১. এক দিনের রাজা
২. লোকার্ডের নীতি
৩. দ্য পোর্টেবলস ডটার
8. ডাউন টু দ্য বোন
৫. নড়াচড়ার উপর থাকলে ওরা তোমায় ধরতে পারবে না

দ্য বোন কালেক্টর – ১৫

অধ্যায় পনেরো

ক্লিক করে জ্বলে উঠল ইএসইউ-র তিনটা হ্যালোজেন লাইট। গা ছমছমে সাদা আলোয় ভরে গেল অন্ধকার সুড়ঙ্গটা।

ঘটনাস্থলে এখন স্যাক্স একাই রয়েছে। মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ ধরে। কিছু একটা বদলে গেছে। কী সেটা?

আবার অস্ত্র বের করল সে, উবু হয়ে বসল। ‘সে এখানে এসেছে,’ ফিসফিস করে বলল।

‘কী?’ জানতে চাইল রাইম।

‘সে ফিরে এসেছে। এখানে কিছু মরা ইঁদুর ছিল। ওগুলো নেই।’

রাইমের হাসির শব্দ শুনতে পেল সে।

‘হাসির কী হলো?’

‘না, অ্যামেলিয়া। ওদের বন্ধুরাই লাশগুলো নিয়ে গেছে।’

‘বন্ধুরা?’

‘একবার হার্লেমে একটা কেস ছিল। টুকরো টুকরো করা পচা লাশ। শরীরের হাড়গোড়গুলো ধড়ের চারপাশে গোল করে সাজানো। মাথার খুলিটা ছিল একটা তেলের ড্রামের ভেতর, পায়ের আঙুলগুলো পাতার স্তূপের নিচে… পুরো এলাকায় হইচই পড়ে গিয়েছিল। খবরের কাগজে স্যাটানিস্ট বা শয়তানের উপাসক, সিরিয়াল কিলার—কত কী রটল। আন্দাজ করো তো আসামি কে ছিল?’

‘জানি না結構,’ কাঠখোট্টা গলায় বলল সে।

‘খোদ ভিকটিম। ওটা ছিল আত্মহত্যা। র‍্যাকুন, ইঁদুর আর কাঠবিড়ালিরা দেহাবশেষগুলো নিয়ে গিয়েছিল। স্মারকের মতো। কেউ জানে না কেন, কিন্তু ওরা স্যুভেনির খুব পছন্দ করে। এখন কোথায় আছ তুমি?’

‘র‍্যাম্পের গোড়ায়।’

‘কী দেখছ?’

‘একটা চওড়া সুড়ঙ্গ। দুপাশে দুটো সরু সুড়ঙ্গ। চ্যাপ্টা ছাদ, কাঠের খুঁটির উপর বসানো। খুঁটিগুলো সব থেঁতলে যাওয়া, চোট খাওয়া। মেঝেটা পুরোনো কংক্রিটের, ধুলোয় ঢাকা।’

আনসাব ৪২৩
চেহারাবাসাগাড়িঅন্যান্য
•ককেশিয়ান, পুরুষ, মধ্যম স্বাস্থ্য • গাঢ় রঙের পোশাক পরে • পুরোনো গ্লাভস, লালচে কিডস্কিন •আফটারশেভ (অন্য কোনো গন্ধ ঢাকার জন্য?) • স্কি মাস্ক? নেভি ব্লু? • গাঢ় রঙের গ্লাভসসম্ভবত সেফ হাউজ আছে• হলুদ ক্যাব •নতুন মডেলের সেডান •রং: ধূসর/রুপালি/বেইজ• ক্রাইম সিন প্রসিডিউর সম্পর্কে জানে • সম্ভবত আগের ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অ্যানালাইসিস জানে • পিস্তল = .৩২ কোল্ট • ভিক্টিমকে অদ্ভুতভাবে বাঁধে • প্রাচীন জিনিস তাকে টানে • কাজ চালানোর মতো জার্মান জানে • একজন ভিক্টিমকে ‘হ্যানা’ বলে ডেকেছে

‘আর গোবর?’

‘তেমনই তো মনে হচ্ছে। মাঝখানে, ঠিক আমার সামনেই আছে সেই খুঁটিটা যেখানে ওকে বেঁধে রাখা হয়েছিল।’

‘জানালা?’

‘একটাও না। দরজাও নেই।’ বিশাল সুড়ঙ্গটার দিকে তাকাল সে, মনে হচ্ছে মেঝেটা যেন হাজার মাইল দূরের কোনো কালো জগতে হারিয়ে গেছে।

হতাশা গ্রাস করল তাকে। ‘বড্ড বিশাল জায়গাটা! খোঁজার মতো অনেক জায়গা।’

‘অ্যামেলিয়া, শান্ত হও।’

‘আমি কিছুই খুঁজে পাব না এখানে।’

‘আমি জানি কেন অসম্ভব মনে হচ্ছে। কিন্তু মনে রেখো, মাত্র তিন ধরনের ফিজিক্যাল এভিডেন্স নিয়ে আমাদের কারবার। বন্ধু, শরীরের অংশবিশেষ আর ছাপ। এটুকুই। এভাবে ভাবলে ভয় কম লাগবে।’

শুয়ে শুয়ে সব বলা সহজ।

‘আর সিনটা দেখতে যতটা বড় মনে হচ্ছে ততটা নয়। ওরা যেখানে হেঁটেছে শুধু সেই জায়গাগুলোতে মনোযোগ দাও। খুঁটির কাছে যাও।’

রাস্তাটা ধরে হাঁটল স্যাক্স। নিচের দিকে তাকিয়ে। ইএসইউ-র আলোগুলো উজ্জ্বল হলেও ছায়াগুলোকে আরো প্রকট করে তুলেছে, উন্মুক্ত করেছে কিডন্যাপারের লুকানোর মতো ডজনখানেক জায়গা।

অ্যামেলিয়ার মেরুদণ্ড বেয়ে একটা ভয়ের স্রোত নামল। কাছে থেকো, লিংকন, অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভাবল সে। আমি রেগে আছি, ঠিক, কিন্তু তোমার কথা শুনতে চাই।

‘শ্বাস নাও বা কিছু একটা করো।’

থামল সে, মাটির উপর পলি-লাইটের আলো ফেলল।

‘সব ঝাড়ু দেওয়া?’ জানতে চাইল সে।

‘হ্যাঁ। আগের মতোই।’

স্পোর্টস ব্রা আর আন্ডারশার্টের উপর পরা বডি আর্মার বুকে ঘষা খাচ্ছে। বাইরের চেয়েও গরম বেশি এখানে। চামড়া সুড়সুড় করছে, ভেস্টের নিচে চুলকানোর জন্য আইঢাই করছে প্রাণটা।

‘খুঁটির কাছে আমি।’

‘ট্রেসের জন্য জায়গাটা ভ্যাকুয়াম করো।’

ডাস্ট-বাস্টার চালাল স্যাক্স। আওয়াজটা জঘন্য লাগছে। কাছিয়ে আসা পায়ের শব্দ, বন্দুক কিংবা ছুরি বের করার শব্দ—সব চাপা পড়ে যাচ্ছে এতে। নিজের অজান্তেই পেছনের দিকে তাকাল সে একবার, দুবার। হাতটা বন্দুকের দিকে যেতেই প্রায় ফেলেই দিচ্ছিল ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটা।

ধুলোর উপর মনেলের শরীর যেখানে পড়ে ছিল সেই ছাপটার দিকে তাকাল স্যাক্স। এই মুহূর্তে আমিই আততায়ী। আমিই ওকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছি। ও আমাকে লাথি মারল। আমি টাল সামলাতে গিয়ে…

মনেল কেবল একদিকেই লাথি মারতে পারত, র‍্যাম্পের উল্টো দিকে। আনসাব পড়ে যায়নি, বলেছিল সে। তার মানে সে নিশ্চয়ই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

অন্ধকারের ভেতর দুয়েক গজ হাঁটল স্যাক্স।

‘বিঙ্গো!’ চেঁচিয়ে উঠল স্যাক্স।

‘কী? বলো আমাকে?’

‘পায়ের ছাপ। ঝাড়ু দেওয়ার সময় একটা জায়গা মিস করেছে সে।’

‘ওর নয় তো?’

‘না। ও রানিং শু পরেছিল। এগুলোর তলা সমান। ফরমাল জুতোর মতো। দুটো ভালো ছাপ। ওর পায়ের সাইজ জানা যাবে।’

‘না, ওটা জানা যাবে না। জুতোর তলা উপরের অংশের চেয়ে ছোট বা বড় হতে পারে। তবে অন্য কিছু জানা যেতে পারে। সিএস ব্যাগে একটা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রিন্টার আছে। একটা ছোট বাক্স, সাথে একটা দণ্ড লাগানো। পাশে অ্যাসিটেট শিট পাবে। কাগজটা আলাদা করো, ছাপের উপর অ্যাসিটেট বিছিয়ে দাও আর ওটার উপর দিয়ে দণ্ডটা চালাও।’

যন্ত্রটা খুঁজে পেল সে, ছাপগুলোর দুটো প্রতিচ্ছবি তুলে নিল। সাবধানে কাগজের খামে ভরল ওগুলো।

খুঁটির কাছে ফিরে এল স্যাক্স। ‘আর এখানে ঝাড়ুর একটা খড় পড়ে আছে।’

‘কোথাকার?’

‘সরি,’ চটজলদি বলল স্যাক্স। ‘আমরা জানি না ওটা কোথেকে এসেছে। এক টুকরো খড়। আমি তুলে ব্যাগে ভরছি।’

পেনসিলগুলো ব্যবহারে বেশ দক্ষ হয়ে উঠছে সে। ক্রাইম সিনের ডিউটি থেকে চিরস্থায়ী অবসরে গেলে চাইনিজ খেতে যাবে সে। কাঠির ব্যবহার এখন ওর কাছে ছেলেখেলা। লিংকন হারামিটাকে বলা দরকার।

মনেল যে সরু সুড়ঙ্গটায় দৌড়েছিল, সেখানে ইএসইউ-র হ্যালোজেন আলো পৌঁছায়নি। আলো-আঁধারির সীমারেখায় থামল স্যাক্স, তারপর ছায়ার মধ্যে ঢুকে পড়ল। ফ্ল্যাশলাইটের আলো মেঝের উপর দিয়ে ঘুরে গেল।

‘কথা বলো, অ্যামেলিয়া।’

‘দেখার মতো তেমন কিছু নেই। এখানেও ঝাড়ু দিয়েছে সে। সব দিকেই খেয়াল ব্যাটার।’

‘কী দেখছ?’

‘ধুলোর উপর দাগ অনেক।’

আমি ওকে জাপটে ধরলাম, নিচে ফেললাম। আমি রেগে আছি। উন্মাদ। ওকে গলা টিপে মারতে চাইছি।

মাটির দিকে তাকিয়ে রইল স্যাক্স।

‘এখানে কিছু একটা আছে—হাঁটুর ছাপ! গলা টেপার সময় নিশ্চয়ই ওর কোমরের দুপাশে হাঁটু গেড়ে বসে ছিল সে। হাঁটুর ছাপ রেখে গেছে আর ঝাড়ু দেওয়ার সময় ওগুলো খেয়াল করেনি।’

‘ইলেকট্রোস্ট্যাটিক করো ওগুলো।’

করল সে, এবার আরো দ্রুত। যন্ত্রটার কায়দাটা ধরে ফেলেছে। ছাপটা খামে ভরার সময় কিছু একটা চোখে পড়ল তার। ধুলোর উপর আরেকটা দাগ। কী ওটা?

‘লিংকন… আমি সেই জায়গাটা দেখছি যেখানে… মনে হচ্ছে গ্লাভসটা এখানেই পড়েছিল। যখন ওরা ধস্তাধস্তি করছিল।’

পলি-লাইট জ্বালল সে। আর যা দেখল তা বিশ্বাস করতে পারল না। ‘একটা প্রিন্ট। একটা আঙুলের ছাপ পেয়েছি!’

‘কী?’ রাইম জিজ্ঞেস করল, গলায় অবিশ্বাসের সুর। ‘মনেলের নয় তো?’

‘উঁহু, হতেই পারে না। ও যেখানে শুয়ে ছিল সেখানকার ধুলো দেখতে পাচ্ছি। ওর হাতে তো সব সময় হাতকড়া ছিল। এটা সেই জায়গা যেখানে সে গ্লাভসটা তুলেছিল। হয়তো ভেবেছিল জায়গাটা ঝাড়ু দিয়েছে কিন্তু মিস করেছে। বিশাল, সুন্দর একটা ছাপ!’

‘রং করো, আলো ফেলো আর ওয়ান-টু-ওয়ান দিয়ে ছবি তোলো ঐ শয়তানের বাচ্চার।’

নিখুঁত পোলারয়েড ছবি তুলতে মাত্র দুবার চেষ্টা করতে হলো তাকে। মনে হলো যেন রাস্তায় পড়ে থাকা একশো ডলারের নোট কুড়িয়ে পেয়েছে।

‘জায়গাটা ভ্যাকুয়াম করে খুঁটির কাছে ফিরে যাও। গ্রিড ধরে হাঁটো,’ বলল লিংকন।

ধীরে ধীরে মেঝের উপর দিয়ে হাঁটল সে, সামনে-পেছনে। প্রতিবার এক ফুট করে।

‘উপরে তাকাতে ভুলো না,’ মনে করিয়ে দিল সে। ‘একবার আমি সিলিংয়ে লেগে থাকা একটা চুল দিয়ে এক আনসাবকে ধরেছিলাম। পয়েন্ট থ্রি-এইট রিভলবারে পয়েন্ট থ্রি-ফাইভ-সেভেন গুলি ভরেছিল সে। আর ব্লো-ব্যাক বা পেছনের ধাক্কায় তার হাতের একটা লোম ছিটকে গিয়ে ক্রাউন মোল্ডিংয়ে আটকে গিয়েছিল।’

‘তাকাচ্ছি। টালির ছাদ। নোংরা। আর কিছু নেই। কিছু লুকানোর জায়গাও নেই। কোনো কার্নিশ নেই।’

‘সাজানো কুগুলো কোথায়?’ জানতে চাইল সে।

‘কিছুই দেখছি না।’

앞-뒤। পাঁচ মিনিট কাটল। ছয়, সাত।

‘হয়তো এবার সে কোনো ক্লু রেখে যায়নি,’ বলল স্যাক্স। ‘হয়তো মনেলই শেষ।’

‘না,’ জোর দিয়ে বলল রাইম।

তারপর একটা কাঠের খুঁটির পেছনে কিছু একটা ঝিলিক দিয়ে উঠল।

‘কোনায় কিছু একটা আছে… হ্যাঁ। এই তো ওগুলো।’

‘ছুঁয়ে দেখার আগেই ছবি তোলো।’

ছবি তুলল সে, আর তারপর পেনসিল দিয়ে একদলা সাদা কাপড় তুলে নিল।

‘মেয়েদের আন্ডারওয়‍্যার। ভেজা।’

‘বীর্য?’

‘জানি না,’ বলল সে। ভাবল সে শুঁকে দেখতে বলবে কি না।

রাইম হুকুম দিল, ‘পলি-লাইট দিয়ে দেখো। প্রোটিন হলে জ্বলজ্বল করবে।’

আলোটা আনল সে, জ্বালল। কাপড়টা আলোকিত হলো কিন্তু তরলটা জ্বলল না।

‘না।’

‘ব্যাগে ভরো… প্লাস্টিকের। আর কী আছে?’ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল সে।

‘একটা পাতা। লম্বা, সরু, এক দিকটা চোখা।’

অনেক আগেই কাটা হয়েছে ওটা, শুকিয়ে বাদামি হয়ে আসছে।

হতাশায় রাইমের দীর্ঘশ্বাস শুনতে পেল সে। ‘ম্যানহাটনে প্রায় আট হাজার জাতের পর্ণমোচী উদ্ভিদ আছে। খুব একটা কাজে আসবে না। পাতার নিচে কী আছে?’ ও কেন ভাবছে ওখানে কিছু থাকবে?

তারপর আসলেই একটা জিনিস পাওয়া গেল।

খবরের কাগজের একটা টুকরো। একপাশটা সাদা, অন্যপাশে চাঁদের দশার একটা ছবি ছাপা।

‘চাঁদ?’ বিড়বিড় করল রাইম। ‘কোনো ছাপ? নিনহাইড্রিন স্প্রে করো আর আলো দিয়ে জলদি স্ক্যান করো।’

পলি-লাইটের আলোয় কিছুই দেখা গেল না।

‘এটুকুই।’

মুহূর্তের নীরবতা। ‘কুগুলো কীসের উপর রাখা?’

‘জানি না।’

‘জানতে হবে।’

‘ইয়ে, মাটির উপর,’ ঝাঁঝালো গলায় উত্তর দিল অ্যামেলিয়া। ‘ধুলো।’ আর কীসের উপর থাকবে?

‘আশেপাশের বাকি মাটির মতোই কি?’

‘হ্যাঁ।’ তারপর ভালো করে দেখল সে। ধুর, আলাদা ওটা। ‘না, ঠিক তা নয়। রংটা আলাদা।’

সব সময়ই কি ঠিক কথা বলে লোকটা?

রাইম নির্দেশ দিল, ‘ব্যাগে ভরো… কাগজের।’

দানাগুলো তোলার সময় সে বলল, ‘অ্যামেলিয়া?’

‘হ্যাঁ?’

‘সে ওখানে নেই,’ আশ্বস্ত করল রাইম।

‘তাই তো মনে হচ্ছে।’

‘তোমার গলা অন্য রকম লাগছে।’

‘আমি ঠিক আছি,’ ছোট করে বলল সে। ‘বাতাসের গন্ধ পাচ্ছি আমি। রক্তের গন্ধ। শ্যাওলা আর ভ্যাপসা গন্ধ। আর আবারো সেই আফটারশেভ।’

‘আগেরটার মতোই?’

‘হ্যাঁ।’

‘কোথেকে আসছে?’

বাতাস শুঁকতে শুঁকতে চক্কর দিল অ্যামেলিয়া স্যাক্স, আবারো সেই বড় কলাম।

অবশেষে আরেকটা কাঠের খুঁটির কাছে পৌঁছাল।

‘এখানে। এখানেই সবচেয়ে কড়া।’

‘এখানে-টা কোথায়, অ্যামেলিয়া? মনে রেখো, তুমিই আমার পা আর চোখ।’

‘কাঠের কলামগুলোর একটা। যেটায় মেয়েটাকে বাঁধা হয়েছিল সেটার মতোই। প্রায় পনেরো ফুট দূরে।’

‘তার মানে সে হয়তো ওটায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কোনো ছাপ?’ নিনহাইড্রিন স্প্রে করে আলো ফেলল সে।

‘না। কিন্তু গন্ধটা খুব কড়া।’

‘খুঁটির যে জায়গাটা থেকে সবচেয়ে কড়া গন্ধ আসছে সেখান থেকে একটা স্যাম্পল নাও। ব্যাগে একটা মোটো-টুল আছে। কালো রঙের। পোর্টেবল ড্রিল। একটা স্যাম্পলিং বিট নাও, ফাঁপা ড্রিল বিটের মতো, আর টুলে লাগাও। চাক নামে একটা জিনিস আছে। ওটা একটা…’

‘আমার একটা ড্রিল প্রেস আছে,’ সংক্ষেপে বলল সে।

‘ওহ,’ বলল রাইম।

খুঁটি থেকে এক টুকরো কাঠ ড্রিল করে বের করল সে, কপাল থেকে ঘাম ঝাড়ল। ‘প্লাস্টিক ব্যাগে ভরব?’ জানতে চাইল সে।

হ্যাঁ বলল রাইম। মাথা ঘুরে উঠল তার, মাথা নিচু করে শ্বাস নিল।

একদম বাতাস নেই এখানে।

‘আর কিছু?’ জানতে চাইল রাইম।

‘দেখার মতো আর কিছু নেই।’

‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত, অ্যামেলিয়া। ফিরে এসো। আর তোমার রত্নভান্ডার সাথে নিয়ে এসো।’

‘সাবধানে!’ ধমকে উঠল রাইম।

‘এ কাজে আমি ওস্তাদ।’

‘ব্লেডটা নতুন না পুরোনো?’

‘চুপ,’ বলল টম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *