অধ্যায় তেরো
‘ম্যানহাটনে কোনো স্টকইয়ার্ড নেই।’
‘অতীত, লন,’ মনে করিয়ে দিল রাইম। ‘পুরোনো জিনিস টানে তাকে। রক্ত গরম করে দেয়। আমাদের পুরোনো আমলের স্টকইয়ার্ডের কথা ভাবতে হবে। যত পুরোনো, তত ভালো।’
বইয়ের রিসার্চ করার সময় ওনি ম্যাডেনের বিরুদ্ধে ওঠা একটা খুনের অভিযোগের কথা পড়েছিল রাইম: হেলস কিচেনের টাউনহাউজের সামনে এক প্রতিপক্ষ বুটলেগারকে গুলি করে মারার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। সেই যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিল ম্যাডেন, অন্তত ঐ খুনের দায়ে সাজা হয়নি তার। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সুসভ্য ব্রিটিশ বাচনভঙ্গিতে বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে এক নাতিদীর্ঘ ভাষণ দিয়েছিল সে।
‘এই পুরো কেসটাই সাজানো হয়েছে আমার শত্রুদের কথায়, যারা আমার নামে মিথ্যা ছড়াচ্ছে। ইওর অনার, জানেন ওরা আমাকে কীসের কথা মনে করিয়ে দেয়? আমার পাড়ায়, হেলস কিচেনে, স্টকইয়ার্ড থেকে ভেড়ার পালকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো ফর্টি-সেকেন্ড স্ট্রিটের স্টকইয়ার্ডে। আর জানেন কে পথ দেখাত ওদের? কোনো কুকুর নয়, কোনো মানুষও নয়। ওদেরই একজন। গলায় ঘণ্টা বাঁধা এক জুডাস ল্যাম্ব। র্যাম্প বেয়ে উপরে উঠে যেত সে। তারপর থেমে যেত, আর বাকিরা সোজা ঢুকে যেত ভেতরে। আমি এক নিষ্পাপ ভেড়া, আর আমার বিরুদ্ধে ঐ সাক্ষীরা, ওরাই হলো সব জুডাস।’
রাইম বলল, ‘লাইব্রেরিতে ফোন করো, ব্যাংকস। নিশ্চয়ই কোনো ইতিহাসবিদ আছে ওদের।’
সেলফোন খুলে ফোন করল তরুণ ডিটেকটিভ। কথা বলতে বলতে গলার স্বর নিচু হয়ে এল তার। কী দরকার বুঝিয়ে বলার পর চুপ করে ম্যাপের দিকে তাকিয়ে রইল সে।
‘কী হলো?’ জানতে চাইল রাইম।
‘কাউকে খুঁজছে ওরা। পেয়েছে…’ মাথা নিচু করে ফোনে উত্তর দিল ব্যাংকস, তারপর অনুরোধটা আবার জানাল। মাথা নাড়তে শুরু করল সে, তারপর ঘরের সবাইকে জানাল, ‘দুইটা জায়গার খোঁজ পেয়েছি…না, তিনটা।’
‘কে লাইনে?’ ধমকে উঠল রাইম। ‘কার সাথে কথা বলছ?’
‘সিটি আর্কাইভের কিউরেটর… উনি বলছেন ম্যানহাটনে প্রধানত তিনটা স্টকইয়ার্ড এলাকা ছিল। একটা ওয়েস্ট সাইডে, সিক্সটিইথ স্ট্রিটের দিকে… একটা হার্লেমে, তিরিশ বা চল্লিশের দশকে। আর বিপ্লবের সময় একটা ছিল লোয়ার ইস্ট সাইডে।’
‘ঠিকানাগুলো বলো!’
‘উনি নিশ্চিত নন।’
‘খুঁজে দেখছেন না কেন? উনাকে বলো খুঁজে দেখতে।’
ব্যাংকস জবাব দিল, ‘উনি শুনেছেন আপনার কথা, স্যার… বলছেন, কীসে খুঁজবেন? তখন তো আর ইয়েলো পেজেস ছিল না। উনি দেখছেন পুরোনো…’
‘রাস্তার নামহীন বাণিজ্যিক এলাকার ডেমোগ্রাফিক ম্যাপ,’ গজগজ করে বলল রাইম। ‘স্বাভাবিক। আন্দাজ করতে বলো।’
‘তাই করছেন তিনি। আন্দাজ করছেন।’
‘বলো জলদি আন্দাজ করতে!’ চেঁচিয়ে উঠল রাইম।
মাথা নেড়ে কথা শুনছে ব্যাংকস।
‘কী, কী, কী, কী?’
‘সিক্সটিইথ স্ট্রিট আর টেনথ-এর আশেপাশে,’ বলল তরুণ অফিসার। মুহূর্তখানেক পর: ‘লেক্সিংটন, হার্লেম রিভারের কাছে…আর তারপর… যেখানে ডেলান্সি ফার্ম ছিল। ওটা কি ডেলান্সি স্ট্রিটের কাছে?’
‘অবশ্যই কাছে। লিটল ইতালি থেকে ইস্ট রিভার পর্যন্ত পুরোটা। বিশাল এলাকা। মাইলকে মাইল। আরেকটু নির্দিষ্ট করতে পারছে না?’
‘ক্যাথেরিন স্ট্রিটের আশেপাশে। লাফাফেৎ… ওয়াকার। নিশ্চিত নন তিনি।’
‘কোর্টহাউজগুলোর কাছে,’ বলল সেলিট্টো। তারপর ব্যাংকসকে বলল, ‘হাউম্যানের টিমকে মুভ করাও। ভাগ করে দাও ওদের। তিনটা এলাকাতেই হানা দিক।’
ফোন করল তরুণ ডিটেকটিভ, তারপর মুখ তুলে চাইল। ‘এখন কী?’
‘অপেক্ষা,’ বলল রাইম।
‘অপেক্ষা করতে জঘন্য লাগে আমার ভিন,’ বিড়বিড় করে বলল সেলিটো।
রাইমকে জিজ্ঞেস করল স্যাক্স, ‘ফোনটা ব্যবহার করতে পারি?’
বিছানার পাশের ফোনটার দিকে ইশারা করল রাইম।
ইতস্তত করল সে। ‘ভেতরে আরেকটা আছে না?’ হলওয়ের দিকে ইশারা করল সে।
মাথা নাড়ল রাইম।
সোজা হয়ে হেঁটে বেডরুম থেকে বেরিয়ে গেল সে। হলওয়ের আয়নায় রাইম দেখতে পেল তাকে, গম্ভীর মুখে খুব জরুরি একটা ফোন করছে সে। কাকে? ভাবল রাইম। বয়ফ্রেন্ড, স্বামী? নাকি ডে-কেয়ার সেন্টার? কলির কথা বলার সময় বন্ধু-র উল্লেখ করতে গিয়ে ইতস্তত করেছিল কেন? নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো কাহিনি আছে, বাজি ধরতে পারে রাইম।
যাকেই ফোন করুক না কেন, তাকে পাওয়া গেল না। রাইম লক্ষ্য করল, উত্তর না পেয়ে মেয়েটার নীল চোখদুটো পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল। মুখ তুলে তাকাল সে, ধুলোমাখা আয়নায় রাইমের চোখাচোখি হলো তার। ঘুরে দাঁড়াল। ক্রেডলে রিসিভার নামিয়ে রেখে ফিরে এল ঘরে।
পুরো পাঁচ মিনিট পিনপতন নীরবতা। টেনশন কমানোর জন্য মানুষ সচরাচর যা করে, রাইমের সে উপায় নেই।
সুস্থ থাকতে উত্তেজনার বশে পায়চারি করত সে, আইআরডি-র অফিসারদের পাগল করে তুলত। এখন তার চোখদুটো কেবল শহরের র্যান্ডেল ম্যাপটা স্ক্যান করে যাচ্ছে, ওদিকে টুপির নিচে হাত ঢুকিয়ে মাথায় চুলকাচ্ছে স্যাক্স।
নিস্পৃহ মেল কুপার সার্জনের মতো শান্ত ভঙ্গিতে আলামতের ক্যাটালগ করছে। সেলিটোর ফোনটা কর্কশ শব্দে বেজে উঠতেই চমকে উঠল ঘরের সবাই, এক মুহূর্ত শুনল সে; মুখে হাসি ফুটে উঠল তার।
‘পেয়েছি! হাউম্যানের একটা স্কোয়াড ইলেভেনথ আর সিক্সটিইথের কাছে আছে। ওখানকার কোনো একটা জায়গা থেকে একটা মেয়ের চিৎকার শুনতে পাচ্ছে ওরা। ঠিক কোথায় বুঝতে পারছে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজছে।’
‘দৌড়ানোর জুতো পরে নাও,’ স্যাক্সকে বলল রাইম।
মেয়েটার মুখটা ঝুলে যেতে দেখল সে। রাইমের ফোনের দিকে তাকাল, মনে হলো যেন এই বুঝি গভর্নরের কাছ থেকে মাফ করে দেওয়ার ফোন আসবে। তারপর তাকাল সেলিট্টোর দিকে। ওয়েস্ট সাইডের ট্যাকটিক্যাল ম্যাপের উপর ঝুঁকে আছে সে।
‘অ্যামেলিয়া,’ বলল রাইম, ‘আমরা একজনকে হারিয়েছি। খুব খারাপ ব্যাপার। কিন্তু আর কাউকে হারাতে চাই না আমরা।’
‘যদি দেখতে ওকে,’ ফিসফিস করে বলল সে। ‘ও কী করেছে মেয়েটার সাথে, যদি দেখতে…’
‘দেখেছি আমি, অ্যামেলিয়া,’ শান্ত গলায় বলল সে, তার দৃষ্টি কঠোর আর চ্যালেঞ্জিং। ‘টি.জে.-র কী দশা হয়েছিল দেখেছি আমি। গরম গাড়ির ট্রাংকে এক মাস লাশ পড়ে থাকলে কী হয় দেখেছি। এক পাউন্ড সি-ফোর বিস্ফোরক মানুষের হাত-পা আর মুখের কী হাল করে দেখেছি। হ্যাপি ল্যান্ড সোশ্যাল ক্লাবের অগ্নিকাণ্ডে কাজ করেছি আমি। আশিজনেরও বেশি মানুষ পুড়ে মরেছিল। ভিকটিমদের মুখের, বা যা অবশিষ্ট ছিল তার পোলারয়েড ছবি তুলেছিলাম আমরা, যাতে পরিবারগুলো শনাক্ত করতে পারে। কারণ ঐ লাশের সারির পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে সুস্থ থাকা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কাজটা করতেই হতো… আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না।’ ঘাড়ের অসহ্য ব্যথাটা চেপে রাখার জন্য জোরে শ্বাস নিল রাইম।
‘দেখো অ্যামেলিয়া, এই পেশায় টিকে থাকতে চাইলে, এই জীবনে টিকে থাকতে চাইলে, মৃতদের মায়া ত্যাগ করা শিখতে হবে তোমাকে।’
ঘরের বাকিরা হাতের কাজ থামিয়ে ওদের দুজনকে দেখছে। অ্যামেলিয়া স্যাক্সের মুখে আর কোনো ভদ্রতা অবশিষ্ট নেই। নেই কোনো মেকি হাসি। মুহূর্তের জন্য নিজের দৃষ্টিটা দুর্বোধ্য রাখার চেষ্টা করল সে। কিন্তু কাচের মতো স্বচ্ছ হয়ে ধরা দিল তার মনের ভাব। তার উপর নির্ঘাত প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে মেয়েটার। কালো মেঘের মতো সেই রাগ গ্রাস করল তার লম্বাটে মুখখানাকে। লাল চুলের একটা অলস গুচ্ছ এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে টেবিল থেকে হেডসেটটা ছোঁ মেরে তুলে নিল সে। সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে একদণ্ড থামল, ভস্ম করে দেওয়া দৃষ্টিতে তাকাল রাইমের দিকে, মনে করিয়ে দিল: সুন্দরী নারীর হিমশীতল হাসির চেয়ে ঠান্ডা আর কিছু হতে পারে না।
আর কেন যেন রাইমের মনে হলো: অ্যামেলিয়া আবার এই দুনিয়ায় ফিরে এসেছে।
‘কী পেলে? মালকড়ি, কোনো গল্প, নাকি ছবি?’
ম্যানহাটনের ইস্ট সাইডে থার্ড অ্যাভিনিউয়ের একটা বারে বসে আছে নোংরা লোকটা। শহরের কাছের জায়গাটা শহরতলির স্ট্রিপ মলের মতোই। এটা একটা সস্তা নোংরা খানা, শীঘ্রই হয়তো বড়লোক ইয়াপিদের আড্ডাখানা হয়ে উঠবে। কিন্তু এখন এটা বাজে পোশাক পরা স্থানীয়দের আস্তানা, যারা নষ্টপ্রায় মাছ আর নেতিয়ে পড়া সালাদ দিয়ে ডিনার সারে। ছিপছিপে লোকটার চামড়া আবলুশ কাঠের মতো কালো, পরনে ধবধবে সাদা শার্ট আর কটকটে সবুজ স্যুট।
নোংরা লোকটার দিকে ঝুঁকে এল সে। ‘কোনো খবর আছে? গোপন কোড, চিঠি?’
‘হায়রে।’
‘হায়রে বলার সময় কিন্তু তুমি হাসোনি,’ বলল ফ্রেড ডেলরে, আসলে নামটা ডি’এলরেট, কিন্তু সে অনেক প্রজন্ম আগের কথা। ছয় ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতা তার, আজগুবি রসিকতা করলেও হাসে কদাচিৎ, ম্যানহাটনের এফবিআই অফিসের স্টার স্পেশাল এজেন্ট সে।
‘নারে ভাই। হাসছি না আমি।’
‘তো কী আছে তোমার কাছে?’ বাম কানের উপর গুঁজে রাখা সিগারেটের শেষ প্রান্তটা টিপল ডেলরে।
‘সময় লাগে।’
টেলেটেল চুল চুলকাল নোংরা লোকটা, বেঁটেখাটো এক লোক।
‘কিন্তু তোমার হাতে সময় নেই। সময় বড় দামি। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আর এই একটা জিনিসই তোমার হাতে নেই।’
টেবিলের নিচে বিশাল হাতটা নিয়ে গেল ডেলরে, উপরে দুটো কফি রাখা। নোংরা লোকটার উরুতে এমন জোরে চাপ দিল যে ককিয়ে উঠল লোকটা। মাস ছয়েক আগে একজোড়া ডানপন্থী পাগলের কাছে অটোমেটিক এম-সিক্সটিন বেচতে গিয়ে ধরা পড়েছিল এই হাড়গিলে লোকটা। ক্রেতা দুটো সত্যিই পাগল ছিল নাকি আন্ডারকাভার বিএটিএফ এজেন্ট, সেটা তর্কের বিষয়। ফেডরা অবশ্য নোংরা লোকটাকে চায়নি, ধড়িবাজ খুদে শয়তান ওটা। ওরা চেয়েছিল যে বন্দুকগুলোর যোগান দিচ্ছে তাকে। এটিএফ অনেক চেষ্টা করেও রাঘববোয়াল ধরতে পারেনি, তাই ওকে গছিয়ে দিয়েছে ডেলরের ঘাড়ে, ব্যুরোর এক নম্বর টিকটিকি-হ্যান্ডলার সে, যদি কোনো কাজে লাগানো যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেবল বিরক্তিই উৎপাদন করেছে ইঁদুরের মতো দেখতে এই কঙ্কালসার লোকটা। খবর, গোপন কোড-কিছুই দিতে পারেনি ফেডদের।
‘মামলা থেকে বাঁচার একটাই রাস্তা খোলা আছে তোমার সামনে, সেটা হলো আমাদের খুব সুন্দর আর জম্পেশ কিছু দেওয়া। কথাটা কি পরিষ্কার?’
‘বলছি তো, এই মুহূর্তে তোমাদের জন্য আমার কাছে কিছু নেই।’
‘মিথ্যা কথা, ডাহা মিথ্যা। কিছু একটা আছে তোমার পেটে। তোমার মুখ দেখেই বুঝতে পারছি আমি। কিছু একটা জানো তুমি, মশাই।’
বাইরে একটা বাস এসে থামল, ব্রেকের বাতাসের হিসহিস শব্দ। খোলা দরজা দিয়ে নামল একদল পাকিস্তানি।
‘বালের ইউএন কনফারেন্স,’ বিড়বিড় করল নোংরা লোকটা, ‘오রা এখানে আসে কেন? শহরটা এমনিতেই ভিড়ে ঠাসা। যত্তসব বিদেশি।’
‘আরেশশালা, তুই তো একটা ছোটলোক!’ ধমকে উঠল ডেলরে। ‘বিশ্বশান্তি নিয়ে তোর এত চুলকানি কীসের?’
‘চুলকানি নেই।’
‘এখন, ভালো কোনো খবর দে আমাকে।’
‘ভালো খবর কিছু জানি না।’
‘কার সাথে কথা বলছিস খেয়াল আছে?’
শয়তানি হাসি হাসল ডেলরে। ‘আমি বহুরূপী। আমি হাসতে পারি, খুশি হতে পারি, আবার রেগে গিয়ে চাপাচাপিও খেলতে পারি।’
‘না, ভাই, না,’ চিচি করে উঠল নোংরা লোকটা। ‘উফ, লাগছে। ছাড়ো।’
বারটেন্ডার ওদের দিকে তাকাতেই ডেলরের ছোট্ট একটা চাহনি তাকে আবার গ্লাস মোছার কাজে ফেরত পাঠাল।
‘ঠিক আছে, হয়তো একটা ব্যাপার জানি। কিন্তু সাহায্য লাগবে আমার…’
‘আবার চাপাচাপি খেলব নাকি?’
‘মারা খাও তুমি!’
‘ওহ, দারুণ স্মার্ট ডায়লগ,’ পাল্টা জবাব দিল ডেলরে। ‘থার্ডক্লাস সিনেমার ডায়লগ, যেখানে ভিলেন আর হিরোর দেখা হয় শেষে। এখন, কাজের কোনো খবর দে।’
নোংরা লোকটা চোখ নামিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তার দিকে তাকিয়ে রইল সে।
‘ওকে, ব্যাপারটা এই। তোমাকে বিশ্বাস করে বলছি…’
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ। কী আছে ঝাড়।’
‘জ্যাকির সাথে কথা হচ্ছিল, জ্যাকিকে চেনো তো?’
‘জ্যাকিকে চিনি।’
‘সে আমাকে বলছিল।’
‘কী বলছিল?’
‘বলছিল সে শুনেছে এই সপ্তাহে কারো যদি কোনো মাল আনা-নেওয়ার থাকে, তবে যেন এয়ারপোর্ট ব্যবহার না করে।’
‘কী…’
‘তো কী আনা-নেওয়া করার কথা ছিল? আরো সিক্সটিন?’
‘আরে ভাই, আমার নিজের কোনো মাল ছিল না। আমি বলছি জ্যাকি আমাকে বলেছে।’
‘হ্যাঁ। এমনি সাধারণ কথা, বুঝলে?’
বড় বড় বাদামি চোখ মেলে ডেলরের দিকে তাকাল নোংরা লোকটা। ‘আমি কি তোমাকে মিথ্যা বলব?’
‘কখনো নিজের আত্মসম্মান খোয়াবি না,’ গম্ভীরভাবে সাবধান করল এজেন্ট, নোংরা লোকটার বুকে শক্ত আঙুল তাক করল। ‘এখন বল এয়ারপোর্টের ব্যাপারটা কী। কোনটা? কেনেডি, লা গার্দিয়া?’
‘জানি না। শুধু জানি খবর রটেছে যে কেউ একজন এখানকার কোনো একটা এয়ারপোর্টে থাকবে। খুবই খারাপ কোনো লোক।’
‘নাম বল।’
‘নাম নেই।’
‘জ্যাকি কোথায়?’
‘জানি না। সাউথ আফ্রিকায় মনে হয়। হয়তো লাইবেরিয়ায়।’
‘এসবের মানে কী?’ কানের সিগারেট-টা আবার টিপল ডেলরে।
‘আমার মনে হয় বড় কোনো ঝামেলা হওয়ার চান্স ছিল, বুঝলে? তাই ঐ সময় মাল খালাস করা ঠিক হতো না।’
‘তোর তাই মনে হয়।’ কুঁকড়ে গেল নোংরা লোকটা, কিন্তু ডেলরে এখন আর বামনটাকে ভয় দেখানোর কথা ভাবছে না। সতর্কঘণ্টা বাজছে তার মাথায়: জ্যাকি এমন এক অস্ত্র-দালাল যাকে দুই ব্যুরোই এক বছর ধরে চেনে। সে হয়তো তার কোনো ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কিছু শুনেছে; আফ্রিকা বা মধ্য ইউরোপের কোনো সৈনিক কিংবা আমেরিকার কোনো মিলিশিয়া সেলের কাছ থেকে এয়ারপোর্টে সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে।
সাধারণ অবস্থায় ডেলরে এসব কানে তুলত না, যদি-না গত রাতে জেএফকে-তে ঐ কিডন্যাপিংয়ের ঘটনাটা ঘটত। খুব একটা পাত্তাও দেয়নি ওটাকে, ওটা নিউ ইয়র্ক পুলিশের কেস। কিন্তু এখন লন্ডনের ইউনেস্কো মিটিংয়ে ভেস্তে যাওয়া হামলার কথাও মনে পড়ে গেল তার।
‘সে আর কিছু বলেনি?’
‘নারে ভাই। আর কিছু না। খিদে পেয়েছে আমার। কিছু কিনে দেবে?’
‘আত্মসম্মানবোধের কথাটা মনে আছে?’ খিঁচিয়ে উঠল ডেলরে। ‘একটা ফোন করতে হবে আমাকে।’
ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ তুলে সিক্সটিইথ স্ট্রিটে থামল আরআরভি। ক্রাইম সিনের স্যুটকেস, পলি-লাইট আর বড় টুয়েলভ-ভোল্টের ফ্ল্যাশলাইটটা বাগিয়ে নিল স্যাক্স।
‘সময়মতো পেয়েছ ওকে?’ এক ইএসইউ ট্রুপারের উদ্দেশে চেঁচিয়ে জানতে চাইল স্যাক্স। ‘ঠিক আছে ও?’
முதলে কেউ উত্তর দিল না। তারপর চিৎকারটা শুনতে পেল সে।
‘হচ্ছেটা কী এখানে?’ বিড়বিড় করল সে, দৌড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বিশাল দরজাটার কাছে গেল, যেটা ইমার্জেন্সি সার্ভিসের লোকেরা ভেঙে ফেলেছে। একটা চওড়া ড্রাইভওয়ে দেখা যাচ্ছে, যেটা নেমে গেছে এক পরিত্যক্ত ইটের দালানের নিচে। ‘এখনো ভেতরে ও?’
‘হ্যাঁ।’
‘কেন?’ অবাক হয়ে জানতে চাইল অ্যামেলিয়া স্যাক্স।
‘আমাদের ভেতরে যেতে বারণ করা হয়েছে।’
‘বারণ করা হয়েছে?’ চিৎকার করছে মেয়েটা।
‘শুনতে পাচ্ছ না?’ এক ইএসইউ পুলিশ বলল। ‘আমাদের বলেছে তোমার জন্য অপেক্ষা করতে।’
নির্ঘাত ঐ হারামি লিংকন রাইমের কাজ এটা।
‘আমাদের কাজ ছিল খুঁজে বের করা,’ বলল অফিসার। ‘ভেতরে যাওয়ার কথা তোমার।’
হেডসেট চালু করল সে। ‘রাইম!’ চেঁচিয়ে উঠল। ‘আছ তুমি?’ কোনো উত্তর নেই…যত্তসব কাপুরুষ।
মৃতদের মায়া ত্যাগ করো… শালার ব্যাটা শালা! মিনিট কয়েক আগে রাইমের টাউনহাউজের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় যতটা রেগে ছিল, এখন রাগ তার দ্বিগুণ। পেছনে তাকাল স্যাক্স, এক ইএমএস বাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক মেডিককে দেখতে পেল।
‘এই যে তুমি, এসো আমার সাথে!’
এক পা এগিয়েই স্যাক্সকে অস্ত্র বের করতে দেখে থমকে গেল সে।
‘ওহ, দাঁড়ান,’ বলল মেডিক। ‘এলাকা সিকিউর বা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমার ঢোকার নিয়ম নেই।’
‘এখনই! চলো!’ ঘুরে দাঁড়াল সে, নিশ্চয়ই বন্দুকের নলটা একটু বেশিই দেখে ফেলেছে লোকটা। মুখ কালো করে স্যাক্সের পিছু নিল সে।
মাটির নিচ থেকে ভেসে এল: ‘আইইইইই!’
‘হিলফে! বাঁচাও!’ তারপর কান্না।
জিসাস। বিশাল হাঁ করা দরজাটার দিকে দৌড়াতে শুরু করল স্যাক্স, বারো ফুট উঁচু, ভেতরে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকার।
মাথার ভেতর শুনতে পেল: তুমিই সে, অ্যামেলিয়া। এবার বলো, কী ভাবছ তুমি?
দূর হও, মনে মনে বলল সে। কিন্তু লিংকন রাইম গেল না।
তুমি একজন খুনি এবং কিডন্যাপার। কোথায় হাঁটবে তুমি, কী স্পর্শ করবে?
গোল্লায় যাক! আমি ওকে বাঁচাতে যাচ্ছি। জাহান্নামে যাক ক্রাইম সিন…
‘মাইন গট! সাম-ওয়ান, প্লিজ হেল্প!’
যাও, নিজেকেই চিৎকার করে বলল স্যাক্স। ঝেড়ে দৌড় লাগাও! সে নেই এখানে। তুমি নিরাপদ। ওকে বের করো, যাও…
গতি বাড়াল সে, কোমরের ইউটিলিটি বেল্ট ঝনঝন করে উঠল। তারপর টানেলের বিশ ফুট ভেতরে এসে ব্রেক কষল সে। দ্বিধাদ্বন্দ্ব। যে পক্ষ জিতল সেটা পছন্দ হলো না তার।
‘ধুশশালা!’ থুতু ছিটাল সে। স্যুটকেসটা নামিয়ে রাখল, খুলল ডালা। হড়বড় করে মেডিককে বলল, ‘এই যে নাম কী তোমার?’
‘ট্যাড ওয়ালশ,’ অস্বস্তিতে জবাব দিল যুবক। ‘মানে, হচ্ছেটা কী?’
অন্ধকারের দিকে তাকাল সে।
‘ওহ… বিট্টে, হেলফেন জি মির!’
‘কাভার দাও আমাকে ভিন,’ ফিসফিস করে বলল স্যাক্স।
‘কাভার দেবো? দাঁড়ান একটু, আমি ওসব করি না।’
‘বন্দুকটা নাও, ঠিক আছে?’
‘কীসের হাত থেকে কাভার দেবো আপনাকে?’
অটোমেটিক পিস্তলটা ওর হাতে গুঁজে দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল সে। ‘সেফটি অফ করা আছে। সাবধানে।’
দুটো রাবার ব্যান্ড নিয়ে জুতোর উপর পরিয়ে নিল সে। পিস্তলটা ফেরত নিয়ে তাকেও হুকুম দিল একই কাজ করতে। কাঁপা হাতে ব্যান্ডগুলো পরল সে।
‘আমি ভাবছি…’
‘চুপ। ও এখনো এখানে থাকতে পারে।’
‘এক মিনিট দাঁড়ান, ম্যাম,’ ফিসফিস করে বলল মেডিক। ‘আমার চাকরির শর্তে এসব লেখা নেই।’
‘আমারটাতেও নেই। আলোটা ধরো।’ ফ্ল্যাশলাইটটা ওর হাতে দিল সে।
‘কিন্তু সে যদি এখানে থাকে, তবে আলো লক্ষ্য করেই গুলি করবে। মানে, আমি হলে তো তাই করতাম।’
‘তাহলে উঁচুতে ধরো। আমার কাঁধের উপর দিয়ে। আমি সামনে থাকব। গুলি খেলে আমিই খাব।’
‘তখন আমি কী করব?’
ট্যাডের গলা শুনে টিনএজারের মতো লাগছে।
‘আমি হলে তো জান নিয়ে পালাতাম,’ বিড়বিড় করল স্যাক্স। ‘এবার আমার পেছনে এসো। আর আলোটা স্থির রাখবে।’
বাঁ হাতে কালো সিএস স্যুটকেসটা টেনে, অস্ত্রটা সামনে ধরে অন্ধকারের দিকে এগোল সে। মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে এখন। আবারো সেই ঝাড়ু দেওয়ার দাগ দেখতে পেল, ঠিক আগের সিনটার মতো।
‘বিট্টে নিস্ট, বিট্টে নিস্ট, বিট্টে…’ ছোট্ট একটা চিৎকার, তারপর নীরবতা।
‘নিচে হচ্ছেটা কী?’ ফিসফিস করে বলল ট্যাড।
‘শশশশ,’ হিসহিস করল স্যাক্স।
ধীরে ধীরে এগোল ওরা। পিচ্ছিল ঘাম শুকানোর জন্য গ্লক ধরা হাতের আঙুলে ফুঁ দিল স্যাক্স। আর ট্যাডের কাঁপা হাতে ধরা আলোর নাচুনির মধ্যে কাঠের খুঁটি, ছায়া আর পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতির দিকে সতর্ক নজর রাখল। পায়ের কোনো ছাপ পেল না সে। পাবে না, জানা কথা। আততায়ী বেশ চালাক।
কিন্তু আমরাও চালাক, মনে মনে লিংকন রাইমের গলা শুনতে পেল সে। আর শোনামাত্রই তাকে চুপ করতে বলল।
আরো ধীরে এবার। আরো পাঁচ ফুট। থামা। আবার ধীরে এগোনো। মেয়েটার গোঙানি উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে।
আবারো সেই অনুভূতিটা হলো-কেউ একজন দেখছে তাকে, পিঠের উপর বন্দুকের নলের সেই সুড়সুড়ি। ভাবল, বডি আর্মার ফুল-মেটাল জ্যাকেট ঠেকাতে পারবে না। তাছাড়া, অর্ধেক বদমাশই ব্ল্যাক ট্যালন বুলেট ব্যবহার করে। কাজেই পায়ে বা হাতে গুলি লাগলেও বুকের মতোই মারা পড়বে সে। আর অনেক বেশি যন্ত্রণার সাথে। নিক বলেছিল ঐ বুলেটগুলো শরীরে ঢুকে কীভাবে ছাতুর মতো ছররা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে; তার এক পার্টনার অমন দুটো গুলিতেই নিকের কোলে মারা গিয়েছিল।
উপর থেকে এবং পেছন থেকে…
ওর কথা ভাবতে ভাবতে এক রাতের কথা মনে পড়ল। নিকের শক্ত বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল সে, বালিশের উপর ওর সুদর্শন ইতালিয়ান মুখের ছায়ার দিকে তাকিয়ে শুনছিল জিম্মি উদ্ধারের কায়দাকানুন: ‘ভেতরে কেউ যদি ওঁত পেতে থাকে, তবে মারবে উপর থেকে এবং পেছন থেকে…’
‘সেরেছে।’
উবু হয়ে বসে চট করে ঘুরে দাঁড়াল সে। সিলিংয়ের দিকে তাক করল গ্লক, ম্যাগাজিন খালি করে দেওয়ার জন্য তৈরি।
‘কী?’ ফিসফিস করে বলল ট্যাড, কুঁকড়ে গেছে ভয়ে। ‘কী?’
শূন্যতা হাঁ করে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
‘কিছু না।’ বুকভরে শ্বাস নিয়ে উঠে দাঁড়াল।
‘অমন করবেন না।’
সামনে গড়গড় আওয়াজ হলো একটা।
‘জিসাস,’ আবারো চড়ল ট্যাডের গলা। ‘ঘেন্না লাগছে আমার।’
ব্যাটা ভীতুর ডিম, ভাবল সে। আমিও অবশ্য তাই।
থামল সে। ‘আলোটা ওখানে ফেলো। সামনে।’
‘ওহ, মাই এভারলাভিং…’
আগের সিনে পাওয়া চুলগুলোর রহস্য অবশেষে বুঝতে পারল স্যাক্স। সেলিট্টো আর রাইমের সেই চাহনি বিনিময়ের কথা মনে পড়ল। রাইম তখনই জানত আনসাব কী প্ল্যান করেছে। জানত মেয়েটার কপালে কী ঘটতে যাচ্ছে। তবুও সে ইএসইউ-কে অপেক্ষা করতে বলেছিল। লোকটাকে আরো বেশি ঘৃণা হলো তার।
সেই মেঝের উপর থাকা রক্তের পুকুরে পড়ে আছে একটা মোটাসোটা মেয়ে। ঘোলাটে চোখে আলোর দিকে তাকাল সে, তারপর জ্ঞান হারাল। ঠিক তখনই একটা বিশাল কালো ইঁদুর মেয়েটার পেটের উপর উঠে এল। প্রায় বিড়ালের সমান প্রাণীটা এগোচ্ছে গলার দিকে। মেয়েটার থুতনিতে কামড় বসানোর জন্য নোংরা দাঁত বের করল ওটা।
মসৃণ গতিতে খাটো, মোটা, কালো গ্লকটা তুলল স্যাক্স, সাপোর্টের জন্য বাঁ হাতের তালু রাখল হাতলের নিচে। তাক করল সাবধানে।
শুটিং মানেই শ্বাসপ্রশ্বাস। শ্বাস নাও, ছাড়ো। ট্রিগার চাপো।
ডিউটিতে থাকাকালীন এই প্রথম গুলি চালাল স্যাক্স। চারটা ফায়ার। মেয়েটার বুকের উপর দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল কালো ইঁদুরটা বিস্ফোরিত হলো। পেছনের মেঝেতে থাকা আরেকটাকে মারল সে। আরেকটা ভয় পেয়ে স্যাক্স আর মেডিকের দিকে ছুটে আসছিল, মারল সেটাকেও। বাকিগুলো নিঃশব্দে উধাও হয়ে গেল, বালিতে পানি পড়ার মতোই দ্রুত।
‘জিসাস,’ বলল মেডিক। ‘মেয়েটার গায়ে লাগতে পারত।’
‘ত্রিশ ফুট দূর থেকে?’ নাক দিয়ে শব্দ করল স্যাক্স। ‘প্রশ্নই আসে না।’
রেডিও জ্যান্ত হয়ে উঠল। হাউম্যান জানতে চাইল ওরা ফায়ারিংয়ের মুখে পড়েছে কি না।
‘নেগেটিভ,’ জবাব দিল স্যাক্স। ‘কয়েকটা ইঁদুর তাড়ালাম।’
‘রজার, কে।’
মেডিকের হাত থেকে টর্চটা নিয়ে নিচু করে আলো ফেলে এগোতে লাগল সে।
‘সব ঠিক আছে, মিস,’ ডাকল স্যাক্স। ‘তুমি ঠিক হয়ে যাবে।’
চোখ খুলল মেয়েটা, মাথাটা এপাশ-ওপাশ করল।
‘বিট্টে, বিট্টে…’
খুব ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে তাকে। নীল চোখদুটো আটকে রইল স্যাক্সের উপর, যেন চোখ সরালেই বিপদ।
‘বিট্টে, বিট্টে…প্লিজ…’ তার গলার স্বর চড়ে কান্নায় রূপ নিল। মেডিক তার ক্ষতের উপর ব্যান্ডেজ চাপানোর সময়ে ছটফট করে উঠল আতঙ্কে।
রক্তমাখা সোনালি মাথাটা কোলে তুলে নিল স্যাক্স, ফিসফিস করে বলল, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে তোমার, সব ঠিক হয়ে যাবে, সব ঠিক হয়ে যাবে…’
