বৃষ্টি পিকুর বন্ধু হল

।। বৃষ্টি পিকুর বন্ধু হল ।।

দিন কয়েক বাদে সাত সকালে দিকে কড়া ঠান্ডায় ঘুম ভেঙে গেল পিকুর। গা থেকে লেপ সরে গেছে। গতকাল রাতে আলমারি থেকে একটা হেমেন রায় সমগ্র বের করে পড়ছিল পিকু। সেইটে এখন মাটিতে পড়ে রয়েছে।

জানলার কাচের চৌকো অংশগুলো দিয়ে নরম আলো এসে ভরিয়ে দিয়েছে ঘরটা।

পাখির ডাকও কানে আসছে— বুলবুলি, চড়াই আরও নাম না জানা কত পাখি কিচিমিচি জুড়েছে।

দরজায় ঠকঠক শব্দ হল।

মায়ের গলা শোনা গেল, “পিকু? উঠে পড় সোনা। সাড়ে সাতটা বাজতে চলল।”

লেপটা মাথা অবধি টেনে নিয়ে দেয়ালের দিকে ফিরে শুল পিকু। শিমুলগাছায় আসা অবধি পিকু আর তার মা আলাদা ঘরে শুচ্ছে।

মা বলে, “তোমাকে বড়ো হতে হবে না পিকু? স্ট্রং হতে হবে তো…”

পিকু মনে মনে ভাবে, তাই জন্যই কি আমাকে তুমি বাবার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে এলে? স্ট্রং বানাবে বলে?

“পিকু, প্রথম দিনেই দেরি করিস না বাবু। মাস্টারমশাই কী ভাববেন বল তো?” ফের ঠকঠক করল মা।

ওহ হো! ভুলেই গিয়েছিল পিকু। দিন দুয়েক আগেই মা এক মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে কথা বলে এসেছে। পিকু সেখানে ইতিহাস, ভূগোল, বাংলা পড়বে। উনি বলেছিলেন রবিবার সকাল আটটায় পিকুকে পাঠিয়ে দিতে। স্কুল আর কোচিঙে যাওয়ার জন্য পরশু মা একটা সেকেন্ড হ্যান্ড বিএসএ সাইকেলও পিকুকে কিনে দিয়েছে।

বাবা বলে, “মানুষের দাম তার কথায়। তোর কথার যদি দাম না থাকে, তোরও নেই।”

চোখ রগড়াতে রগড়াতে পিকু দাঁত মাজল, ব্যাগ গোছাল। কালো জিন্সের ওপর একটা নীল রঙের হুডি গলিয়ে নিতে নিতেই পিকু টের পেল খিদেয় তার পেট চুঁই ছুঁই করছে।

দরজা খুলতেই ফ্রেঞ্চ টোস্টের গন্ধ পেল পিকু। টাটকা পাউরুটি, মাখন আর আর ডিম ভাজার মনকাড়া গন্ধে জিভে জল চলে এল তার। মা দুর্দান্ত বানায় ফ্রেঞ্চটোস্টটা। গরম মুচমুচে টোস্টটা কামড়ালেই নরম ডিমের কুসুমের স্বাদ, সঙ্গে পেঁয়াজ কুচি, লঙ্কা কুচি— আহা! সিঁড়ি বেয়ে তরতরিয়ে নেমে এল পিকু। পড়তে যাওয়ার আগে গোটাপাঁচেক তো সে সাবড়ে দেবেই।

ডাইনিং রুমের দরজায় থমকে গেল পিকু।

ডাইনিং টেবিলে বসে খবরের কাগজ পড়ছে অনুপম। সামনে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ।

“গুড মর্নিং, পিকু,” আন্তরিক ভাবে বলে উঠল অনুপম, “চলে এসো । তোমার মা ফ্রেঞ্চ টোস্টটা যা বানিয়েছে না? ফাটাফাটি…

চোয়াল শক্ত করে পিকু বলল, “আমার খিদে পাচ্ছে না।”

রান্নাঘরে থেকে উঁকি মেরে টুপুর বলল, “পিকু, বোস। এক্ষুনি গরম গরম ভেজে দিচ্ছি।”

“না, আমার খিদে নেই। আমি চললাম।”

“পিকু, দাঁড়া… খেয়ে যা সোনা…”

এক ছুটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে পিকু ততক্ষণে তার সাইকেলে চড়ে বসেছে। মাথার দু’পাশ দপদপ করছে। অনুপমকে মোটে সহ্য হচ্ছে না তার— কেন তা পিকু জানে না।

পিকুদের বাড়ি থেকে সাইকেল চালিয়ে স্কুলের কাছে পৌঁছতে মিনিট পনেরো সময় লাগে। একসময় শিমুলগাছা ছিল তাবড়ো তাবড়ো বড়োলোক আর ইংরেজদের আস্তানা। বাড়িঘরগুলো ছবির মতো সুন্দর। শহরের বুক চিরে ঝিরঝির করে বয়ে চলেছে একটা ছোটো খাল– খুব পরিষ্কার জল। রাস্তাঘাট ঝকঝকে তকতকে কিন্তু বড়ো নির্জন। রাস্তার দুধারে সবুজ মাঠ, খেত আর বড়ো বড়ো গাছের জঙ্গল।

রাগের চোটে পিকু খুব জোর প্যাডেল করতে লাগল। উলটোদিক থেকে ঢিমেতালে আসা সাইকেল, হু হু করে টানতে থাকা ট্রেকার, বাজারগামী সাইকেল-ভ্যান কাটিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে জিগজ্যাগ করে বেরোতে লাগল পিকু

খেলার মাঠের কাছাকাছি আসতেই বাঁশির শব্দটা কানে এল তার। একটা ভারী সুন্দর সুরেলা শব্দ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে।

শীতের সকালে খেলা শুরু হতে একটু দেরি হয়। এদিক ওদিক বেশ কিছু ছেলেপুলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, গরু চরছে গোটাকয়েক আর মাঠের ঠিক মধ্যিখানে ডাবল স্ট্যান্ড করে রাখা একটা রয়্যাল এনফিল্ড বুলেটের ওপর এক পা তুলে বসে আছে একটা ছেলে।

ছেলেটার গড়ন লম্বাটে, গায়ের রং চাপা, এই ঠান্ডাতেও স্রেফ একটা হাতকাটা গেঞ্জি পরে রয়েছে সে। দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছে ছেলেটা বেশ মাসকুলার— জিম টিম করে হয়তো। বাঁশিটা সেই ছেলেটাই বাজাচ্ছে।

ভারী মোলায়েম একটা সুর। ঝোপেঝাড়ে লেগে থাকা ছিটেফোঁটা কুয়াশার টুকরোদের যেন আলতো করে সরিয়ে দিয়ে রোদ্দুর ডেকে আনছে সুরটা।

পিকুর মনটা ভালো হয়ে গেল হঠাৎই।

রাগটা মরে এল, খিদের জ্বালাটাও সে টের পেল না আর।

মনে পড়ে গেল গত রাতের বইটার কথা। ওগুলো সব তার মামার গল্পের বই। মায়ের মুখে মামার অনেক গল্প শুনেছে পিকু। মামার ডাক নাম ছিল নীলে। মা বলে পড়ালেখার ভয়ে নাকি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল মামা— আর ফিরে আসেনি। খুব ডানপিটে ছেলে ছিল সে। তার প্রমাণ অবশ্য মামার বইগুলো জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রায় প্রতিটা বইয়ের বিভিন্ন পাতায় মামার হাতে পেনসিলে লেখা নিজের জীবনের টুকরো টুকরো ঘটনা। বই পড়তে পড়তে যখন যা মাথায় এসেছে নীলে তা লিখে রেখে গেছে। যেমন গত রাতে পড়া হেমেন রায়ের বইটার এক জায়গায় বিস্তর ভুল বানানে লেখা ছিল— “গতকাল ছোটোগড়ে ম্যাচ খেলতে গেসলাম। আমরা জিতে যেতে ওরা ক্যাচাল বাঁধাল। আমাদের ছোঁড়াগুলো সব ডরপোক। সবাই কেটে পড়তে দেখলাম ওদের সাতটা ছেলে আমাকে ঘিরে ফেলেছে। হাতে উইকেট, ফাটা বাঁশ। এদিকে আমি একা। তারপর স্রেফ খালি হাতে যা ফাইটটা দিলুম; চারটে চিৎপটাং, বাকি তিনটে উইকেট ফুইকেট ফেলে সেই যে দৌড় দিল আর কোনোদিনও খেলার মাঠের ধারেকাছেও আসবে না…”

লেখাটা মনে পড়তেই পিকুর হাসি পেয়ে গেল। তার মানে গুল দিতে নীলে মামা বেশ ওস্তাদ ছিল।

গোপাল স্যারের কোচিং খুঁজতে খুব একটা বেশি বেগ পেতে হল না পিকুকে। স্কুলের কাছে একটা পেটাই পরোটার দোকান। একটা কুঁজোমতোন লোক রোলের তাওয়ায় বেদম জোরে পরোটা পিটছিল। গোপাল স্যারের কোচিং কোনটা জিজ্ঞেস করতেই লোকটা আঙুল তুলে একটা একতলা বাড়ি দেখিয়ে দিল— বাইরে সাইকেল আর চটির মেলা।

পিকুকে ঢুকতে দেখেই গোপাল স্যার শিবনেত্তর হয়ে চশমার ওপর দিয়ে চেয়ে বললেন, “কে বাপধন তুমি?”

পিকু আমতা আমতা করে বলল, “আমার মা কথা বলে গিয়েছিলেন… মদনবাবু দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললেন, “কথাটা ঠিক কী বলে গেসলেন সেইটে খোলসা করে না বললে কী করে বুঝব মানিক তুমি কে? দুধওয়ালা না নর্দমা পরিষ্কারের লোক?”

শতরঞ্জি বিছিয়ে পড়তে বসা ঘরভর্তি ছেলে-মেয়ে হেসে উঠল।

পিকু তাড়াতাড়ি করে পকেট থেকে একটা খাম বের করে স্যারের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “মা পাঠাল। অ্যাডভান্স মাইনে। আমার নাম পৃথ্বীরাজ চ্যাটার্জি। শিমুলগাছা নেতাজি বিদ্যাপীঠে ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছি।”

খামটা ফস করে কেড়ে নিয়ে শার্টের বুক পকেটে চালান করে দিয়ে মাফলারের ফাঁকে দেঁতো হাসি হাসলেন গোপাল স্যার, “অ! তা সে কথা আগে বলতে হয় তো। বোসো, ওখেনটায় বোসো। এই পানু, ব্যাগ সরা।”

পিকু খাতা বের করতে করতে দেখল স্যারের পায়ের কাছে একটে মেয়ে খাতার ওপর ঝুঁকে পড়ে নোটস নিচ্ছে। পরনে রংচটা গোলাপি উইন্ডচিটার আর সস্তা নীল জিন্স। গোপাল স্যার তাকে বললেন, “এই যো বৃষ্টি, হাত চালাও। বানান ভুল হলে কিন্তু গাঁট্টা মেরে মাথা আলু করে দোব।”

পিকুর ক্লাসের সেই মেয়েটা। গোটা একটা সপ্তাহ তার দিক থেকে চোখ সরাতে পারেনি পিকু। ক্লাসে মন দিতে না পেরে কান ধরে বেঞ্চে দাঁড়িয়েছে, একশো ওঠবোস দিয়েছে, গোকুল পোদ্দারের গাঁট্টাও খেয়েছে।

মুখ তুলল মেয়েটা। তার চোখে চোখ পড়ল পিকুর। কপাল থেকে লকটা সরিয়ে মিষ্টি করে হাসল মেয়েটা। পিকু হাঁ করে চেয়ে রইল।

ছুটির পর সাইকেল নিয়ে বেরোনোর উপক্রম করতেই পিছন থেকে একটা মিষ্টি রিনরিনে গলা শুনতে পেল সে।

“পিকু?”

বৃষ্টিও সাইকেল নিয়ে ঠিক তার পেছনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে।

সে হেসে বলল, “পিকু নামটাই আমার বেশি পছন্দ হয়েছে। সেদিন ক্লাসে অনুপম স্যার তোকে এই নামে ডাকল না? আমি মনে রেখেছি। তুই কোনদিকে যাবি? মনসাতলা ব্রিজের দিকে না গির্জার দিকে?”

“গির্জার দিকে। কে-কেন?” আমতা আমতা করে বলল পিকু।

“ওহ! আমার বাড়িও ওই রাস্তাতেই। চল, একসঙ্গে যাই।”

নিজের কানকে পিকুর বিশ্বাস হল না। ডাইনে একটা সরু গলির দিকে আঙুল দেখিয়ে বৃষ্টি বলল, “বড়ো রাস্তায় ভিড় হবে। এই গলিটা দিয়ে চল।”

এই গলিটায় লোকের আনাগোনা কম। গলিরাস্তার সেকেলে বাড়িগুলোতে কেউ থাকে বলে মালুম হয় না। পিকু দেখল একটা ভগ্নপ্রায় বাড়ির একতলার জানলা দিয়ে এক বুড়ো ঘোলাটে ছানিপড়া চোখে তাদের মাপছে। পিকু তাকাল বৃষ্টির দিকে। মাথা নিচু করে সাইকেল হাঁটাতে হাঁটাতে কী একটা গুনগুন করে গাইছে মেয়েটা। ভালো করে শুনে পিকু বুঝল রণবীর কাপুরের নতুন ছবির একটা গান— “শাইনিং ইন দ্য সেটিং সান…”

বৃষ্টির গালগুলো ঠান্ডায় ফেটে লালচে দেখাচ্ছে। পিকুর বুকের ধুকপুকুনি তখনও থামেনি। বৃষ্টি নির্বিকার।

পিকু সাহস করে বলে, “বোরোলিন দিস না কেন গালে? ফেটে জ্বালা করবে যখন বুঝবি।”

“জ্বালা করছে তো। করছে না কে বলল?”

“তবে? বোরোলিন দিস না কেন?”

“ধুর, ভাল্লাগে না। চ্যাটচ্যাট করে।”

একটু চুপ করে থেকে পিকু বলল, “আমারও।”

বৃষ্টির দিকে আর একবার লাজুকভাবে তাকাল পিকু। লম্বা বিনুনি কোমর ছুঁয়েছে।

মসৃণ ঘাড়ে শীতের ঝকঝকে সোনা রোদ— পিকুর কান গরম হয়ে যায়।

হঠাৎ গুনগুনানি থামিয়ে পিকুর দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি বলল, “কলকাতা থেকে এসে শিমুলগাছা কীরম লাগছে?”

“ভালোই… বেশ ভালো… মানে দারুণ বলা চলে…”

“ধুর,” ঠোঁট উলটে বৃষ্টি বলল, “আমার আবার কলকাতা বেশি ভাল্লাগে। যদিও মোটে দু’বার গেছি। একবার বুবাই মামার বরযাত্রী হয়ে, আর একবার বাবাকে ডাক্তার দেখাতে।”

শিমুলগাছা যে পিকুর ভালো লেগেছে সেই কথাটা সে বলেছিল বৃষ্টিতে খুশি করতে। এখন বৃষ্টিই উলটো সুর টানতে পিকু হকচকিয়ে গেল। কথা ঘোরানোর জন্য সে বলল, “তোর ফেভারিট সাবজেক্ট কী?”

“আমার কোনো ফেভারিট সাবজেক্ট নেই। আমি লেখাপড়াটাই করছি মায়ের গুঁতো খেয়ে খেয়ে। তাছাড়া বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল আমি ডাক্তার হই। তবে আমার পড়ার যা হাল তাতে ডাক্তার যে আমি হতে পারব না সেটা মা অ্যাদ্দিনে বিলক্ষণ টের পেয়ে গেছে।”

পিকুর ফের অবাক হওয়ার পালা। এভাবে খোলাখুলি সত্যি কথা শুনতে সে অভ্যস্ত না। তার আগের স্কুলের বন্ধুদের পড়ালেখার কথা জিজ্ঞেস করলেই তারা শেখানো বুলির মতো আওড়াতে থাকত, “আই ওয়ানা বি আ ডক্টর। ফিজিসিস্ট। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টান্ট। অ্যাস্ট্রোনট।”

“তবে হ্যাঁ, সিলেবাসের বাইরের বই পড়তে আমার হেবি লাগে। আমার বাবা ছিল শিমুলগাছা পাবলিক লাইব্রেরির অ্যাসিস্টান্ট লাইব্রেরিয়ান। বই পড়ার নেশাটা বাবাই আমাকে ধরিয়ে দিয়ে গেছে। মা বলে, এত মনযোগ দিয়ে পড়ার বই পড়লে আমি ফেল করতাম না। জানিস তো পিকু আমি না দু’বার ফেল করেছি।”

পিকু হাঁ। বৃষ্টি কী সুন্দর করে কথা বলে! আর ফেল করার কথাটা কী অবলীলায় স্বীকার করে নিল। কোনো অজুহাতও দিল না।

গলি থেকে বেরোতেই তারা গির্জার কাছাকাছি চলে এল। ডানদিকে বাঁক ঘুরলেই খেলার মাঠ। পিকুর বুক ঢিপঢিপ করে উঠল। যদি হারাধন আর তার দলবল ঘাপটি মেরে থাকে? সঙ্গে আবার বৃষ্টিও আছে। যদি অসভ্যতা করে ওরা? বৃষ্টিকে বাঁচাবে কীভাবে পিকু

তার এই আশঙ্কাই সত্যি হল। খেলার মাঠের ধারে একটা মস্ত সিমেন্টের পাইপের ওপর ঠ্যাং ঝুলিয়ে বসে বিড়ি ফুঁকছিল হারাধন। তাকে ঘিরে গোটা সাতেক বেশ লম্বা চওড়া ছেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কয়েকজনের হাতে উইকেট। পিকুকে দেখেই আড্ডা থামিয়ে হিংস্র চোখে তাকাল সে। প্রমাদ গুনল পিকু।

যতই তার হাঁটুতে কাঁপুনি ধরুক সে সামনের দিকে চেয়ে ভাবলেশহীন মুখে সাইকেল হাঁটাতে লাগল। বৃষ্টি নিজের মনেই বকবক করে চলেছে। অবাক কাণ্ড! ছেলেগুলো পিকুকে কিছু করা তো দূর কী বাত, তাদের নিজেদের ইয়ার্কিও থামিয়ে দিয়েছে। হঠাৎই যেন দুষ্টু ছেলেদের ক্লাসে হেডমাস্টার এসে দাঁড়িয়েছেন আর তৎক্ষণাৎ পিনড্রপ সাইলেন্স।

একবার ঘাড় ঘুরিয়ে পিকু দেখল হারাধন আর দলবল পিকুদের দিকেই চেয়ে আছে। তাদের চোখে জিঘাংসা; কিন্তু কী যেন মন্ত্রবলে তারা ওই জায়গাতেই আটকে গেছে।

শেফালি সিনেমার মোড়ে এসে বৃষ্টি বলল, “আমি বাঁদিকে যাব। তুই?”

“ডানদিকে।”

“ঠিক আছে। টাটা। আগামিকাল স্কুলে এলে দেখা হবে। তুই আমার পাশেই বসিস। ঠিকাছে? আমি জায়গা রাখব। হারাধনরা তোকে খুব জ্বালায়, আমি দেখেছি। আমার পাশে বসলে ওরা কিছু করবে না।”

পিকু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “মানে? ওরা কি তোকে ভয় পায়?”

বৃষ্টি উত্তর না দিয়ে হেসে বলল, “বিকেলে যদি বেরোস, ওই গির্জার সামনে চারটে নাগাদ চলে আসবি। তোকে চরণির বিল দেখতে নিয়ে যাব। টাটা।”

বৃষ্টি চলে যেতে সাইকেল নিয়ে বাড়ির পথ ধরল পিকু। ঘোষপুকুরের কালো জলে ঠিকরে আসা নরম রোদ্দুর তার গাল ছুঁয়ে জানিয়ে দিয়ে গেল, পিকু বৃষ্টির প্রেমে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *