২১
দিয়ার বাড়িতে খবর পৌঁছেছে। পর্ণশ্রী পল্লি পুলিশ স্টেশনের হস্তক্ষেপে সেটা সম্ভব হয়েছে। বাড়িতে বাবা, দাদা, বৌদি আর তাদের এক ছেলে ছাড়া আর কেউ নেই। দাদা আসতে চাইছিল না। বোনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক নেই দাদার। বাবার সঙ্গেও একই। কিন্তু বাবা তো, মেয়ের এমন খবর পেয়ে আসতে তো হবেই। পুলিশের সঙ্গে বয়স্ক মানুষটাই এসেছিল। লালবাজারে বসেই খবর পেল স্বয়ম্ভু। কিন্তু সব কথা যে আদৌ ওর মাথায় ঢুকেছে তা বলা যায় না। খবরটা যিনি দিতে এসেছিলেন হাত নেড়ে তাকে চলে যেতে বলে স্বয়ম্ভু। ওর চোখ এখন পেনড্রাইভ থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইলগুলোর দিকে। প্রাঞ্জলের প্রচেষ্টায় যেটুকু উদ্ধার করা গেছে তা দিয়ে এই কেসের মোড়টাই ঘুরে যেতে বসেছে। দীপায়ন আর মৃত্তিকার বিয়ের ছবি, মেয়ে হবার পরে ওদের দুজনের একসঙ্গে হাসিখুশি ছবি, মৃত্তিকার প্রেগনেন্ট থাকাকালীন কিছু ইউ এস জি রিপোর্টের স্ক্যানড কপি এবং দীপায়নের যে উপন্যাসটি এখনও প্রকাশের আলোয় আসেনি তার পিডিএফ কপিটি পাওয়া গেছে পেনড্রাইভ থেকে। যেগুলোকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছিল। যাতে বোঝা না যায় এই পেনড্রাইভটি আসলে কার! তার জায়গায় পুরে দেওয়া হয়েছে খুনের ভিডিয়োটা। এই মুহূর্তে স্বয়ম্ভুর মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রমাণ পাওয়ার আনন্দে হাসবে নাকি রহস্যের চোরা স্রোতে হারিয়ে যাবার ভয়ে কুঁকড়ে যাবে! মৃত্তিকার ঘরেই যে বসে আছে স্বামীর বেশ ধরে সেই কি তাহলে আসল খুনি! নাকি খুনের সঙ্গে শুধু জড়িত! কিন্তু খুনগুলো দীপায়ন কেন করবে? মোটিভ কী? বেচারি মৃত্তিকা জানেও না ও কার সঙ্গে দিবারাত্র ঘুরছে, ফিরছে, ঘুমোচ্ছে, সহবাস করছে। পান থেকে চুন খসলেই তলিয়ে যাবার অথৈ সম্ভাবনা। নাহ, কুঁকড়ে যাবার ছেলে স্বয়ম্ভু নয়। চট করে মোবাইল কানে দিল। উলটোদিক থেকে হ্যালো ভেসে আসতেই সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিল, ‘ঠিকুজিকুষ্ঠি উদ্ধার করা গেছে?”
-না স্যার। সারচিংয়ে গেছে। কালকের মধ্যে আশা করছি পেয়ে যাব সব।
-চাপ দাও। জলদি চাই ।
-শিওর স্যার।
ফোনটা রেখে প্রাঞ্জলের দিকে তাকাল স্বয়ম্ভু। মুখে আলতো হাসি। তারপর ছেলেটির কাঁধ চাপড়ে বলল, ‘আমার তরফ থেকে একটা বিরিয়ানি পাওনা রইল প্রাঞ্জল!’ প্রাঞ্জল তো আহ্লাদে আটখানা। ঘরের মধ্যেই বছর পঁয়তাল্লিশের একটি লোক ডেস্কটপের সামনে বসে বলে উঠল, ‘গোয়েন্দারাও ঘুষ দেয় তাহলে!’ স্বয়ম্ভু ঘুরে বসল। লোকটির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘অ্যাপ্রিসিয়েশনটা যদি ঘুষ হয় তাহলে তাই।’ লোকটি দমল না। চিবিয়ে চিবিয়ে বলে উঠল, ‘অ্যাপ্রিসিয়েশনটা যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে ব্যক্তিবর্গের জন্য হয় তাহলে সেটা ঘুষ বলে পরিগণিত হয় না।’ ঘরের মধ্যে একটা গুনগুন, খিসখিস হাসির রব উঠল। স্বয়ম্ভু বলল, ‘বেশ তাই-ই হবে।’
-মঙ্গল হোক। জয় শিব স্বয়ম্ভু। তা শিবের পাশে শিবাঙ্গীটি কই? তেনার কি আজ হলিডে মুড?
-না। ফ্যামিলি মুড। আমিই বললাম আজ ওর বাবা মায়ের কাছে থাকা উচিত।
-ও হো, হ্যাঁ হ্যাঁ। কী বিপদ দেখো দিকি!
শিবাঙ্গীর বাড়ির অবস্থা ভেবে বেফাঁস মজা করার জন্য লোকটি নিজেই একটু লজ্জিত হল।
-স্যার আসব?
স্বয়ম্ভু বলল, ‘হ্যাঁ বিকাশ এসো।’ হাড়ের ওপর চামড়া জড়ানো ছেলেটি এগিয়ে এসে বলল, ‘আপনার অনুমানই ঠিক। প্রথম তিনটে হাতের লেখাই এক। কিন্তু আজ সকালে যেটা দিলেন মানে প্রুফ দেখা কাগজটা সেখানে কিন্তু অন্য লোকের হাতের লেখা।’
-কী বলছ? দুজন?
-হ্যাঁ স্যার। আমি শিওর।
স্বয়ম্ভুর মুখে প্রাঞ্জল যে স্বস্তির হাসিটা ফুটিয়ে তুলেছিল সেটা নিমেষে উধাও হয়ে গেল। আবার মেঘ করে এল এক রাশ। স্বয়ম্ভূ মোবাইল কানে দিয়ে ড্রাইভারকে বলল, ‘তপন আমি বাড়ি যাব। আসছি।’ চেয়ার ছেড়ে গটগটিয়ে বেরিয়ে গেল । ডেস্কটপে কাজ করে চলা রসিক লোকটি বলে উঠল, ‘প্রাঞ্জল! বিরিয়ানিটা গেল মনে হচ্ছে। যত নষ্টের গোড়া এই হাড়গিলেটা। আসার আর সময় পেলে না। এই তোর নাম বিকাশ কে রেখেছিল বল তো?”
বিকাশ আকাশ থেকে মাটিতে একেবারে হুড়মুড়িয়ে পড়ল। ছ্যারছ্যার করে কথা শুনিয়ে দিল লোকটি, ‘গতর আর বুদ্ধি কোনওদিকেই তো বিকাশের লেশমাত্র নেই।’
কড়া করে এক কাপ কফি নিয়ে এসে বিছানায় বসল স্বয়ম্ভু। এই বাড়িতে এমনিতেই দুজন মানুষের বাস। তার মধ্যে আবার একজন নেই । বাড়িটা যেন খাঁ খাঁ করছে। একলা থাকতে ভালো লাগে না স্বয়ম্ভুর। এখন আবার ল্যাপটপে সেই বীভৎস বিচ্ছিরি ভিডিয়োটা চালিয়ে বসতে হবে ওকে। সকালে মৃত্তিকাদের বাড়িতে সম্পূর্ণটা দেখতে পারেনি। গা গুলিয়ে উঠেছিল। দিয়ার পেটের চামড়া ভেদ করে ছুঁচালো জুতোটা ঢুকে যাচ্ছে। স্তন ফেটে রক্তে ভিজে উঠছে। চোখের সামনে থেঁতলে যাচ্ছে পুরো শরীরটা । উফফফ! কী নৃশংস! তার ওপরে আবার গান, আজ না ছোডুঙ্গা তুঝে দমদমাদম। গানটা সিনেমাতেও হিরো-হিরোইনের পাঙ্গা নেবার প্রেক্ষাপটে ব্যবহার হয়েছিল। ‘রিভেঞ্জ’ এই একটাই শব্দ এখন স্বয়ম্ভুর মাথায় পাক খাচ্ছে। ইচ্ছে না থাকলেও ভিডিয়োটা আবার চালাল স্বয়ম্ভু। সেই একই দৃশ্য। তবে সকালের চেয়ে একটু কম ঘেন্না করছে। আসলে প্রথম ধাক্কাটা সয়ে নিয়েছে মস্তিষ্ক। যে ঘরে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে চলেছে সেটা বেশ অন্ধকার। একটু ভালো করে দেখলে বোঝা যাচ্ছে কোনও একটা সিঁড়ির নীচের ঘরে এটা ঘটছে। মাথার ওপরের সিলিংটা স্লাইডিংয়ের মতো নেমে এসেছে। অর্থাৎ ওখান দিয়ে সিঁড়ি উঠে গেছে ওপরের দিকে। মোবাইলটি একদম স্থির। বোঝাই যাচ্ছে কোনও স্ট্যান্ডে রাখা হয়েছে। বেশ কায়দা করেই রাখা যাতে খুনির মুখ ধরা না পড়ে ।
কফির কাপে দুটো চুমুক দিল স্বয়ম্ভু। হঠাৎ ঠক করে কাপটা খাটের পাশের টেবিলের ওপর রাখল। ভেতর থেকে একটা ঝটকা অনুভব করল। এটা কী দেখল সে? ভিডিয়োটা একটু রিওয়াইন্ড করে আবার চালায়। খুনি লাফাচ্ছে। লাফিয়ে পা-টা নীচের দিকে নেমে আসার সময় তার গায়ের কালো জোব্বাটা বেশ খানিকটা ওপরে উঠে গেল। পা-টা আউট অফ ফোকাস। কিন্তু মোবাইলে সাবজেক্ট আর অবজেক্টের প্লেস চেঞ্জ হলে আলোর তারতম্য ঘটে। তখন অনেক সময়েই অস্পষ্ট ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবার উল্টোটাও ঘটে। তেমনই এক সন্ধিক্ষণে ভিডিয়োটাকে বারবার পজ করছে স্বয়ম্ভু। একটি বিশেষ জায়গা পজ করে জুম করল। মুহূর্তে চোখটা বিস্ফারিত হয়ে গেল। ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখটা উঠে গেল ফাঁকা দেয়ালটায়। পাশে জ্বলা টেবিল ল্যাম্পের আলোয় স্বয়ম্ভুর মুখটা উদ্ভাসিত। কোনও কিনারা পেল? নাকি আরও কোনও ভয়ানক সর্বনাশের ইঙ্গিত সামনে এসে দাঁড়াল?
ভাবনার জগত থেকে খানিক বিরতি নিয়ে ভিডিয়োটা আবার প্লে করল স্বয়ম্ভু। দিয়ার শেষ নিশ্বাসটা বেরিয়ে গেছে। ক্যামেরার ফোরগ্রাউন্ডে দিয়ার মাথাটা এলিয়ে পড়েছে। চোখদুটো বিস্ফারিত হয়ে কপালের দিকে উলটে ক্যামেরার সামনে। যেন কোনও পিশাচের ঘুম ভেঙেছে। জিভটা মুখের বাইরে এসে নেতিয়ে পড়েছে। তবু লাফিয়ে চলেছে আততায়ী। ক্যামেরাটা একটু নড়ে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল আততায়ীর লাফানো। থেমে গেল গান। ঠিক তখনই আরও একটা শব্দ। কোথাও কোনও বাসন পড়ল! খুব সামান্য সময়ের জন্য বোঝা গেল শব্দটা। বারবার শুনল স্বয়ম্ভু। হচ্ছিল তো গান তাও খালি গলায় কতগুলো মেয়ে গাইছিল। হঠাৎ করে শেষের শব্দটা ধন্দ্ব লাগিয়ে দিল। এই শব্দটা কীসের? এই ঘরটাই বা কোথায়? ঘরের দেয়ালে এমন কোনও মোটিফও চোখে পড়ল না যাতে পরে চিহ্নিত করতে সুবিধে হয়। আরও একটা ব্যাপার স্বয়ম্ভুকে ভাবিয়ে তুলল। দিয়ার পায়ের আঙুলগুলো খুনি কখন কাটল? মরে যাবার পর? নিশ্চয়ই তাই। নইলে দুপায়ের আঙুল কেটে নেবার পরেও এতক্ষণ এই তীব্র অত্যাচার সহ্য করে বেঁচে থাকা অসম্ভব। খুনি তো এইভাবেই মেরে ফেলল। তাহলে পায়ের আঙুল কাটল কেন? আবারও কাউকে পাঠিয়ে ভয় দেখাবে বলে? নিজেই মাথার চুলগুলোকে ঘেঁটে দিল স্বয়ম্ভু। কিচ্ছু মাথায় আসছে না। কেবল অজস্র প্রশ্নের ঢেউ আছড়ে পড়ছে মস্তিষ্কের কোষে কোষে।
ড্রয়ার থেকে একটা খাতা বের করে খসখস করে লিখল স্বয়ম্ভু, ‘দীপায়ন মিথ্যে বলল, কেন?’ লাঞ্চ করে আসার পরই রঞ্জিতের ঘরে ঢুঁ মেরে ছিল স্বয়ম্ভু।
-রঞ্জিত হল?
-হ্যাঁ স্যার। গতকাল রাত দশটা নাগাদ বাসন্তী দেবী কলেজের কাছ থেকে বেরিয়ে দীপায়ন চ্যাটার্জি আচার্য জগদীশচন্দ্র রোড ধরে বেনিয়াপুকুর হয়ে সোজা সুরিলেনে গিয়ে থামে।
-সুরিলেন?
-হ্যাঁ স্যার।
-মাঝে আর কোথাও দাঁড়ায় না? স্পেশ্যালি তালতলায় জোড়া গির্জা না কি যেন আছে ওখানে?
স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে একটু দেখে রঞ্জিত বলে, ‘না স্যার। সেরকম তো কিছু পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে ওই ট্র্যাফিকে গাড়ি দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তাও বেশিক্ষণ হয়। এক্কেবারে সুরিলেনে গিয়ে দাঁড়ায়।
-দাঁড়াবার কতক্ষণ পরে সুইচড অফ হয়?
-মিনিট পাঁচেক পর ।
-আচ্ছা, কটা নাগাদ সুরিলেন ঢোকে?
-মোটামুটি এগারোটা দশ-পনেরো।
কথাটা শোনামাত্রই স্বয়ম্ভুর মনে পড়ে যায় শিবাঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে কলেজস্ট্রিট থেকে ফেরার সময়ের কথা। তপন ওদের সুরিলেনের মধ্যে দিয়েই নিয়ে এসেছিল। গলি থেকে বেরোবার আগেই একটা মোটরবাইক উল্টোদিক থেকে এসে ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টি আর বাইকের গতিতে যতটুকু দেখা সম্ভব হয়েছিল তাতে বাইক চালকের গায়ে রেনকোটই পরা ছিল। মুখ দেখা যায়নি হেলমেট, বৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবে। এদিকে আজ সকালেই মৃত্তিকাদের বাড়ি থেকে বেরোবার সময় দীপায়নের বাইকটা বাইরে দাঁড় করানো ছিল। পিছনের চাকা এবং তৎসংলগ্ন বাইকের গায়ে প্রচুর কাদা জলের ছিটে। ওদিকে কলতলায় রেনকোট শুকোচ্ছিল দীপায়নের বাড়িতে। তার মানে কাল রাতে সেই সুরিলেনে গিয়েছিল? কেন? কার কাছে? ফুলবাগানে এলে তো সুরিলেন কোনওভাবেই ধরবে না। আগামীকাল ইন্সপেক্টর সমাদ্দার সিসিটিভির ফুটেজ দিলে এটা শিওর হওয়া যাবে।
স্বয়ম্ভু আবারও খাতায় লিখল, ‘অরুণা মারা যাবার দিন সুরিলেনের মন্দিরে যায়। ওই অঞ্চল থেকেই অরুণার ক্যাব ড্রাইভারের পোশাক পালটে যায়।’ এইটা লিখতে লিখতেই চড়াত করে মাথার মধ্যে আরও একটা কথা খেলে যায় স্বয়ম্ভুর। আবার লেখে সে, ‘ছিল স্ট্রাইপ দেওয়া বা চেক কাটা শার্ট। হয়ে যায় কালো বোরখা বা জোব্বা। এদিকে ভিডিয়োতে খুনি একইরকম কালো রঙের জোব্বা বা বোরখা পরে। সেই ড্রাইভার আর এই খুনি কী একই লোক? যদি তাই হয়, তাহলে কে সে? শ্রীকুমার? কিন্তু এখানে দুজন ব্যক্তি আছে। দ্বিতীয় জন কে? দীপায়ন? কিন্তু কেন? দীপায়নের সঙ্গে শ্রীকুমারের দিদি শ্রীদেবীর সম্পর্ক কী? নাকি প্রিয়াংশু?”
প্রিয়াংশুর নামটা লিখতেই হারুনের কথাগুলো মনে হল স্বয়ম্ভুর। হারুন মণ্ডল একজন বিশ্বস্ত ইনফর্মার। প্রিয়াংশুর ওপর সন্দেহ হতেই তার ওপর নজরদারি করবার জন্য হারুনকে ফিট করে স্বয়ম্ভু। আজ সকালে হারুন ফোন করে জানিয়েছে প্রিয়াংশু কালকে শিয়ালদা গিয়েছিল। তবে সুরিলেন নয়। নেতাজি ইন্সটিটিউট হলে কিছু অনুষ্ঠান হচ্ছিল। তবে কখন বেরিয়েছে সেটা হারুন দেখতে পায়নি। কেন? হারুন তো বলল একদম মেন গেটে বসেছিল। তাহলে প্রিয়াংশু বেরোল কোন গেট দিয়ে? লুকিয়ে পালাল?
মাথা চুলকে নিয়ে পেনটাকে আবার কাগজে ঠ্যাকাল। কী লিখবে, কোনটা লিখবে সেটা ভাবতে ভাবতেই স্বয়ম্ভূ পেন চালাল। ‘শ্রীকুমার যদি এই খুনগুলো করেই তাহলে প্রিয়াংশুকে কেন মারছে না? আসল কালপ্রিট তো সে।’
‘শ্রীদেবীর রেপ কেসে তমালের নাম কেউ কোনওভাবে করেনি। তাহলে তমালকে কেন খুন হতে হল? কে খুন ?
করলতাও আবার পুলিশ সেজে!’ ‘তৰ্পণা আসলে কে? শ্রীদেবীর কেসের সঙ্গে তর্পণার সম্পর্ক কী? তর্পণার সঙ্গে দেখা করার পরেই কেন ওকে খুন হতে হল?”
‘ক্যাফের সিসিটিভিতে দেখা গেছে, তৰ্পণা না থাকাকালীন তার ব্যাগ থেকে একটা ফোন বের করে কানে দেয় তমাল। সেটার পরেই খুব তড়িঘড়ি ব্যাগে পুরে দেয়। কেন? তারপর তর্পণা আসতেই কোনওরকমে উঠে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যায় তমাল।’
‘তর্পণার একটা গোপন ফোন আছে। সেটা লুকিয়ে গেল কেন?’
এত পর্যন্ত লিখে দুহাত মাথার ওপর ছড়িয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল স্বয়ম্ভু। ডানহাতটা গিয়ে পড়ল একটা প্যাকেটের ওপর। কড়মড় করে শব্দ হল। ইসসস, একদম ভুলেই গিয়েছিল এটার কথা। প্যাকেটের ভিতরে সাজিয়ে রাখা একগুচ্ছ পাতা অর্ধেকটা বের করতেই বেরিয়ে এলো লেখাটা। কালো কালিতে মোটা করে টাইপ করা ‘অন্তরালের মানুষ’।
