প্রফেসর চ্যালেঞ্জারের মন্তব্য

প্রফেসর চ্যালেঞ্জারের মন্তব্য

এনিড গাড়ির মধ্যে উঠে গিয়ে বসল এবং ম্যালন তার পিছু পিছু উঠতে লাগল। এমন সময় ম্যালনের নাম ধরে ডাকতে ডাকতে একটা লোক ছুটে এল। লোকটা ছিল মধ্যবয়সী, লম্বা চেহারার ও সুদর্শন। দাড়ি কামানো চকচকে মুখ। একজন সফল কৃতি সার্জেনের আত্মপ্রত্যয় তার মুখের ওপর ফুটে উঠেছিল।

হ্যালো ম্যালন দাঁড়ান!

ম্যালন বলল, আরে, অ্যাটকিনসন। এনিড তোমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই, ইনি হচ্ছেন সেন্ট মেরী হাসপাতালের সার্জেন মি. অ্যাটকিনসন যার কথা আমি আগে তোমার বাবাকে বলেছি।

এরপর ম্যালন অ্যাটকিনসনকে বলল, আমরা এখন ভিক্টোরিয়ায় যাচ্ছি। আপনি আমাদের সাথে আসতে পারেন।

সার্জেন বলল, খুব ভাল কথা। আমি তো আপনাদের পরলোকবাদীদের সভায় দেখে আশ্চর্য হয়ে গেছি।

ম্যালন বলল, আমি আর মিস চ্যালেঞ্জার ওই সভায় গিয়েছিলাম আমাদের নিজেদের কাজের জন্য। আমরা দু’জনেই এক সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছি।

সার্জেন উৎসাহিত হয়ে বলল, তাই নাকি? আমার মনে হয় আপনারা ডেইলি গেজেটের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাহলে ওই কাগজের একজন গ্রাহক বাড়ল। আমি ওই কাগজে আপনারা আজকের রাত্রির অনুষ্ঠান সম্বন্ধে কী লেখেন তা অবশ্যই দেখব।

ম্যালন বলল, আপনাকে তাহলে আগামী রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই সাপ্তাহিক কাগজে ধারাবাহিকভাবে আমাদের রচনা ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, আমাদের এ রচনা হবে তারই একটি।

সার্জেন বলল, আমি কিন্তু এতদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারব না। তার চেয়ে বলুন আপনারা কি বুঝলেন। ওদের অনুষ্ঠান সম্বন্ধে আপনাদের প্রতিক্রিয়া কি

ম্যালন বলল, আমি ঠিক তা জানি না। এ বিষয়টা এখনও ভেবে দেখিনি। আগামী কাল আমার নোটটা দেখে এ বিষয়ে চিন্তা করব। তারপর আজ রাতে যা দেখলাম সে বিষয়ে আমার মানসিক প্রতিক্রিয়াটা আমার সহকর্মীর সঙ্গে তুলনা করে দেখব। আমার এই সহকর্মীর ধর্মবিষয়ে এক সজাগ অন্তর্দৃষ্টি আছে।

সার্জেন এবার এনিডকে জিজ্ঞাসা করল, এ বিষয়ে আপনার কি অন্তর্দৃষ্টি মিস চ্যালেঞ্জার?

এনিড বলল, ভাল, হ্যাঁ ভাল, তবে এই অন্তর্দৃষ্টির মধ্যে দুটো বস্তুর এক অসাধারণ মিশ্রণ আছে।

সার্জেন বলল, হ্যাঁ, সত্যিই তা আমি কয়েকবার ওদের ওখানে গিয়েছি আর প্রতিবারই এক মিশ্রিত প্রতিক্রিয়া অনুভব করেছি আমার মনে। তার মধ্যে কিছু অভিজ্ঞতা হাস্যাস্পদ, আবার কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতা সত্যিই আশ্চর্যজনক।

এনিড বলল, আপনি তো কোনও খবরের কাগজের সাথে যুক্ত নন। তবে কেন ওখানে গিয়েছিলেন?

সার্জেন বলল, ওখানে যাই কারণ এ বিষয়ে আমার গভীর আগ্রহ আছে। আপনি জানেন আমি কয়েক বছর ধরে মনস্তত্ত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করছি। আমি ওদের ব্যাপারটা যে ভালভাবে বুঝতে পেরেছি তা নয়। তবে আমার একটা সহানুভূতি আছে। এটা বোঝার মতো আমার বোধশক্তি আছে যে, যখন আমি এই বিষয়টা বিচার করার জন্য বসি, তখন মনে হয় এই বিষয়টাও আমার ওপর বসে আমার বিচার করছে।

ম্যালন সমর্থনের সুরে ঘাড় নাড়ল। সার্জেনের কথাটা তার হৃদয়ঙ্গম হয়েছে বলে মনে হলো।

সে বলল, ব্যাপারটা বিশাল তবু এর একটা কোনও বিষয় যদি ভালভাবে খুঁটিয়ে দেখেন তাহলে দেখবেন তার সঙ্গে আরও এক ডজন বিষয় জড়িয়ে আছে। আরও দেখবেন যতসব সরল প্রকৃতির সাধারণ মানুষের হাতেই আছে সমস্ত ব্যাপারটা। তাদের বিশ্বাসই এই ব্যাপারটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তারা সত্তর বছর ধরে তাদের ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য চিৎকার করে আসছে। খ্রীস্টধর্মের অভ্যুত্থানের মতোই এ ব্যাপারটা। খ্রীস্টধর্ম প্রথমে যতসব দাস ও নিচের তলার মানুষরাই অবলম্বন করে। পরে উঁচুতলার মানুষদের মধ্যেও তার প্রসার ঘটে।

প্রতিবাদের সুরে এনিড বলল, কিন্তু ধর্মপ্রচারকরা কি করেছে?

অ্যাটকিনসন হেসে বলল, আপনি কি অ্যাটলান্টিস-এর কথা বলতে চাইছেন? লোকটা সত্যিই অস্বস্তিকর। ভয়ঙ্করভাবে অস্বস্তিকর। আমি স্বীকার করছি পরলোকের প্রেত নিয়ে ওদের অনুষ্ঠান। ক্রিয়াকর্মগুলো এক আত্মপ্রতারণা ছাড়া কী বলব তা বুঝতে পারছি না। আমার তো তাই বলেই মনে হয়। মাঝে মাঝে ইহলোক ও পরলোকের বিরাট ব্যবধানে সমুদ্র পার হয়ে দু’ একটা প্রেতমূর্তির আবির্ভাব ঘটে। কিছু মিষ্টি কথার তরী বেয়ে যারা এই ভাবে আসে তাদের পরলোকের সত্যিকারের বাসিন্দা বলে মনে হয় না। এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

ম্যালন বলল, এখন আমাকে এই মহিলাকে নিরাপদে তার বাবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আপনি আমাদের সঙ্গেই চলুন। আপনাকে দেখলে প্রফেসর খুশি হবেন।

অ্যাটকিনসন বিস্ময়ের সঙ্গে বলল, সে কি, এমন সময়! এমন সময় গেলে উনি তো আমাকে সিঁড়ি থেকে নিচে ফেলে দেবেন।

এনিড বলল, আপনি অনেক বানানো গল্প শুনেছেন। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। তাঁকে যতটা খারাপ মনে করা হয় তিনি ততটা খারাপ নন। তবে কিছু লোক তাঁকে বিরক্তিকর আজেবাজে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু আপনি তো আর তাদের মতো নন। আপনি একবার গিয়ে দেখবেন না?

সার্জেন বলল, আপনি যখন উৎসাহ দিচ্ছেন তাহলে অবশ্যই আমি যাব। যথাস্থানে গাড়ি থেকে নেমে তিনজনে হাঁটতে হাঁটতে মি. চ্যালেঞ্জারের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছল।

মি. চ্যালেঞ্জার তখন চকচকে নীল ড্রেসিং-গাউন পরে তাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। তিনি অ্যাটকিনসনকে দেখে হঠাৎ দেখতে পাওয়া কোনও পথের কুকুরকে দেখে এক লড়াকু বুলডগ যেভাবে তার দিকে তাকায়, তিনিও সেইভাবে তাকালেন। যাই হোক তিনি গম্ভীরভাবে বললেন, তাকে দেখে তিনি আনন্দিত।

মি. চ্যালেঞ্জার বললেন, আমি আপনার নাম শুনেছি এবং আপনার ক্রমবর্ধমান যশের কথা শুনেছি, স্যার। গত বছর আপনি কর্ড-এর যে শ্রেণীবিন্যাস করেছিলেন তা বেশ আলোড়ন জাগায় অনেকের মনে। তবে আপনি কি আরেকটু নেমে উন্মাদদের বিষয়ে কিছু ভেবেছেন বা করেছেন?

অ্যাটকিনসন হেসে বলল, তা আপনি যদি তাই ভাবেন!

মি. চ্যালেঞ্জার বললেন, হা ভগবান! তাদের আর কি বা বলতে পারি। আমার বন্ধু ম্যালন আমাকে বলেছিল আপনি এ বিষয়ে কিছু গবেষণা করছেন।

এই বলে তিনি এক আক্রমণাত্মক গর্জনের সুরে হেসে বললেন, আর সেটাই হচ্ছে মানুষের গবেষণার আসল বিষয়!

এনিড অ্যাটকিনসনকে বলল, বাবা ওসব কিছু জানেন না। সুতরাং তাঁর কথায় আপনি রুষ্ট হবেন না। তোমাকে আমি আর বাবা বলতে পারি যে সবকিছু শুনে তুমি এ বিষয়ে আগ্রহান্বিত হবে। এই বলে এনিড চার্চের ঘটনাবলী প্রথম থেকে বলতে শুরু করল। কিন্তু মিস্টার চ্যালেঞ্জারের ক্রমাগত গর্জন আর উপহাসের জন্য তার বিবরণী বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। এরপর সামারলী-র প্রসঙ্গটা উঠতেই মি. চ্যালেঞ্জার তাঁর ঘৃণামিশ্রিত ক্রোধটাকে আর চেপে রাখতে পারলেন না। তাঁর মাথার মধ্যে পুরনো আগ্নেয়গিরিটা ফেটে পড়ল। আর আগ্নেয়গিরির লাল জ্বলন্ত লাভার মতো অসংখ্য বিদ্রূপাত্মক কথা তাঁর মুখ থেকে শ্রোতাদের উপর ঝরে পড়তে লাগল।

মি. চ্যালেঞ্জার গর্জন করে বলতে লাগলেন, ঈশ্বরদ্রোহী বাজে লোকগুলো মি. সামারলীকে তার কবরের মধ্যেও শান্তিতে বিশ্রাম করতে দেবে না। তিনি যখন জীবিত ছিলেন তখন তাঁর সঙ্গে অবশ্য আমার কিছু মতপার্থক্য ছিল। পরে আমি অবশ্য এ বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হই। তবে এটা ঠিক যে আজ তিনি যদি তাঁর কবর থেকে এখানে উঠে আসতেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই এমন কিছু বলতেন যা শোনার যোগ্য। এটা এক অবান্তর ব্যাপার, স্যার। এ অশোভন এবং দুষ্ট মনোভাবের পরিচায়ক। যদি আমার কোনও বন্ধু নিষ্প্রাণ পুতুলের মতো অন্যের দ্বারা চালিত হয়ে নির্বোধ দর্শকবৃন্দের উপহাসের বস্তু হয় তবে আমি তার প্রতিবাদ করবই। তারা এমনিতে হাসত না! তারা তখনই হেসেছে যখন দেখেছে আমার সমপর্যায়ভুক্ত একজন শিক্ষিত লোক যত সব বাজে কথা বলছে। আমি বলছি ওদের সব কথা বাজে। আমার কথা খণ্ডন করার চেষ্টা করো না ম্যালন। ইস্কুলের মেয়েরা তাদের চিঠির শেষে পুনশ্চ বলে যা সংযোজন করে, তার বাণী তারই মতো অর্থহীন। তার মতো লোকের মুখে এ বাণী শোভা পায় না। আচ্ছা আপনি কি এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে একমত?

কিন্তু বর্ণনাটা নিখুঁত ছিল।

মি. চ্যালেঞ্জার আবার বলে যেতে লাগলেন, হা ভগবান! এই তোমাদের জ্ঞান বুদ্ধি! তোমাদের মস্তিষ্ক কি কাজ করছে না? এটা কি পরিষ্কার নয় যে এক ভিত্তিহীন কাল্পনিক রচনায় সামারলী ও ম্যালন নামের সঙ্গে আমার নামটা যুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়ে যতসব কুখ্যাতি অর্জন করতে চলেছে? এটাও কি লোকে জানতে পারছে না যে তোমরা দু’জন মিলিত হয়ে প্রতি সপ্তায় চার্চে গিয়ে এই সব কাজ করছ? এর থেকে এটা কি বোঝা যাচ্ছে না যে, তোমরাও একদিন ওই পরলোকবাসীদের সভায় গিয়ে অংশগ্রহণ করবে? ওরা যে চার বা টোপ ফেলেছে, ম্যালন তা বোকা মাছের মতো গিলে ফেলেছে। ওর মুখে বঁড়শির কাঁটাটা বিঁধে আছে। হ্যাঁ ম্যালন, সব কথা খুলে বলা ভাল, আর আমি সেটাই চাই।

প্রফেসর চ্যালেঞ্জারের ঘাড়টা এদিক-ওদিকে দুলতে লাগল আর তার জ্বলন্ত চোখ দুটো ঘরের একপ্রান্ত হতে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত ঘুরতে লাগল। তার সে চোখের দৃষ্টি ঘরের মধ্যে উপস্থিত সকলের উপরই পড়তে লাগল।

অ্যাটকিনসন বলল, আমরা চাই সকলেরই মত প্রকাশিত হোক। আপনি অবশ্য বিপরীত মত প্রকাশ করতে পারেন। আপনার সে ক্ষমতা বা যোগ্যতা আছে। তবে আমি থ্যাকারে-এর কথাটার পুনরাবৃত্তি করে আপনাকে কিছু বলতে চাই। থ্যাকারে তাঁর এক বিরোধীকে বলেছিলেন, “আপনি যা বলছেন তা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি যা দেখেছি আপনি যদি তা দেখেন তাহলে হয়ত আপনি আপনার মত পরিবর্তন করবেন।” মনে হয় একদিন আপনি আসল ব্যাপারটা খুঁটিয়ে দেখতে সমর্থ হবেন এবং বিজ্ঞান-জগতে আপনার যে মর্যাদা আছে তার ফলে আপনার মত যথেষ্ট গুরুত্ব লাভ করবে।

বিজ্ঞান-জগতে যদি আমার কোনও মর্যাদা থাকে তাহলে তার কারণ এই যে, আমি সবসময় প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপরই মনোসংযোগ করেছি এবং যা কিছু অর্থহীন ও অবান্তর তা বাতিল করে এসেছি। আমার মস্তিষ্কের বুদ্ধি কখনও কোনও বিষয়ের প্রান্তদেশ ছুঁইয়ে চলে যায় না। সে বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা সে বিষয়ের পেট চিরে তার ভেতরকার যত সব প্রতারণার, নির্বুদ্ধিতাকে টেনে বার করে আনে।

অ্যাটকিনসন বলল, কখনও কখনও নির্বুদ্ধিতা প্রতারণার পাশাপাশি থাকে। শোন ম্যালন, আমি বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে আছি এবং ফিরতে দেরি হয়ে গেছে। এখন আমি যাচ্ছি। মাফ করবেন প্রফেসর, আমি এখানে এসে আপনার সঙ্গে দেখা করে নিজেকে সম্মানিত করছি।

ম্যালনও বিদায় নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। দু’জনে কিছুক্ষণ কথা বলার পর আপন আপন বাড়ির পথে যাত্রা করল। অ্যাটকিনসন গেল উৎমপল স্ট্রীটের দিকে। আর ম্যালন গেল সাউথ নরউডের দিকে। ম্যালনের বাড়ি ছিল সাউথ নরউডে। ম্যালন যাওয়ার আগে সার্জেনকে মুচকি হেসে বলল, প্রবীণ ভদ্রলোক, ওঁর কথায় আমাদের রাগ করা উচিত নয়, উনি আমাদের কোনও ক্ষতি করতে চান না। আসলে মানুষটা চমৎকার।

অ্যাটকিনসন বলল, সত্যিই তিনি তাই। কিন্তু কেউ যদি আমাকে গোঁড়া পরলোকবাদী করে তোলে তাহলে আমি তা সহ্য করতে পারব না। যাই হোক ম্যালন, যদি তুমি বিষয়টার গভীরে ঢুকতে চাও তাহলে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। আচ্ছা তুমি লিন্ডেন-এর নাম শুনেছ?

ম্যালন বলল, লিন্ডেন? হ্যাঁ আমি জানি সে হচ্ছে এক পেশাদার মিডিয়াম। আমি জানি সে এক আস্ত শয়তান।

অ্যাটকিনসন বলল, হ্যাঁ লোকে তার সম্বন্ধে তাই বলে। কিন্তু তোমাকে তা বিচার করে দেখতে হবে। গত শীতকালে তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল, সেই থেকে তার প্রতি আমার আগ্রহ আছে। তার সঙ্গে আমি এক বন্ধুত্বের বন্ধনে জড়িয়ে গেছি। তাকে সবসময় পাওয়া যায় না। তার সঙ্গে দেখা করতে হলে অল্প কিছু ফি দিতে হয়, তবে মাত্র একটা পেনি। তুমি যদি তার সঙ্গে একবার বসতে চাও তাহলে আমি ব্যবস্থা করে দিতে পারি।

ম্যালন জিজ্ঞাসা করল, তুমি তাকে খাঁটি বলে মনে কর?

অ্যাটকিনসন তার কাঁধ দুটো নাড়ল। তারপর বলল, লোকে তাকে কোনও বাধা দেয় না। মোটের উপর তাকে সবাই মেনে নেয়। আমি যতদূর দেখেছি, তার মধ্যে কোনও প্রতারণা খুঁজে পাইনি। তবে তুমি নিজে সেটা বিচার করে দেখবে।

ম্যালন বলল, আমি তা করব। এ বিষয়ে আমার এক উত্তপ্ত আগ্রহ আছে। এ বিষয়ে আমাকে একটা কিছু নিতে হবে। একটু সময় করে দিলে আমি তোমাকে লিখে জানাব, তখন আমরা ব্যাপারটার গভীরে প্রবেশ করতে পারব।