গল্প
উপন্যাস

শুধু যাওয়া আসা – ৪

চার

সামনের একটা উঁচু ঢিবি পেরোতেই, চোখে পড়ল পাহাড়ি ঢালু রাস্তা৷ যেদিকে চোখ যায়, শুধু বালি আর বালি৷ বিকেলের চড়া রোদ বালির সমুদ্রকে করে তুলেছে উজ্জ্বল, তার গা থেকে ঠিকরে-আসা সোনালী আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে৷ দূরে—বহুদূরে চোখে পড়ল একটা অস্পষ্ট বিন্দু—সরু ঢালু রাস্তা ধরে ট্রাক ছুটে চলল—এবারে চোখে পড়ছে গোটাকয়েক ঘর—

‘ওই যে দেখা যাচ্ছে—’ জনসন আঙুল তুলে দেখাল, ‘ওটাই আমার পেট্রল-পাম্প—‘‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’’৷’

ঘরগুলোকে এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে৷ রাস্তার বাঁ দিকে একটা ছোট বাংলো৷ তার সঙ্গে লাগোয়া গোটাদুয়েক একচালা ঘর—আর একটা অপেক্ষাকৃত বড় গুমটিঘর৷ পেট্রল নেবার তিনটে পাম্পও চোখে পড়ছে৷

এ ছাড়া রাস্তার ওপারে, বাংলোর ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে একটা ঘর৷ রাস্তা ক্রমে মিলিয়ে গেছে পাহাড়ের ওপিঠে—

সবকটা ঘরের রঙই আকাশ-নীল৷ ধুধু করছে দিগন্তবিস্তৃত মরুভূমির বুকে সেই ঘরগুলো—যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা নীল রঙের কয়েকটা আঁচড়৷

‘রাস্তার ওই ডানদিকের ঘরটা তোমার৷ আর এদিকের বাংলোটায় আমি আর লোলা থাকি৷ ব্যস—৷ জায়গাটা এমনিতে নির্জন আর বিরক্তিকর শুধু লোলা আছে বলেই সব-কিছু ভুলে থাকতে পারি৷ যাকগে, এখন তুমি এসেছ—আমাদের কাজের অনেক সুবিধে হবে৷—ওঃ, রোজ মাঝরাতে ট্রাক-ড্রাইভারগুলো কি কম জ্বালাতন করে!’

আমরা পেট্রল-পাম্পে প্রায় পৌঁছে গেছি৷ জেনসন দুবার টানা হর্ন বাজিয়ে আমার দিকে তাকাল, হাসল, ‘আমি যে আসছি, সেটা লোলাকে জানালাম৷ তোমাকে দেখে কিরকম অবাক হয়ে যায় দেখবে৷ আগে যতবার লোকের কথা বলেছি, ততবারই ও বারণ করেছে৷ কি—না, টাকা খরচ হবে! আরে বাবা, এত টাকা আমি করবটা কী? একজন লোক রাখলে কত সুবিধে হয়৷ রাত্রিবেলাটা আর বিছানা ছেড়ে ওঠাউঠি করতে হয় না—তা কে শোনে! বেশি বলাবলি করলে, সোজা মুখের ওপর বলে দেবে, ‘আমি যদি মাঝরাতে উঠতে পারি, তো তুমিও পারবে’—বুঝলে জ্যাক, এই পঞ্চান্ন বছর বয়সে এত খাটাখাটনি আর পোষায় না! ছিল একদিন, যখন টাকার জন্য দিনে সতেরো ঘণ্টা করে কাজ করেছি! আজ আমার টাকার অভাব নেই৷ তা এখন যদি একটু ফুর্তিই না করব, তো করব কবে?—তুমিই বল জ্যাক, লোকে টাকা জমায় কিসের জন্য, অ্যাঁ?’ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল জেনসন৷

‘আমার নমে হয়, প্রথমে দুঃসময়ের জন্য কিছু সঞ্চয় করা দরকার৷ আর সেটা হয়ে গেলে একটু ফুর্তি না হয় করলেনই—ক্ষতি কী?’

‘ঠিক বলেছ!’ উল্লাসে আমার হাঁটুর উপর সশব্দে চাপড় মারল জেনসন, ‘সেসব ব্যবস্থা আমার হয়ে গেছে৷ হেসেখেলে বাকি দিন ক-টা আমি কাটাতে চাই৷ এখন তুমি আছ, আর-কোন চিন্তা নেই৷ আমি আর লোলা প্রায়ই ওয়েন্টওয়ার্থে বেড়াতে যেতে পারব, কী বল?’

জেনসন বেশ দিলদরিয়া মেজাজেই কথা বলছিল, কিন্তু তার ভিতরেও কোথায় যেন একটা চাপা সংশয় রয়েছে মনে হল৷ ঘাড় ফিরিয়ে দেখলাম৷ জেনসনের চোখ সামনের রাস্তায় স্থির হয়ে আছে৷ ট্রাক এগিয়ে চলেছে—রাস্তার ধারে একটা বড় কাঠের ফলক চোখে পড়ল—

—পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন—

প্রত্যেককে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে—পরের একশ ষাট মাইলের মধ্যে কোন পেট্রল-পাম্প নেই৷ তেল, মোবিল নেবার এই শেষ সুযোগ!

গাড়ির মেরামতের যাবতীয় কাজ করা হয়৷

আপনাদের সুবিধার্থে রেস্তোরাঁ আছে৷

ফলকের ঠিক পিছনেই দেখা যাচ্ছে পেট্রল নেবার তিনটে পাম্প৷ তাদের চারপাশে বাহারী ফুলের গাছ৷ তাতে ফুটে রয়েছে রঙ-বেরঙের ফুল৷ কেউ যেন অবহেলাভরে ছুড়ে দিয়েছে একরাশ রঙ৷ অদূরেই চোখে পড়ছে বাংলো৷ তার দরজার রঙ সাদা৷ আর জানালাগুলো গাঢ় নীল পর্দায় ঢাকা৷ বাংলোর সামনে একটা বারান্দা তার থেকে তিন ধাপ সিঁড়ি নেমে একটা মেঠো পথ এগিয়ে এসেছে রাস্তা পর্যন্ত৷ তার দু-পাশে পাথর বসানো৷ সেগুলো আবার সাদা রঙ-করা৷ বাংলোর পাশেই যে লম্বা একচালা ঘর, সেটাই সম্ভবত রেস্তোরাঁ৷ এর থেকে একটু দূরেই একটা গ্যারেজ, আর তার পাশেই একটা একচালা গুমটিঘর৷

রাস্তার ডানদিকে আমার থাকবার ঘর৷ একটা পাথরবসানো মেঠো পথ চলে গেছে ঘরের দরজা পর্যন্ত৷

এককথায়, পুরো জায়গাটা যেন ছবির মতো৷ জেনসনের ভাষায় ‘নির্জন, বিরক্তিকর জায়গা’ যে এত সুন্দর হতে পারে, তা ভাবতে পারিনি৷

‘বাঃ, ভারি চমৎকার জায়গা তো!’ আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল৷

‘শুনে খুব খুশি হলাম, জ্যাক৷’ জেনসন একগাল হাসল, ‘কিন্তু এর পেছনে কি আমাকে কম খাটতে হয়েছে! অবশ্য এরপর আমরা দুজনে মিলে এটাকে আরও ভালো করে তুলব, কী বল?’ গাড়ির দরজা খুলে জেনসন নেমে পড়ল৷ পিছন পিছন আমিও নামলাম৷ বালি ভীষণ গরম হয়ে উঠেছে—এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকাই দায়৷

একটা ব্যাপারে আশ্চর্য হলাম৷ জেনসন আগেই দুবার হর্ন বাজিয়েছে৷ কিন্তু কই, তা শুনে ভিতর থেকে লোলা তো বেরিয়ে এল না?

কিন্তু আমি যদি জেনসন হতাম, আর ওইভাবে হর্ন বাজাতাম, তবে আশা করতাম, আমার স্ত্রী হর্ন শুনে আমাকে অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে আসবে৷

অথচ এতে জেনসনের কোন বিকারই দেখলুম না৷ যেন এরকম ব্যবহার পেতেই সে অভ্যস্ত৷ ও আমার ঘরটার দিকে আঙুল দেখাল, ‘জ্যাক, তুমি আর দেরি করো না৷ যাও, হাতমুখ ধুয়ে, দাড়ি কামিয়ে চলে এস৷ আমি এদিকে তোমার খাবার ব্যবস্থা করছি৷—যাও, যাও—আর বেশি দেরি করো না!’ জেনসন আমাকে আস্তে ঠেলা দিল৷ ওর হাতের ওই সামান্য ধাক্কা খেয়েই পড়ে যাচ্ছিলাম, নিজেকে সামলে নিলাম, ‘আমাদের কোথায় দেখা হবে, মি. জেনসন?’

‘খাবার ঘরে’—রেস্তোরাঁটা দেখিয়ে সে বলল৷ তারপর বালিতে ঢাকা মেঠো পথ ধরে এগিয়ে চলল বাংলোর দিকে৷

আমিও পা বাড়ালাম ঘরের দিকে৷ দরজা খুলতেই বসবার ঘর৷ বেশ ছিমছাম ভাবে সাজানো—ঘরের এককোনায় একটা টেলিভিশন সেটও রয়েছে৷ বসবার ঘর পেরোলেই একটা ছোট্ট শোবার ঘর৷

শোবার ঘরে জামাকাপড় ছেড়ে বাথরুমে গেলাম—হাত-মুখ ধুয়ে দাড়ি কামাতে শুরু করলাম৷ এক-দিনে আমার গোঁফ বেশ ঘন হয়েছে৷ ঠিক করলাম—গোঁফটা কামাব না—রাখব৷ দাড়ি কামানো হয়ে গেলে আয়নায় নিজের চেহারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলাম—গোঁফটার জন্য আমার চেহারা অনেকখানি বদলে গেছে৷ খবরের কাগজে যদি আমার ছবিও ছাপা হয়ে থাকে, তবু কারও পক্ষে আমাকে চেনা সম্ভব হবে না৷

জামাকাপড় পরে বেশ উৎফুল্ল চিত্তে বাইরে বেরিয়ে এলাম৷ কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম জেনসনের বাংলোর দিকে৷ তারপর দু-পাশে তাকালাম৷ পিচ-ঢালা রাস্তা এঁকেবেঁকে মিলিয়ে গেছে পাহাড়ের ওপারে৷ আর সামনে পিছনে তাকালে বালি ছাড়া আর-কিছুই চোখে পড়ে না৷

মনে মনে আশ্বত হলাম৷ পুলিশ হয়ত ওকল্যান্ড বা অন্য-কোন শহরে আমার খোঁজ করবে, কিন্তু এই মরুভূমিতে—উঁহু, এখানে খোঁজ করার কথা ওরা চিন্তাই করবে না৷ ঠিক করলাম, যতদিন পারা যায়, এখানেই থাকব৷

রাস্তা পেরিয়ে রেস্তোরাঁয় গিয়ে ঢুকলাম৷ ঘরের একপাশে সাজানো পাঁচটা টেবিল আর কতকগুলো চেয়ার৷ এছাড়া কাউন্টারের সামনে গোটা দশেক টুল৷ কাউন্টারের উপর সাজানো সারি সারি বীয়ার ও সোডার বোতল৷ একপাশে গোটাদুয়েক আচারের শিশি৷ তার সঙ্গে রয়েছে একগাদা কাঁচের গ্লাস, ছুরি, কাঁটা-চামাচ আর কাগজের রুমাল৷ প্রতিটি জিনিসই পরিষ্কার ঝকঝক করছে৷ দেওয়ালের গায়ে টাঙানো একটা ফলকে ছাপা হরফে লেখা রয়েছে—

—আজকের খাদ্য-তালিকা—

*

ফ্রায়েড চিকেন

ভিল স্টেকস

বীফ হ্যাশ

ফ্রুট পাই

কাউন্টারের পিছনে আধ-ভেজানো দরজার ফাঁক দিয়ে রান্নার সুস্বাদু গন্ধ ভেসে আসছে৷ ভাবছি, কাউন্টারের উপর শব্দ করে কাউকে ডাকব, কানে এল জেনসনের গলা, ‘এই, লোলা শোন, অবুঝ হয়ো না৷ অনেক ভেবেচিন্তেই আমি জ্যাককে এখানে নিয়ে এসেছি৷ ও এখানে কাজ দেখাশোনা করলে, আমরা সপ্তাহে দু-চারদিন করে ওয়েন্টওয়ার্থে বেড়াতে যেতে পারব৷ ওয়েন্টওয়ার্থে তোমারএকা যাওয়াটা আমি পছন্দ করি না৷ কোন স্ত্রীলোকেরই একা একা সিনেমা যাওয়া ঠিক নয়—বিশেষ করে ওয়েন্টওয়ার্থের মতো একটা বাজে শহরে—৷’

‘কেন, ঠিক নয় কেন?’ লোলার তীক্ষ্ণ স্বর ভেসে এল, ‘একা সিনেমায় গেলে তাতে ক্ষতিটা কি হয়েছে?’

‘শোন, লোলা—’, জেনসন বোঝাতে চাইল, ‘তুমি একজন সম্ভ্রান্ত বিবাহিতা মহিলা৷ তোমার পক্ষে একা যাওয়াটা ভালো দেখায় না৷ তা ছাড়া ওয়েন্টওয়ার্থে বহু বাজে লোক আছে যারা—’

‘তুমি কি বলতে চাও, কার্ল? ওয়েন্টওয়ার্থে গিয়ে আমি বাজে লোকের সঙ্গে ঘুরে বেড়াই?’

‘ছি ছি, লোলা,—তুমি আমার কথা বুঝতে পারনি৷ আমি শুধু বলেছি, তোমার একা যাওয়াটা ভালো দেখায় না৷ জ্যাক এখানে থাকলে, তুমি আর আমি মাঝে মাঝে বেড়াতে যেতে পারব—তাই না?’

‘দ্যাখ কার্ল, একটা কথা তোমাকে হাজারবার বলেছি, আজও বলছি—কোন উটকো লোককে আমি এখানে রাখব না, ব্যস৷’

‘হ্যাঁ, জানি তুমি বলেছ৷ কিন্তু এটা বুঝতে পারছ না, একজন লোক রাখা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন৷ ভেবে দেখো তো, কাল রাতে তোমাকে ক-বার বিছানা ছেড়ে উঠতে হয়েছে? ছ-বার—ছ-বার তোমাকে উঠে এসে এই হতচ্ছাড়া ট্রাকগুলোকে পেট্রল দিতে হয়েছে!—তোমার বিশ্রাম প্রয়োজন, লোলা৷ জ্যাক যদি রাত্রিবেলাটা কাজ করে, তবে আমরা একটু নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি—এ সহজ কথাটা তুমি বুঝতে পারছ না?’

‘তোমাকে এক কথা কতবার বলতে হবে, কার্ল?’ লোলা ঝাঁঝিয়ে উঠল, ‘কোন অচেনা লোককে এখানে আমি রাখতে দেব না৷ আর তাছাড়া ওই লোকটা নিশ্চয়ই বিনা পয়সায় কাজ করছে না?—হুঁ—যত্তসব,—কবে থেকে এরকম টাকা ওড়াতে শুরু করেছ?’

‘অভদ্রের মতো চেঁচিয়ো না!’ জেনসনের চাপা স্বর শুনতে পেলাম, ‘দু-চারদিন দেখাই যাক না৷ তারপর তোমার যদি পছন্দ না হয়, তো জ্যাককে বারণ করে দিলেই হবে৷ দেখ, ওর কাজে তুমি অখুশি হবে না৷ এখন এসব ঝগড়াঝাঁটি বাদ দাও—এস, কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করা যাক৷’

‘তুমি কি করে জানলে লোকটা বিশ্বাসী? ওকে এখানে রেখে আমরা ওয়েন্টওয়ার্থে যাব, আর ও হাত গুটিয়ে থাকবে মনে করেছ? সিন্দুক ভেঙে টাকা হাতিয়ে সোজা কেটে পড়বে! তোমার মাথা ঠিক থাকলে ওকে আনতে না৷’

লোলার মনোভাবে অস্বস্তি বোধ করলাম৷ ওর অমতে এখানে কথাটা কি ঠিক হবে?—সে যা হোক, পরে একটা কিছু ভেবেচিন্তে ঠিক করা যাবে৷ কিন্তু—আপাতত সাড়া দেওয়া দরকার৷

রেস্তোরাঁর দরজার কাছে চুপিসাড়ে ফিরে গেলাম৷ দরজাটা খুলে সশব্দে বন্ধ করলাম—যেন এইমাত্র ঢুকলাম৷ তারপর গটমট করে এগিয়ে এলাম কাউন্টারের দিকে, ‘কেউ আছেন নাকি?’

রান্নাঘরের ভিতর থেকে ভেসে-আসা উত্তেজিত কণ্ঠস্বর সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল৷ কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা৷ একসময় দরজার খুলে জেনসন বেরিয়ে এল, মুখে কেমন একটা অপ্রতিভ হাসি, ‘এস, জ্যাক৷ ঘরে কেমন লাগল? পছন্দ হয়েছে তো?’

আমার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চেহারা দেখে জেনসন আশ্বস্ত হয়েছে মনে হল৷ অর্থাৎ লোলার কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়া চলতে পারে৷

মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে তুললাম, ‘পছন্দ হয়নি মানে? সত্যি মি. জেনসন, আপনার ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এর তুলনা নেই৷’

জেনসন মাথা নাড়ল৷ কিন্তু সেই গর্বের হাসি তার মুখ থেকে মিলিয়ে গেছে৷ সম্ভবত, সে লোলার সঙ্গে তার ঝগড়ার কথা ভাবছিলাম৷

‘জ্যাক, তোমার নিশ্চয়ই খুব ক্ষিদে পেয়েছে? দাঁড়াও, আমি এখুনি ব্যবস্থা করছি৷’ জেনসন আমার কাছে যেন মুক্তি পেল, চটপট এগিয়ে চলল রান্নাঘরের দিকে৷ তার অস্বস্তি দেখে দুঃখ অনুভব করলাম৷

কিন্তু জেনসন রান্নাঘরে পা বাড়াতেই কানে এল বাইরে থেকে ভেসে-আসা কোন গাড়ির হর্নের শব্দ৷

‘আমি যাব নাকি, মি. জেনসন?’ রেস্তোরাঁর দরজার দিকে পা বাড়ালাম৷

‘না জ্যাক,—তোমাকে যেতে হবে না, আমিই দেখছি৷ আগে খেয়ে নাও৷ তারপর কাজ করার অনেক সময় পাবে৷’ জেনসন বাইরে চলে গেল৷

ঘরের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে—বাইরের রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে একটা জীর্ণ ধূলিমলিন প্যাকার্ড৷ চালকের নির্দেশে জেনসন গাড়িটার ট্যাঙ্কে পেট্রল ঢালতে লাগল৷

হঠাৎ পেছনে সামান্য শব্দ হতেই চমকে ফিরে দাঁড়ালাম৷

রান্নাঘরের খোলা দরজার দাঁড়িয়ে একটি মেয়ে৷ ওর চোখের দৃষ্টিতে ঝরে পড়ছে সীমাহীন কৌতূহল৷

মেয়েটির মাথাভর্তি একরাশ লাল চুল৷ কামনা-মদির পুরু ঠোঁট৷ তিরিশ বসন্তের শরীরে ভরন্ত যৌবন৷ তার পান্না-পবুজ টলটলে চোখ রক্তে নেশা ধরায়৷ মেয়েটিকে দেখার পর কোন পুরুষের পক্ষেই ওর যৌবনের হাতছানিকে উপেক্ষা করা অসম্ভব৷ ওর পরনে একটা সাদা গাউন—শরীরের সঙ্গে যেন ভেজা কাপড় হয়ে লেপটে আছে৷

মেয়েটি আমার দিকে এগিয়ে এল৷ লক্ষ্য করলাম, ওর গাউনের নিচে কোন অন্তর্বাসের বালাই নেই৷

স্থিরদৃষ্টিতে দুজনেই চেয়ে রইলাম পরস্পরের দিকে৷ কারুর মুখে কথা নেই৷

কতক্ষণ এভাবে কেটেছে জানি না, একসময় খেয়াল হল জেনসন আমার পাশে দাঁড়িয়ে, ‘এই যে লোলা, তুমি এসেছ, আলাপ করিয়ে দিই—এই জ্যাক—জ্যাক, এ হচ্ছে লোলা—আমার স্ত্রী৷’

মেয়েটি ছোট্ট করে ঘাড় নাড়ল—গভীর সবুজ চোখে শুধুই ঘৃণা৷

জেনসন অপ্রতিভভাবে দাঁড়িয়ে গালে হাত বোলাতে লাগল তারপর হঠাৎ কি মনে হতে একগাল হেসে দু-পা এগিয়ে এল, ‘লোলা, জ্যাকের বোধহয় ক্ষিদে পেয়েছে৷ আর আমারও তো দুপুর থেকে কিছু পেটে পড়েনি, দেখ না, যদি কিছু ব্যবস্থা করা যায়৷’

ভাবলেশহীন মুখে লোলা জবাব দিল, ‘অপেক্ষা কর, আমি আসছি৷’

ও ফিরে চলল৷ চলার সময় স্পষ্ট হয়ে উঠল ওর ভারী নিতম্বের সুডৌল রেখা৷ নিটোল ছন্দে হিল্লোল তুলে ও এগিয়ে চলল রান্নাঘরের দিকে৷

আমার সারা মুখ তখন ঘেমে উঠেছে৷ একটা কাগজের রুমাল টেনে নিয়ে মুখ মুছলাম৷

‘ভীষণ গরম, কী বল জ্যাক?’ কপালের ঘাম মুছতে মুছতে একটু হাসল জেনসন৷

‘সত্যিই বড্ড গরম—’ প্রত্যুত্তরে হাসতে গিয়ে অনুভব করলাম গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে,—চোখের সামনে এখনও হাতছানি দিয়ে ডাকছে লোলার পাগল করা যৌবন!

খাওয়াদাওয়া সেরে আমি আর জেনসন বাইরে এলাম৷ আমাকে কোন্ কোন্ দিন কাজ করতে হবে, সেটা তার থেকে জেনে নিয়েছি৷

সপ্তাহে তিনদিন আমাকে রাতে কাজ করতে হবে৷ গাড়ি ব্রেকডাউনের ব্যাপার হলে আমাকেই সামলাতে হবে৷ আর গ্যারেজ এবং পাম্পের কাজটা সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে৷

এসব কাজ আমার কাছে সামান্যই মনে হল৷ তা ছাড়া সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকলে ভালোই হবে—লোলাকে মন থেকে সরিয়ে রাখতে পারব৷

বাইরে এসে জেনসন আমাকে দেখিয়ে দিল, কিভাবে পাম্প থেকে পেট্রল দিতে হয়৷ মোবিল আর পেট্রলের দাম কীভাবে হিসেব করতে হবে, তা-ও বুঝিয়ে দিল৷ তারপর লোহা-বোঝাই ট্রাকটা খালি করার জন্য আমাকে ডাকল৷

এরই মধ্যে সূর্য ঢলে পড়েছে পশ্চিম আকাশে৷ দিনের অসহ্য গরম আর নেই৷ মরুভূমির ঠান্ডা হাওয়ায় ভেসে আসছে অসংখ্য বালুকণা৷ গোধূলির আলোয় দূরের ধূসর পাহাড় হয়ে উঠেছে রক্তাভ৷ একটা শান্ত সমাহিত ভাব নেমে এসেছে দিনের উত্তপ্ত মরুভূমিতে৷

আমি আর জেনসন মিলে লোহালক্কড়গুলো একে একে নামাতে লাগলাম৷ কাজ করতে করতে হঠাৎই জেনসন আমার দিকে তাকাল, ‘লোলার ব্যবহারে কিছু মনে করো না জ্যাক,—ও ওইরকমই৷ কেউ এখানে কাজ করুক, তা ও চায় না—কে জানে কেন? হয়ত সব মেয়েরাই ওইরকম—’ জেনসনের মুখে চিন্তার ছায়া৷ কথা বলতে বলতে একটা পুরোনো মরচে-পড়া গাড়ির ইঞ্জিন ও এক হ্যাঁচকায় মাটিতে নামল৷ ওর শক্তি দেখে অবাক হয়ে গেলাম৷ অত ভারী ইঞ্জিনটাকে এমনভাবে বয়ে নিয়ে চলল, যেন পালকের তৈরি খেলনা৷ গুমটিঘরে ওটা রেখে সে ফিরে এল, ‘জ্যাক, নাও, একটা সিগারেট ধরা—’ পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে সে আমার দিকে এগিয়ে দিল, ‘—অনেক পরিশ্রম গেছে৷—হ্যাঁ, যা বলছিলাম,—প্রথম প্রথম লোলা হয়ত তোমাকে ভালো চোখে দেখবে না—কিন্তু দেখ, কয়েকদিন পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে৷’

কোন উত্তর দিলাম না৷

‘তা লোলাকে কেমন দেখলে, সুন্দরী না?’

‘হ্যাঁ৷’ ভয় হচ্ছিল বুকের ঢিপঢিপ শব্দ বুঝি জেনসন শুনে ফেলবে৷

‘কীভাবে যে লোলার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল, হুঁঃ—,’ জেনসন হাসল, ‘ভাবতে অবাক লাগে৷—সে ভীষণ মজার ব্যাপার, বুঝলে জ্যাক৷ আজ থেকে বছর দুয়েক আগের কথা৷ আমার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায়, তখন একাই সব সামলাচ্ছি৷ মন মেজাজ খুব খারাপ থেকে থেকেই বউয়ের কথা মনে পড়ছে৷ সমস্ত পরিবেশ যেন আমার মতোই বিষন্ন—নিঃসঙ্গ৷ চুপচাপ বসে আছি, এমন সময় একটা বাস এসে দাঁড়াল সামনের রাস্তায়৷ যাত্রীরা সব একে একে নেমে এল প্রায় তিরিশ পঁয়ত্রিশ জন হবে৷ তার মধ্যে লোলাও ছিল৷ কি অদ্ভুত দেখ, এখনও আমার ছবির মতো সব মনে পড়ছে৷ এমন কি লোলা কি রঙের পোশাক পরে ছিল, তা-ও মনে আছে৷ রেস্তোরাঁর কাউন্টারের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, যাত্রীরা সব হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল৷ সবাই তখন ক্ষুধার্ত, অথচ হাতে সময় মাত্র কুড়ি মিনিট, তারপরই বাস ছাড়বে৷ আমার তো সাংঘাতিক অবস্থা৷ একবার রান্নাঘর, আর একবার খাওয়ার টেবিল—এই করে একেবারে হিমসিম খেয়ে যাবার যোগাড়৷ হঠাৎ দেখি, সবুজ পোশাকে সজ্জিতা একটি সুন্দরী তরুণী আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে৷ অভ্যস্ত হাতে যাত্রীদের দিকে খাবারের প্লেট এগিয়ে দিচ্ছে—

‘যখন বাস ছাড়বার সময় হল, ততক্ষণে সবাইর খাওয়া হয়ে গেছে৷ মেয়েটি সাহায্য না করলে কি যে করতাম তাই ভাবি! বাস ছাড়ার সময় ওকে জিগ্যেস করলাম, ও আমার এখানে চাকরি করবে কিনা৷ মেয়েটি তো এক কথায় রাজি৷ বাস ছেড়ে দিল—কিন্তু ও থেকে গেল৷

‘তারপর থেকে দুজনে কাজ করি৷ বেশ ভালোভাবেই দিন যায়—, হঠাৎ একদিন ওয়েন্টওয়ার্থে গিয়ে কানে এল দু-চারটে কথা—আমাকে আর লোলাকে জড়িয়ে৷ অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার৷ ভেবে দেখলাম, সত্যিই তো, এভাবে আমাদের দুজনের থাকাটা ভালো দেখায় না৷ সুতরাং ফিরে এসেই ওর কাছে বিয়ের প্রস্তাব করলাম৷ আমার থেকে তেইশ বছরের ছোট হলেও, ও রাজি হয়ে গেল৷

‘এমনিতে মাঝে মাঝে মান-অভিমান করে বটে, কিন্তু লোলা খুব কাজের মেয়ে৷ ওর মতো মেয়ে আমি আর দুটি দেখিনি৷ এখন কয়েকদিন একটু অভিমান করে থাকবে৷ তারপর দেখো, সব ঠিক হয়ে যাবে৷’

এমন সময়ে একরাশ ধুলো উড়িয়ে একটা ক্যাডিলাক এসে দাঁড়াল৷ জেনসন আমাকে ওটা দেখতে বলে রেস্তোরাঁয় ফিরে গেল৷

পেট্রল দিতে দিতে গাড়ির আরোহীদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করলাম৷ কথায় কথায় জানলাম, এখানে রেস্তোরাঁও আছে, ইচ্ছে করলে তাঁরা খেয়ে নিতে পারেন৷ কারণ এরপর ট্রপিকা স্প্রিংস পর্যন্ত রাস্তায় কোন দোকান নেই৷ আমার কথায় রাজি হয়ে ওরা গাড়ি থেকে নেমে রেস্তোরাঁয় দিকে এগিয়ে চলল৷

এইভাবে শুরু হল আমার প্রথম কর্মব্যস্ত সন্ধ্যা৷ গাড়ির পর গাড়ি আসতে লাগল—কাজ করে চললাম, তার সঙ্গে সঙ্গে চলল রেস্তোরাঁর গুণগান—একসময় জেনসন রেস্তোরাঁ ছেড়ে বেরিয়ে এল, ‘জ্যাক, চমৎকার! তোমার জবাব নেই! আমাদের ডিনার সব শেষ৷ আর-কোন খদ্দেরকে খাবার জন্য অনুরোধ করো না৷ অন্যদিন বড়জোর দু-চারজন এখানে ডিনার খেতে নামে, কিন্তু আজ তোমার পাল্লায় পড়ে প্রায় বিশজন খদ্দের ডিনার খেয়েছে—’

‘আপনি কি তা চান না, মি জেনসন?’ একটু অবাকই হলাম৷

‘চাই না আবার!—আরে, আগে কি ছাই বুঝেছি, তুমি এলে বিক্রি পাঁচগুণ বেড়ে যাবে? ঠিক আছে, কাল থেকে দেখা যাবে৷ কুড়িজন কেন, চল্লিশজন এলেও তুমি আমাকে হারাতে পারবে না!’ জেনসন গলা ফাটিয়ে হেসে উঠল, ‘—এখন শুধু স্যান্ডউইচ, ডিম আর ফ্রুট পাই শেষ হতে বাকি৷ দেখ, ওগুলোর যদি কোন ব্যবস্থা করতে পার—’ জেনসন খাবার ঘরে ফিরে চলল৷

এবার ট্রাকের ভিড় বাড়তে শুরু করল৷

এইভাবে ঘণ্টাদুয়েক চলার পর রাত প্রায় দশটার সময়ে তা-ও কমে এল৷ একনাগাড়ে আধঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার পরও যখন কোন গাড়ির হেডলাইট চোখে পড়ল না, তখন ফিরে চললাম খাবার ঘরে৷

গিয়ে দেখি, দুজন ট্রাক-চালক কাউন্টারের সামনে টুলে বসে৷ তাদের সামনের প্লেটে ফ্রুট পাই৷ আর জেনসন এঁটো প্লেটগুলো ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে একপাশে সাজিয়ে রাখছে৷ লোলাকে কোথাও দেখলাম না কিন্তু রান্নাঘরের ভিতর থেকে বাসনপত্র নাড়াচাড়ার শব্দ কানে আসছে—অর্থাৎ লোলার৷

‘মি. জেনসন, আমাকে দিন, আমিই এগুলো ধুয়ে রাখছি৷’ জেনসনের হাতের প্লেটগুলো দেখালাম৷

‘না, না—ঠিক আছে৷ ও আমরা করে দিতে পারব৷ তুমি আর দেরি করো না,—যাও, শুয়ে পড় গিয়ে৷—আজ রাতে আমার পালা, কাল থেকে তোমাকে রাত্তিরে কাজ করতে হবে৷ যাও, চটপট শুয়ে পড়—’

দরজার দিকে এগিয়ে চললাম৷ চৌকাঠ পেরোতেই জেনসন পিছু ডাকল, ‘জ্যাক!’ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম, ‘তোমার কাজে আমি যেমন সন্তুষ্ট, আশা করি তুমিও একাজে অসন্তুষ্ট নও?’

‘আপনি যে আমার কাজে খুশি হয়েছে, তাতেই আমি খুশি৷’ রাস্তা পার হয়ে এগিয়ে চললাম ঘরের দিকে৷

জামাকাপড় ছেড়ে আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম৷ ক্লান্তিতে শরীর যেন ভেঙে পড়ছে৷ কিন্তু চোখে ঘুম নেই৷ অজস্র চিন্তায় মন ভারাক্রান্ত৷ থেকে থেকেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে লোলার ছবি—ও যেন হেঁটে চলেছে রান্নাঘরের দিকে, পরনে সেই সাদা গাউন৷

লোলা পরস্ত্রী৷ ওর কথা এভাবে ভাবা আমার উচিত নয়, কিন্তু তবুও ওর চিন্তা মনকে আচ্ছন্ন করে রাখল৷

ঘরের জানালার ঠিক পাশেই আমার শোবার খাট৷ অন্ধকারে শুয়ে শুয়ে রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে-থাকা বাংলোটাকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে৷ নির্নিমেষে চেয়ে রইলাম বাংলোর দিকে—ঘুম কিছুতেই আসছে না৷

প্রায় ঘণ্টাখানেক এভাবে শুয়ে থাকার পর, একসময় বাংলোর একটা ঘরে আলো জ্বলে উঠল৷ জানালার নীল পর্দা সরানো থাকায় আলোকিত ঘরটা পরিষ্কার চোখে পড়ছে—ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে লোলা৷ ওর হাতে জ্বলন্ত সিগারেট৷ তার ধোঁয়ায় ওর মুখটা ঝাপসা দেখাচ্ছে৷ একটু পরেই শ্লথ পায়ে ড্রেসিং-টেবিলের কাছে গিয়ে, ও সিগারেটটা একটা ছাইদানে গুঁজে দিল৷ আয়নার মুখোমুখি বসে বাঁ হাতে খুলে ফেলল চুলের কাঁটা৷ একরাশ চুল বাঁধ-ভাঙা ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ল কোমরের কাছে৷

উঠে বসলাম, দেখতে লাগলাম লোলাকে৷ অনুভব করলাম হৃদয়-তোলপাড়-করা উত্তেজনা৷

একটা চিরুনি নিয়ে লোলা চুল আঁচড়াতে লাগল৷ প্রায় মিনিট পাঁচেক পর ও চেয়ার ছেড়ে বিছানার কাছে এগিয়ে এল, উপরের ঢাকনাটা তুলে সরিয়ে রাখল এক পাশে৷ তারপর জানালার কাছে এসে, ও গাউনের বোতাম খুলতে শুরু করল—সাদা গাউনটা খসে পড়ল মেঝেতে—ও হাত বাড়িয়ে জানলা বন্ধ করে দিল৷ ঘষা কাচের পাল্লায় ভাসতে লাগল ওর নগ্ন শরীরের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি৷

অন্ধকারে কতক্ষণ ওভাবে বসেছিলাম জানি না৷ এক সময় খেয়াল হল বাংলোর আলো নিভে গেছে—কানে এল গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ৷ চোখ ফিরিয়ে দেখি, একটা ট্রাক এসে দাঁড়িয়েছে সামনের রাস্তায়—আর বাংলোর দরজা খুলে জেনসন ওটার দিকে এগিয়ে আসছে৷

অপেক্ষা না করে শুয়ে পড়লাম, কিন্তু সে-রাতে আর ঘুম এল না৷