।। বিচ্ছেদ তাকে শরীর দেয়, ভয় দেয় পুষ্টি ।।
এই পথে আগে একা কখনও আসেনি পিকু। বাজার পেরিয়ে শেফালি সিনেমার পাশের সরু গলিটার মধ্যে দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছিল পিকু। এই রাস্তাটা শেষ হয়েছে একটা মস্ত পাঁচিলে ধাক্কা মেরে। সুপ্রাচীন পাঁচিলের পেটের মধ্যে একখানা বেশ বড়ো গর্ত— একটা সাইকেল অনায়াসে গলে যেতে পারে।
আকাশ এখানে সংকীর্ণ ও অন্ধকার। মাথার ওপর জমাট বাঁধা কালো মেঘ। ঝিরঝিরানি বৃষ্টি মাথায় করে ভাঙা পাঁচিলের গর্ত দিয়ে সাহেবপাড়ার মধ্যে ঢুকল পিকু।
সাহেবপাড়ার রাস্তা ঠিক মনসাতলা ব্রিজের মুখের গোড়াটায় বেরোবে— আগে বারকয়েক সে বৃষ্টির সঙ্গে এদিকটায় এসেছে।
শিমুলগাছার সাহেবপাড়া একটা পরিত্যক্ত পল্লি। কোনো এক সময়ে বেশ বড়ো একটা এলাকা জুড়ে অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের বাস ছিল। চওড়া রাস্তা, বড়ো বড়ো বাগানঘেরা বাড়ি, পার্ক, সিনেমাহল— সবই ছিল। অনেক বছর আগে কোনো এক অজানা রোগের মড়কে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় গোটা সাহেবপাড়া। যারা বেঁচেছিল তারাও নাকি এলাকা ছেড়ে প্রাণভয়ে পালায়। অবশ্য এ সবই পিকুর শোনা কথা। যাইই হোক না কেন, পাড়াটা এখন পুরোপুরি পরিত্যক্ত। ভাঙাচোরা পথ। রাস্তার দু’ধারে জড়ো হওয়া পচা পাতা আর বিভিন্ন প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে ঝাঁঝালো গন্ধ উঠে আসছে।
বেশ জোরেই প্যাডেল করছিল পিকু। মনসাতলা স্টেশনে পৌঁছতেই হবে তাকে। তারপর কলকাতা।
অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল পিকু। খানাখন্দ ভরা উঁচুনিচু রাস্তায় হঠাৎ কেঁপে গেল সাইকেলের হ্যান্ডেল। সামনের চাকাটা কাদায় ফেঁসে গিয়ে হুড়মুড়িয়ে পড়ল সে।
পিকুর বাঁ হাঁটুটা বোধহয় কেটে গেছে। জ্বালা করছে। জলকাদায় সারা শরীর মাখামাখি।
উঠে বসল পিকু। মাথা ঘুরছে বনবন করে এই দুর্বল শরীরে আঘাতটা বেশ ভালোই ঝটকা দিয়েছে তাকে। কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে সাইকেলটা সোজা করে পিকু দেখল সামনের চাকাটা এমনভাবে দুমড়েছে যে সেটা চালিয়ে এগোনো অসম্ভব।
এখন একমাত্র একটাই রাস্তা খোলা আছে। ফিরে যাওয়া। খুব কান্না পেল পিকুর। বৃষ্টিটা বেগ নিল হঠাৎই। স্লেটরঙের আকাশ চিরে বেগুনি বিদ্যুতের ঝলক।
পিকু অসহায়ের মতো এদিক ওদিক তাকাতে লাগল।
আস্ত একটা পাড়ায় কোনো জনপ্রাণী নেই। রাস্তাঘাট খাঁ খাঁ করছে। প্রাচীন স্ট্রিট লাইটগুলোর জংধরা কাঠামোর কোটরে জমেছে কুয়াশা। রাস্তার ধারে সার দিয়ে দাঁড় করানো ধুলো-কাদার পুরু আস্তরণে চাপা পড়া গাড়িগুলো যেন জাদুঘরে রাখা প্রাগৈতিহাসিক শ্বাপদের নিষ্প্রাণ আড়ষ্ট শরীর। চওড়া রাস্তার দু’ধারে অন্ধকার থমথমে বাড়িগুলোয় এখন শেয়াল, খটাস আর বেজির আস্তানা। ধারালো নখে ইলেকট্রিকের তার আঁকড়ে বসে আছে দাঁড়কাক। লাল চোখে তারা পিকুকে মাপছে।
খানিক দূরেই একখানা পুরোনো চার্চের ছুচোলো মাথা দেখতে পেল সে— কুয়াশা ফুঁড়ে ওপর দিকে উঠেছে। পিকুর চোখের সামনে ভেসে উঠল তাদের কলকাতার বাড়ির ঠাকুরঘরে শালগ্রাম শিলার পাশে রাখা জিশুর ছবিটা। সেই মায়াময় চোখদু’টো।
সাইকেলটাকে হেঁচড়ে হেঁচড়ে কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চার্চের দিকে এগিয়ে চলল পিকু।
চার্চটার জীর্ণ দশা। কাঠের দরজাটা প্রায় ভঙ্গুর। বাইরে একটা মরচে পড়া তালা ঝুলছে। কাঠের দরজার তলার দিকটা পচে গিয়ে বেশ বড়ো একটা ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে। সাইকেলটা একপাশে হেলান দিয়ে রেখে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢুকল সে।
ভিতরে ঝুরঝুর করে চুন বালি খসে পড়ছে। মেঝেয় গর্ত বানাচ্ছে ইঁদুর। পিকু বুঝতে পারে এই নড়বড়ে চার্চের আয়ু আর বেশি দিন নয়। ধসে পড়ল বলে। যেখানে জিশুর মূর্তিটা থাকার কথা সেখানটায় একটা ফাঁকা কাঠের বেদি, ক্রসটাও নেই।
তাও সেদিকে মুখ করে বুকের কাছে হাত জড়ো করে, চোখ বুজে দাঁড়াল পিকু। বুকের ভেতর উথলে এল জমে থাকা কান্না, “আমার সঙ্গে কেন এরম করলে গো? আমি কী করেছিলাম? বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। বৃষ্টি… বৃষ্টিও আমাকে ভালোবাসে না… আমার কেউ নেই… ওই পিশাচ আমাকে সব জায়গায় ধাওয়া করে বেড়াচ্ছে… এই যন্ত্রণা আমি আর সইতে পারছি না… আমি ওই পিশাচের হাতে মরতে চাই না… আমি বাঁচতে চাই ঠাকুর…”
হঠাৎই দাঁড়কাকের মতো কর্কশ কণ্ঠস্বরে কেউ বলে উঠল, “শোক তাকে পথ দেখায়…”
ফাঁকা চার্চজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল একটা চাপা হাসির শব্দ।
“আমন! আমন! আমন!”
সিলিঙের দিকে তাকাল পিকু। যা দেখল তাতে আতঙ্কে পাথর হয়ে গেল সে। লম্বা লম্বা চার হাতে ও পায়ে ভর দিয়ে প্রকাণ্ড এক টিকটিকির মতো সিলিঙে আটকে রয়েছে এক কদাকার মূর্তি। অবয়বটা মানুষের মতো হলেও কালচে ধূসর শরীরটা যে কোনো মানুষের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ লম্বা। শিরাগুলো গাছের শিকড়ের মতো তার শরীর পেঁচিয়ে উঠেছে। খোলা হাঁয়ে লম্বা লম্বা হলদে দাঁতের সারি। গোল গোল দু’টো সাদা চোখ।
সেই পিশাচ পিকুর ঘাড়ের ওপর ঝাঁপ দেওয়ার উপক্রম করতেই সম্বিৎ ফিরে পেল পিকু। কোনোমতে লাফ দিয়ে সরে গেল সে। ধপ করে একটা শব্দ! সেও ঝাঁপ দিয়েছে মেঝেতে। খানিকটা গড়িয়ে গেল পিকু। দুর্বল শরীর ঝিমঝিম করে উঠল।
“একাকিত্ব শক্তি দেয়…”
খলখলিয়ে হেসে উঠল সেই পিশাচ। চার হাতে পায়ে দ্রুতবেগে ধেয়ে এল পিকুর দিকে। দু’হাতে চোখ ঢাকল পিকু
অবাক ব্যাপার! পিকুকে স্পর্শও করল না সে। হাঁ হয়ে আতঙ্কিত পিকু দেখল অদ্ভুতভাবে বাঁকানো লম্বা লম্বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে বিকট ভঙ্গিতে আঁকিয়ে বাঁকিয়ে পিকুকে ঘিরে নেচে চলেছে সে। যেন প্রচণ্ড আনন্দ হয়েছে তার।
“বিচ্ছেদ তাকে শরীর দেয়…
পিকুর গলা শুকিয়ে কাঠ, চিৎকার করার ক্ষমতা নেই আর। অবশ্য চিৎকার করেও বা কী হবে? ত্রিসীমানায় কোনো মানুষ নেই। মাটিতে পড়ে থাকা আতঙ্কে নিথর পিকু দেখল নাচের প্রতিটা পদে পদে তার শরীর আরও বড়ো আকার ধারণ করছে।
“ভয় দেয় পুষ্টি…”
হাঁপাতে হাঁপাতে চোখ পিকুর চোখ পড়ল চার্চের দরজার নীচে ফাকটার দিকে।
পিশাচের শরীরটা পাক খেয়ে খেয়ে একটা প্রকাণ্ড অজগরের অবয়ব নিতে শুরু করল। অন্ধকার, হিলহিলে, হিংস্র অবয়ব। ওপরের দিকে মুখ তুলে জান্তব উল্লাসে খলখলিয়ে হেসে উঠল সে।
গাঁ-আঁ-আঁ-আঁ-আঁ-আঁ-আঁ-আঁ… আঁহ্… আঁহ্…. আঁহ্!
এই সুযোগ। শরীরের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে পিকু ছুটে গেল দরজার সেই ফাঁকের দিকে। শেষ আশা।
ছুটে গিয়ে হ্যাঁচোড়-প্যাঁচোড় করে পিকু সবে বাইরে মাথাটা গলিয়েছে, হঠাৎ সে অনুভব করল তার দুই পা আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে কেউ।
মাটির ওপর দিয়ে হেঁচড়ে টেনে চার্চের ভেতর ঢুকিয়ে নিল সে পিকুকে। সেই মূর্তির দিকে চোখ পড়তেই বুকের রক্ত জল হয়ে গেল পিকুর। দানবিক ময়াল সাপের শরীরের ওপর এক বিশাল মাথা। মাথাটা মানুষের না। ওই বিশাল হাঁ, আর জ্বলজ্বলে সাদা দু’চোখ কোনো মানুষের হতে পারে না। মাথাটা এক দানবিক নেকড়ের। কোমর থেকে বাকি শরীরটা বিশালাকার সাপের। অজগরের শরীরে নেকড়ের মাথা— আমন!
পিকুর গোটা শরীরকে নাগপাশে আবদ্ধ করছে সেই দানব। পিকুর দম বন্ধ হয়ে আসছে। আর একটু চাপ দিলেই তার পাঁজরা গুঁড়ো হয়ে যাবে, ফুটো হয়ে যাবে ফুসফুস। আঁশটে পচা গন্ধে ম ম করছে বাতাস।
“একাকিত্ব শক্তি দেয়…”
শিকার তো একেবারে হাতের মুঠোয়। হাঁ মুখটা খোলার অপেক্ষা। আতঙ্কে আধমরা পিকুকে অন্ধকার গহ্বরে ভরে নেবে সে। নরম মাংস ছিন্নভিন্ন করবে পাশবিক দাঁতের সারি। নোংরা ধুলোয় মিশবে টাটকা গরম নতুন রক্তের ধারা। তারপর সব শেষ।
“শোক তাকে পথ দেখায়…”
আধবোজা চোখে পিকু দেখে ধীরে ধীরে বড়ো হচ্ছে তার হাঁ- করাতের মতো হলদে দাঁতের সারি দৃশ্যমান হয়। ঘন সাদা লালা গড়াতে থাকে কষ বেয়ে।
“বিচ্ছেদ তাকে শরীর দেয়…
সাদা ফ্যাটফ্যাটে দুটো হিংস্র চোখ, মুখের দুপাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে ফেনা। চোখ বুজল পিকু।
“ভয় দেয় পুষ্টি…”
বাবাকে আর দেখতে পাবে না পিকু। মা’য়ের বুকে মুখ গুঁজে আর ঘুমোতে পারবে না। বৃষ্টি যেন ভালো থাকে…
কই? কিছু হল না তো! ওই দানবের ধারালো দাঁতে তো এতক্ষণে তার ঘাড় গলা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। ভয়ে ভয়ে চোখ মেলল সে। দানবটা সেই জায়গাতেই আছে কিন্তু তার দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। দরজার দিকে তাকিয়ে থমকে গেছে সে।
পিকুর কানে ভেসে এল ক্ষীণ এক যান্ত্রিক শব্দ।
ডুগ ডুগ ডুগ ডুগ!
ডুগ ডুগ ডুগ ডুগ!
এগিয়ে আসতে লাগল শব্দটা— কাছে, আরও কাছে…
হঠাৎ সশব্দে চুরমার হয়ে গেল চার্চের কাঠের দরজা। শার্পনেলের মতো ছিটকে এল কাঠের টুকরো।
দরজায় এসে ধাক্কা মেরে স্কিড খেয়ে দাঁড়িয়েছে একটা মিশকালো রয়্যাল এনফিল্ড ক্লাসিক।
বাইকের হ্যান্ডেল ধরে বসে রয়েছে এক ঋজু মূর্তি। এই চওড়া কাঁধ, এই চাপদাড়ি পিকু চেনে।
কালো টি-শার্টকে ফাটিয়ে বেরোচ্ছে ট্রাইসেপ্স।
পেছনের সিটে তার কোমরে জড়িয়ে বসে আছে টুপুর। তার কোলে আড়াআড়ি ভাবে রাখা একটা উইকেট।
পিকুকে ছেড়ে হিসিয়ে ওঠে দানব। রক্ত জল হয়ে যায় তার হুঙ্কারে। ধপ করে মেঝেতে আছড়ে পড়ে পিকু, “বাবা…!”
হকচকিয়ে গিয়ে মূর্তিটার দিকে চেয়ে থাকে পিকুর বাবা।
“অনি… পিকু…”
টুপুরের চিৎকারে হুঁশ ফেরে পিকুর বাবা অনির।
দৌড়ে যায় সে পিকুর দিকে। পিকুর মুখে হাসি।
“অনি, ক্যাচ…”
মাঝদৌড়েই টুপুরের ছুড়ে দেওয়া উইকেটটা লুফে নেয় অনি, হড়কে গিয়ে গিঁথে দেয় তার দিকে ধেয়ে আসা দানবের বুকের মাঝে।
ভগ্নপ্রায় চার্চঘরকে কাঁপিয়ে বিকট আর্তনাদ করে ওঠে সেই দানব। তেমন আর্তনাদ কোনো মানুষ জীবনে শুনেছে কি না সন্দেহ।
তার লম্বা হিলহিলে সাপের মতো শরীরটা নুনপড়া জোঁকের মতোন ছটকাতে থাকে মেঝেতে। দৌড়ে আসে টুপুর, অনির সঙ্গে সেও দু’হাতে চাপ দেয় সেই উইকেটের মাথায়। দানবের বুকের ঠিক মাঝখানে গাঁথা সেই উইকেটটা ঢুকে যেতে থাকে আরও গভীরে…
দানবের ছটফটানিতে থরথরিয়ে কেঁপে ওঠে ভঙ্গুর চার দেয়াল। টুপুর আর অনি সমস্বরে হাঁক ছাড়ে, “পিকু…”
ছুটে আসে পিকু। বাবা-মায়ের সঙ্গে সেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চাপ দিতে থাকে উইকেটে।
মাটির মূর্তির মতো ভেঙে পড়তে থাকে সেই দানবের শরীর। কাঁপতে থাকে থরথরিয়ে। তার বুকের অতল থেকে উঠে আসে নারকীয় আর্তনাদ। পিকুদের চোখের সামনে ঝুরঝুরিয়ে মাটির চাবড়া খসে পড়ার মতো খসে পড়তে থাকে তার শরীর। মিশে যেতে থাকে ধুলোয়।
শেষমেশ চার্চের মেঝেতে পড়ে থাকে স্রেফ খানিকটা ধুলোর স্তূপ। হাঁটুতে ভর দিয়ে হাঁপাতে থাকে অনি। টুপুর জড়িয়ে ধরে পিকুকে। মেঘ কেটে যাচ্ছে। চার্চঘরের রঙিন কাচের পেছনে দৃশ্যমান হয় ডিসেম্বরের বারবেলার সূর্য। কাঠের জীর্ণ তক্তার ফাঁক দিয়ে তাদের ওপর এসে পড়ে সূর্যের সোনালি কিরণ।
অদ্ভুত মায়াবী আলোয় ভরে ওঠে ঘরটা।
পিকুর দিকে তাকায় অনি। মুখে হাসি। “কেমন আছিস বাবু?”
কথা বলতে পারে না পিকু। জাপটে ধরে বাবার পেটে মুখ গুঁজে দেয় সে।
টুপুর চোখ পাকিয়ে বলে, “আবার বাইকটায় চোট লাগালে? সারাতে আবার এককাঁড়ি টাকা খরচ হবে… তোমাকে না বলেছি পয়সা নষ্ট কোরো না…”
কাচুমাচু মুখে অনি বলে, “সরি, এটাই লাস্ট … উপায় ছিল না যে…” তারপর চোখ মারে সে, “সারিয়ে নিই। তারপর তোমাকে নিয়েই তো লং রাইডে বেরোব… খুব মিস করেছি গো…”
টুপুরের চোখ ভরে ওঠে জলে। অনি আর পিকুকে জড়িয়ে ধরে বলে, “আমিও।”
মায়ের গালে চুমু খায় পিকু। তারপর বাবার গালে।
চার্চের দরজার ঠিক বাইরে দাঁড়িয়ে এই ম্যাজিকাল দৃশ্যের সাক্ষী হয় একজোড়া ছেলেমেয়ে। তেন্ডুয়ার কাঁধে মাথা রাখে বৃষ্টি। তেন্ডুয়ার আঙুল তার আঙুল খোঁজে। তেন্ডুয়ার মুখে চওড়া হাসি। বৃষ্টির চোখে জল।
