৭
স্বয়ম্ভু ভাবতেও পারেনি সোমবারের সকালটা এমন ফুলেলা শুভেচ্ছা দিয়ে শুরু হবে। বাড়িতে মা নেই। বাইরের গেটের তালাটা আজ তাই স্বয়স্তুকেই খুলতে হবে। হাই তুলতে তুলতে দোতলা থেকে সিড়ি দিয়ে নেমে বাইরের দরজাটা খুলল। এগোতে গিয়েই পায়ে কী যেন ঠেকে । নীচের দিকে তাকিয়ে দেখে এক তোড়া নানান রঙিন ফুলের বোকে। সঙ্গে গোলাপি রঙের চকচকে র্যাপারে মোড়া একটা মাঝারি বাক্স। হকচকিয়ে যায় স্বয়ম্ভু। তার জীবনে এমন সারপ্রাইজ দেবার মানুষ আপাতত নেই তার ওপর সবেমাত্র কাল থেকে একটা খুনের তদন্তে জড়িয়ে পড়েছে সে। তাই মনের ভিতর থেকে কুডাকটাই বেশি করে শুনতে পেল। প্রথমেই অজানিত উপহার টপকে বাইরে এসে দাঁড়াল। আজ বেশ ভোরে উঠেছে সে। অরুণার বডি আনতে হবে। তারপর শ্মশানে যাবে। আলো ফুটলেও রোদ ওঠার সময় হয়নি। আজ আর সেটা উঠবে বলেও মনে হয় না৷ আকাশের মুখ বেশ ভার। বাইরের গেটের কাছে গিয়ে এপাশ ওপাশ ভালো করে দেখল। বাইরের গেটে তালা দেওয়া। সেটা টপকে ভিতরের দরজার কাছে কে রেখে গেল এমন উপহার? কাউকে খুঁজে না পেয়ে ফিরে এল। হাত দেবে কি দেবে না ভেবেও ফুলের বোকেটা হাতে তুলে বাক্সটা তুলতে গেল। তখনই প্রথম চমকটা লাগল। বাক্সটা বেশ হালকা। কানের কাছে দুয়েকবার নাড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করল কী আছে। খড়খড় খটখট করে কিছু হালকা জিনিস নড়েচড়ে শব্দ করে উঠল। ঘরে এল স্বয়ম্ভু। ফুলের তোড়ার নীচে একটা কার্ড। সেখানে দোকানের নাম, হেভেন অফ ফ্লাওয়ারস। ঠিক তার নীচেই ছোট্ট ছোট্ট করে ইংলিশে লেখা ওনারের নাম, তর্পণা মিত্র। ভুরু দুটো কাছাকাছি চলে এল স্বয়ম্ভুর। এটাকে ঠিক কীভাবে দেখবে সে? মেঘ না চাইতেই জল? নাকি নতুন কোনও বিপদের সংকেত? স্বয়ম্ভুর আজকের প্রথম কাজই ছিল অরুণার শেষকৃত্য সেরে তর্পণার দোকানে ঢুঁ মারার। কিন্তু তার আগেই ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে এমন উপহার এসে পৌঁছল! তাও আবার তর্পণারই দোকান থেকে? ছোট্ট কার্ডটা খুলতেই লাল স্কেচ পেন দিয়ে ইংলিশে লেখা, বেস্ট অফ লাক। স্বয়ম্ভু বুঝল, খুনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে তাকে। অরুণার বডিটা এখনও ছাই হয়ে যায়নি। তাই কাকভোরে এই রসিকতায় স্বয়ম্ভু সেনের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। চোখ গেল উপহারের বাক্সের দিকে। কী আছে এতে? অপেক্ষা না করেই খুব সাবধানে র্যাপারটা খুলে ফেলল। একটা সাধারণ সাদা বাক্স। ঢাকনাটা খুলতেই এক গলা বমি উঠে এল স্বয়ম্ভুর। বিচ্ছিরি পচা গন্ধ নাকের ওপর ঝাপটা মারল। বাক্সটার মধ্যে এলোমেলো ছড়িয়ে আছে কারও পায়ের কাটা চারটে আঙুল। ক্ষয়ে আসা নেলপলিশ ইঙ্গিত করছে এটা কোনও মেয়ের পা। কোন মেয়ের পা সেটা বুঝতে একবিন্দু অসুবিধে হল না স্বয়ম্ভুর। রাতের খাবার পিত্তি সমেত উঠে এল বেসিনে। মুখের মধ্যে জলের ঝাপটা দিতে থাকে স্বয়ম্ভু। একচল্লিশ ইঞ্চি ছাতিটা রাগে ঘন ঘন ফুলে উঠছে। বেসিনের ওপর হাত রেখে সামনে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে রইল স্বয়ম্ভু।
টেবিলের ওপর রাখা মোবাইলটা বাজছে। একবার বেজে কেটে গেল। স্বয়ম্ভু বাক্সের ঢাকনা বন্ধ করে দেয়। মোবাইলটা আবার বাজে । -হ্যাঁ তুহিনদা বলুন।
ফরেনসিক এক্সপার্ট ডক্টর তুহিনশুভ্র দাশগুপ্ত ফোন করেছেন। ‘সরি স্বয়ম্ভু, ভোরবেলা বিরক্ত করছি।’
-বলুন ।
-এমন মার্ডার আমি জন্মে দেখিনি।
-মানে?
-খুনি ভিক্টিমের হাত-পা দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধেছে। সেটা হাতের কবজি আর পায়ের গোছের কালশিটে দে ল যে কেউ বলে দেবে। তবে এরও আগে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করেছে।
-সেটাই স্বাভাবিক। গাড়ির ড্রাইভারও এই ক্লোরফর্মের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মরণাপন্ন হয়ে বাঙ্গুরে ভর্তি ।
-কোন গাড়ি?
-যেটার ট্রেস পাওয়া যাচ্ছিল না। কাল রাতে শিবাঙ্গী জানায় সেটা পাওয়া গেছে।
ড্রাইভারের পুরো ঘটনাটা তুহিনকে জানায় স্বয়ম্ভু। ‘যাই হোক, এবার আপনি বলুন।’ তুহিনশুভ্র গলা ঝেড়ে বলতে শুরু করেন, ‘হ্যাঁ বলছি। এরপর খুনি যেটা করেছে ভিক্টিমকে জুতোর বাড়ি মেরেছে। -হোয়াট?
-তবে আর বলছি কী? কিন্তু খুনি এখানেও অদ্ভুত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। সারা গায়ে আঘাতের যা প্রমাণ পেয়েছি তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে খুনি জুতো পরে ভিক্টিমের বড়ির ওপর একাধিকবার লাফিয়েছে। মানে বড়ির ওপর দাঁড়িয়ে জোড়া পায়ে লাফালে যে এফেক্ট হয় সেটা এবং অজস্রবার লাথিও মেরেছে। বুকের রিবসগুলো ভেঙে ঢুকে গেছে। এর মধ্যে দুটো রিবস ভেঙে ফুসফুসে ঢুকেছে। অ্যাটেলেক্টেসিস হয়েই সম্ভবত মৃত্যুটা হয়েছে। কিন্তু তারও আগে আততায়ী পেটের ওপর আঘাত করেছে। ছুঁচলো জিনিস দিয়ে প্রচণ্ড জোরে বারংবার আঘাতের ফলে পেটের প্রচুর জায়গায় মাসল রাপচার হয়েছে। বেশকিছু আটারি ছিঁড়েছে। ইউরিনারি ব্লাডার রাপচার হয়েছে তলপেটে লাফানোর ফলে। পেট, বুকের হাড় যেভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে, মাংস যেভাবে থেঁতলেছে তাতে ভিক্টিমের বড়ির ওপর উঠে জোড়া পায়ে লাফানোর সম্ভাবনাই বেশি। এরই মাঝে কোনও এক সময়ে ধারালো কিছু দিয়ে দু-পায়ের চারটে করে আঙুল কেটে দিয়েছে। গলাও ছাড়েনি। তার ওপরও লাফিয়েছে। তাতে ট্রাকিয়া আর ফ্যারিংস দুটোই ভেঙে গেছে। মানে তোমার….
-শ্বাসনালী আর খাদ্যনালী।
মানেটা তুহিনশুভ্রকে স্বয়ম্ভুই বলে দিল। তুহিন বললেন, ‘কারেক্ট কারেক্ট। এক্ষেত্রে গলার ওপর দুবারের বেশি লাফিয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ আমার অ্যাসাম্পশন বলছে মেয়েটির মৃত্যুর পরেও তার ওপর পাগলের মতো অত্যাচার চালিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
স্বয়ম্ভু দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বুজে এতক্ষণ সব শুনছিল। শেষ কথাটা শোনার পর কানের কাছ থেকে ফোনটা একবার সরিয়ে আবার কানে দিয়ে শোনে তুহিন বলে চলেছেন, ‘স্বয়ম্ভু শুনতে পাচ্ছ?’
-এত রাগ কার?
কথাটা স্বগতোক্তির মতই শোনাল স্বয়ম্ভুর মুখে। উত্তর দিলেন তুহিনশুভ্র, ‘আমার মনে হয় খুনি কোনও মেয়ে।’
-এ কথা কেন বলছেন?
-ভিক্টিমের সারা শরীরে যে জুতোর ছাপ পাওয়া গেছে তাতে বহু জায়গায় ছুঁচলো কিছু দিয়ে গর্ত হয়ে যাবার চিহ্ন আছে।
-মানে স্টিলেটো টাইপ ।
-এক্স্যাক্টলি।
-এমনও তো হতে পারে, জুতোটা অরুণারই ছিল।
-অরুণা!
হঠাৎ করে নামটা এসে পড়াতে একটু বিস্ময় প্রকাশ করলেন ডক্টর তুহিনশুভ্র। তারপরেই খেয়াল হল ভিক্টিম সম্পর্কে স্বয়ম্ভুর বোন। ‘ও আচ্ছা। না, জুতোটা অরুণার নয় কারণ ওর যা পায়ের মাপ তাতে ছয় নম্বর জুতো হওয়ারই কথা। কিন্তু জুতোর ছাপ সাত কিংবা আটের কম হবে না। যদিও এক্ষেত্রে আমি ভুল হতেই পারি। কারণ শরীরটা অক্ষত থাকলে তাও সঠিক মাপটা পাওয়া যেত। কিন্তু এক্ষেত্রে তো…।’
-সাত বা আট মানে তো বেশ লম্বা। তার মানে তার ওজনও খানিকটা বেশিই হবে।
-আমার অভিজ্ঞতা বলছে এক্ষেত্রে খুনির ওজন অবশ্যই পঁয়ষট্টির ওপরে। নইলে এর চেয়ে হালকা হলে খুন করবার জন্য অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা টানা প্রচণ্ড জোরে লাফিয়ে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে খুনির অবস্থাও শোচনীয় হয়ে যাবে ।
-যদি মেয়ে হয় সেরকম কেউ…
স্বয়ম্ভু ভাবতে ভাবতেই তুহিন বলেন, ‘আরও একটা ব্যাপার দেখে মনে হচ্ছে খুনি মেয়ে।’
-কী দেখে?
-এই কেসে রেপ হয়নি।
-সব পুরুষ খুনি তো রেপিস্ট নাও হতে পারে তুহিনদা।
-নিশ্চয়ই সেটা হতে পারে। তবে আমার অভিজ্ঞতা বলছে তার রেশিওটা অনেক কম। একজন পুরুষ একজন মেয়েকে কিডন্যাপ করে ব্রুটালি মার্ডার যখন করবেই তখন তার কামনা চরিতার্থ করবে না সেটা একটু এক্সেপশনাল।
-পুরোনো কোনও শত্রুতা।
বিড়বিড় করল স্বয়ম্ভু। কিন্তু কথাগুলো ঠিক মতো তুহিনের কানে পৌঁছল না ।
-অ্যাঁ সরি?
-বলছি ধর্ষণের অভিসন্ধি যখন ছিলই না তখন গলায় ছুরি চালিয়ে দিলেই তো ল্যাটা চুকে যেত। কিন্তু তা করেনি। এতটাই চরম সেই প্রতিহিংসার আগুন যে পা দিয়ে থেঁতলে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঙুল কেটে তড়পে তড়পে একটু একটু করে মেরেছে। খুনি চেয়েছে অরুণা যেন প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে মারা যায়। ঠিক যেভাবে অরুণা কাউকে…
বলতে বলতে থেমে গেল স্বয়ম্ভু। তুহিন বললেন, ‘তুমি এরকম কোনও ঘটনা জানো?
-না দাদা, জানলে তো হয়েই যেত।
-আমি ভাবছি, কাটা আঙুলগুলো নিয়ে খুনি কী করবে?
বেশ চিন্তান্বিত গলায় ডাক্তার কথাগুলো বলার সঙ্গে সঙ্গে রকেটের মতো জ্বলন্ত উত্তর ধেয়ে গেল স্বয়ম্ভুর দিক থেকে, ‘শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাবে।’
-অ্যাঁ?
-হ্যাঁ। আজ সকালে উঠেই পেয়েছি।
-কী পেয়েছ?
তুহিনের গলায় প্রচণ্ড উত্তেজনা। স্বয়স্তু এখন নির্লিপ্ত। উত্তর দিল, ‘এক তোড়া ফুল, বেস্ট অফ লাক লেখা একটা কার্ড আর একটা বাক্সবন্দী অরুণার একটা পায়ের চারটে আঙুল।’
-হোয়াট দ্য… কী বলছ স্বয়ম্ভু? আঙুলগুলো এখন….
-আমার বাড়ির টেবিলে ।
হঠাৎ মাথার মধ্যে বিদ্যুতের ঝলকের মতো একটা প্রশ্ন খেলে যা স্বয়ম্ভুর। খুনি তাকে চারটে আঙুল পাঠিয়েছে। তাহলে বাকি চারটে কোথায়? কার কাছে? শিবাঙ্গী? সেও তো এই তদন্তের একটা অংশ।
তুহিনের ফোন রেখেই শিবাঙ্গীকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে সে কোনও এমন উপহার পেয়েছে কিনা। শিবাঙ্গী তো অবাক। বিছানা ছেড়ে উঠে সেও ঘরের দোরে, বাইরের রাস্তায়, জানলায় ভালো করে দেখে কোত্থাও কিছু নেই। স্বয়ম্ভুর চিন্তা আরও বেড়ে যায়। রহস্যের অতলে তলিয়ে যেতে যেতে আবার কী একটা মনে পড়াতে তুহিনশুভ্রকে ফোন করে স্বয়ম্ভু, কাগজটা সম্পর্কে কিছু বললেন না তো?’ ‘ওই
-এ হে, দেখেছ সত্যিই এবার আমার বয়স হচ্ছে। ওই কাগজে ভিক্টিমের রক্তই লেগে আছে ।
-আন্দাজ করেছিলাম। শুধু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না রক্তাক্ত লাশের সঙ্গে একটা কাগজ এল অথচ কাগজে লাগল মাত্র এক বিন্দু রক্ত। কীভাবে?
-তুমি কী শিওর স্বয়ম্ভু ওটা লাশের সঙ্গেই এসেছে?
-উঁ? না শিওর নই তবে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছি না। কারণ ওইখানে এই রকম আর একটা কাগজও পড়ে ছিল না। ঠিকাছে তুহিনদা এখন রাখি।
অরুণাকে এবার আগুনের মধ্যে ঠেলে দিতে হবে। মেয়ের মাথায় হাত রেখে পুলকেশ কাঁদছে হাউহাউ করে। মেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পর দু-বছর কোনও সম্পর্ক রাখেনি। পরে সুমিত্রা দেবীর পীড়াপীড়িতে নতুন করে যোগাযোগ তৈরি হয়। এখন হয়তো আফশোস হচ্ছে তার। মনে মনে ক্ষমা চাইছে মেয়ের কাছে। স্বয়ম্ভু কিছুটা দূরত্বে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। কিন্তু সেও আর সহ্য করতে পারছে না। চোখটা অন্যদিকে ঘোরাতেই একজনের ওপর গিয়ে চোখটা আটকে গেল। আত্মীয়স্বজনের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে একভাবে মৃতা স্ত্রীর দিকে চেয়ে আছে তমাল। স্বয়ম্ভু এগিয়ে গেল। শ্যালককে দেখেই চোখটা সরিয়ে নামিয়ে নিল। স্বয়ম্ভু কাছে গিয়ে বলল, ‘অরুণা চলে যাচ্ছে। একবারও যাবে না?’ তমাল নির্বাক ।
-আজ না হয় ভালোবাসো না। একদিন তো বাসতে। সেই অধিকারেই…. কথা শেষ করতে না দিয়েই তমাল বলে উঠল, ‘এইভাবে অরুণাকে আমি দেখতে পারব না। তার চেয়ে দূর থেকেই…।’ কেঁদে ফেলল তমাল। মুখ নামিয়ে ঘাড় গুঁজে কেঁদে চলেছে। স্বয়ম্ভুর ভীষণ ইচ্ছে করছিল কিছু প্রশ্ন করতে। কিন্তু পারল না। গোয়েন্দার মনও সায় দিল না। শ্মশানের বাইরের দিকে চোখ পড়তেই দেখল খানিকটা দ্রুত পা চালিয়ে শিবাঙ্গী আসছে। একটু অবাকই হল। স্বয়ম্ভুও এগিয়ে গেল শিবাঙ্গীর দিকে। ওর তো বাঙ্গুর হাসপাতালে যাবার কথা ছিল। তাহলে শ্মশানে!
-কী ব্যাপার শিবাঙ্গী? তুমি যাওনি?
শিবাঙ্গী হাঁফাচ্ছে। ‘হ্যাঁ স্যার। বাঙ্গুর থেকেই আসছি।’
-কী খবর?
-খুবই বাজে খবর।
-বেঁচে নেই তো?
-আমি সকাল আটটা নাগাদ পৌঁছোই। গিয়ে দেখি ড্রাইভারের স্ত্রী বুক চাপড়ে কাঁদছে। ডাক্তার বললেন, পনেরো মিনিট আগেই মারা গেছে।
হাতের পাখি উড়ে যাওয়ায় ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়ল স্বয়ম্ভু। হাত মুঠো করে বাতাসের গায়ে আঘাত করল। ‘মারা যাবার আগে কিছু বলেছিল? জিজ্ঞেস করেছ?’
-করেছি স্যার। কিচ্ছু বলেনি। বলার মতো অবস্থাতেই ছিল না। মাল্টি অর্গান ফেইলিওর 1
বলেই চাপাস্বরে শিবাঙ্গী জানাল, ‘স্যার, অরুণাকে …’।
স্বয়ম্ভু পিছনে তাকাল । কোলাপসেবল খুলে চুল্লির কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অরুণাকে। পুলকেশের দিকে দৌড়ে গেল স্বয়ম্ভু। ভেঙে পড়া মানুষটাকে সামলাতে হবে।
