১. এক দিনের রাজা
২. লোকার্ডের নীতি
৩. দ্য পোর্টেবলস ডটার
8. ডাউন টু দ্য বোন
৫. নড়াচড়ার উপর থাকলে ওরা তোমায় ধরতে পারবে না

দ্য বোন কালেক্টর – ১২

অধ্যায় বারো

‘মেল, কোলফ্যাক্স মহিলার কাপড়চোপড়গুলো ভালো করে পরীক্ষা করো। অ্যামেলিয়া, তুমি সাহায্য করবে ওকে?’

ভদ্রস্থ একটা হাসি দিয়ে মাথা নাড়ল সে। রাইম বুঝতে পারল, মেয়েটার উপর বেশ ভালোই রাগ হচ্ছে তার।

টেকনিশিয়ানের নির্দেশে ল্যাটেক্স গ্লাভস পরে কাজে লেগে গেল সে; খবরের কাগজের উপর জামাকাপড়গুলো মেলে ধরে ঘোড়ার লোমের ব্রাশ দিয়ে ঝাড়ল। ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ল ধুলোবালি। টেপ দিয়ে ওগুলো তুলে নিয়ে কম্পাউন্ড মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করল কুপার।

‘খুব বেশি কিছু নেই,’ রিপোর্ট দিল সে। ‘ভাপে সব ট্রেস উবে গেছে। সামান্য মাটি দেখছি। তবে পরীক্ষার জন্য তা যথেষ্ট নয়। দাঁড়ান… দারুণ। দুটো সুতো পাওয়া গেছে। এগুলোর দিকে তাকান…’

দেখব কী করে? রেগেমেগে ভাবল রাইম।

‘নেভি ব্লু, অ্যাক্রিলিক আর উলের মিশ্রণ মনে হচ্ছে। কার্পেটের মতো মোটা নয়, আবার মসৃণও নয়। তাই জামাকাপড়ই হবে।’

‘এই গরমে সে নিশ্চয়ই মোটা মোজা বা সোয়েটার পরে ঘুরছে না। স্কি মাস্ক হতে পারে?’

“আমারও তাই ধারণা,” বলল কুপার।

রাইম ভাবল, ‘তার মানে আমাদের সুযোগ দিতে চায় সে। যদি খুন করাই একমাত্র উদ্দেশ্য হতো, তবে ভিকটিম তার চেহারা দেখল কি দেখল না, তাতে কিছু যেত আসত না তার।’

‘তার মানে হারামিটা ভাবছে সে পার পেয়ে যাবে,’ যোগ করল সেলিটো। ‘আত্মহত্যার কোনো ইচ্ছা নেই তার। শেষমেশ যখন ওকে ধরব, তখন জিম্মিদের বিনিময়ে দরাদরির একটা সুযোগ হয়তো পাওয়া যাবে।’

‘লন, তোমার এই আশাবাদী স্বভাবটা আমার বেশ পছন্দ,’ বলল রাইম।

দরজার বেল বাজল, টম গিয়ে দরজা খুলতেই উপরে উঠে এল জিম পোলিং; দেখেই বোঝা যাচ্ছে বেশ ধকল যাচ্ছে তার উপর। প্রেস কনফারেন্স, মেয়রের অফিস আর ফেডারেল বিল্ডিং-এ দৌড়াদৌড়ি করলে অমন চেহারা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

‘মাছ ধরার ট্রিপটার জন্য খারাপ লাগছে,’ হাঁক ছাড়ল সেলিট্টো। তারপর রাইমকে বুঝিয়ে বলল, ‘আমাদের জিমি হলো সাচ্চা মৎস্যশিকারি। নিজের বড়শি নিজেই বাঁধে। আর আমি বাপু পার্টি বোটে বসে এক কেস বিয়ার পেলেই খুশি।’

‘আগে এই জানোয়ারটাকে ধরি, তারপর মাছ নিয়ে ভাবা যাবে,’ জানালার পাশে টমের রেখে যাওয়া কফিটা তুলে নিয়ে বলল পোলিং। বাইরে তাকিয়ে বিশাল পাখি দুটোকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অবাক হলো সে।

রাইমের দিকে ফিরে জানাল কিডন্যাপিং-এর ঝামেলার কারণে ভারমন্টের ট্রিপটা পিছিয়ে দিতে হয়েছে তাকে। রাইম কখনো মাছ ধরেনি। কোনো শখের জন্যই সময় বা ইচ্ছা ছিল না তার। তবু পোলিংকে হিংসে হলো এখন। মাছ ধরার মধ্যে যে প্রশান্তি আছে, সেটা টানে তাকে। ওটা এমন একটা খেলা যা একা একাই খেলা যায়। পঙ্গুদের খেলাধুলা বড্ড বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়। নিজেকে আর দুনিয়াকে কিছু প্রমাণ করার তাগিদ থাকে তাতে। হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, টেনিস, ম্যারাথন। রাইম ঠিক করল যদি কোনো খেলা বেছে নিতে হয়, তবে মাছ ধরাই বেছে নেবে সে। যদিও এক আঙুল দিয়ে ছিপ ফেলাটা আধুনিক প্রযুক্তিতেও সম্ভব কি না সন্দেহ তার।

পোলিং বলল, ‘খবরের কাগজে ওটাকে সিরিয়াল কিডন্যাপার বলছে।’

জুতো যদি পায়ে ফিট করে, তবে আর কী করা, ভাবল রাইম।

‘ওদিকে মেয়র তো ক্ষেপে লাল। এফবিআইকে ডাকতে চাইছে। আমি চিফকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আপাতত ঠান্ডা রেখেছি। কিন্তু আর কোনো ভিকটিম হারালে চলবে না।’

‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করব,’ ঝাঁঝালো গলায় বলল রাইম।

কালো কফিতে চুমুক দিয়ে বিছানার কাছে এগিয়ে এল পোলিং। ‘তুমি ঠিক আছ, লিংকন?’

‘ভালোই।’

কিছুক্ষণ তাকে মেপে নিয়ে সেলিট্টোর দিকে ফিরল পোলিং। ‘আমাকে ব্রিফ করো। আধঘণ্টা পর আরেকটা প্রেস কনফারেন্স আছে। শেষেরটা দেখেছিলে? রিপোর্টারটা কী জিজ্ঞেস করল শুনেছ? মেয়েটা যে সেদ্ধ হয়ে মারা গেছে, এ ব্যাপারে তার পরিবারের অনুভূতি কী হতে পারে-সেটা নাকি আমাদের বলতে হবে!’

মাথা নাড়ল ব্যাংকস। ‘ম্যান।’

‘ইচ্ছা করছিল হারামজাদাটার থোবড়া ভেঙে দেই,’ বলল পোলিং।

সাড়ে তিন বছর আগের সেই পুলিশ-খুনির তদন্তের কথা মনে পড়ে গেল রাইমের। পোলিং তখন এক টিভি ক্যামেরাম্যানের ভিডিওক্যামেরা আছড়ে ভেঙেছিল, কারণ রিপোর্টারটা জানতে চেয়েছিল সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশ ফোর্সের সদস্য বলেই পোলিং তদন্তে বেশি তোড়জোড় দেখাচ্ছে কি না।

ঘরের এক কোণে সরে গিয়ে পোলিংকে সব বুঝিয়ে বলল সেলিট্টো। এবার সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ক্যাপ্টেনের পায়ে সেই জোর দেখা গেল না, লক্ষ্য করল রাইম।

‘ওকে,’ ঘোষণা করল কুপার। ‘একটা চুল পেয়েছি। মেয়েটার পকেটে ছিল।’

‘পুরোটা আছে?’ খুব একটা আশা না করেই জানতে চাইল রাইম।

তাই কুপার যখন দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তখন অবাক হলো না। ‘নাহ, গোড়া নেই।’

গোড়া না থাকলে ডিএনএ টেস্ট করে নির্দিষ্ট কাউকে শনাক্ত করা যায় না; এটা কেবল সাধারণ বা ক্লাস এভিডেন্স হিসেবেই কাজে লাগে। তবে এর প্রমাণ হিসেবে গুরুত্ব আছে। কানাডিয়ান মাউন্টিজের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া চুলের সাথে যদি সন্দেহভাজনের চুল মিলে যায়, তবে সে-ই যে ওটা ফেলে গেছে তার সম্ভাবনা সাড়ে চার হাজার ভাগের এক ভাগ। তবে সমস্যা হলো, চুল দেখে মালিক সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। লিঙ্গ নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব, আর জাতিসত্তা সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া কঠিন। বয়স কেবল শিশুদের ক্ষেত্রে বোঝা যায়। ডাই করার কারণে রং দেখেও ধোঁকা খেতে হয়, আর যেহেতু রোজই মানুষের চুল পড়ে, তাই সন্দেহভাজনের টাক পড়ছে কি না সেটাও বলা মুশকিল।

‘ভিকটিমের চুলের সাথে মিলিয়ে দেখো। স্কেল কাউন্ট আর মেডুলা পিগমেন্টেশন তুলনা করো,’ হুকুম দিল রাইম।

একটু পরে মাইক্রোস্কোপ থেকে মুখ তুলল কুপার। ‘কোলফ্যাক্সের নয় ওটা।’

‘বর্ণনা?’ জানতে চাইল রাইম।

‘হালকা বাদামি। কোঁকড়ানো নয়, তাই নিগ্রো নয়। রং বলছে মঙ্গোলীয়ও নয়।’

‘তার মানে ককেশিয়ান,’ দেয়ালের চার্টের দিকে মাথা নেড়ে বলল রাইম। ‘সাক্ষী যা বলেছিল তার সাথে মিলছে। মাথার চুল নাকি গায়ের লোম?’

‘ব্যাসের খুব একটা তফাত নেই আর রং সব জায়গায় সমান। মাথার চুল।’

‘লম্বা কতটা?’

‘তিন সেন্টিমিটার।’

টম জানতে চাইল প্রোফাইলে কিডন্যাপারের চুলের রং বাদামি লিখবে কি না।

না করল রাইম। ‘আরেকটু নিশ্চিত হই আগে। শুধু লিখে রাখো সে নেভি স্কি মাস্ক পরে। নখের নিচের ময়লায় কিছু পেলে, মেল?’

পরীক্ষা করে দেখল কুপার, কিন্তু কাজের কিছু পেল না।

‘দেয়ালে যে ছাপটা পেয়েছিলে, ওটা দেখা যাক। আমাকে একটু দেখাবে, অ্যামেলিয়া?’

একটু ইতস্তত করে পোলারয়েড ছবিটা তার কাছে নিয়ে এল সে।

‘তোমার সেই দানব,’ বলল রাইম। সত্যিই বীভৎস এক তালুর ছাপ, আঙুলের সেই পরিচিত রেখা নেই, তার বদলে কেমন যেন ছোপ ছোপ দাগ। ‘চমৎকার ছবি। অ্যামেলিয়া, তুমি তো দেখছি সাক্ষাৎ এডওয়ার্ড ওয়েস্টন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ফটোগ্রাফি স্কিলটা কাজে লাগল না। ওটা হাত না। ওগুলো আঙুলের রেখা নয়। ওটা একটা গ্লাভস। চামড়ার। পুরোনো। তাই না, মেল?’

মাথা নাড়ল টেকনিশিয়ান।

‘টম, লিখে রাখো সে পুরোনো একজোড়া গ্লাভস পরে।’

বাকিদের বলল রাইম, ‘লোকটা সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে সে নিজের আঙুলের ছাপ রেখে যাচ্ছে না। কিন্তু গ্লাভসের ছাপ রাখছে। যদি তার কাছে গ্লাভসটা পাই, তবে তাকে ঘটনাস্থলের সাথে মেলানো যাবে। সে চতুর। তবে জিনিয়াস নয়।’

স্যাক্স জিজ্ঞেস করল, ‘আর জিনিয়াস ক্রিমিনালরা কী পরে?’

‘সুতির আস্তর দেওয়া সোয়েড চামড়ার গ্লাভস,’ বলল রাইম। তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘ফিল্টারটা কোথায়? ভ্যাকুয়ামের?’

কফি ফিল্টারের মতো দেখতে কাগজের মোড়কটা খুলে সাদা কাগজের উপর ঝাড়ল টেকনিশিয়ান। ট্রেস এভিডেন্স দেখার পালা এবার…

সরকারি উকিল, রিপোর্টার আর জুরিরা চোখের সামনে দেখা যায় এমন আলামত পছন্দ করে। রক্তাক্ত গ্লাভস, ছুরি, সদ্য ফায়ার করা বন্দুক, প্রেমপত্র, বীর্য আর আঙুলের ছাপ। কিন্তু লিংকন রাইমের প্রিয় হলো ট্রেস-ধুলোবালি আর ময়লা যা অপরাধীরা সহজেই এড়িয়ে যায়।

কিন্তু ভ্যাকুয়ামে কাজের কিছুই পাওয়া গেল না।

‘ঠিক আছে,’ বলল রাইম, ‘এগোনো যাক। হাতকড়াটা দেখা যাক।’

কুপার যখন প্লাস্টিকের ব্যাগ খুলে হাতকড়াটা বের করে খবরের কাগজের উপর রাখল, তখন আড়ষ্ট হয়ে গেল স্যাক্স। রাইম যেমনটা বলেছিল, খুব সামান্যই রক্ত লেগে আছে ওটায়। এনওয়াইপিডি-র আইনজীবীর ফ্যাক্স পেয়ে এমই অফিসের ডাক্তারই করাত দিয়ে কেটে হাতকড়াটা আলাদা করে দিয়েছেন।

হাতকড়াটা ভালো করে পরীক্ষা করল কুপার। ‘বয়েড অ্যান্ড কেলার। একদম সস্তা মানের। সিরিয়াল নম্বর নেই।’ ক্রোমিয়ামের উপর ডিএফও স্প্রে করে পলি-লাইট ফেলল সে। ‘কোনো ছাপ নেই, শুধু গ্লাভসের একটু ঘষা দাগ।’

‘খুলে দেখো।’

একটা সাধারণ চাবি দিয়ে ওটা খুলল কুপার। লেন্স পরিষ্কার করার পাম্প দিয়ে মেকানিজমের ভেতরে হাওয়া দিল সে।

‘অ্যামেলিয়া, তুমি এখনো আমার উপর রেগে আছ,’ রাইম বলল। ‘হাত কাটার ব্যাপারে।’

প্রশ্নটা শুনে অপ্রস্তুত হলো সে। কিছুক্ষণ পর বলল, ‘রাগিনি। আমার মনে হয়েছে ওটা অপেশাদারী আচরণ। আপনার প্রস্তাবটা আর কি।’

‘এডমন্ড লোকার্ড কে ছিলেন জানো?’

মাথা ঝাঁকাল সে।

‘একজন ফরাসি। ১৮৭৭ সালে জন্ম। ইউনিভার্সিটি অব লিয়ন্স-এর ইনস্টিটিউট অফ ক্রিমিনালিস্টিকস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। আইআরডি চালানোর সময় তার একটা নীতি মেনেই চলতাম আমি। লোকার্ডস এক্সচেঞ্জ প্রিন্সিপল। তার মতে, দুজন মানুষ যখন একে অপরের সংস্পর্শে আসে, তখন একজনের কিছু না কিছু অন্যজনের কাছে চলে যায়, এবং উল্টোটাও ঘটে। হয়তো ধুলো, রক্ত, চামড়ার কোষ, ময়লা, সুতো, ধাতব কণা। ঠিক কী আদান-প্রদান হয়েছে তা খুঁজে বের করা কঠিন হতে পারে, আর তার মানে বের করা আরো কঠিন। কিন্তু আদান-প্রদান হবেই-আর সে কারণেই আমরা আমাদের আনসাবদের ধরতে পারি।’

এই ইতিহাসটুকুতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাল না অ্যামেলিয়া।

‘কপাল ভালো তোমার,’ মুখ না তুলেই স্যাক্সকে বলল মেল কুপার। ‘উনি তো তোমাকে আর মেডিককে দিয়ে স্পট অটোপসি করিয়ে পেটের ভেতর কী আছে সেটাও দেখতে বলতে চেয়েছিলেন।’

‘কাজে দিত,’ ওর চোখের দিকে না তাকিয়েই বলল রাইম।

‘আমিই মানা করলাম,’ বলল কুপার।

‘অটোপসি।’ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল স্যাক্স। যেন রাইমের কোনো কিছুতেই আর অবাক হওয়ার নেই তার।

মেয়েটা মন পড়ে আছে হাজার মাইল দূরে, বুঝল রাইম। ভারী রাগ হলো তার।

‘আহ, কিছু একটা পাওয়া গেছে,’ বলল কুপার। ‘মনে হয় গ্লাভসের টুকরো।’ টুকরোটা মাইক্রোস্কোপের নিচে রাখল কুপার। পরীক্ষা করল।

‘চামড়া। লালচে রঙের। একপাশটা পালিশ করা।’

‘লাল, ভালো লক্ষণ,’ বলল সেলিট্টো। স্যাক্সকে বুঝিয়ে বলল, ‘পোশাক যত বিদঘুটে হবে, আসামিকে খুঁজে বের করা তত সহজ। অ্যাকাডেমিতে এসব শেখায় না, বাজি ধরতে পারি। গ্যাম্বিনো গ্যাংয়ের জিমি প্লেডকে আমরা কীভাবে ধরেছিলাম সে গল্প একদিন শোনাব তোমাকে। মনে আছে, জেরি?’

‘ঐ প্যান্ট এক মাইল দূর থেকেও চোখে পড়ত,’ বলল তরুণ ডিটেকটিভ।

কুপার বলে চলল, ‘চামড়াটা শুকিয়ে গেছে। তেল নেই বললেই চলে। পুরোনো হওয়ার ব্যাপারটা ঠিকই ধরেছিলেন আপনি।’

‘কীসের চামড়া?’

‘আমার তো কিডস্কিনের মনে হচ্ছে। ভালো মানের।’

‘নতুন হলে ধরে নিতাম লোকটা বড়লোক,’ গজগজ করল রাইম। ‘কিন্তু যেহেতু পুরোনো, তাই হয়তো রাস্তা থেকে কুড়িয়েছে বা সেকেন্ডহ্যান্ড কিনেছে। ৮২৩-এর সাজসজ্জা দেখে চটজলদি কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না। ঠিক আছে। টম, প্রোফাইলে লিখে রাখো গ্লাভসটা লালচে কিডস্কিনের। আর কী আছে?’

‘সে আফটারশেভ ব্যবহার করে,’ মনে করিয়ে দিল স্যাক্স।

‘ভুলে গিয়েছিলাম। গুড। হয়তো অন্য কোনো গায়ের গন্ধ ঢাকার জন্য। আনসাবরা মাঝে মাঝে এমন করে। লিখে নাও, টম। কী গন্ধ ছিল যেন, অ্যামেলিয়া? তুমিই তো বর্ণনা দিয়েছিলে ওটার।’

‘শুষ্ক। জিনের মতো।’

‘ব্রুট,’ ঘোষণা করল রাইম। ‘সস্তা। ড্রাগস্টোরে পাওয়া যায়। আর দড়িটা?’ জানতে চাইল রাইম।

পরীক্ষা করল কুপার। ‘এটা আগেও দেখেছি। প্লাস্টিক। ভেতরে কয়েক ডজন সুতো আছে যা ছয় থেকে দশ রকমের আলাদা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এবং একটা-না, দুটো-ধাতব সুতো আছে।’

‘প্রস্তুতকারক আর উৎসের নাম চাই।’

মাথা নাড়ল কুপার। ‘অসম্ভব। বড্ড সাধারণ।’

‘সেরেছে,’ বিড়বিড় করল রাইম। ‘আর গিঁটটা?’

‘ওটা কিন্তু অদ্ভুত। খুব কাজের। দেখছেন কীভাবে দুবার পেঁচানো হয়েছে? পিভিসি দড়িতে গিঁট দেওয়া সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু এই গিটটা খোলার নয়।’

‘ডাউনটাউনে কি গিট নিয়ে কোনো ফাইল আছে?’

‘না।’

অমার্জনীয়, ভাবল রাইম।

‘স্যার?’

ব্যাংকসের দিকে ফিরল সে।

‘আমি মাঝে মাঝে সেইলিং বা নৌকা বাইচ করি…’

‘ওয়েস্টপোর্ট থেকে,’ বলল রাইম।

‘হ্যাঁ, জানলেন কী করে?’

মানুষের আদিবাস বের করার কোনো ফরেনসিক টেস্ট থাকলে জেরি ব্যাংকসের

রেজাল্ট আসত কানেকটিকাট। ‘আন্দাজে ঢিল ছুঁড়লাম।’

‘এটা নাবিকদের গিঁট নয়। আমি চিনতে পারছি না।’

‘ভালো। ওটা ওখানে টাঙিয়ে দাও।’ সেলোফেনের পোলারয়েড আর মনের পোস্টারটার দিকে মাথা নাড়ল রাইম। ‘ওটা নিয়ে পরে ভাবব।’

দরজার বেল বাজতেই টম নিচে গেল দরজা খুলতে। ডাক্তার বার্জার ফিরে এসে ‘প্রজেক্ট’-এ সাহায্য করতে অস্বীকার করবে কি না ভেবে এক মুহূর্তের জন্য ঘাবড়ে গেল রাইম।

কিন্তু ভারী বুটের শব্দে রাইম বুঝে ফেলল কারা এসেছে। কমব্যাট গিয়ার পরা ইমার্জেন্সি সার্ভিসের বিশালদেহী, গম্ভীর অফিসাররা ভদ্রভাবে ঘরে ঢুকে সেলিটো আর ব্যাংকসকে মাথা নেড়ে অভিবাদন জানাল। কাজের মানুষ ওরা, আর রাইম বাজি ধরে বলতে পারে ঐ বিশটা শান্ত চোখের আড়ালে দশটা জঘন্য প্রতিক্রিয়া লুকিয়ে আছে। এই প্রতিক্রিয়া একজন মানুষকে চিরকালের জন্য পিঠের উপর শুয়ে থাকতে দেখে।

‘জেন্টলমেন, গত রাতের কিডন্যাপিং আর আজ দুপুরে ভিকটিমের মৃত্যুর কথা শুনেছেন নিশ্চয়ই।’

ওদের সম্মতিসূচক গুঞ্জনের মধ্যেই বলে চলল সে, ‘আমাদের আনসাবের হাতে আরেকজন ভিকটিম আছে। এই কেসে একটা সূত্র পেয়েছি আমরা। শহরের বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে এভিডেন্স সংগ্রহ করার জন্য তোমাদের দরকার আমার। এখনই এবং একসাথে। এক জায়গায় একজন।’

‘মানে,’ আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল গোঁফওয়ালা এক অফিসার, ‘কোনো ব্যাকআপ ছাড়াই?’

‘দরকার হবে না।’

‘বেয়াদবি মাফ করবেন, স্যার, কিন্তু ব্যাকআপ ছাড়া কোনো ট্যাকটিক্যাল অপারেশনে যাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। অন্তত একজন পার্টনার তো লাগবেই।’

‘আমার মনে হয় না গোলাগুলি হবে। টার্গেট হলো শহরের বড় বড় গ্রোসারি চেইন শপগুলো।’

‘গ্রোসারি শপ?’

‘সব দোকান নয়। প্রতিটা চেইনের একটা করে। জে অ্যান্ড জি, শপরাইট, ফুড ওয়্যারহাউজ…’

‘আমরা ঠিক কী করতে যাচ্ছি?’

‘বাছুরের হাড় কিনতে হবে।’

‘কী?’

‘প্রতিটা দোকান থেকে এক প্যাকেট করে। নিজের পকেট থেকেই দামটা দিতে হবে আপাতত। তবে প্রশাসন পরে দিয়ে দেবে। ওহ, আর কাজটা যত দ্রুত সম্ভব করা চাই।’

একদম নিথর হয়ে কাত হয়ে পড়ে আছে সে। পুরোনো সুড়ঙ্গের আবছা আঁধারের সাথে এতক্ষণে সয়ে গেছে চোখদুটো। দেখতে পেল কাছে এগিয়ে আসছে ঐ পিচ্চি দানবের দল। একটার উপর বিশেষ নজর রাখল সে।

মোনেলের পায়ে কুকুরের মতো কামড়াচ্ছে তীব্র যন্ত্রণাটা, তবে হাতের ব্যথাটাই বেশি, যেখানে গভীর হয়ে কেটে বসে গেছে বাঁধনটা। হাতদুটো পিঠমোড়া করে বাঁধা বলে ক্ষতটা দেখতে পেল না সে, বুঝতে পারল না ঠিক কতটা রক্ত ঝরেছে। তবে প্রচুর রক্তই যাওয়ার কথা; খুব দুর্বল লাগছিল তার, হাত আর শরীরের একপাশে চটচটে রক্ত জমাট বেঁধে আছে, টের পাচ্ছে।

কংক্রিটের উপর নখের আঁচড়ের শব্দ। খসখস আওয়াজ তুলে অন্ধকারের ভেতর নড়াচড়া করছে ধূসর-বাদামি পিণ্ডগুলো। তিড়িং বিড়িং করে ওর দিকেই এগিয়ে আসছে ইঁদুরগুলো। সংখ্যায় অন্তত একশো তো হবেই।

নিজেকে পাথর করে রেখে বড় কালো ইঁদুরটার উপর চোখ আটকে রাখল সে। ওটার নাম দিয়েছে শোয়ার্জি। দলের একদম সামনে ওটা, এদিক-সেদিক করছে, মেপে নিচ্ছে তাকে।

উনিশ বছর বয়সের মাঝে দু-দুবার পৃথিবী চষে ফেলেছে মোনেল গারগার। হিচহাইক করে ঘুরেছে শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া আর পাকিস্তান। গেছে নেব্রাস্কায়, যেখানে তার ভ্রু-র রিং আর অন্তর্বাসহীন বুক দেখে মহিলারা তাকাত ঘৃণার চোখে। গেছে ইরানে, যেখানে কামাতুর কুকুরের মতো তার অনাবৃত বাহুর দিকে তাকিয়ে থাকত পুরুষেরা। গুয়াতেমালা সিটির পার্কে রাত কাটিয়েছে, ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজে যাওয়ার পথে পথ হারিয়ে তিন দিন কাটিয়েছে নিকারাগুয়ার বিদ্রোহীদের সাথে।

কিন্তু এমন হাড়হিম করা ভয় আগে কখনো পায়নি। জার্মান ভাষায় ঈশ্বরকে ডাকল একবার। সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে সে নিজেকে এখন যা করতে যাচ্ছে, তা ভেবে।

একটা ছোটখাটো বাদামি ইঁদুর খুব কাছে চলে এসেছে। আবার পিছিয়ে গেল, আবার কয়েক ইঞ্চি এগোল সামনে। ইঁদুর জিনিসটা ভয়ংকর। এগুলো রোডেন্ট কম, সরীসৃপ বেশি। সাপের মতো নাক আর সাপের মতোই লেজ। আর ঐ জঘন্য লাল চোখদুটো।

ছোট ইঁদুরটার ঠিক পেছনেই শোয়ার্জি, আকারে ছোটখাটো একটা বিড়ালের সমান। পেছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আগ্রহ নিয়ে দেখছে সে। অপেক্ষা করছে।

হঠাৎ আক্রমণ করে বসল ছোটটা। চারটা সরু পায়ে ভর করে দৌড়ে এল। মোনেলের অস্ফুট চিৎকারকে পাত্তাই দিল না, সোজা ছুটে এল তীরের বেগে। আরশোলার মতো এসে কাটা পায়ের মাংস খুবলে নিল।

আগুনের মতো জ্বালা করে উঠল ক্ষতটা। যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠল মোনেল-ব্যথায় তো বটেই, রাগেও। তোকে আমি চাই না, হারামজাদা!

গোড়ালি দিয়ে সজোরে ওটার পিঠে আঘাত করল সে। মড়মড় করে উঠল হাড়, একবার কেঁপে উঠেই স্থির হয়ে গেল।

আরেকটি ইঁদুর দৌড়ে এল তার ঘাড়ের কাছে, এক খাবলা মাংস ছিঁড়ে নিয়ে লাফিয়ে পিছিয়ে গেল, তাকিয়ে রইল ওর দিকে, নাক নাচাচ্ছে, যেন জিভ দিয়ে চেটেপুটে স্বাদ নিচ্ছে তার।

উফ কী কষ্ট… শিউরে উঠল সে, কামড়ের জায়গাটা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র জ্বালা। কী অসহ্য যন্ত্রণা।

নিজেকে আবারো স্থির হয়ে থাকতে বাধ্য করল মোনেল।

ছোট আক্রমণকারী আবারো তেড়ে আসার জন্য তৈরি হচ্ছিল। হঠাৎ থমকে গিয়ে অন্যদিকে ঘুরল ওটা। কারণটা বুঝতে পারল মোনেল। অবশেষে দলনেতা শোয়ার্জি এগিয়ে আসছে সামনে। যেটা চায়, সেটা নিতেই আসছে।

ভালো, খুব ভালো। এটার জন্যই অপেক্ষা করছিল সে। কারণ রক্ত বা মাংসের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি ওটা। বিশ মিনিট আগে একবার গুটিগুটি পায়ে কাছে এসেছিল; ওর মুখের উপর সাঁটা রুপালি টেপটাই আকর্ষণ করছে ওটাকে। ছোট ইঁদুরটা সুড়সুড় করে পিছিয়ে হারিয়ে গেল দলের ভিড়ে, আর শোয়ার্জি ওর জঘন্য ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে এল সামনে। থামল। আবার এগুলো। ছয় ফুট, পাঁচ ফুট। তারপর তিন। একদম পাথরের মতো স্থির হয়ে রইল সে। খুব সাবধানে, সন্তর্পণে শ্বাস নিল, পাছে নিঃশ্বাসের শব্দে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় ওটা। শোয়ার্জি থামল। আবার পা বাড়াল। তারপর স্থির হলো। ওর মাথা থেকে মাত্র দুই ফুট দূরে।

একদম নড়বি না।

ইঁদুরটার পিঠটা কুঁজো হয়ে উঁচু হয়ে আছে, বাদামি আর হলুদ দাঁতগুলোর উপর থেকে সরে যাচ্ছে ঠোঁট। আরো এক ফুট এগিয়ে এসে থামল ওটা, চঞ্চল চোখে তাকাচ্ছে। উঠে বসল, নখওয়ালা থাবায় থাবা ঘষল, আবার এগোল একটু।

মড়ার মতো পড়ে রইল মোনেল গারগার।

আর মাত্র ছয় ইঞ্চি।

আয়, চলে আয়!

অবশেষে ওটা চলে এল তার মুখের কাছে। ওর গা থেকে আবর্জনা আর তেলের গন্ধ পেল সে, সাথে পচা মাংস আর মলের দুর্গন্ধ। ওটা শুঁকল ওকে, নাকের উপর ইঁদুরের গোঁফের সুড়সুড়িটা অসহ্য লাগল তার। ওটার মুখ থেকে ছোট ছোট দাঁত বেরিয়ে এসে চিবোতে শুরু করল টেপটা। মিনিট পাঁচেক ধরে ওর মুখের চারপাশে দাঁত চালাল ওটা। একবার আরেকটা ইঁদুর কাছে এসে দাঁত বসিয়ে দিল তার গোড়ালিতে। ব্যথায় চোখ বন্ধ করে ফেলল সে, চেষ্টা করল অগ্রাহ্য করার। শোয়ার্জি ওটাকে তাড়িয়ে দিয়ে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল তাকে।

চলে আয়, শোয়ার্জি! চলে আয়!

ধীরে ধীরে ওটা আবার ফিরে এল তার কাছে। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে চোখের জল, অনিচ্ছাসত্ত্বেও মুখটা ওটার দিকে নামিয়ে আনল মোনেল। চিবোচ্ছে, চিবোচ্ছে… জলদি কর! মুখের ভেতর ওটার জঘন্য, গরম নিঃশ্বাস টের পেল সে। টেপটা ফুটো করে ফেলেছে ওটা, চকচকে প্লাস্টিকের বড় বড় টুকরো ছিঁড়ে নিচ্ছে এখন। মুখ থেকে টুকরোগুলো বের করে লোভীর মতো সামনের থাবায় চেপে ধরছে ওটা।

যথেষ্ট বড় হয়েছে কি গর্তটা? ভাবল সে।

হতেই হবে। আর সহ্য হচ্ছে না তার।

ধীরে ধীরে মাথাটা তুলল সে, একবারে এক মিলিমিটার করে। শোয়ার্জি পিটপিট করে তাকাল, কৌতূহল নিয়ে ঝুঁকে এল সামনে। চোয়াল ফাঁক করল মোনেল, শুনতে পেল টেপ ছেঁড়ার সেই জাদুকরী শব্দ। বুকভরে বাতাস টেনে নিল সে। আবার শ্বাস নিতে পারছে!

এখন সে সাহায্যের জন্য চিৎকারও করতে পারবে।

‘বিটে, হেলফেন জি মির! প্লিজ! বাঁচাও!’

অমন বিদঘুটে আর্তনাদ শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে পিছিয়ে গেল শোয়ার্জি, ফেলে দিল তার সাধের রুপালি টেপ। তবে খুব বেশি দূরে গেল না। থামল, ঘুরে তাকাল, উঠে বসল তার থলথলে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে। কালো, কুঁজো শরীরটাকে পাত্তাই দিল না সে, যে খুঁটির সাথে বাঁধা ছিল সেটাতে লাথি মারল। ধূসর তুষারের মতো ঝরঝর করে ঝরল ধুলো আর মাটি, কিন্তু কাঠটা এতটুকুও নড়ল না।

গলা জ্বলে না যাওয়া পর্যন্ত চিৎকার করল সে।

‘বাঁচাও!’

রাস্তার গাড়ির আওয়াজে ডুবে গেল সেই চিৎকার।

এক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা। তারপর শোয়ার্জি আবার এগোতে শুরু করল তার দিকে। এবার আর একা নয়। পিচ্ছিল শরীরগুলো নিয়ে পুরো দলটা অনুসরণ করছে তাকে। চঞ্চল, স্নায়ুচাপে ভুগছে। কিন্তু রক্তের লোভনীয় গন্ধ অমোঘ আকর্ষণে টেনে আনছে ওদের।

হাড় আর কাঠ, কাঠ আর হাড়।

‘মেল, ওটা কী?’ ক্রোম্যাটোগ্রাফ-স্পেকট্রোমিটারের সাথে লাগানো কম্পিউটারের দিকে মাথা নেড়ে জিজ্ঞেস করল রাইম।

কাঠের টুকরোয় পাওয়া মাটিটা আরো একবার পরীক্ষা করছে কুপার।

‘এখনো প্রচুর নাইট্রোজেন দেখাচ্ছে। হিসাবনিকাশ সব ছাড়িয়ে গেছে।’ তিনটা আলাদা পরীক্ষা, সব কয়টার ফলাফল একই। ইউনিটের ডায়াগনস্টিক চেক করে দেখা গেল যন্ত্র ঠিকই আছে। কুপার কিছুক্ষণ ভেবে বলল, ‘এত নাইট্রোজেন! আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ তৈরির কোনো কারখানা হতে পারে।’

‘সে তো কানেকটিকাটে হবে, ম্যানহাটনে নয়।’ ঘড়ির দিকে তাকাল রাইম। সাড়ে ছয়টা। আজকের দিনটা কত দ্রুত কেটে গেল। অথচ গত সাড়ে তিন বছর কী ভীষণ ধীর গতিতে পার হয়েছে।

ম্যানহাটনের ম্যাপের উপর ঝুঁকে পড়ল তরুণ গোয়েন্দা, একটু আগে মেঝেতে পড়ে যাওয়া ফ্যাকাশে কশেরুকাটা সরিয়ে রাখল একপাশে। রাইমের এসসিআই স্পেশালিস্ট, পিটার টেইলর, ডিস্কটা রেখে গিয়েছিল এখানে। আজ সকালেই লোকটার সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। ডাক্তার তাকে খুব দক্ষ হাতে পরীক্ষা করে, মচমচে বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে পকেট থেকে বের করেছিল ওটা।

‘দেখো এবং শেখো,’ বলেছিল ডাক্তার।

টেইলরের খোলা হাতের তালুর দিকে তাকিয়েছিল রাইম।

‘সারভিক্যাল ভার্টিব্রা বা ঘাড়ের চার নম্বর কশেরুকা এটা। ঠিক যেমনটা আছে তোমার ঘাড়ে। যেটা ভেঙে গেছে। শেষের ঐ ছোট লেজগুলো দেখছ?’ কশেরুকাটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ উল্টেপাল্টে দেখাল ডাক্তার, তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘এটা দেখলে কী মনে হয় তোমার?’

টেইলরকে শ্রদ্ধা করত রাইম-সে তাকে বাচ্চা বা হাবাগোবা কিংবা মস্ত বড় কোনো বোঝা মনে করত না। কিন্তু সেদিন অনুপ্রেরণামূলক কোনো গেম খেলার মুড ছিল না তার। কোনো উত্তর দেয়নি তাই।

তবু চালিয়ে গিয়েছিল টেইলর, ‘আমার অনেক রোগী ভাবে ওটা শঙ্কর মাছের মতো দেখতে। কেউ বলে মহাকাশযান। বা অ্যারোপ্লেন। কিংবা ট্রাক। যখনই আমি প্রশ্নটা করি, লোকেরা সাধারণত বড় কিছুর সাথে তুলনা করে এটাকে। কেউ কখনো বলে না, “এটা ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়ামের একদলা পিণ্ড।” বুঝলে, এত তুচ্ছ একটা জিনিস তাদের জীবনটা নরক বানিয়ে দিয়েছে, তা কিছুতেই মানতে পারে না তারা।’

সন্দেহের দৃষ্টিতে ডাক্তারের দিকে তাকাল রাইম। কিন্তু শান্ত চেহারার, কাঁচাপাকা চুলের ঐ ডাক্তার স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি বা এসসিআই রোগীদের ব্যাপারে ঝানু লোক। নরম স্বরে বললেন তিনি, ‘আমার কথা উড়িয়ে দিও না, লিংকন।’

রাইমের চোখের সামনে ডিস্কটা তুলে ধরলেন টেইলর। ‘ভাবছ খুব অবিচার হয়েছে, এইটুকু একটা জিনিস তোমাকে এত কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু ওসব ভুলে যাও। দুর্ঘটনার আগের কথা মনে করো। তোমার জীবনের ভালো আর খারাপ সময়গুলো। সুখ, দুঃখ…সেসব আবারো অনুভব করতে পারবে তুমি।’ বলতে বলতে থমথেমে হয়ে গেল ডাক্তারের মুখ। ‘তবে সত্যি বলতে কি, এখন আমি এমন একজনকে দেখছি যে হাল ছেড়ে দিয়েছে।’

বেডসাইড টেবিলে কশেরুকাটা রেখে গিয়েছিলেন টেইলর। মনে হয়েছিল ভুল করেই রেখে গেছেন। কিন্তু পরে রাইম বুঝতে পেরেছিল, ইচ্ছা করেই কাজটা করেছে সে। গত কয়েক মাস ধরে রাইম যখন ভাবছিল আত্মহত্যা করবে কি না, তখন ঐ ছোট্ট চাকতিটার দিকে তাকিয়ে থাকত সে। টেইলরের বেঁচে থাকার যুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছিল ওটা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরেই গেছে ঐ পক্ষটা; ডাক্তারের কথাগুলো যত খাঁটিই হোক না কেন, দিনের পর দিন যে যন্ত্রণা, মনের কষ্ট আর ক্লান্তি বয়ে বেড়াচ্ছে লিংকন রাইম, তার ভার কমাতে পারেনি সেগুলো।

ডিস্কের উপর থেকে চোখ সরিয়ে অ্যামেলিয়া স্যাক্সের দিকে তাকাল সে, বলল, ‘আমি চাই ক্রাইম সিনের কথাটা আবারো ভাবো তুমি।’

‘যা যা দেখেছি সবই তো বলেছি।’

‘দেখা নয়, আমি জানতে চাই তোমার অনুভূতির কথা।’

ক্রাইম সিনে কাজ করার অজস্র স্মৃতি মনে পড়ে গেল রাইমের। মাঝে মাঝে মিরাকল ঘটত। চারপাশটা দেখত আর আনসাব সম্পর্কে কোনো না কোনো ধারণা চলে আসত মাথায়। কীভাবে হতো, ব্যাখ্যা করতে পারবে না সে। বিহেভিয়ারিস্টরা এমনভাবে প্রোফাইলিং নিয়ে কথা বলে যেন ওটা ওরাই আবিষ্কার করেছে। কিন্তু ক্রিমিনালিস্টরা শত বছর ধরে প্রোফাইলিং করে আসছে। গ্রিড ধরে হাঁটো, অপরাধী যে পথে গেছে সে পথে হাঁটো, ও যা ফেলে গেছে তা খুঁজে বের করো, কী সাথে নিয়ে গেছে সেটা বোঝো-তাহলে একটা ছবির মতো পরিষ্কার প্রোফাইল নিয়ে ক্রাইম সিন থেকে ফিরতে পারবে তুমি।

‘সরি।’

‘বলো আমাকে,’ খোঁচা দিল সে। ‘কী অনুভব করেছ?’

‘অস্বস্তি। টেনশন। গরম।’ কাঁধ ঝাঁকাল মেয়েটা। ‘জানি না। সত্যিই জানি না।’

নড়াচড়ার ক্ষমতা থাকলে এতক্ষণে বিছানা থেকে লাফিয়ে নেমে মেয়েটার কাঁধ ধরে ঝাঁকুনি দিত রাইম। চিৎকার করে বলত: আমি কী বলছি তা তুমি জানো! আমি জানি তুমি বোঝো। কেন আমার সাথে কাজ করছ না? কেন আমাকে এড়িয়ে চলছ?

তারপর একটা ব্যাপার বুঝতে পারল সে। মেয়েটা এখনো ঐ ভ্যাপসা গরম বেসমেন্ট থেকে বেরোতে পারেনি। ও এখনো টি.জে.-র ঐ ক্ষতবিক্ষত লাশের উপর ঝুঁকে আছে। নাকে আসছে সেই জঘন্য গন্ধ। তার বুড়ো আঙুলটা যেভাবে নখের পাশের চামড়া খুঁটছে, যেভাবে সে দুজনের মাঝে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রেখেছে-সবকিছুতেই স্পষ্ট সেটা। ঐ নোংরা বেসমেন্টে যাওয়াটা একদমই পছন্দ করেনি মেয়েটা, আর রাইমকে সে ঘৃণা করছে কারণ রাইম বারবার তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে তার সত্তার একটা অংশ এখনো ওখানেই পড়ে আছে।

‘ঘরের ভেতর দিয়ে হাঁটছ তুমি,’ বলল সে।

‘আমার মনে হয় না আমি আর কোনো সাহায্য করতে পারব।’

‘চেষ্টা করেই দেখো না,’ মেজাজ সামলে নিয়ে বলল রাইম। হাসল। ‘বলো, কী ভেবেছিলে তখন।’

ভাবলেশহীন হয়ে গেল মেয়েটার মুখ, বলল, ‘ওগুলো… সাধারণ কিছু ভাবনা। যে-কেউই ভাবতে পারে।’

‘কিন্তু ওখানে ছিলে তুমি। সবাই তো আর ছিল না। বলো আমাদের।’

‘ভয়ংকর বা ওরকমই কিছু একটা…’ আনাড়ির মতো শব্দটা ব্যবহার করে যেন অনুশোচনা হলো তার। অপেশাদার শোনাল।

‘আমার মনে হচ্ছিল-‘

‘কেউ তোমার উপর নজর রাখছে?’ জিজ্ঞেস করল সে।

অবাক হলো মেয়েটা। ‘হ্যাঁ। একদম তাই।’

নিজেও অনেকবার এমনটা অনুভব করেছে রাইম। সাড়ে তিন বছর আগে, সেই তরুণ পুলিশ অফিসারের পচা-গলা লাশের উপর ঝুঁকে ইউনিফর্ম থেকে ফাইবার তোলার সময়ও এমন হয়েছিল। নিশ্চিত ছিল সে, আশেপাশে কেউ আছে। কিন্তু কেউ ছিল না-ছিল কেবল ওক কাঠের একটা বড় বিম। ঠিক ঐ মুহূর্তেই মড়মড় করে ভেঙে পৃথিবীর সমস্ত ভার নিয়ে লিংকন রাইমের ঘাড়ের চার নম্বর কশেরুকার উপর আছড়ে পড়েছিল ওটা।

‘অ্যামেলিয়া, আর কী মনে হয়েছিল তোমার?’

আর বাধা দিল না মেয়েটা। শিথিল হয়ে এল তার ঠোঁট, নাইটহকস পোস্টারের উপর দিয়ে ঘুরে এল চোখদুটো-একাকী ডিনার করা মানুষগুলোর উপর। বলল, ‘আসলে, নিজের মনেই বলেছিলাম, “উফ, জায়গাটা কী পুরোনো।” শতাব্দীর শুরুর দিকে কারখানার যেসব ছবি দেখা যায়, জায়গাটা অনেকটা ওরকম। আর আমি-‘

‘থামো।’ ধমক দিয়ে উঠল রাইম। ‘ব্যাপারটা ভাবা দরকার। পুরোনো…’

র‍্যান্ডেল সার্ভে ম্যাপের দিকে চোখ চলে গেল তার। ঐতিহাসিক নিউ ইয়র্কের প্রতি আনসাব বা অপরাধীর আগ্রহের কথা আগেই বলেছিল সে। টি.জে. কোলফ্যাক্স যে বিল্ডিংয়ে মারা গেছে সেটাও পুরোনো। যেখানে প্রথম লাশটা পাওয়া গিয়েছিল, রেললাইনের সেই সুড়ঙ্গটাও। নিউ ইয়র্ক সেন্ট্রাল ট্রেনগুলো একসময় মাটির উপর দিয়েই চলত। ক্রসিংয়ে এত বেশি মানুষ মারা যেত যে ইলেভেনথ এভিনিউ-এর নামই হয়ে গিয়েছিল ডেথ এভিনিউ, যার কারণে শেষমেশ রেললাইন মাটির নিচে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল তারা।

‘আর পার্ল স্ট্রিট,’ বিড়বিড় করে বলল সে, ‘আদি নিউ ইয়র্কের অন্যতম প্রধান রাস্তা ছিল ওটা। পুরোনো জিনিসের প্রতি তার এত আগ্রহ কেন?’ তারপর সেলিট্টোকে জিজ্ঞেস করল, ‘টেরি ডবিন্স কি আছে আমাদের সাথে?’

‘ওহ, সেই সাইকিয়াট্রিস্ট? হ্যাঁ। গত বছর একটা কেসে কাজ করেছিলাম। ভালো কথা, ও তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিল। বলল, তোমাকে নাকি কয়েকবার ফোনও দিয়েছিল, তুমি ধরোনি…’

‘ঠিক আছে, ঠিক আছে,’ বলল রাইম। ‘ওকে ডেকে পাঠাও। ৮২৩-এর প্যাটার্ন নিয়ে ওর মতামত চাই আমি। এবার বলো অ্যামেলিয়া, আর কী মনে হয়েছিল তোমার?’

কাঁধ ঝাঁকাল মেয়েটা, তবে বড্ড বেশি উদাসীন ভঙ্গিতে। ‘কিছু না।’

‘তাই নাকি?’

আবেগগুলো কোথায় লুকিয়ে রাখে মেয়েটা? ভাবল সে। মনে পড়ে গেল একবার ফিফথ এভিনিউ দিয়ে এক সুন্দরী নারীকে হেঁটে যেতে দেখে পেইন কী বলেছিল: প্যাকেজিং যত সুন্দর, মোড়ক খোলা তত কঠিন।

‘জানি না…আচ্ছা, একটা কথা মনে পড়েছে। কিন্তু এটার কোনো মানে হয় না। মানে কোনো প্রফেশনাল অবজারভেশন নয় এটা।’

প্রফেশনাল…নিজের মানদণ্ড নিজেই তৈরি করে নিলে এমন ঝামেলাই হয়, তাই না, অ্যামেলিয়া?

‘বলো না শুনি,’ তাকে বলল সে।

‘যখন আপনি আমাকে দিয়ে অপরাধীর অভিনয় করাচ্ছিলেন? আর আমি জায়গাটা খুঁজে পেলাম যেখান থেকে দাঁড়িয়ে সে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিল?’

‘বলে যাও।’

‘আসলে, আমার মনে হয়েছিল…’ এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো সুন্দর চোখদুটো জলে ভরে উঠবে তার। রংধনুর মতো নীল ঐ চোখ, খেয়াল করল সে। পর মুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিল মেয়েটা। ‘আমি ভাবছিলাম, মেয়েটার কি কোনো কুকুর ছিল? ঐ কোলফ্যাক্স মহিলার।’

‘কুকুর? এটা কেন মনে হলো তোমার?’

একটু ইতস্তত করে বলল সে, ‘আমার এক বন্ধু… কয়েক বছর আগে। আমরা ভাবছিলাম একটা কুকুর পালব, মানে আমরা যদি একসাথে থাকা শুরু করি আর কি। আমার সব সময় শখ ছিল। একটা কলি। মজার ব্যাপার হলো, আমার বন্ধুও ওটাই চেয়েছিল। একে অন্যকে চেনার আগে থেকেই।’

‘কুকুর।’ গ্রীষ্মের দুপুরে স্ক্রিন ডোরে গুবরে পোকা বাড়ি খাওয়ার মতো ধক করে উঠল রাইমের হৃৎপিণ্ড। ‘তারপর?’

‘আমার মনে হলো ঐ মহিলা-‘

‘টি.জে.,’ বলল রাইম।

‘টি.জে.,’ স্যাক্স বলে চলল। ‘আমার মনে হচ্ছিল ব্যাপারটা অনেক কষ্টের…মানে ওর যদি কোনো পোষা প্রাণী থেকেও থাকে, ও আর কোনোদিন বাড়ি ফিরে তাদের সাথে খেলতে পারবে না। ওর বয়ফ্রেন্ড বা স্বামীর কথা মনে আসেনি আমার। মনে এসেছে পোষা প্রাণীর কথা।’

‘কিন্তু এই চিন্তা কেন? কুকুর, পোষা প্রাণীর কথা কেন?’

‘জানি না কেন।’

নিস্তব্ধতা।

অবশেষে বলল সে, ‘হয়তো তাকে ওভাবে বাঁধা দেখে…আর আমি ভাবছিলাম লোকটা একপাশে দাঁড়িয়ে কীভাবে দেখছিল তাকে। তেলের ট্যাংকের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। মনে হচ্ছিল যেন খোঁয়াড়ে আটকানো কোনো পশুর দিকে তাকিয়ে আছে সে।’

জিসি-এমএস কম্পিউটার স্ক্রিনের সাইন ওয়েভগুলোর দিকে তাকাল রাইম। পশু… নাইট্রোজেন… ‘শিট!’ মুখ ফসকে বেরিয়ে এল রাইমের।

সবার মাথা ঘুরে গেল তার দিকে।

‘এটা বিষ্ঠা।’ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে সে।

‘হ্যাঁ, সেটাই!’ মাথার চুলগুলো ঠিক করতে করতে বলল কুপার। ‘এত নাইট্রোজেন। এটা তো পশুর মল। আর অনেক পুরোনো মল সেটা।’

লিংকন রাইমের মনে সেই মুহূর্তগুলোর একটা এসে হাজির হলো যা নিয়ে একটু আগেই ভাবছিল সে। আচমকা মাথায় খেলে গেল চিন্তাটা। ভেড়ার ছবি ভেসে উঠল।

সেলিট্টো জিজ্ঞেস করল, ‘লিংকন, তুমি ঠিক আছ?’

একটা ভেড়া, হেলেদুলে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে।

মনে হচ্ছিল যেন কোনো পশুর দিকে তাকিয়ে আছে সে…

‘টম,’ সেলিট্টো বলছে, ‘ও কি ঠিক আছে?’

খোঁয়াড়ের ভেতর ভাবলেশহীন প্রাণীটাকে দেখতে পেল রাইম। গলায় একটা ঘণ্টা, পেছনে একপাল পশু।

‘লিংকন,’ টম বলল উদ্বিগ্ন হয়ে। ‘ঘামছ তুমি। ঠিক আছ তো?’

‘শশশশ!’ ধমক দিল ক্রিমিনালিস্ট। গাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ার সুড়সুড়িটা টের পেল। মগজে উদ্দীপনা আর হার্ট ফেইলিউর; দুটোর লক্ষণই অদ্ভুত রকম কাছাকাছি। ভাবো, ভাবো…হাড়, কাঠের খুঁটি আর পশুর মল…’হ্যাঁ!’ ফিসফিস করে বলল সে। জুডাস ল্যাম্ব বা বিশ্বাসঘাতক ভেড়া, পুরো পালকে স্টকইয়ার্ডে টেনে নিয়ে যায়।

‘স্টকইয়ার্ড,’ ঘরের সবাইকে শুনিয়ে ঘোষণা করল রাইম। ‘একটা গবাদি পশুর খোঁয়াড়ে আটকে রাখা হয়েছে মেয়েটাকে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *