২০
কিয়ারার প্রতিটা কথাই সঠিক। সাউথ সিটির সিসিটিভিতে যা যা দেখতে পাচ্ছে তার সবটার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে কিয়ারার সাক্ষ্য। শুধু এখানেও আগন্তুকের মুখে মাস্ক। তার নীচে চাপ দাড়ি, সম্ভবত। কারণ লোকটি খুব সুচতুরভাবে নিজের মুখটিকে পুরো জার্নিটাতেই নীচের দিকে করে রেখেছে। যাতে কোনও সিসিটিভিতেই সেটা স্পষ্ট ধরা না পড়ে। আরও একটি বিষয় লক্ষ করে স্বয়ম্ভু। কিয়ারা বলেছে, লোকটি রেস্টুরেন্টের ড্রেস পরেই ছিল। আসলে লোকটি সাদা জামা আর কালো প্যান্ট পরে আছে। যেটা ওয়েটারদের পোশাক । তাই তাড়াহুড়োতে মনে হয়েছে লোকটি রেস্টুরেন্টের। ওদিকে ধরে নেওয়া যায় এই লোকটিও ডিজেকে ইনভাইটেড গেস্টের পরিচয় দিয়েছিল। তাতেও অবিশ্বাস করার জায়গা নেই। কারণ লোকটি আদতে রেস্টুরেন্টের কর্মচারী নয় তাই ডিজে গেস্টের পরিচয়টাই বিশ্বাস করেছে। অতিথিরা সাদা কালো কম্বিনেশন তো পরতেই পারেন। প্রবল বৃষ্টি আর এলোপাথাড়ি হাওয়ার জন্য রাস্তাঘাট ঝাপসা। তার মধ্যেও গাড়িটাকে দেখার চেষ্টা করছে স্বয়ম্ভু। ক্যামেরাটা জুম করতেই গাড়িটার ছবি কাছে চলে আসছে ৷ কিন্তু সেটাও ফাটা। ‘দেখো তো নম্বরটা পড়তে পারছ?’ কম্পিউটারে বসা ছেলেটি ভীষণ ভালো করে দেখে বলল, ‘স্যার, পুরোটা তো বোঝা যাচ্ছে না। তবে লাস্ট তিনটে ডিজিট নাইন এইট নাইন মনে হচ্ছে।’ হাতের কাছে একটা কাগজ আর একটা পেন টেনে নম্বরটা বড় করে লিখল স্বয়ম্ভু। নম্বরটার দিকে খানিক চেয়ে রইল। চোখ বুজল। বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলটা কপালের মাঝখানে চেপে ঘষতে লাগল। পেন দিয়ে নম্বরটার ওপর বেশ কয়েকবার বোলাল। কোথায় দেখেছে নম্বরটা? নাইন এইট নাইন পরপর ছিল। শেষ কয়েকদিনেই দেখেছে স্বয়ম্ভু। কিন্তু কোথায়? চোখটা আবার সিসিটিভির ফুটেজের ওপর রাখল। তক্ষুনি মনের গহনে একটা আলোর ইশারা। গাড়ির পিছনের কাচে বজরংবলীর স্টিকার। এটা মোটেও আলাদা কিছু নয়। এখন রাস্তাঘাটে আকছারই এমন স্টিকার গাড়ির কাছে, অটোর গায়ে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু এইটা স্পেশ্যাল। সেই রাতেও গাড়িটাকে ওভারটেক করতে গিয়ে স্বয়ম্ভুর চোখে পড়েছিল স্টিকার আর গাড়ির নম্বর। স্বয়ম্ভু বলল, ‘গাড়ির নম্বরটা ওয়ান নাইন এইট নাইন। উনিশশো ঊননব্বই।’ ছেলেটি চট করে ছবিটা আবার দেখে। এইবার ছেলেটির মনে হল, ঝাপসা অংশটায় ওয়ান সংখ্যাটাই যেন লেখা। ‘হতে পারে স্যার। নাইনটিন এইট্টি নাইন-ই লেখা আছে বোধহয় ৷’ -বোধহয় নয়। ওটাই লেখা।
পিছনেই দাঁড়িয়েছিল অভিনব। সে বলল, ‘এতটা শিওর কী করে হচ্ছেন স্যার?’
-শেষ দুদিনের মধ্যেই এই গাড়িটাকে আমি দেখেছি।
-কোথায়?
-শিয়ালদার কাছে।
-সেই গাড়িটাই যে এটা বুঝলেন কী করে? নম্বরটা তো স্পষ্ট নয়।
স্বয়ম্ভু হাসল। বলল, ‘নম্বর স্পষ্ট নাই হতে পারে। বজরংবলীর স্টিকারও অজস্র গাড়িতে থাকতে পারে অভিনব। কিন্তু সেই স্টিকারগুলোর সবকটারই কী বাঁদিকটা ছেঁড়া হবে?’
স্বয়ম্ভুর কথা শুনে কৌতূহলী হয়ে স্ক্রিনের দিকে এগিয়ে এল অভিনব। মনে মনে স্বয়ম্ভুর অবজার্ভেশনের তারিফ করে ঠোঁট উলটে হাসল। স্বয়ম্ভু মজার ছলে বলল, ‘শুধু হাসলে হবে? গাড়িটার খোঁজ লাগাও। শেষ পনেরোদিনে, না না, শেষ তিনদিনে গাড়িটা কোথায় কোথায় গেছে? কে কে ভাড়া নিয়েছে সব বের করে ফেলো।’
-এখুনি করছি স্যার।
অভিনব দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেল। টেবিলের ওপর রাখা মোবাইলটা গোঁ গোঁ শব্দ করে কেঁপে উঠল। শিবাঙ্গী কলিং। -বলে ফেলো।
-খেয়েছেন?
প্রথমটায় হোঁচট খেল স্বয়ম্ভু। পরক্ষণেই বলল, ‘মা এখনও যায়নি?’ -জেঠিমা অনেকক্ষণ চলে গেছেন। আমি গাড়িতে তুলে দিয়েছি।
-ও। তার মানে এই প্রশ্নটা তোমার?
-হ্যাঁ। কেন করতে পারি না?
-হ্যাঁ তা পারবে না কেন? জুনিয়ররা সিনিয়ারদের ভালো মন্দ থাকার খবর নেবে এ আর এমন কী ব্যাপার? তবে তোমার কাছ থেকে অন্য প্রশ্ন আশা করেছিলাম।
-জানি। ওটা আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল।
-কোনটা?
-কিয়ারা কী বলল?
স্বয়ম্ভূ হাসল। মেয়েটা ভারী বুদ্ধিমান। শুধু খিদে পেলে আর মাথার ঠিক থাকে না বেচারির। স্বয়ম্ভু গড়গড় করে রচনা বলে গেল। শেষে বলল, ‘যেটা কিয়ারা জানে না সেটা হল, গাড়িতে উঠতেই ক্লোরোফর্ম স্প্রে করে দিয়েছে স্যানিটাইজের নামে। ঠিক এই কারণেই অপরাধীর মুখে মাস্ক। একটার বদলে দু-তিনটেও থাকতে পারে। তারপর গাড়িটা সাউথ সিটি থেকে বাইপাসে উঠেছে। ততক্ষণে গাড়ির মধ্যে দুজনেই অজ্ঞান। কিন্তু ওদের মোবাইলটা সুইচড অফ করতে ভুলে গিয়েছিল অপরাধী। তাই ওদের লোকেশন ট্র্যাক করে দেখা গেছে চিংড়িহাটার আগে বাইপাস ধাবা বলে একটা রেস্টুরেন্ট আছে। যেটা মেট্রোপলিটনে। সেই ধাবার পাশ দিয়ে গাড়ি ঘুরে ট্যাংরা এসেছে। খানিকক্ষণ দাঁড়িয়েছে। সরি তার আগে খানিক চক্কর কেটেছে। কারণ ফাঁকা জায়গা খোঁজ করতে হয়েছে তাকে। তারপর সেটা দেখে কিয়ারাকে গাড়ি থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে। বলতে পারো ছুড়ে ফেলেছে। মানে লোকটা বেশ ক্ষমতা রাখে। তার আগে গাড়ির মধ্যেই ভারী কিছু দিয়ে মেরে কিয়ারার পা ভেঙে দিয়েছে। তারপর ফেলেছে। এইখানে খেয়াল হয়েছে এই রে ফোন সুইচড অফ করা হয়নি তো। ব্যস, কাজ সেরে ফেলল। এরপর গাড়ি নিয়ে সোজা জাহান্নমে ।
-জাহান্নম!
-তা নয় তো কি স্বর্গ?
স্বয়ম্ভু কথা বলতে বলতে করিডোরে বেরিয়ে এসেছে। শিবাঙ্গী জিজ্ঞেস করল, ‘কিয়ারার পা ভাঙল কেন?’
-দুটো কারণে। জ্ঞান ফিরলেই যাতে হাঁটতে বা দৌড়োতে না পারে আর অন্য কোনও কিছু ভাবার আগেই যাতে ও পায়ের যন্ত্রণায় ছটফট করে। তাহলে আর দিয়ার কথা বলার মত অবস্থায় থাকবে না।
-বাপ রে বাপ।
-আরও একটা খবর আছে।
-কী স্যার?
-দিয়াও সেই রহস্যময় ফোনটা পেয়েছে।
-ম্যাও?
-ইয়েস। সঙ্গে একটা ভিডিয়ো যা দেখে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিল দিয়া। -তার মানে কী অরুণাকে খুন করার ভিডিয়োটা ওকে পাঠিয়েছিল?
-জানি না। যদি তাই পাঠায় তাহলে তো বীভৎস নৃশংস সেই ভিডিয়ো । সেটা দেখেও আমাদের কিচ্ছু জানাল না দিয়া? একটা মেয়ের কত মানসিক শক্তি থাকতে পারে? নাকি ভিডিয়োটায় অন্য কিছু ছিল!
-অন্য আর কী… হ্যাঁ আরেকটা জিনিস হতে পারে স্যার।
-কী?
-ভিডিয়োতে এমন কিছু ছিল যেটা শুধু ওকে ভয় দেখাতে নয়, ব্ল্যাকমেল করতে পাঠানো হয়েছিল। জাস্ট এমনি বলছি, ধরুন দিয়া কাউকে খুন করেছে। এবার সেই খুনের ভিডিয়োটা কেউ তুলে রেখেছে। এখন যে খুনগুলো করছে সেই হয়তো দিয়াকে দিয়ার করা অপরাধের ভিডিয়ো পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করতে চাইছে। বা ও যে খুন হবে সেই কথা বলতে চাইছে।
-ভুল বলোনি শিবাঙ্গী। কিন্তু সেটাই বা কী? আমাদের সামনে একমাত্র অপরাধ শ্রীদেবীর রেপ কেস। যেটা প্রিয়াংশুর বিরুদ্ধে উঠেছে। যদিও এখনও তাকে জেরা করা হয়নি। শালা সময়ই দিচ্ছে না। আমরা কিছু ভাবার আগেই সে কিছু একটা ঘটিয়ে বসে থাকছে।
-বহুদিনের প্ল্যানিং স্যার। নইলে এতটা নিখুঁত অপরাধ চট করে কেউ করতে পারে না ।
-সে তো বটেই। কিন্তু শ্রীদেবী এখন কোথায়? সে কী বেঁচে আছে? নাকি পাগল হয়ে কোনও মেন্টাল অ্যাসাইলামে আছে? নাকি তাকেও খুন করা… না না, এরা খুন করেছে এটা আমার মন বলছে না।
-এমনও হতে পারে স্যার, এরা হয়তো খুন করতে চায়নি। কোনওভাবে হয়ে গেছে।
স্বয়ম্ভূ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। কোনও উত্তর না পেয়ে শিবাঙ্গী বলল, ‘তবে হতে পারে অনেক কিছুই। কিন্তু এখন একটা জিনিসই হবে।’ -কী হবে?
-আপনার খাওয়া ।
চোখ উল্টোলো স্বয়ম্ভু। ‘বুঝতে পেরেছি, সুচিত্রা দেবী এসে আমার জুনিয়রের ভালোই মগজ ধোলাই করেছেন ।
-যদি করেই থাকে। অন্যায় তো কিছু করেননি। তার ওপর তিনি যখন আমার হারিয়ে যাওয়া মাসি তখন তো সে অধিকার তার আছেই । -কী কী কী?
স্বয়ম্ভূ প্রায় ভিরমি খায় আর কী! শিবাঙ্গী জোর দিয়ে বলল, ‘হারিয়ে যাওয়া মাসি ।’
-মানে?
-হে হে হে! আমার বাড়িতে আজ কত যে ড্রামা হয়ে গেছে ভাবতেও পারবেন না।
-শুনি একটু ছোটো করে ৷
-আপনার মামারবাড়ি তো রাণাঘাট?
-ছিল। এখন আর কেউ নেই ৷
-আমার মামারবাড়িও রাণাঘাট। আর জেঠিমা আর আমার মা দুজনেই ছোটবেলার সই। প্রাণের সই যাকে বলে ।
-বোঝো।
-তারপর আমার দাদুর পোস্টিং হয় আসানসোলে। মাকে নিয়ে চলে যায়। ব্যস, জেঠিমাও দু’হাত বাড়িয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে দেবদাসের পারোর মত চিৎকার করে বলেছিল, আরে ও অপর্ণাআআআআআ, ওয়াপস আনাআআআআআ!”
স্বয়ম্ভু গল্প শুনবে কী, হেসে খুন। আশেপাশে হেঁটেচলে বেড়ানো লালবাজারি লোকগুলো সন্দেহের চোখে স্বয়ম্ভুকে এক ঝলক দেখে নিয়ে চলে যাচ্ছে। খোশগল্প করছে স্বয়ম্ভু সেন! তাও আবার ফোনে! তার ওপর আবার হাসি। কেউ কেউ চোখ মেরে নীরব টিপ্পনি কেটে চলে যাচ্ছে। কতদিন বাদে এমন প্রাণখুলে হাসছে স্বয়ম্ভু ।
-তার মানে তুমি আমার মাসতুতো বোন।
-একদম না। একই জায়গায় থাকলেই কী ভাই বোন হয় নাকি? তাহলে তো দেবদাস আর পার্বতীও…
বলতে গিয়েও থেমে গেল শিবাঙ্গী। স্বয়ম্ভুও ব্যাপারটা বুঝে ওঠার জন্য চুপ হয়ে গেল কিছু মুহূর্ত। তারপর বলল, ‘হুমম। খুব চাপ!’
-আপনাকে আর চাপ নিতে হবে না। আপাতত খেয়ে নিন। রাখলাম।
ফোনটা কেটে গেল। স্বয়ম্ভুর বুকের বাঁদিকটা একটু যেন চিনচিন করে উঠল। নির্ঘাত গ্যাস হয়ে গেছে। অনেকক্ষণ খিদে পেয়েছে। ক্যান্টিনের দিকেই পা বাড়াল স্বয়ম্ভু।
আচ্ছা, গ্যাস হলে কি বুকের বাঁদিকটাই চিনচিন করে শুধু?
-স্যার, স্বয়ম্ভু স্যাআআর ।
দিব্যি ক্যান্টিনের দিকে এগোচ্ছিল। আবার কে পেছন থেকে ডেকে দিল। নাহ! আজ আর খাওয়া হবে বলে মনে হচ্ছে না স্বয়ম্ভুর। রঞ্জিত ছুটে আসছে। ‘কী ব্যাপার রঞ্জিত! খবর আছে?
ক্লিন শেভ মুখে হাসলে ছেলেটার দুটো টোল পড়ে গালে। গায়ের রং তামাটে। চুলে লালচে আভা। রঞ্জিত বলল, ‘হ্যাঁ স্যার। গতকাল দীপায়ন চ্যাটার্জির ফোন রাত এগারোটা দশের পর সুইচড অফ হয়ে গিয়েছিল। লাস্ট লোকেশন শিয়ালদা।’
-শিয়ালদা!
নিজেই বিড়বিড় করল স্বয়ম্ভু। স্মৃতির অতলে ডুব দিল নিমেষের জন্য।
-গতকাল সন্ধে থেকে রাতের মধ্যে আপনি কোথায় ছিলেন দীপায়নবাবু ? কলতলার দিকটা দেখতে দেখতে প্রশ্নটা করেছিল স্বয়ম্ভু।
-বাসন্তী দেবী কলেজের ওখানে একটা কোচিং আছে। ওখানে পড়াই ৷ সেটা কাল রাত ন’টা পর্যন্ত চলেছিল। কিন্তু তখনই বেরোতে পারিনি। এত বৃষ্টি পড়ছিল যে ওই সময় বাইক চালানো বিপদজনক হয়ে যেত। -আপনি বাইকে যাতায়াত
করেন?
-হ্যাঁ।
-তারপর?
প্রশ্নটা করতে করতেই বেগুনি রঙের রেনকোটের দিকে চোখটা আটকে গেল স্বয়ম্ভুর। কলতলার দড়িতে মেলা। দীপায়ন বলল, ‘প্রায় রাত দশটা বেজে গেল। বৃষ্টি কিছুতেই কমছিল না। কী করব কিছু ভেবে না পেয়ে জয় দুগগা বলে বেরিয়ে পড়লাম। বাড়ি ফিরলাম কখন জানেন? -কখন?
-রাত সাড়ে বারোটার পর।
-এত দেরি কেন?
-বীভৎস জ্যাম। যেখানে সেখানে জল জমেছে। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে এমন ঝেঁপে নামল আবার একটা দোকানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম কিছুক্ষণ। তারপর ….
-অত রাতে দোকান খোলা ছিল?
-না না। দোকান বন্ধ। দোকানের সামনে একটা শেড দেওয়া ছিল। তাই রক্ষে।
-কোথায়?
-অ্যাঁ?
-কোন জায়গায় অপেক্ষা করলেন?
-ওই তো ইসে… কোথায় দাঁড়ালাম যেন…. হ্যাঁ জোড়া গির্জার কাছে।
-জোড়া গির্জা?
-হ্যাঁ। তালতলা।
-বুঝেছি। মানে আপনি জগদীশচন্দ্র ধরে এসেছেন।
-হ্যাঁ হ্যাঁ ।
-আপনি কী ওটা দিয়েই যাতায়াত করেন রোজ?
-বেশিরভাগ সময়েই ।
-স্যার কিছু ভাবছেন?
রঞ্জিতের ডাকে সম্বিৎ ফেরে স্বয়স্তুর। মনে মনে মেলাতে চেষ্টা করছে কিছু কথার সঙ্গে প্রমাণ। ‘রঞ্জিত একটা কাজ কর তো, দীপায়নের লাস্ট কয়েকদিনের লোকেশনগুলো ট্র্যাক কর। কোথায় কোথায় গিয়েছিল। কতক্ষণ স্টে করেছে সব আমার ডিটেলস চাই।’
-শিওর স্যার। তবে একটু সময় লাগবে।
-কতক্ষণ?
-আজকের দিনটা।
-বেশ। আর একটু প্রদ্যুৎকে বলে দিয়ো আমি খেয়ে এসে ওর সঙ্গে বসব।
গালে টোল ফেলে হেসে ঘাড় নাড়ল রঞ্জিত। স্বয়ম্ভূ আবারও ক্যান্টিনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকল। হঠাৎ কী মনে হওয়াতে আবার ঘুরে রঞ্জিতকে ডাকল। রঞ্জিত দ্রুত পায়ে এগিয়ে এল। শিয়ালদার এক্সাক্ট কোন লোকেশনে ফোনটা সুইচড অফ হয়েছে সেই অ্যাড্রেসটা নোট করে রাখতে বলল স্বয়ম্ভু। খেয়ে এসে দেখবে। রঞ্জিত আবারও ঘাড় নেড়ে চলে গেল।
ক্যান্টিনে এসে বসল স্বয়ম্ভু। ঘড়ি দেখল। প্রায় চারটে বাজতে চলেছে। খাবারের অর্ডার দিয়ে মোবাইল কানে দিল। ‘স্বয়ম্ভু সেন বলছি মিস্টার সমাদ্দার। আপনার একটা হেল্প চাই। আজই ।’
