এক কুখ্যাত অপরাধীর আচরণের বর্ণনা
এবার আমরা যে দু’জন গবেষকদের নিয়ে পরলোক সম্বন্ধে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছিলাম, সেই গবেষকদের ছেড়ে গবেষণার বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ করব। মানুষের চিন্তার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক নতুন অভিজ্ঞতার দিক থেকেও বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমাদের গবেষকরা যেখানে গবেষণা করতে গিয়েছিলেন, এখন আমরা সেখানে যাব। এখন আমরা যাব মিডিয়াম লিন্ডেন-এর ঘরে। আমরা সেখানে গিয়ে সেই আলো-ছায়ার কাজগুলোকে খুঁটিয়ে দেখব, যে আলো-ছায়ার দ্বারা মিডিয়ামদের জীবন চালিত হয়।
সেখানে যেতে হলে আমাদের টটেনহাম কেটি রোডের ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতে হবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম-এর দিকে। সেখানে পথের দু’দিকে আছে অসংখ্য আসবাবপত্রের দোকান।
রাস্তার নাম টিউনিস স্ট্রীট আর বাড়ির নম্বরটা হলো চল্লিশ।
টিউনিস স্ট্রীটে একটা সাধারণ রংচটা বাড়ি আছে। তার মধ্যে ঢুকে রেলিংওলা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় সামনের দিকে জানলাওয়ালা একটা ঘর পাওয়া যাবে। সে-ঘরের মধ্যে একটা বড় টেবিলের উপর একটা বাইবেল রাখা আছে। বাইরে থেকে কোনও অতিথি এসে এই নির্জন ঘরটা দেখে যাতে ভয় না পায় তার জন্যই হয়ত বাইবেলটা রাখা আছে। সেই ঘরটা পার হয়ে একটা দরজা পাওয়া যাবে। সেই দরজার ওপরে অন্ধকার সরু সিঁড়ি আছে। সেই সিঁড়িতে উঠলে একটা ঘর পাওয়া যাবে। সেই ঘরে এখন বেলা ১০টা বাজলেও একজন ভদ্রলোককে শুয়ে থাকতে দেখা যাবে। গতরাতে প্রেত-চর্চার সভায় যিনি অনেক অলৌকিক দৃশ্য ও ঘটনা দেখিয়েছেন, ইনি সেই ব্যক্তি। মনে হয় গতকাল তিনি কষ্টকর কাজের মধ্য দিয়ে যে শক্তি ক্ষয় করেন সেই শক্তি সঞ্চয় করার জন্যই আজ অনেকটা বেলা পর্যন্ত বিছানায় শুয়ে থেকে বিশ্রাম করছেন। গতরাতে তাঁর যে টুপিটা দেখেছিলাম সেই টুপিটা তাঁর কাছেই আছে।
আগে থাকতে কিছু না বলে এই সময় তার ঘরের বাইরে থেকে অদৃশ্যভাবে যদি তাঁকে লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখা যাবে তিনি তখন বালিশে হেলান দিয়ে হাঁটুর উপর প্রাতরাশের থালা রেখে প্রাতরাশ করছেন। আর তাঁর সামনে বসে থাকা বেঁটেখাটো চেহারার কালো চোখওয়ালা স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন।
গতরাতে যারা প্রেতচর্চার সভায় তাঁকে মিডিয়াম হিসাবে বহু ঐন্দ্রজালিক কাজ করতে দেখেছে এবং আধুনিক পরলোক-তত্ত্ব গবেষণার অবদান স্বরূপ নতুন পদ্ধতিতে প্রেতদের আবাহন ও দেহরূপ দান করার কাজ ভীতবিহ্বল চোখে যারা দেখেছে, তারা হয়ত তাঁকে আজ এই অবস্থায় দেখে আশ্চর্য হয়ে যাবে এবং কিছুটা মজাও পাবে। তার চওড়া কাঁধ বুকের ছাতি ও চোখ মুখ দেখে বোঝা যায় তিনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও অনেক শক্ত কাজকর্ম করার উপযুক্ত। তাঁর মাথার কুঞ্চিত চুলগুলো চূড়ার আকারে বাঁধা ছিল। সকালের মৃদু আলোয় তাঁকে বেশ কিছুটা দুর্বল ও ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
মিসেস লিনডেন তাঁর স্বামীকে বললেন, কেমন আছ টম। তুমি কি মনে কর, বাইবেলে যাদের কথা লেখা আছে তারা এই সব প্রেতচর্চার কাজ সমর্থন করবে?
মি. লিনডেন জিজ্ঞাসা করলেন, গতকালের আসরে ডিউক-পত্নী সন্তুষ্ট হয়েছেন।
মিসেস লিনডেন উত্তর করলেন, আমার মনে হয় তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। মি. অ্যাটকিনসনও সন্তুষ্ট হয়েছে। ম্যালন নামে একজন সাংবাদিক এসেছিলেন। তিনি লর্ড ও লেডী মতেনেয়ার, ও মি. মেইলী সব প্রমাণ পেয়ে গেছেন।
এবার মিডিয়াম লিনডেন বললেন, গতকাল রাতে আমি পরলোক থেকে আগত প্রেতদের কথাগুলো ঠিকমতো শুনতে পাইনি। তাদের কোনও জ্ঞানবুদ্ধি নেই, সেই সব নির্বোধ প্রেতগুলো বিশেষ করে আমার কাকা শ্যাম আমার মাথায় এমন সব চিন্তা ঢুকিয়ে দিল যার ফলে আমার মন ও চোখের দৃষ্টি আচ্ছন্ন হয়ে গেল। যার জন্য আমি ভাল করে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না।
হ্যাঁ, মিডিয়াম আরও বলতে লাগলেন, তারা আমাকে সাহায্য করতে এসে গোলমাল বাধাচ্ছিল। এইভাবে তারা নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণা করছিল। আমি ওদের প্রকৃতি চিনি।
তবুও আমি ভালভাবেই প্রেতের ছায়াগুলোকে সেই রূপ দান করার কাজ চালিয়ে যাই। কয়েকটা ভাল দেহরূপ দান করি এবং এতে আমি খুশী। তবে তা করতে গিয়ে আমার নিজের দেহ থেকে অনেকটা প্রাণশক্তি তুলে নিয়ে তাদের মধ্যে সঞ্চার করতে হয়।
গতকাল এই কাজে আমার অনেকটা প্রাণশক্তি ব্যয় করতে হলো। আর তার ফলে আমি প্রায় মূর্ছিত হয়ে পড়ে যাই। তবে আজ সকালে আমি মোটামুটি ভালই আছি।
কাল আমার খুব পরিশ্রম হয়। বিশেষ করে মার্গারেট দেহটা গড়ে তোলার সময়। আমি পড়ে গিয়ে হাঁপাতে থাকি।
সবাই আমাকে দেখে বলতে থাকে ওর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
মিসেস লিনডেন কিছুটা তিক্ততার সঙ্গে বললেন, হ্যাঁ ওরা ছোটাছুটি করে একটা হুইস্কির বোতল নিয়ে আসে। তোমার মুখে মদ ঢেলে দেয়। তবে সাবধান, বেশি মদ খেয়ে যেন মাতাল মিডিয়ামে পরিণত না হও।
মি. লিনডেন বললেন, হ্যাঁ, তবে আমাদের যে কারবার তাতে অল্প পরিমাণ মদ পান করতে হয়। ডিম ও শূকরের মাংসও খাই। আগামী ইস্টারের সময় একটা ভাল কাজ করব বলে—আশা করি। হা ভগবান! দশটা বেজে গেল। ওদের আসবার সময় হয়ে গেল।
মিসেস লিনডেন অনুযোগের সুরে বললেন, তুমি যা রোজগার কর তা তো দান করে দাও।
মি. লিনডেন বললেন, মাঝে মাঝে আমাদের অবশ্য বেশ কিছু সংকটে পড়তে হয়। তবে দেখ, এই কাজ করে আমাদের দু’-বেলা চলে তো যাচ্ছে। আর কি চাই।
আমি আশা করি ওরা আমাদের শেষ পর্যন্ত দেখবে।
মিসেস লিনডেন বললেন, এখন ধনী লোকেরা প্রেতচর্চার জন্য অনেক মিডিয়ামের ব্যবস্থা করেছে। তারা আপন আপন জায়গায় কাজ করে যাচ্ছে।
টম লিনডেন বললেন, এর জন্য ধনীরাই দায়ী। প্রেতদের কোনও দোষ নেই। যারা প্রেতচর্চার ব্যবসা করে আর এই চর্চার জন্য বাড়িতে আসর বসায় তারা বেশির ভাগ টাকা নিয়ে আমাদের গরীব মিডিয়ামদের কমই দেয়। বুড়ো বয়সে ও শেষ বয়সে এই সব মিডিয়ামদের বড় কষ্টে দিন চালাতে হয়।
মিসেস লিনডেন এবার তাঁর সরু হাতটা স্বামীর মাথায় রেখে সান্ত্বনার সুরে বললেন, দুঃখ করো না টম। যা হবার হবে।
মি. লিনডেন জোরে হাসতে হাসতে বললেন, ঠিক আছে। ধনী লোকেরা আমাদের ফাঁকি দিয়ে যত টাকা নেয় নিক না। সে টাকা তারা সিন্দুকে বন্ধ করে রাখুক। কিন্তু তাদের মরতে তো হবেই। পরলোকে তো কিছুই নিয়ে যেতে পারবে না।
এমন সময় হঠাৎ দরজায় করাঘাত শুনে দু’জনে দু’জনের মুখপানে তাকাল।
ভৃত্য খবর দিল আপনার ভাই সাইলাস নিচে দাঁড়িয়ে আছে।
মিসেস লিনডেন বিষণ্নমুখে বললেন, আবার ঝামেলা শুরু হলো।
লিনডেন তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কাঁধ দুটোকে নাড়িয়ে ভৃত্যকে বললেন— ঠিক আছে সুসান ওকে বল আমি নীচে গিয়ে দেখা করছি।
এরপর তিনি স্ত্রীকে বললেন, আমি মিনিট পনেরোর মধ্যে ফিরে আসছি প্ৰিয়তমা।
মিসেস লিনডেন নীচে নেমে গিয়ে একতলার বসার ঘরে সাইলাসের সঙ্গে কথা বলতে লাগরেন। সাইলাসের চেহারাটা বেশ মোটাসোটা ও বলিষ্ঠ। সে হাঁটুর উপর হাত রেখে জানলার ধারে বসে ছিল। তার মাথার চুলগুলো ছিল কুঞ্চিত আর লম্বা কিন্তু বাঁধা ছিল না। তার মুখটা ছিল দাড়ি-কামানো, সে ছিল একজন ভয়াবহ বক্সার। সে এতেই নাম করতে চেয়েছিল।
সম্প্রতি সে আর্থিক সংকটে পড়েছে, তার আয় রোজগার কিছুই নেই।
মি. লিনডেন ঘরে ঢুকতেই মিসেস লিনডেন ঘব থেকে চলে গেলেন। সাইলাস তার আর্থিক সংকটটা তার দাদার কাছ থেকে মাঝে মাঝে সাহায্য নিয়ে কাটিয়ে উঠতে চায়। আজও সে এসে কিছু টাকা চাইল। টাকা চাইতে গিয়ে বলল, একটু পান করতে পারলে ভাল হত।
সাইলাস মদ পান করতে চাইলে লিনডেন বললেন, আমি ঘরে ওসব কিছুই রাখি না।
সাইলাস বলল, এক বোতল মদের দামটা দিলেই হবে। তোমার কাছে যদি ব্র্যাডবেরি থাকে তাহলে তাতেই আমার চলে যাবে।
টম লিনডেন টেবিলের ড্রয়ার থেকে এক পাউন্ডের একটা নোট বের করে সাইলাসের হাতে দিয়ে বললেন, যতক্ষণ আমার কাছে কিছু থাকবে তার অংশ তুমি পাবে। কিন্তু গত সপ্তায় তোমাকে দু’-পাউন্ড দিয়েছিলাম। সেটা কি খরচ হয়ে গেছে?
সাইলাস বলল, খরচ তো হয়েছে কিন্তু কীভাবে হয়েছে সে আর কি বলব।
সাইলাস এবার এক পাউন্ডের নোটটা তার পকেটে রেখে বলল—দেখ টম, আমি তোমার সঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আলোচনা করতে চাই।
ঠিক আছে সাইলাস, কি কথা?
সাইলাস বলল, বলছি। এই বলে সে তার হাতের তালুর পিঠে উল্টো দিকে জমে থাকা একতাল মাংসপিণ্ড দেখিয়ে বলল, এ হচ্ছে একটা হাড়। হাড়টা উঠে গেছে আর তার উপর মাংস জমে গেছে। এটা কখনও আর ঠিক হবে না। এমনটা হয় সেইদিন যেদিন আমি বক্সিং-এ কার্লি জেনকিংসকে তৃতীয় রাউন্ডে আঘাত করি। নিয়ম না মেনে এইভাবে তাকে আঘাত করি। এইভাবে সেই রাতে নিজেকেও আমি খেলার জগৎ থেকে ‘আউট’ করে ফেলি। আমি মল্লযুদ্ধের অনুষ্ঠান বা প্রদর্শনী করতে পারি। কিন্তু আসল জিনিসটারই অভাব। এই বিষয়ে আমার কোনও অধিকারই নেই।
টম লিনডেন বললেন, সত্যিই এটা একটা সংকটজনক অবস্থা, সাইলাস।
সাইলাস বলল, ধিক এই অবস্থার। যাইহোক আমাকে তো আমার জীবিকাটা অর্জন করতে হবে। কেমন করে অর্জন করতে হবে সেটা আমি তোমার কাছে জানতে চাই। আমি তো এখন একেবারে বেকার। আমার সামনে বেশি পথ খোলা নেই। আচ্ছা, আমি যদি মিডিয়ামের কাজ করতে থাকি তবে কেমন হয়।
মিডিয়াম?
সাইলাস তখন বলে উঠল, এ কি! তুমি আমার মুখ পানে অমন করে তাকিয়ে আছ কেন? মিডিয়ামের কাজটা যদি তোমার পক্ষে ভাল হয় তাহলে আমার পক্ষেও ভাল হবে।
টম বলল, কিন্তু তুমি তো মিডিয়াম নও।
সাইলাস বলল, কথাটা তুমি প্রকাশের জন্য খবরের কাগজে দিতে পার। আমি তো তোমার পরিবারের লোক। তুমি আমাকে শিখিয়ে নিতে পার। তুমি যেমন করে এই কাজ কর আমিও তেমনি করে এই কাজ করব।
আমি কিছুই করি না।
সাইলাস প্রতিবাদের সুরে বলল, কর না? কিন্তু প্রতি সপ্তায় চার বা পাঁচ পাউন্ড করে পাও। এটা ভাল রোজগার। তুমি আমাকে বোকা বানাতে পারবে না। তুমি ও আমি একই জায়গায় মানুষ হয়েছি। তুমি আমাকে এ বিষয়ে অন্ধকারে রাখতে পারবে না। এখন বল, তুমি এ কাজ কেমন করে পার?
কিসের কাজ?
সাইলাস জোর দিয়ে বলল, দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলছি আমি নিজে দেখেছি তুমি টেবিলে বসে আছে আর তোমার সামনে অদূরে বইয়ের তাকের উপর থেকে তোমার সঙ্গে কারা কথা বলছে। তোমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এটা বেশ চাতুর্য ও ধাঁধার ব্যাপার। ওই অদৃশ্য প্রেতগুলোকে তুমি কেমন করে পাও?
টম বলল, আমি তার কিছু জানি না। এটা আমার সাধ্যের অতীত।
সাইলাস জোর দিয়ে বলল, হ্যাঁ তুমি এ বিষয়ে তা বলতে পারবে। আমি এই কাজটা করতে পারলে অবশ্যই জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করব।
আরেক দিন সকাল বেলায় সাইলাস এসে টম লিনডেনকে পীড়াপীড়ি করলে টম মুস্কিলে পড়ে। টম রেগে গিয়ে সাইলাসকে শাসনের ভঙ্গিতে বলে, তুমি অনভিজ্ঞ, ঈশ্বরদ্রোহী ও নির্লজ্জ জাতীয় বদমাস।
তোমাদের মতো লোকেরাই আমাদের এইসব কাজের মধ্যে এসে লোকচক্ষে হেয় করে তোলে। তুমি কি আমাকে ভণ্ড প্রতারক মনে কর? যদি তা ভাব, তাহলে বলব—তুমি আমাকে চেন না। তুমি আমার বাড়ি থেকে এখনই বেরিয়ে যাও। তুমি একটা অকৃতজ্ঞ পাজী লোক।
সাইলাস দুর্বৃত্তের মতো গর্জন করে উঠল। অনেক বলেছ, আর নয়।
তুমি যাবে? যদি না যাও তবে আমি তোমাকে নিজে বার করে দেব। তুমি ভাই বা যেই হও আমি তা মানব না।
সাইলাস তার দু’হাতে শক্ত করে ঘুষি পাকাল। তার মুখখানা রাগে কুৎসিত হয়ে উঠল। কিন্তু টমের কাছ থেকে মাঝে মাঝে সাহায্য পাবার কথা ভেবে নরম হয়ে উঠল। তার বিক্ষুব্ধ মনকে শান্ত করল।
সাইলাস এবার নরম সুরে বলতে লাগল, ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমি তোমার কোনও ক্ষতি করতে চাইনি।
কিন্তু সে যখন দরজার কাছে এগিয়ে গেল তখন তার প্রয়োজনের তীব্রতার কথা ভেবে আবার বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। প্রয়োজন তাকে নির্লজ্জ করে তুলল। সে আবার গর্জন করে বলতে লাগল, তোমার সাহায্য ছাড়াই আমি একাজ করব। তুমি হচ্ছো একটা ভণ্ড, ছলচাতুরির দ্বারা লোক ঠকিয়ে পয়সা নাও। আমি তোমাকে দেখে নেব।
এই বলেই সাইলাস ভারী দরজাটা সশব্দেদ বন্ধ করে দিয়ে চলে গেল। মিসেস লিনডেন চেঁচামিচির শব্দ শুনে স্বামীর কাছে ছুটে এলেন। তিনি বললেন, লোকটা একটা আস্ত শয়তান। আমি ওর তর্জন-গর্জন শুনতে পেয়েছিলাম। কি চাইছিল ও?
টম লিনডেন বললেন, ও চাইছিল, আমি ওকে মিডিয়ামের কাজ শেখাই। ও মনে করে একাজ হলো ছল-চাতুরির খেলা যা আমি সহজেই শেখাতে পারি।
নির্বোধ কোথাকার। ওর মাথায় বুদ্ধি বলে কিছু নেই। তবে এতে ভালই হলো। ও আর এখানে মুখ দেখাতে সাহস পাবে না।
টম লিনডেন কেমন যেন ভয়ে ভয়ে বললেন, ও কি আর আসবে না?
মিসেস লিনডেন জোর দিয়ে বললেন, যদি আসে আমি ওর মুখে এক চড় বসিয়ে দেব। তোমাকে এভাবে বিব্রত করে তোলার কোনও মানে হয় না। কিন্তু তোমার শরীর কাঁপছে কেন?
আমার মনে হচ্ছে এক বিশেষ উদ্দীপনা বা উত্তেজনা না পেলে আমি মিডিয়ামের কাজ করতে পারব না। কে একজন বলেছিল, “আসলে তোমরা দু’জনে কবি হলো ভাল হত। তোমাদের মধ্যে কবিত্বের ভাব আছে।” কিন্তু আমরা যখন একাজে নেমে পড়েছি তখন একথা বলে লাভ কি?
মিসেস লিনডেন সান্ত্বনার সুরে বললেন, তুমি কিছু ভেব না। আমি তোমার সব অস্বস্তি দূর করে দেব। এই বলে তিনি অতিরিক্ত কাজের জন্য জীর্ণ হাতখানা নীরবে স্বামীর কপালে তুলে কিছুক্ষণ সেখানে রেখে দিলেন।
মি. লিনডেন বললেন, অনেকটা ভাল মনে হচ্ছে। তুমি ভালই করেছ মেরী। আমি এবার রান্নাঘরে বসে একটা সিগারেট খাব।
মিসেস লিনডেন জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে বললেন, এখন তা হবে না। একজন মহিলা সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তুমি কি তার সঙ্গে দেখা করতে পারবে?
লিনডেন বললেন, হ্যাঁ আমি পারব। ওকে ভিতরে নিয়ে এস।
সঙ্গে সঙ্গে একজন মহিলা এসে ঘরে ঢুকল। তার পরনে ছিল কালো পোশাক। বিষাদগ্রস্ত মুখ। সে ঘরে ঢুকেই তার কথা বলতে শুরু করল।
লিনডেন নীরবে তাকে একটা চেয়ার দেখিয়ে ইশারায় বসতে বললেন। তার পর তিনি কাগজ দেখতে লাগলেন।
মি. লিনডেন মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি মিসেস ব্লাউন্ট না? আপনার তো আসার কথা ছিল?
মহিলাটি উত্তর করলেন, আপনাকে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলাম।
মি. লিনডেন ঘাড় নেড়ে বললেন—না, আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করবেন না। এতে আমি বড় ব্রিত বোধ করি। আপনাদের যত সব প্রশ্ন আমাকে হতবুদ্ধি করে।
মি. লিনডেন মহিলাটির দিকে তার ধূসর চোখের হাল্কা দৃষ্টি মেলে তাকালেন। তার দৃষ্টিটা ছিল মিডিয়ামের সেই অন্তর্ভেদী দৃষ্টি যে-দৃষ্টি কোনও ব্যক্তির শুধু বাইরেটা দেখে না। তার অন্তরের সব কিছুও দেখে। এরপর তিনি বললেন, আপনি এসে খুব ভাল কাজই করেছেন। আপনার পাশেই একজন আছে। তার একটা জরুরী কথা আপনাকে জানাবার আছে। এ বিষয়ে দেরী করা চলত না। হ্যাঁ.. নামটা পেয়েছি ..ফ্যান্সিস… হ্যাঁ, হ্যাঁ ফ্রান্সিস।
মহিলাটি হাত দুটো জড়ো করে বলল—হ্যাঁ, হ্যাঁ, এটা তারই নাম
মিডিয়াম বললেন, লোকটির গায়ের রং কিছুটা কালো। তবে তার আগ্রহ, নিষ্ঠা যথেষ্ট আছে। সে কথা বলবে, কথাটা জরুরী। সে বলছে, ‘টিঙ্ক-এ-বেল’। এই টিঙ্ক-এ-বেল কে?
হ্যাঁ হ্যাঁ আমাকেই সে ওই নামে ডাকত।
এই বলে মহিলাটি বিশেষ আগ্রহের সঙ্গে অনুরোধের সুরে বলতে লাগল, ও ফ্রাঙ্ক, কথা বল আমার সঙ্গে। কথা বল।
মিডিয়াম বললেন, সে কথা বলছে। সে আপনার মাথার উপর হাত রেখে কথা বলছে। সে আপনাকে তার জরুরী কথাটা বলছে, “টিঙ্ক-এ-বেল যদি তুমি তোমার উদ্দেশ্য মতো কাজটা করে যাও তাহলে অনেক বছর লাগবে তা শেষ করতে।” এগুলোর কোনও অর্থ হচ্ছে কি?
মহিলাটি এবার তার চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠে বলল, অবশ্যই হচ্ছে। এটাই এখন আমার কাছে সব। ও মি. লিনডেন, এটাই ছিল আমার পক্ষে শেষ সুযোগ। এই সুযোগটা হারালে অর্থাৎ এই কথা জানতে না পারলে আজ রাতেই আমাকে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে হত। তারপর পরলোকে গিয়ে তার খোঁজ করতাম।
মিডিয়াম এবার বললেন—ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমি তাহলে আপনাকে বাঁচিয়েছি। মনে রাখবেন ম্যাডাম, নিজের জীবনকে হত্যা করাও এক ভয়ঙ্কর অপরাধ। এটা হচ্ছে প্রকৃতির নিয়মভঙ্গ করা এবং প্রকৃতির নিয়মভঙ্গ করলে শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে। আপনার স্বামী যথাসময়ে কথাটা জানিয়ে আপনাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। তার আরও কিছু কথা বলার আছে। তার বাণী হলো যে “যদি তুমি বেঁচে থেকে তোমার কর্তব্য ও কর্ম করে যাও তাহলে আমি সব সময় তোমার পাশে থাকব। মনে রাখবে আমার অশরীরী উপস্থিতি তোমাকে ও আমাদের তিনটি শিশুকে রক্ষা করে যাবে। আমি জীবিত কালে তোমার যতটা কাছে ছিলাম এখন তোমার আরও কাছে কাছে থাকব।”
এবার মহিলাটি আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠে দাঁড়াল। ঘরে ঢোকার সময় তার যে মুখখানা উদ্বেগে ম্লান ও শুকনো দেখাচ্ছিল, এখন সে-মুখখানা খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তার গাল দুটো রক্তাভ হয়ে উঠল। সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। তার গতিভঙ্গিতে ছিল এক নৃত্যের ছন্দ। তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ছিল। তবে সে অশ্রু ছিল আনন্দাশ্রু।
মহিলাটি উচ্ছ্বসিত আবেগের সঙ্গে বলতে লাগল, সে মরেনি, সে মরেনি। মরলে সে কি করে আমার সঙ্গে কথা বলল। আর মি. লিনডেন বলুন আমি আপনার জন্য কী করতে পারি। আপনি আমাকে এক লজ্জাজনক মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন। আপনি আমার স্বামীকে আমার কাছে ফিরিয়ে এনেছেন, আপনি সত্যিই এক ঈশ্বর-সদৃশ ক্ষমতার অধিকারী।
মিডিয়াম লিনডেন-এর চোখেও জল এল। তিনি অশ্রুভেজা কণ্ঠে বললেন, আর নয়, আর একথা বলবেন না। আমি কিছুই করি না। আমার কোনও ক্ষমতাই নেই। সব ক্ষমতা ঈশ্বরের। সুতরাং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিন। ঈশ্বরই দয়া করে কোনও কোনও মানুষকে পরলোকে অধিবাসী মৃতেদের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা ও তাদের বাণী বহন করার ক্ষমতা দেন। এক গিনি আমার ফি। যদি কাছে থাকে দিয়ে যান।
মহিলাটি তার চোখের জল মুছে বলল, আমি এখন সন্তুষ্ট। আমি এখন সন্তুষ্ট চিত্তে ঈশ্বরের নির্দেশ মতো বেঁচে থেকে আমার কর্তব্য পালন করে যাব। তার পর একদিন মৃত্যুর পর পরলোকে গিয়ে আমার স্বামীর মিলিত হব।
বিধবা মহিলাটি ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। মিডিয়াম মি. লিনডেনের বুকটা অনেকটা হাল্কা হয়ে গেল। তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে অপ্রীতিকর, উত্তপ্ত বাদ-প্রতিবাদের ফলে তাঁর মনের উপর যে-মেঘ জমে উঠেছিল, বিধবার সঙ্গে তাঁর এই সুখকর সাক্ষাৎকারের ঘটনার হাওয়ায় সে-মেঘ উড়ে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন অপরকে সুখী করা ও নিজের সাধ্য-শক্তি মতো পরের উপকার করার মতো সুখ আর নেই।
তিনি যখন এই সব ভাবছিলেন একজন ফ্রককোট ও চকচকে পোশাক পরা এক ভদ্রলোক ব্যস্তভাবে ঘরে ঢুকল। তাকে দেখে মনে হলো তার কাছে এক মুহূর্তেরও অনেক দাম।
ভদ্রলোক বলল, আমি আপনার শক্তিতে বিশ্বাস করি। কারও কোনও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য আপনি ঠিক একটা উপায় বার করেন। আপনার সে ক্ষমতা আছে।
লিনডেন নির্বিকারভাবে বললেন, কখনও কখনও তাই হয়। তবে ইচ্ছো করলেই তা করতে পারি না। সে-শক্তি আমার একেবারে করায়ত্ত, তা বলা যায় না।
মক্কেল ভদ্রলোক বলল, সে শক্তি আপনার আছে কিনা আমি পরীক্ষা করে দেখতে চাই। আজ সকালে আমি একটা চিঠি পেয়েছি। আপনি আপনার শক্তি প্রয়োগ করে এই চিঠিটা একটু দেখবেন।
মি. লিনডেন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলেন, তার পর চিঠিটা কপালে তুলে ভাল করে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন। তারপর চিঠিটা মক্কেলের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, আমার কিন্তু ভাল লাগল না। আমি এতে এক অশুভ শক্তি অনুভব করছি।
সাদা পোশাক পরা একটা লোক বাঁশের টেবিলে বসে এই চিঠিটা লিখেছে। চিঠিটা এসেছে কোনও ক্রান্তিও অঞ্চলের দেশ থেকে।
সঙ্গে সঙ্গে মক্কেল বলে উঠল, হ্যাঁ হ্যাঁ মধ্য-আমেরিকা থেকে।
লিনডেন বললেন, আমি আপনাকে এর বেশি আর কিছু বলতে পারছি না।
পরলোকের আত্মারা সবকিছু জানে, তাই না?
মক্কেলের এই প্রশ্নের উত্তরে মিডিয়াম বললেন, না। তারা সব জানে না। আমাদের মতোই তাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। আমি আমার নিজের আত্মার শক্তির দ্বারাই একথা বললাম। মৃত আত্মাদের এ শক্তি নেই, এটা হচ্ছে জীবিত মানুষদের আত্মার কাজ।
যতদূর মনে হয় আপনি ঠিকই বলেছেন। যে লোকটা আমাকে চিঠি দিয়েছে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। সে আমাকে তেল তোলার কারবারে অর্ধেক টাকার অংশীদার হবার জন্য টাকা লগ্নী করতে বলছে।
মি. লিনডেন ঘাড় নেড়ে অসম্মতি জানালেন। তারপর বললেন, ঈশ্বর আমাদের মতো কোনও কোনও মানুষকে একটা শক্তি দান করেন। সে শক্তির কাজ হলো মৃতদের আত্মাকে এনে জীবিত মানুষদের সান্ত্বনা দান করা। এবং আত্মার অমরত্বকে প্রমাণিত করা। কিন্তু আত্মাদের এই জগৎ মানুষের কোনও ব্যবহারিক কাজে লাগানো যায় না। তা করতে গেলে মিডিয়াম ও মক্কেল উভয়েই বিপদে পড়ে।
একথা শুনে মক্কেল তার কোটের ভিতর থেকে একটা থলি বার করে বলল, আপনি টাকার জন্য ভাববেন না।
মিডিয়াম বললেন, না স্যার আমাকে টাকা দেবার কথা বলবেন না। আমি গরীব হতে পারি, কিন্তু ঈশ্বরদত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করব না।
অতিথি চেয়ার থেকে উঠে বলল, এই ক্ষমতা টাকার জন্যই তো প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। আমি অবশ্য অন্য যে কোনও লাইসেন্স প্রাপ্ত মিডিয়ামের কাছ থেকে এই কাজটা করিয়ে নিতে পারি। আপনার লাইসেন্স নেই। তবু আমি টাকা দিয়ে এই কাজটা করাতে এসেছি।
মিডিয়াম আবার বললেন, না স্যার আমি আইন ভঙ্গ করতে পারি না। আপনার বাঁদিকে কাঁধের কাছে একজন বয়স্কা মহিলা দাঁড়িয়ে আছে।
অতিথি ভদ্রলোক বিরক্তির সঙ্গে বলল, যাব যাও খুব হয়েছে। এই বলে সে দরজার দিকে এগিয়ে।
মিডিয়াম আবার বললেন, ওই মহিলার গলায় আছে একটা বড় সোনার চেনওয়ালা লকেট। সেই লকেটের তলায় আছে পান্নার একটা ক্রস।
অতিথি যেতে যেতে ঘুরে দাঁড়াল। তারপর আশ্চর্য হয়ে বলল, ওই লকেটটা আমার মা পরতেন।
আপনি কি করে তা জানলেন?
আমি এখন ওই মহিলাকে আমার সামনে দেখছি।
অতিথি এবার আগ্রহের সঙ্গে বলল, ওই লকেটটা আমার মা সব সময় পরত। আপনি কি সত্যিই তাকে দেখতে পাচ্ছেন?
মিডিয়াম বললেন, এখন আর নেই। এইমাত্র তিনি চলে গেলেন।
তাঁকে দেখতে কেমন, তিনি কি করছিলেন?
মিডিয়াম উত্তরে বললেন, ওই মহিলাই আপনার মা। তিনি নিজে আমাকে তাই বললেন। তিনি কাঁদছিলেন।
কাঁদছিলেন? অতিথি আশ্চর্য হয়ে বলল, আমার মা তো এখন স্বর্গে আছেন। তার মতো ভাল মহিলারা মৃত্যুর পর স্বর্গেই যান। স্বর্গে তো কেউ কাঁদে না।
কাল্পনিক স্বর্গে কেউ কাঁদে না। কিন্তু প্রকৃত স্বর্গে আত্মারা কাঁদে। আমরা অর্থাৎ মর্ত্যের মানুষেরাই তাদের কাঁদাই। তিনি এক বার্তা রেখে গেছেন।
আমাকে সেই বার্তাটা দিন।
মিডিয়াম বললেন, তিনি আপনাকে সম্বোধন করে বললেন, ও জ্যাক, তুমি আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছ, ক্রমশই আমার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছ।
একথা শুনে অতিথি এক অবজ্ঞাসূচক ভঙ্গি করল।
অতিথি অবজ্ঞার ভাব দেখিয়ে বলতে লাগল—আমি নিতান্তই বোকা বলে এখানে আসার আগে নামটা আপনাকে জানিয়েছিলাম, তারপর নিশ্চয় আপনি আমার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে—এই সব তথ্য জেনেছেন। আপনি আমার সঙ্গে ছলচাতুরী করবেন না। আমি এ সব অনেক দেখেছি।
এই ভাবে সেইদিন সকাল বেলায় দ্বিতীয়বার এক ক্রুদ্ধ অতিথি দরজাটা বন্ধ করে বেরিয়ে গেল।
মি. লিনডেন তাঁর স্ত্রীকে বুঝিয়ে বললেন, লোকটা তার বাণীটাকে গ্রাহ্য করল না। তবে সে তার মার কথাটা মুনে এমন তাচ্ছিল্যভরে উড়িয়ে না দিলে ভাল করত।
তারা যদি না মানে তবে সেটা তোমার দোষ নয়। যাইহোক দু’জন মহিলা বাইরে অপেক্ষা করছে। ওরা অবশ্য আগে ওদের পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করেনি। তবে ওদের দেখে মনে হচ্ছে ওরা বিপন্ন।
গতরাতের কাজের পর থেকে আমার মাথাটায় ব্যথা করছে। সেটা এখনও সারেনি। যাইহোক এই দু’জন মহিলার কাজ সেরে আজ আর কারও সঙ্গে দেখা করব না। পারলে মানুষের দুঃখ দূর করাই উচিৎ। যথাসাধ্য ওদের দুঃখের প্রতিকার না করে ওদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিত হবে না।
দু’জন মহিলাকে ভেতরে আনা হলো। তাদের চোখে মুখে ছিল কড়া ভাব। তারা কালো পোশাক পরে এসেছিল। তাদের একজনের বয়স পঞ্চাশ আর একজন তার অর্ধেক।
বয়স্ক মহিলাটি লিনডেনকে বলল, আপনার ফী এক পেনি। এই বলে সে একটা পেনি টেবিলের উপর রাখল।
লিনডেন বললেন, এই ফীটা তাদের জন্য যারা সেটা দিতে পারে।
ওই মহিলাটি বলল, আমি তা দিতে পারি। এই ফী দেবার ক্ষমতা আমার আছে। আমি একটা দুঃখে বড় বিপন্ন বোধ করছি। লোকে আমায় বলল, আপনি আমাকে সাহায্য করতে পারেন।
হ্যাঁ অবশ্যই করব, যদি তা পারি। এটাই তো আমার কাজ।
সেই বয়স্কা মহিলা বলল, আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। তিনি ইপপ্রেসের যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। আমি কি তাঁর সঙ্গে যোগযোগ করতে পারি?
মিডিয়াম বললেন, আমার মনে হয় আপনি তার উপরে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না। আমি বিশেষ ভাল বুঝছি না। এ বিষয়ে আমি কাউকে বশীভূত করতে পারি না। তবে আমি নামটা জানতে পেরেছি, নামটা হলো এডমন। এটা কি সত্যিই আপনার স্বামীর নাম?
মহিলা বলল, না।
তাহলে কি অ্যালবার্ট?
মহিলা আবার উত্তর করল, না।
মিডিয়াম তখন বললেন, আমি দুঃখিত। কিন্তু ব্যাপারটা গোলমেলে মনে হচ্ছে। হয়ত উল্টোপাল্টা হয়ে গেছে। টেলিগ্রাফের তারের মতো দু’জনের দুটো বাণী মিশে গিয়ে ওলোটপালোট হয়ে গেছে। নামটা পেড্রো হলে কি আপনার কাজ হবে?
পেড়ো? না তো। পেড্রো কি বেশি বয়সের লোক ছিল?
মিডিয়াম উত্তরে বললেন, না বেশি বয়সের লোক না। আমি তো কোনও সাড়া পাচ্ছি না। আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না।
মহিলা বলল, আমি আমার মেয়ের জন্যই স্বামীর একটা পরামর্শ চাই। আমার স্বামী এ ব্যাপারে কী করতে হবে তা বলে দিত। আমার মেয়ে একটি যুবককে ভালবেসে বিয়ের কথাটা পাকা করে ফেলেছে। ছেলেটি পেশাগতভাবে একজন ফিটার। কিন্তু এ বিষয়ে দু’-একটা বাধা আছে। তাই আমি জানতে চাই আমি কী করব।
মহিলা এবার কড়া দৃষ্টিতে মিডিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলল, দয়া করে আপনি এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিন।
আমি পারলে তা অবশ্যই দেব। আপনি স্বামীকে সত্যিই ভালবাসেন?
হ্যাঁ, তার সঙ্গে সম্পর্ক আমার ভালই ছিল।
তিনি এবার মহিলার মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সত্যিই ছেলেটিকে ভালবাস?
মেয়েটি বলল, হ্যাঁ, ছেলেটি ভাল। তার সাথে আমার সম্পর্ক ভালই আছে।
মিডিয়াম মেয়েটিকে বললেন, যদি তুমি তোমার অন্তর দিয়ে ঠিকমতো ভালবাসতে না পার তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়াই ভাল। এই ধরনের বিয়ের ফল ভাল হয় না। দুঃখ ছাড়া সুখ আসে না।
এবার মহিলা বলল, তাহলে তার ভবিষ্যৎ জীবনে দুঃখ আছে বলে মনে করেন?
না একটা ভাল সম্ভাবনাও আছে। তবে মেয়েটিকে সাবধানে থাকতে হবে।
মহিলা প্রশ্ন করল, ওর জীবনে অন্য কোনও ছেলের আবির্ভাব হবে?
যে কোনও মেয়ে বা পুরুষ জীবনে কোথাও না কোথাও তার সাথী খুঁজে পায়।
মহিলা বলল, তাহলে ও তার জীবনসাথী পাবে?
নিশ্চিয়ই পাবে।
এবার মহিলার মেয়েটি জিজ্ঞাসা করল, আমার জীবনে কি ঘর-সংসার হবে?
মিডিয়াম জোর দিয়ে বলল, শুধু তাই নয়। আরও অনেক কিছু হবে।
মেয়েটি বলল, কিন্তু টাকা? আমরা টাকা পাব তো? টাকার অভাবেই আমরা দুঃখ বোধ করছি। আমাদের এখন কিছু—
এমন সময় একটা আশ্চর্যজনক বাধা এসে উপস্থিত হলো। দরজাটা হঠাৎ খুলে গেল। আর মিসেস লিনডেন ব্যস্ত হয়ে এসে ঘরে ঢুকলেন। তাঁর মুখখানা ম্লান দেখাচ্ছিল এবং চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলজ্বল করছিল।
মিসেস লিনডেন বললেন, এরা নারীপুলিশ, টম। আমি এ বিষয়ে সাবধান বাণী পেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা যখন আসে তখন ওদের চিনতে পারিনি।
এই বলে মিসেস লিনডেন সেই মহিলা ও মেয়েকে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল, ভণ্ড প্রতারক কোথাকার। এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও এখনই। হায়, হায় আমি কি নির্বোধ। তোমরা কে তা চিনতে পারিনি।
মহিলা ও তার মেয়ে তখন চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। মহিলা মিসেস লিনডেনকে বলল, আপনার আসতে দেরী হয়ে গেছে মিসেস লিনডেন। আমরা টাকা দিয়ে দিয়েছি।
মিসেস লিনডেন বললেন, ও টাকা ফিরিয়ে নাও, টাকাটা টেবিলেই আছে।
মহিলা বলল, না, আমরা টাকা দিয়ে দিয়েছি। আমাদের যা জানার জেনে নিয়েছি। এ বিষয়ে আপনি পরে সবকিছু জানতে পারবেন, মি. লিনডেন।
তোমরা এভাবে এসে চরম প্রতারণা করেছ। উনি শুধু করুণার বশবর্তী হয়েই তোমাদের কথা শুনেছেন।
আমাদের ভর্ৎসনা করে কোনও লাভ নেই। আমরা শুধু আমাদের কর্তব্য পালন করেছি। দেশের আইনকে অবশ্যই কার্যকরী করতে হবে। আমরা এ বিষয়ে যা জেনেছি তা সব হেডকোয়ার্টারে জানাব।
মি. লিনডেন এই আঘাতে ভেঙে পড়লেন। নারী-পুলিশ দু’জন ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে সে তার ক্রন্দনরত স্ত্রীকে দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে যথাসাধ্য সান্ত্বনা দিতে লাগল।
মিসেস লিনডেন বললেন, পুলিশ অফিস থেকে আমাদের আগেই সতর্কবাণী পাঠিয়েছিল, কিন্তু আমরা তা শুনিনি। এই দ্বিতীয়বার আমরা ভুল করলাম। এর মানে তোমার সশ্রম কারাদণ্ড।
মি. লিনডেন দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, দুঃখ করো না প্রিয়তমা। আমরা যখন জানি আমরা কোনও অন্যায় করিনি। আমরা শুধু যথাশক্তি ঈশ্বর-নির্দিষ্ট কাজই করেছি। তখন যা কিছু হবে সব সহ্য করতে হবে আমাদের।
কিন্তু তোমার গাইড কোথায়? কেন তুমি এই অবস্থার মধ্যে পড়লে?
মি. লিনডেন মাথা নেড়ে বললেন, তুমি তো তখন ছিলে না। তুমি তো আমাকে সাবধান করে দিতে পারতে। তুমি জানো ডাক্তার যেমন নিজের রোগ নিজে সারাতে পারে না তেমনি মিডিয়াম এমন অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে যখন তার বাড়িতে অনেকে তাদের নানা সমস্যা নিয়ে আসে। এখানে আমি পরলোক থেকে কাউকে আহ্বান করতে পারি না বা কোনও বাণী শুনতে পাই না। আমি শুধু নির্বোধের মতো করুণাবশে অতিথিদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি। এখানেই হলো আইনের বাধা। যাইহোক যা হবার হয়ে গেছে। এখন সাহসের সঙ্গে সবকিছু সহ্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এমনও হতে পারে ওরা আমার বিরুদ্ধে কোনও মামলা করবে না, সবকিছু হয়তো শান্তিতে মিটে যাবে। তবে আশা হারালে চলবে না এবং ভালর আশাই করতে হবে।
এইসব সাহস এবং আশ্বাসের কথা মিডিয়াম নিজমুখে বলা সত্ত্বেও মিডিয়াম মি. লিনডেন এই ঘটনার আঘাতে কাঁপছিলেন। তিনি নিজের মনকে শক্ত করতে পারছিলেন না কিছুতেই। মিসেস লিনডেন তাঁর কাঁধের উপর হাত রেখে তার মধ্যে দৃঢ়তা আনার চেষ্টা করছেন। তাদের বাড়ির কাজের মেয়ে সুসনি এই ঘটনার কিছুই জানত না। এই সময়—সে একজন নতুন অতিথিকে ঘরের মধ্যে নিয়ে এল। সে অতিথি হলো এড্ওয়ার্ড ম্যালন।
ম্যালনকে দেখে মিসেস লিনডেন বললেন, মিডিয়াম আজ অসুস্থ। আজ সকালে তিনি কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবে না।
কিন্তু লিনডেন অতিথিকে দেখেই চিনতে পারলেন।
মি. লিনডেন এবার স্ত্রীকে তার পরিচয় দিয়ে বললেন, ইনি হচ্ছেন ডেইলি গেজেট-এর মি. ম্যালন। গত রাতে আমাদের প্রেতচর্চার আসরে ইনি উপস্থিত ছিলেন। এই বলে তিনি ম্যালনের দিকে তাকিয়ে বললেন, গতকাল অধিবেশনটা ভালই হয়েছিল। তাই নয় কি?
ম্যালন উত্তর করল, চমৎকার। কিন্তু আজকে এসব কি ঘটল?
স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দুঃখ প্রকাশ করলেন।
ম্যালন তখন বিতৃষ্ণার সঙ্গে বলল, কী নোংরা কাজ। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত যে, আইন বলবৎ আছে। জনসাধারণ তা জানে না। জানলে গোলমাল করবে। এ বিষয়ে এই উত্তেজনাজনক পুলিশী হস্তক্ষেপ ব্রিটিশ ন্যায়বিচারের বিরোধী। সে যাই হোক মি. লিনডেন আপনি হচ্ছেন একজন প্রকৃত ও সৎ মিডিয়াম। মিথ্যাচারী ও ভণ্ড মিডিয়ামদের দমন করার জন্য আইনটা করা হয়েছে।
মি. লিনডেন আক্ষেপ করে বললেন, ব্রিটিশ আইনে প্রকৃত মিডিয়াম হওয়ার কোনও অবকাশ নেই। মিডিয়াম হিসাবে আপনি যত বেশি প্রকৃত সততার সঙ্গে কাজ করবেন ততই আপনার অপরাধ বাড়বে। মিডিয়াম টাকা নিলেই আইনত দোষী হবে। কিন্তু টাকা না নিলে মিডিয়াম বাঁচবে কেমন করে। এই কাজে সমস্ত শক্তি নিয়োগ করতে হয়। দিনরাত তাকে এই নিয়ে চিন্তা করতে হয়। আপনি সারাদিন কাঠের মিস্ত্রীর কাজ করে রাত্রিতে মিডিয়ামের কাজ ভাল করে করতে পারেন না।
কী নিষ্ঠুর আইন। বোঝা যাচ্ছে, এই আইন মানুষের পরলোকগত আত্মাদের বাস্তব প্রকাশের পথ বন্ধ করে দিতে চাইছে।
হ্যাঁ, ব্যাপারটা তাই। শয়তান আইন পাশ করলে এমন আইনই হয়। জনগণের স্বার্থরক্ষার জন্য আইন পাশ করা হয়েছে। অথচ জনগণের কেউ এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ করেনি। এ সব হচ্ছে পুলিশের কারসাজি অথচ পুলিশও জানে যে চার্চের চ্যারিটি গার্ডেনগুলোতে পরলোকের বাণী শোনার ও ভাগ্যগণনা কাজের লোকের অভাব নেই।
মি. লিনডেন বললেন, ব্যাপারটা ভয়ঙ্কর, এখন কি হবে সেটাই হচ্ছে কথা।
ম্যালন বলল, আমার মনে হয় প্রথমে একটা শমন আসবে। তারপর কোর্টে মামলা রুজু হবে। তারপর বিচারে হয় জরিমানা নাহয় জেলের হুকুম হবে।
মি. লিনডেন বললেন, একবার ওরা আমাকে সতর্ক করে দিয়েছিল, এটা দ্বিতীয়বার।
ম্যালন আশ্বাস দিয়ে বলল, আপনার বন্ধুরা আপনার হয়ে সাক্ষ্য দেবে এবং আমরা আপনার পক্ষে সওয়াল করার জন্য একজন ভাল লোককে নিযুক্ত করব।
লিনডেন কিছুটা অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে কান দুটো নাড়ালেন। তারপর আক্ষেপের সঙ্গে বললেন, আপনার প্রকৃত বন্ধুকে তো আপনি চিনতেই পারবেন না। বিপদের সময় তারা জলের মতোই হাতের মুঠো থেকে চলে যান।
ম্যালন দৃঢ়তার সঙ্গে বলল, আমি কিন্তু সেরকম বন্ধু নই। কি ঘটছে না ঘটছে সে বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। তবে আজ আমি এসেছি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করার জন্য।
লিনডেন বললেন, কিন্তু আমি দুঃখিত। আজ এখন কথা বলার সামর্থ্য আমার নেই।
ম্যালন বলল, না না, পরলোকের কোনও কথা নয়। আমি শুধু আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি কোনও সংশয়বাদী অবিশ্বাসী ব্যক্তিরা উপস্থিতি আপনার বা মিডিয়ামের কি বিঘ্ন ঘটাতে পারে?
না, বিঘ্ন ঠিক করতে পারে না, তবে আমাদের কাজকে কঠিন করে তোলে। যদি তারা শান্তভাবে থাকে এবং যুক্তিসঙ্গত আচরণ করে তাহলে আমরা আমাদের কাজের ফল ঠিক পাই। কিন্তু তারা কোনও নিয়মকানুন জানে না। তারা আসরটা পণ্ড করে দিতে চায়। আগে একদিন বয়ঃপ্রবীণ ডাক্তার শারব্যাঙ্ক একটা কাজ করে বসেছিলেন। সেদিন হঠাৎ টেবিলের উপর একটা ঠোকরানোর শব্দ হয়। কি একটা বস্তু টেবিলটাকে ঠোকরাতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে মি. শারব্যাঙ্ক লাফিয়ে উঠে পিছন দিকে দেওয়ালে হাত রাখলেন। তারপর বললেন, ‘এবার তাহলে আমার তালুতে ঠোকারাও দেখি পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে।’ কিন্তু কোন ঠোকরানি না পেয়ে তিনি বললেন, ‘যত সব বাজে লোকের মিথ্যাচার।” এই বলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। সব কিছুরই একটা নিয়মকানুন আছে। কিন্তু ওই সব অবিশ্বাসী সংশয়বাদী লোকেরা কোনও নিয়ম মেনে চলবে না। এ বিষয়ে বা অন্য যে কোনও বিষয়ে বিধিবদ্ধ কোনও নিয়মকানুন ওরা মানতে চায় না।
ম্যালন বলল, এ কথা আমি স্বীকার করে নিচ্ছি। তবে আমি যে লোকের কথা ভাবছিলাম তিনিও শারব্যাঙ্কের মতো কথায় ও কাজে যুক্তিহীনতার পরিচয় দেন না। আমি যার কথা বলছি তিনি হচ্ছেন খ্যাতনামা অধ্যাপক চ্যালেঞ্জার।
শুনেছি তিনি নাকি খুব নাম করা লোক। ম্যালন জিজ্ঞাসা করল তাকে কি একবার আপনার সঙ্গে বসতে দেবেন?
যদি আপনি ইচ্ছা করেন তাহলে অবশ্যই দেব।
ম্যালন বলল, তিনি কিন্তু আপনার বাড়িতে বা আপনার মনোনীতি কোনও জায়গায় আসবেন না। তিনি ভাবেন সবাই আজেবাজে কথা বলে অযথা তাঁকে বিরক্ত করার চেষ্টা করে। আপনাকেই তাঁর দেশের বাড়িতে যেতে হবে।
তিনি যদি চান তাহলে আমি যেতে অসম্মত হব না।
তাহলে কখন যাবেন?
মি. লিনডেন বললেন, কিন্তু এই ভয়ঙ্কর ব্যাপারটা মিটে না যাওয়া পর্যন্ত আমি কিছু করতে পারব না। এটা মিটতে মনে হয় একমাস দু’মাস সময় লাগবে।
ম্যালন বলল, ঠিক আছে, আমি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলব। এ ব্যাপারটা মিটে গেলে এই সব ঘটনার কথা আমি তাকে জানাব এবং এ নিয়ে আপনার সঙ্গে আলোচনা করব। ইতিমধ্যে আপনি বলুন কীভাবে আমরা সহানুভূতি প্রকাশ করে এরকম হিতৈষী বন্ধুদের নিয়ে একটা কমিটি করব। যা করা অবশ্যই দরকার।
