ঋগ্বেদ ০৯।০৮২

ঋগ্বেদ ০৯।০৮২
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৯ম মণ্ডল সূক্ত ৮২
ঋষি ও দেবতা পূর্ববৎ।

১। লোহিতবর্ণ সোমরসকে নিষ্পীড়নের দ্বারা প্রস্তুত করা হইল। তিনি মনোবাঞ্ছা পুরণকারী। তিনি রাজার ন্যায় উজ্জ্বল ও সুশ্রী। তিনি জলের সহিত মিশ্রিত হইয়া শব্দ করিতেছেন, তিনি শোধিত হইবার জন্য মেষলোমে মিলিত হইতেছেন, তিনি শ্যেনপক্ষীর ন্যায় ঘৃতযুক্ত আপন স্থানে উপবেশন করিতেছেন।

২। হে সুপণ্ডিত! তুমি যজ্ঞানুষ্ঠানের ইচ্ছাতে কলসের দিকে যাইতেছ। স্নান করাইলে ঘোটক যেমন যুদ্ধে যায়, তদ্রুপ তুমি যাইতেছ। হে সোমরস! তুমি আমাদিগের অনিষ্ট নষ্ট করিয়া আমাদিগকে সুখী কর, তুমি ঘৃতের দ্বারা আচ্ছাদিত হইয়া নিৰ্ম্মল ঔজ্জ্বল্য ধারণ কর।

৩। পর্জন্য মহান্ সোমের পিতা(১), সেই পত্রলতাদিবিশিষ্ট সোম পৃথিবীর মধ্যস্থানস্বরূপ পর্বতের উপর বাস করেন। অঙ্গুলিবর্গ জলের নিকট দুগ্ধ ক্ষীর ইত্যাদি লইয়া গেল। তিনি সুন্দর যজ্ঞ মধ্যে প্রস্তরের সহিত মিলিত হইতেছেন।

৪। হে পৃথিবীর সন্তান সোম! তোমাকে আর অধিক কি বলিব। স্ত্রী যেমন আপন স্বামীর অশেষ সুখ বিধান করে, তদ্রুপ তুমি আমাদিগের সুখ বিধান করিয়া থাক। আমাদিগের গুণ কীর্তন শ্রবণ করিতে করিতে তুমি দর্শন দাও, তাহাতেই আমাদের জীবনের মঙ্গল। তুমি সর্বগুণে গুণান্বিত। আমাদিগের বিপদের সময় আমাদিগের উপর প্রহরীর কাৰ্য্য কর।

৫। হে দুর্ধর্ষ সোম! যেরূপ তুমি আমাদিগের পূর্বপুরুষদিগের সময়ে করিয়াছিলে, তদ্রুপ এক্ষণে আমাদিগের এই নূতন পুণ্যকর্মের সময় প্রবল হও এবং ক্ষরিত হও; তুমি মনে করিলে শতশত সংখ্যায় সহস্র সহস্র দান করিতে পার। এই সকল জল তোমার সেবা করিবার জন্য তোমার সহিত মিলিত হইতেছে।

————

(১) এই স্থানে এবং ৯।১১৩।৩ ঋকে পর্জন্যকে সোমের পিতা বলিয়া অভিহিত হইয়াছে। পর্জন্য বৃষ্টির দেবতা, বৃষ্টিদ্বারা সোমলতা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।