ম্যাও – ১৪

১৪

গাড়িতে যেতে যেতে হাত উলটে ঘড়ি দেখল শিবাঙ্গী। ‘ইসসস, সাড়ে ছ’টা বেজে গেল।’ পাশেই বসে ছিল স্বয়ম্ভু। হঠাৎ বলে উঠল, ‘তোমার কী মনে হয় শিবাঙ্গী?’

-কীসের স্যার?

-গাড়িটা রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের দিকে কেন বেঁকে গেল? কোথায় গেল গাড়িটা?

-ওদিক থেকে ঘুরে তো অনেক জায়গাতেই যাওয়া যায় স্যার। চাঁদনী চকের দিকে যেতে পারে। ধর্মতলাও…

-না না। ধর্মতলা যাবে না। সে তো সোজা রাস্তায় গেলেই পৌঁছে যেত।

স্বয়ন্তু ঠিকই বলেছে, ‘তাহলে?’

-গাড়িটাকেও আর দেখা গেল না।

-স্যার ওদিককার সব জায়গায় সিসিটিভি নেই। থাকলেও খারাপ। তাছাড়া ওই জায়গাগুলো এত ঘিঞ্জি যে অত গাড়ির মাঝে একটা গাড়িকে ট্রেস করা মুশকিল। তাও করা যেত যদি টার্নের মুখে বাসটা না দাঁড়িয়ে থাকত। বাসের আড়ালে গিয়েই যত কাল হল।

-ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন ।

-মানে?

-এই এই দাঁড়াও তো। বাঁদিক করে রাখো তো গাড়িটা।

শিবাঙ্গী থতমত খেয়ে গেল। তার কৌতূহলের উত্তর তো পেলই না। বরং দুম করে যেখানে যাচ্ছিল তার আগেই গাড়ি থামিয়ে দিল স্বয়ম্ভু। ‘এইটাই সুরিলেন না?”

-হ্যাঁ স্যার।

-আর ওইটাই কী সেই মন্দিরটা?

শিবাঙ্গী ঘাড় ঘুরিয়ে জানলার বাইরে তাকাল। গলির মুখে একটা বড় ঠাকুরের মন্দির। সেখানে পুজো চলছে। উপস্থিত কয়েকজন ভক্ত। সকলেই মহিলা ।

আকাশি রঙের পাঞ্জাবি আর সরু কালো পাড়ের সাদা ধুতি পরে আরতি করে চলেছে মিশ্রঠাকুর। মুখে অনর্গল শনিদেবের মন্ত্র, ‘নীলাঞ্জনসমাভাসং রবিপুত্রং যমাগ্রজম ছায়ায়া গর্ভসম্ভূতম তং নমামি শনৈশ্চরম’। শনি ঠাকুরের পাশেই দক্ষিণাকালীর মূর্তি। শনিমন্ত্রের পর ‘ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে’ মন্ত্রটি উচ্চারণ করে আরতি শেষে ভক্তি ভরে প্রণাম করলেন। তারপর ভক্তদের দিকে ঘুরতেই একটু যেন থমকে গেলেন। ভক্তদের মাঝেই শিরদাঁড়া টানটান করে দাঁড়িয়ে স্বয়ম্ভূ আর শিবাঙ্গী। ঠাকুরমশাই হাসিমুখে সকলকে মঙ্গলারতির তাপ দিতে দিতে বললেন, ‘এর আগে এ তল্লাটে দেখিনি তো! পাড়ায় নতুন?’ স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গীও মাথা নিচু করে তাপ নিল। স্বয়ম্ভু বলল, ‘এদিকে রিলেটিভের বাড়ি।’

-তাই ভাবি। নতুন মুখ দেখি।

-ওই জন্যেই চমকে গেলেন?

কথাটা শুনেই মিশ্রঠাকুর একটু থেমে বললেন, ‘হ্যাঁ, ওই আরকি। দিনকাল ভালো না তো। নতুন মুখ দেখলেই মনে হয় কী জানি কে আবার কোন মতলব নিয়ে হাজির হল!’

প্রসাদ নিয়ে ভক্তরা যে যার মত চলে গেলেন। দাঁড়িয়ে রইল স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী। মিশ্রঠাকুর পুজোর জায়গাটা গোছাচ্ছিলেন। দুজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও কিছু বললেন না। স্বয়ম্ভুও কী যেন খেয়াল করে চলেছে। মিশ্রঠাকুরের দিকে তাকিয়েই আছে। বেশ কিছুক্ষণ পরেও যখন ঠাকুরমশাই নিরুত্তাপ তখন স্বয়ম্ভু নিজেই বলল, ‘ঠাকুরমশাই, একটু কথা ছিল।’ কাজ থামিয়ে হাসলেন মিশ্রঠাকুর। ‘হ্যাঁ হ্যাঁ বলুন না। তবে ভাগ্য বলতে পারব না বাবা!’ শিবাঙ্গী তাকাল স্বয়ম্ভুর দিকে। ‘সে কী! আপনি তো বলেন শুনেছি।’ শিবাঙ্গী বলল। ঠাকুরমশাই উঠে দাঁড়ালেন। সামনে এগিয়ে এসে বললেন, ‘বলতাম। কিন্তু একজন আমার সবকিছুকে মিথ্যে করে দিয়ে চলে গেছে। ও বুঝিয়ে দিয়ে গেছে আমি কিচ্ছু জানি না। তাই ওসব বলা আমি ছেড়ে দিয়েছি।’

-সে কে? জানতে পারি?

স্বয়ম্ভু বলল। শান্তস্বরে মিশ্রঠাকুর জানালেন, ‘একটি মেয়ে। তাকে আমি বলেছিলাম ওর সব কষ্ট চলে যাবে। সব ভালো হবে। কিন্তু ধৈর্য ধরল না একটুও। যেদিন বাড়ি ছাড়ল তারপরদিনই খবর পেলাম সে নাকি আর নেই । উফফফ! ভয়ানক সে মৃত্যু!’ মৃত্যুর আতঙ্কে চোখ বুজে ফেললেন মিশ্রঠাকুর।

-কীরকম মৃত্যু?

মিশ্রঠাকুর শান্ত চোখে তাকালেন। ‘লোকে বলছিল, রেললাইনের ধারে নাকি তাকে কেউ কচু কাটার মত করে কেটে ফেলে রেখে গেছে।’ বলতেই বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠল মিশ্রঠাকুরের। বিগ্রহের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘এত যন্ত্রণা কেন দিলে ঠাকুর? তোমার যে কী বিচার তুমিই জানো । মনে মনে হাসল স্বয়ম্ভু। মানুষকে মেরে তারপর কচু কাটা করা হয়। তাতে যে মরল তার যন্ত্রণার থেকে যে মারছে তার মানসিক প্রতিহিংসা বেশি চরিতার্থ হয়। কিন্তু এ যে কচু কাটার চেয়েও মারাত্মক। যাই হোক, অনেক খবরে এই কচু কাটা শব্দটাই ব্যবহার করছে। স্বয়ম্ভু একটু গলা ঝেড়ে বলল, ‘আপনি এই মন্দিরে কবে থেকে পুজো করছেন?’

-তা বছর দশেক ৷

-তার আগে কী করতেন?

-তার আগে এখানে ছিলাম না । আমার প্রথম জীবন কেটেছে মেদিনীপুরে।

-ও বাবা! আপনি মেদিনীপুরের মানুষ?

-হুম। তোমারও কেউ আছে নাকি? এই দেখেছ, তুমি বলে ফেললাম।

-নো প্রবলেম। না আমার কেউ নেই। তবে মেদিনীপুরের মানুষদের কথায় একটা সুন্দর টান থাকে। ওটা আপনার মধ্যে নেই।

মিশ্রঠাকুরের ঠোঁটে হাসি ফুটেও ফুটল না। বললেন, ‘ওটা আমি খুব সন্তর্পণে বাদ দিয়েছি বাবা।’

-কেন?

-কিছু মনে কোরো না। তোমাদের এই কোলকাতার মানুষজন বড় বেয়াড়া। একটু অন্যরকম কিছু দেখলেই ভ্যাঙায়। খুব খারাপ লাগে।

বেশ অস্বস্তি নিয়ে কথাগুলো বললেন মিশ্রঠাকুর। স্বয়ম্ভু সরাসরি প্রশ্ন করল, ‘অরুণা আপনার এখানেই আসত তাহলে!’ নামটা শুনেই চমকে উঠল মিশ্রঠাকুর। ‘তুমি চেনো তাকে?

-হুম। আমার মাসতুতো বোন ।

-ও হো। জানো বাবা, আজকাল বড় ভয়ে ভয়ে থাকি। রাতে ঘুমোতে পারি না ।

-কীসের ভয়?

-পুলিশের ।

-মানে?

-ঘটনাটা যা শুনছি তা যদি সত্যিই হয় তাহলে তো ও শেষ দেখাটা আমার সঙ্গেই করেছিল। বাড়ি ছেড়ে যাবার আগে ও আমার কাছেই এসেছিল। এখন পুলিশ যদি জানতে পারে …

থেমে গেলেন মিশ্রঠাকুর। আমতা আমতা করে বলল, ‘অয় দেখেছ। তুমি তো ওর আত্মীয় বললে। বাবা! মিনতি করছি, পুলিশকে কিছু বোলো না । এরপর নইলে আমায় নিয়ে টানাটানি করবে। এমনিতেই প্রেশার, সুগার কী নেই। তার ওপর থানা বাড়ি হলে মরে যাব। ‘

-আপনাকে নিয়ে কেন টানাটানি হবে? অরুণা কি বিশেষ কিছু বলেছিল আপনাকে?

-না না। সে তো শুধু আমায় গাল পাড়তে এসেছিল। আমার কোনও কথা মেলেনি না। খুব রাগ দেখাল। তারপর বৃষ্টির মধ্যে গটগট করে রাস্তা পেরিয়ে গাড়িতে উঠে গেল ।

-ও গাড়ি করে এসেছিল?

-হ্যাঁ, ওই রাস্তার ওপারে তো একটা গাড়ি দাঁড়িয়েছিল দেখলাম। বাড়ি থেকে গাড়ি করে এসেছিল কিনা… অবিশ্যি আমায় বলল অরুণা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি যাচ্ছে। তাহলে তো গাড়ি নেবেই। সে যাই হোক, তোমাদের বিশ্বাস করে বলে ফেললাম। পুলিশের উৎপাত আর আমি নিতে পারব না বাবা।

-না না। কাউকে বলব না। নিশ্চিন্ত থাকুন ।

নিশ্চিন্ত হাসি ফুটল মিশ্রঠাকুরের মুখে। শিবাঙ্গী জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা ঠাকুরমশাই, আপনি কাগজ পড়েন? বা টিভিতে খবর শোনেন?’

-কেন বল তো

ঠাকুরমশাই বেশ অবাক হলেন এমন একটা উদ্ভট প্রশ্নে। শিবাঙ্গী বলল, ‘বলুন না।’

-না মা। বাড়িতে টিভি ছিল। আমার ভাগ্নেটা বড্ড কুঁড়ে আর ফাঁকিবাজ। কোনও কাজ করবে না। কেবল টিভি মুখে করে বসে থাকত বলে কেবল লাইন কাটিয়ে দিলাম। তারপর থেকে টিভি আর চলে না। আর কাগজ নেবার দরকার পড়ে না। এই উত্তর কোলকাতায় আমরা বুড়োরা এখনও রকে বসে আড্ডা মারি। এই তো মন্দির বন্ধ করে যাব। ওখানেই সব খবর পেয়ে যাই। যতটা খরচা বাঁচে। এই মন্দির থেকে কতটুকুই বা রোজগার হয় বলো? ভাগ্নেটা সদ্য একটা কাপড়ের দোকানে কাজ পেয়েছে। সামান্যই মাইনে। তাতেই চালে-ডালে ফুটিয়ে দুজনের সংসার চলে যায়।

-থ্যাংক ইউ ঠাকুরমশাই। ভালো থাকবেন। চলি। ও হো, আপনার নামটাই তো জানা হল না।

-সবাই আমায় মিশ্রঠাকুর বলেই চেনে। ভালোও বাসে।

-তবু, নাম তো আছে একটা। সেটা কী জানতে পারি?

-নিশ্চয়ই। পঙ্কজ মিশ্ৰ ৷

-আচ্ছা, চলি ।

স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী কয়েক পা হেঁটে গিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ে। এদিকে মিশ্রপুরুতের ভুরু দুটো কুঁচকে ওঠে। গাড়ি ছেড়ে একটু এগোতেই পিছনে কাচের ওপর পুলিশ লেখাটি চোখে পড়ে মিশ্র পুরোহিতের। সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু ছানাবড়া। নিজেই বিড়বিড় করে বলে ওঠে, “ওরে বাবা! এরা পুলিশ ছিল নাকি! হে ঠাকুর, এ কী ফ্যাসাদে পড়লাম রে বাবা! নিজেই সব কথা বলে দিলাম?’

গাড়িতে উঠেই স্বয়ম্ভু শিবাঙ্গীকে বলে, ‘দেখেছ তো, গোয়েন্দার সঙ্গে সিভিল ড্রেসে ঘোরার উপকারিতা! এই যদি এখন তুমি ওই ধরাচুড়ো পরে থাকতে তাহলে ঠাকুরমশাই অত কথা বলত বলে তো মনে হয় না। এখন থেকে আমার সঙ্গে বেরোলে এরকম পোশাকই পরবে। অন্তত এই কেসটা যদ্দিন চলবে।’ শিবাঙ্গী ঠোঁট টিপে হাসল।

বার তিনেক বেল বাজাল শিবাঙ্গী। ঘরের ভিতর থেকে কারও কোনও উত্তর নেই। লোহার গেটের ছিটকিনিতে আঘাত করতে গিয়ে স্বয়ম্ভু খেয়াল করল সেটা খোলা আছে। ঠেলে বারান্দায় উঠে পড়ল। ‘তমাআআআআল, তমাআআআল!’ স্বয়ম্ভু ডাকল। তাও কোনও সাড়া নেই। এদিকে সন্ধে হয়ে গেছে কিন্তু কোনও আলো জ্বলেনি বাড়িতে। সোজা ঘরে ঢোকার দরজায় ঘা দিতেই দরজাটা কিছুটা ফাঁক হয়ে গেল। শিবাঙ্গীর দিকে তাকাল স্বয়ম্ভূ । দুজনের চোখেই কোনও এক আশঙ্কা চলকে উঠল। সোজা ঘরে ঢুকে গেল। ঘুটঘুটে অন্ধকার। কেউ কোত্থাও নেই। পকেট থেকে মোবাইল বের করে টর্চ জ্বালাল স্বয়ম্ভু। আলোটা দেয়াল বেয়ে খুঁজে চলল সুইচ বোর্ড। কিন্তু তার আগেই সোফার ওপর আটকে গেল মোবাইলের আলো। সোফা থেকে হেলে পড়া মাথাটা দেখে আঁতকে উঠল স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী। ঠোঁটের কাছে সাদা দাগ। ‘শিবাঙ্গী আলো জ্বালো তাড়াতাড়ি ।’ শিবাঙ্গী দেয়াল হাতড়ে আলো জ্বালতেই সবটা স্পষ্ট হল। তমালের অচেতন শরীরটা সোফা থেকে অর্ধেক ঝুলে রয়েছে। মুখ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে গ্যাঁজলা বেরিয়ে ঠোঁটের বাঁ-পাশটা সাদা হয়ে আছে। স্বয়ম্ভু বারবার ডাকতে থাকে। তমালকে ধরে ঝাঁকায় ৷ শুধু মাথাটা দুপাশে নড়ে ওঠে। তমালের নাড়ি চেপে ধরে স্বয়ম্ভু। কোনও সাড়া পায় না। বুকের ওপর মাথা রাখে। কোনও স্পন্দন নেই। হাত-পা ঠাণ্ডা। শিবাঙ্গীর মুখ দিয়ে ‘স্যার’ ছাড়া কোনও শব্দ বেরোল না। স্বয়ম্ভু তমালের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।’

-সুইসাইড?

পাশের টেবিলে রাখা ফাঁকা গ্লাসের ওপর স্বয়ম্ভুর চোখ আটকে গেল। বলল, ‘নাও হতে পারে!’ বাইরে একটু মেঘ ডেকে উঠল। নাকি মাথার মধ্যে আরও বড় কোনও বাজ পড়ার প্রস্তুতি শুরু হল? ‘আমি সবাইকে খবর দিচ্ছি। তুমি একটু ভেতরের ঘরগুলো দেখে এসো তো। বি কেয়ারফুল।’

-শিওর স্যার।

স্বয়ম্ভু মাটিতে বসেই কানে ফোন ঠ্যাকাল, ‘স্বয়ম্ভু সেন বলছি, গোয়েন্দা লালবাজার।’

রিভলবার হাতে নিয়ে সন্তর্পণে ভিতরের ঘরের দিকে এগোতে থাকে শিবাঙ্গী। সজাগ দৃষ্টিতে চোখের মণি ঘুরতে থাকে চারপাশে। হাতের কাছে সুইচ বোর্ড পেলেই সুইচগুলো একসাথে অন করতে থাকে। টপাটপ করে আলো জ্বলে ওঠে। পাশের ঘর আলোকিত হতেই থমকে যায়। সারা ঘর তোলপাড়। আলমারি খোলা। বিছানার চাদর, তোশক সব উল্টেপাল্টে ছড়িয়ে আছে। মাটিতে ছড়িয়ে জামা কাপড়। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে অপরাধী কিছু একটা জিনিস মরিয়া হয়ে খুঁজেছে। কিন্তু পেয়েছে কী?

পুলিশ এল। লাশের ছবি উঠল। তুহিনশুভ্রর অ্যাসিস্ট্যান্ট রোহিত আর সাত্যকি এসেছে। স্বয়ম্ভুই ডেকেছিল তুহিনকে। কিন্তু কী এক কারণে সে আসতে পারেননি। তাই দুই সাগরেতকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। টেবিলের গ্লাসটা নাকের কাছে ঠেকিয়ে রোহিত গন্ধ শোঁকে। স্বয়ম্ভূ জিজ্ঞেস করে, ‘কী বুঝছ?’

-জলেই কিছু একটা ছিল।

গ্লাসের নীচে অতি সামান্য জল পড়েছিল। একটা পরিষ্কার কন্টেনারে সেটা ভরে গ্লাসটাকেও এভিডেন্স হিসেবে রেখে দিল। স্বয়ম্ভু ঘরের চারপাশ ভালো করে ঘুরে দেখে শিবাঙ্গীকে প্রশ্ন করে, ‘কী বুঝছ শিবাঙ্গী?”

-অপরাধী যেটা খুঁজছিল সেটা নীচের ঘরেই পেয়ে গেছে। না হলে ওপরের ঘরেও তোলপাড় করত।

-কী খুঁজতে পারে? টাকা-পয়সা তো সব ওপরের আলমারিতে। টাকা পয়সা ছাড়া কী এমন বহু মূল্যবান বস্তু যেটা…

কথাটা শেষ করতে না দিয়েই শিবাঙ্গী চোখ বড় করে বলে ওঠে, `মোবাইল। কোত্থাও কিন্ত তমালবাবুর মোবাইল পাইনি আমরা। এখন সেটা নট রিচেবল।` স্বয়ম্ভুর মাথায় বিদ্যুৎ, `আবার তৰ্পণা?`

-কেন স্যার, তৰ্পণা কেন?

-তমালের সঙ্গে তর্পণার যোগাযোগটা অন্য একটা বিশেষ ফোনেই হত।

-তাহলে যে ফোনটা ও নরমালি ইউজ করে সেটা সরানো হল কেন? ওটা তো আমরা সব চেক করেছি। তর্পণার নম্বর ছাড়া তো কিছুই… ।

–তাই বলে খুন! তার মানে তমাল এমন কিছু জানত যা ফাঁস হয়ে গেলে অপরাধীর বিপদ হত। এমনকী খুনের প্যাটার্নটাও পাল্টে গেল। সিরিয়াল কিলিং যারা করে তারা চট করে প্যাটার্ন পালটায় না।

-এ তাহলে সিরিয়াল কিলার নয় বলছেন?

-না হবার সম্ভাবনাই বেশি। মুশকিলটা হচ্ছে এদের অতীত সম্পর্কে সেরকম কোনও কথা জানার সময়ই পাচ্ছি না। বাকিদের সঙ্গে কথা যে বলব… নাহ! এবার যেভাবে হোক…। এক কাজ করবে শিবাঙ্গী বাকি যে তিনজন রয়েছে…

-আর দুজন স্যার।

-ও হ্যাঁ হ্যাঁ। সুস্মিতা তো অলরেডি ডান। দিয়া আর স্বস্তিকা ।

–স্যার মৃত্তিকা

-ওই হল। দিয়ার কাছে আমি যাব। মৃত্তিকার কাছে তুমি যাও। ওদের ডেকে পাঠাতে চাই না। তাতে ওরা ভেবেচিন্তে প্ল্যান সাজিয়ে আসতে পারে।

আচমকা জেরা করতে হবে। কালকেই প্ল্যান করে নেব ।

-ওকে স্যার।

-এই খিলাড়ি বেশ গুছিয়ে মাঠে নেমেছে শিবাঙ্গী। আমাদের সহজে পার পেতে দেবে না ।

-আমারও সেটাই ধারণা।

-অরুণার পায়ে একটা চিহ্ন এঁকে দিয়েছিল। কিন্তু তমালের পা একদম নিট অ্যান্ড ক্লিন।

-স্যার, এক্ষেত্রে খুনি তো আলাদাও হতে পারে।

–হতেই পারে। একই বাড়িতে দুজন খুন হল। খুনি দুজন। তাহলে কারণও কি একটা? নাকি একাধিক?

মাটির দিকে চেয়ে চোখের মণি এক জায়গায় স্থির রেখে কথাগুলো বলে গেল স্বয়ম্ভু। আবারও ফোনটা বেজে উঠল। ভাবনার মধ্যে বাধা পড়লে বেশ বিরক্ত হয় স্বয়ম্ভু। সেই এক রাশ বিরক্তির সঙ্গে গলা দিয়ে ‘হ্যালো’ শব্দটা বেরিয়ে এল। ‘হ্যাঁ রঞ্জিত শুনতে পাচ্ছি, বলো।… আচ্ছা।… কোনও ট্রেস নেই?… ওকে।’ ফোনটা কেটে স্বয়ম্ভু বলল, ‘তমালের ফোনটা দুপুর দুটো আঠেরো মিনিটে অফ হয়ে যায়। খুনটা তার মানে তার আশেপাশেই।’

-আর লোকেশন?

-এই বাড়িটাই ।

-স্যার, তমালের ফোনে যদি এমন কোনও ইম্পর্টেন্ট ডকুমেন্টস থেকে থাকে তাহলে তো কখনও না কখনও ফোনটাকে অন করতেই হবে।

-তার কোনও মানে নেই শিবাঙ্গী। এস ডি কার্ডটা বের করে নেবে।

-তমালের ফোনে এস ডি কার্ড নেই স্যার। এর আগে যখন ফোনটা নেওয়া হয়েছিল দেখেছিলাম ।

-তাতেই বা কী? পরে লাগিয়ে নিতেই পারে। আর সেটা যদি নাও হয় তাহলে ফোনটা খুলে ডিভাইসের ইন্টারনাল মেমোরিটাকে বের করে নেবে।

একটু আলো দেখতে পেয়েও হারিয়ে ফেলল শিবাঙ্গী। আবারও স্বয়ম্ভুর ফোনটা বেজে উঠল। ফোনটা ধরে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, “কোথায় থাকো মা? ফোনটা তো সঙ্গে রাখবে।’ সুচিত্রা বললেন, ‘কাল মেয়েটার কাজ। কত কাজ বল তো? সুমিত্রা তো খাচ্ছে না, ঘুমোচ্ছে না কিচ্ছু করছে না।’

-নিয়ম অনুযায়ী কালকে অরুণার কাজ হবে না মা ।

-মানে? কেন?

-তমাল মারা গেছে।

-কে? তমাল?

-হ্যাঁ মা ।

-কী করে?

-বিষ খেয়েছে বা খাওয়ানো হয়েছে। দ্বিতীয়টার চান্সই বেশি।

-কী বলছিস ভোলা? কে মারল?

-আমি রাখছি মা। পরে কথা বলছি। মেসোকে বলো ব্যাপারটা। আমি রাতে কথা বলব ।

ফোনটা রেখে দিল। মুখ কাঁচুমাচু করে শিবাঙ্গী বলে উঠল, ‘এই সবকিছু আমার জন্যেই হল স্যার।’ ‘মানে?’ স্বয়ম্ভু অবাক। শিবাঙ্গী আফশোস করে বলল, ‘আপনার কথা শুনে যদি দুপুরেই এখানে চলে আসতাম তাহলে হয়তো তমালবাবুকে বাঁচাতে পারতাম।’ ঘরের বাইরে যেতে গিয়েও স্বয়ম্ভু ঘুরে দাঁড়াল। বলল, ‘তার মানে তোমার কথা শোনাটা আমার উচিত হয়নি। তাই বলতে চাইছ? তাহলে তো দায় একা তোমার নয়। বাইরে চলো ।’

আবার ফোনটা ঝনঝন করে উঠল স্বয়ম্ভুর। পকেট থেকে বের করে ফোনটা রিসিভ করেই বলে উঠল, ‘তোমরা একবারে কোনও কথা জানাতে পারো না রঞ্জিত?’

-সরি স্যার। আসলে তমালবাবুর কল লিস্টটা জাস্ট পেলাম। তাই ভাবলাম…

-বলো বলো।

-লাস্ট দুদিনে তর্পণার নম্বরে অনেকবার ফোন গেছে।

-অনেকবার মানে কতবার?

একটু ‘উম আম’ করে তুতলিয়ে বলল, ‘সবমিলিয়ে উনিশবার।’ -তারপর?

-কিন্তু একবারও রিসিভ হয়নি। একদম শেষবারে গিয়ে কলটা রিসিভ হয়। কথা হয় মাত্র এক মিনিট চার সেকেন্ড ।

-এটা কোন নম্বরটা?

-তমালবাবুর সেকেন্ড নম্বরটা।

-আর আগেরটা?

-ওটা থেকে তর্পণার কাছে কল যায়নি। এমনকি খুব বেশি ফোনও হয়নি। ওই টুকটাক

-রেকর্ডিংগুলো জোগাড় করা সম্ভব?

-সম্ভব স্যার। ট্যাপ তো করা ছিল

-সেগুলো জোগাড় করে ডিটেলস পাঠাও

-ওকে স্যার।

-আর কিছু?

-না স্যার।

-থ্যাংক ইউ ।

শ্লেষাত্মক ধন্যবাদ দিয়ে ফোনটা কেটে দিল স্বয়ম্ভু।

তমালের বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি। পাড়ায় একটা খুন হয়েছে। লোকজন উঁকিঝুঁকি তো মারবেই। তেমনই উঁকিঝুঁকি মারা একটি বাড়ির দিকে ধেয়ে যেতেই অতি কৌতূহলী মহিলাটি ভিতরের দিকে পা বাড়ায়। অমনি স্বয়ম্ভু ডাকে, ‘শুনছেন শুনছেন!’ বেচারি বউ ঘরের ভিতর সেঁধিয়ে যেতে গিয়েও মুখে একটা আলগা ভদ্রতা এনে ফিরে তাকায়।

-পালাচ্ছেন কেন আমাদের দেখে? আমরা বাঘ না ভালুক?

পাশ থেকে শিবাঙ্গী চাপা স্বরে বলে, ‘স্যার এই বাড়িতেই এসেছিলাম।’ মহিলার দিকে তাকিয়েও গুমগুমে স্বরে একটা ‘হুম’ বলে স্বয়ম্ভু। মহিলাটি হাসব কি হাসব না ভাব নিয়ে বলে, ‘না না পালাব কেন? ছেলেকে খেতে দিতে হবে তো তাই?’

-পুলিশকে দেখে কারা পালায় জানেন তো? অপরাধীরা। আপনিও কিন্তু আমাদের সন্দেহের তালিকায় ঢুকে গেলেন ।

এবারে চরম ভেবলে গেল মহিলা। ‘মানে, সে কী! আমি কী করেছি?”

-সেটা তো আপনিই জানেন। যদি কিছু নাই করে থাকেন তাহলে খামোকা পালাতে যাবেন কেন বলুন? যাক গে, একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। দুপুরবেলা কে এসেছিল তমালের বাড়িতে?

-দেখুন আমরা ঘরে নিজেদের মত থাকি। কে কার বাড়িতে কখন এল খবর রাখি না।

-হ্যাঁ তার নমুনা তো পেলাম।

-মানে?

-মানে সত্যিই দেখেননি নাকি বলতে চান না?

আমতা-আমতা করছে মহিলা। শিবাঙ্গী বলে, ‘যদি কিছু জানেন বলে দিন। এতে আপনাদেরই ভালো।’

-আমি কিছু দেখিনি বিশ্বাস করুন। দুপুরে ছেলেকে খাইয়ে ঘুমোচ্ছিলাম।

-স্যার একটা কথা বলব?

কথাটা স্বয়ম্ভুদের পিছন থেকে কেউ যেন ধরা গলায় বলে উঠলেন। ঘুরে দেখল একটু বয়স্ক একটা লোক এগিয়ে এসেছে। ‘হ্যাঁ বলুন।’ লোকটি বললেন, ‘আমি এই বাড়িটায় থাকি।’ লোকটি আঙুল দেখিয়ে তার বাড়িটিকে দেখাল। তমালের বাড়ির পাশেই বলা যায়। ধরা গলায় লোকটি জানালেন, আজ দুপুরে খেয়ে উঠে আমি একটু বারান্দায় বেরিয়েছিলাম। ওই কাপড় মেলা ছিল সেগুলো তুলতে। তখন দেখলাম একজন পুলিশ ঢুকে গেলেন বাড়ির মধ্যে। তমালই ঘরে নিয়ে গেল।’

-পুলিশ!

বিস্মিত হয়ে তাকাল স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী। ‘মিস্টার সমাদ্দার এদিকে একটু আসুন তো।’ স্বয়ম্ভুর ডাকে দৌড়ে এলেন এক পুলিশ অফিসার। ‘হ্যাঁ স্যার বলুন ‘

-আপনাদের থানা থেকে আজ দুপুরে কেউ এসেছিল তমালের কাছে?

-থানা থেকে? না তো স্যার।

-হুম ।

চট করে বয়স্ক প্রতিবেশীর দিকে ঘুরে স্বয়ম্ভু জিজ্ঞেস করল, ‘সময়টা মনে আছে?’

-হ্যাঁ হ্যাঁ। ওই তো প্রায় দুটোর কাছাকাছি।

-মানে দুটো বাজেনি।

লোকটি একটু ভেবে দুপাশে ঘাড় নেড়ে ‘না’ বললেন। ‘কারণ দুটোর সময় আমার স্ত্রীর একটা ওষুধ থাকে। সেটা আমিই দিই। ও তো উঠতে পারে না। বিছানাতেই পেচ্ছাপ পায়খানা।’ লোকটি একটু অতিরিক্তই কথা বলেন। তবু স্বয়ম্ভু খুশিই হল মনে মনে। কিছু তো ব্লু পাওয়া গেল। আর লোকটি সত্যি যে বলছে তার প্রমাণ একটু আগে রঞ্জিতই দিয়েছে। দুটো আঠেরোতে তমালের ফোন সুইচড অফ। অর্থাৎ তার আগেই যা হবার হয়ে গেছে। বিষই যদি হত্যার অস্ত্র হয় তাহলে সেটা যথেষ্ট শক্তিশালী। কারণ কোনও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পায়নি পুলিশ। এদিকে প্রতিবেশীর কথা অনুযায়ী তমাল নিজেই লোকটিকে ঘরে ঢুকিয়েছে। অবশ্য পুলিশ এলে সেটাই স্বাভাবিক। শিবাঙ্গী প্রতিবেশীকে জিজ্ঞেস করে, ‘পুলিশ কখন বেরিয়েছে দেখেছেন?”

-না ম্যাডাম। ওটা আর দেখিনি ।

স্বয়ম্ভুর প্রশ্ন, ‘আপনি বুঝলেন কী করে উনি পুলিশ? পুলিশের গাড়িতে এসেছিলেন?”

-না। কোনও গাড়ি তো দেখিনি। আমি যখন দেখলাম তখন পুলিশ তমালের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে। তমাল ওনাকে ঘরে ঢুকিয়ে নিল ।

-ক’জন এসেছিল?

-একজনই।

-মুখ দেখেছেন?

-না স্যার। মুখ ঢাকা ছিল। মাস্কে।

স্বয়ম্ভু প্রশ্ন করতে করতে ভদ্রলোকের দিকে ঝুঁকে এসেছিল। মাস্কে মুখ ঢাকা শুনে সটান মাথা তুলে দাঁড়াল। শিবাঙ্গীর দিকে তাকাল। এবার ইন্সপেক্টর সমাদ্দার প্রশ্ন করলেন ভদ্রলোককে, ‘তাহলে আপনি কী দেখে বুঝলেন যে লোকটা পুলিশ?’ ভদ্রলোক হাসলেন। যেন এই আহাম্মক পুলিশটা কী বোকার মতই না প্রশ্ন করলেন। কাঁধ নাচিয়ে বয়স্ক বললেন, ‘কেন? পোশাক দেখে। খাঁকি রঙের পোশাক পরে ভরদুপুরে আর কে আসবে?

-খাঁকি রঙের?

এই কথাটা স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গীর মুখ থেকে একসঙ্গে বেরিয়েছে। লোকটি আরও জোরের সঙ্গে বললেন, ‘হ্যাঁ। পুলিশের যেরকম পোশাক হয়। অবশ্যি এনার দেখছি সাদা। কিন্তু ওর কোমরে বন্দুকও তো ছিল।’ ভদ্রলোক ওনার কথার প্রেক্ষিতে প্রমাণ দিয়েই চলেছেন। স্বয়ম্ভূ আর সমাদ্দার একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল ।

-কী হল বলুন তো? ভুল বললাম কিছু?

বয়স্ক ভদ্রলোকটি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে প্রশ্নটি করলেন। স্বয়স্তু তৎক্ষণাৎ স্মিত হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল, ‘কী নাম আপনার?”

-অমর দাস।

-অনেক ধন্যবাদ অমরবাবু আমাদের সাহায্য করার জন্য। শুধু এরপর থেকে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখবেন। এরপর যদি এরকম কোনও পুলিশ দেখেন এ পাড়ায় ঘোরাঘুরি করছে তাহলে তক্ষুনি লোকাল থানায় ফোন করে জানাবেন। কারণ সেই পুলিশটির নকল হবার সম্ভাবনাই বেশি।’

-তাই নাকি? কেন বলুন তো?

-কোলকাতা পুলিশের পোশাক সাদা। একমাত্র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ বা তার ওপরের পদমর্যাদার কেউ তাঁদের খাঁকি পোশাক। বা আর পি এফ অথবা কনস্টেবলদের পোশাক খাঁকি। সেরকম কেউ একা একা এইভাবে আসবেন না।

অমরবাবু চুপ করে ঘাড় নাড়লেন। আদৌ কিছু বুঝলেন কিনা উনিই জানেন।

স্বয়ম্ভূ গাড়ির দিকে এগোতে এগোতে শিবাঙ্গীকে বলল, ‘পুরোটাই নকল শিবাঙ্গী। আততায়ী পুলিশের বেশে এল। ঘরে ঢুকল। তারপর কাজ সেরে বেরিয়ে গেল।’

-শুধু চালে ভুল হয়ে গেল। সাদার বদলে খাঁকি ।

-ওটাই প্রশ্ন। যে আততায়ী এত বুদ্ধি করে মানুষ খুন করবে। শহরের রাস্তা থেকে জলজ্যান্ত মানুষকে কিডন্যাপ করছে সে এইটুকু জানবে না?

গাড়ির কাছে পৌঁছে খানিক ভাবল স্বয়ম্ভু। সমাদ্দারও সঙ্গে এসেছিল। এবার তাঁর উদ্দেশ্যেই স্বয়ম্ভু বলল, ‘সমাদ্দারবাবু, আপনি বডিটাকে তাড়াতাড়ি ফরেন্সিকে পাঠাবার ব্যবস্থা করুন। আমি কথা বলছি।’ -শিওর স্যার।

স্বয়ম্ভূ গাড়িতে উঠল। উল্টোদিক দিয়ে উঠে বসল শিবাঙ্গী। গাড়ি ছাড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *