অধ্যায় ৭
এ কাহিনি যাদের হাতে পৌঁছবে আমাদের বিলাসবহুল সমুদ্র-যাত্রার বিবরণ দিয়ে তাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাব না। একটা প্রশস্ত অথচ ক্ষীণস্রোতা ও কর্দমাক্ত নদীপথে আমাদের স্টীমার-যাত্রার কাহিনিও সংক্ষেপেই উল্লেখ করলাম। এক সময় আমরা মানাওসে পৌঁছে গেলাম। সেখানে ব্রিটিশ অ্যান্ড ব্রাজিলিয়ান ট্রেডিং কর্পোরেশনের প্রতিনিধি মি. শর্ট ম্যানের আতিথ্যে কয়েকটা দিন কাটাবার পরে সেই দিনটি এসে পড়ল যেদিন প্রফেসর চ্যালেঞ্জারের নির্দেশ-নামা খুলবার হুকুম আমাদের উপর ছিল। কিন্তু সেদিনকার বিস্ময়কর ঘটনাবলীর বিবরণ দেবার আগে আমার অভিযান-সঙ্গীদের কথা এবং দক্ষিণ আমেরিকার সহযোগীদের কথা কিছুটা বলে নেওয়া দরকার। মি. ম্যাক্আর্ডল, সব কথা আমি খোলাখুলিই বলছি; আপনি ইচ্ছামতো সেটাকে ব্যবহার করতে পারবেন, কারণ পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছবার আগে এ প্রতিবেদন তো আপনার হাত দিয়েই যাবে।
প্রফেসর সামারলীর বৈজ্ঞানিক খ্যাতি পুনরুল্লেখের অপেক্ষা রাখে না। এই ছেষট্টি বছর বয়সেও কোনওরকম কষ্ট নিয়ে তাঁকে কখনও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখিনি। প্রথমে তাঁকে এই অভিযানের বিঘ্নস্বরূপ বলেই ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন আমার দৃঢ় প্রত্যয় জন্মেছে যে তাঁর সহ্যশক্তি আমার মতোই অসীম। তাঁর মেজাজ স্বভাবতই খিটখিটে ও সন্দেহবাতিকগ্রস্ত। গোড়া থেকেই তিনি কখনও তাঁর এই বিশ্বাসকে লুকোননি যে প্রফেসর চ্যালেঞ্জার একটি মহা জোচ্চোর, আমরা বুনো হাঁস তাড়াবার অভিযানেই নেমেছি, আর তার ফলে আমাদের কপালে জুটবে শুধু দক্ষিণ আমেরিকায় হতাশা ও বিপদ, এবং ইংলন্ডে সকলের ঠাট্টা ও বিদ্রূপ। সাদন থেকে মানাওস পর্যন্ত তাঁর মুখে শুধু এই কথাই আমরা শুনতে শুনতে এসেছি। বরং নৌকো থেকে মাটিতে পা দেবার পর থেকে চারদিককার কীট- পতঙ্গ ও পাখিদের সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের মধ্যে তিনি বেশ কিছুটা সান্ত্বনালাভ করেছেন। একটা শট-গান ও প্রজাপতি-ধরা জাল নিয়ে সারাটা দিন বনে-জঙ্গলে কাটান, আর সন্ধ্যাবেলায় সংগৃহীত প্রজাতিগুলোকে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখেন। এ ছাড়া তাঁর বৈশিষ্ট্য হলো লোকটি বেশবাস সম্পর্কে উদাসীন, স্বভাবটা নোংরা, অত্যন্ত অন্যমনস্ক, আর নিরবচ্ছিন্ন তামাক-খোর; তার মুখ থেকে পাইপটা কখনও নামে না।
লর্ড জন রক্সটন কিছু কিছু বিষয়ে প্রফেসর সামারলীর অনুরূপ। আবার কিছু কিছু বিষয়ে তাঁরা পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত। বয়সে তিনি বিশ বছর ছোট, কিন্তু দু’জনের শারীরিক গঠন অনেকটা একই রকম। অত্যন্ত পরিষ্কার-পরচ্ছিন্ন, পোশাক-পরিচ্ছদে ফিটফাট, দিনে অন্তত একবার দাড়ি কামান। পৃথিবী সম্পর্কে, বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান বিস্ময়কর; আমাদের অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে তিনি সর্বান্তঃকরণে আস্থাবান; প্রফেসর সামারলীর ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সে বিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারেনি। ব্রাজিল ও পেরুতে সফল অভিযানের কথা তিনি খুবই অল্পই বলেছেন, কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতে নদীমাতৃক অঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে যে উত্তেজনা লক্ষ করেছি তা বিস্ময়কর। তারা তাঁকে ডাকে “লাল সেনাপতি” বলে; তাদের চোখে তিনি তো উপকথার নায়কবিশেষ।
লর্ড জন রক্সটনও দক্ষিণ আমেরিকা বলতে পাগল। উত্তরে আঙুল বাড়িয়ে তিনি বলে উঠতেন, “ওদিকে কি আছে? গাছপালা, জলাভূমি, আর অনাবিষ্কৃত জঙ্গল। সেখানে কি আছে তা কে জানে? কোনও সাদা মানুষ তো আজ পর্যন্ত সেখানে যায়নি। আমাদের চারদিকেই তো অজানার হাতছানি। ছোট ছোট নদী- পথের বাইরে কতটুকু আমরা জানি? এ রকম একটা দেশে কী যে সম্ভব তা কে বলতে পারে? বুড়ো চ্যালেঞ্জারের বক্তব্য সঠিক না হবার কি আছে?” এ কথা শুনে একগুঁয়ে প্রফেসর সামারলীর মুখে বিদ্রূপের রেখা ফুটে উঠত। উঠে বসে তিনি অসম্মতিসূচক ঘাড় নাড়তেন, পাইপের ধোঁয়ার আড়ালে মুখ ঢেকে তিনি সবেগে মাথা নাড়তেন।
আমার দুই শ্বেতকায় সঙ্গীর কথা আপাতত এই পর্যন্তই থাক; কাহিনির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চরিত্রের অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতিই ধরা পড়বে। ইতিমধ্যেই আমরা এমন কয়েকটি স্থানীয় অনুচর নিয়োগ করেছি আগামী দিনে যারা অনেক বড় খেলা দেখাবে। প্রথম জন বিরাট দেহী এক নিগ্রো; নাম জাম্বো; একটি কৃষ্ণকায় হার্কিউলিস; ঘোড়ার মতোই সেবাপরায়ণ ও বুদ্ধিমান। সে কিছু কিছু ভাঙা ইংরেজি বলতে পারে। তাকে দলে নেওয়া হয়েছে পারা থেকে। সেখানেই দলে নেওয়া হয়েছে দুটি দো-আঁসলাকে—গোমেজ ও ম্যানুয়েল। মোটাসোটা চেহারা, মুখময় দাড়ি, হিংস্র, চিতাবাঘের মতোই কর্মঠ ও কঠিন। আমাজন নদীর উজানেই তাদের জীবন কেটেছে। আমরাও সেই দিকে যাব বলেই তাদের দলে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, গোমেজ খুব ভাল ইংরেজি বলতে পারে। মাসিক পনেরো ডলার বেতনে তারা আমাদের সব কাজ করতে রাজী। তাছাড়া, বলিভিয়া থেকে আরও তিনজন মোজো ইন্ডিয়ানকে আমরা কাজে নিয়েছি; তারা মাছ ধরতে ও নৌকোর কাজে খুব ওস্তাদ। তাদের মধ্যে যে প্রধান তাকে আমরা ডাকতাম মোজো বলে; বাকি দু’জনের নাম জোস্ ও ফার্নন্ডো। তাহলে তিনটি সাদা মানুষ, দুটি দো-আঁসলা, একটি নিগ্রো ও তিনজন ইন্ডিয়ানকে নিয়ে আমাদের ছোট অভিযাত্রী দলটি গড়া হয়েছিল।
অবশেষে আরও একটি ক্লান্ত সপ্তাহ পরে এল সেই দিন ও ক্ষণ। একটা বেতের টেবিলকে ঘিরে সকলে বসে ছিলাম। সামনে ছিল সিল-করা খামটা। প্রফেসর চ্যালেঞ্জারের আঁকাবাঁকা হস্তাক্ষরে তার উপর লেখা ছিল :
“লর্ড জন রক্সটন ও তাদের দলের প্রতি নির্দেশ। ১৫ই জুলাই বেলা ঠিক ১২ টায় মানাওস-এ এটা খুলতে হবে।”
লর্ড জনের ঘড়িটা ছিল টেবিলের উপর তাঁর পাশেই। তিনি বললেন, “আর সাত মিনিট বাকি। বুড়ো লোকটি এ ব্যাপারে খুব কড়া।”
খামটা তুলে নিয়ে বাঁকা হাসি হেসে প্রফেসর সামারলী বললেন, “এখনই খুলি আর সাত মিনিট পরেই খুলি তাতে কি যায় আসে? সবই তো অর্থহীন হাতুড়ে ব্যবস্থার অংশ। আর সে ব্যাপারে তো লেখকটির জুড়ি নেই।”
লর্ড জন বললেন, “যাই হোক, নিয়ম মেনে তো চলতেই হবে। সবটাই বুড়ো চ্যালেঞ্জারের খেলা, তাঁর ইচ্ছাতেই আমরা এখানে এসেছি, কাজেই তাঁর নির্দেশ যদি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা না হয় তো সেটা খুবই খারাপ কাজ হবে।”
প্রফেসর তিক্তস্বরে বলে উঠলেন, “আচ্ছা খেলাই বটে! লন্ডনে থাকতেই বুঝেছিলাম যে পুরো ব্যাপারটাই ভাঁওতা, আর যত দেখছি ততই সে ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে। খামের ভিতরে কি আছে জানি না। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কথা যদি কিছু না থাকে তাহলে আমি কিন্তু পরবর্তী ভাঁটির নৌকো ধরে পারা থেকে ‘বলিভিয়া’-তে চড়ে বসব। যাই বলুন, একটি উন্মাদের বক্তব্যকে অপ্রমাণ করার চাইতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমার হাতে রয়েছে। রক্সটন, এখন নিশ্চয় সময় হয়েছে।”
লর্ড জন বললেন, “ঠিক সময় হয়েছে। এবার বাঁশি বাজাতে পারেন। খামটা হাতে নিয়ে ছুরি দিয়ে সেটার মুখ কেটে ফেললেন। একটা ভাঁজ-করা কাগজ বের করে সযত্নে খুলে টেবিলের উপর মেলে ধরলেন। একটা সাদা পাতা। পাতাটা ওল্টালেন। সেদিকটাও সাদা। আমরা পরস্পরের দিকে তাকালাম। চারদিকে বিমূঢ় নৈঃশব্দ্য। হঠাৎ প্রফেসর সামারলী হো-হো করে হেসে উঠলেন।
চেঁচিয়ে বললেন, “এটাই তো খোলাখুলি স্বীকৃতি। এর বেশি আর কি চান আপনারা? লোকটা কত বড় ‘হাম্বাগ্’ সেটা তো সে নিজেই স্বীকার করেছে। এখন আমাদের একমাত্র কাজ দেশে ফিরে গিয়ে লোকটা যে কত বড় জোচ্চোর সেটা জানিয়ে দেওয়া।”
“অদৃশ্য কালি নয় তো!” আমি বললাম।
কাগজটাকে আলোতে ধরে লর্ড রক্সটন বললেন, “তাও মনে হয় না! না, ইয়ং-ফেলা-মাই-ল্যাড, নিজেকে ঠকিয়ে কি হবে। আমি বাজি রেখে বলতে পারি এ কাগজে কোনওদিন কোনও কিছু লেখা হয়নি।”
“ভিতরে আসতে পারি?” বারান্দা থেকে একটা গর্জন ভেসে এল।
একটি বেঁটেখাটো মূর্তির ছায়া পড়ল ঘরে। সেই কণ্ঠস্বর! সেই দানবীয় চওড়া কাঁধ! বিস্ময়ে রুদ্ধশ্বাস হয়ে আমরা এক লাফে উঠে দাঁড়ালাম। রঙিন ফিতে-বাঁধা গোলাকার খড়ের টুপি মাথায়, কুর্তার পকেটে দুই হাতে ঢোকানো, ক্যানভাসের ছুঁচলো জুতো পায়ে ঘরে ঢুকলেন চ্যালেঞ্জার। সোনালি রোদের মধ্যে ঐ তো তিনি দাঁড়িয়ে আছেন—মাথাটা পিছন দিকে হেলানো, মুখময় এসিরীয় দাড়ির প্রাচুর্য, ঝুলে-পড়া চোখের পাতায় স্বকীয় ঔদ্ধত্য, আর দুই চোখে অসহিষ্ণু দৃষ্টি।
ঘড়িটা বের করতে করতে বললেন, “আমার মিনিট কয়েক দেরি হয়ে গেল। স্বীকার করছি, এই খামটা দেবার সময় আমি ভাবিইনি যে আপনারা এটা খুলবেন, কারণ আমার স্থির বাসনা ছিল যে নির্দিষ্ট ক্ষণের আগেই আমি আপনাদের কাছে পৌঁছে যাব। দুর্ভাগ্যবশত নাবিকের ভুল আর একটা বালুচরের বাধা এই বিলম্বটা ঘটিয়ে দিল। আমার ভয় হচ্ছে, এই বিলম্বের জন্য আমার সহকর্মী প্রফেসর সামারলী আমাকে নিন্দা করার একটা সুযোগ পেয়ে গেছেন।”
লর্ড জন কঠোর গলায় বললেন, “আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি স্যার যে আপনি এসে পড়ায় আমরা যথেষ্ট স্বস্তি বোধ করছি, কারণ আমাদের অভিযান প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কিন্তু একটা কথা আমি এখনও বুঝতে পারছি না যে এরকম একটা অদ্ভুত ব্যবস্থার আশ্রয় আপনি কেন নিয়েছেন।”
কোনও জবাব না দিয়ে প্রফেসর চ্যালেঞ্জার লর্ড জন ও আমার সঙ্গে করমর্দন করলেন, উদ্ধত ভঙ্গিতে প্রফেসর সামারলীকে অভিবাদন জানালেন, তারপর বেতের চেয়ারটায় বসে পড়লেন। তাঁর ভারে চেয়ারটা মডু-মড় করে উঠল।
“আপনারা যাত্রার জন্য প্রস্তুত?” তিনি শুধালেন।
“আমরা কালই যাত্রা করতে পারি।”
“তাই করুন। পথ চলার জন্য কোনও মানচিত্রের আর দরকার হবে না, কারণ এখন থেকে আমার পরিচালনার অমূল্য সুযোগ আপনারা পাবেন। আমার হাতে আপনারা সম্পূর্ণ নিরাপদ। গন্তব্যস্থলে আপনারা নিশ্চয় পৌঁছে যাবেন। এখন থেকে এ অভিযানের নেতৃত্ব নিচ্ছি আমি স্বয়ং। আজ রাতেই সব আয়োজন সম্পূর্ণ করে ফেলুন, যাতে কাল সকালেই আমরা যাত্রা করতে পারি। আমার সময়ের দাম আছে, আর অল্প হলেও আপনাদের সময়েরও।”
লর্ড জন রক্সটন “এসমেরান্ডা” নামক একটা বড় স্টীম-লঞ্চ ভাড়া করে রেখেছিলেন। সেটাই আমাদের উজান পথে নিয়ে যাবে। আবহাওয়ার দিক থেকে অভিযানের পক্ষে সব ঋতুই প্রায় সমান, কারণ কি গ্রীষ্মে কি শীতে তাপমাত্রা পঁচাত্তর থেকে নব্বই ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। তবে জুন মাস থেকে জল নামতে থাকে; আর সব চাইতে নিচে নামে অক্টোবর-নভেম্বরে। অতএব আমাদের অভিযান শুরু হচ্ছে শুকনোর সময়ে; বড় বড় নদী ও তার শাখানদীগুলির জল তখন থাকে স্বাভাবিক অবস্থায়।
তিন দিন ধরে আমরা উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে চললাম। মোহনা থেকে হাজার মাইল দূরেও নদীটা এত প্রশস্ত যে মাঝখান থেকে দুটো তীরকেই দূর দিগন্তে ছায়ার মতো দেখাচ্ছিল। চতুর্থ দিনে একটা সংকীর্ণতর শাখা-নদীতে পড়লাম। নদীটা ক্রমেই সংকীর্ণ হতে লাগল। আরও দু’দিন স্টীমার চালিয়ে আমরা একটা আদিবাসী গ্রামে পৌঁছলাম। প্রফেসর জেদ ধরলেন, আমরা সেখানেই নেমে যাব, আর “এস্মেরান্ডা” মানাওস-এ ফিরে যাবে। তিনি বুঝিয়ে বললেন, অচিরেই নদী এত খরস্রোতা হয়ে যাবে যে “এমেরান্ডাকে” নিয়ে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। গোপনে তিনি আরও জানালেন, একটা অজ্ঞাত জগতের দিকে আমরা এগিয়ে চলেছি; কাজেই যত কম লোক সেটা জানতে পারে ততই ভাল।
২রা অগাস্ট তারিখে আমরা “এস্মেরান্ডা” কে বিদায় দিলাম : বহির্জগতের সঙ্গে আমাদের শেষ যোগসূত্রটাও ছিন্ন হয়ে গেল। তারপর চারটি দিন পার হয়ে গেল। ইন্ডিয়ানদের কাছ থেকে আমরা দুটি বড় ডিঙি ভাড়া করলাম। বাঁশের কাঠামোর উপর চামড়া লাগানো সেই সব ডিঙি নিয়ে আমরা সব রকম বাধা- বিঘ্নকে অতিক্রম করতে পারব। সব জিনিসপত্র তাতেই বোঝাই করা হয়। ডিঙি চালাবার জন্য আরও দুটি ইন্ডিয়ানকে কাজে নেওয়া হলো। জানতে পেরেছিলাম, আটাকা ও ইপেটু নামক এই দুটি লোক আগের যাত্রায় প্রফেসর চ্যালেঞ্জারের সঙ্গী ছিল। সেই পথেই আবার যেতে হবে শুনে প্রথমে তারা খুবই ভয় পেয়েছিল, কিন্তু এই সব অঞ্চলে আমাদের প্রধানের প্রভাব ছিল অপরিসীম; তার চোখে যে ভাল, তার ব্যাপারে দলপতির কিছুই বলার থাকে না।
অতএব কালই আমরা অজানার পথে উধাও হয়ে যাচ্ছি। এই বিবরণ আমি লিখে পাঠাচ্ছি একটা ডিঙির মারফৎ; আমাদের ভাগ্য নিয়ে যারা ভাবে তাদের কাছে এটাই হয়তো আমাদের শেষ কথা। প্রিয় মি. ম্যাআর্ডল, পূর্ব-ব্যবস্থামতো এই প্রতিবেদন আমি আপনার হাতেই ছেড়ে দিলাম; এটার পরিবর্জন, পরিবর্তন, আপনার যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। প্রফেসর সামারলীর অবিরাম সন্দেহ সত্ত্বেও প্রফেসর চ্যালেঞ্জারের ভাব-গতিক থেকে এ বিষয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই যে আমাদের নেতা তার কথা রাখবেন, এবং সত্যসত্য আমরা চলেছি কতকগুলি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে।
