ঋগ্বেদ ০৩।২৬

২৬ সুক্ত ।।

অনুবাদঃ
১। আমরা কুশিক গোত্রোৎপন্ন, আমরা ধনাভিলাষে হব্য সংগ্রহ করে মনে মনে বৈশ্বানর নামক অগ্নি অবগত হয়ে স্তুতিদ্বারা তাকে আহ্বান করছি। তিনি সত্য দ্বারা অনুগত, স্বর্গের বিষয় জানেন ও যজ্ঞের ফলদান করেন; তার রথ আছে, তিনি যজ্ঞে আসছেন।
২। আমরা আশ্রয় প্রাপ্তির জন্য এবং যজমানের যজ্ঞের জন্য সেই শুভ্র, বৈশ্বানর, মাতরিশ্বা (১), উকথযোগ্য, যজ্ঞপতি, মেধাবী, শ্রোতা, অতিথি ও ক্ষিপ্রগামী অগ্নিকে আহ্বান করি।
৩। হেবারবকারী অশ্বশাবক যেমন জননী কর্তৃক বর্ধিত হয় সেরূপ বৈশ্বানর প্রতিদিন কৌশিকগণ কর্তৃক বর্ধিত হচ্ছেন। অমরগণের মধ্যে জাগরুক অগ্নি আমাদের উত্তম অশ্ব, উত্তম বীর্য ও উত্তম ধন প্রদান করুন।
৪। অগ্নিরূপ অশ্ব সকল গমন করুন, বলবান মরুৎগণের সাথে জলে মিলিত হয়ে পৃষতী নামক বাহনদের সংযুক্ত করুন। সর্বজ্ঞ, অহিংসনীয় মরুৎগণ, প্রভূত জলশালী পর্বত সদৃশ মেঘকে কম্পিত করছেন।
৫। মরুৎগণ অগ্নির আশ্রিত ও জগতের আকর্ষক, সে মরুৎগণের দীপ্ত এবং উগ্র আশ্রয় আমরা সম্যকরূপে যাচঞ্চা করি। বর্ষণরূপধারী হ্রেষারবকারী, ও সিংসের ন্যায় শব্দকারী রূদ্রপুত্র মরুৎগণ বিশেষরূপে জল দান করেন।
৬। আমরা দলে দলে এং গশে গণে স্তুতিমন্ত্র দ্বারা অগ্নির তেজ ও মরুতে বল যাচঞ্চা করি। বিন্দুচিহ্নিত বাহনবিশিষ্ট (২), অক্ষয় ধনযুক্ত ধীর মরুৎগণ যজ্ঞে হব্যের উদ্দেশে গমন করতেন।
৭। আমি অগ্নি, জন্ম হতেই জাতবেদা, ঘৃত আমার চক্ষু, অমৃত আমার মুখে আছে, আমার প্রাণ ত্রিবিধ, আমি অন্তীরক্ষের পরিমাণকারী, আমি অক্ষয় উত্তাপ, আমি হব্যস্বরূপ।
৮। অগ্নি অন্ত:করণ দ্বারা মনোহর জ্যোতি বিশেষরূপে বিগত হয়ে তিন পবিত্র রূপদ্বারা (৩) অর্চনীয় আত্মাকে পবিত্র করেছেন। অগ্নি স্বীয় রূপ সমূহদ্বারা উৎকৃষ্ট রত্ন করেছিলেন এবং পরক্ষণেই দ্যাবাপৃথিবীকে অবলোকন করেছিলেন।
৯। শতধারা উঃসের ন্যায় অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ বিশিষ্ট এবং বিপশ্চিৎ পালক, বাক্যের মেলক ও পিতামাতার ক্রোড়ে হর্ষযুক্ত এবং সত্যবাদীকে, হে দ্যাবাপৃথিবী! তোমরা পূর্ণ কর (৪)।

টীকাঃ
১। অন্তরীক্ষরূপ মাতৃক্রোড়ে বিদ্যুৎরূপে গমনাগমন করেন বলে অগ্নির আর একটি নাম মাতরিশ্বা। সায়ণ। ১।৬০।১ ঋকের দ্বিতীয় টীকা দেখুন।
২। মরুৎগণের বাহনের নামই পুষতী তা পূর্বে বলা হয়েছে।
৩। পবিত্রৈস্ত্রিভি: অগ্নিবায়ূসূর্যে:। সায়ণ।
৪। উৎসের ন্যায় প্রবাহ বিশিষ্ট, পিতা মাতার ক্রোড়স্থ, সত্যবাদীকে? পাঠক সুক্তের গোড়ায় দেখবেন বিশ্বমিত্রের উপাধ্যায়ই এ ঋকের দেবতা। কিন্তু বেদার্থ যত্ন অগ্নিকে এ ঋকের দেবতা বলে স্থির করেছেন।

HYMN XXVI. Agni.

1. REVERING in our heart Agni Vaiśvānara, the finder of the light, whose promises are true,
The liberal, gladsome, car-borne God we Kuśikas invoke him with oblation, seeking wealth with songs.
2 That Agni, bright, Vaiśvānara, we invoke for help, and Mātariśvan worthy of the song of praise;
Bṛhaspati for man’s observance of the Gods, the Singer prompt to hear, the swiftly-moving guest.
3 Age after age Vaiśvānara, neighing like a horse, is kindled with the women by the Kuśikas.
May Agni, he who wakes among Immortal Gods, grant us heroic strength and wealth in noble steeds.
4 Let them go forth, the strong, as flames of fire with might. Gathered for victory they have yoked their spotted deer.
Pourers of floods, the Maruts, Masters of all wealth, they who can ne’er be conquered, make the mountains shake.
5 The Maruts, Friends of men, are glorious as the fire: their mighty and resplendent succour we implore.
Those storming Sons of Rudra clothed in robes of rain, boon-givers of good gifts, roar as the lions roar.
6 We, band on band and troop following troop, entreat with fair lauds Agni’s splendour and the Maruts’ might,
With spotted deer for steeds, with wealth that never fails, they, wise Ones, come to sacrifice at our gatherings.
7 Agni am I who know, by birth, all creatures. Mine eye is butter, in my mouth is nectar.
I am light threefold, measurer of the region exhaustless heat am I, named burnt-oblation.
8 Bearing in mind a thought with light accordant, he purified the Sun with three refinings;
By his own nature gained the highest treasure, and looked abroad over the earth and heaven.
9 The Spring that fails not with a hundred streamlets, Father inspired of prayers that men should utter,
The Sparkler, joyous in his Parents’ bosorn, -him, the Truth-speaker, sate ye, Earth and Heaven.

Rig Veda Book 3 Hymn 26
वैश्वानरं मनसाग्निं निचाय्या हविष्मन्तो अनुषत्यं सवर्विदम |
सुदानुं देवं रथिरं वसूयवो गीर्भी रण्वंकुशिकासो हवामहे ||
तं शुभ्रमग्निमवसे हवामहे वैश्वानरं मातरिश्वानमुक्थ्यम |
बर्हस्पतिं मनुषो देवतातये विप्रं शरोतारमतिथिं रघुष्यदम ||
अश्वो न करन्दञ जनिभिः समिध्यते वैश्वानरः कुशिकेभिर्युगे-युगे |
स नो अग्निः सुवीर्यं सवश्व्यं दधातु रत्नमम्र्तेषु जाग्र्विः ||
पर यन्तु वाजास्तविषीभिरग्नयः शुभे सम्मिष्लाः पर्षतीरयुक्षत |
बर्हदुक्षो मरुतो विश्ववेदसः पर वेपयन्तिपर्वतानदाभ्याः ||
अग्निश्रियो मरुतो विश्वक्र्ष्टय आ तवेषमुग्रमव ईमहे वयम |
ते सवानिनो रुद्रिया वर्षनिर्णिजः सिंहा न हेषक्रतवः सुदानवः ||
वरातं-वरातं गणं-गणं सुशस्तिभिरग्नेर्भामं मरुतामोज ईमहे |
पर्षदश्वासो अनवभ्रराधसो गन्तारो यज्ञं विदथेषु धीराः ||
अग्निरस्मि जन्मना जातवेदा घर्तं मे चक्षुरम्र्तं म आसन |
अर्कस्त्रिधातू रजसो विमानो.अजस्रो घर्मो हविरस्मि नाम ||
तरिभिः पवित्रैरपुपोद धयर्कं हर्दा मतिं जयोतिरनु परजानन |
वर्षिष्ठं रत्नमक्र्त सवधाभिरादिद दयावाप्र्थिवी पर्यपश्यत ||
शतधारमुत्समक्षीयमाणं विपश्चितं पितरं वक्त्वानाम |
मेळिं मदन्तं पित्रोरुपस्थे तं रोदसी पिप्र्तं सत्यवाचम ||

vaiśvānaraṃ manasāghniṃ nicāyyā haviṣmanto anuṣatyaṃ svarvidam |
sudānuṃ devaṃ rathiraṃ vasūyavo ghīrbhī raṇvaṃkuśikāso havāmahe ||
taṃ śubhramaghnimavase havāmahe vaiśvānaraṃ mātariśvānamukthyam |
bṛhaspatiṃ manuṣo devatātaye vipraṃ śrotāramatithiṃ raghuṣyadam ||
aśvo na krandañ janibhiḥ samidhyate vaiśvānaraḥ kuśikebhiryughe-yughe |
sa no aghniḥ suvīryaṃ svaśvyaṃ dadhātu ratnamamṛteṣu jāghṛviḥ ||
pra yantu vājāstaviṣībhiraghnayaḥ śubhe sammiṣlāḥ pṛṣatīrayukṣata |
bṛhadukṣo maruto viśvavedasaḥ pra vepayantiparvatānadābhyāḥ ||
aghniśriyo maruto viśvakṛṣṭaya ā tveṣamughramava īmahe vayam |
te svānino rudriyā varṣanirṇijaḥ siṃhā na heṣakratavaḥ sudānavaḥ ||
vrātaṃ-vrātaṃ ghaṇaṃ-ghaṇaṃ suśastibhiraghnerbhāmaṃ marutāmoja īmahe |
pṛṣadaśvāso anavabhrarādhaso ghantāro yajñaṃ vidatheṣu dhīrāḥ ||
aghnirasmi janmanā jātavedā ghṛtaṃ me cakṣuramṛtaṃ ma āsan |
arkastridhātū rajaso vimāno.ajasro gharmo havirasmi nāma ||
tribhiḥ pavitrairapupod dhyarkaṃ hṛdā matiṃ jyotiranu prajānan |
varṣiṣṭhaṃ ratnamakṛta svadhābhirādid dyāvāpṛthivī paryapaśyat ||
śatadhāramutsamakṣīyamāṇaṃ vipaścitaṃ pitaraṃ vaktvānām |
meḷiṃ madantaṃ pitrorupasthe taṃ rodasī pipṛtaṃ satyavācam ||