চাবি রহস্য – ৪

গতরাতে ঝিনুক একটা আজব স্বপ্ন দেখেছে। বাবা-মা, দীপকাকুর মধ্যে কাউকেই বলা যাবে না স্বপ্নটার কথা। হাসাহাসি করবেন তিনজনেই। স্বপ্নটা ভেবে এখন নিজের মনেই হাসছে ঝিনুক। স্বপ্নের সময়টা ছিল দুপুর। বাড়ির বারান্দায় বসে আছে ঝিনুক। চাবিওয়ালার গলা পাওয়া যাচ্ছে। ‘চাবি করাবে, চাবি? তালা খোলাবে, তালা?’ এই হাঁকের মধ্যেই একরাশ চাবির ঝনাৎ ঝনাৎ শব্দ! চাবি তৈরির ফেরিওয়ালা আজকাল বড় একটা দেখা যায় না। ঝিনুক যখন ছোট, এপাড়ায় তাদের হামেশাই দেখা যেত। এক হাতে ধরে থাকত তারের রিং, তাতে ঝুলত অজস্র চাবি। হাতটা ওঠানামা করে আওয়াজ তুলত। আর ঘাড়ে থাকত ছোট কাঠের বাক্স। যন্ত্রপাতি থাকত সেটায়। অন্য হাত দিয়ে ধরে থাকত বাক্সটা। ছেলেবেলায় ঝিনুকের মনে হত, এরাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সৎ লোক। ইচ্ছে করলেই প্রচুর ধনরত্নের মালিক হতে পারে, সমস্ত সিন্দুকের চাবি তৈরির কৌশল এদের জানা। তবু সে-সব খারাপ পথে যায় না। ধুলোমলিন পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায় পাড়ায় পাড়ায়, গৃহস্থের হারিয়ে যাওয়া চাবির বন্ধ তালা খুলে দেয়। তৈরি করে দেয় নতুন চাবি।

স্বপ্নে ছেলেবেলার ফেরিওয়ালা ফিরে এসেছিল হাঁক আর চাবির আওয়াজ সমেত। গেটের সামনে দিয়ে যখন যাচ্ছে লোকটা, ঝিনুক ডেকে উঠেছিল, “ও চাবিওয়ালা!”

চকিতে ঝিনুককে দেখে নিয়ে চাবিওয়ালা বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে যেতে থাকল। কীরকম যেন সন্দেহ হল ঝিনুকের। দৌড়ে গিয়ে গেট খুলে রাস্তায় দাঁড়াল। লোকটা হাঁটার ছন্দে ততক্ষণে দৌড় শুরু করে দিয়েছে। ঝিনুকও একই ছন্দে অনুসরণ করতে থাকল। লোকটা আর-একবার পিছন ফিরে ঝিনুককে দেখেই দৌড় শুরু করল। হাতের জিনিসপত্র রাস্তার ধারে ফেলে দিল। মুখটা খুবই চেনা চেনা লাগল ঝিনুকের। লোকটাকে ছাড়লে চলবে না। স্প্রিন্ট টানতে লাগল ঝিনুক। অচিরেই ধরে ফেলবে। ক্যারাটে এবং দৌড়ের প্র্যাকটিস নিয়মিত চালিয়ে যায় ঝিনুক। স্বপ্নের চেজিং বলেই লোকটাকে ধরা যাচ্ছিল না। ফুট চার-পাঁচের ব্যবধান থেকেই যাচ্ছিল। এক সময় একটা ফলের ঠেলাগাড়িতে সজোরে ধাক্কা লোকটা। গাড়িটা নিশ্চয়ই ঝিনুকের দেখা সিনেমা স্মৃতি থেকে উদয় হয়েছিল। লোকটা ফুটপাতে চিৎপাত। ঝিনুক হাঁফাতে হাঁফাতে সামনে যেতেই রীতিমতো চমকে উঠল, ও কার চেহারা দেখছে সে? মুখটা সমীরণ দাসের। জামা নিতাইয়ের। একটা হাত দেবাংশুবাবুর, সেটা চেনা গেল বিদেশি ঘড়িটা দেখে। অন্য হাত সম্ভবত সূর্য রায়ের, আলাদা কোনও বৈশিষ্ট্য নেই। প্যান্ট জুতো অবধারিত তথাগতর… বিপুল বিভ্রান্তি নিয়ে ঘুম ভেঙেছিল ঝিনুকের। নিজেকে আবিষ্কার করেছিল মশারি জড়ানো অবস্থায়, বিছানায়। কখন ও কীভাবে যে মশারির দড়ি ছিঁড়ে ফেলেছিল কে জানে!

এরকম উদ্ভট স্বপ্ন দেখার যথেষ্ট কারণ আছে। গতকাল অনেক রাত পর্যন্ত দেবাংশুবাবুর কেসটা নিয়ে ভেবেছে, নোট করেছে নানা পয়েন্ট। তদন্তে জড়িয়ে পড়া চরিত্ররা তাই মিলেমিশে চলে এসেছে ঝিনুকের স্বপ্নে। যতবার মনে পড়ছে স্বপ্নটা, মনে মনে হেসে নিচ্ছে ঝিনুক। একটু আগে যেমন নিল। মোটরবাইকে দীপকাকুর পিছনে বসে ঝিনুক এখন চলেছে সল্টলেকে সূর্য রায়ের বাড়ি। এই যাওয়ার সঙ্গে দেবাংশুবাবুর কেসের কোনও সম্পর্ক নেই। একটা ফোটোগ্রাফি এগজ়িবিশনে সূর্য রায়ের তোলা চারটে ফোটো নেওয়া হবে। প্রদর্শনীর বিষয় হচ্ছে, ‘দ্য ওল্ড সিটি’। দীপকাকুর ফোটোগ্রাফার বন্ধুরা আয়োজন করছেন এই এগজ়িবিশনের। এরকম প্রদর্শনী ওঁরা নাকি প্রায়ই করে থাকেন। দীপকাকু অবশ্য ঝিনুককে কোনওদিনই নিয়ে যাননি। এই ধরনের নানা ব্যাপারে দীপকাকু জড়িয়ে থাকেন, প্রসঙ্গ না এলে সে-সব উত্থাপন করেন না। ফোটোগ্রাফি নিয়ে দীপকাকুর যে এত ফান্ডা, সূর্য রায়ের অফিসে ছবিগুলো না থাকলে জানাই যেত না। ক্রিক রো-র সেই অফিস থেকে বেরিয়ে দীপকাকু বলেছিলেন, “নাঃ, লোকটার ফোটো তোলার হাত বেশ ভাল। এ লাইনে পড়ে থাকলে নাম করত।”

পরে হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে দীপকাকু জানতে পেরেছিলেন সামনে একটা এগজ়িবিশন আছে। দীপকাকুর রিকোয়েস্টে সূর্য রায়ের ছবি নিতে রাজি হন উদ্যোক্তারা। ফোনে দীপকাকু সে-কথা জানিয়েছিলেন সূর্য রায়কে। বলেছিলেন, “পুরনো শহরের উপর বেশকিছু ফোটো রেডি রাখুন। দেশ-বিদেশে যে-কোনও শহরের হলেই চলবে। আমি সেই ছবিগুলো বন্ধুদের দেখাব। ওরা সিলেক্ট করবে চারটে ফোটো। আপনি ফোটোগুলো এনলার্জ করতে দেবেন।”

সুযোগ পেয়ে খুবই উৎসাহিত হয়েছিলেন ভদ্রলোক। দীপকাকুকে বলেছিলেন, “আপনি আমার বাড়ি চলে আসুন। প্রচুর ফোটো দেখাব। আপনি ঠিক করে নেবেন কোন ফোটোগুলো বন্ধুদের কাছে নিয়ে যাবেন।”

দেবাংশুবাবুর কেস প্রায় শেষের মুখে, এই সময় দীপকাকু ট্র্যাকের বাইরের কাজ কেন নিলেন, বোঝা যাচ্ছে না। বেশ রিল্যাক্সড আছেন। অথচ আজই চিহ্নিত হয়ে যাবে অপরাধী। দীপকাকুর আর্টিস্ট যাবে পারমিতা দেবীর কাছে, উনি বর্ণনা করবেন এসি সার্ভিসিং করতে আসা লোকটার চেহারা। আর্টিস্ট ছবি আঁকবে। ধরা পড়ে যাবে চোর। দীপকাকু অবশ্য এটা মানছেন না। গতকাল দেবাংশুবাবুদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঝিনুক দীপকাকুকে বলেছিল, “তা হলে আগামীকাল ধরা পড়ে যাচ্ছে অপরাধী? ছবি তো পেয়েই যাচ্ছি আমরা।”

দীপকাকু বলেছিলেন, “না, তার চেয়েও বড় এভিডেন্স হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, যার রিপোর্ট পেতে আরও চারদিন লাগবে।”

“ছবি থাকলে লোকটাকে সহজে শনাক্ত করা যাবে,” বলেছিল ঝিনুক।

দীপকাকু বলেছিলেন, “সেটা ডিপেন্ড করছে পারমিতা কতটা সঠিক বর্ণনা দিতে পারেন, তার উপর। হাতের ছাপ সেদিক থেকে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে চোর ধরা গেলেও, যতক্ষণ না চুরিটা কীভাবে হয়েছে, মানে, চোর চাবি পেল কোথায়, বের করতে পারছি, অপরাধীকে পুরোপুরি দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। হিসেবমতো আমার কাজ এখনও অর্ধেক বাকি।”

স্বাভাবিক কারণেই দমে গিয়েছিল ঝিনুক, এত কিছুর পরও মাত্র ফিফটি পারসেন্ট কাজ এগিয়েছে! গাড়িতে গুম মেরে বসেছিল ঝিনুক। দীপকাকু হয়তো উৎসাহ জোগানোর জন্য বলে উঠেছিলেন, “সম্ভাব্য অপরাধীদের লিস্ট অবশ্য এখন অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। বাদ পড়েছেন দেবাংশুবাবু। ডায়াগ্রামের কপি যে আছে, সেটা স্বীকার করেছেন। তথাগতকে তো আগেই সন্দেহের বাইরে রেখেছি। পারমিতা দেবীকেও রেহাই দেওয়া যায়। কারণ, এসি সার্ভিসিংয়ের লোকটার কথা উনিই বলেছেন। আমি নিশ্চিত, চুরি ওই লোকটাই করেছে। নিতাইকে তাই সন্দেহ করার আর কোনও মানে হয় না। লোকটা নিতাই নয়।

ঝিনুক বলেছিল, “নিতাই যদি ছদ্মবেশে এসি সারানোর লোক হয়ে এসে থাকে?”

“ওর গলা শুনে চিনতে পারতেন পারমিতা। প্রায় নিয়মিত নিতাই ওবাড়িতে যাতায়াত করে।” বলেছিলেন দীপকাকু।

ঝিনুক জিজ্ঞেস করেছিল, “বাপনের মা-র বিষয়ে আপনার মতামত?”

“সেও নির্দোষ। রোজ ব্যাগটা হাতে তুলে মেঝে পরিষ্কার করত। চুরিটা যদি সে করে থাকে, ব্যাগে হাতের ছাপ রাখত না।”

দীপকাকু সত্যিই লিস্টটা একেবারেই ছোট করে দিয়েছেন। পরক্ষণেই বলে উঠলেন, “আমার সমস্ত অনুমান মিথ্যে করে দিতে পারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট। তাই ওটার ফোটো সবচেয়ে বেশি জরুরি।”

ঝিনুক আর কোনও কথা না বাড়িয়ে জানতে চেয়েছিল, “কাল তা হলে আমরা কখন বেরচ্ছি?”

দীপকাকু বলেছিলেন, “কাল আর তুমি বেরিয়ো না। বাইরের কাজ তো একটাই, দেবাংশুবাবুর বাড়ি গিয়ে আর্টিস্টের আঁকা অপরাধীর ছবিটা নিয়ে আসা। বাকি কাজ আমি অফিসে বসে ফোনেই সেরে নেব।”

ঝিনুক দীপকাকুর কথা মানতে চায়নি। বলেছিল, “না, আমি আপনার অফিসেই চলে আসব। যাব দেবাংশুবাবুর ফ্ল্যাটে। ভীষণ কিউরিয়োসিটি হচ্ছে অপরাধীর ছবিটা দেখার জন্য। আপনার সঙ্গে যে-সব কেসে ছিলাম, ছবি এঁকে অপরাধী ধরার ব্যাপারটা ছিল না।”

দীপকাকু আর ‘না’ করেননি। ঝিনুক সকাল সাড়ে দশটায় পৌঁছে গিয়েছিল দীপকাকুর অফিসে। দীপকাকু তখন ফোনে কথা বলছিলেন। সম্ভবত সান ট্র্যাভেলস-এর সঙ্গে। দীপকাকুর দুটো প্রশ্ন শুনেছিল ঝিনুক। মানে করতে পারেনি। এক নম্বর প্রশ্ন, “মিস্টার সেনগুপ্ত ছাড়া কলকাতার আর কারও টিকিট কি বুক করেছিলেন ওই ফ্লাইটে?” দ্বিতীয় প্রশ্ন, “দেবাংশু সেনগুপ্ত কোন ফ্লাইটে যাচ্ছেন এবং ফিরছেন, এ ব্যাপারে কি কোনও কোয়ারি এসেছিল?” ওপ্রান্তের উত্তর ঝিনুক শুনতে পায়নি, তাই প্রশ্নটাই ধোঁয়াশামার্কা লাগল। ঝিনুককে কিছু জিজ্ঞেস করার সুযোগ না দিয়ে দীপকাকু বললেন, “চলো, সূর্য রায়ের বাড়ি যেতে হবে একবার।”

বাইকে আসার পথে দীপকাকু জানালেন, কেন যাওয়া হচ্ছে সূর্য রায়ের বাড়ি। তাই শুনে এখন ঝিনুকের মনে হচ্ছে, এই কাজে তার না এলেও চলত।

অফিস টাইমের ব্যস্ত রাস্তা ছেড়ে ঝিনুকরা ঢুকে পড়েছে সল্টলেকে। এখানে এলেই ঝিনুকের কীরকম একটা ভয়-ভয় করে। হারিয়ে যাওয়ার ভয়। একবার বাস থেকে নেমে এক বন্ধুর বাড়ি যেতে গিয়ে দু’ঘণ্টা সল্টলেকের গোলকধাঁধামাকা রাস্তায় ঘুরেছিল। দীপকাকু কিন্তু একচান্সে নির্দিষ্ট বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড় করালেন। নেমপ্লেটে ‘জয়শ্রী রায়’ এবং ‘সূর্য রায়’ লেখা।

.

চা এবং প্রচুর স্ন্যাক্স সহযোগে সূর্য রায়ের স্ত্রী আপ্যায়ন করলেন ঝিনুকদের। সূর্য রায়ও খুব উত্তেজিত, এগজ়িবিশনে প্রথমবার ফোটো যাচ্ছে বলে কথা! অফিসে আজ দু’ঘণ্টা লেট করে ঢুকবেন, ঠিক করে রেখেছেন। দীপকাকু এখন সূর্য রায়ের তোলা ফোটোতে মগ্ন। বিভিন্ন সাইজ়ের অজস্র ফোটো সেন্টার টেবিলে এনে রেখেছেন সূর্য রায়। সব ফোটো শহরের নয়। দীপকাকু শহরের ছবিগুলো আলাদা করছেন। হঠাৎ মনে পড়েছে, এভাবে মাথা তুলে সূর্য রায়কে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনাদের বাথরুমটা কোথায়?”

“আসুন,” বলে, সূর্য রায় ডেকে নিলেন দীপকাকুকে।

বাথরুম থেকে ঘুরে এসে দীপকাকু ফের ফোটোয় ডুবে গেলেন। ফোন বাজছে ওঁর। খেয়াল করছেন না। ঝিনুক সংবিৎ ফেরাল, “ফোন রিসিভ করুন।”

“অ্যাঃ, হ্যাঁ!” বলে, পকেট থেকে ফোন বের করলেন দীপকাকু। স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে কানে নিলেন। বললেন, “হ্যাঁ, বলুন।”

ওপ্রান্ত থেকে কোনও অপ্রত্যাশিত খবর এল। মুহূর্তে পালটে গেল দীপকাকুর এক্সপ্রেশন। পরপর যে কথাগুলো বললেন, তা হচ্ছে, “আসেনি অফিসে…”, “বাড়ি থেকে ট্র্যাভেল ব্যাগ নিয়ে বেরিয়েছে…”, “অফিসের ট্যুরে কোথায় যাচ্ছে, বাড়িতে বলেনি…”, “ঠিক আছে, আমি পুলিশ লাগাচ্ছি,” ফোন অফ করে দীপকাকু বললেন, “আমি এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম। পাখি পালিয়েছে।

ঝিনুক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কে?”

দীপকাকু বললেন, “তথাগত।” একটু চুপ থেকে আপশোসের গলায় বলে উঠলেন, “আরও কেয়ারফুল থাকা উচিত ছিল আমার।”

থমথমে মুখে টেবিল থেকে গোটাদশেক ফোটো তুলে নিলেন দীপকাকু। সূর্য রায়কে বললেন, “একটা এনভেলপ দিন না।”

খাম এনে দিলেন সূর্য রায়। ওঁর মুখ থেকেও নিভে গিয়েছে একটু আগের উৎসাহ। উদ্বেগ মেশানো গলায় বললেন, “তথাগত মানে, দেবাংশুদার অ্যাসিস্ট্যান্ট! পালিয়েছে কেন?”

“ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে। দেবাংশুবাবুর জিনিসগুলো চুরি করেছে সে। ধরা অবশ্য পড়বেই। কলকাতার পুলিশের ক্ষমতা তো জানে না!” বলে, দীপকাকু ফোটোগুলো খামে পুরে উঠে দাঁড়ালেন।

.

দীপকাকুর বাইক সূর্য রায়ের বাড়ি ছাড়াতেই ঝিনুক জিজ্ঞেস করল, “আপনি তো তথাগতবাবুকে সন্দেহের বাইরে রেখেছিলেন?”

“তাতে কী হয়েছে? আমার অনুমান ভুল হতে পারে না!” বললেন দীপকাকু।

ঝিনুক জানতে চাইল, “আমরা কি এখন যাদবপুর থানায় যাচ্ছি?”

“না, দেবাংশুবাবুর ফ্ল্যাটে।” বললেন দীপকাকু।

ঝিনুক বলল, “সেখানে গিয়ে আর কী হবে, চোর কে, সে তো বোঝাই যাচ্ছে।”

দীপকাকু বললেন, “তথাগত নিজে চুরি করেনি। করলে, পারমিতা দেবী ওকে চিনতে পারতেন। চুরি করিয়েছে অন্য কাউকে দিয়ে। আর্টিস্টের আঁকা ছবিটা চিনিয়ে দেবে সেই অপরাধীকে।”