কুয়াশা কেটে গেল

কুয়াশা কেটে গেল

ম্যালন তার চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। তার চাকরি ছাড়ার কথা সারা ফ্লীট স্ট্রীটে ছড়িয়ে গেছে, সুতরাং ফ্লীট স্ট্রীটের পথ বন্ধ তার কাছে। অফিসের কর্মচারীদের মধ্যে তার স্থান এক ইহুদী যুবক দখল করেছে। পরলোক সম্বন্ধে অতিশয় হাস্যরসাত্মক কিছু রচনা ধারাবাহিকভাবে কাগজে লিখে সে এই চাকরি পায়। সে আরও যোগ করে যে পরলোকতত্ত্বের ব্যাপারটাকে সে খোলা ও নিরপেক্ষ মন নিয়ে দেখেছে। সেই ইহুদী যুবকটা কতকগুলি কৌশল অবলম্বন করে এই মর্মে ঘোষণা করে যে প্রেতাত্মারা যদি আসন্ন ডার্বি রেস খেলায় তিনটি নির্দিষ্ট ঘোড়াকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হিসাবে স্থান দিতে পারে তাহলে পরলোকবাদীদের পাঁচ হাজার পাউন্ড পুরস্কার দেওয়া হবে। সে আরও প্রকাশ করে যে এক্টোপ্লাজমের ব্যাপারটা মিডিয়ামদের কলাকৌশল ছাড়া কিছুই নয়। মিডিয়ামরা যেন এই ব্যাপারটাকে একটা বোতলে ভরে ছিপি দিয়ে আটকে রেখেছে। আসল ব্যাপারটাকে তারা প্রকাশ করতে চায় না।

কিন্তু ম্যালনের যে পথ একদিক দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়, অন্য দিক দিয়ে খুলে যায়। চ্যালেঞ্জারের মনে ছিল দুঃসাহিক কিছু স্বপ্ন এবং কিছু গবেষণামূলক পরীক্ষা- নিরীক্ষার ইচ্ছা। সারা জগৎ জুড়ে তাঁর বহু ব্যবসা ছড়িয়ে ছিল। এইসব দেশাশোনা করার জন্য একজন কর্মঠ ও স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন লোকের দরকার ছিল। এই অভাবটা তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করে আসছিলেন। তিনি সারাজীবন ধরে যে সব কাজ করেছেন সেই সব কাজের জন্য বেশ কিছু আয় হত তাঁর। কিন্তু সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হত পেটেন্ট স্বরূপ। অগভীর জলে ভাসমান জাহাজের জন্য তাঁর আবিষ্কৃত অটোমেটিক অ্যালার্ম, টরপেডোকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করার কৌশল, বাতাস থেকে নাইট্রোজেনকে পৃথক করার এক নতুন ও স্বল্পব্যয়সাধ্য পদ্ধতি, বেতারে সংবাদ প্রেরণের উন্নতি সাধন—এই সবই এক-একটা আয়ের উৎস ও অর্থোপার্জনের পথ। কর্নেলিয়াসের ভাবগতিক দেখে রেগে গিয়ে চ্যালেঞ্জার তাঁর এইসব কাজের ভার ভাবী জামাতা ম্যালনের উপর ন্যাস্ত করেন। ম্যালন বিশেষ গুরুত্বসহকারে এইসব বিষয়ে তাঁর স্বার্থ রক্ষা করে চলতে থাকে।

চ্যালেঞ্জার নিজেও একেবারে বদলে গেলেন। তিনি হয়ে উঠলেন যেন অন্য মানুষ। তাঁর সহকর্মীগণ ও যারা তাঁর কাছাকাছি থাকত তারা তাঁর এই পরিবর্তন দেখে এর কারণ কিছু বুঝতে পারল না। তিনি হয়ে উঠলেন আগের থেকে অনেক শান্ত, বিনয়ী ও পরলোকতত্ত্ববাদী। তাঁর আত্মার গভীরে এই প্রত্যয় দানা বেঁধে উঠল যে তিনি এতদিন ধরে বিজ্ঞানের নামে যে সব কাজ করে এসেছেন, সে পদ্ধতি আসলে অবৈজ্ঞানিক। শুধু তাই নয়, সে পদ্ধতি আত্মার উন্নতির পথে ভয়ানকভাবে বাধা সৃষ্টি করে এসেছে। এই আত্মধিক্কারই তাঁর চরিত্রের পরিবর্তনকে সূচিত করেছে। তাঁর স্বভাবসুলভ উদ্দেশ্যের সঙ্গে তিনি এই পরলোকতত্ত্ব বিষয়ের অনেক বই খোলা মনে পড়তে থাকেন। এখন তাঁর মনে আর কোনো বিদ্বেষ নেই, আগে যে-বিদ্বেষ তাঁর মনকে ও বুদ্ধিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলেছিল। উজ্জ্বল তথ্য প্রমাণাদিসহ হেয়ার, দ্য মরগ্যান, ক্রুকস, লম্বুসো, ব্যারেট, লজ এবং আরও অনেক উচ্চস্তরের লেখকদের বই তিনি পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি আগে একথা কখনো ভেবে দেখেননি যে, এতগুলি মতের সমন্বয় কখনো ভ্রান্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। চ্যালেঞ্জার স্বভাবত উগ্র প্রকৃতির হলেও তিনি যে কোনোও কাজ সমস্ত অন্তর দিয়ে করেন। এবার তিনি পরলোকতত্ত্ব বিষয়টাকে গ্রহণ করলেন। একদিন তিনি যে ব্যস্ততা সহকারে এ বিষয়টার প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিলেন, আজ সে বিষয়টাকে সেই একই ব্যস্ততার সঙ্গে সমস্ত অন্তর দিয়ে গ্রহণ করলেন। এমনকি এখন এই প্রবীণ সিংহ পুরুষটি তাঁর অতীতের বস্তুবাদী সহচরদের প্রতি মাঝে মাঝে অসহিষ্ণু হয়ে দাঁত বার করে গর্জন করতে থাকেন।

স্পেকটেটর পত্রিকায় প্রফেসর চ্যালেঞ্জারর রচনা প্রকাশ শুরু হলো। একটি রচনায় তিনি লিখলেন, ‘সুদূর অতীতে কুসংস্কারাচ্ছন্ন যে ব্যক্তি গ্যালিলিওর আবিষ্কৃত দূরবীন দিয়ে চাঁদ-সূর্যের অবস্থান নিরীক্ষণ করতে অস্বীকার করতেন, আজকের বিংশ শতাব্দীর অনেক বিজ্ঞানীর কুসংস্কার অতীতের সেই সব বিজ্ঞান- বিমুখ ব্যক্তিদের কুসংস্কারকে ছাড়িয়ে গেছে। এইসব তাত্ত্বিক বস্তুবাদীরা কিছু না জেনেই পরলোকতত্ত্ব সম্বন্ধে চরম ভাবাপন্ন মত প্রকাশ করে থাকেন। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা কি তা পরীক্ষা করে দেখার মতো সময় বা ইচ্ছা তাদের নেই।’ রচনার শেষ বাক্যে তিনি তাঁর এই দৃঢ় বাক্য প্রকাশ করেন যে, ‘তাঁর বিরোধীরা আসলে এই বিংশ শতাব্দীর চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করছেন না। তাঁরা যেন প্রাচীন অন্ধকার যুগের মাটি খুঁড়ে বার করা একটা ফসিল বা জীবাশ্ম।’ সমালোচকেরা চ্যালেঞ্জারের এই রচনার বলিষ্ঠ ভাষা দেখে অবাক হয়ে গেল এবং ভয় পেয়ে গেল। তারা এই ভেবে আশ্চর্য হয়ে গেল যে এই চ্যালেঞ্জারই এতদিন পরলোকতত্ত্বের বিরোধী ছিলেন এবং তাঁর বিরোধীদের অর্থাৎ পরলোকতত্ত্ববাদীদের উপর প্রচণ্ড বেগে আঘাতি চালাতেন। যাই হোক চ্যালেঞ্জার নিজের কাজ করে যেতে লাগলেন। এই পুরুষ সিংহের কালো কেশর ধীরে ধীরে ধূসর হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছে। কিন্তু তাঁর মস্তিষ্কের বুদ্ধি আরও শক্তিশালী হয়েছে। পরলোকতত্ত্বের মতো একটি সমস্যাকে হাতে পেয়ে তাঁর সেই বুদ্ধি হয়ে উঠেছে আরও তীক্ষ্ণ ও আক্রমণাত্মক। আসলে এই সমস্যাটা

ভবিষ্যতের মানুষদের পক্ষে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সমস্যাটা এখন আর সংকীর্ণ মৃত্যুপুরীর মধ্যে বা পরলোকের মৃত আত্মাদের সংকীর্ণ সীমার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে নেই। এটা এখন সেই সীমানা অতিক্রম করে এক অনন্ত সম্ভাবনায় ভবিষ্যতের দিকে প্রসারিত হয়ে তার প্রাণময় অস্তিত্বকে ঘোষণা করছে। আজ অনেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কৃতী পুরুষ এই নিয়ে কাজ করছেন। মানুষ আজ পরলোকের মধ্যে নতুন জগতের সন্ধান পেয়েছে। এ বিষয়ের চর্চা করতে করতে মানুষের জ্ঞানের জগতে উন্মোচিত হয়েছে এক নতুন দিগন্ত।

হোয়াইট হলে এক শান্ত নীরব পরিবেশে ম্যালন আর এনিডের বিবাহ সম্পন্ন হল। এনিডের বাবা কাদের আমন্ত্রণ-নিমন্ত্রণ করেছিলেন এবং কারা আতথি হিসাবে সেখানে সমবেত হবেন তা কারো জানা ছিল না। রেভারেন্ড চার্লস ম্যাসন বিয়ের অনুষ্ঠানিক কাজকর্ম সম্পাদন করেন। তাঁর কাজ দেখে মনে হলো যেন কোন সেন্টের আশীর্বাদ সকালে অনুষ্ঠিত এই বিবাহকার্যকে পবিত্র ও ধন্য করে তুলল। চার্লস ম্যাসন তাঁর কালো পোশাক পরে জনতার মধ্যে পায়চারি করতে করতে সকলের কাছে যেন শান্তি-করুণার বাণী বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। হলুদ দাড়ি বিশিষ্ট মেইলি তার স্ত্রীর পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল। সে যেন ছিল পরলোকতত্ত্বের এক বীর যোদ্ধা। বিরোধীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে সংগ্রাম করতে করতে ক্ষতবিক্ষত হলেও আরও সংগ্রাম করার জন্য সে যেন সতত উন্মুখ। তার অস্ত্র সব সময়ের জন্যই শাণিত আছে। এছাড়া ছিলেন প্যারিস থেকে আগত ড. মপুই। তিনি খাওয়ার পর পরিচারকের কাছ থেকে কফি চাইলে তাঁকে তার পরিবর্তে টুথপিক দেওয়া হলো ভুলে। লর্ড রক্সটন তা দেখে ঠাট্টা করছিলেন এবং বেশ মজা পাচ্ছিলেন। এছাড়া ছিলেন হ্যামারস্মিথ চক্রের বলশোভার ও তার সঙ্গীরা। সস্ত্রীক টম লিনডেন ও অনমনীয় তর্কযোদ্ধা জেমস স্মিথও উপস্থিত ছিলেন। স্মিথ ছিলেন উত্তরাঞ্চলের লোক। এই অনুষ্ঠানে আরও যাঁরা উপস্থিতি ছিলেন, ডা. অ্যাটকিনসন, সাইকিক পত্রিকার সম্পাদক মার্ডিন ও তার স্ত্রী, অগিলভি দম্পতি, মিস ডেলিসিয়া। সম্পূর্ণ সুস্থ নীরোগ রস স্কটন এবং নার্স আরসুলা, যে পরলোকবাসী মৃত ড. ফেলকিনের মর্ত্য-প্রতিনিধিরূপে ড. রসের রোগ সারায়। এছাড়া আরও কতজন সে অনুষ্ঠানে এসে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করে যায় তা কে জানে।

এ বিয়ের অনুষ্ঠান বর্ণনা শেষ করার আগে একটি দৃশ্যের কথা বলা উচিৎ বলে মনে করি। কোকস্টোনে অবস্থিত ইমপিরিয়াল হোটেলের বসার ঘরের একটি দৃশ্যের কথা বলছি। সেই ঘরে তখন এডওয়ার্ড ম্যালন ও তার স্ত্রী জানলার ধারে বসেছিল। তারা দু’জনেই খোলা জানলা দিয়ে পশ্চিম দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন আকাশটা ছিল দুর্যোগঘন। চ্যানেলের খালের এইদিকে একটা নৌকা ঝড় ও ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতে বাড়ি ফিরছিল। চ্যানেলের কয়েকটা জাহাজ আসন্ন বিপদের আভাস পেয়ে চ্যানেলের মাঝামাঝি এসে জড়সড়ো হয়ে ছিল। আকাশের ভয়াবহ অবস্থাটা নৌকা ও জাহাজে চালকদের সকলের অবচেতন মনে সমানভাবে কাজ করছিল।

ম্যালন এবার এনিডকে বলল, পরলোক সম্বন্ধে তোমার সেই দিনকার অভিজ্ঞতার কথা তোমার নিশ্চয়ই এখনও স্পষ্ট মনে আছে। এবার সব বল।

এনিড বলল, কী আশ্চর্যের কথা, এই মুহূর্তে আমি যে কথা ভাবছিলাম তুমি সেই কথাই তুললে। একই সময়ে একই প্রশ্ন কীভাবে দুটি মানুষের মধ্যে জাগতে পারে? এটা সত্যিই আশ্চর্যের কথা। একেই হয়ত বলে ভাবানুষঙ্গ। আমি মিরোমার-এর কথা ভাবছিলাম। মিরোমার অর্থাৎ সেই রহস্যময় অদ্ভুত মানুষটা যে সব সময় ধ্বংসের কথা বলে।

আমিও তাই ভাবছিলাম।

তারপর থেকে তুমি কি তার কথা শুনেছ?

শুধু একবার, একবারই শুনেছিলাম। সেদিন ছিল রবিবারের সকাল। হাইড পার্কে সে তখন একদল লোকের সঙ্গে কথা বলছিল। আমিও জনতার সঙ্গে মিশে গিয়ে তার কথা শুনতে লাগলাম। সেই একই সাবধান বাণী

লোকে তার কথাগুলো কীভাবে নিল? তারা কি হাসাহাসি করেছিল?

তুমি তো তার কথা অনেক শুনেছ। তার কথা শুনে হাসতে পেরেছ?

এনিড বলল, তা অবশ্য পারিনি, তবে তার কথায় কোনও গুরুত্ব দিতেও পারিনি। তাই নয় কি নেড? তুমি ইংল্যান্ডের বহু দিনের পুরনো এই শহরটাকে দেখছ। এই ইম্পিরিয়াল হোটেল ও ওই মানুষগুলিকে দেখছ, সকালের তাজা খবরের কাগজগুলোকেও দেখছ এবং এই সভ্য জগতে প্রতিষ্ঠিত সব বস্তুকে আমরা রোজই দেখছি। তুমি ভাবতে পার, হঠাৎ কোনও কিছু এসে এই প্রতিষ্ঠিত জগতের সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে?

কে জানে? কে তা বলতে পারে? কিন্তু মিরোমারই তো একমাত্র লোক নয় যে একথা বলে।

ও কি এটাকে পৃথিবীর শেষ বলতে চায়?

না না, এটা হবে পৃথিবীর পুনর্জন্ম—এরপর নতুন করে যে জগতের জন্ম হবে সেটাই হবে প্রকৃত জগৎ, আদর্শ জগৎ। আসলে প্রথম সৃষ্টির সময় এই জগৎ যা হতে চেয়েছিল।

এটা এক ভয়ঙ্কর বাণী। কিন্তু এর মধ্যে কি কোন ত্রুটি নেই? এই ধরনের ভয়ঙ্কর বিচার কে করল এবং কোথা থেকেই বা এই বিচারের বাণী এল?

বস্তুবাদ চার্চের নীরস আনুষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্ম। আত্মা থেকে বিচ্ছিন্নতা। চোখে যা কিছু দেখা যায় না যা কিছু অদৃশ্য ও ইহলোকের বাইরে তাকে স্বীকার না করা। নতুন বিপ্লবের পরিহাস। তার মতে এগুলোই হলো জগতের ধ্বংসের কারণ।

এটা অবশ্য ঠিক—জগৎটা আগের থেকে অনেক খারাপ হয়ে উঠেছে, তাই নয় কি?

কিন্তু মানুষের এত শিক্ষা, এত জ্ঞান ও সভ্যতা এই জগতের অনেক উন্নতি সাধন করতে পারত। এই জগৎকে অনেক উচ্চস্তরে তুলে নিয়ে যেতে পারত। একবার ভাল করে চেয়ে দেখ। কীভাবে সব কিছু অশুভ হয়ে উঠেছে। আমাদের জ্ঞান ও শিক্ষার অপপ্রয়োগ করছি আমরা। আমরা বিমান তৈরি করতে পেরেছি, কিন্তু সেই বিমানের সাহায্যে আমরা শহরে বোমা ফেলছি। আমরা সমুদ্রের তলায় জাহাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে শিখেছি, কিন্তু সেই জ্ঞান দিয়ে আমরা সমুদ্রের নাবিকদের হত্যা করছি। আমরা রাসায়নিক দ্রব্যের উপর আধিপত্য করতে শিখেছি। কিন্তু সেই সব রাসায়নিক দ্রব্য দ্বারা বিষাক্ত বিস্ফোরক গ্যাস সৃষ্টি করছি। এইভাবে অবস্থা ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রত্যেকটি জাতি একে অন্যকে ধ্বংস করার জন্য চক্রান্ত করছে। এই জন্যই কি ঈশ্বর পৃথিবীরূপ এই গ্রহটি সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি কি জগতের এই ক্রমাবনতি অনুসন্ধান করছেন?

কে কথা বলছে? তুমি না মিরোমার?

আমি তার কথাগুলো ভাবছি এবং ভেবে দেখছি তার সিদ্ধান্তগুলি কত সঠিক। চালর্স ম্যাসন লিখিত কোনও এক প্রেতাত্মার বাণী পড়েছিলাম। যখন কোনও মানুষের বুদ্ধির দিকটা আত্মার দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত হয় তখন তার অবস্থা হয়ে ওঠে খুবই ভয়ঙ্কর। মর্ত্য জগতের অবস্থা কি এ রকম নয়।

এ জগতের সুদিন কীভাবে আসবে?

তাহলে মিরোমারের কথাগুলোরই পুনরুক্তি করতে হয়। এই জগৎ ধ্বংস হলে যে জগতের জন্ম হবে সে জগতে যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী, বন্যা প্রভৃতি কিছুই থাকবে না। সেখানে বিরাজ করবে শুধু অফুরন্ত শান্তি ও গৌরব।

আকাশের দুর্যোগটা ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছিল। এনিড ভয় পেয়ে গেল।

ম্যালন বলল, জগতের অবস্থা যাই হোক, একটা জিনিস আমরা শিখেছি। তা হলো এই যে—যদি দুটি আত্মার মধ্যে প্রকৃত ভালবাসা থাকে তাহলে সেই আত্মা দুটি সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে জন্ম-জন্মান্তর ধরে টিকে থাকবে। চিরকল বেঁচে থাকবে। সুতরাং তুমি বা আমি মৃত্যুকে কেন ভয় করব? যেসব বিপদআপদ মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় আমাদের অমর আত্মা তাদের কিছুতেই ভয় করবে না।

এনিড মৃদু হেসে ম্যালনের হাতে একটা হাত রেখে বলল, সত্যিই তো কেনই বা আমরা ভয় করব?

অনুবাদ : সুধাংশুরঞ্জন ঘোষ