।। নতুন স্কুলে প্রথম দিন ।।
এক তালঢ্যাঙা মাস্টারমশাই ব্ল্যাকবোর্ডে ভূগোলের ম্যাপ আঁকছিলেন। দেখেই বোঝা যায় বেশ কড়া ধাতের লোক। পাকানো চেহারা। মোটা কাচের চশমা। নিখুঁতভাবে ছাঁটা গোঁফ আর তোবড়ানো গাল। ক্লাসের সব ছেলেমেয়ে পিঠ সোজা করে তাঁর দিকে তাকিয়ে বসে আছে। ফিসফাস গুজগুজ কিচ্ছুটি নেই।
খড়খড়ে কাঠের বেঞ্চে আড়ষ্ট হয়ে বসে আছে পিকু। ক্লাস টিচার নতুন ছেলে বলে তাকে ফার্স্ট বেঞ্চেই বসিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।
জানলার পাল্লাগুলোয় ঘুণ ধরেছে। সিলিঙে জায়গায় জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। বাইরে হেমন্তের খবর নিয়ে এসেছে নরম রোদ্দুর। গাছের ডাল-পাতার ফাঁকে ফাঁকে সোনালি আলোর লুকোচুরি।
ঘরের ওপাশের জানলার ধারে একটা মেয়ে বসে আছে। পিকুর চেয়ে মনে হয় একটু বড়োই হবে।
নরম গোলাপি গালের ওপর নেমে এসেছে চুলের গুছি— মায়ের কাছে পিকু শুনেছে একে বলে লক। সোনালি রোদ্দুরের আউটলাইনে মেয়েটির মুখখানা যেন তুলির নরম টানে আঁকা ছবি। পিকুর বুকের ভেতরটা কীরম করে উঠল। অচেনা অনুভূতি।
পিকু কলকাতায় থাকতে এক নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ত— ছেলেমেয়ে একসঙ্গেই। কই কখনও তো কোনো মেয়েকে দেখে বুকটা এমন দুর দুর করে ওঠেনি। কই কখনও তো মনে হয়নি ওর পাশে গিয়ে বসি। তিতলি, সানিয়া, রোহিনীদের কখনওই সাগ্নিক, দীপু বা অভিজিতের থেকে আলাদা বলে মনে হয়নি পিকুর।
পেনসিল দিয়ে চুলের গুছিটা সরিয়ে নিল মেয়েটা। চোখ নামিয়ে খাতায় কী যেন লিখল। তারপর আবার পেনসিলটা দাঁতে কামড়ে সোজা হয়ে বসল।
পিকু হাঁ করে চেয়ে রইল।
“এই যো! এই যো নতুন ছেলে। হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি। হ্যাঁ তুমিই…” চমকে উঠল পিকু। ভূগোল স্যার আগুন চোখে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।
“উঠে দাঁড়াও। জানো না টিচার কথা বললে বসে থাকতে নেই? অসভ্য, বাঁদর, জানোয়ার।”
পিকু তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়াল।
“এক্ষুনি যে প্রশ্নটা করলাম তার উত্তর দাও।”
পিকু হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল। সে কিচ্ছু শোনেনি।
“জা-জানি না, স্যার।”
“প্রশ্নটা নিশ্চয়ই শুনেছ। প্রশ্নটাই বলো দেখি।”
“শু-শুনিনি, স্যার।”
ভূগোল স্যারের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। ক্লাসজুড়ে উঠল হাসির রোল। “আস্তে।” ক্লাসের উদ্দেশে গর্জন ছুড়ে দিয়ে পিকুর দিকে ফিরলেন তিনি।
“ত্যাদড়ামি হচ্ছে?”
“স-সরি স্যার। শুনতে পাইনি।”
খুব বিচ্ছিরিভাবে দাঁত খিঁচিয়ে স্যার বললেন, “তা শুনতে পাবে কী করে? মেয়েদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে বসে থাকলে পড়া কি আর কানে ঢোকে? এখানে আমি ভূগোল পড়াচ্ছি, আর ওদিকে তুমি অন্যের জিওগ্রাফি মাপছ।”
হো হো করে হেসে উঠল ক্লাস। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল পিকু। অপমানে তার কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল।
“গোকুল পোদ্দারের ক্লাসে বেশি ত্যাদড়ামি দেখিও না, বুঝলে? পিঠের চামড়া গুটিয়ে দোব। বেঞ্চের ওপর উঠে দু’কান ধরে দাঁড়াও। তাড়াতাড়ি। এক পায়ে। বললাম না এক পা? কুইক…”
মাথা নিচু করে বেঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে রইল পিকু। মেয়েটার দিকে আড় চোখেও তাকানোর সাহস পেল না সে আর।
এরা যদি জানতে পারে পিকুর মা-ও এই স্কুলের টিচার হয়ে এসেছে তবে অপমানের আর সীমা থাকবে না। ভাগ্যিস মায়ের সব ক্লাস অন্য বিল্ডিঙে। এই বিল্ডিঙে হলে কেলেঙ্কারি হত।
মা’কেও পইপই করে বলে রেখেছে পিকু, “প্লিজ মা, স্কুলের কাউকে যেন বোলো না আমি তোমার ছেলে।”
কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়।
আর বাঘ যে সবসময় ভূগোল স্যারের মতোন কালান্তক রূপে দেখা দেয় তা কিন্তু না। অনেক বাঘ সাধাসিধে ভালোমানুষের চেহারা নিয়েও এসে হাজির হয়।
টিফিনের পর ক্লাসে এল অনুপম। পিকু আগে থেকেই জানত অনুপম এই স্কুলেরই টিচার। অঙ্ক করায়। পিকু অনেকবার মা সরস্বতীর কাছে বিড়বিড়িয়ে প্রার্থনাও করেছিল, “প্লিজ মা, দেখো, ওই ল্যালব্যালে অনুপম যেন আমার ক্লাসে না আসে… প্লিজ মা…”
ব্ল্যাকবোর্ডে অঙ্ক কষছিল অনুপম, কিন্তু ক্লাসের কেউই তাকে পাত্তা দিচ্ছিল না। যে যার মতো গল্প, হাসি, ঠাট্টা, মারামারিতে ব্যস্ত। ক্লাসের দিকে ঘুরে দু-চারবার গলা খাঁকারি দেওয়া আর টেবিলে ডাস্টার ঠোকার পরেও পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে না পেরে রণে ভঙ্গ দিল সে।
বোর্ডে অঙ্ক কষা শেষ করে চেয়ারে বসে হাসিহাসি মুখ করে এর তার দিকে চাইতে লাগল অনুপম। দু-একটা ভালো ছেলেমেয়ে স্যারের কাছে গিয়ে খাতা চেক করিয়ে নিয়ে এল
পিকু আড়চোখে দেখল সেই মেয়েটা খাতা-বই কিছুই বের করেনি। পাশে বসা অন্য একটা মেয়ের সঙ্গে হাত নেড়ে, চোখ টলিয়ে, ঠোঁট উলটে বকর বকর করতে ব্যস্ত। পিকুর দিকে চোখ পড়তেই মেয়েটা মিষ্টি করে হাসল।
সকালের লাঞ্ছনা ভুলে পিকু ফের হাঁ করতে যাচ্ছিল। তখনই তার কানে এল মোলায়েম কন্ঠস্বরে অনুপম তাকে ডাকছে, “এই যে, পিকু? অঙ্কটা টুকলে? বলো, স্কুলের ফার্স্ট ডে-তে কেমন লাগছে?”
পিকু সিঁটিয়ে গেল। তাও দাঁড়িয়ে উঠে ঘাড় নেড়ে সে বলল, “ভালো।”
অনুপম খুব খুশি হয়ে বলল, “বেশ বেশ! আমাদের শিমুলগাছা নেতাজি বিদ্যাপীঠের রেপুটেশন কিন্তু খুব ভালো। প্রতি বছর মাধ্যমিক রেজাল্টে জেলার মেধা তালিকায় আমাদের নাম আসে। তোমার মা’ও খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল। তোমাকেও কিন্তু দারুণ রেজাল্ট করতে হবে…”
পিকু টের পেল গোটা ক্লাসের চ্যাঁচামেচি থেমে গেছে। সবাই এক দৃষ্টে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।
তারপর ঠিক সেটাই ঘটল যেটার ভয় পিকু পেয়েছিল। অনুপম ক্লাসের বাকিদের দিকে ফিরে বলল, “এ হল পিকু। ওর মা’ও টিচার হিসেবে এই স্কুল জয়েন করেছেন আজই। উনি ইংরেজি পড়ান। তোমরা সবাই মিলেমিশে থেকো পিকুর সঙ্গে, হ্যাঁ?”
ক্লাসের সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
পেছন থেকে একটা ছেলে ছড়া কাটল, “মাদী টিচারের ব্যাটা, মারব মুখে ঝ্যাঁটা।”
পিকুর মনে হল সে গোটা ক্লাসরুমটা তাকে গিলে খেতে আসছে। তার কান-মাথা ভোঁ ভোঁ করে উঠল। মুখ টকটকে লাল।
ছুটির ঘণ্টা পড়ার পর ফাঁকা ক্লাসে পিকু বসে রইল খানিকক্ষণ। যখন ক্লাসের অন্যান্য ছেলেমেয়েরা হই হই করে বেরোচ্ছিল, পিকু তাদের সঙ্গে বেরোনোর চেষ্টাও করল না। পিকু চায় না কেউ তাকে বা তার মা’কে নিয়ে হাসিঠাট্টা করুক।
স্কুল প্রায় ফাঁকা হয়ে এল। শেষমেশ পিকু বেরিয়ে এসে স্কুলের চৌহদ্দি পেরিয়ে বাড়ির দিকে পা চালাল।
ছাত্রছাত্রীদের দল যে-যার বাড়ির পথে চলে যেতে রাস্তা নির্জন হয়ে এল। স্কুল থেকে বেরিয়ে বড়ো রাস্তা বরাবর খানিকটা এসেই একটা ছোটো গির্জা। সেখান থেকে ডান হাতে বাঁক ঘুরতেই একটা নির্জন মাটির পথ। চারদিকে মস্ত মস্ত গাছপালা।
একটা চমৎকার খেলার মাঠ চোখে পড়ল পিকুর। গোটাকয়েক ছেলে খেলার তোড়জোড় করছে। দু’জন ঠকাস ঠকাস করে ঘা মেরে উইকেট
পুঁতছে। সবুজ মাঠ, বিকেলের নরম আলো আর ব্যাট-বল দেখে পিকু থমকে গেল। মনটা হু হু করে উঠল কলকাতার বন্ধুদের জন্য। এতক্ষণে স্কুল থেকে ফিরে ব্যাগটা কোনোমতে রেখেই সে ছুটেছে পেছনের গলিতে। ইটের টুকরো দিয়ে ক্রিজ কেটে, এর ওর পিঠে হাত চাপড়ে ব্যাটিং-বোলিঙের লটারি সাজাতে লেগেছে বন্ধুরা।
একটু দূরেই জামরুল গাছখানার ছড়ানো ডালপালার তলায় সদলবলে বসেছিল তাদেরই ক্লাসের হারাধন। শিমুলগাছা নেতাজি বিদ্যাপীঠেই আজই তাকে পিকু দেখেছে। ছেলেটা লাস্ট বেঞ্চে বসে। পিকুকে নিয়ে ছড়াটা এই হারাধনই কেটেছিল। সবে নাইনে উঠলে কী হবে? হারাধনকে দেখলেই বোঝা যায় অন্তত বার দুয়েক গাড্ডু সে মেরেছে।
পিকুকে দেখে প্যান্টুল ঝাড়তে ঝাড়তে তার দিকে এগিয়ে এল হারাধন। পেছনে দুই সাগরেদ – চিকু আর সুকুমার। তাদের হাতে ব্যাট আর স্টাম্পার বল।
তোবড়ানো গালে গ্যালগ্যালে হাসি ছড়িয়ে হারাধন বলে, “কী বে টিচারের ব্যাটা? ব্যাট করবি?”
পিকু দু’দিকে ঘাড় নেড়ে বলে, “না, তোরা খ্যাল…”
বাঁকা হেসে হারাধন বলল, “কেন বে? ফাটছে নাকি? ফাটলে ফোট… ঘর যা… মায়ের আঁচলের তলায় ঢুকে বোস থাক…”
পিকুর মনে হল কচুগাছের ডাঁটি দিয়ে তার গালে সপাটে কেউ ঝাপটা মেরেছে। কান গরম। বুক ধুকপুক।
গম্ভীর হয়ে সে হারাধনকে বলল, “আয় তবে, এক ওভার করে হয়ে যাক…
ব্যাট হাতে স্টান্স নিল পিকু। বল নিয়ে পা গুনে গুনে পোজিশন নিল হারাধন। সুকুমার দাঁড়াল কিপারে। চিকু হাততালি দিতে দিতে বলল, “ফাট্টে দে হারু… নাক-মুখ ফাট্টে দে…”
দৌড়ে এল হারাধন। খ্যাপারু বোলার সে।
কনুই ভাঙা ‘ছোড়া বলে’ সে তাবড়ো তাবড়ো ব্যাটসম্যানকে ঘোল খাইয়েছে। পিকু তার কাছে দুধের শিশু।
মাটি থেকে দেড় হাত লাফিয়ে উঠল হারাধন। ডান হাতটা হাওয়া কেটে বৃত্ত আঁকল একটা। স্টাম্পার বলটা উল্কার মতো ধেয়ে এল পিকুর পাঁজরা লক্ষ করে।
“আহহহহহহ…
পাঁজরে সজোরে আঘাত আসতে ব্যাট সমেত মাটিতে লুটিয়ে পড়ল পিকু।
হারাধন, চিকু আর সুকুমার ছুটে এল তার দিকে। মাটিতে পড়ে থাকা পিকুর উদ্দেশে কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করতে থাকল তারা, সঙ্গে ছড়া কেটে কেটে বলতে থাকল, “মাদী টিচারের ব্যাটা, মারব মুখে ঝ্যাটা…”
উঠে দাঁড়াল পিকু। চোখের সামনে শুধু লাল আর লাল। ব্যাটটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে সে ঝাঁপিয়ে পড়ল হারাধনের ওপর।
ষণ্ডামার্কা হারাধনের সঙ্গে এঁটে ওঠা কি অতই সোজা? মুহূর্তে পিকুকে মাটিতে আছড়ে ফেলল সে। সে আর তার সাগরেদরা দমাদ্দম চালাতে থাকল লাথি।
মিনিট কয়েক বাদে পিকুর কলার ধরে সোজা করে বসাল হারাধন। তার মুখের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে হিসহিসিয়ে বলল, “ল্যালা মাল, ল্যালার মতোই থাকবি। ঠিকাছে? বেশি তেলানি দেখালে মেরে গাছে টাঙিয়ে দোব…”
কোনোমতে কলারটা ছাড়িয়ে নিয়ে প্রাণপণে বাড়ির দিকে ছুটতে শুরু করল পিকু। সে চায় না হারাধনরা তার চোখে এক ফোঁটাও জল দেখুক।
জং-ধরা গেটের সামনে পৌঁছে পিকু দেখল বাজাজ চেতক স্কুটারটা স্ট্যান্ড করা রয়েছে। নির্ঘাত অনুপম এসেছে। পিকুর গা-হাত-পা চিড়বিড়িয়ে উঠল। হারাধনের গ্যাং যে তাকে মাঠে ফেলে বেধড়ক পিটিয়েছে তার জন্য অনেকটা অনুপমও দায়ী বইকি।
তার জন্যই তো পিকুর ওপর চোখ পড়ল ওদের। ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে স্কুলের জামা-কাপড়েই চা খাচ্ছিল অনুপম আর টুপুর।
পিকু বুঝল অনুপমের স্কুটারে চেপেই মা বাড়ি ফিরেছে।
ঘাড় গোঁজ করে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল সে।
টুপুর হাসিমুখে বলল, “কী রে পিকু? এত দেরি হল কেন? শিমুলগাছা আসতে না আসতেই আড্ডা চালু, বল?”
অনুপম একটু গম্ভীর মুখে বলল, “না পিকু। এখানকার ছেলেরা বেশিরভাগই বখাটে। খবরদার এদের সঙ্গে মিশতে যেও না। তোমাদের ক্লাসেই হারাধন বলে একটি ছেলে পড়ে— ভেরি নটরিয়াস। ওর বাবা দশটা ডাকাতি আর জোড়া খুনের দায়ে জেল খাটছে। তেন্ডুয়া বলে একটা বিহারি ছেলে আছে, তাকেও এড়িয়ে চলবে। যদিও সে হতভাগা স্কুল ছেড়ে দিয়েছে— দিনরাত বাইক নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় আর রাস্তাঘাটে বসে বাঁশি বাজায়। যত্তসব হুলিগানের দল…”
পিকুর মাথায় চড়াৎ করে রক্ত উঠে গেল। সিঁড়ি দিয়ে অর্ধেক উঠে গিয়েছিল সে। দুমদুম করে পা ফেলে নেমে এসে অনুপমের চোখে চোখ রেখে সে বলল, “আমার বাবা বলেছে, পিকু তুই সবার সঙ্গে মিশবি। প্রত্যেকটা মানুষের কাছেই কিছু না কিছু শেখার আছে। জল ছেঁকে নিয়ে শুধু দুধটা খাবি। আমাকে আজ হারাধনরা মাঠে ফেলে পিটিয়েছে— একদিন আমিও পেটাব। গায়ে জোর আমারও হবে। আমি জিম করব… আমার বাবা আমাকে শেখাবে… আমার বাবার গায়ে খুব জোর… আ-আমার বাবা…”
বলতে বলতে ফোপাতে থাকল পিকু। চায়ের কাপটা টেবিলে নামিয়ে রেখে তাড়াতাড়ি করে উঠে এল টুপুর। হাত বাড়িয়ে নিজের কোলের কাছে টেনে নিতে গেল পিকুকে। এক ঝটকায় মায়ের হাত সরিয়ে দিয়ে সিঁড়ির দিকে ছুটে গেল পিকু
দোতলায় নিজের ঘরে ঢুকে ব্যাগটা ছুড়ে দিল মেঝেতে। খাটের ওপর ঝাঁপ দিয়ে বালিশে মুখ গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়ল ছেলেটা।
