শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
SIMULGACHA JAIGA SUBIDHER NA
by Nirban Ray
প্রকাশকাল – বইমেলা, ২০২৬
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য
.
ফ্ল্যাপের লেখা
না, শিমুলগাছা খুব একটা সুবিধের জায়গা না। ওপর ওপর দেখে আর পাঁচটা ক্ষয়াটে মফস্বলের মত মনে হলেও এ কথা আমি হলফ করে বলতে পারি যে জায়গা হিসেবে শিমুলগাছা মোটে ভালো না।
হ্যাঁ, তিনদিন ঘেরা একটা চওড়া নদী আছে, নদীর চড়ায় চড়ুইভাতি আছে, লাল ইটের দেওয়াল-সবুজ মাধবীলতা আর পগেয়া চিমনিওয়ালা ভারী চমৎকার দেখতে সাহেবী বাংলো আছে, সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হলের বাইরে এখনও লম্বা লাইন আছে, পাশে এগরোলটা-চাউমিনটার দোকানও আছে।
চ্যাঙ্কা ছেলেপুলেরা ইস্কুল যায়, মাঝেমধ্যে ইস্কুল কেটে দক্ষিণের মাঠে ফুটবল পেটায়, কোচিং শেষে সাঁইসাঁই করে সাইকেল ফাটায়।
তবুও আমি বলব মশাই শিমুলগাছা জায়গা মোটে ভালো না। সূর্য ডোবার পর দক্ষিণের জঙ্গলে এমন কিছু দেখা ও শোনা যায়, যা দেখতে বা শুনতে না পাওয়াই ভালো। পরিত্যক্ত রেল কলোনি আর ভুলে যাওয়া সাহেবপাড়ায় ওঁৎ পাতে অন্ধকার। শহরের নীচে প্রকান্ড নর্দমার গোলকধাঁধায় কারা যেন শিকার খোঁজে…..
শিমুলগাছা শুধু তার রহস্যদের আড়ালে আবডালে খাঁজেভাঁজে লুকিয়েই রাখে না, কখন প্রকাশ্যে এনে সবার দাঁত কপাটি লাগিয়ে দিতে হয় তা ভালো করেই জানে। এখানে চলতে গেলে তেড়ে হিসেব নিকেশ কষে নিয়ে পা ফেলাই ভালো। পিকু, বৃষ্টি, তেভূয়া আর ওদের বন্ধুরাও তো তাইই করে। তবু মাঝেমধ্যে হিসেব ঘেঁটে যায়, দক্ষিণের জঙ্গল থেকে দমকা বাতাস এসে এলোমেলো করে দেয় সব কিছু।
.
নির্বাণ রায় জীবনে কোন পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়নি। বৃত্তি পায়নি। চকমকে কলেজে চান্স পায়নি। সরকারি চাকরি পায়নি। তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতন ব্যবসাপাতিও করে উঠতে পারেনি।
ইস্কুলে পড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে নির্বাণ প্যান্ট গুটিয়ে নেমে পড়ে কাদামাঠে। ল্যাঙ খেয়ে হড়কে পড়ে। বৃষ্টি ভেজে। ঝাঁপ কাটে পুকুরে। ছোট শহরের গেঁয়ো ছাত্রদের বাইকে চড়িয়ে নির্বাণ পাড়ি দেয় আলপথ, ভেড়ির ধার, চড়কতলা, শ্মশান। তাদের সাথে মাঠের ধারে তেরপল খাটিয়ে মাংস-ভাতের ফিস্টি করে নির্বাণ। ওদের টিনটিন চেনায়, অ্যাসটেরিক্স চেনায়। ফোন কেড়ে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দেয় “টেনিদা”, “অদ্ভুতুড়ে সিরিজ” কিংবা “হলদে পাখির পালক।”ওদের স্টিফেন কিং চেনায়। ইংরিজি সাহিত্য পড়ায়, পড়াতে পড়াতে সন্ধে ঘনায়, শুরু হয় ইলশেগুঁড়ি, লোডশেডিং এর “গেলো গেলো” যখন থিতিয়ে আসে, হারিকেনের সলতেটা খানিক উস্কে দিয়ে নির্বাণ তখন গল্প বলে।
নির্বাণ সূর্য ডোবার পরের গল্প বলে।



Leave a Reply