।। বৃষ্টিও পিকুকে ভালোবাসে না ।।
শিমুলগাছার শীতের বিকেলগুলো বড়ো সুন্দর। পশ্চিমের আকাশটায় ঘন কমলালেবু রং ধরেছে। কোথায় একটা পাখি ডাকছে। বড়ো মন কেমন করা ডাক। জ্যাকেটের হাতায় চোখের জল মুছল সিমেন্টের পাইপের ওপর বসা পিকু।
মাঠে ফুটবল খেলছে বাগদি পাড়ার হারাধনরা। সামনেই ঘাসের ওপর কাত করে রাখা পিকুর সাইকেল। ছোট্ট একটা লাল পাখি এসে বসল সামনের একটা আম গাছটায়। পিকু গাছ চেনে। বাবার রয়্যাল এনফিল্ডে চেপে শনি-রবিবার কলকাতার আশেপাশের গ্রামে-মফস্সলে পাড়ি দিত পিকু। বাবা তাকে গাছ চেনাত, পাখি চেনাত। যদিও পাখিটা কী তা বুঝতে পারল না পিকু।
বৃষ্টি একটা ঢলঢলে গেঞ্জির ওপর হাফ সোয়েটার পরে আছে। এগুলো বৃষ্টির বাবার। ওর বাবা চলে যেতে তার জামা-সোয়েটার সব বৃষ্টিই পরে।
বৃষ্টির মা সেলাই করে সংসার চালায়। নতুন কিনে দিতে পারে না। আজ বৃষ্টি লম্বা চুলে খোঁপা করেছে। ফরসা কপালে ছোট্ট টিপ।
“সেদিন রাত্তিরেই প্রথম তাকে দেখলাম আমি। তারপর থেকে সে আর আমার পিছু ছাড়েনি।”
পিকুর গলা কাঁপছে।
বৃষ্টি নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, “তুই ভুল দেখছিস না তো পিকু?”
“না, আমি ভুল দেখছি না বৃষ্টি।”
“প্রথম রাত্তিরে আমি তাকে দেখেছিলাম জানলার বাইরে। ভেবেছিলাম কাচের জানলায় আমারই ছায়া বোধহয়। তারপর আমি নড়লাম, ছায়াটা স্থিরই রইল। সাহস করে জানলাটা খুলতেই দেখি সেই মুখ। সেই সাদা ফ্যাটফ্যাটে চোখ। সেই হাসি। আমি চিৎকার করে উঠতে মা ছুটে এসেছিল। মা এসে দেখে কোত্থাও কেউ নেই। মা আমাকে বোঝাল, পিকু দোতলার জানলার বাইরে কীভাবে কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? একতলা হলেও না হয় বুঝতাম। আমাকে পাগল ভাবছে মা
সেদিন দুপুরের পর ছাদে উঠেছি রোদে দেওয়া বালিশ টালিশ তুলতে। দেরি হয়ে গিয়েছিল। ঘুসঘুসে অন্ধকার নামছিল বাগানে। বালিশগুলো পাঁজা করে নিয়ে ছাদের দরজার দিকে পা বাড়িয়েছি অমনি শুনি হাসির শব্দ… ছাদের গা ঘেঁষে একটা কাঁঠাল গাছের পাতার আড়াল থেকে চেয়ে আছে সে আমার দিকে। প্রাণপণে হাসি চাপছে। তারপর থেকেই আমি আর একা ঘরে থাকতে পারছি না। হয় জানলায় উঁকি মারছে, নয়তো খাটের তলায় খড়মড় করে নখ দিয়ে আঁচড় কাটছে। আমি রাত্তিরবেলা এখন মায়ের ঘরেই শুচ্ছি।
“তারপর তারপর…”
“পিকু, শোন…
“না! তুই শোন। গতকাল রাতে কী হয়েছে শোন। মা আনাজ কাটছিল কিচেনে। আমি ড্রয়িং রুমের সোফায় ঢুলে পড়েছি কখন জানি না। হঠাৎ একটা বোঁটকা গন্ধে ঘুম ভেঙে গেল। কাঁচা মাছের গন্ধ যেমন হয়, তেমনটা, কিন্তু আরও জোরালো… আমি চোখ খুলে দেখি সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার মণিছাড়া চোখদু’টো ঠিক আমার চোখের ওপর। তার হাঁ মুখ দিয়ে নাল গড়াচ্ছে।”
বৃষ্টি মুখে হাত চাপা দিল, “তারপর?”
“আমি নড়তে পারিনি। আমার গলা গিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছিল না। কতক্ষণ ওভাবে ছিলাম জানি না। হঠাৎ মনে হল অনেক অনেক দূর থেকে মায়ের গলা ভেসে আসছে। মা ডাকছে, পিকু, খাবি না? পিকু? ভাত হয়ে গেছে। আমি অবাক হয়ে দেখি কোথায় সে? কেউ নেই। সব ফাঁকা। মা আমার গায়ে ঠেলা দিয়ে দিয়ে ডাকছে। কিন্তু বিশ্বাস কর, আমি স্বপ্ন দেখিনি। এটা স্বপ্ন হতে পারে না। আসল, বড্ড আসল…”
“মা’কে বলেছিস পিকু?”
“মা আমার কথা বিশ্বাস করছে না। ভাবছে বানিয়ে বলছি, হয়তো বা পাগল হয়ে গেছি। আর ঘটনাগুলো এমনই যে কেউই বিশ্বাস করবে না।”
পিকুর পিঠে একটা হাত রেখে বৃষ্টি বলল, “আমি তো তোকে বিশ্বাস করি।”
পিকুর চোখের কোণে জল।
“আমি নীলে মামার লেখাগুলো পড়েছি। বিভিন্ন বইতে, ছবির পেছনে, কাগজের টুকরোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক কিছু লিখে রেখে গেছে মামা। বৃষ্টি, জানিস? সেদিন রাত্তিরে, যখন আমি জলায় ডুবে যাচ্ছিলাম, তখন একটা কথা অন্ধকারে বারবার ভেসে ভেসে উঠছিল। কে যেন মন্ত্রের মতো ক্রমাগত বলছিল— শোক তাকে পথ দেখায়। একাকিত্ব শক্তি দেয় । বিচ্ছেদ তাকে শরীর দেয়। ভয় দেয় পুষ্টি…
ঠিক এই কথাগুলোই নীলে মামা একটা বইয়ের পেছনেও লিখে রেখে গেছে। এগুলো নাকি মামাও শুনতে পেত…”
বৃষ্টি ভুরু কুঁচকে বলল, “তুই ঠিক শুনেছিস পিকু?”
“হ্যাঁ, কেন?”
“আমার বাবার লাইব্রেরিতে এক বুড়ো ডাক্তার আসতেন। ভটচায ডাক্তার। বয়সের গাছপাথর নেই— পাগলাটে লোক। ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু লোকে সম্মান করত। এক কোণে বসে বই পড়তেন আর নিজের মনে বিড়বিড় করতেন। কারও মুখোমুখি হলেই সাবধান করার ভঙ্গিতে বলতেন— শোক তাকে পথ দেখায়। একাকিত্ব শক্তি দেয়। বিচ্ছেদ তাকে শরীর দেয়। ভয় দেয় পুষ্টি…”
আমি অনেকবার শুনেছি। মনে আছে আমার।”
পিকু উত্তেজিত হয়ে বলল, “আরে ওই ভটচায ডাক্তারই তো নীলে মামার ট্রিটমেন্ট করছিলেন। ওঁর ট্রিটমেন্ট চলাকালীনই তো মামা উধাও হয়ে যায়।”
বৃষ্টি গম্ভীরমুখে বলল, “পিকু, তোকে সাবধানে থাকতে হবে খুব। সত্যিই ব্যাপারগুলো উড়িয়ে দেওয়ার মতো না। আমার বাবা বলতেন, শিমুলগাছায় এমন অনেক কিছু ঘটে যার কোনো ব্যাখ্যা নেই। যেমন জলার প্রেত, যে তোকে ডেকেছিল…”
“মানে?”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বৃষ্টি বলল, “ওই যে বুড়োটা। যাকে তুই ট্রেনে দেখেছিলি। সেদিন রাতেও যে তোকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল ওই আলমারির কাছে। তাকে এখানের অনেকেই দেখেছে। শিমুলগাছায় যখনই কারও সঙ্গে কিছু খারাপ ঘটে তার আগে ওই বুড়োটাকে দেখতে পাওয়া যায়। লোকে বলে, সে নাকি ছিল ওই সাহেবের… মানে যে সাহেবের গল্প বুড়োটা তোকে ট্রেনে শুনিয়েছিল… তার নায়েব— প্রচণ্ড ধূর্ত আর নৃশংস মানুষ। যে রাতে সাহেব আর তার বউকে ওই আলমারির পিশাচ গিলে খায়, তখন এই বুড়ো পালাতে গিয়ে নাকি জলার পাঁকে ডুবে মরে। সে নাকি এখনও ফিরে আসে। ভুলিয়ে ভালিয়ে মানুষকে বিপদের কাছে টেনে নিয়ে যায়। মানে লোকে এমনটাই বলে থাকে আর কী… আমার মনে হয় পিকু তোর কলকাতায় ফিরে যাওয়া উচিত। আমি কথা বলব টুপুর মাসির সঙ্গে?”
একটা শুকনো হাসি হেসে পিকু বলল, “না রে, আমার মা এসবে বিশ্বাস করবে না। নিজের ছেলেকেই যে বিশ্বাস করে না… আর ওই শালা অনুপম… জ্ঞানের ফুলঝুরি। জগৎ সংসারে সবাই ভুল, ও একাই সব জানে। শোক তাকে পথ দেখায়। একাকিত্ব শক্তি দেয়। বিচ্ছেদ তাকে শরীর দেয়। ভয় দেয় পুষ্টি… হুঁহ!
আমার বাবা-মা’ই আমাকে ত্যাগ করেছে রে। আমার ভবিতব্য ওই আলমারির পিশাচের শিকার হওয়া… আমার সঙ্গে কেউ নেই। কেউ থাকে না…”
“আমি আছি পিকু। আমি তোর সঙ্গেই আছি। কিন্তু তোকেও সাহস হারালে চলবে না। সবসময় তো আমি আর থাকতে পারব না… তোকে নিজেকেও তো লড়বে হবে…”
“কেন? সবসময় থাকবি না কেন?”
বৃষ্টি নিরুত্তর।
পিকুর গলা কেঁপে যায়, “সবাই আমার লাইফ থেকে চলে যায় কেন বৃষ্টি? আগে আমরা কত ভালো ছিলাম। কত আনন্দে ছিলাম। বাবা যবে থেকে চাকরি ছেড়ে বলল ব্যবসা করবে, তবে থেকে শুরু হল বাবা-মায়ের অশান্তি। রোজের খিটিমিটি। রোজের ঝামেলা। তারপর বাবার ব্যবসাটা চলল না জানিস? কারখানাটা বন্ধ হয়ে গেল। বাবা ড্রিঙ্ক করতে শুরু করল। রোজ রাতে অশান্তি, চিৎকার, ভাঙচুর। আমি ঘুমোতে পারতাম না, পড়তে পারতাম না। শুধু কাঁদতাম। হাত জোড় করে বলতাম, প্লিজ থামো তোমরা। কোনো দিন বাবা, কোনো দিন মা রাতের বেলায় দরজা খুলে বেরিয়ে যেতে চাইত। আমি ছুটে গিয়ে পা জড়িয়ে ধরতাম। কাঁদতাম। তাও ওরা থামত না। তারপর মা শিমুলগাছায় চাকরিটা পেল। আরও ভয়ঙ্কর অশান্তি শুরু হল।”
পিকুর শুকনো গালে জলের ধারা। বৃষ্টির কাঁধে মাথা রাখল পিকু।
“আর সবচেয়ে খারাপ কী জানিস বৃষ্টি?
“ওদের ঝগড়ার সময় আমি কাঁদলে আমাকে কেউ আদর করত না। বুকে টেনে নিত না। আমাকে দু’জনের মাঝে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করত— কে ঠিক বলছে? কে ভুল বলছে? আমি বাবার হয়ে কথা বললে মা বলত, বাপের রক্ত বাপের মতোই হবি… এ তো জানা কথা। মায়ের
হয়ে বললে বাবা আমার সঙ্গে আর কথা বলত না। কেন রে? কেন আমরা মিলেমিশে থাকতে পারি না? ভালোবাসার মানুষদের মধ্যে ঠিক ভুলের এত প্রতিযোগিতা কেন? কেন সবাই এত মরিয়া হয়ে জিততে চায় রে?”
ফুঁপিয়ে ওঠে পিকু।
“আমারই কপাল খারাপ। আমিই খারাপ। তাই সবাই ছেড়ে চলে যায়। তুইও চলে যাবি। তুইও থাকবি না…”
পিকুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বৃষ্টি বলল, “না রে, আমি কোত্থাও যাব না।”
সোজা হয়ে উঠে বসে উৎসুক চোখে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে পিকু বলল, “প্রমিস?”
বৃষ্টি একটু ইতস্তত করে বলল, “প্রমিস।”
বৃষ্টির ঠোঁটজোড়া যেন গোলাপি জলরঙে আঁকা। সন্ধে শুরুর নীলচে আলোয় কী সুন্দর দেখাচ্ছে ওকে। পিকুর বুক ধুকপুকিয়ে উঠল। নিজের ঠোঁট সে নামিয়ে নিয়ে এল বৃষ্টির ঠোঁটের কাছে।
মুখ ঘুরিয়ে নিল বৃষ্টি।
চমকে উঠল পিকু। তার কান গরম। মাথার মধ্যে যেন অসংখ্য গরম আলপিন ফুটছে।
সে অস্ফুটে বলল, “স-সরি… আমি কি কিছু ভুল করলাম বৃষ্টি?”
দূরে গাছের গা নেয়ে নামতে থাকা কুয়াশার দিকে তাকিয়ে থেকে বৃষ্টি বলল, “না পিকু, তুই কোনো ভুল করিসনি রে। আমার জন্যই তুই হয়তো ভুল বুঝেছিস। তুই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু পিকু …” খানিকটা
চুপ করে থেকে বৃষ্টি বলল, “আমার বয়ফ্রেন্ড আছে পিকু। আমি ওকে খুব ভালোবাসি।”
পিকুর মাথাটা খালি হয়ে গেল, “কাকে?”
বৃষ্টি দক্ষিণের মাঠে ফুটবল নিয়ে হুড়োহুড়ি করতে থাকা হারাধনদের দিকে তাকাল। সরাসরি উত্তর না দিয়ে সে প্রশ্ন করল, “হারাধনের গ্যাং তোকে আর জ্বালায় না কেন জানিস পিকু?”
চোখ পিটপিট করে পিকু বলল, “কারণ ওরা তোকে ভয় পায়…
“না রে…” মাথা নাড়ল বৃষ্টি, “আমাকে খামোকা কেন ভয় পেতে যাবে ওরা?”
দূরে পিচ রাস্তা থেকে ভেসে এল একটা রয়্যাল এনফিল্ড বুলেটের গর্জন। মাঠে খেলতে খেলতেই হারাধনদের গতি যেন একটু শ্লথ হল। কয়েক মুহূর্তে মিলিয়েও গেল সেই গর্জন।
বৃষ্টি বলল, “ওরা ওকে ভয় পায়।”
পিকু ফিসফিসিয়ে বলল, “তেন্ডুয়া?”
বৃষ্টি ঘাড় নাড়ল, “তেন্ডুয়া।”
.
ছ’টা বেজে গ্যাছে। শিমুলগাছা বাজারে বিকিকিনি শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে। সাইকেল হাঁটাতে হাঁটাতে গোপাল স্যারের কোচিঙের উলটোদিকের সরু রাস্তাটায় ঢুকল পিকু। সঙ্গে বৃষ্টি। রাস্তাটা ভারী নির্জন
ঘড়ি দেখল পিকু। সাড়ে ছ’টা বাজতে যায়। কদমফুল গাছের গায়ে গা ঘষছে একটা কালো বেড়াল। আর কোত্থাও কেউ নেই। হঠাৎ কোচিং ফেরতা দু’টো মেয়ে পিকু আর বৃষ্টিকে পাশাপাশি হাঁটতে দেখে ফিসফিসিয়ে কী সব বলাবলি করতে করতে চলে গেল। বিরক্ত হল পিকু। হঠাৎ বৃষ্টি বলল, “পিকু?”
“কী?”
“তুই কি আর আমার সঙ্গে কথা বলবি না?”
“বলছি তো।”
“আগের মতো না। অন্যরকমভাবে বলছিস।”
“আচ্ছা বেশ। তবে একেবারেই বলব না।”
একটু চুপ করে থেকে বৃষ্টি বলল, “সেটা তোর সিদ্ধান্ত। আমি এলাম।”
গলি শেষ হয়ে এসেছে। পিচরাস্তা দিয়ে ট্রেকার যাচ্ছে হুশ হুশ করে।
পিকু চেয়ে থাকল বৃষ্টির চলে যাওয়ার দিকে। গত দেড়মাস বৃষ্টিকে ছেড়ে সে একটা দিনও থাকেনি।
টনটন করে উঠল বুকটা।
কয়েক পা এগিয়েও বৃষ্টি ফিরে এল ফের, “একটা কথা…”
“কী?”
বৃষ্টির সরু সরু আঙুলগুলো পিকু সাইকেলের ব্রেকে।
“পালিয়ে যাওয়া, লুকিয়ে যাওয়া কোনো কাজের কথা নয় পিকু। যেটা সত্যি, সেটা সত্যি।”
“বুঝলাম না।”
“তুই খুব ভালো ছেলে পিকু … এমনটাই থাকিস…”
ভুরু কুঁচকে তাকাল পিকু। ব্যাগের চেন খুলে একটা চওড়া খাম বের করল বৃষ্টি।
খামটা পিকুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “তোর জন্য বানিয়েছিলাম… নিউ ইয়ারে দেব বলে… জানি না দেওয়া হবে কি না… তাই আজকেই দিয়ে দিলাম… এলাম রে…”
বৃষ্টি চলে যেতে পিকু খানিকক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়ে রইল ল্যাম্পপোস্টের নীচে।
তারপর খামটা খুলে হলদে আলোয় পিকু দেখল সেটা বৃষ্টির হাতে আঁকা একটা গ্রিটিংস কার্ড।
কার্টুন ছবি। ক্রিসমাস ট্রি সাজাচ্ছে একটা বাচ্চা ছেলে। তার দু’পাশে হইহই করতে থাকা দুই সঙ্গীকে দেখে বোঝা যাচ্ছে তারা ছেলেটির বাবা-মা। ওপরে কালো জেল পেনে লেখা— পিকুদের পরিবার।
ডান দিকের তলায় লেখা হ্যাপি নিউ ইয়ার, ফ্রম বৃষ্টি। ছোট্ট করে লাল জেল কালিতে একটা লাভ সাইন।
কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে কোনো সুপারনোভার বিস্ফোরণ হল কে জানে; সেই মহাজাগতিক খামখেয়ালিপনার বাটারফ্লাই এফেক্টেই হয়তো বা পিকুর কানমাথা ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল।
কার্ডটা ব্যাগে পুরে, সাইকেলে প্যাডেল করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়ল পিকু।
