• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

ব্ল্যাক করিডর – ১ : সমৃদ্ধ দত্ত

লাইব্রেরি » সমৃদ্ধ দত্ত » ব্ল্যাক করিডর – ১ : সমৃদ্ধ দত্ত
ব্ল্যাক করিডর - ১ : সমৃদ্ধ দত্ত
লেখক: সমৃদ্ধ দত্তবইয়ের ধরন: থ্রিলার রহস্য রোমাঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার

ব্ল্যাক করিডর – ১ : সমৃদ্ধ দত্ত

BLACK CORRIDOR
The Chronicles of Dark Hours (based on real story) in Bengali
by SAMRIDDHA DUTTA
প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০১৯, মাঘ ১৪২৫
প্রচ্ছদ : মৃণাল শীল

.

মানসী দত্ত, শ্বেতম দত্ত
এবং
শ্ৰেয়ম দত্ত

.

শ্রীরামকৃষ্ণ শরণম

.

ভূমিকা

আমাদের সকলের মধ্যে একজন করে অপরাধী আছে। মন আর মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যপ্রণালী হয়তো স্থির করে দেয় কোনও এক বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই অপরাধী বহির্জগতে অবতীর্ণ হবে, নাকি সংযত হয়ে মনোজগতের অন্দরমহলেই রয়ে যাবে। ঠিক এই কারণেই এক চরম অপমান কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষতির মুহূর্তে আমাদের মনের ইচ্ছা হয় কাউকে খুন করতে। আমরা ঝগড়া, বিবাদ, মতান্তরের কোনও এক অসতর্ক মুহূর্তে মনে মনে বলেও ফেলি, ‘গলা টিপে খুন করে দেব একদিন’। মনে মনে কেন? প্রকাশ্যেও উচ্চারণ করি সেই ক্রোধজনিত হুমকি। আমার চূড়ান্ত ক্ষতি করেছে অথবা আমার পরিজনের সর্বনাশের জন্য কেউ দায়ী, এরকম পরিস্থিতির সামনে আমাদের মনে তাই জন্ম নেয় অন্তহীন রাগ। সেই ক্রোধ তৎক্ষণাৎ একটি বিচার চায়। ব্যক্তিগত বিচারই হল হত্যার সিদ্ধান্ত। কিন্তু কারও ক্ষেত্রে ওই উচ্চারণ নিছক মুহূর্তের এক মানসিক অবস্থান। সে কখনও তার মধ্যে থাকা অপরাধী সত্তাকে বাইরে এসে যথেচ্ছাচার করতে দেয় না। নিজেকে গুটিয়ে নেয় চরম কোনও পদক্ষেপের থেকে। সেই সংযমের কারণ সামাজিক বা আইনি ভয় হতে পারে, মানসিক নিয়ন্ত্রণ হতে পারে কিংবা কার্যকারণ ও পরিণামের বিশ্লেষণ শক্তি তাকে হয়তো সেই রাস্তায় যেতে নিবৃত্ত করে। এক্ষেত্রে প্রথাগত তথা পারিবারিক শিক্ষা একটি বিশেষ ভূমিকা অবশ্যই পালন করে। এবং সব থেকে বেশি ভূমিকা হয়তো পরিবেশ তথা আবহের। কোন পরিবেশে সে বসবাস করছে। সুতরাং মনোজগতে একই স্তরের অপরাধী দুটি মানুষের মধ্যে বাস করলেও, কারও অপরাধ প্রবণতা প্রকট হয়। আবার কেউ সেই মনোভাবকে দমিয়ে রাখতে সমর্থ হয়। তাই একই কারণে কেউ শত্রুকে হত্যা করতে উদ্যত হয়, কেউ মরিয়া ইচ্ছা থাকলেও সেটি বাস্তবায়িত করা থেকে নিজেকে সংযত করে। তাই কোনও ব্যক্তি বাস্তবিকই একটি হত্যা করে জেলে যায়। আবার কোনও ব্যক্তি মনে মনে অসংখ্য হত্যা করে এবং অপারগতার জ্বালা বুকে নিয়েই আপাতসরল দিনযাপন করে। এরকমই এক মনস্তাত্ত্বিক কারণে গল্প, উপন্যাস, সিনেমা, টিভি সিরিয়ালে অপরাধী তথা ভিলেনের চরম সাজাপ্রাপ্তির সময় পাঠক, শ্রোতা, দর্শকদের মধ্যে এক মানসিক তৃপ্তির জন্ম হয়। হিরো যখন ভিলেনকে ঘুসি মারছে অথবা গুলি করছে, দর্শকের মনোজগৎ আলোড়িত হয় এই ভেবে যেন তিনিই ওই শাস্তিটি দিচ্ছেন। তাই ওই শেষ দৃশ্যে উত্তেজিত, ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে দর্শক ও পাঠকও। অর্থাৎ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে অসংখ্য না পারা বে-আইনি পদক্ষেপ ওই পর্দায় কিংবা উপন্যাসের পৃষ্ঠায় প্রতিফলিত হচ্ছে, এটা দেখে এক আত্মসন্তোষের জন্ম হয়। আমরা তাই বারংবার ওইসব দৃশ্য দেখতে পছন্দ করি। পড়তে তৃপ্তি লাভ করি। ওঁইসব গ্রন্থ, ওইসব সিনেমা এভাবেই জনপ্রিয় হয়।

আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে একজন করে গোয়েন্দা আছে। পারিবারিক, আত্মীয়মহল অথবা পারিপার্শ্বিকে কোনও অস্বাভাবিক ঘটনার পিছনে আসল কারণটি কী সেটি জানা তথা উদ্ঘাটনের এক প্রবল বাসনা আমাদের তাড়িত করে সর্বদাই। আমরা অবিরত বিভিন্নভাবে জানার চেষ্টা করি ঠিক কী ঘটেছিল, কার সঙ্গে কার সম্পর্ক কেমন ছিল, ক্রস চেক করে যাচাই করি কে সত্য বলছে, এমনকী পরিচিত কারও গোপন জীবনরহস্য জানতে পারলে সেটিকে অস্ত্র হিসাবেও ব্যবহার করি সামাজিক আলাপচারিতায়। কখনও বা সেই ব্যবহার করা প্রবণতার কঠোর নামটি হয় ব্ল্যাকমেল। এই মনোভাবগুলির আড়ালে যে সাইকোলজি কাজ করে সেটি হল গোপন তথ্য জানার সুখ ও আগ্রহ। আত্মীয়বন্ধুদের কোনও এক গোপন জীবন অথবা ঘটনা আমি জেনে ফেললে অন্যদের থেকে নিজেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসাবেই আমরা প্রতিভাত করি। আমরা তর্কাতর্কির সময় নিজেকে সংযত করতে না পেরে বলেও ফেলি, ‘তোমরা কতটুকু জানো ওর সম্পর্কে? ও যা করেছে সেটা বললে চমকে যাবে’! এই যে অন্যদের চমকে দেওয়ার ইচ্ছা বা প্রবণতা এটি সর্বগ্রাসী। তাই আবহমানকাল ধরেই গোপন তথ্য, অজানা জীবন, আড়ালে থাকা রহস্য জেনে ফেলার মতো তৃপ্তি এক তীব্র মনস্তত্ত্ব। আর ঠিক সেই কারণেই যখন আমরা রহস্যকাহিনি পাঠ করি, তখন গোয়েন্দার পাশাপাশি আমরাও মনে মনে প্রতিটি পৃষ্ঠাই বিশ্লেষণ করতে করতে এগোই। শেষ পৃষ্ঠার আগেই আমরা বুঝে ফেলার প্রাণপণ প্রয়াস করি অপরাধী আসলে কে? প্রত্যেক রহস্যকাহিনিতেই গোয়েন্দার সঙ্গে সঙ্গে পাঠকও একজন করে গোয়েন্দাতেই রূপান্তরিত হন। কোনও পাঠকের আগাম আন্দাজ মিলে যায়। কেউ হয়তো মেলাতে পারেন না। কিন্তু আমাদের মধ্যে বাস করা গোয়েন্দা সত্তা অবিরত আমাদের সঙ্গে চলতে থাকে সামাজিক পরিসরেও। সারাক্ষণ সে খতিয়ে দেখে সামনের লোকটির চোখের গতিপ্রকৃতি কেমন। সে কি মিথ্যা বলছে? আমাদের আলাপচারিতার মধ্যেই ওই তৃতীয় নয়নটি ক্রমাগত অবলোকন করে আবিষ্কারের চেষ্টা করে অস্বাভাবিক কোনও মুহূর্ত অথবা ঘটনাপরম্পরাকে। তারপর আমরা একাকী হলে সেই সত্তা আমাদের গোপনে শোনায় সে কী কী দেখেছে এবং সন্দেহ করেছে। আমাদের ভিতরে থাকা গোয়েন্দাটির বিশ্লেষণে আমরা চালিত হই পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

এই প্রাথমিক গৌরচন্দ্রিকার কারণ একটি জানা অবস্থান আরও একবার উচ্চারণ করা। সেটি হল সহজাতভাবেই আমরা কৌতূহলী, রহস্যভেদ সন্ধানী এবং গোপন মনোসিন্দুকের তালা ভাঙতে আগ্রহী। স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে সবথেকে দ্রুত যে তিনটি সেক্টর পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করে হরিহর আত্মা হওয়ার দিকে এগিয়েছে এবং বছরের পর বছর যৌথ ভেঞ্চারে সমান্তরাল অর্থনীতির জন্ম দিয়েছে, সেগুলি হল রাজনীতি, কর্পোরেট এবং মাফিয়াতন্ত্র। এই তিন পাওয়ার করিডর একজোট হলে যে সর্বশক্তিমান হবেই তা নিয়ে সংশয় নেই। যে অপরাধীকে কিছুতেই বাগে আনা যায় না, আমরা বারংবার লক্ষ করেছি তার পিছনে রাজনৈতিক ক্ষমতার বরাভয় রয়েছে। যে কর্পোরেটের সম্পদ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যে সংস্থা অন্য যোগ্যতরদের ছাপিয়ে একের পর এক সরকারি কন্ট্রাক্ট আদায় করে নেয়, তার ওই সাফল্যের পিছনে থাকে রাজনীতির আশীর্বাদ। আর কর্পোরেট ও রাজনীতির মধ্যে সূক্ষ্ম হাইফেনের মতো যোগবিন্দু হয়ে রয়ে যায় অপরাধের কালো জগৎ। এই কালো জগতের বাসিন্দা না হলেও এই রহস্যময় দুনিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ কিন্তু দুর্নিবার। দাউদ ইব্রাহিম সংক্রান্ত যে কোনও নতুন কাহিনি সংবাদমাধ্যমে উপস্থাপিত হলে সর্বাগ্রে সেটি পড়ে নিতে ইচ্ছা হয়। হাড় হিম করা হত্যাকাণ্ডের বিবরণ এবং তার পরবর্তী তদন্তকাহিনি, উপর্যুপরি উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে অবিরাম চর্চা যে তুমুল জনপ্রিয়, তার প্রমাণ টিভি চ্যানেলগুলির অন্তহীন কভারেজ আর সংবাদমাধ্যমের লাগাতার ফলোআপ স্টোরি। আমাদের মধ্যে অনেকেই এসব কভারেজের জন্য সংবাদমাধ্যমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। অর্থাৎ কেন সংবাদমাধ্যম এভাবে হত্যাকাহিনি, অপরাধপ্রবণতা, ক্রাইম থ্রিলার প্রচার করে? কিন্তু এই অভিযোগকারীরা এটা মনে রাখেন না যে, সংবাদমাধ্যম যদি দেখে এই প্রতিপাদ্যগুলি প্রচার বা সম্প্রচার করা সত্ত্বেও দর্শক কিংবা পাঠক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তাহলে কিন্তু সেগুলির প্রচার হবে না। সোজা কথায় এটা কিছুটা ব্যবসায়িক ডিমান্ড সাপ্লাইয়ের পাটিগণিত বললে কি মিথ্যাচার হবে? মনে হয় না। ঠিক এইভাবেই গোয়েন্দাকাহিনি বরাবরই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সাহিত্য বিভাগ। মননশীল, উন্নত মূল্যবোধসম্পন্ন, সামাজিক উত্তরণ তথা নির্মল ভালোবাসা অথবা জীবনের সাফল্য ব্যর্থতার অনুপম বার্তাবাহী গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধে আমরা মানসিক তৃপ্তি খুঁজে পাই ঠিকই। কিন্তু তার পাশাপাশি রহস্য, গোয়েন্দাকাহিনিও সমানভাবে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে।

ভারতের বিভিন্ন শহর ও রাজ্যে ঘটে যাওয়া বহু চমকে দেওয়া অপরাধ, রহস্যময় ঘটনাপরম্পরা, ফাঁস হয়ে যাওয়া চমকপ্রদ তথ্য অথবা শিহরন তৈরি করা নৃশংস হত্যাকাণ্ড সাড়া ফেলেছে বারংবার। সাধারণ অপরাধ, দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ বিস্ময়কর প্রবণতাগুলির সঙ্গে নব্বই দশকের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্ত হয়েছে নতুন এক প্রবণতা। সন্ত্রাস! সেই সন্ত্রাসের কারিগরদের আগে মনে করা হয়েছিল দূরাগত। প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকেই তারা আসে এবং ভারতকে টার্গেট করে মর্মান্তিক গণহত্যা করে চলে। কিন্তু ক্রমেই জানা যায় আমাদের আশেপাশে অতি নিরীহ আমজনতার মধ্যেই মিশে থাকে একইভাবে নিরীহদর্শন সন্ত্রাসবাদী অথবা তাদের সহায়কবৃন্দ। সিকিউরিটি এজেন্সির পরিভাষায় যাদের বলা হয় স্লিপার সেল। কীভাবে ঘটেছে কোনও একটি অপরাধ সেটি তো জানাই যায়।

কিন্তু যে কোনও গা শিউরে ওঠা অপরাধের আড়ালের প্ল্যানিংটি ঠিক কেমন? কারা জড়িত হল? কেমনভাবে এই অন্ধকার রাস্তায় একজন অপরাধী হাঁটতে শুরু করে? আপাতসরল কোনও একটি কাহিনি তথা ঘটনার পিছনে কোন গোপন গল্প লুকিয়ে রয়েছে? এসব আগ্রহ জাগ্রত হয় আমাদের মনে। কিন্তু সর্বদা সেই উত্তরগুলি পাওয়া সম্ভব হয় না। কালের নিয়মে অন্য কোনও সংবাদের ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় একদা তোলপাড় হওয়া একটি কাহিনিকে বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যায় সেই চাঞ্চল্যকর রহস্যগুলি।‘ব্ল্যাক করিডরে’র ভাবনার উৎপত্তি ঠিক এই আগ্রহ থেকেই। জানা ঘটনাপঞ্জির আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল? সেই জানার বাসনাই কৌতূহলের সঞ্চার করে। কর্মসূত্রে দিল্লি থাকা। তাই যখনই ছুটি নিয়ে কলকাতায় যাওয়া হয়, তখন নিয়ম হল, একদিন দু’দিন কলকাতায় বর্তমান পত্রিকার সদর দপ্তরে যাওয়া। পত্রিকা পরিচালকবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়া। ২০১৭ সালের এরকমই এক শেষ সেপ্টেম্বরে কলকাতার বর্তমান পত্রিকা দপ্তরে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করার ফাঁকে দীর্ঘ করিডরে মুখোমুখি দেখা জয়ন্তর সঙ্গে। সাপ্তাহিক বর্তমান পত্রিকার সম্পাদক, জয়ন্ত দে। ‘কী খবর’, ‘কেমন আছো’, ‘কতদিন থাকবে কলকাতায়’-এর চেনা বাক্যগুলির আদান-প্রদানের পর জয়ন্ত প্রস্তাব দিল, আচ্ছা আমাদের একটি ক্রাইম সিরিজ জাতীয় ব্যাপার করলে কেমন হয়? বললাম, ভালোই তো! একটা আইডিয়া করে ফেলা যাক! সেই সূত্রপাত ‘ব্ল্যাক করিডর’ রচনার ভাবনার। ডিরেক্টর অভিজিৎ ভট্টাচার্য বললেন, একদম অন্যরকম একটা ধারাবাহিক হোক না! সম্পাদক শুভা দত্তের বক্তব্য ছিল, অজানা বিষয়গুলি নিয়ে লিখবে, কত কিছু সংবাদ আসে, কিন্তু সবটা শেষ পর্যন্ত জানা হয় না। এই হল মোটামুটি রচনাটির প্ল্যানিং রুমের কাহিনি। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে একটানা ১১ মাস সাপ্তাহিক বর্তমান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল ব্ল্যাক করিডর ধারাবাহিক। শুরু থেকেই বিস্ময়করভাবে পাঠকবৃন্দ সাড়া দিয়েছিলেন। মেসেজ, চিঠি, ফেসবুক, টেলিফোনে প্রতি সপ্তাহে ফিডব্যাক দিতেন অসংখ্য মানুষ। এবং সর্বোপরি বিভিন্ন এজগ্রুপের পাঠকের রেসপন্স পাওয়াই সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই। আমি সাহিত্যিক নই। একজন সাধারণ সাংবাদিক। তবু এই সামান্য প্রয়াস পাঠক সমাজ গ্রহণ করা একান্তভাবেই ঈশ্বরের আশীর্বাদ। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের নিয়ম হল কলকাতা পুস্তকমেলা সংক্রান্ত প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনটি হবে দিল্লিতে। কারণটি সহজবোধ্য। প্রতি বছর বইমেলার একটি থিমকান্ট্রি থাকে। স্বাভাবিকভাবেই সেই বিশেষ রাষ্ট্রের যিনি ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তাঁকে ও তাঁর দেশের অতিথিবৃন্দকে আমন্ত্রণ করতে বইমেলা কর্তাদের আসতেই হবে নয়াদিল্লির এমব্যাসিগুলিতে। সেই লক্ষ্যেই অন্যান্য পরিচালকবৃন্দের সঙ্গেই দিল্লি এসেছিলেন পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের অন্যতম কর্তা সুধাংশুশেখর দে। দে’জ পাবলিশিং-এর কর্ণধার। দিল্লি প্রেস ক্লাবে দেখা হল। প্রতিবার যেমন হয় নানাবিধ গল্পের মধ্যেই হাসতে হাসতে বললেন, ব্ল্যাক করিডর খুব ভালো হচ্ছে। পড়ছি। লিখে যাও। আমরা কিন্তু বই করছি ওটা!

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, সুধাংশুদার ওই বাক্যগুলি এই বইটির প্রথম পৃষ্ঠা। কৃতজ্ঞতা তাঁকেও । নানাবিধ তথ্য সংগ্রহের জন্য সিবিআই-এর বর্তমান ও প্রাক্তন আধিকারিক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিক, আইবির প্রাক্তন অফিসার, দিল্লি এবং কলকাতা পুলিশের সম্মাননীয় আধিকারিকদের সাহায্য স্মরণ করা না হলে তা হবে চরম অকৃতজ্ঞতা। তাঁদের অনুরোধক্রমেই নাম প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হল।

আমরা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও অন্ধকার সড়কে প্রবেশ করতে চাই না। আমরা সাধারণত আলোর পূজারি। যে পথ দিশা দেখায়, সেই রাস্তাই প্রকৃত গন্তব্যবাহী। তবু জীবনের চলার পথ সর্বদা একরৈখিক হতে পারে না। জ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে অন্ধকার, অচেনা পথে আচমকা ঢুকে পড়তেই হয়। আবার সেই পথ থেকে বেরিয়ে আসার পর স্বস্তির পাশাপাশি জমা হয় এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতাও। তাই চেনা পথ ছেড়ে অন্য পথে হাঁটা সর্বদাই নেতিবাচক, এমন নয়। শুধু বেরনোর পথ জানা চাই। যাতে পথ না হারায়। জীবনের এই দর্শনকে মনে রেখেই অন্য অজানা এক সড়কে উঁকি মারার প্রয়াস মানব জীবনের সহজাত। যাকে বলা যেতে পারে অপার কৌতূহল। যে অজানা রহস্যময় সড়কটির নাম ‘ব্ল্যাক করিডর’।

সমৃদ্ধ দত্ত
নয়াদিল্লি অক্টোবর, ২০১৮

Book Content

ব্ল্যাক করিডর ১.১
ব্ল্যাক করিডর ১.২
ব্ল্যাক করিডর ১.৩
ব্ল্যাক করিডর ১.৪
ব্ল্যাক করিডর ১.৫
ব্ল্যাক করিডর ১.৬
ব্ল্যাক করিডর ১.৭
ব্ল্যাক করিডর ১.৮
ব্ল্যাক করিডর ১.৯
ব্ল্যাক করিডর ১.১০
ব্ল্যাক করিডর ১.১১
ব্ল্যাক করিডর ১.১২
ব্ল্যাক করিডর ১.১৩
ব্ল্যাক করিডর ১.১৪
ব্ল্যাক করিডর ১.১৫
ব্ল্যাক করিডর ১.১৬
ব্ল্যাক করিডর ১.১৭
ব্ল্যাক করিডর ১.১৮
ব্ল্যাক করিডর ১.১৯
ব্ল্যাক করিডর ১.২০
ব্ল্যাক করিডর ১.২১
ব্ল্যাক করিডর ১.২২
ব্ল্যাক করিডর ১.২৩
ব্ল্যাক করিডর ১.২৪
ব্ল্যাক করিডর ১.২৫
ব্ল্যাক করিডর ১.২৬
ব্ল্যাক করিডর ১.২৭
ব্ল্যাক করিডর ১.২৮
ব্ল্যাক করিডর ১.২৯
ব্ল্যাক করিডর ১.৩০
ব্ল্যাক করিডর ১.৩১

Reader Interactions

Comments

  1. Suchana

    August 26, 2026 at 3:43 am

    জাহান্নামের কিসসা — কৌশিক দাস বইটি দেবেন pls

    Reply
  2. Chitra Roy

    August 26, 2026 at 5:51 am

    অনেক ধন্যবাদ বইটি দেওয়ার জন্য | দ্বিতীয় পর্বটির অপেক্ষায় থাকব |

    Reply

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.