে উঠল রাইম। ‘উত্তর দাও!’

‘আমরা জেরা করছি, ঠিক আছে?’ খেঁকিয়ে উঠল সে।

সেলিটো জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছিল বলতে পারবে?’

কথা বলতে শুরু করল মনেল, ছাড়া-ছাড়াভাবে ইস্ট ভিলেজের এক রেসিডেন্স হলের লন্ড্রি রুমে থাকার গল্প বলল। লুকিয়ে ছিল সে, ওর জন্য অপেক্ষা করছিল।

‘কোন রেসিডেন্স হল?’ জানতে চাইল সেলিট্টো।

‘দ্য ডয়েচে হাউজ। মূলত জার্মান প্রবাসী আর ছাত্রদের জন্য বানানো।’

‘তারপর কী হলো?’ সেলিটো জিজ্ঞেস করল।

বিশালদেহী ডিটেকটিভকে রাইমের চেয়ে বেশি কর্কশ আর বদরাগী মনে হলেও দুজনের মধ্যে সে-ই বেশি দয়ালু, ভাবল স্যাক্স।

‘গাড়ির ট্রাংকে ছুঁড়ে ফেলে এখানে নিয়ে এল আমাকে।’

‘দেখতে পেয়েছিলে ওকে?’

চোখ বন্ধ করল মহিলা। আবার প্রশ্নটা করল স্যাক্স এবং মনেল বলল দেখেনি; সে, রাইম যেমনটা আন্দাজ করেছিল, নেভি-স্কি মাস্ক পরে ছিল। ‘আর গ্লাভস।’

‘বর্ণনা দাও।’

কালো ছিল। কী রঙের মনে নেই।

‘অস্বাভাবিক কিছু? কিডন্যাপারের?’

‘না। ও ফর্সা ছিল। এটুকু বুঝতে পেরেছিলাম।’

‘ট্যাক্সিটার লাইসেন্স প্লেট দেখেছিলে?’ সেলিট্টো জিজ্ঞেস করল।

‘ওয়াস (কী)?’ নিজের মাতৃভাষায় চলে গেল মেয়েটা।

‘তুমি কি…’

রাইম বলে উঠল: ‘ডাস নুমারশিল্ড (লাইসেন্স প্লেট)।’

চমকে গেল স্যাক্স, ভাবল, এত কিছু জানে কী করে ব্যাটা? শব্দটা বলল সে, মেয়েটা না-বোধক মাথা নাড়ল, তারপর চোখ কুঁচকে তাকাল।

‘ট্যাক্সি মানে কী বোঝাচ্ছ?’

‘সে কি ইয়েলো ক্যাব চালাচ্ছিল না?’

‘ট্যাক্সিক্যাব? না। সাধারণ গাড়ি।’

‘শুনলে, লিংকন?’

‘হ্যাঁ। আমাদের খোকা-র আরেকটা গাড়ি আছে। আর ওকে ট্রাংকে ভরেছিল, তার মানে ওটা স্টেশন ওয়াগন বা হ্যাচব্যাক নয়।’

স্যাক্স পুনরাবৃত্তি করল কথাটা। মাথা নাড়ল মেয়েটা। ‘সেডানের মতো।’

‘রং সম্পর্কে কোনো ধারণা?’ সেলিট্টো জিজ্ঞেস করল।

মনেল উত্তর দিল, ‘হালকা, মনে হয়। হয়তো সিলভার বা ধূসর। কিংবা ঐ যে কী যেন বলে? হালকা বাদামি।’

‘বেইজ?’

মাথা নাড়ল সে।

‘হয়তো বেইজ,’ রাইমের সুবিধার্থে যোগ করল স্যাক্স।

সেিলট্টো জিজ্ঞেস করল, ‘ট্রাংকে কিছু ছিল? কিছু একটা? যন্ত্রপাতি, কাপড়চোপড়, স্যুটকেস?’

মনেল বলল কিছু ছিল না। খালি ছিল ওটা।

রাইমের একটা প্রশ্ন ছিল। ‘কী গন্ধ ছিল? ট্রাংকটার।’

রিলে করল স্যাক্স।

‘জানি না।’

‘তেল আর গ্রিজের গন্ধ?’

‘না। গন্ধটা ছিল… পরিষ্কার।’

তার মানে হয়তো নতুন গাড়ি, ভাবল রাইম।

কান্নায় ভেঙে পড়ল মনেল। তারপর মাথা নাড়ল।

হাতটা ধরল স্যাক্স, অবশেষে আবার বলতে শুরু করল। ‘অনেকক্ষণ ধরে ড্রাইভ করেছি আমরা। আসলেই অনেকক্ষণ মনে হয়েছে।’

‘ঠিক আছে, মন খারাপ কোরো না,’ বলল স্যাক্স।

রাইমের গলা বাধা দিল। ‘ওকে কাপড় খুলতে বলো।’

‘কী?’

‘জামাকাপড় খুলতে বলো।’

‘আমি পারব না।’

‘মেডিকদের বলো ওকে একটা রোব দিতে। ওর কাপড়গুলো দরকার আমাদের, অ্যামেলিয়া।’

‘কিন্তু,’ ফিসফিস করে বলল স্যাক্স, ‘কাঁদছে ও।’

‘প্লিজ,’ জরুরি গলায় বলল রাইম। ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ।’

সেলিট্টো মাথা নাড়ল। আর স্যাক্স ঠোঁট চেপে মেয়েটাকে কাপড়ের ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলল। মনেলকে মাথা নাড়তে দেখে অবাকই হলো সে। দেখা গেল, রক্তমাখা পোশাকগুলো ছেড়ে ফেলার জন্য সে নিজেও উদ্‌গ্রীব।

ওকে আড়াল দেওয়ার জন্য সরে গেল সেলিট্টো, বো হাউম্যানের সাথে পরামর্শ করতে গেছে। মেডিকের দেওয়া একটা গাউন পরল মনেল। সাদা পোশাকের এক ডিটেকটিভ নিজের স্পোর্টসকোট দিয়ে তাকে ঢেকে দিল।

জিনস আর টি-শার্ট ব্যাগে ভরল স্যাক্স। ‘পেয়েছি,’ রেডিওতে বলল।

‘এবার ওকে তোমার সাথে সিনটা হেঁটে দেখাতে হবে,’ রাইম বলল।

‘কী?’

‘কিন্তু খেয়াল রেখো ও যেন তোমার পেছনে থাকে। যাতে কোনো ফিজিক্যাল এভিডেন্স নষ্ট না করে।’

ঘুরে তরুণীর দিকে তাকাল স্যাক্স, দুটো ইএমএস বাসের পাশে একটা স্ট্রেচারে গুটিশুটি মেরে বসে আছে।

‘ও সেই অবস্থায় নেই। কেটেছে ওকে। একেবারে হাড় পর্যন্ত। যাতে রক্ত বেরোয় আর ইঁদুরগুলো ওকে ধরে।’

‘হাঁটতে পারবে?’

‘সম্ভবত। কিন্তু ও কীসের ভেতর দিয়ে গেছে জানো?’

‘ও তোমাকে রাস্তাটা দেখাতে পারবে। কোথায় দাঁড়িয়ে ছিল সে, সেটাও বলতে পারবে।’

‘ইমার্জেন্সিতে যাচ্ছে ও। অনেক রক্ত গেছে।’

একটু ইতস্তত করল রাইম। এরপর হাসিখুশি গলায় বলল, ‘জিজ্ঞেস করো শুধু।’ কিন্তু তার এই ফুর্তিবাজ ভাবটা মেকি। স্যাক্স জানে সে আসলে অধৈর্য। বুঝতে পারছে, রাইম এমন এক লোক যে মানুষকে তোয়াজ করায় অভ্যস্ত নয়, করার দরকারও পড়ে না তার। নিজের ইচ্ছামতো কাজ করিয়ে নিতে অভ্যস্ত।

জেদ ধরল সে, ‘গ্রিড ধরে মাত্র একবার।’

জাহান্নামে যাও তুমি, লিংকন রাইম।

‘এটা…’

‘গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি।’

লাইনের ওপাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই।

মনেলের দিকে তাকিয়ে আছে সে। তারপর একটা গলা শুনতে পেল…না, নিজের গলাটাই মেয়েটাকে বলতে শুনল, ‘আমি ওখানে এভিডেন্স খুঁজতে যাচ্ছি। আমার সাথে আসবে?’

মেয়েটার চোখ স্যাক্সের বুকের ভেতরটা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিল। কান্নায় ভেঙে পড়ল সে।

‘না, না, না। আমি ওটা করব না। বিট্টে নিস্ট, ওহ, বিট্টে নিস্ট…’

মাথা নাড়ল স্যাক্স, মহিলার বাহু চেপে ধরল। মাইকে কথা বলতে শুরু করল সে, নিজেকে প্রস্তুত করে নিল তার প্রতিক্রিয়া এর জন্য।

কিন্তু রাইম তাকে অবাক করে দিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে, অ্যামেলিয়া। বাদ দাও। শুধু জিজ্ঞেস করো পৌঁছানোর পর কী হয়েছিল।’

মেয়েটা ব্যাখ্যা করল কীভাবে সে লাথি মেরেছিল এবং পাশের একটা সুড়ঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল।

‘আবার লাথি মেরেছিলাম,’ বেশ তৃপ্তির সাথেই বলল সে। ‘গ্লাভসটা খুলে পড়ে গিয়েছিল। তারপর ও ক্ষেপে গিয়ে আমার গলা টিপে ধরল। সে…’

‘গ্লাভস ছাড়া?’ ফস করে বলে উঠল রাইম।

প্রশ্নটা পুনরাবৃত্তি করল স্যাক্স এবং মনেল বলল, ‘হ্যাঁ।’

‘প্রিন্ট, দারুণ!’ চেঁচিয়ে উঠল রাইম, মাইকে গলাটা বিকৃত শোনাল। ‘কখন হয়েছিল? কতক্ষণ আগে?’

মনেল আন্দাজ করল দেড় ঘণ্টা হবে।

‘হেল,’ বিড়বিড় করল রাইম। ‘চামড়ার উপর প্রিন্ট এক ঘণ্টা, বড়জোর দেড় ঘণ্টা থাকে। চামড়ার উপর থেকে প্রিন্ট তুলতে পারবে, অ্যামেলিয়া?’

‘আগে কখনো করিনি।’

‘এবার করবে। তবে জলদি। সিএস স্যুটকেসে ক্রোমকোট লেখা একটা প্যাকেট পাবে। ওখান থেকে একটা কার্ড বের করো।’

চকচকে পাঁচ বাই সাত ইঞ্চির একগাদা কার্ড পেল সে, অনেকটা ফটোগ্রাফিক পেপারের মতো।

‘পেয়েছি। ওর ঘাড়ে কি পাউডার দেবো?’

‘না। কার্ডটা, চকচকে দিকটা নিচে রেখে, চামড়ার উপর চাপ দিয়ে ধরো যেখানে সে হাত দিয়েছিল বলে ও মনে করছে। তিন সেকেন্ড চেপে রাখো।’

কাজটা করল স্যাক্স, ওদিকে মনেল ভাবলেশহীন চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর, রাইমের নির্দেশমতো, ম্যাডনা-ব্রাশ দিয়ে মেটালিক পাউডার ছড়িয়ে দিল কার্ডের উপর।

‘কী হলো?’ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল রাইম।

‘কাজের না। আঙুলের একটা আকৃতি। কিন্তু কোনো রেখা দেখা যাচ্ছে না। ফেলে দেবো?’

‘ক্রাইম সিনে কোনো কিছুই ফেলবে না, স্যাক্স,’ কড়া গলায় জ্ঞান দিল সে। ‘নিয়ে এসো। আমি দেখতে চাই ওটা।’

‘একটা কথা, আমি ভুলে যাচ্ছি মনে হয়,’ বলল মনেল। ‘ও আমাকে ছুঁয়েছিল।’

‘মানে তোমার শ্লীলতাহানি করেছে?’ নরম গলায় জিজ্ঞেস করল স্যাক্স।

‘না। আমার কাঁধ, মুখ, কানের পেছনে ছুঁয়েছিল। কনুই দিয়ে চাপ দিয়েছিল। কেন জানি না।’

‘শুনলে, লিংকন? ছুঁয়েছিল ওকে। কিন্তু মনে হয়নি যৌন সুখের জন্য করছে।’

‘হ্যাঁ।’

‘ও…আর একটা কথা ভুলে যাচ্ছি,’ মনেল বলল। ‘জার্মান ভাষায় কথা বলেছিল। তবে অত ভালো না। যেন শুধু স্কুলেই শিখেছে। আর আমাকে হানা বলে ডাকছিল।’

‘কী বলে ডাকছিল?’

‘হানা,’ মাইকে বলল স্যাক্স। ‘জানো কেন?’ মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল সে।

‘না। কিন্তু ওটাই বলছিল। নামটা বলতে পছন্দ করছিল মনে হলো।’

‘শুনেছ, লিংকন?’

‘হ্যাঁ। এবার সিনটা দেখো। সময় নষ্ট হচ্ছে।’

স্যাক্স উঠে দাঁড়াতেই আচমকা হাত বাড়িয়ে তার কবজি চেপে ধরল মনেল। ‘মিস… স্যাক্স। আপনি জার্মান?’

হাসল সে, জবাব দিল, ‘কয়েক প্রজন্ম আগে।’

মাথা নাড়ল মনেল। স্যাক্সের তালুটা নিজের গালে চেপে ধরল সে। ‘ফিলান ডাংক। থ্যাংক ইউ, মিস স্যাক্স। ডাংকে শোন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *