ডাউন টু দ্য বোন
একটা কাজ আছে যা কোনো দেবতার পক্ষেও করা সম্ভব নয়। কাজটা হলো, অতীতকে নতুন করে লেখা।
—অ্যারিস্টটল
অধ্যায় সাতাশ
রবিবার, ভোর ৫:৪৫ থেকে সোমবার, সন্ধ্যা ৭:০০ পর্যন্ত
একটা গন্ধে ঘুম ভাঙল তার। যেমনটা প্রায়ই হয়। চিরাচরিতভাবেই প্রথমে চোখ মেলল না সে; আধশোয়া হয়ে রইল, বোঝার চেষ্টা করল অচেনা গন্ধটা কীসের হতে পারে: ভোরের বাতাসের গ্যাসীয় গন্ধ? তেল চিটচিটে রাস্তায় জমে থাকা শিশির? ভেজা পলেস্তারা?
অ্যামেলিয়া স্যাক্সের গায়ের গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করল সে, কিন্তু পেল না। তার কথা চিন্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে আবার ভাবতে লাগল। গন্ধটা কীসের? ক্লিনজার? না। কুপারের ল্যাবরেটরির কোনো কেমিক্যাল? না, ওগুলো সব চেনে সে। এটা হলো…ওহ, হ্যাঁ… মার্কিং পেন।
এবার চোখ মেলল সে। এবং হ্যাঁ, ঘুমন্ত স্যাক্সের দিকে এক নজর তাকিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিল যে সে তাকে ছেড়ে যায়নি। দেয়ালে মনে-র আঁকা পোস্টারটার দিকে তাকাল। ওখান থেকেই আসছে গন্ধটা। এই আগস্টের ভ্যাপসা গরম আর আর্দ্রতা নেতিয়ে দিয়েছে কাগজটাকে, কালির গন্ধটা বের করে এনেছে।
| আনসাব ৪২৩ | |||
| চেহারা | বাসা | গাড়ি | অন্যান্য |
| • শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, হালকা গড়ন, মধ্যম স্বাস্থ্য • পোশাক: কালো, গাঢ় রঙের পোশাক পরে • পুরোনো গ্লাভস, লালচে কিডস্কিন • আফটারশেভ (অন্য কোনো গন্ধ ঢাকার জন্য?) • স্কি মাস্ক? নেভি ব্লু? • গাঢ় রঙের গ্লাভস • আফটারশেভ-ব্রুট •চুলের রং বাদামি নয় •তর্জনিতে গভীর ক্ষত •ক্যাজুয়াল পোশাক করে | • সম্ভবত সেফ হাউজ আছে • সম্ভাব্য অবস্থান: ব্রডওয়ে ও ৮২তম স্ট্রিট (শপরাইট), ব্রডওয়ে ও ৯৬তম স্ট্রিট (অ্যান্ডারসন ফুডস), গ্রিনউইচ ও ব্যাংক স্ট্রিট (শপরাইট), ২য় এভিনিউ, ৭২-৭৩তম স্ট্রিট (গ্রোসারি ওয়ার্ল্ড), ব্যাটারি পার্ক সিটি জে অ্যান্ড জি’স এম্পোরিয়াম (১৭০৯ ২য় এভিনিউ) অ্যান্ডারসন ফুডস (৩৪তম স্ট্রিট ও লেক্সিংটন এভিনিউ) ফুড ওয়্যারহাউজ (৮ম এভিনিউ ও ২৪তম স্ট্রিট) শপরাইট (হিউস্টন ও লাফায়েট স্ট্রিট) জে অ্যান্ড জি’স এম্পোরিয়াম (৬ষ্ঠ এভিনিউ ও হিউস্টন) গ্রোসারি ওয়ার্ল্ড (গ্রিনউইচ ও ফ্র্যাংকলিন) | • হলুদ ক্যাব • নতুন মডেলের সেডান • রং: ধূসর/রুপালি/বেইজ | • ক্রাইম সিন প্রসিডিউর সম্পর্কে জানে • সম্ভবত আগের ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে • ফিঙ্গারপ্রিন্ট অ্যানালাইসিস জানে • পিস্তল = .৩২ কোল্ট • ভিক্টিমকে অদ্ভুতভাবে বাঁধে • প্রাচীন জিনিস তাকে টান • কাজ চালানোর মতো জার্মান জানে একজন ভিক্টিমকে ‘হ্যানা’ বলে ডেকেছে • মাটির নিচের দুনিয়া তার কাছে আকর্ষণীয় • দ্বৈত ব্যক্তিত্ব • সে একজন যাজক, সমাজকর্মী বা কাউন্সিলর হতে পারে • জুতোর তলায় অস্বাভাবিক ক্ষয় প্রচুর বই পড়ে? • ভিকটিমের আঙুল ভাঙার শব্দ শুনেছে, তদন্তকারীদের ভ্যাংচানোর জন্য সাপ রেখে গেছে • ভিকটিমের পা ছিলার ইচ্ছা ছিল • এক ভিকটিমকে “ম্যাগি” নামে ডেকেছে • মা ও সন্তানের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা? • ক্রাইম ইন ওল্ড নিউ ইয়র্ক বইটা কি তার মডেল? • জেমস স্লাইডার বা ‘বোন কালেক্টর’-এর কায়দায় অপরাধ করছে • পুলিশের প্রতি ঘৃণা আছে |
দেয়াল ঘড়ির ফ্যাকাশে সংখ্যাগুলো জ্বলজ্বল করছে: ভোর ৫:৪৫। চোখদুটো আবার পোস্টারের দিকে ফেরাল সে। পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে না, শুধু সাদা কাগজের উপর আবছা কিছু লেখা। তবে ভোরের আলোয় শব্দগুলো পড়ার মতো যথেষ্ট উজ্জ্বলতা আছে ঘরে।
• দ্বৈত ব্যক্তিত্ব
• যাজক, সমাজকর্মী, কাউন্সিলর হতে পারে
• জুতোর তলায় অস্বাভাবিক ক্ষয়, প্রচুর বই পড়ে?
• ভিকটিমের আঙুল ভাঙার শব্দ শুনেছে
• তদন্তকারীদের ভ্যাঙানোর জন্য সাপ রেখে গেছে
• ভিকটিমের পা ছিলার ইচ্ছা ছিল
• এক ভিকটিমকে ‘ম্যাগি’ নামে ডেকেছে
জেগে উঠছে বাজপাখিগুলো। জানালার দিকে ডানা ঝাপটানোর শব্দ পেল সে। চার্টের উপর আবার চোখ বোলাল রাইম। আইআরডি-তে নিজের অফিসে থাকার সময় ডজনখানেক ইরেজেবল মার্কার বোর্ড টাঙিয়ে রাখত সে, ওগুলোতে বড় বড় কেসের আনসাবদের বৈশিষ্ট্যের তালিকা টুকে রাখত। মনে পড়ে গেল তার: পায়চারি করছে, ওগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে, মানুষগুলোর কথা ভাবছে। রং, কাদা, পরাগ আর পাতার অণুগুলো…
• পুরোনো দালান, গোলাপি মার্বেল…
দশ বছর আগে লনের সাথে মিলে এক ধুরন্ধর রত্ন চোরকে ধরার কথা মনে পড়ে গেল। সেন্ট্রাল বুকিংয়ে সেই আসামি বলেছিল আগের চুরির মাল তারা কোনোদিন খুঁজে পাবে না। তবে যদি তার শান্তির মেয়াদ কমানো হয়, তবে সে বলে দেবে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে ওগুলো। রাইম জবাব দিয়েছিল, ‘আসলে, ওটা কোথায় আছে তা বের করতে একটু সমস্যাই হচ্ছে আমাদের।’
‘হবে তো বটেই,’ বাঁকা হেসে বলেছিল চোর।
‘দেখো,’ বলে চলেছিল রাইম, ‘কানেকটিকাট নদীর তীরের এক কলোনিয়াল ফার্মহাউজের কয়লা রাখার ঘরে পাথরের দেয়ালের ভেতর আছে ওটা, এটুকু আমরা জানি। লং আইল্যান্ড সাউন্ড থেকে পাঁচ মাইল উত্তরে। শুধু বুঝতে পারছি না বাড়িটা নদীর পূর্ব তীরে নাকি পশ্চিম তীরে।’
গল্পটা যখন ছড়িয়ে পড়ল, তখন আসামির মুখের ভাব বর্ণনা করার জন্য সবাই একটাই কথা বলত: নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।
হয়তো জাদুর মতোই ব্যাপারটা। নইলে স্যাক্সকে খুঁজে পেল কী করে এই মোক্ষম সময়ে?
• অন্তত ১০০ বছরের পুরোনো, সম্ভবত ম্যানশন বা প্রাতিষ্ঠানিক দালান
পোস্টারটা আরেকবার স্ক্যান করল সে, তারপর চোখ বন্ধ করে চমৎকার বালিশটায় গা এলিয়ে দিল। ঠিক তখনই ঝটকাটা অনুভব করল সে। যেন গালে চড় মারল কেউ। আগুন ছড়িয়ে পড়ার মতো উত্তেজনাটা উঠে এল মাথায়। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল পোস্টারের দিকে।
• প্রাচীন জিনিস তাকে টানে
‘স্যাক্স!’ চিৎকার করে উঠল সে। ‘জেগে ওঠো!’
নড়েচড়ে উঠে বসল সে। ‘কী? কী হয়েছে…?’
পুরোনো, পুরোনো, পুরোনো…
‘একটা ভুল করেছি আমি,’ সংক্ষেপে বলল সে। ‘সমস্যা হয়েছে একটা।’
স্যাক্স প্রথমে ভাবল রাইমের শারীরিক কোনো সমস্যা হয়েছে, লাফিয়ে নামল কাউচ থেকে, হাত বাড়াল টমের মেডিক্যাল ব্যাগের দিকে।
‘না, কুগুলো, স্যাক্স, কুগুলো…আমি ভুল বুঝেছি।’ দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে সে, ভাবার সময় দাঁতে দাঁত ঘষছে।
জামাকাপড় পরে নিল স্যাক্স, আবার বসল, নিজের অজান্তেই আঙুলগুলো চলে গেল চুলের ভেতর, মাথা চুলকাচ্ছে। ‘কী, রাইম? কী হয়েছে?’
‘চার্চটা। ওটা হার্লেমে না-ও হতে পারে,’ আবার বলল সে। ‘আমি ভুল করেছি।’
ঠিক সেই আসামির মতো যে কলিন স্ট্যান্টনের পরিবারকে খুন করেছিল। ক্রিমিনালিস্টিকসে তুমি একশোটা কু নির্ভুলভাবে সমাধান করতে পারো, কিন্তু ঐ একটা মিস করলেই মানুষ মারা পড়ে।
‘কটা বাজে?’ জানতে চাইল সে।
‘পৌনে ছটা, বা একটু বেশি। খবরের কাগজটা নাও। চার্চ সার্ভিসের সময়সূচি।’ কাগজটা খুঁজে বের করল স্যাক্স, পাতা উল্টাল। তারপর মুখ তুলে চাইল। ‘কী ভাবছ?’
‘৮২৩ তো পুরোনো জিনিসের প্রতি খুব বেশি দুর্বল। সে যদি কোনো পুরোনো কৃষ্ণাঙ্গ চার্চ টার্গেট করে থাকে, তবে সেটা আপটাউনে না-ও হতে পারে। ফিলিপ পেটন ১৯০০ সালে হার্লেমে আফ্রো-আমেরিকান রিয়েলটি কোম্পানি শুরু করেছিলেন। কিন্তু শহরে আরো দুটো কৃষ্ণাঙ্গ বসতি ছিল। ডাউনটাউনে যেখানে এখন কোর্টহাউজগুলো আর সান জুয়ান হিল। এখন ওগুলোয় মূলত শ্বেতাঙ্গরাই থাকে, কিন্তু…ওহ আমি কী ভাবছিলাম এতক্ষণ?’
‘সান জুয়ান হিলটা কোথায়?’
‘হেলস কিচেনের ঠিক উত্তরে। ওয়েস্ট সাইডে। স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধে যেসব কৃষ্ণাঙ্গ সৈনিক লড়েছিল, তাদের সম্মানেই নামটা রাখা হয়েছিল।’
কাগজটা খুঁটিয়ে দেখল সে।
‘ডাউনটাউন চার্চ,’ বলল সে। ‘দেখি, ব্যাটারি পার্কে সিমেন্স ইনস্টিটিউট আছে। ওখানে একটা চ্যাপেল আছে। সার্ভিস হয় ওখানে। ট্রিনিটি। সেন্ট পলস।’
‘ওটা কৃষ্ণাঙ্গ এলাকা ছিল না। আরো উত্তর-পূর্বে।’
‘চায়নাটাউনে একটাপ্রেসবিটেরিয়ান চার্চ আছে।’
‘কোনো ব্যাপটিস্ট বা ইভানজেলিকাল?’
‘না, ঐ এলাকায় তেমন কিছু নেই!’ চোখেমুখে পরাজয়ের ছাপ নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। ‘হায় হায়!’
বুঝতে পারল রাইম। ‘সূর্যোদয়ের প্রার্থনা!’
মাথা নাড়ল সে। ‘হোলি ট্যাবারনেকল ব্যাপটিস্ট…ওহ, রাইম, একটা গসপেল সার্ভিস আছে, শুরু হবে ছটায়। ফিফটি-নাইনথ আর ইলেভেনথ অ্যাভিনিউ।’
‘ওটাই সান জুয়ান হিল! ফোন করো ওদের!’
ফোনটা ছোঁ মেরে নিয়ে নম্বর ডায়াল করল স্যাক্স। দাঁড়িয়ে আছে, মাথা নিচু, ভ্রু ধরে টানছে জোরে জোরে। মাথাও নাড়ছে।
‘ধরো, ধরো… ধুর। রেকর্ডিং বাজছে। মিনিস্টার নিশ্চয়ই অফিসের বাইরে।’ রিসিভারে বলল সে, ‘নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে বলছি। আপনাদের চার্চে ফায়ারবোমা আছে বলে সন্দেহ করছি আমরা। যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে বের করে দিন।’ ফোন রেখে জুতো পায়ে দিল সে।
‘যাও, স্যাক্স। তোমাকে যেতে হবে ওখানে। এখনই!’
‘আমি?’
‘কাছের থানার চেয়েও বেশি কাছে আছি আমরা। দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে পারবে তুমি।’
দরজার দিকে ছুটল সে, কোমরে বাঁধল ইউটিলিটি বেল্ট।
‘আমি থানায় ফোন করছি।’ চিৎকার করে বলল সে, ওদিকে সিঁড়ি দিয়ে একলাফে নেমে যাচ্ছে স্যাক্স, মাথার চারপাশে উড়ছে লাল চুলের মেঘ। ‘আর স্যাক্স, জোরে গাড়ি চালানোর শখ মেটানোর এখনই সময়।’
৮১তম স্ট্রিটে স্কিড করে ঢুকল আরআরভি ওয়াগন, পশ্চিমে ছুটছে। ব্রডওয়ের মোড়ে ছিটকে বেরিয়ে এল স্যাক্স, বাজেভাবে স্কিড করে নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটা ভেন্ডিং মেশিনে ধাক্কা দিয়ে ওটাকে জাবার্স-এর জানালার ভেতর পাঠিয়ে দিল, তারপর কোনোমতে নিয়ন্ত্রণে আনল ওয়াগনটা। মনে পড়ল পেছনের সব ক্রাইম সিন ইকুইপমেন্টের কথা। পেছনের দিকটা ভারী, ভাবল সে; পঞ্চাশের উপর গতিতে বাঁক নেওয়া যাবে না। তারপর ব্রডওয়ে ধরে নিচে। মোড়গুলোতে ব্রেক কষছে। ডানে দেখছে। বামে দেখছে। ক্লিয়ার। দে ছুট!
লিংকন সেন্টারের কাছে নাইনথ অ্যাভিনিউ ধরল সে আর দক্ষিণের দিকে ছুটল। আমি শুধু—
ধুশ শালা!
চিৎকার করে উঠল টায়ার, পাগলের মতো ব্রেক কষল সে। রাস্তা বন্ধ। সকালের মেলার জন্য নীল রঙের ব্যারিকেড দিয়ে নাইনথ অ্যাভিনিউ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটা ব্যানারে লেখা: ক্রাফটস অ্যান্ড ডেলিকেসিস অব অল নেশন্স। হ্যান্ড ইন হ্যান্ড, উই আর অল ওয়ান।
অসহ্য এই ইউএন সম্মেলন! আধা ব্লক পিছিয়ে এল সে আর ওয়াগনের গতি পঞ্চাশে তুলে প্রথম স-হর্সটার উপর আছড়ে পড়ল। অ্যালুমিনিয়ামের টেবিল আর কাঠের ডিসপ্লে র্যাক উড়িয়ে দিয়ে জনশূন্য মেলার ভেতর দিয়ে রাস্তা করে নিল সে। দুই ব্লক পরে দক্ষিণের ব্যারিকেড ভেঙে বেরিয়ে এল ওয়াগনটা আর ফিফটি-নাইনথ স্ট্রিটে স্কিড করে পশ্চিমে ঘুরল। ফুটপাতের উপর দিয়ে চালাল, যতটা না চালালে নয় তার চেয়েও বেশি জোরে।
ঐ তো চার্চ, একশো গজ দূরে। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছে প্রার্থনাকারীরা। রয়েছে বাবা-মা, সাদা আর গোলাপি রঙের কুঁচি দেওয়া জামা পরা ছোট ছোট মেয়ে, কালো স্যুট আর সাদা শার্ট পরা ছোট ছেলেরা। আর বেসমেন্টের জানালা দিয়ে বেরোচ্ছে এক ফালি ধূসর ধোঁয়া। অ্যাক্সিলারেটরটা মেঝের সাথে মিশিয়ে দিল স্যাক্স, গর্জন করে উঠল ইঞ্জিন।
রেডিওটা হাতে নিল সে। ‘আরআরভি টু টু সেন্ট্রাল, কে?’
ভলিউম ঠিক আছে কি না দেখার জন্য মটোরোলার দিকে تাকাতে যেটুকু সময় লাগল, ঠিক সেই মুহূর্তেই গলি থেকে একটা বড় মার্সিডিজ বেরিয়ে এল সোজা ওর সামনে। ভেতরের পরিবারটাকে এক ঝলক দেখতে পেল সে, ভয়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। ব্রেক কষল পরিবারের কর্তা।
নিজের অজান্তেই স্টিয়ারিং হুইলটা বাঁ দিকে ঘুরিয়ে দিল স্যাক্স, ওয়াগনটা চলে গেল কন্ট্রোলড স্কিডে। কাম অন, টায়ারগুলোকে মনে মনে মিনতি করল সে, গ্রিপ, গ্রিপ, গ্রিপ! কিন্তু গত কয়েক দিনের গরমে আলগা হয়ে যাওয়া তেলতেলে, পিচঢালা রাস্তাটা শিশিরে ভিজে আছে। হাইড্রোফয়েলের মতো রাস্তার উপর দিয়ে ভেসে গেল ওয়াগনটা। মার্সিডিজের সামনের দিকে আছড়ে পড়ল ওয়াগনের পেছনের অংশ, গতি তখন ঘণ্টায় পঞ্চাশ মাইল।
বিকট শব্দে ৫৬০ মডেলের গাড়িটা ওয়াগনের পেছনের ডান দিকটা চেঁছে নিয়ে গেল। কালো সিএস স্যুটকেসগুলো ছিটকে উঠল শূন্যে, খুলে গিয়ে ভেতরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে দিল রাস্তায়। কাচ, প্লাস্টিক আর শিট মেটালের টুকরো থেকে বাঁচতে চার্চের লোকজন মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এয়ারব্যাগ খুলে গিয়ে চুপসে গেল, ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল স্যাক্স। মুখ ঢাকল সে, ওদিকে এক সারি গাড়ির উপর দিয়ে ডিগবাজি খেয়ে একটা নিউজস্ট্যান্ড গুঁড়িয়ে দিয়ে উল্টে গিয়ে থামল ওয়াগনটা। খবরের কাগজ আর প্লাস্টিকের এভিডেন্স ব্যাগগুলো ছোট ছোট প্যারাট্রপারের মতো ভেসে মাটিতে পড়তে লাগল।
সিটবেল্টে উল্টো হয়ে ঝুলে আছে সে, চুলে চোখ ঢাকা, কপাল আর ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ছে, বেল্ট রিলিজ করার চেষ্টা করল। আটকে আছে ওটা। গরম গ্যাসোলিন চুইয়ে পড়ছে গাড়ির ভেতরে, গড়িয়ে নামছে তার হাত বেয়ে। পেছনের পকেট থেকে সুইচব্লেডটা বের করল সে, বাটন টিপে ফলা খুলে সিটবেল্টটা কেটে ফেলল। নিচে পড়ল সে, অল্পের জন্য নিজের ছুরিতেই নিজে গেঁথে যাওয়া থেকে বেঁচে গেল। হাঁপাতে লাগল সে, গ্যাসের গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছে।
কাম অন, গার্ল, বেরোও। বেরোও!
দরজাগুলো জ্যাম হয়ে আছে আর ওয়াগনের পেছনের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অংশ দিয়ে বেরোনোর কোনো উপায় নেই। জানালায় লাথি মারতে শুরু করল স্যাক্স। ভাঙছে না কাচ। পা পিছিয়ে নিয়ে ফাটা উইন্ডশিল্ডে সজোরে লাথি বসাল সে। কোনো কাজ হলো না, শুধু গোড়ালিটা মচকে যাওয়ার জোগাড় হলো। বন্দুক! কোমরে হাত দিল সে; খাপ থেকে ছিটকে বেরিয়ে গাড়ির ভেতরেই কোথাও পড়েছে ওটা। হাত আর কাঁধে গরম পেট্রোলের ধারা অনুভব করল। পাগলের মতো খুঁজতে লাগল ছাদের উপর। ছাদ এখন নিচে চলে গেছে। সেখানে ছড়িয়ে থাকা কাগজ আর সিএস ইকুইপমেন্টের জঞ্জালের মধ্যে হাতড়াতে লাগল। তারপর ডোম লাইটের কাছে ভারী গ্লকটা দেখতে পেল সে। তুলে নিল ওটা আর তাক করল পাশের জানালার দিকে।
এখন গুলি চালানো যায়। পেছনের দিকটা ক্লিয়ার, কোনো দর্শক নেই এখনো। তারপর ইতস্তত করল ও। গুলির আগুনের ফুলকি যদি পেট্রোলে আগুন ধরিয়ে দেয়? পেট্রোলে ভেজা ইউনিফর্মের শার্ট থেকে যতটা সম্ভব দূরে সরাল বন্দুকটা। ভাবল একবার। তারপর টিপে দিল ট্রিগার।
