অধ্যায় ১
বাবা মি. হাঙ্গারটনের মতো বে-হিসেবি মানুষ জগতে বিরল; আত্মপরায়ণ, অপরিচ্ছন্ন ও কাকাতুয়া-স্বভাবের মানুষ; স্বভাব-চরিত্র খুব ভাল, কিন্তু একান্তভাবে আত্মকেন্দ্রিক। এ রকম একটি লোক আমার শ্বশুর হবেন এই চিন্তাই হয়তো আমাকে গ্ল্যাডিসের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে তাঁর সঙ্গ-সুখ উপভোগ করতে এবং বিশেষ করে দ্বি-ধাতুবাদের অর্থাৎ সোনা ও রূপো দুটো ধাতুরই মুদ্রা প্রচলনের যে মতবাদের তিনি একজন বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন সে বিষয়ে কিছু শুনবার জন্যই আমি সপ্তাহে তিন দিন করে ‘চেস্টনাট’ পরিবারে হাজিরা দেই।
সেদিন সন্ধ্যায় খারাপ মুদ্রা কর্তৃক ভাল মুদ্রা বিতাড়ন, রূপোর প্রতীকী মূল্য, টাকার অবমূল্যায়ন, এবং মুদ্রা-বিনিময়ের প্রকৃত মান সম্পর্কে তাঁর একঘেয়ে বকবকানি এক ঘণ্টার অধিক কাল ধরে আমাকে একমনে শুনতে হলো।
দুর্বল কণ্ঠে তিনি চেঁচিয়ে বললেন, “ধর, পৃথিবীর যত ঋণ সব যদি একদিনে ফেরৎ চাওয়া হলো এবং সঙ্গে সঙ্গে সব টাকা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয় তাহলে আমাদের বর্তমান ব্যবস্থায় অবস্থাটা কী দাঁড়াবে?”
স্বভাবতই আমি জবাব দিলাম যে তাহলে তো আমার দফা রফা হয়ে যাবে। শুনে তিনি লাফ দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে ছ্যাবলামি স্বভাবের জন্য আমাকে বকুনি দিয়ে বললেন, এই জন্যই কোনও গুরুতর বিষয় নিয়ে তিনি আমার সঙ্গে আলোচনা করতে চান না। সঙ্গে সঙ্গে একটা স্থাপত্যসংক্রান্ত সভায় যোগ দেবার জন্য জামাকাপড় বদলাতে তিনি ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
শেষ পর্যন্ত গ্ল্যাডিসকে নিরিবিলিতে পেলাম—আমার ভাগ্যের চরম মুহূর্তটিও সমাগত হলো। সারাটা সন্ধ্যা আমার মনোভাব তখন সেই সৈনিকটির মতো যে অপেক্ষা করে আছে একটিমাত্র সংকেতের জন্য—যে সংকেত তাকে পাঠাবে হয় জয়ের পথে, আর না হয় তো পরাজয়ের আতংকের মধ্যে।
সে বসে ছিল সগর্ব ভঙ্গিমায়; লাল পর্দার উপর আঁকা পড়েছিল তার সুঠাম দেহের রেখা-চিত্র। সে কি সুন্দরী! অথচ সে কত দূরে! আমরা দু’জন ছিলাম বন্ধু, বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু; কিন্তু ‘গেজেট’ পত্রিকার একজন সহ-প্রতিবেদকের সঙ্গে আমার যতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে তার গণ্ডিকে অতিক্রম করে আমি কোনওদিন গ্ল্যাডিসের সঙ্গে মিশতে পারলাম না। আমার স্বভাবটাই এমন; কোনও নারীই আমার কাছে মনটাকে মেলে ধরতে পারে না, আমার সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারে না। একজন পুরুষের পক্ষে এটা প্রশংসার কথা নয়।
গ্ল্যাডিস একটি নারীরত্নস্বরূপা। কেউ কেউ হয় তো তাকে উত্তাপহীন ও কঠিন মনে করে, কিন্তু এ ধরনের চিন্তা অযৌক্তিক। তার চামড়ার প্রায় প্রাচ্যদেশীয় ব্রোঞ্জ-বর্ণ, কাক-কালো চুল, বড় বড় দুটি সজল চোখ, সুন্দর দুটি ঠোঁট—আবেগের সব লক্ষণই তার মধ্যে সুপ্রকাশ্য। তবু তার সান্নিধ্যে পৌঁছবার গোপন কথাটি আমি আজও জানতে পারিনি। যাই হোক, কপালে যাই ঘটুক, আজ রাতে একটা হেস্তনেস্ত আমকে করতেই হবে। সে হয়তো আমাকে ফিরিয়ে দেবে; স্বীকৃত ভাই হবার চাইতে প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক হওয়াও ভাল।
দুটি সপ্রশ্ন কালো চোখ মেলে সে আমার দিকে তাকাল; ভর্ৎসনার হাসি হেসে সগর্বে মাথাটা দোলাতে লাগল।
“আমি বুঝতে পারছি নেড, তুমি বিয়ের প্রস্তাব করতে চাইছ। আমি বলছি, তুমি তা করো না।”
চেয়ারটা আরও কাছে টেনে নিলাম।
সবিস্ময়ে প্রশ্ন করলাম, “আচ্ছা, তুমি কি করে জানলে যে আমি বিয়ের প্রস্তাব করতে চাইছি?”
“মেয়েরা কি সবজান্তা নয়? তুমি কি মনে কর এ ব্যাপারে পৃথিবীর কোনও মেয়েকে আচমকা তাক লাগিয়ে দেওয়া যায়? কিন্তু—দেখ নেড, আমাদের এই বন্ধুত্ব কত ভাল, কত প্রীতিপ্রদ! কেন সেটাকে নষ্ট করবে! দুটি তরুণ-তরুণী মুখোমুখি কথা বলবে, সেটাই কি ভাল নয়?”
“আমি জানি না গ্ল্যাডিস। দেখ, মুখোমুখি কথা—সে আমি স্টেশন-মাস্টারের সঙ্গে বলতে পারি।” হঠাৎ কেন যে স্টশন-মাস্টারের কথাটাই মনে এল ভেবে পেলাম না, কিন্তু দু’জনই হেসে উঠলাম। “তাতে আমি এতটুকু সন্তুষ্ট নই। আমি চাই আমার দুই বাহু তোমাকে ঘিরে থাকবে, আর তোমার মাথাটি থাকবে আমার বুকে। হায় গ্ল্যাডিস, আমি চাই—”
আমার চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে যাচ্ছি দেখে সে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠল।
বলল, ‘তুমি সব নষ্ট করলে নেড। এ সব ব্যাপার-স্যাপারের আগে সব কেমন সুন্দর ও স্বাভাবিক ছিল। কী দুঃখের কথা বল তো! কেন তুমি নিজেকে সামলাতে পার না?”
আমি কৈফিয়ৎ দিলাম, “কিন্তু আমি তো এ সব বানিয়ে বলিনি। এটাই তো স্বাভাবিক। এই তো ভালবাসা।”
“দেখ, দু’জনের মনে ভালবাসা জাগলে সেটা আলাদা কথা। আমার মনে তো ভালবাসা জাগেনি।”
“কিন্তু জাগাতে তোমাকে হবেই—তোমার রূপ দিয়ে, তোমার হৃদয় দিয়ে! ওঃ গ্ল্যাডিস, ভালবাসার জন্যই তো তোমার জন্ম! তোমাকে ভালবাসতেই হবে!”
“কিন্তু সে ভালবাসা না আসা পর্যন্ত তো অপেক্ষা করতেই হবে।”
“কিন্তু—কেন তুমি আমাকে ভালবাসতে পার না গ্ল্যাডিস? আমার চেহারার জন্য, না আর কিছু?”
সে মাথাটা একটু তুলল। হাতটা বাড়িয়ে দিল—ঝুঁকে বসার কী সুঠাম ভঙ্গি—আমার মাথাটা একটু ঠেলে দিল।
শেষ পর্যন্ত বলল, “না, ঠিক তা নয়। তুমি তো অহংকারী নও; তাই তোমাকে বলতে পারছি, তা ঠিক নয়। আরও গভীর কিছু।”
“আমার চরিত্র?”
সে সজোরে মাথা নাড়ল।
“সংশোধনের জন্য আমি কি করতে পারি বল। ভাল হয়ে বস, সব কথা খুলে বল। না, না, শুধু একটু বস।
একটা অবাক-করা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে সে আমার দিকে তাকাল। তারপর বসল।
“এবার বল কোথায় আমার ত্রুটি।”
সে বলল, “আমি অন্য একজনকে ভালবাসি।”
এবার আমার চেয়ার থেকে লাফিয়ে ওঠার পালা।
আমার মুখের অবস্থা দেখে সে হেসে বলল, “সে-জন বিশেষ কেউ নয়, একটি আদর্শমাত্র। আমি যারে চাই তারে এখনও দেখিইনি।
“তার কথা আমাকে বল। সে দেখতে কেমন?”
“ওঃ, দেখতে অনেকটা তোমারই মতো।”
“আহা, কী কথাই শোনালে! আচ্ছা, সে এমন কি করে যা আমি করি না? শুধু একবার সে কথাটা শুনিয়ে দাও—মদ খায় না, নিরামিষাশী, বৈমানিক, যোগীপুরুষ, অতিমানব—আমি তাই হতে চেষ্টা করব গ্ল্যাডিস, শুধু আমকে বল কিসে তুমি খুশি হবে।”
আমার চরিত্রের পরিবর্তনশীলতায় সে হেসে উঠল। বলল, “প্রথম কথা, আমার যে আদর্শ সে কখনও এ ভাবে কথা বলে না। সে হবে আরও কঠিন, কঠোর, একটা বোকা মেয়ের খুশিমতো সে নিজেকে গড়তে চাইবে না। সব চাইতে বড় কথা, সে এমন পুরুষ হবে যে কাজ করতে চায়, কাজ করতে পারে, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তাকে ভয় করে না—সে হবে কর্মে ও বিচিত্র অভিজ্ঞতায় এক কর্মবীর। আমি তো কোনও মানুষকে ভালবাসব না, আমি ভালবাসব তার অর্জিত গৌরবকে—সে গৌরব আমাকে উজ্জ্বল করে তুলবে। ভাব তো রিচার্ড বার্টনের কথা। আর লেডি স্ট্যালির কথা! স্বামীর সম্পর্কে যে বইটা সে লিখেছে তার শেষ অধ্যায়টি কি তুমি পড়েছে? এই রকম পুরুষদেরই তো মেয়েরা মনপ্রাণ দিয়ে ভালবাসে।”
আমি বললাম, “দেখ, সকলেই তো স্ট্যালি ও বার্টন হতে পারে না। তাছাড়া সে সুযোগও তো আমরা পাই না—অন্তত আমি তো কখনও পাইনি। সুযোগ পেলে অবশ্য দেখিয়ে দিতে পারি—”
“কিন্তু সুযোগ তো তোমার চারদিকেই ছড়িয়ে আছে। আমি যে মানুষের কথা বলছি তার লক্ষণই হলো নিজের সুযোগ সে নিজেই তৈরি করে নেয়। তুমি তাকে ধরে রাখতেই পারবে না। তাকে আজও আমি চোখে দেখিনি, তবু তাকে আমি খুব ভাল করেই জানি। বীরত্বের কাজ তো চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে, কেবল করলেই হলো। এ সব তো পুরুষদেরই কাজ, আর নারীরা তাদের ভালবাসাকে বাঁচিয়ে রাখবে সেই সব পুরুষদের পুরস্কার দেবার জন্য। যে ফরাসী যুবকটি গত সপ্তাহে বেলুনে উড়ল তার দিকে তাকাও। ঝড়ো বাতাস বইতে লাগল, কিন্তু যেহেতু যাত্রার ঘোষণা করা হয়েছিল তাই সে বেলুন-যাত্রা বন্ধ করল না। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বাতাস তাকে এক হাজার পাঁচশো মাইল উড়িয়ে নিয়ে গেল; সে পড়ল গিয়ে রাশিয়ার মাঝখানে। এই রকম পুরুষের কথাই আমি বলেছি। যে নারী তাকে ভালবাসে তার কথা একবার ভাব তো; অন্য মেয়েরা তাকে কত ঈর্ষা করেছে। আমিও তো তাই চাই—আমার মানুষটির জন্য সকলে আমাকে ঈর্ষা করুক।”
“তোমাকে খুশি করতে আমি তাও করতে পারি।”
“শুধু আমাকে খুশি করার জন্য এ কাজ করলে তো হবে না। তুমি এ কাজ করবে, কারণ এ কাজ না করে তোমার উপায় নেই, কারণ এ ধরনের কাজ করাই তোমার স্বভাব—কারণ তোমার মধ্যে যে পুরুষটি বাস করে সে যে বীরত্ব প্রকাশের জন্য হাহাকার করছে। এই তো, গত মাসে তুমি তো উইগান কয়লাখানির বিস্ফোরণের বিবরণ লিখলে; তখন তো তুমি নিজে খনিতে নেমে দম- আটকানো বাষ্প সত্ত্বেও সেখানকার লোকগুলোকে সাহায্য করতে পারতে।”
“তা তো করেছিলাম।”
“সে কথা তো তুমি কখনও বলনি।”
“সে কথা বলে বাবা নেবার কিছু ছিল না।”
“কথাটা আমি জানতাম না।” অধিকতর আগ্রহ নিয়ে সে আমার দিকে তাকাল। “তাহলে তো তুমি বেশ সাহসের পরিচয়ই দিয়েছ।”
“দিতে হয়েছিল। ভাল বিবরণ লিখতে হলে ঘটনাস্থলে যেতেই হয়।”
“উদ্দেশ্যটা বড়ই গদ্যময় হয়ে গেল। সব রোমান্স যেন ঝরে গেল। তবু উদ্দেশ্য যাই হোক, তুমি যে সেখানে খনিতে নেমেছিলে তাতেই আমি খুশি।” সে একটা হাত বাড়িয়ে দিল; তার মধুর মর্যাদাপূর্ণ আচরণে আমিও ঝুঁকে তার হাতে চুমো খেলাম। “আমি জানি, এ সবই আমার ছেলেমানুষি কল্পনাবিলাস। তবু এ কল্পনা ছাড়া আমি বাঁচতেই পারি না। যদি বিয়ে করি তো কোনও বিখ্যাত মানুষকেই বিয়ে করব।”
চেঁচিয়ে বলে উঠলাম, “কেন করবে না? তোমার মতো মেয়েরাই তো পুরুষদের অনুপ্রাণিত করে। আমাকেও একটা সুযোগ দিয়ে দেখ আমি সেটা গ্রহণ করি কি না। তাছাড়া, তুমিই তো বললে, সুযোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে পুরুষের উচিত নিজের সুযোগ তৈরি করে নেওয়া। ক্লাইভকে দেখ একজন করণিক মাত্র, অথচ সে ভারতবর্ষ জয় করে ফেলল। জর্জের দোহাই! পৃথিবীতে আমিও একটা কিছু করবই!”
আমার এই আকস্মিক আইরিশ উচ্ছ্বাসে সে হেসে ফেলল।
বলল, “কেন করবেন না? মানুষের যা দরকার সে সবই তো তোমার আছে—যৌবন, স্বাস্থ্য, শক্তি, শিক্ষা, উদ্যম। তোমার কথা শুনে আগে আমি দুঃখ পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমি খুশি—খুব খুশি—আর সেটা এই জন্য যে এইসব চিন্তা তোমার মনে জেগেছে।”
“আর যদি কার্যক্ষেত্রেও—”
তার হাতখানি গরম ভেলভেটের মতো আমার ঠোঁটের উপর নেমে এল।
“আর একটি কথাও নয় মশাই। সান্ধ্য কর্তব্যের ডাকে আরও আধ ঘণ্টা আগেই তোমার আপিসে যাওয়া উচিত ছিল, আমিই প্রাণ ধরে সে কথাটা তোমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারিনি। হয়তো কোনও দিন জগতে তুমি যখন প্রতিষ্ঠালাভ করবে তখন আবার এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হবে।”
ফলে সেই কুয়াশা-ঢাকা নভেম্বরের সন্ধ্যায় ক্যাম্বারওয়েলের ট্রামে যেতে যেতে আমার অন্তরটা যেন আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল; মনে মনে স্থির করলাম, আমার প্রিয়তমার উপযুক্ত কোনও কাজ করার আগে আর একটি দিনও যেন অতিবাহিত না হয়। কিন্তু হায়, এই বিপুল বিশ্বে কে তখন কল্পনা করতে পেরেছিল যে সেই কাজ এমন অবিশ্বাস্য আকার ধারণ করবে, আর সেই কাজ সম্পন্ন করতে এমন বিচিত্র পথে আমাকে চলতে হবে?
আর শেষ পর্যন্ত পাঠকের হয়তো মনে হবে যে আমার কাহিনির সঙ্গে এই প্রারম্ভিক অধ্যায়টির কোনও যোগসূত্রই নেই; অথচ এটি ছাড়া এ কাহিনিই হত না, কারণ একটি মানুষ যখন এই চিন্তা মাথায় নিয়ে জগতের পথে পা বাড়ায় যে তার চারদিকে বীরত্ব ছড়িয়ে রয়েছে এবং দেখামাত্রই তার যে কোনও একটি পথে চলবার ইচ্ছা সদাজাগ্রত থাকে তার অন্তরে, একমাত্র তখনই সে পারে আমার মতোই পরিচিত জীবন থেকে বেরিয়ে গোধূলির আলোয় ঢাকা সেই আশ্চর্য রহস্যময় দেশের পথে পা বাড়াতে যেখানে অপেক্ষা করে থাকে মহৎ দুঃসাহসিক অভিযান ও তার মহৎ পুরস্কার। অতএব “ডেইলি গেজেট”-এর একটি অতি তুচ্ছ কর্মীর দিকে তাকিয়ে দেখ, সম্ভব হলে সেই রাতেই আমার গ্ল্যাডিসের উপযুক্ত একটি অভিযাত্রার সন্ধানে আমার মনে কত সুদৃঢ় একটি সংকল্প বাসা বেঁধেছিল! সে যে নিজেকে গৌরবান্বিত করে তুলতে আমার জীবনকে ঠেলে দিয়েছিল বিপদের মুখে সেটা কি তার কঠোরতা, তার আত্মপরতা? মধ্যবয়সী মানুষের মনে এ ধরনের চিন্তা জাগতে পারে, কিন্তু প্রথম প্রেমের উচ্ছ্বাসে জর-জর তেইশ বছরের উদ্দীপ্ত যুবকের মনে কদাপি নয়।
